ইনসাইড পলিটিক্স

আবারও রক্তক্ষরণ হলে খালেদার মৃত্যুঝুঁকি বাড়বে: চিকিৎসক

প্রকাশ: ০৯:০৭ পিএম, ২৮ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail আবারও রক্তক্ষরণ হলে খালেদার মৃত্যুঝুঁকি বাড়বে: চিকিৎসক

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আবারও রক্তক্ষরণ হলে তার মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যাবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা।  

রোববার (২৮ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের বাসভবনে তার চিকিৎসক টিমের সদস্যরা সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে চিকিৎসক টিমের প্রধান ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, ‘আমরা আশঙ্কা করছি ম্যাডামের যদি পুনরায় রক্তক্ষরণ হয়, তাহলে সেটা নিয়ন্ত্রণ করার মতো সাপোর্টিং টেকনোলজি আমাদের এখানে নেই। সে ক্ষেত্রে উনার আবার রক্তক্ষরণ হলে মৃত্যুঝুঁকি অনেক বেড়ে যাবে।’

এ সময় ডা. শামসুল আরেফিন বলেন, ‘আমাদের শরীরে দুটি সার্কুলেশন সিস্টেম আছে। একটা হলো পোর্টাল সার্কুলেশন সিস্টেম, আরেকটা সিস্টেমিক সার্কুলেশন সিস্টেম। লিভারে দুটা সিস্টেমই কার্যকর। লিভারে টোটাল যে ব্লাড যায় তার তিন ভাগের এক ভাগ যায় সিস্টেমিক সার্কুলেশন থেকে আর দুই ভাগ যায় পোর্টাল সার্কুলেশন থেকে। এখানে যেটা হয় তার পোর্টাল প্রেসার বেড়ে গেছে। কারণ তার লিভারের ভেতরের নরমাল চ্যানেলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যে কারণে পোর্টাল প্রেসার বেড়ে যায়, আর যেসব ব্যান খাদ্যনালীতে থাকে, সেগুলো ফুলে ওঠে ফেটে যায়। সেজন্য সিভিআর ব্লিডিং হয়। এই সিচুয়েশনে আমরা যেটা করেছি সেটা ইন্টারন্যাশনাল প্রাকটিস। এটার পরে আবার ব্লিডিং হলে আরও কিছু জিনিস আছে যেগুলো আমরা করি, স্পেশাল কিছু কেমিক্যাল এজেন্ট আছে সেগুলো ইনজেক্ট করি অনেক সময়। আনফরচুনেটলি সেটা আমাদের দ্বারা সম্ভব হয়নি এবং এখন আমাদের দেশে সেই ওষুধগুলো পাওয়া যায় না।’

এ চিকিৎসক আরও বলেন, ‘তৃতীয়ত যেটা আছে সেটা হলো টিপস। লিভারের ভেতরে টোটাল প্রেসার কমানোর জন্য সিস্টেমিক সার্কুলেশন এবং পোর্টাল সার্কুলেশনের মধ্যে একটা কমিউনিকেশন করে দেওয়া। এটা একটা হাইলি টেকনিক্যাল কাজ। এটা সচরাচর হয় না। আমাদের দেশে আমি দেখিনি কোনো টিপস করা রোগী এসেছে। রোগীদের দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয়বার ব্লিডিং হলে সার্ভাইভ করা কঠিন হয়ে যায়। সেজন্য এ সেন্টারগুলো মেইনলি আমেরিকা ও ইউরোপে হয়। বিশেষত ইউকে জার্মানি এবং ইউএসএ। ওইসব দেশে এগুলোর জন্য অ্যাডভানস সেন্টার আছে। তবে সেসব দেশেও ছড়িয়ে ছিটিয়ে নেই। দুই-চারটা সেন্টার আছে। বিশ্বের সব রোগীরা সেসব সেন্টারে যায়।’

ডা. ফখরুদ্দিন মোহাম্মদ সিদ্দিকী (এফএম সিদ্দিকী) বলেন, ‘১৭, ১৮ নভেম্বরের পর আবারও তৃতীয় দফায় রক্তক্ষরণ হয়েছে খালেদা জিয়ার। তবে শেষ ২৪ ঘণ্টায় তার ব্লিডিং হয়নি। আবার এমন অবস্থা সৃষ্টি হলে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সে কারণে স্ট্যাবল অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য বা জার্মানিতে উন্নত চিকিৎসা কেন্দ্রে তার চিকিৎসা দরকার। সেখানে এ ধরনের যে ডেটা আছে, এসব রোগীর ফেইলর হলে লাইফ সেভ কীভাবে করা হয়, তার চিকিৎসা সেখানে সম্ভব।’  

ডা. এফ সিদ্দিকী বলেন, ‘নেক্সট উইকে ফিফটি পারসেন্ট, নেক্সট সিক্স উইকে সেভেনটি পারসেন্ট এবং এরপর যদি আল্লাহ না করুন এটা একটা অবভিয়াস ব্যাপার ঘটতে যাচ্ছে। আমরা যা করছি, তা সমস্ত সম্ভাবনার শেষটুকু দিয়ে। যেটা এ উপমহাদেশের মধ্যেও নেই। যতবার তিনি আক্রান্ত হচ্ছেন, কেন যেন তার সিরিয়াসনেসটা একেবারে ডেথ পয়েন্টে চলে যাচ্ছে। 

তিনি আরও বলেন, ‘এর আগে তিনি চেস্ট টিউব নিয়ে ১৭ দিন কাটিয়েছেন। প্রতিদিন উনার ফ্লুয়িড বের হয়ে এসেছে। প্রতিদিন উনি নিজের চোখে ব্লাড দেখছেন। অ্যান্ডলেস এটা সিচুয়েশন, সেখান থেকেও কিন্তু আমরা কনফিডেন্টলি বের হয়ে এসেছি।’

অধ্যাপক সিদ্দিকী বলেন, ‘মনোবল উনার অনেক দৃঢ়। উনি আমাদের যথেষ্ট বিশ্বাস করেন। এছাড়া আমাদের আর কিছু করার উপায় নেই। আল্লাহর রহমতে আমরা সেখান থেকে বের হয়ে এসেছি। দ্যাট টাইম উই ওয়্যার কনফিডেন্ট, কিন্তু দিস টাইম আমরা হেল্পলেস ফিল করছি। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য মিলিয়ে অন্তত ১৭ থেকে ২৩ জনের মেডিকেল টিম কাজ করছে বিএনপি চেয়ারপারসনের চিকিৎসা বোর্ডে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, ডা. এজেড এম জাহিদ হোসেন, প্রফেসর ডা. একিউ এম মহসিন, প্রফেসর ডা. নূর উদ্দিন, ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আল মামুন।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

লাশের সন্ধানে বিএনপি

প্রকাশ: ০৯:৫৯ পিএম, ০৩ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশে সন্ধানে বিএনপি। যেকোনো মূল্যে লাশ পড়তে হবে এটিই বিএনপির মূল আরাধ্য এবং এ ব্যাপারে বিএনপির নেতা কর্মীদেরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকার মহাসমাবেশকে সামনে রেখে বিভিন্ন পর্যায়ে বিএনপি এখন সমাবেশ করছে। ওয়ার্ডে এবং থানাগুলোতে বিএনপির এই সমস্ত কর্মীসভা গুলোতে কোনো রকম ছাড় না দেওয়া এবং পুলিশ যদি সামান্যতম বাধা দেয় তাহলে পুলিশের ওপর চড়াও হওয়ার প্রসঙ্গটি সামনে চলে এসেছে।  বৈঠকে আলোচনা করা হয়েছে যেকোনো মূল্যে নয়াপল্টনে সমাবেশ করতে হবে। আর এটিকে অনেকে মনে করছেন যে, বিএনপি যেকোনো মূল্যে লাশ চায়। বিএনপি ১০ ডিসেম্বরে রাজপথে মারমুখী থাকবে। এবং সবাইকে প্রস্তুতি নিয়ে ৮ ডিসেম্বরের মধ্যে নয়াপল্টন এলাকায় যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বাংলা ইনসাইডারকে নিশ্চিত করেছেন। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিএনপি তাদের বিভিন্ন থানা পর্যায়ের কর্মী সভাগুলো সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দু'ভাবে কর্মীদেরকে তারা জামায়েত করবে। প্রথম ভাগে থাকবে ঢাকার বাইরে থেকে যে সমস্ত কর্মীরা ঢাকায় আসবেন তারা আগে থেকেই অবস্থান গ্রহণ করবেন নয়াপল্টনের আশেপাশে এলাকায়। এবং ৮ ডিসেম্বর মধ্যরাতের পর তারা পল্টন এলাকায় অবস্থান গ্রহণ করবেন। অন্যদিকে ঢাকার যে সমস্ত কর্মীরা আছেন তারা ৯ ডিসেম্বর রাত থেকে কিছু নেতাকর্মী নয়াপল্টনে অবস্থান গ্রহণ করবেন। আর ১০ ডিসেম্বরে বিএনপি কর্মীরা বিভিন্ন পাড়ায়-মহল্লায়, অলিগলিতে মিছিল করে নয়াপল্টন স্থলে আসবেন। কর্মীদেরকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ১০ ডিসেম্বরের কর্মীরা যে যে দিক থেকে আসুক না কেন যেখানেই তাদেরকে বাধা দেওয়া হবে, সেখানেই তারা বসে পড়বে। এভাবে আস্তে আস্তে পুরো ঢাকা শহরে তারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়বেন এবং অবস্থান করবেন। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিএনপির মধ্যে এটাও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে যেখানে পুলিশ বাধা দেবে, সেখানে পুলিশকে পাল্টা আঘাত করা হবে। অর্থাৎ বিএনপি পুলিশের সঙ্গে সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এই সমস্ত ঘটনা গুলোকে আবার ভিডিও ধারণ করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেন এগুলো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেয়া সম্ভব হয়। বিএনপি এখন পর্যন্ত নয়াপল্টনে অবস্থান থেকে সরে আসেনি এবং নয়াপল্টনে সমাবেশে যেকোনো পরিস্থিতির জন্য তারা প্রস্তুত এমনটিও বিভিন্ন কর্মী সভায় বলা হয়েছে। 

বিএনপির অন্যতম নেতা আমান উল্লাহ আমান আজ এক কর্মীসভায় বলেছেন যে, দরকার হলে জীবন দেব, তবু নয়াপল্টন দেব না। নয়াপল্টনে সমাবেশ করতেই হবে। তার এই বক্তব্যের তাৎপর্য অত্যন্ত পরিষ্কার। বিএনপি এখানে সমাবেশের আড়ালে 
দু’একজন মানুষের লাশ ফেলতে চায়। এবং এই লাশ যদি বিএনপি ফেলতে পারে তাহলে বিএনপি আন্দোলন তীব্র এবং বেগবান হবে বলে বিএনপির নেতারা মনে করছেন। আর লাশের সন্ধানেই এখন বিএনপি সারা ঢাকা শহরে একটা নৈরাজ্যকর এবং সহিংস পরিস্থিতি তৈরি করতে চাচ্ছে বলেও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করছেন। বিএনপির অনেক নেতা ধারণা শেষ পর্যন্ত যদি বিএনপির সমাবেশ শান্তিপূর্ণ হয় তাহলে পরে সেই সমাবেশ মূল্যহীন হয়ে করবে। আর এই সমাবেশ যদি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হয় তাহলে সেটি শান্তিপূর্ণ হবে। কাজেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নয়, লাশের সন্ধানে বিএনপি নয়াপল্টনে সমাবেশ করবে। এবং তারা এটিও মনে করছে যে, শেষ পর্যন্ত যদি সরকার বাধা দেয়, সমাবেশ না করতে দেয় সেটিও বিএনপির জন্য ইতিবাচক হবে। তখন সারা ঢাকা শহরে বিক্ষিপ্ত ভাবে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়বে। সরকারের জন্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে। তবে দেখার বিষয় যে বিএনপির এই পরিকল্পনা সরকার কিভাবে মোকাবেলা করে। 

বিএনপি   ১০ ডিসেম্বর   লাশ   কর্মীসভা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

‘খেলা হবে’ কোনো রাজনৈতিক স্লোগান হতে পারে না: তোফায়েল আহমেদ

প্রকাশ: ০৯:১৮ পিএম, ০৩ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

‘খেলা হবে’ কোনো রাজনৈতিক স্লোগান হতে পারে না মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা ও দলটির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ‘আমরা আজকাল একটা স্লোগান বের করেছি, খেলা হবে। আমার দৃষ্টিতে এটা রাজনৈতিক স্লোগান না, হতে পারে না। রাজনীতিতে মারপিট হবে, রাজনৈতিকভাবে আমার বক্তব্য আমি দেব। কী একটা কথা, খেলা হবে, খেলা হবে। আমার বিবেক বলে এই স্লোগানটা এভাবে না দেওয়াই উচিত।’

শনিবার (৩ ডিসেম্বর) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের প্রধান কার্যালয়ের সামনে যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মনির ৮৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির সমাবেশ প্রসঙ্গেও তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘বিএনপি গোঁ ধরেছে, নয়াপল্টনে তাদের সভা করতে হবে। পল্টনে কী? সেখানে ১০-২০ হাজার লোক হলেই ভরে যায়। অর্থাৎ ওটাকে যাতে বলতে পারে লাখ, লাখ লোক হয়েছে। ব্লাফ দেওয়ার জন্য।’

শেখ ফজলুল হক মনির স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, মনি ভাই যেটা করবেন বলে সিদ্ধান্ত নিতেন, সেটা করতেনই। তিনি দেখতে পেতেন, সামনে কী আসছে।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

শেখ হাসিনার কৌশলে ব্যাকফুটে বিএনপি

প্রকাশ: ০৮:০০ পিএম, ০৩ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং বিচক্ষণতায় শেখ হাসিনা যে অন্য সব রাজনৈতিক নেতার চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে, তা তিনি বিভিন্ন সময় প্রমাণ করেছেন। এবার তিনি আরেকবার সেটি প্রমাণ করলেন। বিএনপির নয়াপল্টনের সমাবেশ করাকে এখন কূটনৈতিক মহল একটি জেদ হিসেবে দেখছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে তারা সমাবেশ কেন করবে না, তা নিয়েও কূটনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে। আর এটির ফলে কূটনীতিকদের সঙ্গে বিএনপি যে একটি সখ্যতা গড়ে তুলেছিলো এবং তাদের মাধ্যমে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির যে কৌশল অবলম্বন করেছিলো তা অনেকটাই ভেস্তে যেতে বসেছে। এর কারণ একটাই, তা হলো শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কৌশল। সেই কৌশলের কাছে বিএনপি আরেকবার ধরাশায়ী হয়ে গেল। বিএনপি ১০ ডিসেম্বর সমাবেশ করার জন্য পুলিশ কমিশনারের কাছে একটা আবেদন করে। সেই আবেদনে তারা ১০ তারিখে নয়াপল্টনে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দিতে বিলম্ব করা হয়। এর মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপিকে সমাবেশ করার অনুমতি দেওয়ার নির্দেশনা দেন এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যেন বিএনপি নির্বিঘ্ন করতে পারে সে ব্যাপারেও কিছু নির্দেশনা দেন।

বিএনপির সমাবেশকে সফল করার জন্য প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগের সম্মেলন দুইদিন এগিয়ে আনেন যেন ছাত্রলীগ তাদের মঞ্চ ভেঙ্গে ফেলার পর্যাপ্ত সময় পায় এবং মঞ্চ ভেঙে ফেলার পর বিএনপি মঞ্চ নির্মাণের সময় পায়। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই মহাসমাবেশের সময় কোনো রকম পরিবহন ধর্মঘট না ডাকারও আহ্বান জানান। পরিবহন ধর্মঘট না ডাকার সিদ্ধান্ত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হয়। একই সাথে আওয়ামী লীগ সভাপতি এই সমাবেশের সময় যেন কোনো পাল্টা সমাবেশের কর্মসূচী না দেওয়া হয় সে ব্যাপারেও নির্দেশনা প্রদান করেন। এসবের প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ বিএনপির সমাবেশে বাধা দিচ্ছে না এবং রাজনৈতিক সহনশীলতার পরিচয় দিচ্ছে এই বার্তাটি কূটনীতিকদের কাছে যায়। কূটনীতিকরা এই বার্তাটিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সভাপতির এরকম উদারতার পর যখন বিএনপি নয়াপল্টনের সমাবেশ নিয়ে অনড় অবস্থানে আছে তখন কূটনীতিকরা বিএনপির সমাবেশের যৌক্তিকতা এবং আসল কারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তারা বলছেন যে, নয়াপল্টনে কেন সমাবেশ করতে হবে? বিএনপি কি তাহলে রাজনৈতিক সহিংসতা করতে চায়?

গতকাল পশ্চিমা তিনটি দেশের কূটনীতিকরা বিএনপির একাধিক নেতাকে ডেকেছিলেন এবং ডেকে তাদের বিস্ময় এবং বিরক্তির কথা তারা জানিয়েছেন। তারা বলছেন যে, মহাসমাবেশে অন্য রাজনৈতিক দল যেভাবে যেখানে করে সেখানেই করা উচিত। নয়াপল্টনে কেন মহাসমাবেশ করতে হবে। তাছাড়া রাস্তায় এই ধরনের সমাবেশের ফলে জনজীবনে দুর্ভোগ বাড়ে এবং জনভোগান্তির সৃষ্টি হয়। কাজেই তারা যেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে তাদের সমাবেশ করে এবং এটি রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং সমঝোতার জন্য ইতিবাচক হবে বলে জানিয়ে দেন। এর আগেও রাজনৈতিক প্রজ্ঞায় বিএনপিকে ধরাশায়ী করেছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগেও তিনি বেগম খালেদা জিয়াকে চায়ের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন যে আমন্ত্রণ বেগম খালেদা জিয়া প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। এর ফলে জনমত শেখ হাসিনার পক্ষে চলে গিয়েছিল। ২০১৮ সালের নির্বাচনে ড. কামাল হোসেন যখন সংলাপের কথা বলেছিলেন সাথে সাথে সংলাপের প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে তিনি রাজনৈতিক সহমর্মিতা এবং সহনশীলতার প্রতি তার আস্থা পুনঃব্যক্ত করেছিলেন। এভাবেই বিভিন্ন সময় তিনি রাজনীতির চমক সৃষ্টি করেন এবং তার কৌশলের কাছে বিএনপি হেরে যায়। এবারও নয়াপল্টনে সমাবেশ নিয়ে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কৌশলের কাছে বিএনপির রীতিমতো ধরাশায়ী হলো।

আওয়ামী লীগ   শেখ হাসিনা   বিএনপি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বেগম জিয়ার না

প্রকাশ: ০৭:০০ পিএম, ০৩ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

বেগম জিয়া কোনো অবস্থাতেই ১০ ডিসেম্বর বাড়ি থেকে বের হবেন না, বিএনপির জনসভায় যাওয়ার তার প্রশ্নেই আসেনা। বেগম খালেদা জিয়ার ভাই শামীম এস্কান্দারকে তিনি এই বার্তা দিয়েছেন এবং তার নাম যদি ব্যবহার করা হয় তাহলে তিনি বিএনপির ওইসব নেতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করারও হুমকি দিয়েছেন। বেগম জিয়ার পারিবারিক সূত্রগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ১০ ডিসেম্বর বিএনপির ঢাকার মহাসমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে বিএনপি একটি ট্রাম্পকার্ড ব্যবহার করতে চেয়েছিলো। এই ট্রাম্পকার্ডের মূল ব্যক্তি ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। বিএনপির কোনো কোনো নেতা বলেছিলেন যে, বেগম খালেদা জিয়াকে ওইদিন ফিরোজা থেকে নয়াপল্টনের সমাবেশস্থলে নিয়ে আসা হবে এবং সেখান থেকেই গণঅভ্যুত্থানের সূচনা করা হবে। তবে সরকার এ ব্যাপারে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেছিলো।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল যে, বেগম জিয়াকে যদি ঘর থেকে বের করা হয় এবং রাজনৈতিক সমাবেশে যোগ দেওয়ানো হয় তাহলে তার জামিন বাতিল হবে, তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হবে। কিন্তু সরকারের এই সতর্কবার্তাকে উপেক্ষা করে বিএনপির কোনো কোনো নেতা বলেছিলেন যে, ১০ ডিসেম্বর সরকারের নিয়ন্ত্রণে কোনো কিছুই থাকবে না। এরকম পরিস্থিতিতে বেগম খালেদা জিয়া কি বলেন, সেটি ছিল জানার বিষয়। যদিও বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার ইতিমধ্যে বিএনপি নেতাদেরকে ব্যাপারে সতর্ক করেছিলেন। তারা বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে না খেলার জন্য অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু আজ শামীম এস্কান্দারকে বেগম খালেদা জিয়া তার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন যে, কোনো অবস্থাতেই তিনি বিএনপির ওই মহাসমাবেশে যোগ দেবেন না এবং কোনো নেতারা যদি তার বাসার আশেপাশে আসে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যেহেতু বেগম খালেদা জিয়া একটি শর্তাধীন অবস্থায় ফিরোজায় অবস্থান করছেন, সরকারের বিশেষ অনুকম্পায় তিনি জামিন পেয়েছেন, কাজেই তিনি কোনো অবস্থাতেই ওই জনসভায় যোগ দিতে পারবেন না। বেগম জিয়ার পারিবারিক সূত্রগুলো বলছে, তিনি এখন রাজনীতির চেয়ে নিজেকে রক্ষা করাটাকেই গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন।

দুটি মামলায় দণ্ডিত হয়ে বেগম খালেদা জিয়া ১৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত। বর্তমানে তার কারাদণ্ড স্থগিত করে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাকে বিশেষ বিবেচনায় জামিন দেওয়া হয়েছে। আর এই জামিনের শর্ত লঙ্ঘন করলে তাকে আবারও জেলে যেতে হবে, এটা তিনি ভালো করেই জানেন। বেগম খালেদা জিয়া ২০১৮ সালে যখন কারান্তরীন হন তখন তিনি আশা করেছিলেন যে, বিএনপির নেতারা তার পক্ষে আন্দোলন করবেন এবং তীব্র গণআন্দোলনের মুখে সরকারের পতন ঘটবে এবং তাকে জেল থেকে বের করে নিয়ে আসা সম্ভব হবে। কিন্তু বাস্তবতা তিনি ভালোই উপলব্ধি করেছেন। বিএনপির আন্দোলনের সম্পর্কে তিনি ভালভাবেই জানেন। তার অনুপস্থিতিতে বিএনপি নেতারা যে শুধু কথা বলতে পারেন, আন্দোলন করতে পারে না এটাও তার অজানা নয়। আর এ কারণেই এখন তিনি ঝুঁকি নিতে চান না। তাছাড়া শারীরিকভাবেও বেগম খালেদা জিয়া এখন অনেক অসুস্থ বলেই তার পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। এরকম অবস্থায় তাকে যদি কেউ ব্যবহার করতে চাই সেটা হবে অমানবিক এবং ভয়ঙ্কর একটি অপতৎপরতা। তাই আগামী ১০ ডিসেম্বর বেগম খালেদা জিয়াকে নয়াপল্টনে নিয়ে এসে যে চমক সৃষ্টির পরিকল্পনা বিএনপি করেছিলো, সেই চমক সৃষ্টি আর হচ্ছে না। বেগম খালেদা জিয়াও পল্টনে যাচ্ছেন না, বিএনপি নেতারাও এখন তাকে এ ব্যাপারে অনুরোধ করবেন না বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করা।

বিএনপি   খালেদা জিয়া  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ

প্রকাশ: ০৬:৫৮ পিএম, ০৩ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে কে বা কারা এ বিস্ফোরণ ঘটায় সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।

শনিবার (৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার পর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সড়কে ফাঁকা জায়গায় একটি ককটেল বিস্ফোরণ হয়। 

বিএনপির দপ্তরের সংযুক্ত থাকা কেন্দ্রীয় নেতা তারিকুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, সন্ধ্যার পর পার্টি অফিসের সামনে ফাঁকা জায়গায় রাস্তায় একটা ককটেল বিস্ফোরণ হয়েছে বলে শুনেছি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সন্ধ্যা ৬টার পর এ ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তাদের অনুমান, চলন্ত গাড়ি থেকে কেউ ককটেল নিক্ষেপ করে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটাতে পারে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়   ককটেল বিস্ফোরণ  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন