ইনসাইড পলিটিক্স

খায়রুজ্জামান লিটন: কোনো অভিযোগ নেই

প্রকাশ: ০৯:০০ পিএম, ২৮ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail খায়রুজ্জামান লিটন: কোনো অভিযোগ নেই

সম্প্রতি জাতীয় চার নেতার অন্যতম এ এইচ এম কামরুজ্জামানের পুত্র খায়রুজ্জামান লিটন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হয়েছেন। খায়রুজ্জামান লিটনের আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হওয়াটা বহুদিনের প্রত্যাশিত ছিলো এবং এটি তার প্রাপ্য ছিলো বলেই আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা মনে করেন। জাতীয় চার নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশ্বস্ত সহচর ছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট যখন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় তারপর এই জাতীয় চার নেতাকে গ্রেফতার করা হয়। কারা প্রকোষ্ঠেই এই জাতীয় চার নেতা মৃত্যুবরণ করেন। জাতির পিতা যাদের উপর নির্ভর করে এ দেশকে স্বাধীন করেছিলেন, যারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিটি কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছিল, যারা জাতির পিতাকে বিভিন্ন সঙ্কটে পরামর্শ দিয়েছিল এবং বিভিন্ন কঠিন সময়ে জাতির পিতার পাশে দাঁড়িয়েছিল সেই চার নেতাকেই খুনি মোশতাক নিঃশেষ করেছিল। মোশতাকের লক্ষ্য ছিল একটি। তা হলো বঙ্গবন্ধুর আদর্শ যেন চিরতরে বিলুপ্ত করা যায়। আর এজন্যই জাতির পিতার সবচেয়ে বিশ্বস্ত চার নেতাকে হত্যা করার মধ্য দিয়ে তারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে উৎপাটিত করতে চেয়েছিল। কিন্তু জাতির পিতার নির্মম হত্যাকাণ্ডের পরও আওয়ামী লীগ ঘুরে দাঁড়ায়। আর এই ঘুরে দাঁড়ানোর পিছনে সবচেয়ে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছিলেন আওয়ামী লীগ বর্তমান সভাপতি, জাতির পিতার জ্যৈষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে আসার পর আওয়ামী লীগ পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু করেন। সেই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার ধারায় তিনি আওয়ামী লীগকে নতুনভাবে গড়ে তোলেন। আর এই সময় এক প্রতিকূল পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনার পাশে যারা বিশ্বস্ততার প্রতীক হিসেবে ছিলেন তাদের মধ্যে খায়রুজ্জামান লিটন অন্যতম। জাতীয় চার নেতার পুত্রদের মধ্যে ক্যাপ্টেন মনসুর আলীর পুত্র মো. নাসিম শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শেখ হাসিনার আদর্শের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে তার পথচলাটা সুমসৃণ ছিল না। আর  সৈয়দ নজরুল ইসলামের পুত্র সৈয়দ আশরাফ ছিলেন অকুতোভয় এবং শেখ হাসিনার কঠিন সময়ের কাণ্ডারি। জাতির পিতার সহযোদ্ধাদের অন্যতম তাজউদ্দিন আহমেদের পুত্র সোহেল তাজ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে আছে কি নেই সেটি এখন একটি প্রশ্ন। তাজউদ্দিন আহমেদের নির্বাচনী এলাকায় তার কন্যা এখন প্রতিনিধিত্ব করছেন। মো. নাসিম আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন। তার মৃত্যুর পর আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামে জাতীয় চার নেতা শূন্য হয়ে যায়। জাতীয় চার নেতার কোন প্রতিনিধি ছিল না। সেখানেই খায়রুজ্জামান লিটন জায়গা করে নেন। 

খায়রুজ্জামান লিটন এমন একজন রাজনীতিবিদ যার কোন অভিযোগ নেই। তিনি সবসময় আওয়ামী লীগ সভাপতির জন্য কাজ করেছেন, দলের সঙ্কটে, দুঃসময়ে পথ দেখিয়েছেন, নেত্রীর প্রতি অবিচল ছিলেন। কখনো নেত্রীর আদর্শ-নীতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি। যখন আওয়ামী লীগ সভাপতি তাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে সে দায়িত্ব পালন করেছে। একজন অভিযোগহীন রাজনীতিবিদ হিসেবে ছিলেন খায়রুজ্জামান লিটন। তিনি কি পেলেন, কি পেলেন না তার হিসেব করেননি। বরং আওয়ামী লীগ সভাপতি বিভিন্ন কাজেই তাকে ব্যবহার করেছেন। জাতীয় চার নেতা হওয়ার অন্যতম এ এইচ এম কামরুজ্জামানের পুত্র হওয়ার পরেও তিনি কোন সময় দলের বড় ধরণের কোন নেতা হতে পারেননি। এ নিয়েও তার কোন ক্ষোভ, দুঃখ কিংবা আক্রোশ ছিল না। অভিযোগহীন এই রাজনীতিবিদ তার প্রাপ্য সম্মানটুকু পেলেন বলেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

খন্দকার মোশাররফ ও আলালের বাসায় মির্জা আব্বাস

প্রকাশ: ০৫:৫২ পিএম, ১২ এপ্রিল, ২০২৪


Thumbnail

দীর্ঘ সময় ধরে অসুস্থ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের বাসায় গিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। 

দলের মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, শুক্রবার (১২ এপ্রিল) বেলা ৩টায় ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের গুলশান বাসভবনে যান বিএনপির স্থায়ী কমিটি সদস্য মির্জা আব্বাস। এসময় তার শারীরিক অবস্থাসহ সার্বিক খোঁজখবর নেন তিনি। 

২০২৩ সালের ১৭ জুন দলীয় পদযাত্রায় অংশ নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। ফলশ্রুতিতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। পরে সেখানকার চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৭ জুন সিঙ্গাপুর যান সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

দেশটির ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হসপিটালে ভর্তি হয়ে মস্তিষ্কে রেডিও থেরাপি নেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। এরপর সেখানে দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরেন তিনি। সেবার প্রায় আড়াই মাস সিঙ্গাপুরে থেকে চিকিৎসা নেন বিএনপির বর্ষিয়ান নেতা।

মির্জা আব্বাস   ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন   সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বিএনপিতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসছে চলতি মাসেই

প্রকাশ: ০৬:০০ পিএম, ১২ এপ্রিল, ২০২৪


Thumbnail

বিএনপি তার আভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক বিষয়ে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে চলতি মাসেই। আগামীকাল থেকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন বলেও নিশ্চিত হওয়া গেছে। 

আজ সন্ধ্যা থেকেই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অনিবার্য কারণে আগামীকাল এবং পরশু এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। এই বৈঠকে তিনটি বিষয়ে বিএনপি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। 

প্রথমত, বিএনপির বর্তমান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পারিবারিক কারণে এবং স্বাস্থ্যগত কারণে মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। ইতোমধ্যেই তিনি এই বার্তা দলের নীতি নির্ধারকদের কাছে জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি যেমন লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে তার অভিপ্রায়ের কথা জানিয়েছেন, তেমনি খালেদা জিয়াকেও তিনি কেন মহাসচিব থাকতে চান না সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। 

জানা গেছে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শারীরিক অবস্থা ততটা ভালো না। তাছাড়া তার স্ত্রীও গুরুতর ভাবে অসুস্থ। আর এই দুই কারণেই তিনি মহাসচিব হিসেবে নয়, দলের একজন কর্মী হিসাবে কাজ চালিয়ে যেতে চান। দলে একজন পূর্ণকালীন মহাসচিব নিয়োগের ব্যাপারে তিনি অনুরোধ করেছেন বলে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেছে। এখন বিএনপিতে কে মহাসচিব হবে তা নিয়ে আলাপ আলোচনা চলছে। 

ধারণা করা হচ্ছে যে, আগামী দুইদিন যে স্থায়ী কমিটির বৈঠক হবে সেখানে মহাসচিবের বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত ফয়সালা হতে পারে। মহাসচিব হওয়ার ব্যাপারে একাধিক নাম নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী এগিয়ে আছেন ড. আবদুল মঈন খান। এছাড়াও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং মির্জা আব্বাসের নামও আলোচনায় আছে বলে জানা গেছে। 

তবে কর্মীদের কাছে জনপ্রিয় নাম রুহুল কবির রিজভী। কিন্তু রুহুল কবির রিজভীকে শেষ পর্যন্ত মহাসচিব করা হবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। কারণ বেগম খালেদা জিয়া বা তারেক জিয়া কারও কাছে তিনি আস্থাভাজন নেতা হিসেবে পরিচিত নন। 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দ্বিতীয় যে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে তা হল দলের কাউন্সিল অধিবেশন। বিএনপির মধ্যে থেকে স্পষ্ট বার্তা এসেছে যে, দলকে শক্তিশালী করার জন্য, সংগঠন গোছানোর জন্য কাউন্সিলের কোনো বিকল্প নেই। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপিতে কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় না। ৭ জানুয়ারি নির্বাচনের পরপরই বিএনপিতে নতুন করে কাউন্সিল এর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। এ নিয়ে দলের মধ্যে এক ধরনের ঐক্যমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কবে কাউন্সিল হবে সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। 

বিএনপির কোন কোন নেতা মনে করেন যে, কাউন্সিল অনুষ্ঠান করার উপযুক্ত সময় এখন নয়। কারণ বিএনপির বহু নেতা কারাগারে রয়েছে। অনেকে পলাতক জীবন যাপন করছে। সব কিছু মিলিয়ে বিএনপি যে অবস্থানে আছে তাতে কাউন্সিল করার জন্য একনও অনুকূল পরিবেশ নেই। কিন্তু অনেকেই মনে করেন যে, অবস্থা যতই প্রতিকূল থাকুক না কেন, দলের সাংগঠনিক তৎপরতা এগিয়ে নিতে হবে, কাউন্সিল করতে হবে। এ নিয়ে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বলে একাধিক সূত্র আভাস দিয়েছে। 

তৃতীয়ত, বিএনপির স্থায়ী কমিটির পাঁচটি শূন্য পদ রয়েছে। এই শূন্য পদ অবিলম্বে পূরণ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির তৃণমূলের কর্মীরা। আর স্থায়ী কমিটির শূন্য পদগুলো কিভাবে পূরণ করা যায় সে নিয়ে দলের নীতি নির্ধারক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে জানা গেছে। কেউ কেউ বলছেন যে, কাউন্সিল পর্যন্ত শূন্য পদগুলো পূরণ না করাই ভালো। কাউন্সিলের মাধ্যমে এটি করা হলে ভালো। আবার অনেকে মনে করছেন, এখন যে অবস্থা তাতে অনতিবিলম্বে কাউন্সিল অধিবেশনের মাধ্যমে শূন্য পদগুলো পূরণ করা উচিত। এ রকম একটি বাস্তবতায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ ব্যাপারে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ হতে পারে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

বিএনপি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

উপজেলা নিয়ে কঠোর অবস্থানে আওয়ামী লীগ

প্রকাশ: ০৫:০০ পিএম, ১২ এপ্রিল, ২০২৪


Thumbnail

অবশেষে উপজেলা নির্বাচন নিয়ে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। দলীয় সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন করে যারা উপজেলা নির্বাচনে বিতর্ক সৃষ্টি করবে, নিজেদের পছন্দের প্রার্থী দেবে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। উল্লেখ্য যে, ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন দুই দফায় উপজেলা নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে। প্রথম দফার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৭ মে। এই নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা ঈদের পরপরই শুরু হতে যাচ্ছে। 

উপজেলা নির্বাচনের ব্যাপারে আওয়ামী লীগ পাঁচটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং এই সিদ্ধান্তগুলো যেন মাঠ পর্যায়ে কঠোর ভাবে মানা হয় সে ব্যাপারেও সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাচনের ব্যাপারে যে পাঁচটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে;

১. দলীয় প্রতীক ব্যবহার করবে না: আওয়ামী লীগ উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহার করবে না। দল থেকে কাউকে মনোনয়নও দেওয়া হবে না। কাজেই কেউ যেন দলীয় পরিচয় ব্যবহার না করে নির্বাচন করে- এ ব্যাপারে বার্তা দেওয়া হয়েছে। যারা দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে নির্বাচন করবে, দলের পদ পদবী ব্যবহার করবে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

২. কোনো মন্ত্রী, এমপি কারও পক্ষে বিপক্ষে প্রচারণা করতে পারবে না: উপজেলা নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ নির্দলীয় চরিত্রে। আওয়ামী লীগের যার ইচ্ছা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন, তবে মন্ত্রী, এমপিরা তাদের মাইম্যান বা পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচনে দাঁড়ানোর জন্য প্ররোচিত করতে পারবেন না। কেউ যদি এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেন বা কোন পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন তাহলে সেক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

৩. দলের ভিতরের কোন্দল হানাহানি করা যাবে না: উপজেলা নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ নির্দলীয় ভিত্তিতে। ফলে উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থীতা নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে কোন্দল সৃষ্টি করা যাবে না। দলের ভিতর বিভক্তি, অনৈক্য এবং সহিংসতা সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগের সহিংসতা যেন না হয় সে ব্যাপারটি কঠোর ভাবে দেখতে হবে বলে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ জানিয়ে দিয়েছে। 

৪. প্রার্থীদের মধ্যে অঘোষিত ঐক্য: আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের মধ্যে যেন একটি অঘোষিত ঐক্য হয় সে ব্যাপারেও মাঠ পর্যায়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেখানে যেখানে বিএনপি এবং জামায়াত বা অন্যান্য রাজনৈতিক দল শক্তিশালী সেখানে যেন আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী না দেয় সে ব্যাপারেও স্থানীয় পর্যায়ে উদ্যোগ গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত উপজেলা নির্বাচনে কোথাও কোথাও চারজন, কোথাও কোথাও পাঁচজন প্রার্থী মনোনয়ন দিচ্ছেন। এই প্রার্থিতা যেন কমানো হয় এবং অপেক্ষাকৃত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ উপজেলাগুলোতে যেন একক প্রার্থী দেওয়া হয় তা নিশ্চিত করার জন্য বলা হয়েছে।

৫. কোন কারচুপি বা ভোটে অনিয়ম করা যাবে না: আওয়ামী লীগ নীতিগত ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, উপজেলা নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ। নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের সহযোগিতা দেবে। নির্বাচনে কোন ধরনের কারচুপিকে বরদাস্ত করা হবে না। আর এ কারণেই উপজেলা নির্বাচনে যদি কেউ কারচুপি করার চেষ্টা করে বা প্রভাব বিস্তার করতে চেষ্টা করে তাহলে দল থেকেই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আওয়ামী লীগ উপজেলা নির্বাচন চায় একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মডেল হিসেবে দাঁড় করাতে যেখানে নির্বাচনে যারাই জিতুক না কেন সকলে এক বাক্যে বলবে যে, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ হয়েছে।

উপজেলা নির্বাচন   আওয়ামী লীগ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

তারেকের সিসিটিভি নিয়ন্ত্রিত বেগম জিয়ার বৈঠক

প্রকাশ: ০২:০০ পিএম, ১২ এপ্রিল, ২০২৪


Thumbnail

ঈদের দিন রাতে বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। বৈঠকের পর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন যে, বৈঠকে কোন রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়নি। সিনিয়র নেতাদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন, তাদের সঙ্গে কুশলাদি বিনিময় করেছেন। এছাড়া বেগম জিয়া বিভিন্ন নেতার পারিবারিক খোঁজখবরও নিয়েছেন। 

এই বৈঠকে রাজনৈতিক আলোচনা না হওয়ার কারণ কী—এ নিয়ে বিএনপির মধ্যে বিভিন্ন ধরনের মতামত পাওয়া গেছে। একাধিক সূত্র বলছে যে, বেগম জিয়া তার পুত্রের কারণেই ওই ঈদ পুনর্মিলনীতে কোন রাজনৈতিক আলোচনা করেনি। কারণ পুরো বাসাতে তারেক জিয়ার নিয়ন্ত্রিত সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া কী করেন না করেন, কী কথাবার্তা বলেন না বলেন ইত্যাদি সবই লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেখেন। 

বিএনপির মধ্যে গত কিছুদিন ধরেই বিশেষ করে ৭ জানুয়ারি নির্বাচনের পর থেকেই তারেক জিয়াকে নিয়ে একটা নেতিবাচক অবস্থান তৈরি হয়েছে। এই নেতিবাচক অবস্থানের কারণেই এখন বেগম জিয়া রাজনৈতিক বিষয়ে কোনো কথা বার্তা বলতে পারছেন না। বিএনপিতে এক ধরনের অভ্যুত্থান হয়েছে এবং এই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তারেক জিয়া বেগম খালেদা জিয়া সকল ক্ষমতা কুক্ষিগত করে নিয়েছেন। যদিও বিএনপির রাজনীতি এখন টালমাটাল অবস্থা। তারেক জিয়ার একের পর এক ভুল সিদ্ধান্তের কারণে বিএনপিতে এক ধরনের অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে। কিন্তু তারপরও তিনি (খালেদা জিয়া) এখন পর্যন্ত নিজেকে রাজনীতিতে জড়াতে পারছেন না তারেক জিয়ার বাধার কারণে।

বেগম জিয়ার সঙ্গে গতকাল যারা সাক্ষাৎ করেছেন তারা সবাই তার ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত। তবে এদের মধ্যে কেউ কেউ দুই নৌকায় পা দেওয়ার মত অবস্থায় রয়েছেন। একদিকে তারা যেমন বেগম জিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখতে রাখছেন, অন্যদিকে তারা তারেক জিয়ার আনুকূল্য লাভেরও চেষ্টা করছেন। বেগম জিয়া বিভিন্ন ইস্যুতে তারেক জিয়া সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নন। তবে তার ভিন্ন মত তিনি প্রকাশ করতেও পারছেন না। নানা কারণে বেগম জিয়া তারেকের কাছে দায়বদ্ধ বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। আর এ কারণেই বেগম জিয়া এমন কিছু বলতে চান না যাতে বিএনপির মধ্যে অসন্তোষ এবং বিভেদ আরও বেড়ে যায়। 

উল্লেখ্য যে, তারেক জিয়ার অপছন্দের একাধিক নেতাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, যাদের সঙ্গে বেগম জিয়ার সুসম্পর্ক রয়েছে। আবার বেগম জিয়ার সঙ্গে যারা ঘনিষ্ঠ, তাদের অনেকেই তারেক জিয়া কোণঠাসা করে রেখেছেন। সবকিছু মিলিয়ে তারেক জিয়া এবং বেগম খালেদা জিয়ার বিরোধ এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। আর এই কারণেই বেগম জিয়া রাজনৈতিক প্রসঙ্গটি এড়িয়ে গেছেন।

বিভিন্ন সূত্র দাবি করছে যে, বেগম জিয়ার সঙ্গে সরকারের একটি গোপন যোগাযোগ তৈরি হয়েছে। বেগম জিয়া উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার জন্য চেষ্টা করছেন এবং সে কারণেই তিনি সরকারের বিরুদ্ধে বা রাজনীতির বিষয়ে আগ্রহী নন। তবে অন্য একটি সূত্র বলছে যে, তারেক জিয়াই আসলে সরকারের সঙ্গে গোপন আঁতাত করেছেন এবং সেই আঁতাতের কারণেই তিনি ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের ব্যাপারে এরকম একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে কার কি দোষ সেটি বড় বিষয় নয়। বড় বিষয় হল তারেক জিয়া এবং বেগম খালেদা জিয়া এখন দুই মেরুতে অবস্থান করছেন। এটি বিএনপির জন্য একটি বড় সমস্যার বিষয়। বেগম জিয়া এই সমস্যাকে সামনে আনতেন চাননি জন্যই রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে ঈদের দিন কোন আলোচনাই করেননি বলে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে।

তারেক জিয়া   বিএনপি   খালেদা জিয়া   মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

খালেদা জিয়ার ১৫ ঈদ কাটলো গৃহবন্দি অবস্থায়

প্রকাশ: ১০:০৬ এএম, ১২ এপ্রিল, ২০২৪


Thumbnail

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গুলশানের বাসা ফিরোজায় ঈদ উদযাপন করেছেন। বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) সকালে ছোট ভাই শামীম এস্কান্দারসহ কয়েকজন কাছের আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে ঈদের সময় কাটান।

বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার জানান, সকাল থেকেই ম্যাডামের আত্মীয়-স্বজনরা দেখা-সাক্ষাৎ করতে আসেন। বিকেলে লন্ডন থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বিএনপি চেয়ারপারসনের ছেলে তারেক রহমান এবং তার সহধর্মিণী ডা. জোবায়দা রহমান ভার্চ্যুয়ালি তার সঙ্গে কথা বলেন। রাতে দলের সিনিয়র নেতারা ঈদের সালাম জানাতে আসেন।

বিগত কয়েক বছর তিনি ঈদে বাসার বাইরে বের হতে পারছেন না। এমনকি পরিবারের সদস্যদের নিয়েও ঈদ উদযাপন করার সুযোগ পাচ্ছেন না। বন্দি থেকে গৃহবন্দি অবস্থায় রয়েছেন সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এবারসহ ১৫টি ঈদ কেটেছে জেলে ও গৃহবন্দী অবস্থায় তার।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে যাওয়ার পর থেকে ৭৯ বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী  খালেদা জিয়ার চারটি ঈদ কারাগারে, ১টি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে, এভারকেয়ারে ১টি ঈদ এবং বাসায় গৃহবন্দি অবস্থায় ৬টি ঈদ কেটেছে। ২০১৭ সালের ২৬ জুন  চীন মৈত্রী হলে সর্বশেষ ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এই নেত্রী। এর আগে ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গ্রেফতার হয়ে দুইটি ঈদ চার দেয়ালের মধ্যেই কাটাতে হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে। তখন তিনি ছিলেন সংসদ ভবন এলাকার একটি ভবন যেটাকে সাবজেল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। সে সময় খালেদা জিয়ার মতো বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও দুইটি ঈদ কাটাতে হয়েছে বন্দী অবস্থায়।

দলটির নেতাকর্মী বলছেন, দীর্ঘ আট বছরেরও বেশি সময়  পূর্ন স্বাধীন অবস্থায় ঈদ উদযাপনের বাইরে রয়েছেন তিনি। গৃহকর্মী ও পরিবারের কয়েকজন সদস্যদেরকে নিয়ে ঈদের দিন কাটে খালেদা জিয়ার।

খালেদা জিয়ার এবারের ঈদও কাটলো গুলশানের বাসায়। যদিও রাতে দলের মহাসচিবসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) রাত ৮টার সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান এবং বেগম সেলিমা রহমান খালেদা জিয়ার গুলশানস্থ ফিরোজা বাসভবনে প্রবেশ করেন। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।


খালেদা জিয়া   ১৫ ঈদ   গৃহবন্দি  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন