ইনসাইড সাইন্স

কি হতে পারে ফেসবুকের বিকল্প?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০১:১৯ পিএম, ০৬ অক্টোবর, ২০২১


Thumbnail

‘Sorry, something went wrong. We are working on it and we will get it fixed as soon as possible’ গত সোমবার (০৪ অক্টোবর) সকল ফেসবুক ব্যবহারকারীদের লগ ইন পেজে এমন বার্তাই ভেসে ওঠে। বার্তাটি দেখে চমকে ওঠেন ফেসবুক ব্যবহারকারীরা। সার্ভার ডাউনের কারণে এদিন রাত সাড়ে ৯টা থেকে তারা ফেসবুকে ঢুকতে পারছিলেন না। ফলে সক্রিয় ব্যবহারকারীদের জন্য সোমবার (৪ অক্টোবর) রাতটি ছিল দুঃসংবাদের। বিশ্বের প্রায় ৩০০ কোটি মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি ব্যবহার করে। যার মধ্যে বাংলাদেশে ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৪ কোটি ৮০ লাখ।

স্বাভাবিক কারণেই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি করে। বিশ্বব্যাপী মানুষে মানুষে যোগাযোগের বিষয়টি সাময়িক বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। এদিকে ফেসবুকের দেওয়া বার্তাটি জনমনে স্বস্তির জায়গা তৈরি করলেও তারা টেনশন নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন কখন এই দুঃসময়ের অবসান ঘটবে। কখন তারা সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় এই মাধ্যমটিকে আবার ব্যবহার করতে পারবেন।

হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবহারকারীরা তাৎক্ষণিক টেলিগ্রাম ও সিগন্যাল ব্যবহার করে বার্তা পাঠাচ্ছেন। হোয়াটসঅ্যাপ গোপনীয়তা বিতর্কের পর, এ দুটি অ্যাপই সর্বাধিক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধ হওয়ার পরে এই অ্যাপগুলো প্রচুর ব্যবহার করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে টুইটারে তাদের অ্যাপটি ব্যবহার করতে সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে সিগন্যাল।

চলুন জেনে নেয়া যাক ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ কিংবা ইন্সটাগ্রামের বিকল্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে ব্যাবহারকারীরা কোন অ্যাপগুলো ব্যাবহার করতে পারেন-

টুইটার

ফেসবুকের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দী টুইটার। এটি ফেসবুকের মতোই আরেকটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। ফেসবুকের মতো টুইটারে যত ইচ্ছা তত শব্দে স্ট্যাটাস দেয়া যায় না। টুইটারের সর্বোচচ ২৮০ শব্দের স্ট্যাটাস গ্রহণযোগ্য যেটাকে টুইট বলা হয়। টুইট করার জন্য সরাসরি টুইটারের ওয়েবসাইট ব্যবহার করা যায়। এছাড়া টুইটারের রয়েছে যেকোনো প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারের উপযোগী অ্যাপ্লিকেশন। মোবাইল ফোন বা এসএমএসের মাধ্যমেও টুইট লেখার সুযোগ রয়েছে।  টুইটার মূলত একটি মাইক্রো ব্লগিং সাইট। টুইটারের সদস্যরা অন্য সদস্যদের টুইট পড়ার জন্য নিবন্ধন করতে পারেন। এই কাজটিকে বলা হয় অনুসরণ করা। কোনো সদস্যের টুইট পড়ার জন্য যারা নিবন্ধন করেছে, তাদেরকে বলা হয় অনুসরণকারী।

২০০৬ সালের মার্চ মাসে টুইটারের যাত্রা শুরু হয়। তবে ২০০৬ এর জুলাই মাসে জ্যাক ডর্সি আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করেন। টুইটার সারা বিশ্ব্জুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। টুইটার বিশ্বের দ্বিতীয় বড় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। ২০১০ সালের ৩১শে অক্টোবর নাগাদ টুইটারে ১৭৫ মিলিয়ন অর্থাৎ ১৭.৫ কোটিরও বেশি সদস্য ছিলো।

স্ন্যাপচ্যাট

স্ন্যাপচ্যাট হল ছবির মাধ্যমে বার্তা আদান প্রদান এবং মাল্টিমিডিয়া ভিত্তিক মোবাইল অ্যাপলিকেশন। যার প্রতিষ্ঠাতারা হলেন ইভান স্পিজেল, ববি মার্ফি, এবং র্যাগি ব্রাউন। তারা মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যে অবস্থিত স্টানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়-এর প্রাক্তন ছাত্র, এবং এটি স্ন্যাপ ইনকর্পোরেশন দ্বারা উন্নীত, যেটির পুরো নাম স্ন্যাপচ্যাট ইনকর্পোরেশন।

বর্তমানে মূলত অ্যাপটি এক ব্যক্তি থেকে আরেক ব্যক্তির মধ্যে ছবি আদান প্রদান থেকে বাহির হয়ে, দিনে ২৪ ঘণ্টার ঘটা সমন্তিত কালানুক্রমিক কনটেন্ট সমূহের সমাহার "স্টোরিস" নামক নতুন বৈশিষ্ট্যযুক্ত করেছে, এছাড়াও "ডিসকভার" নামক একটি বৈশিষ্ট্য যুক্ত করেছে যাতে, বিভিন্ন পন্যের ব্রান্ড সমূহ বিজ্ঞাপন-সমর্থিত সংক্ষিপ্ত আকারের বিনোদনও প্রদর্শন করে থাকে। ২০১৭ সালের মে মাসের হিসাব অনুযায়ী, স্ন্যাপচ্যাটের প্রতিদিনের সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৬৬ মিলিয়ন।

লিংকডইন

লিংকডইন হলো একটি প্রফেশনাল নেটওয়ার্ক যা বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষদের যুক্ত করে। এটা ব্যবহারকারীদের শেখার প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও কাজ করে। যদিও লিংকডইন বর্তমান সময়ের অনেক জনপ্রিয় একটি সোস্যাল প্ল্যাটফর্ম, তবুও অনেকেই এর সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানেন না।

লিংকডইনকে এক কথায় আপনি প্রফেশনালদের জন্য ফেসবুক বলতে পারেন। আপনি কোনো প্রতিষ্ঠানের মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ হোন, কিংবা চাকরি খোঁজা ফাইনাল ইয়ারের স্টুডেন্ট, লিংকডইন সবার জন্যই কাজে আসতে পারে। লিংকডইন এ প্রফেশনালরা অন্য প্রফেশনালদের সাথে খুব সহজেই সংযুক্ত হতে পারেন। এছাড়াও যারা পেশাজীবন নতুন নতুন কেবলমাত্র শুরু করেছেন তাদের ক্যারিয়ার গড়তে অনেক সুযোগও থাকছে এখানে।

লিংকড ইন এ কাউকে এড করলে তাকে ‘connection’ বলে, যা অনেকটা ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট এক্সেপ্ট করার মতই। লিংকড ইন এ থাকা প্রাইভেট মেসেজিং কিংবা প্রোফাইলে প্রদত্ত কন্টাক্ট ইনফরমেশন ব্যবহার করে একে অপরের সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন।

পিন্টারেস্ট

সহজ ভাষায় বলতে গেলে এটি একটি ফটো শেয়ারিং সোশ্যাল সাইট। যেমন ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম বা টুইটারে আমরা ছবি শেয়ার করি তেমন ভাবেই এখানেও একটা অ্যাকাউন্ট তৈরি করে যতো খুশি ছবি ফ্রি-তে শেয়ার করতে পারি। পিন্টারেস্ট মূলত তৈরি করা হয়েছে Image, gif ও ভিডিও শেয়ারিংয়ের জন্য। এটি ছবির ভান্ডার যেখানে হাজার হাজার ছবিতে ভরে রয়েছে।

পিন্টারেস্ট ব্যবহার করা অনেক সহজ যদি আপনার কোন ব্লগ সাইট থাকে তবে এখান থেকে ব্লগ পোস্ট শেয়ার করে অনেক ভিজিটর পেতে পারেন। এছাড়াও পিন্টারেস্ট মার্কেটিং করে পিন্টারেস্ট থেকে আয় করতে পারেন।

ভাইবার

ভাইবার হল একটি তাৎক্ষণিক বার্তা প্রেরক এবং ভয়েস ওভার আইপি (ভিওআইপি) স্মার্টফোনের অ্যাপ্লিকেশন। তাৎক্ষণিক বার্তা প্রেরন ছাড়াও ব্যবহারকারীরা ছবি, ভিডিও এবং অডিও মিডিয়া বার্তা বিনিময় করতে পারেন। ম্যাক ওএস, এনড্রয়েড, ব্ল্যাকবেরি ওএস, আইওএস, সিরিজ ৪০, সিমবিয়ান, বাডা, উইন্ডোজ ফোন এবং মাইক্রোসফট উইন্ডোজের জন্য ক্লায়েন্ট সফটওয়্যার পাওয়া যায়।

টেলিগ্রাম

ফেসবুক মেসেঞ্জার কিংবা হোয়াটসঅ্যাপ এর মতো এটিও একটি মেসেজিং অ্যাপ যা আপনাকে টেক্সট মেসেজিং এর পাশাপাশি ভিডিও কল কিংবা ভয়েস মেসেজিং এর সুবিধাও দিয়ে থাকে। আর এখানে আশ্চর্য হওয়ার মতো বিষয় হলো এটি ২ জিবি সাইজের মধ্যে আপনাকে কোনো ফাইল শেয়ার করার সুযোগ দিয়ে থাকে যা সত্যি অনন্য। বর্তমানে সর্বশ্রেষ্ঠদের কাতারে থাকা এই টেলিগ্রাম অ্যাপটি আবিষ্কার করেন রাশিয়ার একজন উদ্যোক্তা প্যাভেল ডিউরভ।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড সাইন্স

খোঁজ মিলল সোনার থেকেও মূল্যবান পাথরের

প্রকাশ: ১২:১১ পিএম, ৩০ নভেম্বর, ২০২২


Thumbnail

অস্ট্রেলিয়ার অধিবাসী ডেভিড হোল ২০১৫ সালে মেলবোর্নের কাছে গিয়েছিলেন সোনার সন্ধানে। সোনার সন্ধান করতে যাওয়া ডেভিড সেখান থেকে খুঁজে পেয়েছিলেন একটি পাথর। এই পাথরটি পাওয়ার পর ডেভিড বুঝতে পারেন এর ওজন আকারের তুলনায় বেশ খানিকটা বেশি। তখনই এই ব্যক্তি বুঝে যান যে পাথরটা আর পাঁচটা সাধারণ পাথরের মত নয়। এর কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এরপর গবেষণা করা হয় পাথরটিকে নিয়ে।

গবেষণা করে বৈজ্ঞানিকরা জানতে পারেন যে এই পাথরে কিছু বহুমূল্যবান বৃষ্টির বিন্দু রয়েছে। মজার ব্যাপার এই বিন্দুগুলি হল মহাবিশ্ব সৃষ্টির সময়কার। সাইন্স এলার্ট ম্যাগাজিন জানিয়েছে, মেলবোর্ন এর কাছ থেকে উদ্ধার করা এই পাথরটি ও পাথরে থাকা বৃষ্টির বিন্দুগুলি সোনার থেকেও হাজার হাজার গুণ বেশি মূল্যবান। বৈজ্ঞানিকরা অনেক আগে থেকেই এর সন্ধান করছিলেন।

একটি সাইন্স ম্যাগাজিন জানিয়েছে, ডেভিড এই পাথরটিকে ভাঙার অনেক চেষ্টা করেছিলেন। করাত, ড্রিল ছাড়াও ডেভিড পাথরটিকে অ্যাসিড দিয়ে গলানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয়নি। এর বহু বছর পর জানা যায় যে পাথরটিকে সাধারণ পাথর ভেবে ভাঙার চেষ্টা করছিলেন ডেভিড সেটি আসলে একটি উল্কাপিণ্ড।

মেলবোর্ন মিউজিয়াম এর জিওলজিস্ট ডারমট হেনরি ২০১৯ সালে এই পাথর সম্বন্ধে বলতে গিয়ে বলেছিলেন, “এটি প্রমাণিত হয়েছে যে পাথরের টুকরোটি প্রায় ৪.৬ বিলিয়ন বছর পুরনো একটি উল্কা। মেরিবোরো উল্কা পাথর নামে এটি পরিচিত। পাথরটি খুব ভারী হওয়ার কারণ এটির মধ্যে লোহা ও নিকেল অত্যন্ত ঘন আকারে রয়েছে।”



মন্তব্য করুন


ইনসাইড সাইন্স

চাঁদে পৌঁছোলো নাসার মহাকাশযান

প্রকাশ: ০৪:০৬ পিএম, ২৩ নভেম্বর, ২০২২


Thumbnail

অবশেষে চাঁদে পৌঁছাল নাসার মহাকাশযান। এরই মধ্যে নীল আর্মস্ট্রংয়ের চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণ স্থানের জুম করা ছবি পাঠিয়েছে, আর্টেমিস-১ এর ওরিয়ন স্পেসক্রাফট। আগামী সপ্তাহে পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরের স্থানে পৌঁছানোর রেকর্ড গড়বে মহাকাশযানটি। 

অ্যাপোলো-১৭ এর ৫০ বছর পর চাঁদের সবচেয়ে কাছে গেল নাসার মহাকাশযান। চাঁদকে প্রদক্ষিণ করছে আর্টেমিস-ওয়ানের 'ওরিয়ন লুনার' মহাকাশযান।

আর্টেমিস-১ মিশনের  ব্যবস্থাপক মাইক সারাফিন বলেন, রকেটটি উৎক্ষেপনের দিনই আমরা যথাযথ তাপমাত্রা পেয়েছি। পুরো অভিযানটি ঠিকঠাক মতো কাজ করছে। প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ফল পেয়েছি আমরা। 

চন্দ্রপৃষ্ঠের ১৩০ কিলোমিটার ওপরে অবস্থান করে অ্যাপোলো ১১, ১২ ও ১৪ এর অবতরণ স্থানগুলোর জুম করা ছবি পাঠিয়েছে, মহাকাশযানটি। একইসঙ্গে দিয়েছে, অন্যান্য প্রয়োজনীয় নানা তথ্য ও ছবি। তবে প্রদক্ষিণের সময় ৩৪ মিনিট যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল ওরিয়ন লুনার। 

ওরিয়ন ম্যানেজার হুয়ার্ড হু বলেন, চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে পাঠানো ছবিগুলো দেখেই, ফ্লাইট অপারেশনে যুক্ত নাসার সব কর্মী আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠেন। পুরো ঘটনা সবাই স্ক্রিন থেকে ভিডিও করতে থাকে

আগামী সপ্তাহে পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী স্থানে পৌঁছানোর রেকর্ড গড়বে ওরিয়ান লুনার। যা পৃথিবী থেকে ২ লাখ ৭০ হাজার মাইল দূরে। এর আগে মানুষ বহনে সক্ষম কোনো মহাকাশযান এত দূরে যায়নি। আগামী ১১ ডিসেম্বর প্রশান্ত মহাসাগরে নামার কথা রয়েছে ওরিয়নের। 

এটি সফল হলে দ্বিতীয় মিশনে যাবেন নভোযাত্রীরা। আর সবশেষ তৃতীয় মিশনে ২০২৫ সালে চাঁদের বুকে নামবেন প্রথম নারী ও প্রথম অশ্বেতাঙ্গ মহাকাশচারী।


নাসা   মহাকাশযান   চাঁদ   রকেট  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড সাইন্স

সূর্যপৃষ্ঠে রহস্যে ঘেরা অঞ্চল ক্রোমোস্ফিয়ার

প্রকাশ: ১২:২৬ পিএম, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail সূর্যপৃষ্ঠে রহস্যে ঘেরা অঞ্চল ক্রোমোস্ফিয়ার

সূর্যপৃষ্ঠে রহস্যময় এক এলাকার খোঁজ পেলেন বিজ্ঞানীরা। সেখানে গেলেই নাকি অদ্ভুত ভাবে কমে আসে তাপমাত্রার পারদ। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন (এনএসও)-এর শক্তিশালী একটি সোলার টেলিস্কোপ এই তথ্য সংগ্রহ করেছে বলে খবরে জানা গেছে।

জানা গিয়েছে, সূর্যের মধ্যেকার এই রহস্যে ঘেরা অঞ্চলটির নাম ক্রোমোস্ফিয়ার। এটি সৌর পরিমণ্ডলের একটি স্তর, যার সূচনা সূর্যপৃষ্ঠ থেকে ৪০০ কিলোমিটার উঁচুতে। ১২০০ কিলোমিটার উচ্চতায় এই স্তরের সর্বোচ্চ সীমা। ক্রোমোস্ফিয়ারের মধ্যে তাপমাত্রার তারতম্য রয়েছে। বিজ্ঞানীদের দাবি, সাধারণত সূর্যের ক্রোমোস্ফিয়ারের নীচের দিকে তাপমাত্রা থাকে তিন হাজার ৭০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর উপরের দিকের তাপমাত্রা থাকে সাত হাজার ৭০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি।

কিন্তু এই স্তরের একটি বিশেষত্ব খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তারা জানিয়েছেন, সূর্যের এই বিশেষ স্তরটি থেকে দূরে সরে গেলে তাপমাত্রা বেড়ে যায়। যেখানে সূর্যের অন্যান্য স্তরগুলির ক্ষেত্রে ঘটে বিপরীত ঘটনা। সে সব স্তর থেকে সূর্যের কেন্দ্রের আরও কাছে গেলে তাপমাত্রা বাড়ে। দূরে গেলে গরম তুলনামূলক কমে। যেহেতু সূর্যকেন্দ্রকেই সবচেয়ে উষ্ণ বলে ধরা হয়, তাই ক্রোমোস্ফিয়ারে তাপমাত্রা হ্রাস-বৃদ্ধির এই তারতম্য মহাকাশ গবেষকদের ভাবিয়ে তুলেছে।

এনএসও-র ‘দ্য ড্যানিয়েল কে. ইনোয়ে সোলার টেলিস্কোপ’-কে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সৌর টেলিস্কোপ হিসাবে দাবি করা হয়। নানা সময়ে সূর্যপৃষ্ঠের নানা তথ্য বা অজানা ঘটনা এই টেলিস্কোপের মাধ্যমে জানতে পারেন বিজ্ঞানীরা। সেই টেলিস্কোপ সূর্যপৃষ্ঠে ক্রোমোস্ফিয়ারের রহস্যময় এই এলাকার খোঁজ দিয়েছে। গত ৩ জুন টেলিস্কোপের ক্যামেরায় ওঠা সেই ছবি প্রকাশ করেছে এনএসও।

সূর্যের মধ্যেকার অজানা ঘটনাবলী প্রকাশ্যে আনা, নক্ষত্রের অজানা দিক পৃথিবীর মানুষকে চেনানোই এনএসও-র সৌর টেলিস্কোপের মূল লক্ষ্য। সংস্থার ডিরেক্টর সেতুরামন পঞ্চানাথন বলেন, ‘‘দ্য ড্যানিয়েল কে. ইনোয়ে সোলার টেলিস্কোপ বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সৌর টেলিস্কোপ। আমরা সূর্যকে যে ভাবে চিনি, তার সম্পর্কে এখনও পর্যন্ত যা জানি, সে ধারণা বদলে দিতে পারে এই টেলিস্কোপ।’’ সৌরঝড়, সূর্য থেকে তেজস্ক্রিয় বিকিরণের মতো ঘটনাগুলিকে আরও ভাল ভাবে বুঝতে সাহায্য করবে এই সোলার টেলিস্কোপ, দাবি বিজ্ঞানীদের।

সূত্র: সি নেট।

সূর্যপৃষ্ঠ   রহস্যে ঘেরা   অঞ্চল   ক্রোমোস্ফিয়ার  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড সাইন্স

আগামীতে উৎক্ষেপণ করা হবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২

প্রকাশ: ১২:২৬ পিএম, ০৭ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail আগামীতে উৎক্ষেপণ করা হবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছেন যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ ও হবে। সেই কার্যক্রমও আমরা হাতে নিয়েছি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিএল) চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. শাহজাহান মাহমুদ।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ এর কার্যক্রম দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। আগামীতে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ উৎক্ষেপণ করা হবে। তবে এ স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট হবে না। এ স্যাটেলাইট ঘুরে ঘুরে পৃথিবীর সমস্ত জিনিসপত্র আমাদের দেখাবে।  

শনিবার (৬ আগস্ট) বিকেলে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানোর পর এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি ছোট দেশ হলেও আমাদের আনাচে কানাচে কমিউনিকেশনের সুযোগ নেই, সব কিছু আমরা দেখতে পারি না। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো আমাদের প্রধানমন্ত্রী একটা বিরাট সমুদ্র অঞ্চল এনে দিয়েছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সংযুক্ত করেছেন। বাংলাদেশ আইনগতভাবে ওই সম্পদের অধিকারী। এতো বড় একটা অঞ্চল শুধু আনলেই তো হবে না, এটা দেখভাল করতে হবে। এসব সম্পদ অন্য কেউ  আহরণ করে যাতে না নিয়ে যায়, চুরি কিংবা ডাকাতি করে যাতে নিয়ে না যায়, সে খেয়াল রাখতে হবে। বঙ্গবন্ধু স্যালেলাইট-২ দিয়ে এ অঞ্চল পাহারা দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের স্যাটেলাইটের শুরুটা করে গেছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার নামে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি এর জন্য গর্বিত। আর তার নামে এমন একটি বিশাল প্রজেক্টে কাজ করার সুযোগ দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমি কৃতজ্ঞ।

বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর তিনি বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের শহীদ সদস্যদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে সুরা ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। এর আগে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
 
এসময় উপস্থিত ছিলেন, কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ড. সাজ্জাদ হোসেন, ব্যারিস্টার রেজা-ই-রাকিব, উজ্জ্বল বিকাশ দত্ত, ড. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইকবাল আহমেদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম, মহাব্যবস্থাপক (বিক্রয় ও বিপণন) শাহ্ আহমেদুল কবির এবং কোম্পানি সচিব (উপসচিব) মো. রফিকুল হক।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড সাইন্স

জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের আদ্যোপান্ত

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ১৫ জুলাই, ২০২২


Thumbnail জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের আদ্যোপান্ত

বর্তমানে বিশ্বের সব থেকে আলোচিত বিষয় হলো জেমস ওয়েব মহাকাশ দূরবীক্ষণ যন্ত্র বা জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ। যা উৎপক্ষেপন করা হয় যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র নাসার উদ্যোগে এবং সাম্প্রতিক ছবিটাও প্রকাশ করা হয় নাসা (NASA) থেকেই। গত বছর ২৫ শে ডিসেম্বর, বড়দিনের দিন এই টেলিস্কোপ মহাকাশে উৎক্ষেপন করা হয়। অতীতের মহাকাশের চিত্র তুলে ধরার জন্যই এই ব্যবস্থা। উৎক্ষেপণের পরে ওয়েব প্রায় ৩০ দিন মহাকাশ যাত্রা সম্পন্ন করে পৃথিবী থেকে ১৫ লক্ষ কিলোমিটার দূরত্বে (চাঁদের চেয়েও অধিক দূরত্বে) দ্বিতীয় লাগ্রঁজীয় বিন্দুতে (যে বিন্দুতে পৃথিবী ও সূর্যের মহাকর্ষীয় লব্ধিবল এবং মহাকাশযানের কেন্দ্রাতিগ বল একে অপরকে নাকচ করে দেয়) পৌঁছানোর পরে সেটিতে অবস্থান করে সবসময় পৃথিবীর অন্ধকার পার্শ্বে থেকে পৃথিবীর সাথে সাথে একই সময়ে বছরে একবার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে। 

অবস্থান:
১৫ লক্ষ কিলোমিটার দূরেও পৃথিবী এবং সূর্যের তাপ থেকে বাঁচাতে ৫টি পর্দা লাগানো হয়েছে জেমস ওয়েব টেলিস্কোপে। এক-একটি পর্দার মাপ টেনিস কোর্টের সমান। এই টেলিস্কোপে রয়েছে ১৮টি ষড়ভুজ আয়না। যার সম্মিলিত ব্যাস ৬.৫ মিটার। ঠিক যেমনভাবে রাতের আঁধারে কোনও কোনও ফুল পাপড়ি মেলে সে ভাবেই ১৮টি আয়না মহাকাশে উন্মীলিত হয়েছে। তা দিয়েই চলেছে ব্রহ্মাণ্ডের অতীতের খোঁজ। 

আয়তন:
জেমস টেলিস্কোপের আয়তন ২০.১৯৭ মি × ১৪.১৬২ মি (৬৬.২৬ ফু × ৪৬.৪৬ ফু), সৌরঢাল এবং ক্ষমতা প্রায় ২ কিলোওয়াট। ব্যাস৬.৫ মি (২১ ফুট), ফোকাসের দৈর্ঘ্য ১৩১.৪ মি (৪৩১ ফুট), সংগ্রহ অঞ্চল ২৫.৪ মি২ (২৭৩ ফু২) এবং তরঙ্গদৈর্ঘ্য ০.৬-২৮.৩ মাইক্রোমিটার (কমলা থেকে মধ্য-অবলোহিত)। 



টেলিস্কোপের কাঠামো: 
মহাবিশ্বকে আরো স্পষ্টভাবে দেখার উদ্দেশ্যে তৈরি হয়েছে জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ। এটি নেক্সট জেনারেশন স্পেস টেলিস্কোপ (Next Generation Space Telescope বা NGST)। অবলোহিত বিকিরণ বা ইনফ্রারেড পর্যবেক্ষণের জন্য এবং একই সাথে এটি হাবল স্পেস টেলিস্কোপ ও স্পিটজার স্পেস টেলিস্কোপের ভবিষ্যত উত্তরসূরী। কারন এই দূরবীনে এমন অনেক কিছু যোগ করা হয়েছে, যা এর আগে অন্য কোন মহাকাশ দূরবীনে যোগ করে মহাকাশে পাঠানো হয়নি। এই দূরবীন কাজ করবে ইনফ্রারেড বা অবলোহিত আলোয়। এই টেলিস্কোপকে যত ইচ্ছা বড় করা যায়, যার ফলে যত খানি আলো আপতিত হয় প্রায় ততখানি আলো প্রতিফলিন হয়। যার কারণে সুস্পষ্ট ছবি দেখতে পারা যায়। এতে আছে প্রায় ১৮টি আয়না যার প্রতিটি সোনার পাত দ্বারা মুড়ানো। সোনার ইনফ্রারেড আলোর প্রতিসরণ ক্ষমতা সবথেকে বেশি তাই সোনার ব্যবহার করা হয়েছে। ১৮টি ষড়ভুজাকৃতির আয়না প্রতিটি ১.৩২ মিটার (৪.৩ ফুট) ব্যাস। (ওয়েবের সেকেন্ডারি আয়না ব্যাস ০.৭৪ মিটার)। এই আয়নায় ৪৮.২৫ গ্রাম ওজনের সোনার প্রলেপ দেয়া হয়েছে, যা একটি গলফ বলের ভরের সমান (একটি গলফ বলের ভর ৪৫.৯ গ্রাম)। তাছাড়া বিশেষ চারটি যন্ত্র এর সাথে যুক্ত করা হয়েছে টেলিস্কোপের সুরক্ষার জন্য। 

কার্য প্রক্রিয়া:
এই টেলিস্কোপ আলোর গতিতে ছবিকে ধারণ করে প্রেরণ করে। যেখানে ফুটে উঠে অনেক আগের মহাকাশের চিত্র। এখন, অনেকেই বলতে পারে, এত বছর পুরাতন এই ছবি বর্তমানে পৃথিবীতে প্রেরণ করা কতটা সত্য। সেক্ষেত্রে নাসার বিজ্ঞানীরা বলেন, কোন বস্তু থেকে আলো এসে আমাদের চোখে ধরা দিলে তবেই আমরা সেই বস্তু দেখতে পাই৷ আমরা যদি এখন সূর্যের দিকে  তাকায়৷ সেটা আসলে এখনের সূর্য না৷  সেটা প্রায় ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড আগের সূর্য।  কারন সূর্য থেকে আলো আসতে প্রায় ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড লাগে সূর্য আর পৃথিবীর দূরত্বের উপর ভিত্তি করে। তেমনি,  মহাকাশ এতই বিশাল যে তার দূরত্ব সাধারণ মাইল কিলো দিয়ে হিসেব করা যায় না৷ এটা হিসাব করা সম্ভব কেবল আলো দিয়ে।  আলো এক বছরে যে দূরত্ব অতিক্রম করবে সেটাকে বলা হয় এক আলোকবর্ষ ৷ কোন বস্তু আপনার থেকে এক আলোকবর্ষ দূরে মানে ঐ বস্তু থেকে আলো এসে আপনার চোখে ধরা দিতে ১ বছর লাগবে৷ তার মানে এখন,  এই সময়ে যদি আমরা  ঐ বস্তুকে দেখেন সেটি আসল এক বছর আগের বস্তুকে দেখবো। 

নাসা ১৩০০ কোটি বছর আগের যে ছবি প্রকাশ করেছে, পদার্থবিজ্ঞানের থিওরি অনুযায়ী সেক্ষেত্রে এই ছবি সত্য। মহাকাশের এসব ছবি তো সাধারণ ক্যামরায় তোলা যায় না। শক্তিশালী জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ বছর ধরে আকাশের দিকে তাক করে রাখা হয় আলোর জন্য। আলো এসে ধরা দিলে সেটাকে প্রসেস করে ছবি বের করা যায়। এখন ১৩০০ কোটি বছর আগের আলো টেলিস্কোপে এসে পড়েছে বলে ছবি তোলা সম্ভব হয়েছে। এটা সম্পূর্ণ পদার্থ বিজ্ঞান৷ ঠিক এই প্রক্রিয়ায় এত আদিম ছবি তুলতে পেরেছেন এই টেলিস্কোপ এবং পৃথিবীতে প্রেরণের ফলে সেই ছবি আমরা দেখতে পাচ্ছি। অর্থাৎ, ১৩০০ কোটি বছর আগের আলো, এতগুলো বছর ধরে মহাকাশে পথ অতিক্রম করে এইটুকু এসেছে, যা টেলিস্কোপে ধরা পড়েছে। যা আমরা এখন দেখছি তা মূলত আলোর গতি হয়ে এসেছে ১৩০০ কোটি বছর ধরে যা প্রায় পৃথিবী জন্মের আগের মহাকাশ এর চিত্র। এর মানে কিছুটা দাঁড়ায় এমন যে, পৃথিবী সৃষ্টির আগের এই গ্যালাক্সির ছবি আসতে ১৩০০ কোটি সময় লেগেছে সেসব গ্যালাক্সি বর্তমান অবস্থার ছবি পৌঁছাতে ঠিক একই সময়কাল লাগবে।