ইনসাইড পলিটিক্স

স্থানীয় নির্বাচন: আওয়ামী লীগের সহিংস বিদ্রোহীদের লাগাম কোথায়?

প্রকাশ: ১০:০০ এএম, ২৯ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail স্থানীয় নির্বাচন: আওয়ামী লীগের সহিংস বিদ্রোহীদের লাগাম কোথায়?

দেশে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন চলছে। বিএনপি নির্বাচনে না আসা এবং সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি মাঠে তেমন সক্রিয় না থাকার কারণে এ নির্বাচনে বৃহৎ দল হিসেবে একমাত্র আওয়ামী লীগই অংশ নিয়েছে। মূলত আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকপ্রাপ্ত এবং আওয়ামী লীগেরই বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে হচ্ছে এ নির্বাচন। ফলে অনেকেই এই নির্বাচনকে বলছেন আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগের নির্বাচন। ইউপি নির্বাচনের কারণে দুই দিন আগে যার সঙ্গে রাজপথে একসাথে আন্দোলন করেছিল, আজকে সে তার চরম শত্রু হয়ে গেছে। শত্রুতার মাত্রা এতটাই ছাড়িয়েছে যে, বিরোধী প্রার্থীসহ তার সমর্থকদের প্রাণ নিতেও দ্বিধা নেই তাদের। আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগের এ নির্বাচনে বিগত দুই ধাপের ইউপি ভোটের আগে-পরে ও ভোটের দিনের সহিংসতায় এ পর্যন্ত ৫৫ জনের মৃত্যু ঘটেছে। আহত হাজার হাজার। এর মধ্য দিয়ে গতকাল রোববার  চরম মাত্রার সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনার মাধ্যমে শেষ হল তৃতীয় ধাপের নির্বাচন। চতুর্থ ও পঞ্চম ধাপের নির্বাচন যথাক্রমে ২৩ ডিসেম্বর ও ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। এ দুই ধাপেও এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, তৃণমূলের এই ভোট উৎসব অনেকাংশেই আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। তৃতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ উপলক্ষ্যে গত শুক্রবার সকাল থেকে নির্বাচনি মাঠে নেমেছিল পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও কোস্টগার্ডের ৫০ হাজারের বেশি সদস্য। এছাড়াও নির্বাহী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরাও মাঠে ছিলেন। সহিংসতা বন্ধে মাঠ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কঠোর অবস্থান নিতে নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছিল।  এছাড়া নির্বাচন হচ্ছে এমন উপজেলাগুলোকে র‌্যাবের দুটি মোবাইল ও একটি স্ট্রাইকিং ফোর্স, বিজিবির দুই প্লাটুন মোবাইল ও এক প্লাটুন স্ট্রাইকিং এবং উপকূলীয় জেলাগুলোয় দুই প্লাটুন মোবাইল ও এক প্লাটুন স্ট্রাইকিং ফোর্স মাঠে অবস্থান করেছিল। ভোট কেন্দ্রের পাহারায় ছিল পাঁচজন পুলিশ ও ১৭ জন আনসার সদস্য। এমন নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেও শুক্র ও শনিবার টাঙ্গাইলের নাগরপুর ও ভোলার দৌলতখানে সহিংসতায় দুজনের মৃত্যু হয়। ভোটের প্রাক্কালে সহিংসতায় মেহেরপুরে একজনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। দেশের অন্যান্য এলাকায়ও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া লক্ষ্মীপুর, পাবনাসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রতিপক্ষের ওপর হামলা, প্রার্থীর বাড়িতে গুলিবর্ষণসহ বেশকিছু সহিংস ঘটনা ঘটেছে। ভোটকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে সহিংসতার আশঙ্কার কথা নির্বাচন কমিশনকে আগেই জানিয়েছিল একটি গোয়েন্দা সংস্থা। তবুও সহিংসতা রোধে তারা ব্যর্থ হয়েছেন। আর অধিকাংশ সহিংসতাগুলো হয়েছে আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যেই। বিদ্রোহ দমনে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ ব্যবস্থা নেয়ার কথা বারবার করে বলেও কোনোভাবেই থামাতে পারছে না। বিদ্রোহ দমনে আওয়ামী লীগ যে ব্যর্থ, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না বলেই মনে করছেন স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞরা।

আওয়ামী লীগের নিজেদের মধ্যে হওয়া এসব সহিংসতা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বাংলা ইনসাইডারকে বলেন, আমি আগেও বলেছি এটা হলো রোগের উপসর্গ, রোগ নয়। রোগটি হলো অযোগ্য ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেওয়া, পদ-পদবি ব্যবহার করে বা অন্যায় করে সুযোগ সুবিধা নিয়ে পয়সা কামানো, প্রশাসনের উপর বিভিন্ন রকমের প্রভাব-প্রতিপত্তি খাটানো, অন্যায় করে পার পেয়ে যাওয়া। যতদিন এইগুলো চলবে ততদিন পর্যন্ত তাদের মধ্যে অসম প্রতিযোগিতা চলবে, হানাহানি চলবে। একজন আরেক জনকে টেনে নিচে নামানোতে ব্যস্ত থাকবে। যেসব জায়গায় এ সমস্ত সহিংসতা হচ্ছে আর যারা করছে, তারা সবাই এসব স্থানে আসার যোগ্য ছিল না। অযোগ্য ব্যক্তিকে যদি আপনি উপরে নিয়ে আসেন, এমনটা হতে বাধ্য বলেই মনে করছেন তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একটি নির্বাচনে সহিংসতা বন্ধে রাজনৈতিক দল ও নির্বাচন কমিশন, এ দুই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, এ দুই প্রতিষ্ঠানই চলমান ইউপি নির্বাচনে তাদের স্ব স্ব দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছে না। ফলে দেখা দিচ্ছে সংঘাত-সহিংসতা। ভোটারদের দায়িত্বও কম নয়। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে এ নিয়ে বসতে হবে এবং কঠোর অবস্থান নিতে হবে। শুধু বহিষ্কার করেই এ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে না। সহিংসতায় যারা অংশ নিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে প্রশাসনকেও ভূমিকা রাখতে হবে। ভালো লোককে যেন কোনো ভাবে ফাঁসাতে না পারে এ দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। রাজনৈতিক দল ও নির্বাচকমণ্ডলী তথা ভোটার শ্রেণি উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিচয় দিয়ে আগামী দিনগুলোয় নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর রাখার ক্ষেত্রে সচেষ্ট হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

যে সমস্ত কারণে পিছু হটছে বিএনপি

প্রকাশ: ০৫:০০ পিএম, ০৫ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

১০ ডিসেম্বর নিয়ে যখন দেশব্যাপী নানা রকম আশঙ্কার ডালপালা ছড়াছে তখন হঠাৎ করেই সেই উত্তেজনায় জল ঢাললো বিএনপি। গতকাল এক সংবাদ সন্মেলনের এক পযার্য় বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, সোহরাওয়ার্দী এবং তুরাগ নদীর তীর ব্যতিত বিকল্প স্থানের প্রস্তাব পেলে তারা বিবেচনা করবে। বিষয়টি নিয়ে গতকালই বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকও করেছে। সমাবেশের বিকল্প জায়গার ব্যাপারে আজ নয়াপল্টনে আয়োজিত এক সংবাদ সন্মেলনে একই কথা পুনরাবৃত্তি করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তিনি বলেছেন, আগামী ১০ ডিসেম্বর বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশের স্থান হিসেবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বাইরে বিকল্প প্রস্তাব এলে সেটা বিবেচনায় নেওয়া হবে। অর্থাৎ এটি পরিষ্কার যে, বিএনপির নয়াপল্টনে সমাবেশ করার ব্যাপারে তাদের অনড় অবস্থান থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।  নয়াপল্টনের বিকল্প হিসেবে তারা এখন আরামবাগে ১০ ডিসেম্বর মহাসমাবেশ করতে চায়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে যেকোনো মূল্যে নয়াপল্টনে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত থেকে বিএনপি হঠাৎই কেন পিছু হটছে? হঠাৎ করে কি এমন ঘটেছে যে, বিএনপি তাদের অনড় অবস্থান থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে? এব্যাপারে বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বললে তারা মূলত তিনটি কারণের কথা জানিয়েছেন।

১. দলের মধ্যে মত বিরোধ: ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ করার ব্যাপারে বিএনপির মধ্যে দুটি শিবির গড়ে উঠেছে। একটি এর পক্ষে এবং অন্যটি ১০ ডিসেম্বরে সমাবেশ করার বিপক্ষে। বিপক্ষের মতাদর্শীরা বিএনপির নেতারা মনে করছেন, জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে এখনো এক বছরেরও বেশি সময় বাকি আছে। সুতরাং এতো আগে থেকেই মাঠে নামলে আন্দোলনের ধরে রাখা সম্ভব নয়, কঠিন হয়ে পড়বে। এখন থেকেই যদি বিএনপি সম্পূর্ণ সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে মাঠে নামে তাহলে সেই সিদ্ধান্ত হবে হঠকারী সিদ্ধান্ত। ফলে সে বিবেচনা থেকে বিএনপি এখন আগের অবস্থান থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 

২. পুলিশের ভূমিকা: সোহরাওয়ার্দী উদ্যোনে ১০ ডিসেম্বর সমাবেশ করার অনুমতি দিয়েছে ডিএমপি। কিন্তু ডিএমপির সে অনুমতি প্রত্যাখান করেছে বিএনপি। ডিএমপিও সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বিএনপি অনুমোদিত স্থান ছাড়া অন্য কোথাও সমাবেশ করলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিএনপির নেতারা বলছে, বিএনপি অতীতেও বিভিন্ন সময় সমাবেশ করতে চেয়েছিল কিন্তু বারবার পুলিশ বাধা দিয়েছে এবং পুলিশের বাধা উপক্ষো করে কোনো কিছু করার চেষ্টার কারণে অনেক নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়েছেন। এর কারণে বিএনপি এবার সেই ঝুঁকি নিতে চায় না। কারণ তারা মনে করছে বিএনপি এখনো সাংগঠনিকভাবে তেমন শক্তিশালী নয়। এমন অবস্থায় আবার পুলিশের গ্রেফতার শুরু হলে বিএনপি সাংগঠনিকভাবে আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। এই ঝুঁকি নিতে চায় না বিএনপি।

৩. কূটনীতিকদের আপত্তি: বিএনপির ১০ ডিসেম্বরের কর্মসূচি নিয়ে কূটনীতিকদের আপত্তি রয়েছে বলে জানা গেছে। তারা ইতোমধ্যে বিএনপির নেতাদের সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, তারা কোনো ধরনের রাজনৈতিক সহিংস এবং সন্ত্রাসকে মেনে নেবেন না। তারা একটি শান্তিপূর্ণ সহ অবস্থান দেখতে চায়। যে কারণে বিএনপি নয়াপল্টনে সমাবেশ করার অনড় অবস্থান থেকে সরে আসছে। বিএনপি নেতারা মনে করছেন যে, কূটনীতিকপাড়ায় তাদের তৎপরতার কারণে কূটনীতিকরা এখন বিএনপির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। কিন্তু এখন তাদের মতামতকে উপেক্ষা করে নয়াপল্টনে সমাবেশ করলে হিতে বিএনপি বিপদে পড়তে পারে বলে ঝুঁকি নিয়ে চায় না বিএনপি।

বিএনপি   ১০ ডিসেম্বর  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

সাম্প্রদায়িকতা, অগণতন্ত্রের বিশ্বাসযোগ্য ঠিকানা বিএনপি : কাদের

প্রকাশ: ১০:৩০ এএম, ০৫ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এখনও সাম্প্রদায়িক অশুভ শক্তি, জঙ্গিবাদী শক্তি গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে সক্রিয়। এদের পৃষ্ঠপোষক হচ্ছে বিএনপি। বিএনপি হচ্ছে সাম্প্রদায়িকতা, অগণতন্ত্রের বিশ্বাসযোগ্য ঠিকানা। গণতন্ত্র বিকাশে অন্তরায়।

তিনি বলেন, গণতন্ত্র বিকাশে সরকারের সঙ্গে বিরোধী দলের ভূমিকা জরুরি। নির্বাচন হচ্ছে গণতন্ত্রের প্রাণ। সেই নির্বাচন আমরা জানি কী ভাবে হয়েছে। ১ কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার, ১৫ ফেব্রুয়ারির সে প্রহসনের নির্বাচন। 

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ৫৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সামনে এসব কথা বলেন তিনি। 

ওবায়দুল কাদের বলেন, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যু নিয়ে রহস্য রয়েছে, এর পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র আছে কি না সেটা আমরা আজও জানি না। কোনো দিন জানা যাবে সেটাও এই মুহূর্তে বলা যাবে না। হোসেন সোহরাওয়ার্দী গণতন্ত্রের মানসপুত্র। গণতন্ত্রই তার জীবনের মূল ভিত্তি। তিনি বলেছেন, শাসনতন্ত্রেরপ্রশ্নে জনগণের রায়ই শেষ কথা। আজ জনগণই হচ্ছে আমাদের ক্ষমতার উৎস। বাংলাদেশে গণতন্ত্র বিকাশের প্রক্রিয়া পদে পদে বাধার মুখে রয়েছে। কণ্টকাকীর্ণ পথ। এখানে আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের শৃঙ্খল ঘটেছে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর গণতন্ত্রের জন্য তিনি লড়াই শুরু করেন। সারা দেশ ঘুরে ঘুরে মুক্তিযুদ্ধের মুল্যবোধের পক্ষে, স্বাধীনতার আদেশের পক্ষে, গণতন্ত্রের পক্ষে তিনি ক্যাম্পিং করেন। জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে গণতন্ত্রের শৃঙ্খল মুক্তি ঘটিয়েছেন। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, এসএম কামাল হোসেন, আফজাল হোসেন, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক জাহানারা বেগম, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন নাহার চাপা, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, কার্যনিবাহী সদস্য আনোয়ার হোসেন, সাহাবুদ্দিন ফরাজি, আজিজুস সামাদ আজাদ (ডন) ও সৈয়দ আবদুল আউয়াল শামীম প্রমুখ 


ওবায়দুল কাদের   বিএনপি   গণতন্ত্র   বাংলাদেশ   রাজনীতি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বিএনপির ১০ ডিসেম্বর পরিকল্পনা ভেস্তে যাচ্ছে

প্রকাশ: ১০:০০ এএম, ০৫ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

১০ ডিসেম্বর আসতে বাকি এখনো পাঁচদিন। ওই দিন ঢাকায় মহাসমাবেশ ডেকেছে বিএনপি। সারাদেশে থেকে লোক ঢাকায় এনে গণজমায়েত করার পরিকল্পনা রয়েছে দলটির। এর মধ্য দিয়ে সরকারকে একটি বার্তা দিতে চায় বিএনপি। নিজেদের জনপ্রিয় প্রমাণ করতে চায় তারা। ইতোমধ্যে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করার অনুমতি চেয়ে আদেবন করলে জনস্বার্থে অনুমতি পায়নি বিএনপি। সমাবেশ করতে অনুমতি দেয়া হয় সোহরাওয়ার্দী উদ্যোনে। কিন্তু সেখানে সমাবেশ করতে নারাজ বিএনপি। এ নিয়ে আওয়ামী লীগ-বিএনপি এবং ডিএমপির মধ্যে এক ধরনের ত্রিমূখী লড়াই চলছে। বিএনপির নেতারা বলেন, তারা যেকোনো মূল্যেই নয়াপল্টনে সমাবেশ করবে। কোনো ভাবেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যোনে যাবে না। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ বলছে অনুমোদিত স্থলেই বিএনপিকে সমাবেশ করতে হবে। নয়াপল্টনে সমাবেশ করার ব্যাপারে বিএনপির অনড় অবস্থানের জন্য ১০ ডিসেম্বর দলটির সমাবেশের আসল উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলে আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যোনকে সরকারের ফাঁদ হিসেবে অ্যাখ্যায়িত করেছে বিএনপি।

এদিকে ডিএমপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যোন ছাড়া নয়াপল্টনে সমাবেশ করতে দেয়া হবে না বিএনপিকে। এর ব্যয়ত ঘটলে বিএনপিকে আইনের আওতায় আনা হবে। এমন পরিস্থিতি সারাদেশ ব্যাপী এক ধরনের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষের মুখে মুখে প্রশ্ন কি হতে যাচ্ছে আগামী ১০ ডিসেম্বর। এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা রকম কথাবার্তার ডাল পালা ছড়িয়ে। বিশেষ করে মহাসমাবেশের মতো কর্মসূচি বিএনপি সোহরাওয়ার্দী উদ্যোনে না করে নয়াপল্টনেই করতে কেন অনড় রয়েছে। তাহলে কি বিএনপি সেদিন কোনো ধরনের নাশকতা করতে চায়? তবে সমস্ত আশঙ্কায় জল ঢাললো বিএনপির গতকালের জরুরী সংবাদ সন্মেলন। সংবাদ সন্মেলনে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে সমাবেশের বিকল্প স্থানের প্রস্তাব পেলে তারা ভেবে দেখবে। গতকালই বিকেলে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুকের সাথে দেখা করেছে। জানা গেছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও তুরাগ নদীর তীর ব্যতীত রাজধানীতে বিকল্প প্রস্তাব দিলে বিবেচনা করবে বিএনপি।

তবে হঠাৎ বিএনপির পিছু টানকে কেউ কেউ দলটির কৌশল মনে করছেন। তারা বলছেন যে, বিএনপি বিকল্প স্থানের প্রস্তাবের কথা ভেবে দেখা কথা বললেও শেষ পর্যন্ত নয়াপল্টনেই হয়তো সমাবেশ করবে। এখন তাদের অবস্থান পরিবর্তন করার কথা ভাবছে মূলত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার কারণে। কারণ গত কয়েক দিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেভাবে তৎপরতা শুরু করেছে তাতে বিএনপি কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীর নজর ভিন্ন কাতে নিতেই বিএনপি তাদের বিবেচনার কথা বলছে। আবার কোন কোন মহল মনে করছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীর সতর্ক অবস্থানের কারণে বিএনপির পূর্ব পরিকল্পনা আসলে ভেস্তে যেতে বসেছে। এখন দেখা বিষয় বিএনপি শেষ পর্যন্ত তাদের অবস্থান থেকে সরে আসে কিনা।


বিএনপি   ১০ ডিসেম্বর   বাংলাদেশ   রাজনীতি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বিএনপির গণসমাবেশের বিকল্প স্থান হতে পারে আরামবাগ

প্রকাশ: ০৮:৫৩ এএম, ০৫ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশের স্থান পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। বিকল্প ভেন্যু হিসেবে ‘আরামবাগ আইডিয়াল স্কুলের সামনে’ প্রস্তাব দিতে পারে দলটি।

আজ সোমবার (৫ ডিসেম্বর) বিএনপির পক্ষ থেকে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিকল্প ভেন্যুর প্রস্তাব দেবেন।

আরামবাগ মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের সামনে মঞ্চ করে তার পাশে ফকিরাপুল পেট্রোলপাম্প থেকে পীরজঙ্গি মাজারসহ চারপাশের কিছু এলাকা পর্যন্ত সমাবেশের বিস্তৃতি যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ করার অনুমতি চেয়ে গত ১৫ নভেম্বর পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দেয় বিএনপি। তবে যানজট ও নাগরিক দুর্ভোগ সৃষ্টির কারণ দেখিয়ে গত ২৯ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার অনুমতি দেয় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। বিএনপিকে দেওয়া অনুমতিপত্রে সমাবেশের জন্য ২৬টি শর্ত জুড়ে দেয় ডিএমপি। তবে বিএনপির নয়াপল্টনেই সমাবেশ করবে বলে নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ছাড়া ঢাকার ভেতরে সমাবেশের জন্য বিকল্প ভেন্যুর প্রস্তাব পেলে তা বিবেচনা করা হবে।

তিনি বলেন, ১০ ডিসেম্বর বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ বানচাল করতে সরকারের নানামুখী দমননীতি এখন সর্বসাধারণের কাছে পরিষ্কার হয়ে গেছে।

এদিকে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে ১০ ডিসেম্বরের ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশের অনুমতি না পেয়ে বিএনপি এখন সমাবেশের জন্য নতুন ভেন্যু খুঁজছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। তবে পুলিশের আশা, শেষ পর্যন্ত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই বিএনপি তাদের গণসমাবেশ করবে।


বিএনপি   গণসমাবেশ   ১০ ডিসেম্বর  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

ছাত্রলীগের শীর্ষ ২ পদে প্রার্থী ২৫৪ জন

প্রকাশ: ০৮:৪১ এএম, ০৫ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

আগামীকাল মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগের ৩০তম জাতীয় সম্মেলন। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠেয় এই সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক অভিভাবক, আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্মেলনের পর ঘোষণা করা হবে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নতুন নেতৃত্ব।

ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই পদ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের জন্য এবার মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ২৫৪ জন। তাঁদের মধ্যে ৯৬ জন সভাপতি ও ১৫৮ জন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী।

তবে সম্মেলনকে ঘিরে ছাত্রলীগে প্রার্থীর ছড়াছড়ি নতুন কোনো বিষয় নয়। এর আগের তিন সম্মেলনেও শীর্ষ দুই পদের জন্য মনোনয়নপত্র কিনেছিলেন কয়েক শ নেতা। তবে শেষ মুহূর্তে এসে বেশির ভাগ প্রার্থীই তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন অথবা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। অনেকেরই প্রার্থী হওয়ার কারণ ‘অর্থযোগের’ হাতছানি বলে জানিয়েছেন ছাত্রলীগ নেতারা।

গত তিন সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগে শীর্ষ নেতা নির্বাচিত বা মনোনীত হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এবারও এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্ব মনোনীত করা হতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে। ফলে জাতীয় সম্মেলন ঘিরে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের তৎপরতা সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে।

ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, দুই বছর পরপর ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও কখনো তা হয়নি। নিয়মিত সম্মেলন না হওয়ায় প্রার্থীর সংখ্যা এত বেশি হয় বলে মনে করেন সাবেক-বর্তমান বেশির ভাগ নেতা।


ছাত্রলীগ   কেন্দ্রীয় সম্মেলন  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন