ইনসাইড টক

‘আমাদের সংসদীয় ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর যে ক্ষমতা ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর একই ক্ষমতা’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ২২ মার্চ, ২০২৩


Thumbnail

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এবং বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশীদ বলেছেন, কোনো দেশ অন্য আরেকটি দেশের শাসন ব্যবস্থা বা সাংবিধানিক ক্ষমতা নিয়ে কথা বলতে পারে না, অধিকার নেই। সে হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কথা বলা আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপের সামিল।

সদ্য প্রকাশিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক মানবাধিকার প্রতিবেদনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশীদ এসব কথা বলেন। পাঠকদের জন্য অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশীদ এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক শান্ত সিংহ।

অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশীদ বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ধরনের সরকার ব্যবস্থা আছে। যেমন যুক্তরাজ্যে সংসদীয় গণতন্ত্র ব্যবস্থা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি শাসন ব্যবস্থা। আমাদের হল সংসদীয় গণতন্ত্র ব্যবস্থা। এভাবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নিজস্ব ইতিহাস, ঐহিত্য, ভাষা ইত্যাদির আলোকে একটা শাসন ব্যবস্থা গড়ে উঠে। সে জায়গায় আমাদের সংসদীয় ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে এবং আমাদের সংসদীয় ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর যে ক্ষমতা ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর একই ক্ষমতা। আমাদের এখানে অতিরিক্ত কিছুই নেই। 

তিনি বলেন, আমরা যেহেতু ব্রিটিশ সংসদীয় ব্যবস্থা অনুসরণ করি সেহেতু আমাদের সংসদীয় ব্যবস্থায় তো প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা থাকবেই। ব্রিটেনে এটাকে 'প্রাইম মিনিস্ট্রি সিস্টেম' বলা হয়। অর্থাৎ প্রাইম সিনিস্টারকে কেন্দ্র করে সরকার আবর্তিত হয়। বিট্রিশ কলোনীর শাসন ব্যবস্থার ধারাবাহিক হিসেবে বা ঐতিহ্য হিসেবে আমরা সেটাই অনুসরণ করি। সুতরাং আপনি এটা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ বা নৈতিক অধিকার নেই। 

বিশিষ্ট এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বলেন, কূটনীতির সম্পর্কের জায়গায় অন্য একটি দেশ আমাদের কোনো ব্যবস্থা সম্পর্কে তাদের মতামত দিতে পারে কিন্তু আমাদের শাসনতন্ত্র নিয়ে কথা বলার অধিকার রাখে না। শাসনতন্ত্র কি ভাবে চলবে সেটি ঠিক করবে এদেশের জনগণ। আমাদের শাসনতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে, লাখো শহীদের রক্তে। কাজেই এই শাসন ব্যবস্থা নিয়ে কারো কথা বলার অধিকার নেই। এটা নিয়ে কথা বলার অধিকার রাখে এদেশের জনগণ। তারাই সিদ্ধান্ত নিবে দেশে কি ধরনের শাসনতন্ত্র কায়েম হবে। কার ক্ষমতা কি হবে ইত্যাদি।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘ক্লাস ফাইভে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে রাজনীতি শুরু করি’

প্রকাশ: ০৪:১৬ পিএম, ১৯ জুন, ২০২৪


Thumbnail

স্বাধীনতা চিকিৎসা পরিষদ (স্বাচিপ) এর সাবেক মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ বলেছেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একটি ঐতিহ্যবাহী দল। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ এদেশের জনগণকে নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের যত উন্নয়ন, জনগণের যত অর্জন সবই এই দলের নেতৃত্বেই হয়েছে। বিভিন্ন সময় বাংলাদেশে যখন গণতন্ত্র হোচট খেয়েছে তখন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই আমরা গণতন্ত্র ফিরে পেয়েছি। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা জিয়া-এরশাদ বিরোধী আন্দোলন, এক এগারোর আন্দোলন সংগ্রাম করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছি। এই ভাবেই আমি সব সময় আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত থেকেছি। সেই প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ করে আমি কি পেয়েছি না পেয়েছি সেটি আমি কখনোই বিবেচনায় নেয়নি। দেশ কি পেয়েছে, এদেশের জনগণ কি পেয়েছে সেটাই রাজনীতিতে মুখ্য বিষয়।

আগামী ২৩ জুন আওয়ামী লীগের ৭৫ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং এই আওয়ামী লীগের সঙ্গে নিজের বেড়ে ওঠা নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা বলেছেন অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ। পাঠকদের জন্য অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডারের নিজস্ব প্রতিবেদক শান্ত সিংহ।

অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ বলেন, আমি ছোট বেলা থেকে আরও নির্দিষ্ট করে বললে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের সময় থেকে রাজনীতির সাথে জড়িত। ক্লাস ফাইভে পড়াকালীন সময় জেলের তালা ভাঙব, শেখ মুজিবকে আনব- এই স্লোগান দিয়ে আমার আওয়ামী লীগের সঙ্গে যাত্রা শুরু হয়। এছাড়া আমি পারিবাবিক ভাবেই রাজনৈতিক আবহে বড় হয়েছি। আমার পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এরপর আমি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, চাকরি জীবনে আমি পেশাজীবী সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন এবং আওয়ামী লীগের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সাথে জড়িত হই। পরবর্তীতে ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এবং গত দুই মেয়াদে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য উপ কমিটির একজন সদস্য হিসেবে কাজ করছি। এভাবে বাংলাদেশে আওয়ামী পরিবারের সাথে আমার বেড়ে ওঠা।

স্বাচিপ এর সাবেক মহাসচিব বলেন, আজকে বাংলাদেশের যত উন্নয়ন, জনগণের ভাগ্যের উন্নয়ন সবই হয়েছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে। আর এই আওয়ামী লীগকে এখন গত ৪৩ বছর যাবৎ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা। তার নেতৃত্বে এই উপমহাদেশে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক দল  শক্তিশালী ঐতিহ্যবাহী দল হিসেবে পরিণত হয়েছে। তার নেতৃত্বে টানা চতুর্থবারের মতো দেশ পরিচালনা করছে আওয়ামী লীগ। আমরা যদি দেখি যে, বঙ্গবন্ধু যে স্বপ্ন নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিলেন তারই কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব সেই স্বপ্ন আজ পূরণ হচ্ছে একে একে। 


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘বঙ্গবন্ধুর খুনীদের মৃত্যু দেখাই জীবনের শেষ ইচ্ছা’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ১৩ জুন, ২০২৪


Thumbnail

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেছেন, রাজনীতিতে ব্যক্তিগত চ্যালেঞ্জ বলতে কিছু নেই। আমাদের চ্যালেঞ্জ হলো যারা গণতন্ত্রের জন্য বাধা, যারা খুনের রাজনীতি করে, খুনীদের স্বপক্ষের রাজনীতি করে, যারা বাংলাদেশের গণতন্ত্রের চেতনায় বিশ্বাস করে না, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী না, যারা মৌলবাদী, জঙ্গিবাদী গোষ্ঠীর পৃষ্ঠপোষকতা করে তাদের প্রতিহত করাই আমাদের চ্যালেঞ্জ। কারণ তারা বাংলাদেশের মানুষের জন্য, গণতন্ত্র বা কল্যাণ রাষ্ট্রের হুমকি। তাদের নির্মূল করা, তাদের অস্তিত্ব বিলীন করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।

আওয়ামী লীগের ৭৫ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রাক্কালে দলের সঙ্গে বেড়ে ওঠা, আন্দোলন, সংগ্রামে নেতৃত্ব দেয়া এবং দলকে নিয়ে নিজের অভিব্যাক্তি প্রকাশ করতে গিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতা এ কথা বলেন আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম।

বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, পারিবারিকভাবেই আমি রাজনৈতিকর সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বেড়ে উঠেছি। বিশেষ করে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট যখন আমাদের মহান নেতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয় তখন থেকেই আমরা প্রতিবাদের ভাষায়, প্রতিরোধের ভাষায় দৃঢ় শপথ নিয়েছি বঙ্গবন্ধু আদর্শকে ধরা রাখার। শুরুতে আমি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একজন কর্মী হিসেবে নিজেকে সম্পৃক্ত করেছি। ধাপে ধাপে দীর্ঘ লড়াই সংগ্রাম করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে নিজেকে একাকার করেছি। এখন পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর আদর্শে একাগ্রচিত্তে এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একজন কর্মী হিসেবে আমার যে যাত্রা শুরু হয় সে হিসেবে এবং কায়মন বাক্যে একাগ্রচিত্তে নিরবচ্ছিন্ন আওয়ামী লীগের সঙ্গে আছি।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক জীবনে আমার কোন চাওয়া পাওয়া নাই। আমরা চাই বঙ্গবন্ধু হত্যাকারী খুনীদের হাত থেকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হোক, পাকিস্তানি আইএসআই এর এজেন্ট যারা, যারা সামাজ্যবাদী গোষ্ঠী, যারা বাংলাদেশকে বিপন্ন করতে চায়, বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই দীর্ঘ লড়াইয়ে প্রতিটি পদে পদে আমি প্রতিটি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে একাগ্র থেকেছি। এখন অপেক্ষায় আছি বঙ্গবন্ধুর খুনীদের বিচারের রায় কার্যকর দেখে যাওয়া। খুনীদের মৃত্যু দেখাই এখন জীবনের শেষ ইচ্ছা।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘প্রশাসন তো বেনজীরকে দুর্নীতি করতে বলে নাই’

প্রকাশ: ০৪:২৫ পিএম, ২৯ মে, ২০২৪


Thumbnail

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোহাম্মদ নুরুল হুদা বলেছেন, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনফরচুনেট (দুর্ভাগ্যজনক)। এটা না হওয়াই বাঞ্ছনীয় ছিল। আর এটা তো একটা অভিযোগ, অভিযোগ আসলেই কিন্তু কেউ দোষী হয়ে যায় না। অভিযোগ যখন প্রমাণ হয় তখন সে দোষী। এখন শুধু সন্দেহের আঙ্গুল থাকতে পারে, তবে সেটাও বাঞ্ছনীয় নয়।

সম্প্রতি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ ও তার স্ত্রী-সন্তানদের নামে থাকা সকল স্থাবর-অস্থাবর সম্পতি ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এ রকম একটা দায়িত্বশীল পদে থেকে বেনজীর আহমদের ব্যাপক দুর্নীতিতে জড়িয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোহাম্মদ নুরুল হুদা বাংলা ইনসাইডারকে এ কথা বলেন। 

সাবেক আইজিপি নূরুল হুদা বলেন, বেনজীর আহমেদের ঘটনা পুলিশ প্রশাসনে প্রভাব ফেলবে না। প্রশাসন তো তাকে দুর্নীতি করতে বলে নাই; যে অভিযোগগুলো আছে সে তার নিজ দায়িত্বে করেছে। যার যার দায়িত্ব তার তার। আইন মোতাবেক একজনের দায়িত্ব আরেক জনের না। সুতরাং পুলিশ প্রশাসনে কোন প্রভাবের আমি অবকাশ দেখি না।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘সুশীল সমাজকে সান্ত্বনা দিতেই আজিজের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা’

প্রকাশ: ০৪:২১ পিএম, ২৬ মে, ২০২৪


Thumbnail

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেছেন, সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সরকারের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি করেছে এটা সত্যি। কিন্তু প্রশ্ন হল এতে করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কি লাভ হয়েছে। আজিজের বিরুদ্ধে যে সমস্ত অভিযোগ তুলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে এগুলো তো এখনকার বিষয় নয়। এই বির্তকগুলো তো অনেক আগের। তার ভাইদের নিয়ে যে সমস্ত সমালোচনা রয়েছে সেগুলোও তো পুরোনো। আমেরিকা তো সবই জানে। তাহলে আগে কেন নিষেধাজ্ঞা দিল না? এখন কেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার ওপর এই নিষেধাজ্ঞা দিল? আজিজের ওপর মার্কিন এই নিষেধাজ্ঞাকে আসলে গুরুত্ব দেওয়ার কিছু নেই। কারণ এটা গুরুত্ব বহন করে না।

সম্প্রতি সময়ে সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে কোন প্রভাব ফেলবে কিনা এ প্রসঙ্গে বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এ কথা বলেন অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডারের নিজস্ব প্রতিবেদক শান্ত সিংহ।

ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, আপনারা নির্বাচনের আগে মার্কিন তৎপরতা দেখেছেন। নির্বাচন নিয়ে তারা কি রকম তৎপর ছিল। নির্বাচন ঘিরে সে সময় যুক্তরাষ্ট্র ভিসা নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছিল। পরে কিছুদিন পর আবার বেশ কয়েকজনের ওপর নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করা হয়েছে বলে দেশটি জানায়। কিন্তু সে সময়ও যুক্তরাষ্ট্র আজিজের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়নি। তারা তো সে সময় সেটি করত পারত। কিন্তু সেটা করা হয়নি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এমন সময় আজিজের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যখন সরকারের সাথে তাদের সম্পর্ক বেশ ভালো এবং সম্পর্ক আরও উন্নয়নে এক সাথে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে দু দেশই।

তিনি বলেন, আমি মনে করি নির্বাচনের আগে এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে কেউ কেউ রুষ্ট হয়েছেন। আমার ধারণা তাদেরকে শান্ত করতেই যুক্তরাষ্ট্র আজিজের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। বিশেষ করে আমাদের দেশে সুশীল সমাজকে সান্ত্বনা দিতেই মার্কিন এই নিষেধাজ্ঞা। প্রকৃতপক্ষে এই নিষেধাজ্ঞা কোন গুরুত্ব বহন করে না। মিডিয়া কেন এত গুরুত্ব দেয় সেটাও আমার কাছে বোধগম্য নয়। 


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘রাইসির মৃত্যুর ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের অভিযোগ নাই’

প্রকাশ: ০৪:০৩ পিএম, ২৩ মে, ২০২৪


Thumbnail

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেছেন, ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির মৃত্যু নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনার কথা শোনা গেলেও এখন পর্যন্ত ইরানের কর্তৃপক্ষ সে ধরনের কিছু বলেনি। যদি কোন ষড়যন্ত্র হয়ে থাকত বা প্রমাণ থাকত তাহলে হয়ত ইরানই সবার আগে কথা বলত। কিন্তু এখন পর্যন্ত ইরান এ নিয়ে কিছু বলেনি। তার মানে রাইসির মৃত্যুর ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের অভিযোগ নাই। ইরান শুধু বলছে, যেহেতু হেলিকপ্টার গুলো পুরোনো, স্যাংশন থাকার কারণে তারা নতুন হেলিকাপ্টার আনতে পারেনি বা যে পার্টস গুলো তাদের দরকার সেগুলো তারা আনতে পারছে না। এ নিয়ে ইরানের অভিযোগ আছে বটে, তবে রাইসির মৃত্যুর বেশ কিছু দিন অতিবাহিত হলেও ইরান তার মৃত্যুতে ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেনি। দায়ী করার মত কিছু হলে ইরান নিশ্চিত বসতে থাকত না। তারা অবশ্যই এটা নিয়ে কথা বলত।

হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার পর ইরানের প্রেসিডেন্ট রাইসির মৃত্যু এবং মধ্যপ্রাচ্যে এর প্রভাব নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এ কথা বলেন অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডারের নিজস্ব প্রতিবেদক শান্ত সিংহ।

অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার ইরানের আরও সতর্ক থাকা উচিত ছিল। তবে এই প্রথমবার যে একজন রাষ্ট্রপতি হেলিকাপ্টার দুর্ঘটনায় মারা গেলেন তা নয়, এর আগেও অনেকে মারা গেছেন। ইরানেই যে প্রথম হয়েছে তা নয়। তবে কোন সন্দেহ নেই যে আবহাওয়া খারাপ থাকার পরও ইরান কেন আরও সতর্ক হল না। এ নিয়ে নিশ্চিয় হয়ত ইরান তদন্ত করবে। তাদের নিরাপত্তার কোন ঘাটতি ছিলো কিনা কিংবা রাইসি নিজেই ইচ্ছা প্রকাশ করেছে কিনা সেটাও একটি দিক। তবে এর আগেও কোন কোন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান বা পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিংবা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বিমান দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। রাইসিই প্রথম হলে হয়ত কিছু সন্দেহ হত। তবে সন্দেহ নেই এখানে ইরানের অবশ্যই দুর্বলতা রয়েছে। আবহাওয়ার কারণে যদি হয়েই থাকে তাহলে ওই ধরনের আবহাওয়া কেন ঝুঁকি নিল, সেগুলো হয়ত ইরান তাদের দেশের জনগণকে জানানোর চেষ্টা করবে।

রাইসির মৃত্যু মধ্যপ্রাচ্যে কিংবা ইরানে কোন ধরনের প্রভাব ফেলবে কিনা জানতে চাইলে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ এই অধ্যাপক জানান, রাইসি ইরানের প্রেসিডেন্ট হলেও তারই যে সব ক্ষমতা তা কিন্তু নয়।  ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিই হলেন সর্ব ক্ষমতার অধিকারী। যদিও রাইসি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল এবং তার এই জনপ্রিয়তা নিয়ে কোন সন্দেহ নাই। ইরানের জনগণের কাছে তার একটা অন্যরকম গ্রহণযোগ্যতা ছিল। কিন্তু ইরানের রাষ্ট্র কাঠামো এমন ভাবে তৈরি করা সেখানে মূল ক্ষমতা হলো আয়াতুল্লাহ খামেনির। ইরানে তিনি সর্ব ক্ষমতার অধিকারী।


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন