ইনসাইড পলিটিক্স

ইউপি নির্বাচন: নৌকার ভরাডুবির নেপথ্যে কি?

প্রকাশ: ১০:০০ এএম, ৩০ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail ইউপি নির্বাচন: নৌকার ভরাডুবির নেপথ্যে কি?

তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল গত রোববার। সহিংসতা, ব্যালট পেপার ছিনতাই, ভোটকেন্দ্র দখলের অপচেষ্টাসহ নানা অনিয়ম ও বর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। স্থানীয় এমপি-মন্ত্রী ও জেলা-উপজেলার শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, দ্বন্দ্ব ও বলয়-ভিত্তিক রাজনীতির কারণে অনেক জেলায় প্রথম দুই ধাপের মতো তৃতীয় ধাপেও নৌকার ভরাডুবি হয়েছে। নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের প্রায় ৪৭ শতাংশ হেরে গেছে। নির্বাচন কমিশনের বেসরকারি ফলাফলে এ তথ্য উঠে এসেছে। এসব ইউপিতে জয়লাভ করেছেন দলটির বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। আর দলীয় বিদ্রোহী হওয়ার নেপথ্যে কাজ করেছেন স্থানীয় সাংসদ ও প্রভাবশালী নেতারা। তাদের সমর্থনের কারণে নৌকার প্রার্থী ও সমর্থকরা প্রচারণা ও ভোটের মাঠে কোণঠাসা ছিলেন বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা।

নির্বাচনের সব ধাপেই সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি, বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ে রাজাকার পরিবারের সদস্য, হত্যা-ধর্ষণ মামলার আসামিসহ চিহ্নিত-বিতর্কিতদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের দপ্তরে এ বিষয়ক স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের পাঠানো অভিযোগের স্তূপের কথা জানিয়েছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও। কেন্দ্র সব সময় বলে আসছে যে, এমপি, জেলা-উপজেলা নেতাদেরকে। কিন্তু তৃণমূলের নেতারা দুষছেন কেন্দ্রকে। টাকা-পয়সা দিয়ে ঢাকা থেকে নৌকার নমিনেশন বাগানোর অভিযোগ তাদের। পাল্টাপাল্টি এ অভিযোগের মাঝে হুমকি-ধামকি দেয়ার পাশাপাশি সহ্য না করার হুঁশিয়ারিও দেয়া হচ্ছে। সমানে  চলছে খুনাখুনি। নিজেরাই নিজেদের প্রতিপক্ষ। নৌকায়-নৌকায় রক্তারক্তি। প্রাণহানির শিকারদের প্রায় সবাই আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী। তবে নির্বাচন কমিশন সচিব বলেছেন, নির্বাচন ভালো হচ্ছে। সামনে আরো ভালো হবে। আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, ইউপি নির্বাচনে এমন ঝগড়াঝাটি হয়েই থাকে।

নৌকার ভরাডুবির কারণ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন বাংলা ইনসাইডারকে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সংঘাতে রাজনীতি ও দলীয় প্রার্থীদের পরাজিত হওয়ার কারণ হচ্ছে ইউনিয়ন নির্বাচনে বংশগত, পারিবারিক, পাড়া, মহল্লায় কার কতটুকু প্রভাব এর উপর ভিত্তি করে ভোট হয়। আমরা জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ের বর্ধিত সভা করে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী তাদেরকে বুঝিয়ে দলের জন্য কাজ করার জন্য আমরা এই প্রক্রিয়া শুরু করেছি। তারপরও যদি না শুনে তাহলে অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যমতে, গত রবিবার ভোট হওয়া এক হাজার ইউপির মধ্যে ইসি ৯৯২টির ফলাফল ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জিতেছেন ৫২৫টি ইউপিতে। শতকরা হিসাবে যা ৫২.৯২ শতাংশ ইউপিতে। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী জিতেছেন ২৪৯টি ইউপিতে। এটি মোট ইউপির ২৫.৩৮ শতাংশ। বিএনপির স্থানীয় নেতারা স্বতন্ত্র হিসেবে জয়ী হয়েছেন ১০৮টি ইউপিতে, যা মোট ইউপির প্রায় ১১ শতাংশ। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে শুধু চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হয়। এর মধ্যে ফরিদপুরের ভাঙ্গা ও চরভদ্রাসন উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ১৫টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৪টিতেই স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন। মাত্র ১টিতে বিজয়ী হয়েছে নৌকা। একই অবস্থা নাটোরেও। নাটোরের লালপুর এবং বাগাতিপাড়া দু’টি উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের মধ্যে মাত্র ৫টি ইউপিতে নৌকা মার্কা জয় লাভ করেছে। দিনাজপুরের তিন উপজেলার ২৩ ইউনিয়নের মধ্যে ১৬টিতে ভরাডুবি হয়েছে নৌকার। এর মধ্যে নবাবগঞ্জ উপজেলার ৯টির মধ্যে ৮টিতে, বিরামপুর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ৪টি ও ফুলবাড়ী উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ৪টিতে নৌকার প্রার্থীরা হেরেছেন। এদিকে নেত্রকোনার তিন উপজেলার ২৫টি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে ২৪টির ফলাফলে বেসরকারিভাবে নির্বাচিতদের মাত্র ৮টিতে নৌকা প্রতীক প্রার্থী জয় লাভ করেছে। বিপরীতে ১৬ টিতেই স্বতন্ত্র জিতেছে এবং একটি ভোট গণনা স্থগিত রয়েছে। মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা ও টঙ্গীবাড়ী উপজেলার মোট ২১ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বিজয়ী হয়েছে মাত্র ১০টিতে। বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয় পেয়েছেন ১১ ইউপিতে। এছাড়াও কুষ্টিয়া, কুমিল্লা, রাজবাড়ী, সাতক্ষীরাতেও নৌকা খুব একটা ভালো করতে পারেনি।

আওয়ামী লীগের দুর্গখ্যাত এলাকাগুলোতে নৌকা প্রার্থীর পরাজয়ের কারণ ও বিদ্রোহী প্রার্থী প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বাংলা ইনসাইডারকে বলেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নৌকা মার্কা নিয়ে ইলেকশন করবে। সেখানে বিরোধী দলের প্রার্থী না থাকার কারণে কোথাও কোথাও দেখা যাচ্ছে দলের যারা মনোনয়ন পায়নি বা দল যাদের মনোনয়ন দেয়নি, আওয়ামী লীগে তো অনেক যোগ্য প্রার্থী, জনপ্রিয় প্রার্থী আছে। কিন্তু মনোনয়ন তো নির্বাচনের ক্ষেত্রে একজনকে দিতে হয়। যেহেতু আওয়ামী লীগ চায় প্রতিযোগিতামূলক, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন এবং জনগণের রায়ের মধ্য দিয়ে ভোটে নির্বাচনের ফলাফল প্রতিফলিত হোক, এটা আমরা চাই। সে কারণে নির্বাচনে যেহেতু প্রতিপক্ষ নাই, কোন কোন জায়গায় আমরা দেখেছি বিএনপি সরাসরি নির্বাচন না করেও কিন্তু তারা দলীয় পরিচয়ের আড়ালে নির্বাচন করেছে।

বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা প্রশ্নে বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে শোকজ করা হচ্ছে। দলের ভিত্তিতে সংঘাত কোথাও হচ্ছে না। আওয়ামী লীগ-আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, হত্যাকাণ্ড, মারামারি , খুনাখুনি করছে এগুলো সঠিক না। এ রকম কোন ঘটনা নাই। সংঘাত হয়েছে, হচ্ছে। এটা ভিন্ন কায়দায়, ভিন্ন মাত্রায়, ভিন্ন আঙ্গিকে যার সাথে দলীয় পরিচয়ের কোনো ভিত্তি নেই। তবে কোন কোন জায়গায় কোন কোনো মানুষ যদি জড়িয়ে যায়, তার যদি রাজনৈতিক পরিচয় থাকে অথবা সাংগঠনিক পরিচয় থাকে তার মানে এই নয় যে সাংগঠনিক ভাবে অংশ নিয়েছে। ঐটা ব্যক্তি পর্যায়ে, ব্যাপারটাকে ওভাবেই দেখতে হবে। সংঘাত কমে আসুক, সম্প্রীতি সৃষ্টি হোক, শান্তির ভিত্তিতে জনমত প্রতিফলিত হোক, এইটা আওয়ামী লীগ চায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য নেতাদের পৌর নির্বাচনে প্রার্থী না করে বাণিজ্যের মাধ্যমে গণবিচ্ছিন্নদের মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে অনেক জায়গায় নৌকা প্রতীক পেয়েও প্রার্থী জামানত হারাচ্ছে। যোগ্যদের বাদ দিয়ে অযোগ্যদের নাম পাঠানো হচ্ছে তৃণমূল থেকে। বিভিন্ন পক্ষ বিভিন্ন কায়দায় কেন্দ্রে প্রভাব খাটিয়ে নিজেদের প্রার্থীর মনোনয়ন ও বিজয় আদায় করছেন। দলের প্রার্থীকে জেতাতে জেলা নেতৃত্বের ঠিক যতখানি উদাসীনতা আছে, তেমনি কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্তরাও সমান পরিমাণ উদাসীন। বিদ্রোহীদের সরাতে সাংগঠনিক উদ্যোগ না থাকায় বিদ্রোহীর ছড়াছড়ি হচ্ছে। আর এ কারণে দলের প্রার্থীদের ভরাডুবি হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

দেশে ফিরেছেন রওশন এরশাদ

প্রকাশ: ০১:২২ পিএম, ২৭ Jun, ২০২২


Thumbnail দেশে ফিরেছেন রওশন এরশাদ

থাইল্যান্ডে চিকিৎসা শেষে প্রায় ৮ মাস পর দেশে ফিরেছেন সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ। সোমবার (২৭ জুন) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তাকে বহনকারী বিমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বন্দরে অবরতণ করে।

এইচ এম এরশাদ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান কাজী মামুনুর রশীদ এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, রওশন এরশাদ বিমানবন্দর থেকে সরাসরি গুলশানে হোটেল ওয়েস্টিনে চলে যাবেন। ঢাকায় অবস্থানকালে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ সেখানেই থাকবেন। আগামী ৩০ জুন বাজেট অধিবেশনের সমাপনী দিনে তিনি উপস্থিত থাকবেন। পরে আগামী ৪ জুলাই চিকিৎসার জন্য আবারও থাইল্যান্ড চলে যাবেন।

রওশন এরশাদকে অভ্যর্থনা জানাতে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা জিএম কাদের, কো- চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলাসহ দলের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

রওশন এরশাদ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

৮ মাস পর দেশে ফিরছেন রওশন এরশাদ

প্রকাশ: ১০:৩৭ এএম, ২৭ Jun, ২০২২


Thumbnail ৮ মাস পর দেশে ফিরছেন রওশন এরশাদ

দীর্ঘ ৮ মাস থাইল্যান্ডে চিকিৎসা শেষে আজ সোমবার (২৭ জুন) দেশে ফিরছেন সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ। দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে রওশন এরশাদকে বহনকারী বিমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে বলে জানা গেছে।

এর আগে, গত বছরের ৫ নভেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে যান রওশন। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন তিনি।

বিরোধীদলীয় নেতার সহকারী একান্ত সচিব মো. মামুন হাসান গণমাধ্যমকে জানান, রওশন এরশাদ স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের টিজি-৩২১ বিমানে ব্যাংককের সুবর্ণভূমি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা দেবেন। দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে তার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা রয়েছে। এ সময় তার সঙ্গে অবস্থানকারী ছেলে রাহ্গীর আল মাহি (সাদ এরশাদ) ও পুত্রবধূ মাহিমা এরশাদ উপস্থিত থাকবেন।

উল্লেখ্য, জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন শেষে তিনি আগামী ৪ জুলাই রুটিন চেকআপের জন্য ফের ব্যাংককের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন।

রওশন এরশাদ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

ছাত্রসংগঠন দিয়ে অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা ষড়যন্ত্র ও চেষ্টা করছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৮:৪০ পিএম, ২৬ Jun, ২০২২


Thumbnail

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি দেশের উন্নয়ন চায় না। বর্তমান সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে এই শক্তি নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তারা তাদের ছাত্রসংগঠনকে দিয়ে অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র ও চেষ্টা করছে।

রোববার (২৬ জুন) জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রুমানা আলীর প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারা ’৭৫-এর হাতিয়ার গর্জে উঠুক আরেকবার স্লোগানের মাধ্যমে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকি এমনকি সেতু উদ্বোধনের অনুষ্ঠান বানচালের অপচেষ্টায় লিপ্ত। যাঁরা দেশে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টায় লিপ্ত তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার করা হবে।

আসাদুজ্জামান খান বলেন, সরকার জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানসহ কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ সরকারের আমলেই দেশের সব বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়নসহ প্রভূত উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতার বিপক্ষের অপশক্তি দেশের উন্নয়ন চায় না। তারা বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে ঈর্ষান্বিত হয়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ সরকারের আরেকটি বড় সাফল্য ও অর্জন নিজ অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ। দেশ যখন পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আমেজে মেতে উঠেছে, ঠিক তখনই সেতু উদ্বোধন সামনে রেখে সরকারের এ বড় অর্জন ম্লান করে দিতে একটি চক্র অপপ্রচার, গুজব ছড়িয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। সরকারের এত বড় অর্জন থেকে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরাতে এবং নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থে এ চক্রটি মরিয়া হয়ে উঠেছে। তারা তাদের ছাত্রসংগঠনকে দিয়ে এ অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র ও চেষ্টা করছে।

সরকারবিরোধী চক্রটি শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বিঘ্নিত করাসহ দেশে বিরাজমান গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা বিনষ্ট করার চেষ্টা চালাচ্ছে অভিযোগ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের এ অশুভ তৎপরতাকে প্রতিহত করতে সরকার সজাগ রয়েছে। সরকারবিরোধী এ স্লোগান দেওয়া ব্যক্তিদের যেকোনো ধরনের গুজব, অপপ্রচার ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড রোধে সারা দেশে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। যাঁরা দেশে বিশৃঙ্খলা, বিঘ্ন সৃষ্টি ও সরকার তথা ১৭ কোটি মানুষের অর্জনকে ম্লান করে দিতে চায় তাদের কোনোভাবে ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের আইনের আওতায় এনে বিচারের জন্য সোপর্দ করা হবে। সরকার দেশের জনগণের জানমাল রক্ষা, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন ও শিক্ষাঙ্গনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। অপরাধী যে–ই হোক না কেন, যে দলের হোক না কেন, তাদের দমনে সরকার অত্যন্ত কঠোর।

ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান জানান, বিজিবি গত চার বছরে (২০১৮-২০২২) ১টি করে নীলগাই, ভারতীয় মেছো বাঘ, বানর ও বিরল প্রজাতির বনরুই, ৩টি বাঘের বাচ্চা, ১৮টি বিদেশি কুকুর, ৭টি তক্ষক, ২টি ভোঁদড়, ৪৭৮টি কচ্ছপ, ৪৭টি বিভিন্ন প্রজাতির সাপ, ৬৪টি বিভিন্ন প্রজাতির হাঁস ও ২ হাজার ৮৩৮টি বিভিন্ন প্রজাতির পাখি পাচারকালে জব্দ করে অবমুক্ত করেছে। এ ছাড়া কোস্টগার্ড ২০২১ সালে ১৫টি তক্ষক, ২ হাজার ১০৯টি কচ্ছপ, ১৬টি হরিণের চামড়া, ৩টি হরিণের মাথা, ১০৬ কেজি হরিণের মাংস ও ১ হাজার ৯৯৯ ঘনফুট কাঠ জব্দ করার পাশাপাশি ৩২৪ জন চোরাকারবারিকে আটক করেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

শাজাহান খানের পাঁচ প্রশ্নের এক উত্তর ‘খালেদা জিয়া’

প্রকাশ: ০৮:৩৩ পিএম, ২৬ Jun, ২০২২


Thumbnail শাজাহান খানের পাঁচ প্রশ্নের এক উত্তর ‘খালেদা জিয়া’

বিভিন্ন বিষয়ে পাঁচটি প্রশ্ন তুলে তার একটি উত্তর দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান। তিনি বলেছেন, যদি প্রশ্ন করি বাংলার সবচেয়ে হিংসুক মহিলা কে? বাংলার শ্রেষ্ঠ মিথ্যাবাদী কে? বাংলার শ্রেষ্ঠ প্রতারক কে? বাংলাদেশকে পর পর পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করেছে কে? বাংলাদেশের কোন সরকারপ্রধান এতিমের টাকা আত্মসাৎ করে সাজা ভোগ করছেন? এই পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর একটি। তা হলো খালেদা জিয়া।

রোববার (২৬ জুন) একাদশ জাতীয় সংসদের অষ্টাদশ অধিবেশনে প্রস্তাবিত ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ সব কথা বলেন।

শাজাহান খান বলেন, বিএনপির নেতারা এখানে আছেন। দয়া করে আপনারা পদ্মা সেতু পার হবেন না। আপনাদের নেত্রীর নির্দেশ অমান্য করবেন না। আপনাদের জন্য আমরা নদীর পাড়ে নৌকা রেখে দেব। সেই নৌকা দিয়ে আপনাদের পার করব। এই নৌকা বাংলাদেশের স্বাধীনতা এনেছে। আজ বাংলাদেশের উন্নয়ন সাধন করেছে নৌকা। এ নৌকায় আপনাদের আসতে হবে।

তিনি বলেন, বিএনপি একটি ষড়যন্ত্রকারী দল। তাদের ষড়যন্ত্র এখনো শেষ হয়নি। বঙ্গবন্ধুর মতো তারা আবার শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে চায়। তারা স্লোগান দিয়েছে পঁচাত্তরের হাতিয়ার গর্জে উঠুক আরেকবার। আমি প্রস্তাব করবো, এ স্লোগান যারা দিয়েছে তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক। বিচার এবং শাস্তির বিধান করা হোক।

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, কিছু রাজনৈতিক নেতা আছেন যারা পথহারা পাখির মতো নিজেরা আবোল-তাবোল বলছেন। তারা শেখ হাসিনাকে উৎখাত করে খালেদা জিয়াকে ক্ষমতায় বসিয়ে জামায়াত-শিবির স্বাধীনতাবিরোধীদের নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চান। এ সব পথহারা রাজনীতিকদের একজন মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি প্রথমে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ করেছেন। স্বাধীনতার পর জাসদ ছাত্রলীগ করেছেন। পরবর্তী সময়ে জাসদ করেছেন, বাসদ করেছেন, বাসদ মাহমুদ করেছেন। জাতীয় মুক্তি পার্টি গঠন করেছেন। আওয়ামী লীগ করেছেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বগুড়া থেকে নৌকা নিয়ে নির্বাচন করে হেরে গেছেন। গণতান্ত্রিক জোট করেছেন। এখন নাগরিক ঐক্য করেছেন। তার রাজনৈতিক আদর্শ কী? তিনি শেখ হাসিনাকে উৎখাত করতে চান।

তিনি বলেন, আ স ম রব বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ছাত্রলীগ করেছেন। জাসদ করেছেন, জেএসডি করছেন। তিনি ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা সরকারের মন্ত্রী হয়েছেন। শেখ হাসিনাকে উৎখাতের জন্য বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। ড. কামাল হোসেন ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিপরিষদে ছিলেন। পরে গণফোরাম করে বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন।

শাজাহান খান বলেন, কাদের সিদ্দিকী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। বঙ্গবন্ধুকে পিতা হিসেবে মানেন। স্বাধীনতার পর তিনি লোক দেখানোর জন্য বঙ্গবন্ধুর বাড়ি পর্যন্ত ঝাড়ু দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু তাকে টাঙ্গাইলের গভর্নর নিয়োগ করেছিলেন। তাকে স্বাগত জানানোর জন্য টঙ্গী থেকে টাঙ্গাইল পর্যন্ত ১০১টি তোরণ নির্মাণ করা হয়েছিলো। তার মধ্যে একটি ছিলো বঙ্গবন্ধুর ছবিওয়ালা আর সব তার নিজের ছবি। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে ১৯৯৬ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাকে মন্ত্রী না করায় তিনি নাখোশ হলেন। তিনি আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করলেন। পরবর্তীতে উপ নির্বাচনে তিনি আবার দাঁড়ালেন। তিনি হেরে গেলেন।

পদ্মা সেতু শুভ উদ্বোধনের পর তিনি কাদের সিদ্দিকী কী মন্তব্য করেছেন? বলেছেন, পদ্মা সেতু হয়েছে এ জন্য অহংকার করার কিছু নেই। দুঃখিত হবারও কিছু নেই। যারা এর সমালোচনা করেছেন, তারাও ঠিক করেছেন। যারা আশান্বিত হয়েছেন- তারাও ঠিক করেছেন। এই কথা বলার পর আরেকটি কথা বলেছেন। পদ্মা সেতু উদ্বোধনে এত বড় আয়োজন না করলেও চলতো। পদ্মা সেতু হওয়ায় তিনি কি খুশি হয়েছেন? না নাখোশ হয়েছেন? খালেদা জিয়ার মতো দুঃখ পেয়েছেন? একেই বলে পাগলে কী না বলে, ছাগলে কী না খায়।

শাজাহান খান বলেন, বিএনপি মহাসচিব বলেছেন এই সরকার ক্ষমতায় থাকলে মানুষ না খেয়ে মারা যাবে- আমি যদি তাকে প্রশ্ন করি যখন আপনারা ক্ষমতায় ছিলেন তখন উত্তরবঙ্গ ছিলো মঙ্গার দেশ। এখন আর মঙ্গা নেই। অভাবের তাড়নায় মানুষ না খেয়ে থাকত। তার মুখ থেকে আজকে এই কথা শুনতে হচ্ছে। তিনি উন্মাদের মতো কথা বলেছেন। বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন কী করেছিলো, না করেছিল— সেই ইতিহাস তার জানা আছে।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

পদ্মা সেতু নিয়ে কেউ রাজনীতি করবেন না: বিদিশা এরশাদ

প্রকাশ: ০৮:০৩ পিএম, ২৬ Jun, ২০২২


Thumbnail পদ্মা সেতু নিয়ে কেউ রাজনীতি করবেন না: বিদিশা এরশাদ

জাতীয় পার্টি পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিদিশা এরশাদ বলেছেন, স্বপ্নের পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন করে ১৮ কোটি মানুষের স্বপ্ন পূরণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিরোধীদলসহ সব রাজনৈতিক দলকে অনুরোধ করছি, পদ্মা সেতু নিয়ে কেউ রাজনীতি করবেন না। 

রোববার (২৬ জুন) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম মিলনায়তনে জাতীয় পার্টি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বিদিশা বলেন, আমরা বিরোধী রাজনীতি করি ভোটের জন্য। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের জন্য যা করলেন, তা বাঙালি জাতি হাজার হাজার বছর মনে রাখবে। তিনি প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। পদ্মা সেতু পুরো দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

মেজবাউল ইসলাম লাভলুর সভাপতিত্বে, জাতীয় পার্টির দপ্তর সম্পাদক নাফিজ মাহবুবের সঞ্চালনায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান দয়াল কুমার বড়ুয়া। 

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির আইন ও রাজনৈতিক উপদেষ্টা কাজী রুবায়েত হাসান সায়েম, যুগ্ম মহাসচিব কর্নেল অব. হাবিবুল হাসান, মেজর অব. সিকদার আনিসুর রহমান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য পীরজাদা সৈয়দ জুবায়ের আহমেদ ও গাইবান্ধা সদরের সাবেক ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান মিসেস নিলা ইসলামসহ অনেকে।


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন