ইনসাইড পলিটিক্স

ক্ষমা নয়, রাষ্ট্রপতির সহানুভূতি চাইবেন বেগম জিয়া

প্রকাশ: ০৬:০০ পিএম, ২৮ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail ক্ষমা নয়, রাষ্ট্রপতির সহানুভূতি চাইবেন বেগম জিয়া

বেগম জিয়া ক্ষমা চাইবেন কি না এবং ক্ষমা চেয়ে বিদেশ যাওয়ার সুযোগ নিবেন কিনা এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানারকম বিতর্ক চলছে। আর এই বিতর্কের মধ্যেই বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের একজন সদস্য রাষ্ট্রপতির কাছে বেগম জিয়ার জন্য আবেদন করার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। এ ব্যাপারে তিনি আইনজীবীর সঙ্গেও কথা বলেছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। বর্তমানে এভারকেয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া। তার শারীরিক অবস্থার যথেষ্ট অবনতি ঘটেছে। বিশেষ করে দুই দিন বন্ধ থাকার পর আবার তার রক্তপাত হচ্ছে বলেও বিভিন্ন সূত্র থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেছে। এরকম পরিস্থিতিতে বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার দাবিতে বিএনপির পক্ষ থেকে আন্দোলন করা হচ্ছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। কারণ, বেগম খালেদা জিয়া একজন দণ্ডিত আসামি এবং এ ধরনের দণ্ডিত আসামি বিদেশ যাওয়ার অনুমতি পেতে পারে না। তবে শুক্রবার আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সরাসরিভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার একটি পথ খোলা আছে। সেটি হলো রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। যদিও বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, এরকম ক্ষমা প্রার্থনা করার প্রশ্নই আসে না। তবে বিএনপির আইনজীবীদের কেউ কেউ এবং তার পরিবারে কয়জন সদস্য রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা বিষয়টি ভিন্নভাবে চিন্তা ভাবনা করছেন।

বেগম খালেদা জিয়ার একজন আইনজীবী বলেছেন, রাষ্ট্রপতির যে ক্ষমা প্রদর্শনের অধিকার সেটির জন্য কখনো দোষ স্বীকার বা ক্ষমা প্রার্থনার কথা বলা নাই। তিনি বলেন, সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতিকে ক্ষমা প্রদর্শনের অধিকার দেয়া হয়েছে এবং সেই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত যেকোনো দণ্ডের মার্জনা এবং যেকোনো দণ্ড মওকুফ স্থগিত রাখার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির থাকবে। এই ক্ষমতাটা রাষ্ট্রপতির একক এখতীয়ারধীন ক্ষমতা বলে মনে করছেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। 

 তারা এই আইনটি প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনো রকম ক্ষমা প্রার্থনা কিংবা দোষ স্বীকার করার বিষয়টি দেখছেন না। তারা মনে করছেন যে, এটি সরকার বলছে। যেকোনো ব্যক্তির দোষ স্বীকার না করেও ক্ষমা চাইতে পারেন বলে বিএনপিপন্থী আইনজীবীর কেউ ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। তারা মনে করছেন, রাষ্ট্রপতি হলেন দেশের প্রধান ব্যক্তি। কাজেই প্রধান ব্যক্তির কাছে দেশের যেকোনো নাগরিকই যেকোনো সময় দণ্ড মওকুফের আবেদন করতে পারেন। দণ্ড মওকুফের আবেদন করলে রাষ্ট্রপতি সেই দণ্ড হ্রাস বা রহিত করার ক্ষমতা রাখে।

সম্প্রতি কুড়িগ্রামের সাবেক জেলা প্রশাসকও রাষ্ট্রপতির কাছে দণ্ড হ্রাসের জন্য আবেদন করেছেন এবং সেই আবেদনে তিনি দোষ স্বীকার করেননি এবং নিজেকে অনুতপ্ত করেননি বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে। বিএনপি নেতারা বলছেন যে, এটি রাষ্ট্রপতির একটি একক ক্ষমতা এবং রাষ্ট্রপতি যেকোনো সময় এই ক্ষমতার প্রয়োগ করতে পারেন। এই জন্য যিনি আবেদন করবেন তার ক্ষমা প্রার্থনা বা অনুতপ্ত হওয়ার কোন বিষয় জড়িত নেই। এভাবে ক্ষমা না চেয়ে এবং অনুতপ্ত না হয়ে তারা রাষ্ট্রপতির কাছে উন্নত চিকিৎসার জন্য বেগম জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার একটি আবেদন করতে পারেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

‘আন্দোলনে জনসম্পৃক্ততা দেখে আওয়ামী লীগেরই কোমর ভেঙেছে’

প্রকাশ: ০৯:২৩ পিএম, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail ‘আন্দোলনে জনসম্পৃক্ততা দেখে আওয়ামী লীগেরই কোমর ভেঙেছে’

‘বিএনপি হাঁটুভাঙা বলে লাঠির ওপর ভর করেছে’- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আন্দোলনে জনসম্পৃক্ততা দেখে আওয়ামী লীগেরই কোমর ভেঙে গেছে। তাই রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে ক্ষমতায় টিকতে হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকালে এক ছাত্র সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, আন্দোলনে গণজোয়ার থেকেই তো বোঝা যাচ্ছে বিএনপি হাঁটুভাঙা দল নয়। বরং কোমর ভেঙে যাওয়ায় আওয়ামী লীগ রামদা-তলোয়ার এবং পুলিশের বন্দুকের ওপরে হাঁটছে। ক্ষমতাসীনরা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এখনো সময় আছে উল্টাপাল্টা কথা না বলে শান্তিতে পদত্যাগ করুন। নিরাপদে ক্ষমতা ছাড়ুন।

ছাত্রদল সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েলের পরিচালনায় সমাবেশে সাবেক ছাত্রনেতা আমানউল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, শামসুজ্জামান দুদু, রুহুল কবীর রিজভী, ফজলুল হক মিলন, নাজিম উদ্দিন আলম, খায়রুল কবির খোকন, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, আজিজুল বারী হেলাল, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, রফিকুল আলম মজনু, মোনায়েম মুন্না প্রমুখ বক্তব্য দেন।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

জামায়াত নিয়ে দুই অবস্থানে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ

প্রকাশ: ০৯:০১ পিএম, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail জামায়াত নিয়ে দুই অবস্থানে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াত একটি রহস্যময় অধ্যায় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। জামায়াতের ভূমিকা কি, জামায়াত কি বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করেছে, জামায়াতকে কি সরকার এখন ব্যবহার করছে বা জামায়াত আগামী নির্বাচনে কি করবে ইত্যাদি প্রশ্ন এখন রাজনীতির অঙ্গনে ঘুরপাক করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, জামায়াত যতই নেতৃত্বশূন্য থাক না কেন জামায়াতের একটি নিজস্ব ভোটব্যাঙ্ক রয়েছেন। ৩ থেকে ৫ শতাংশ জামায়াতের ভোট পড়েছে বলে নির্বাচন বিশ্লেষকরা মনে করেন। আর এই ভোট যেকোনো দলের পক্ষে-বিপক্ষে বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে। ১৯৯১ সাল থেকে বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, জামায়াত এবং জাতীয় পার্টি প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছিল জামায়াতের সমর্থন নিয়ে। ২০০১ সালেও জামায়াত-বিএনপি জোট ক্ষমতায় এসেছিল। অন্যদিকে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জামায়াত আলাদা হয়ে নির্বাচন করার কারণেই বিএনপি পরাজিত হয়েছিল বলে কোন কোন নির্বাচন বিশ্লেষক মনে করেন। অবশ্য ২০০৮ সালের নির্বাচন ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রেক্ষাপটে। সেই সময় আওয়ামী লীগের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছিল।

এবার ২০১৮ সালের নির্বাচনে জামায়াত আর বিএনপি'র সখ্যতা ছিল। ওই নির্বাচনে বিএনপি জামায়াতকে ২০টি আসন ছেড়ে দিয়ে সকলকে বিস্মিত করেছিলো। কিন্তু ওই নির্বাচনের পর থেকেই বিএনপি এবং জামায়াতের সম্পর্কের টানাপোড়েনের খবর শোনা যায়। অবশ্য কোনো কোনো মহল মনে করে, বিএনপি ও জামায়াতের সম্পর্ক আগের মতই আছে তবে তা গোপনে। যেহেতু জামায়াতের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক চাপে রয়েছে এবং দেশের জনগণের মধ্যেও এক ধরনের নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে সেই জন্য জামায়াতের সঙ্গে প্রকাশ্য সম্পর্ক করতে বিএনপি এখন ভয় পায়। আর এ কারণেই ২০ দলীয় জোটকে নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে এখন পর্যন্ত ২০ দল বিলুপ্ত হয়নি এবং বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্ক কি, এনিয়ে বিএনপির কোনো নেতাও বক্তব্য রাখেনি। যদিও জামায়াতের নেতা সাম্প্রতিক সময়ে বক্তব্যে বলেছেন যে, বিএনপির সঙ্গে তাদের এখন সম্পর্ক নেই। কিন্তু এ সমস্ত নানামুখী কথাবার্তার পরও বিএনপি এবং জামায়াতের যে একটি গোপন সম্পর্ক রয়েছে এটা অনেকেই বিশ্বাস করেন। আর বিএনপির নেতৃত্বে একটি বড় অংশই মনে করেন যে, রাজনৈতিক মেরুকরণে জামায়াতকে বাদ দিলে বিএনপি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই জামায়াতের ব্যাপারটিকে বিএনপি নেতারা স্পর্শকাতর বিষয় হিসেবে মনে করে। শেষ পর্যন্ত আগামী নির্বাচনে যদি বিএনপি অংশগ্রহণ করে তাহলে সেখানে জামায়াতকে তাদের লাগবে। আর এই বিবেচনা থেকে জামায়াতকে কাছে টানার জন্য এখন নতুন করে নানা কলা-কৌশল গ্রহণ করছে বিএনপি। বিশেষ করে লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া জামায়াতের সঙ্গে নিজেই যোগাযোগ করছেন বলে জানা গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য জামায়াতকে নিয়ে এক ধরনের বক্তব্য দেওয়ার পর এটি জামায়াতের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এরপর তারেক জিয়া নিজেই এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেন এবং জামায়াতের নেতৃবৃন্দকে আশ্বস্ত করেন যে, বিএনপি এবং জামায়াত এক সঙ্গে আছে, থাকবে।

বিএনপি যাই বলুক না কেন জামায়াতের মধ্যে বিএনপিকে নিয়ে এখন নানা রকম অস্বস্তি, আপত্তি রয়েছে। জামায়াত এখন স্বতন্ত্র অবস্থান থেকে ইসলামী দলগুলোকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করতে চায়। অন্যদিকে বিএনপি চায় জামায়াতকে কাছে টানতে। জামায়াতকে নিয়ে আওয়ামী লীগের ভূমিকা কি? আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেছেন, জামায়াত নিয়ে তাদের কোনো আগ্রহ নেই। জামায়াত স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি এবং যুদ্ধাপরাধীদের দল। জামায়াত রাজনীতি করুক এটিই আওয়ামী লীগ চায়না। স্বাধীন দেশে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির রাজনীতি করার অধিকার নেই বলে আওয়ামী লীগের অনেক নেতা মনে করেন। কিন্তু কৌশলগত কারণে জামায়াতকে রাজনীতির মাঠে রাখতে চায়। বিশেষ করে বিএনপি এবং জামায়াতের বিভক্তি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলোকে শক্তি যোগাবে বলেই আওয়ামী লীগ মনে করে। সেজন্য বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের দূরত্ব হোক এটি আওয়ামী লীগ চায়। তবে আওয়ামী লীগ জামায়াত ইস্যুতে কোনভাবেই ক্রিয়াশীল হতে চায় না এবং এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপও গ্রহণ করতে চায় না।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

দলগতভাবে বিএনপিকে প্রতিহত করার হুশিয়ারি নানকের

প্রকাশ: ০৮:১৭ পিএম, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail দলগতভাবে বিএনপিকে প্রতিহত করার হুশিয়ারি নানকের

বিএনপির নেতাদের হুশিয়ারি দিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, তারা কোনো কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ করে না। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা স্বার্থে তাদেরকে আর সুযোগ দেওয়া যাবে না। দলগতভাবে আমরা তাদেরকে প্রতিহত করবো।

বৃহস্পতি (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় হাজারীবাগে বিএনপির হামলায় গুরুতর আহত দলীয় নেতাকর্মীদের দেখতে রাজধানীর সিকদার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দল। সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপির নেতাদের উদ্দেশ্যে এমন হুশিয়ারি দেন নানক। এসময় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, স্থানীয় এমপি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এসময় হামলাকারীদের চিহ্নিত করতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে নানক বলেন, আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই- যারা এই ঘটনায় জড়িত রয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদেরকে চিহ্নিত করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীর আওতায় আনতে হবে। ওদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে।



আওয়ামী লীগ আর বসে থাকবে না জানিয়ে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, বিএনপি'র অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মিছিল সমাবেশ করছে। তাই ওদের আর সময় দেওয়ার সুযোগ নেই। হাজারীবাগে তারা আন্দোলনের নামে আওয়ামী লীগের নেতা শাহ আলমকে নির্মম ভাবে অত্যাচার করেছে। সাংবাদিক ও মহিলারাও রক্ষা পায়নি বিএনপির সন্ত্রাসীরা। ওদেরকে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল কিন্তু তারা মিছিলের নামে জনগণের উপরে অতর্কিত হামলা চালায়। ওদেরকে প্রতিহত করার এখনই সময়। 

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী ফোরামে এই নেতা বলেন, বিএনপিকে বিশ্বাস করা যায় না। তারা আগেও আগুন-সন্ত্রাস করেছে। মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে। জান-মাল ধ্বংস করেছে। বিএনপি আবার আগুন-সন্ত্রাস করতে মাঠে নেমেছে। ওরা গণতন্ত্র বিশ্বাস করতে চায় না। ওরা গণতন্ত্র জানেনা। তাই ওদের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

এসময় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, কেউ বিএনপির সন্ত্রাসীর কর্মকাণ্ড হাতে হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, সাংবাদিক এবং সাধারণ মানুষদের উপর অত্যাচার করেছে। এরা হত্যাকারী দল। দেশে শান্তির লক্ষ্যে এই সন্ত্রাসী দলকে অবশ্যই আমরা মোকাবেলা করব।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি হাজারীবাগে বিএনপি-আওয়ামী লীগের সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়ে আওয়ামী লীগ নেতা শাহ আলম, আইরীনসহ কয়েকজন। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান দলের কেন্দ্রীয় নেতারা।

জাহাঙ্গীর কবির নানক  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

জাতীয় সরকারের প্রধান জিএম কাদের: নতুন ফর্মুলায় চাঞ্চল্য

প্রকাশ: ০৮:০০ পিএম, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail জাতীয় সরকারের প্রধান জিএম কাদের: নতুন ফর্মুলায় চাঞ্চল্য

নির্বাচনের সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকার না আওয়ামী লীগ সরকারও নয়, বরং একটি জাতীয় সরকার গঠিত হবে যেই জাতীয় সরকারের এমন একজন ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী হবেন তিনি সংসদ সদস্য অথচ আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন না। এরকম একটি ফর্মুলা এখন কূটনীতিকপাড়ায় ঘোরাফেরা করছে। আর এই ফরমুলায় জাতীয় সরকারের প্রধান হিসেবে জিএম কাদেরের নাম বলা হচ্ছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেড় বছরের কম সময় বাকি রয়েছে। ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে। কিন্তু বিএনপি'র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, সংবিধান অনুযায়ী আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে।

বিভিন্ন কূটনীতিক এবং দাতা দেশগুলো বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনের ব্যাপারে ব্যাপক আগ্রহী। তবে তারা মনে করছে সংবিধানের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করা উচিত হবে না। তারা নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার নয়, বরং একটি অবাধ সুষ্ঠু এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ব্যাপারেই জোর দিচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই নির্বাচন যেন শান্তিপূর্ণ হয় সে ব্যাপারেও কথা বলছে। এরকম বাস্তবতায় কূটনৈতিক মহলের কাছে একটি আপোষ প্রস্তাব পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। কারা কিভাবে এই আপোষ প্রস্তাব দিয়েছে সে ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে এই প্রস্তাবে বলা হয়েছে যে, নির্বাচনে একটি জাতীয় সরকার গঠিত হবে, যে সরকারে ১০ জন সদস্য থাকবেন যাদের কেউই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন না। বরং তাঁরা একটি নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে শুধুমাত্র নির্বাচন পরিচালনা করবেন। জাতীয় সরকারে আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং জাতীয় পার্টি অন্তর্ভুক্ত থাকবে, কোনো নির্দলীয় ব্যক্তি থাকবেন না।

জাতীয় সরকারের প্রধান হিসেবে জিএম কাদেরের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। জিএম কাদের এখন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। তিনি সংসদে বিরোধী দলের নেতা হওয়ার জন্য নোটিশ দিয়েছেন। জাতীয় পার্টির মধ্যে তিনি কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছেন। ইতোমধ্যে রওশন এরশাদ কাউন্সিলের জন্য দিন তারিখ ঘোষণা করেছেন। এ নিয়ে জাতীয় পার্টি এখন বিভক্তির দ্বারপ্রান্তে। তবে জাতীয় পার্টির অভ্যন্তরীণ অবস্থা যাই হোক না কেন, দেশের সুশীল সমাজ এবং কূটনীতিকদের কাছে জিএম কাদের যথেষ্ট আস্থাভাজন ব্যক্তি। সুশীল সমাজ এবং কূটনীতিকরা মনে করেন যে, জিএম কাদেরের মত ব্যক্তিদের রাজনীতিতে আরও বেশি অংশগ্রহণ করা উচিত। এতে আপ্লুত জিএম কাদেরও এখন সরকারবিরোধী বক্তব্যের সোচ্চার হয়েছেন। তিনি সব বিষয়ে এখন সরকারের কঠোর সমালোচনা করছেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে এসব সমালোচনার মাত্রা বিএনপিকেও হার মানাচ্ছে। জিএম কাদেরের সঙ্গে সুশীলদের এখন ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে এমন খবরও বাজারে চাউর আছে।

বিভিন্ন সূত্রগুলো বলছে, ড. মুহাম্মদ ইউনূস, ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য্য, হোসেন জিল্লুর রহমানসহ বিভিন্ন সুশীলদের সঙ্গে জিএম কাদেরের আগের চেয়ে অনেক বেশী সখ্যতা তৈরি হয়েছে। বিএনপিও জাতীয় পার্টির ব্যাপারে অনেক বেশি নমনীয়। এমনকি জিএম কাদেরের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টিকে ঘিরে বিএনপিরও একটি আন্দোলনের পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও জাতীয় পার্টি সরকারবিরোধী আন্দোলন নয় বরং বিভিন্ন রকম সমালোচনামূলক বক্তব্য দিয়েই রাজনীতির মাঠে থাকতে চাইছে। এরকম পরিস্থিতিতে জাতীয় সরকারের যে নতুন ফর্মুলা দেওয়া হয়েছে সেই ফর্মুলা কি উদ্দেশ্যে, এনিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বাংলাদেশে সুশীল সমাজ দীর্ঘদিন ধরেই বিরাজনীতিকরণ প্রক্রিয়ায় আগ্রহী এবং রাজনীতিতে একটি স্রোত তৈরি করতে চায়। তৃতীয় স্রোত তৈরি করার জন্য বিভিন্ন সময় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল কিন্তু সবগুলো উদ্যোগই ভেস্তে গেছে। এখন জিএম কাদেরকে দিয়ে আবার নতুন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কিনা, এ নিয়ে রাজনীতির পাড়ায় নানারকম গুঞ্জন আছে। এখন এই নতুন ফর্মুলা নিয়েও সৃষ্টি হয়েছে চাঞ্চল্য। জিএম কাদের কি তাহলে বিরাজনীতিকরণের তুরুপের তাস হচ্ছেন? এই প্রশ্নই এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে ঘুরপাক খাচ্ছে।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

সংকটে আওয়ামী লীগের ৫ হেভিওয়েটের আসন

প্রকাশ: ০৭:০২ পিএম, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail সংকটে আওয়ামী লীগের ৫ হেভিওয়েটের আসন

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি। একাধারে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং দলের সাধারণ সম্পাদক। কিন্তু তার নিজের আসনই টলটলায়মান। দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের নির্মম শিকার তার জনপ্রিয়তা। নোয়াখালীর-৫ আসন থেকে পরপর তিনটি নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হয়েছিলেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি প্রয়াত ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদকে হারিয়েছিলেন সামান্য ভোটের ব্যবধানে। কিন্তু এবারের নির্বাচনে বিএনপি নয়, তার প্রতিপক্ষ যেন আওয়ামী লীগ। নোয়াখালীর প্রভাবশালী নেতা একরাম চৌধুরী সাথে এখন তার প্রকাশ্য বিরোধ এবং কদিন আগে একরাম চৌধুরী সেখানে বড় ধরনের শোডাউনের করেছেন। অনেক আওয়ামী লীগের নেতা মনে করছেন, একরাম চৌধুরীর সাথে শেষ পর্যন্ত ওবায়দুল কাদেরের সমঝোতা না হলে এই আসন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বে। দলের সাধারণ সম্পাদকের নিয়ন্ত্রণে নেই নোয়াখালীর ৫ আসন। বরং নোয়াখালীর নিয়ন্ত্রক এখন একরাম চৌধুরী, এমন কথা বলেন অনেকে। যদিও ওবায়দুল কাদেরপন্থীরা মনে করছেন যে, এসব বক্তব্য অতিরঞ্জিত, একরাম চৌধুরীর প্রভাব আছে বটে তবে নোয়াখালী-৫ আসনে এখনও ওবায়দুল কাদের অপ্রতিদ্বন্দ্বী।

ডা. দীপু মনি: চাঁদপুর-৩ আসন থেকে ডা. দীপু মনি নির্বাচিত হয়েছেন। তিনিও ওবায়দুল কাদেরের মত ভাগ্যবান। একাধারে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং শিক্ষামন্ত্রী। দলের এই কেন্দ্রীয় নেতা জাতীয়ভাবে যত আলোচিত হন নিজের এলাকায় তিনি বেশ কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। একদিকে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, অন্যদিকে তার ঘনিষ্ঠজনদের বাড়াবাড়ি রকমের অনিয়ম তাকে কোণঠাসা করে ফেলেছে। আগামী নির্বাচনে তার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িয়ে গেছে খোদ আওয়ামী লীগে। এছাড়াও চাঁদপুরের আরও দুটি আসনের এমপিরাও যেন তার বিরুদ্ধে আদাজল খেয়ে লেগেছে। তাদের মূল লক্ষ্য হলো দীপু মনিকে কোণঠাসা করে ফেলা। এরকম একটি অভ্যন্তরীণ কোন্দলের মধ্যে আগামী নির্বাচনে তার অবস্থানও সংকটাপন্ন।

টিপু মুনশি: একসময় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন। এখন বাণিজ্যমন্ত্রীর মত গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী। রংপুর-৪ আসন থেকে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন। রংপুর জাতীয় পার্টি অধ্যুষিত এলাকা। আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টির সাথে মহাজোট করে সমঝোতার মাধ্যমে এই আসনগুলোতে জয়ী হয়। এবার জাতীয় পার্টি যদি শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঐক্য না করে তাহলে টিপু মুনশির কি হবে, এ নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যেই নানা রকম চিন্তাভাবনা চলছে। তাছাড়া টিপু মুনশির নেতৃত্বে সেখানের সংগঠনও দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে আগামী নির্বাচনে জাতীয়ভাবে কি হবে না হবে সেটা পরের বিষয়, কিন্তু টিপু মুনশির আসনের জন্য তাকে জাতীয় পার্টির দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।

আ.ক.ম মোজাম্মেল হক: আ.ক.ম মোজাম্মেল হক বর্তমান মন্ত্রীসভায় প্রধানমন্ত্রীর পর জ্যেষ্ঠতম মন্ত্রী। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক এই মন্ত্রী এক সময় এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয় ছিলেন। কিন্তু এখন গাজীপুর-১ আসন থেকে নির্বাচিত এই বর্ষীয়ান নেতা সংকটের মধ্যে রয়েছেন। গাজীপুর আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ সংকটের ঢেউ এসে লেগেছে তার আসনেও। এখানে নানামুখী মেরুকরণ চলছে। আর একারণেই আ.ক.ম মোজাম্মেল হকের আসন সংকটাপন্ন বলে কোনো কোনো মহল মনে করছেন। তবে বিভিন্ন মহল বলছেন, সামনে যদি জাহাঙ্গীরকে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয় এবং শেষ পর্যন্ত আ.ক.ম মোজাম্মেল হকের সঙ্গে যদি সাবেক মেয়রের সমঝোতা হয় তাহলে এই আসনে আওয়ামী লীগের সংকট দূর হবে।

গোলাম দস্তগীর গাজী: গোলাম দস্তগীর গাজী নারায়ণগঞ্জ-১ আসন থেকে নির্বাচিত। তার নির্বাচনী এলাকায় সমস্যার অন্ত নেই। তার নিজস্ব লোকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগও সীমাহীন। বিশেষ করে সরকারি ভূমি দখল, অন্যের ভূমি দখলসহ নানা অভিযোগে আক্রান্ত পাটমন্ত্রী। আগামী নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন পাবেন কিনা, সেটি নিয়েই এখন সংশয় দেখা দিয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন।

এরকম পাঁচজন হেভিওয়েট নেতার আসন যখন সংকটে তখন অন্যদের কি অবস্থা সে নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে নানামুখী আলোচনা চলছে।

আওয়ামী লীগ  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন