ইনসাইড পলিটিক্স

আবারও রক্তক্ষরণ হলে খালেদার মৃত্যুঝুঁকি বাড়বে: চিকিৎসক

প্রকাশ: ০৯:০৭ পিএম, ২৮ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail আবারও রক্তক্ষরণ হলে খালেদার মৃত্যুঝুঁকি বাড়বে: চিকিৎসক

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আবারও রক্তক্ষরণ হলে তার মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যাবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা।  

রোববার (২৮ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের বাসভবনে তার চিকিৎসক টিমের সদস্যরা সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে চিকিৎসক টিমের প্রধান ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, ‘আমরা আশঙ্কা করছি ম্যাডামের যদি পুনরায় রক্তক্ষরণ হয়, তাহলে সেটা নিয়ন্ত্রণ করার মতো সাপোর্টিং টেকনোলজি আমাদের এখানে নেই। সে ক্ষেত্রে উনার আবার রক্তক্ষরণ হলে মৃত্যুঝুঁকি অনেক বেড়ে যাবে।’

এ সময় ডা. শামসুল আরেফিন বলেন, ‘আমাদের শরীরে দুটি সার্কুলেশন সিস্টেম আছে। একটা হলো পোর্টাল সার্কুলেশন সিস্টেম, আরেকটা সিস্টেমিক সার্কুলেশন সিস্টেম। লিভারে দুটা সিস্টেমই কার্যকর। লিভারে টোটাল যে ব্লাড যায় তার তিন ভাগের এক ভাগ যায় সিস্টেমিক সার্কুলেশন থেকে আর দুই ভাগ যায় পোর্টাল সার্কুলেশন থেকে। এখানে যেটা হয় তার পোর্টাল প্রেসার বেড়ে গেছে। কারণ তার লিভারের ভেতরের নরমাল চ্যানেলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যে কারণে পোর্টাল প্রেসার বেড়ে যায়, আর যেসব ব্যান খাদ্যনালীতে থাকে, সেগুলো ফুলে ওঠে ফেটে যায়। সেজন্য সিভিআর ব্লিডিং হয়। এই সিচুয়েশনে আমরা যেটা করেছি সেটা ইন্টারন্যাশনাল প্রাকটিস। এটার পরে আবার ব্লিডিং হলে আরও কিছু জিনিস আছে যেগুলো আমরা করি, স্পেশাল কিছু কেমিক্যাল এজেন্ট আছে সেগুলো ইনজেক্ট করি অনেক সময়। আনফরচুনেটলি সেটা আমাদের দ্বারা সম্ভব হয়নি এবং এখন আমাদের দেশে সেই ওষুধগুলো পাওয়া যায় না।’

এ চিকিৎসক আরও বলেন, ‘তৃতীয়ত যেটা আছে সেটা হলো টিপস। লিভারের ভেতরে টোটাল প্রেসার কমানোর জন্য সিস্টেমিক সার্কুলেশন এবং পোর্টাল সার্কুলেশনের মধ্যে একটা কমিউনিকেশন করে দেওয়া। এটা একটা হাইলি টেকনিক্যাল কাজ। এটা সচরাচর হয় না। আমাদের দেশে আমি দেখিনি কোনো টিপস করা রোগী এসেছে। রোগীদের দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয়বার ব্লিডিং হলে সার্ভাইভ করা কঠিন হয়ে যায়। সেজন্য এ সেন্টারগুলো মেইনলি আমেরিকা ও ইউরোপে হয়। বিশেষত ইউকে জার্মানি এবং ইউএসএ। ওইসব দেশে এগুলোর জন্য অ্যাডভানস সেন্টার আছে। তবে সেসব দেশেও ছড়িয়ে ছিটিয়ে নেই। দুই-চারটা সেন্টার আছে। বিশ্বের সব রোগীরা সেসব সেন্টারে যায়।’

ডা. ফখরুদ্দিন মোহাম্মদ সিদ্দিকী (এফএম সিদ্দিকী) বলেন, ‘১৭, ১৮ নভেম্বরের পর আবারও তৃতীয় দফায় রক্তক্ষরণ হয়েছে খালেদা জিয়ার। তবে শেষ ২৪ ঘণ্টায় তার ব্লিডিং হয়নি। আবার এমন অবস্থা সৃষ্টি হলে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সে কারণে স্ট্যাবল অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য বা জার্মানিতে উন্নত চিকিৎসা কেন্দ্রে তার চিকিৎসা দরকার। সেখানে এ ধরনের যে ডেটা আছে, এসব রোগীর ফেইলর হলে লাইফ সেভ কীভাবে করা হয়, তার চিকিৎসা সেখানে সম্ভব।’  

ডা. এফ সিদ্দিকী বলেন, ‘নেক্সট উইকে ফিফটি পারসেন্ট, নেক্সট সিক্স উইকে সেভেনটি পারসেন্ট এবং এরপর যদি আল্লাহ না করুন এটা একটা অবভিয়াস ব্যাপার ঘটতে যাচ্ছে। আমরা যা করছি, তা সমস্ত সম্ভাবনার শেষটুকু দিয়ে। যেটা এ উপমহাদেশের মধ্যেও নেই। যতবার তিনি আক্রান্ত হচ্ছেন, কেন যেন তার সিরিয়াসনেসটা একেবারে ডেথ পয়েন্টে চলে যাচ্ছে। 

তিনি আরও বলেন, ‘এর আগে তিনি চেস্ট টিউব নিয়ে ১৭ দিন কাটিয়েছেন। প্রতিদিন উনার ফ্লুয়িড বের হয়ে এসেছে। প্রতিদিন উনি নিজের চোখে ব্লাড দেখছেন। অ্যান্ডলেস এটা সিচুয়েশন, সেখান থেকেও কিন্তু আমরা কনফিডেন্টলি বের হয়ে এসেছি।’

অধ্যাপক সিদ্দিকী বলেন, ‘মনোবল উনার অনেক দৃঢ়। উনি আমাদের যথেষ্ট বিশ্বাস করেন। এছাড়া আমাদের আর কিছু করার উপায় নেই। আল্লাহর রহমতে আমরা সেখান থেকে বের হয়ে এসেছি। দ্যাট টাইম উই ওয়্যার কনফিডেন্ট, কিন্তু দিস টাইম আমরা হেল্পলেস ফিল করছি। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য মিলিয়ে অন্তত ১৭ থেকে ২৩ জনের মেডিকেল টিম কাজ করছে বিএনপি চেয়ারপারসনের চিকিৎসা বোর্ডে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, ডা. এজেড এম জাহিদ হোসেন, প্রফেসর ডা. একিউ এম মহসিন, প্রফেসর ডা. নূর উদ্দিন, ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আল মামুন।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

মির্জা ফখরুলের সঙ্গে গণতন্ত্র মঞ্চ ও ১২ দলের বৈঠক

প্রকাশ: ১০:২১ পিএম, ০২ মার্চ, ২০২৪


Thumbnail

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেছেন যুগপৎ আন্দোলনে থাকা শরিক ১২ দলীয় জোট ও গণতন্ত্র মঞ্চের শীর্ষ নেতারা।  

শনিবার (২ মার্চ) বিকেলে গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রথমে ১২ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপি মহাসচিব।

সন্ধ্যার পর বিএনপি মহাসচিবের গুলশানের বাসায় গণতন্ত্র মঞ্চের নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে গণতন্ত্র মঞ্চের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।

বৈঠকের বিষয়ে ১২ দলীয় জোটের এক শীর্ষ নেতা বলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘদিন কারাগার ভোগ করে মুক্তি পেয়েছেন। সেজন্য তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ১২ দলের নেতারা।

রোববার (৩ মার্চ) বিকেল ৫টার দিকে সমমনা জোটের সঙ্গে বিএনপি মহাসচিবের বৈঠক করার কথা।

বিএনপি   মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর   গণতন্ত্র মঞ্চ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

প্রথমবার এমপি হয়েই মন্ত্রী: রহস্য কি?

প্রকাশ: ১০:০০ পিএম, ০২ মার্চ, ২০২৪


Thumbnail

আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে কিছু ভাগ্যবান ব্যক্তি আছেন, যারা রাজনীতিতে এসেই সবকিছু পেয়ে যান। অর্ধেক রাজত্ব এবং রাজকন্যার মতো তারা এলাম, দেখলাম, জয় করলাম এর মতো সবকিছু পেয়ে যান। কিন্তু প্রশ্ন হল, এই পাওয়াটা তারা ধরে রাখতে পারেন কিনা সেটাই হল রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। আর এই পরীক্ষা অনেকে অনুত্তীর্ণ হন। 

১৯৯৬ সালে দীর্ঘ ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে প্রথমবারের এমপি সাবের হোসেন চৌধুরী হয়েছিলেন উপমন্ত্রী। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি রাজনীতির নানা গোলক ধাঁধার আবর্তে হারিয়ে যেতে বসেছিলেন। এবার অবশ্য তিনি আবার পূর্ণমন্ত্রী হয়ে ফিরে এসেছেন। 

২০১৮ সালেও অ্যাডভোকেট শ. ম রেজাউল করিম প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হয়েই পূর্ণমন্ত্রীর মর্যাদা পেয়েছিলেন। এটি ছিল একটি অনন্য রেকর্ড এবং এইবার তিনি অবশ্য আর মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি। 

এবার সম্প্রসারিত মন্ত্রিসভায় দুইজন প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন যারা এবারই প্রথমবারের মতো এমপি হলেন। এদের মধ্যে রয়েছেন ডা. রোকেয়া সুলতানা। তিনি এবার প্রথমবারের মতো সংরক্ষিত আসনে এমপি নির্বাচিত হলেন এবং স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। অন্যদিকে শামসুন নাহার চাঁপা এবারই প্রথমবারের মতো এমপি হয়ে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। 

আওয়ামী লীগের মতো একটি রাজনৈতিক দলে এটি একটি বড় উত্থান, বড় প্রাপ্তি। অনেকেই আছেন যারা ৭/৮ বার এমপি হয়েও একবার প্রতিমন্ত্রী হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেননি। কিন্তু সেক্ষেত্রে রোকেয়া এবং শামসুন নাহার এক বিরল ব্যতিক্রম। এবার কোন বিবেচনায় তাদেরকে একসাথে এমপি এবং মন্ত্রিত্ব দেওয়া হল—এই প্রশ্ন রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন, এই দুই জনেরই অবদান অনেক বেশি। আওয়ামী লীগ চারবার সংরক্ষিত আসনে নির্বাচন করলেও চারবারের মধ্যে এবারই তারা প্রথম এমপি হিসেবে জায়গা পেয়েছেন। অথচ বিভিন্ন সময়ে তাদের ত্যাগ তিতিক্ষার রয়েছে। 

রোকেয়া সুলতানা একনিষ্ঠ আওয়ামী লীগের একজন নেতা। তিনি সারা জীবন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রতি অটুট থেকেছেন এবং বিভিন্ন লড়াই সংগ্রামে তাকে দেখা গেছে। ব্যক্তিগত জীবনে একজন সৎ মানুষ হিসেবে পরিচিত। গত কিছুদিন ধরেই লক্ষ্য করা যাচ্ছিল যে, আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে আস্তে আস্তে পাদপ্রদীপে আনছেন। তিনি আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক হয়েছিলেন। এটি ছিল তার জন্য একটা বিরাট প্রাপ্তি। এবার তাকে সংসদ সদস্য যখন করা হয় তখনই বোঝা যাচ্ছিল যে, তিনি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে জায়গা পেতে যাচ্ছেন। 

অন্যদিকে শামসুন নাহার চাঁপা একজন ত্যাগী রাজনীতিবিদ। ড. রাজ্জাকের ছোট বোন হলেও তাদের দুজনের সম্পর্ক খুব একটা ভালো নয়। কিন্তু ড. আবদুর রাজ্জাকের ছায়ার নিচে না থেকে তিনি নিজের রাজনৈতিক শক্তিতে বলীয়ান হওয়ার চেষ্টা করেছেন। এই দুজনের একটি অভিন্ন বৈশিষ্ট্যেআছে। তারা দুজন খুব সাধারণ সাদাসিধা জীবনযাপন করেন। যখন তারা সম্পাদকমণ্ডলীতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন তখনও তাদের মধ্যে কোন রকম ক্ষমতার দাপট বা অহংকার দেখা যায়নি। তাদের মধ্যে দেখা গেছে এক ধরনের নম্রতা এবং শিষ্টাচার। সব সময় তারা মাটিতে পা রেখেছেন। আর এ কারণেই তাদের প্রতি শেখ হাসিনা একটি বিশেষ উপহার দিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে অতীতের মতো তারাও মন্ত্রিত্ব পাওয়ার পর রাজনীতিতে বিকশিত হতে পারেন কিনা সেটাই দেখার বিষয়। সবকিছু পেয়ে যাওয়ার পর যদি তারা ঠিক থাকতে পারেন, যদি তারা আগের মতোই সৌহাদ্যপূর্ণ এবং নমনীয় অবস্থায় থাকতে পারেন তাহলেই তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যত উজ্জ্বল হবে।

অ্যাডভোকেট শ. ম রেজাউল করিম   সাবের হোসেন চৌধুরী   শামসুন নাহার চাঁপা   ডা. রোকেয়া সুলতানা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

আওয়ামী লীগের বিভক্তি এবং একলা চলো নীতি

প্রকাশ: ০৯:০০ পিএম, ০২ মার্চ, ২০২৪


Thumbnail

আওয়ামী লীগ তার রাজনীতির ইতিহাসে সব চেয়ে সময় কাটাচ্ছে। টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় চতুর্থ মেয়াদে স্বস্তিদায়ক অবস্থায় দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে দলটি। কোন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাদের সামনে নেই বললেই চলে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং রুটিন কিছু চ্যালেঞ্জ ছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো এই মুহূর্তে কোন শক্তি নেই। কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের জন্য এরকম পরিস্থিতিও উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। কেউ কেউ মনে করছেন যে, আওয়ামী লীগের মধ্যে অতি আত্মবিশ্বাস দেখা দিয়েছে। নেতাকর্মীরা এখন মনে করছেন যে, তাদের জন্য ক্ষমতা চিরস্থায়ী। 

অনেকেই সাধারণ মানুষের সঙ্গে এক ধরনের দূরত্ব তৈরি করছেন। সাধারণ মানুষকে খুব একটা পাত্তা দিচ্ছেন না। আওয়ামী লীগকে কেউ ক্ষমতা থেকে সরাতে পারবে না এরকম একটি চিন্তাভাবনা থেকে অনেকে তাদের দুঃসময়ের বন্ধু বা সাথীদেরকেও অবজ্ঞা অবহেলা করছেন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল।

আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল যেন কিছুতেই থামছে না। অনেকেই মনে করছেন যে, সারা দেশে আওয়ামী লীগ দুই তিনভাগে বিভক্ত এবং এই বিভক্তি যদি অব্যাহত থাকে তাহলে সামনের দিনগুলোতে সাংগঠনিক ভাবে দলটি দুর্বল হয়ে পড়বে। তবে আওয়ামী লীগের জন্য সেটি কোন বড় সমস্যা না। 

সংগঠন শক্তিশালী রাখতে হয় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মোকাবেলা করার জন্য। যারা বিরোধী দল তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য একটি দলের সংগঠন শক্তিশালী করা প্রয়োজন। কিন্তু আওয়ামী লীগ এখন প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন। আওয়ামী লীগের সামনে কোন প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল নেই, যারা আওয়ামী লীগকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে। যার ফলে আওয়ামী লীগের নেতারা অনেকটাই আত্মতুষ্টিতে ভুগছেন, তারা দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে পাত্তা দিচ্ছেন না। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই বলেও তারা মনে করছেন। 

পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সব ক্ষেত্রেই একাকী এবং বন্ধুহীন থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আওয়ামী লীগের যে আদর্শিক জোট ছিল ১৪ দল তা এখন থেকেও নেই। এটি রীতিমতো মৃতপ্রায়। আওয়ামী লীগ সুশীল বা বুদ্ধিজীবী সমাজের মধ্যে আগে যে একটা সম্পর্ক তৈরি করেছিল সেই সম্পর্কটাও আর অব্যাহত রাখছে না। বরং সুশীলদের সাথে আওয়ামী লীগের একটা সুস্পষ্ট দূরত্ব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের যে মিত্র এবং শুভাকাঙ্ক্ষী আছে তাদেরকেও আওয়ামী লীগ খুব একটা আমলে নিচ্ছে বলে মনে করা হয় না। 

ঐতিহাসিকভাবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিদের একটা সুসম্পর্ক থাকে। সেক্ষেত্রেও কিছু চাটুকার ছাড়া আওয়ামী লীগ কারও সাথে সম্পর্ক রক্ষায় আগ্রহ না। আওয়ামী লীগ এখন এমন অবস্থায় গেছে যে, যেখানে তারা মনে করছে কাউকেই তাদের প্রয়োজন নেই। একদিকে দলের বিভক্তি অন্যদিকে আওয়ামী লীগের একাকী চলো নীতি এর পরিণতি কি—এ নিয়ে আওয়ামী লীগের কেউ কেউ চিন্তাভাবনা করছেন। কারণ এখন বিরোধী দল নেই জন্য সামনের দিনগুলোতে বিরোধী দল থাকবে না—এমন ভাবার যেমন কোন কারণ নেই তেমনি এখন যদি আওয়ামী লীগ বন্ধুহীন হয়ে পড়ে তাহলে ভবিষ্যতে বন্ধু খুঁজে পাওয়া তার জন্য দুষ্কর হতে পারে। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতারা মনে করেন সুসময় থেকে দু:সময়ের দূরত্ব কম না। আজকে আওয়ামী লীগের ভালো সময় যাচ্ছে কিন্তু আওয়ামী লীগ যদি বিভক্ত এবং কোন্দলে জড়িয়ে পড়ে তাহলে সংকটে তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দাঁড়াতে পারবে না। আবার একই কারণে বিপদে কোন সাথীও পাবে না। আওয়ামী লীগ যেন হিমালয়ের চূড়ায় উঠেছে একাকী। কিন্তু নামার সময় তার সঙ্গী দরকার। সেই সঙ্গী পাবে কি?

আওয়ামী লীগ   অভ্যন্তরীণ কোন্দল   ১৪ দল  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

নতুন রাজনৈতিক দল ঘোষণা দিলেন শামা ওবায়েদের মা

প্রকাশ: ০৮:২৫ পিএম, ০২ মার্চ, ২০২৪


Thumbnail

দেশের নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির সাবেক মহাসচিব কেএম ওবায়দুর রহমানের স্ত্রী শাহেদা ওবায়েদ। ‘পারিবারিক ক্রম ও দলীয়করণের বিরুদ্ধে’ অবস্থানের কথা জানিয়ে ‘গণতন্ত্র সংস্কারে’ নতুন দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। শাহেদা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদের মা।

শনিবার (২ মার্চ) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন তিনি। তার দলের নাম হচ্ছে ‘ডেমোক্রেটিক রিফর্মস পার্টি’ (ডিআরপি) বা ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার পার্টি’। নতুন দলের আহ্বায়ক হিসেবে থাকছেন শাহেদা ওবায়েদ।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে দল গঠনের উদ্দেশ্য এবং ঘোষণাপত্র পাঠ করেন দলের মহা-সমন্বয়ক মেজর (অব.) আমীন আহমেদ আফসারী।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রাজিয়া চৌধুরী, জহিরুল ইসলাম, আফাজুল হক, কমরেড সাব্বির, জাহাঙ্গীর আলম।

সংবাদ সম্মেলনে শাহেদা ওবায়েদ বলেন, আমরা একটি নতুন রাজনৈতিক দলের যাত্রা শুরু করেছি। আমাদের এটি প্রথম পদক্ষেপ। এই দলটির নাম হচ্ছে ‘ডেমোক্রেটিক রিফর্মস পার্টি’-ডিআরপি। বাংলায় হচ্ছে ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার পার্টি’।

দল গঠনের উদ্দেশ্য তুলে ধরে শাহেদা ওবায়েদ বলেন, ‘৩০-৩৫ বছর ধরে আপনারা সবাই জানেন দেশে দলীয়করণ, তারপরে পরিবারকরণ, বর্তমানে আমিকরণ…এসব করণ থেকে আমরা দেশকে মুক্ত দেখতে চাই। আমরা যোগ্য মেধাবী, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক মানুষের মূল্যায়ন চাই। আজকে সেই উদ্দেশেই আমাদের পা রাখা।’

সংবাদ সম্মেলনে নতুন দল গঠন করলেও নির্বাচন না করার কথা জানান তিনি। শাহেদা বলেন, আমি নির্বাচন করব না। কিন্তু তারপরও আমি চাই, একটা শুরু হোক। আমি মনে করি, ভালো একটা শুরু হলে, ভালো কিছু লোক নিয়ে শুরু করতে পারলে নিশ্চয়ই আমরা এগিয়ে যেতে পারব।

দলে কারা থাকছেন জানতে চাইলে শাহেদা ওবায়েদ বলেন, অতীতের বিতর্কিত কেউ থাকছে না। আমরা তাদের সঙ্গে কাজ করতেও চাই না। আমরা নতুনদের নিয়ে কাজ করতে চাই। 

শাহেদা ওবায়েদ দীর্ঘদিন ‘গড়ব বাংলাদেশ’ নামে একটি সংগঠনের আহ্বায়ক ছিলেন। ২০১৯ সালের দিকে এই সংগঠনের ব্যানারে তিনি বিএনপি এবং দলটির নেতৃত্বের কঠোর সমালোচনা করে আলোচনায় আসেন। ওই সময় তিনি বলেছিলেন, বিএনপি কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটি মা ও ছেলের রাজনৈতিক সমিতি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শাহেদা ওবায়েদের স্বামী ওবায়দুর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর খন্দকার মোশতাক আহমেদের মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়েছিলেন। ১৯৮৬ সালে বিএনপির মহাসচিব হলে পরে বহিষ্কৃতও হন। পরে ফের বিএনপিতে যোগ দিয়ে ১৯৯৬ সালে দলটির এমপি হন। ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের সময়ে ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান হন তার স্ত্রী শাহেদা ওবায়েদ। তিতুমীর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষও হন শাহেদা।

নতুন রাজনৈতিক দল   বিএনপি   শামা ওবায়েদ   শাহেদা ওবায়েদ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

পাঁচ ইস্যুতে সিদ্ধান্তহীনতায় বিএনপি

প্রকাশ: ০৭:০০ পিএম, ০২ মার্চ, ২০২৪


Thumbnail

নির্বাচনের পর বিএনপির মধ্যে বিভ্রান্তি, হতাশা কাটছেই না। একে অপরকে দোষারোপ করছে ক্ষমতার বাইরে দীর্ঘদিন থাকা রাজনৈতিক দলটি। আর বিএনপির মধ্যে একের পর এক সিদ্ধান্তহীনতা এবং স্ববিরোধী সিদ্ধান্তের কারণে দলটি আরও বিপর্যস্ত অবস্থায় পড়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন ইস্যুতে বিএনপির মধ্যে যেমন বিরোধ দেখা যাচ্ছে, তেমনই দেখা যাচ্ছে সিদ্ধান্তহীনতা। নির্বাচনের পর বিএনপির মধ্যে আত্ম সমালোচনা হচ্ছে একেবারে নীরবে, গোপনে। প্রকাশ্যে বিএনপি নিজেদেরকে জয়ী ঘোষণা করলেও দলের নেতাকর্মীদের হতাশা থামাতে পারছে না। 

বিএনপির মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে দেখা যাচ্ছে সিদ্ধান্তহীনতা। পাঁচটি ইস্যুতে বিএনপির সিদ্ধান্তহীনতা রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপিকে অস্তিত্বের সংকটে নিয়ে গেছে। যে সব ইস্যুতে বিএনপির সিদ্ধান্তহীন অবস্থা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে;

১. আন্দোলনের কৌশল: বিএনপি কি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন অব্যাহত রাখবে নাকি আন্দোলনকে থামিয়ে এখন সংগঠন পুনর্গঠন করবে—এ নিয়ে বিএনপি সিদ্ধান্তহীনতায় আছে। ফলে হঠাৎ হঠাৎ কিছু কিছু নাম কা ওয়াস্তে কর্মসূচি দিয়ে আবার ঘরে ফিরে যাচ্ছে দলটি। এতে দলের ভিতর বিভ্রান্তি আরও বাড়ছে, বাড়ছে হতাশা। 

২. সংগঠন পুনর্গঠন: বিএনপিতে সংগঠন পুনর্গঠন নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতা রয়েছে। বিএনপির মধ্যে কেউ কেউ ভাবছেন যে, দলের ভিতর দ্রুত একটি কাউন্সিল করে নেতৃত্বের পুনর্গঠন দরকার। আবার অনেকে মনে করছেন যে, শূন্যপদগুলো পূরণ করে সংগঠনে গতি আনা দরকার। সংগঠনকে কিভাবে পুনর্গঠন করা হবে সেটি নিয়েও দলটি রয়েছে এক ধরনের সিদ্ধান্তহীনতায়। 

৩. আন্তর্জাতিক সম্পর্ক: আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে বিএনপির মধ্যে সিদ্ধান্তহীনতা হলো সবচেয়ে বেশি। বিএনপি নির্বাচনের আগে টানা দু বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু নির্বাচনের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি পাল্টে গেছে। আর তাই বিএনপির মধ্যে হতাশা। এরকম অবস্থায় বিএনপি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোন কৌশল অবলম্বন করবে। বিএনপির অনেক নেতাই মনে করেন যে, ভারতই আওয়ামী লীগকে আবার ক্ষমতায় এনেছে। আর সেক্ষেত্রে তারা ভারত বিরোধিতার কৌশল নিয়েছে। আবার বিএনপির মধ্যেই কারও কারও ধারণা, ভারত বিরোধিতা করলে তাদের অস্তিত্বই বিপন্ন হবে। আন্তর্জাতিক ইস্যুতে বিএনপি কোন পথে যাবে এ নিয়ে বিএনপির মধ্যে চলছে নানা রকম টানাপোড়েন এবং সমস্যা।

৪. ঐক্য প্রসঙ্গ: ঐক্য প্রসঙ্গ নিয়েও বিএনপিতে চলছে সিদ্ধান্তহীনতা। বিএনপির অনেকেই মনে করছেন যে, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম করা উচিত। আবার বিএনপির মধ্যেই কেউ কেউ মনে করেন যে, পুরনো ২০ দল বা জামাতের সঙ্গে তাদের ঐক্য পুনর্বিন্যস্ত করা উচিত। কেউ কেউ মনে করেন যে, বিএনপি একলা চলো অবস্থায় ভালো। আর এরকম ভাবনা গুলো নিয়ে বিএনপি কোন সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারছে না। যার ফলে দলের মধ্যে দেখা দিচ্ছে এক ধরনের অস্থিরতা এবং হতাশা। 

৫. সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক: বিএনপির  সরকারের সঙ্গে কি রকম সম্পর্ক করবে? সরকারের কাছে কি বিএনপির নেতারা দেন দরবার করবে নাকি সরকারের সঙ্গে অসহযোগিতার ধারা অব্যাহত রাখবে—এ নিয়েও বিএনপির মধ্যে চলছে টানাপোড়েন এবং সিদ্ধান্তহীনতা। বিএনপির অনেকে মনে করছেন যে, যেহেতু নতুন একটি সরকার গঠিত হয়েছে তাই সরকারের সঙ্গে তাদের একটি রাজনৈতিক সম্পর্ক থাকা উচিত। আবার কেউ কেউ মনে করেন যে, সরকারকে কোন রকম ছাড় দিলে সেটি হবে বিএনপি জন্য বিপজ্জনক। সবকিছু মিলিয়ে সিদ্ধান্তহীনতার কারণে না পারছে আন্দোলন করতে না পারছে সংগঠন গোছাতে। আর এই সিদ্ধান্তহীনতা বিএনপিকে নিয়ে যাচ্ছে আরও গভীর অন্ধাকার টানেলে। 

বিএনপি   আন্দোলনের কৌশল  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন