ইনসাইড পলিটিক্স

বিএনপির দাবি খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত নয়, রাজনৈতিক: তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৮:২৫ পিএম, ২৮ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail বিএনপির দাবি খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত নয়, রাজনৈতিক: তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠাতে চায় বিএনপি। যেন সেখান থেকে তিনি বেআইনিভাবে রাজনীতি করতে পারেন, যেটি তারেক রহমান করছে। আমরা আপনাদের ফন্দি-ফিকির বুঝি। বিএনপির দাবি খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত নয়, রাজনৈতিক, কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য সরকার বদ্ধপরিকর।’

রোববার (২৮ নভেম্বর) রাজধানীর মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে ঢাকা উত্তর মহানগর আওয়ামী লীগের দারুস সালাম থানার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের ১০ ইউনিটের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন মন্ত্রী।

‘বিএনপি নেতারা খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে নানা কথা বলে অথচ গত একবছর ধরে বেগম জিয়া তাদের তত্ত্বাবধানে, বেগম জিয়ার পছন্দের এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন’ উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সেকারণে তার কিছু হলে তারাই দায়ী। বিএনপি নানা কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায়, জনগণ বিভ্রান্ত হবে না।’

ড. হাছান বলেন, ‘এখন মনে হচ্ছে বিএনপির রাজনীতি আর জনগণের জন্য নয়, একমাত্র খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যরক্ষার জন্য। গত ১৫ থেকে ২০ দিন ধরে বিএনপি নেতাদের বক্তব্য যদি শোনেন তাহলে দেখতে পাবেন, অন্য কোনো বক্তব্য নেই, খালেদা জিয়ার কী হয়েছে সেটিই তারা প্রতিনিয়ত বলছেন। শনিবার টেলিভিশনের পর্দায় দেখলাম মির্জা ফখরুল সাহেব বলছেন, খালেদা জিয়ার পেটে কী কী সমস্যা হয়েছে। এখন মির্জা ফখরুল, রিজভী, গয়েশ্বর সাহেবও বড় চিকিৎসক হয়ে কথা বলা শুরু করেছেন। আজ মির্জা ফখরুল সাহেব বলেছেন, যে বেগম খালেদা জিয়াকে না কি আইনের ধারাবলে বিদেশে পাঠানো যাবে। এখন মনে হচ্ছে ফখরুল সাহেব শুধু চিকিৎসক নয়, ভেতরে ভেতরে ব্যারিস্টারও হয়েছেন, আইনেরও ব্যাখ্যা দেওয়া শুরু করেছেন।’

এসময় দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘কেউ যাতে ষড়যন্ত্র করতে না পারে সেজন্য সবাইকে চোখ-কান খোলা রেখে ব্যবস্থা নিতে হবে। সুযোগ সন্ধানীদের দলের মধ্যে দরকার নেই। যারা পিঠ বাঁচানোর জন্য আওয়ামী লীগ করতে চায়, যারা জায়গা দখল করার জন্য কিংবা দখল করা জায়গা রক্ষার জন্য আওয়ামী লীগে তাদের দরকার নেই। যারা আওয়ামী লীগের আদর্শ, উদ্দেশ্য, নীতিতে বিশ্বাস করে তাদের দরকার আছে।’

‘ছাত্রদের হাফ ভাড়া নিয়ে বাস-মালিকরা বিশেষ প্রণোদনা চাচ্ছেন’ এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমি যখন ছাত্র ছিলাম তখন আমি নিজেও বাসে হাফ ভাড়া দিয়ে চলেছি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাবস্থায় শহর থেকে বাসে যেতাম হাফ ভাড়া দিয়েই। তখন সরকার বাস মালিকদের কোনো প্রণোদনা দিতো না। বাস মালিকরাও প্রণোদনা দাবি করে নাই। তারা বিনা প্রণোদনাতেই ছাত্রদের হাফ ভাড়া দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। আজকে কেন প্রণোদনা লাগবে সেটি আমার ব্যক্তিগত জিজ্ঞাসা। একটি বাসে ৪০ থেকে ৫০ জন যাত্রী থাকে সেখানে দু-তিন-পাঁচজন ছাত্র থাকে এবং এতে বাস মালিকদের কি অসুবিধা হবে, সেটি আমার ব্যক্তিগত প্রশ্ন।’

মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ছাত্রদের প্রতি সহানুভূতিশীল, সরকার সহানুভূতিশীল এবং সেই কারণে প্রধানমন্ত্রী সরকারি সংস্থা বিআরটিসির ভাড়া হাফ করে দিয়েছেন। যারা ছাত্র তারা আমাদের সন্তান, তাদেরও সন্তান। আমি আশা করবো, পরিবহনের মালিকরাও তাদের সন্তানদের কথা চিন্তা করে বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেবেন।’



মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল, গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোটের সঙ্গে বৈঠক

প্রকাশ: ০৮:৩৯ এএম, ০৩ মার্চ, ২০২৪


Thumbnail

সদ্য কারামুক্ত বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন গণতন্ত্র মঞ্চ ও ১২-দলীয় জোটের নেতারা।

সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানিয়েছে, পৃথক বৈঠকে বিগত আন্দোলন-কর্মসূচির বিষয়ে সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা ছাড়াও চলমান আন্দোলন এবং পরবর্তী করণীয় বিষয়ে মতবিনিময় হয়।

জানা গেছে, শনিবার (২মার্চ) বিকেল চারটায় গুলশানের বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ১২-দলীয় জোটের সঙ্গে বৈঠক হয়। এসময় জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দারের নেতৃত্বে জোট নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এরপর সন্ধ্যায় গুলশানে মহাসচিবের বাসায় গণতন্ত্র মঞ্চের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় হয়। এই বৈঠকে নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, জেএসডির তানিয়া রব, ভাসানী অনুসারী পরিষদের শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলুসহ ছয়জন নেতা উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির সূত্র জানিয়েছে, সোমবার চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল। এর আগে তিনি সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের দুই মিত্র জোট গণতন্ত্র মঞ্চ ও ১২-দলীয় জোটের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করলেন। তবে বৈঠকে আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে জোটের নেতারা কিছু খোলাসা করতে রাজি হননি।

গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ইসলাম চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাচ্ছেন। এটি মূলত তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ। আমরা তার স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিয়েছি। তার জন্য শুভকামনা জানিয়েছি, তিনি যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে ফিরে আসেন।’


সিঙ্গাপুর   মির্জা ফখরুল   গণতন্ত্র মঞ্চ   ১২ দলীয় জোট  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

মির্জা ফখরুলের সঙ্গে গণতন্ত্র মঞ্চ ও ১২ দলের বৈঠক

প্রকাশ: ১০:২১ পিএম, ০২ মার্চ, ২০২৪


Thumbnail

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেছেন যুগপৎ আন্দোলনে থাকা শরিক ১২ দলীয় জোট ও গণতন্ত্র মঞ্চের শীর্ষ নেতারা।  

শনিবার (২ মার্চ) বিকেলে গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রথমে ১২ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপি মহাসচিব।

সন্ধ্যার পর বিএনপি মহাসচিবের গুলশানের বাসায় গণতন্ত্র মঞ্চের নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে গণতন্ত্র মঞ্চের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।

বৈঠকের বিষয়ে ১২ দলীয় জোটের এক শীর্ষ নেতা বলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘদিন কারাগার ভোগ করে মুক্তি পেয়েছেন। সেজন্য তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ১২ দলের নেতারা।

রোববার (৩ মার্চ) বিকেল ৫টার দিকে সমমনা জোটের সঙ্গে বিএনপি মহাসচিবের বৈঠক করার কথা।

বিএনপি   মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর   গণতন্ত্র মঞ্চ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

প্রথমবার এমপি হয়েই মন্ত্রী: রহস্য কি?

প্রকাশ: ১০:০০ পিএম, ০২ মার্চ, ২০২৪


Thumbnail

আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে কিছু ভাগ্যবান ব্যক্তি আছেন, যারা রাজনীতিতে এসেই সবকিছু পেয়ে যান। অর্ধেক রাজত্ব এবং রাজকন্যার মতো তারা এলাম, দেখলাম, জয় করলাম এর মতো সবকিছু পেয়ে যান। কিন্তু প্রশ্ন হল, এই পাওয়াটা তারা ধরে রাখতে পারেন কিনা সেটাই হল রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। আর এই পরীক্ষা অনেকে অনুত্তীর্ণ হন। 

১৯৯৬ সালে দীর্ঘ ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে প্রথমবারের এমপি সাবের হোসেন চৌধুরী হয়েছিলেন উপমন্ত্রী। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি রাজনীতির নানা গোলক ধাঁধার আবর্তে হারিয়ে যেতে বসেছিলেন। এবার অবশ্য তিনি আবার পূর্ণমন্ত্রী হয়ে ফিরে এসেছেন। 

২০১৮ সালেও অ্যাডভোকেট শ. ম রেজাউল করিম প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হয়েই পূর্ণমন্ত্রীর মর্যাদা পেয়েছিলেন। এটি ছিল একটি অনন্য রেকর্ড এবং এইবার তিনি অবশ্য আর মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি। 

এবার সম্প্রসারিত মন্ত্রিসভায় দুইজন প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন যারা এবারই প্রথমবারের মতো এমপি হলেন। এদের মধ্যে রয়েছেন ডা. রোকেয়া সুলতানা। তিনি এবার প্রথমবারের মতো সংরক্ষিত আসনে এমপি নির্বাচিত হলেন এবং স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। অন্যদিকে শামসুন নাহার চাঁপা এবারই প্রথমবারের মতো এমপি হয়ে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। 

আওয়ামী লীগের মতো একটি রাজনৈতিক দলে এটি একটি বড় উত্থান, বড় প্রাপ্তি। অনেকেই আছেন যারা ৭/৮ বার এমপি হয়েও একবার প্রতিমন্ত্রী হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেননি। কিন্তু সেক্ষেত্রে রোকেয়া এবং শামসুন নাহার এক বিরল ব্যতিক্রম। এবার কোন বিবেচনায় তাদেরকে একসাথে এমপি এবং মন্ত্রিত্ব দেওয়া হল—এই প্রশ্ন রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন, এই দুই জনেরই অবদান অনেক বেশি। আওয়ামী লীগ চারবার সংরক্ষিত আসনে নির্বাচন করলেও চারবারের মধ্যে এবারই তারা প্রথম এমপি হিসেবে জায়গা পেয়েছেন। অথচ বিভিন্ন সময়ে তাদের ত্যাগ তিতিক্ষার রয়েছে। 

রোকেয়া সুলতানা একনিষ্ঠ আওয়ামী লীগের একজন নেতা। তিনি সারা জীবন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রতি অটুট থেকেছেন এবং বিভিন্ন লড়াই সংগ্রামে তাকে দেখা গেছে। ব্যক্তিগত জীবনে একজন সৎ মানুষ হিসেবে পরিচিত। গত কিছুদিন ধরেই লক্ষ্য করা যাচ্ছিল যে, আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে আস্তে আস্তে পাদপ্রদীপে আনছেন। তিনি আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক হয়েছিলেন। এটি ছিল তার জন্য একটা বিরাট প্রাপ্তি। এবার তাকে সংসদ সদস্য যখন করা হয় তখনই বোঝা যাচ্ছিল যে, তিনি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে জায়গা পেতে যাচ্ছেন। 

অন্যদিকে শামসুন নাহার চাঁপা একজন ত্যাগী রাজনীতিবিদ। ড. রাজ্জাকের ছোট বোন হলেও তাদের দুজনের সম্পর্ক খুব একটা ভালো নয়। কিন্তু ড. আবদুর রাজ্জাকের ছায়ার নিচে না থেকে তিনি নিজের রাজনৈতিক শক্তিতে বলীয়ান হওয়ার চেষ্টা করেছেন। এই দুজনের একটি অভিন্ন বৈশিষ্ট্যেআছে। তারা দুজন খুব সাধারণ সাদাসিধা জীবনযাপন করেন। যখন তারা সম্পাদকমণ্ডলীতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন তখনও তাদের মধ্যে কোন রকম ক্ষমতার দাপট বা অহংকার দেখা যায়নি। তাদের মধ্যে দেখা গেছে এক ধরনের নম্রতা এবং শিষ্টাচার। সব সময় তারা মাটিতে পা রেখেছেন। আর এ কারণেই তাদের প্রতি শেখ হাসিনা একটি বিশেষ উপহার দিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে অতীতের মতো তারাও মন্ত্রিত্ব পাওয়ার পর রাজনীতিতে বিকশিত হতে পারেন কিনা সেটাই দেখার বিষয়। সবকিছু পেয়ে যাওয়ার পর যদি তারা ঠিক থাকতে পারেন, যদি তারা আগের মতোই সৌহাদ্যপূর্ণ এবং নমনীয় অবস্থায় থাকতে পারেন তাহলেই তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যত উজ্জ্বল হবে।

অ্যাডভোকেট শ. ম রেজাউল করিম   সাবের হোসেন চৌধুরী   শামসুন নাহার চাঁপা   ডা. রোকেয়া সুলতানা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

আওয়ামী লীগের বিভক্তি এবং একলা চলো নীতি

প্রকাশ: ০৯:০০ পিএম, ০২ মার্চ, ২০২৪


Thumbnail

আওয়ামী লীগ তার রাজনীতির ইতিহাসে সব চেয়ে সময় কাটাচ্ছে। টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় চতুর্থ মেয়াদে স্বস্তিদায়ক অবস্থায় দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে দলটি। কোন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাদের সামনে নেই বললেই চলে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং রুটিন কিছু চ্যালেঞ্জ ছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো এই মুহূর্তে কোন শক্তি নেই। কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের জন্য এরকম পরিস্থিতিও উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। কেউ কেউ মনে করছেন যে, আওয়ামী লীগের মধ্যে অতি আত্মবিশ্বাস দেখা দিয়েছে। নেতাকর্মীরা এখন মনে করছেন যে, তাদের জন্য ক্ষমতা চিরস্থায়ী। 

অনেকেই সাধারণ মানুষের সঙ্গে এক ধরনের দূরত্ব তৈরি করছেন। সাধারণ মানুষকে খুব একটা পাত্তা দিচ্ছেন না। আওয়ামী লীগকে কেউ ক্ষমতা থেকে সরাতে পারবে না এরকম একটি চিন্তাভাবনা থেকে অনেকে তাদের দুঃসময়ের বন্ধু বা সাথীদেরকেও অবজ্ঞা অবহেলা করছেন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল।

আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল যেন কিছুতেই থামছে না। অনেকেই মনে করছেন যে, সারা দেশে আওয়ামী লীগ দুই তিনভাগে বিভক্ত এবং এই বিভক্তি যদি অব্যাহত থাকে তাহলে সামনের দিনগুলোতে সাংগঠনিক ভাবে দলটি দুর্বল হয়ে পড়বে। তবে আওয়ামী লীগের জন্য সেটি কোন বড় সমস্যা না। 

সংগঠন শক্তিশালী রাখতে হয় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মোকাবেলা করার জন্য। যারা বিরোধী দল তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য একটি দলের সংগঠন শক্তিশালী করা প্রয়োজন। কিন্তু আওয়ামী লীগ এখন প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন। আওয়ামী লীগের সামনে কোন প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল নেই, যারা আওয়ামী লীগকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে। যার ফলে আওয়ামী লীগের নেতারা অনেকটাই আত্মতুষ্টিতে ভুগছেন, তারা দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে পাত্তা দিচ্ছেন না। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই বলেও তারা মনে করছেন। 

পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সব ক্ষেত্রেই একাকী এবং বন্ধুহীন থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আওয়ামী লীগের যে আদর্শিক জোট ছিল ১৪ দল তা এখন থেকেও নেই। এটি রীতিমতো মৃতপ্রায়। আওয়ামী লীগ সুশীল বা বুদ্ধিজীবী সমাজের মধ্যে আগে যে একটা সম্পর্ক তৈরি করেছিল সেই সম্পর্কটাও আর অব্যাহত রাখছে না। বরং সুশীলদের সাথে আওয়ামী লীগের একটা সুস্পষ্ট দূরত্ব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের যে মিত্র এবং শুভাকাঙ্ক্ষী আছে তাদেরকেও আওয়ামী লীগ খুব একটা আমলে নিচ্ছে বলে মনে করা হয় না। 

ঐতিহাসিকভাবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিদের একটা সুসম্পর্ক থাকে। সেক্ষেত্রেও কিছু চাটুকার ছাড়া আওয়ামী লীগ কারও সাথে সম্পর্ক রক্ষায় আগ্রহ না। আওয়ামী লীগ এখন এমন অবস্থায় গেছে যে, যেখানে তারা মনে করছে কাউকেই তাদের প্রয়োজন নেই। একদিকে দলের বিভক্তি অন্যদিকে আওয়ামী লীগের একাকী চলো নীতি এর পরিণতি কি—এ নিয়ে আওয়ামী লীগের কেউ কেউ চিন্তাভাবনা করছেন। কারণ এখন বিরোধী দল নেই জন্য সামনের দিনগুলোতে বিরোধী দল থাকবে না—এমন ভাবার যেমন কোন কারণ নেই তেমনি এখন যদি আওয়ামী লীগ বন্ধুহীন হয়ে পড়ে তাহলে ভবিষ্যতে বন্ধু খুঁজে পাওয়া তার জন্য দুষ্কর হতে পারে। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতারা মনে করেন সুসময় থেকে দু:সময়ের দূরত্ব কম না। আজকে আওয়ামী লীগের ভালো সময় যাচ্ছে কিন্তু আওয়ামী লীগ যদি বিভক্ত এবং কোন্দলে জড়িয়ে পড়ে তাহলে সংকটে তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দাঁড়াতে পারবে না। আবার একই কারণে বিপদে কোন সাথীও পাবে না। আওয়ামী লীগ যেন হিমালয়ের চূড়ায় উঠেছে একাকী। কিন্তু নামার সময় তার সঙ্গী দরকার। সেই সঙ্গী পাবে কি?

আওয়ামী লীগ   অভ্যন্তরীণ কোন্দল   ১৪ দল  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

নতুন রাজনৈতিক দল ঘোষণা দিলেন শামা ওবায়েদের মা

প্রকাশ: ০৮:২৫ পিএম, ০২ মার্চ, ২০২৪


Thumbnail

দেশের নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির সাবেক মহাসচিব কেএম ওবায়দুর রহমানের স্ত্রী শাহেদা ওবায়েদ। ‘পারিবারিক ক্রম ও দলীয়করণের বিরুদ্ধে’ অবস্থানের কথা জানিয়ে ‘গণতন্ত্র সংস্কারে’ নতুন দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। শাহেদা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদের মা।

শনিবার (২ মার্চ) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন তিনি। তার দলের নাম হচ্ছে ‘ডেমোক্রেটিক রিফর্মস পার্টি’ (ডিআরপি) বা ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার পার্টি’। নতুন দলের আহ্বায়ক হিসেবে থাকছেন শাহেদা ওবায়েদ।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে দল গঠনের উদ্দেশ্য এবং ঘোষণাপত্র পাঠ করেন দলের মহা-সমন্বয়ক মেজর (অব.) আমীন আহমেদ আফসারী।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রাজিয়া চৌধুরী, জহিরুল ইসলাম, আফাজুল হক, কমরেড সাব্বির, জাহাঙ্গীর আলম।

সংবাদ সম্মেলনে শাহেদা ওবায়েদ বলেন, আমরা একটি নতুন রাজনৈতিক দলের যাত্রা শুরু করেছি। আমাদের এটি প্রথম পদক্ষেপ। এই দলটির নাম হচ্ছে ‘ডেমোক্রেটিক রিফর্মস পার্টি’-ডিআরপি। বাংলায় হচ্ছে ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার পার্টি’।

দল গঠনের উদ্দেশ্য তুলে ধরে শাহেদা ওবায়েদ বলেন, ‘৩০-৩৫ বছর ধরে আপনারা সবাই জানেন দেশে দলীয়করণ, তারপরে পরিবারকরণ, বর্তমানে আমিকরণ…এসব করণ থেকে আমরা দেশকে মুক্ত দেখতে চাই। আমরা যোগ্য মেধাবী, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক মানুষের মূল্যায়ন চাই। আজকে সেই উদ্দেশেই আমাদের পা রাখা।’

সংবাদ সম্মেলনে নতুন দল গঠন করলেও নির্বাচন না করার কথা জানান তিনি। শাহেদা বলেন, আমি নির্বাচন করব না। কিন্তু তারপরও আমি চাই, একটা শুরু হোক। আমি মনে করি, ভালো একটা শুরু হলে, ভালো কিছু লোক নিয়ে শুরু করতে পারলে নিশ্চয়ই আমরা এগিয়ে যেতে পারব।

দলে কারা থাকছেন জানতে চাইলে শাহেদা ওবায়েদ বলেন, অতীতের বিতর্কিত কেউ থাকছে না। আমরা তাদের সঙ্গে কাজ করতেও চাই না। আমরা নতুনদের নিয়ে কাজ করতে চাই। 

শাহেদা ওবায়েদ দীর্ঘদিন ‘গড়ব বাংলাদেশ’ নামে একটি সংগঠনের আহ্বায়ক ছিলেন। ২০১৯ সালের দিকে এই সংগঠনের ব্যানারে তিনি বিএনপি এবং দলটির নেতৃত্বের কঠোর সমালোচনা করে আলোচনায় আসেন। ওই সময় তিনি বলেছিলেন, বিএনপি কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটি মা ও ছেলের রাজনৈতিক সমিতি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শাহেদা ওবায়েদের স্বামী ওবায়দুর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর খন্দকার মোশতাক আহমেদের মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়েছিলেন। ১৯৮৬ সালে বিএনপির মহাসচিব হলে পরে বহিষ্কৃতও হন। পরে ফের বিএনপিতে যোগ দিয়ে ১৯৯৬ সালে দলটির এমপি হন। ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের সময়ে ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান হন তার স্ত্রী শাহেদা ওবায়েদ। তিতুমীর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষও হন শাহেদা।

নতুন রাজনৈতিক দল   বিএনপি   শামা ওবায়েদ   শাহেদা ওবায়েদ  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন