ইনসাইড টক

‘প্রতিটি মৃত্যু–ইচ্ছা আত্মহত্যার ইঙ্গিত’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ২৪ মার্চ, ২০২৪


Thumbnail

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ঘরের দরজা ভেঙে বরেণ্য রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী সাদি মহম্মদের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে কুমিল্লা শহরে নিজেদের বাড়িতে আত্মহত্যা করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকা। এ ধরনের আত্মহত্যার ঘটনা চলছে। আত্মহত্যা প্রতিরোধের উপায় কী অথবা আত্মহত্যা করতে চাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ মানুষটির প্রতি পরিবার, সমাজ, গণমাধ্যমের ভূমিকা কতটুকু—এসব নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে কথা বলেছেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক হেলাল উদ্দীন আহমেদ। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডারের প্রতিবেদক খাদিজা ভৌমী।

বাংলা ইনসাইডার: মানুষ কেন আত্মহত্যা করে?

অধ্যাপক হেলাল উদ্দীন: মানসিক বিপর্যয়ের কারণেই বেশির ভাগ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। বিষণ্নতা, ব্যক্তিত্বের সমস্যা, সিজোফ্রেনিয়া, বাইপোলার ডিজঅর্ডার, মাদকাসক্তি ইত্যাদি মানসিক রোগের যথাযথ চিকিৎসা না করলে এবং সম্পর্কজনিত জটিলতা, ব্যর্থতা ইত্যাদি মেনে নিতে না পেরে কেউ কেউ আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। রেগে গিয়ে বা হঠাৎ আবেগপ্রবণ হয়ে কেউ আত্মহত্যা করলে তাকে আবেগতাড়িত আত্মহত্যা (ইমপালসিভ) বলা হয়। এ ছাড়া সংকল্পিত ও পরিকল্পিত (ডিসাইসিভ অ্যান্ড প্ল্যানড) আত্মহত্যার ক্ষেত্রে যিনি আত্মহত্যা করতে চান, দীর্ঘ সময় ধরে তিনি আত্মহত্যার পরিকল্পনা করেন। ২০১৮-১৯ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের করা মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে একটি জাতীয় জরিপের তথ্য বলছে, দেশের প্রাপ্তবয়স্কদের গড়ে ১০০ জনের মধ্যে ৭ জনই বিষণ্নতায় ভুগছেন। করোনার পর মানুষের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়েছে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে।

বাংলা ইনসাইডার: কেউ আত্মহত্যা করতে পারেন এটা বোঝার পর পাশে থাকা মানুষের করণীয় কি?

অধ্যাপক হেলাল উদ্দীন: এমন কোনো টিকা নেই যা দিয়ে বলা যাবে যে কেউ আত্মহত্যা করবে না। সফল মানুষও আত্মহত্যা করতে পারেন। কেউ আত্মহত্যা করার কথা চিন্তা করছেন এটা বুঝতে পারার সঙ্গে সঙ্গে ওই ব্যক্তির জন্য উপযুক্ত ও বিজ্ঞানভিত্তিক চিকিৎসার উদ্যোগ নিতে হবে। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিই ঠিক করবেন কাউন্সেলিং, ওষুধ কোনটা লাগবে। দৈনন্দিন জীবনের আটপৌরে কথা বললে হবে না। এমন পরিস্থিতিতে ওই মানুষটির আশপাশে যারা থাকবেন, তারা কোনোভাবেই নিজেরা এ সমস্যার সমাধান বা পরামর্শ দেবেন না। সমবেদনা, করুণা দেখাতে গেলে হিতে বিপরীত হবে। ওই ব্যক্তির প্রতি সমানুভূতি প্রকাশ করতে হবে। তাকে বলতে হবে, যে কারও এমন সমস্যা হতে পারে, এর পেছনে তোমার কোনো দুর্বলতা বা দোষ নেই, এই সমস্যা থেকে উত্তরণে যথাযথ চিকিৎসা আছে। প্রথমেই মনে রাখতে হবে, বিষণ্নতা একটি রোগ। ক্যানসার, করোনাসহ অন্য রোগে আমরা যেমন নিজেরা চিকিৎসা না করে যথাযথ চিকিৎসকের কাছে রোগীকে নিয়ে যাই, এ ক্ষেত্রেও তাই করতে হবে। সাদি মহম্মদের মৃত্যুর পর তার ভাই নৃত্যশিল্পী শিবলী মহম্মদসহ অনেকেই বলেছেন, মা ও বোনের মৃত্যুর পর থেকে সাদি মহম্মদ ভেঙে পড়েছিলেন। কর্মময় জীবনে স্বীকৃতি না পাওয়াসহ অন্যান্য আক্ষেপও ছিল। সাদি মহম্মদ বিষণ্নতায় ডুবে গিয়েছিলেন। এ ক্ষেত্রে তার স্বজনেরা তাকে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তির কাছে নিয়েছিলেন কি না, সে ব্যাপারে কিছু জানা যায়নি। 

বাংলা ইনসাইডার: কেউ আত্মহত্যা করতে চাই, তা অন্যরা বুঝবেন কীভাবে?

অধ্যাপক হেলাল উদ্দীন: কেউ আত্মহত্যার কথা চিন্তা করলে তার আচরণে সেটা প্রকাশ পায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মৃত্যু আর আত্মহত্যা নিয়ে নিজের ইচ্ছার কথা প্রকাশ করতে পারে কেউ। নিজের ক্ষতি করা, সব কাজে আগ্রহ হারিয়ে ফেলা, নিজেকে গুটিয়ে রাখা, নিজেকে দোষী ভাবা, নিজেকে অপাঙ্ক্তেয় ভাবা, সারা রাত জেগে থাকা আর সারা দিন ঘুমানো, সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ না নেওয়া, শখের বিষয় থেকে দূরে থাকা, কোনো কাজে মনোযোগ দিতে না পারাসহ বিভিন্ন লক্ষণ প্রকাশ পেতে থাকে। কোনো ব্যক্তির মধ্যে কমপক্ষে দুই সপ্তাহ ধরে এসব লক্ষণ প্রকাশ পেতে থাকলে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

বাংলা ইনসাইডার: বলা হচ্ছে আত্মহত্যা একটি প্রতিরোধযোগ্য বিষয়। সঠিক সময়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারলে অনেকাংশেই আত্মহত্যা ঠেকানো যায়। এ বিষয়ে কিছু বলেন। 

অধ্যাপক হেলাল উদ্দীন: আত্মহত্যা প্রতিরোধে যার যার ক্ষেত্র থেকে একযোগে কাজ করে যেতে হবে। শিশুদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা ব্যর্থতাকে মেনে নিতে পারে। শিক্ষার্থীদের সামাজিক দক্ষতা বাড়াতে তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ দিতে হবে। সংস্কৃতিচর্চায় উৎসাহিত করতে হবে। সব ধরনের মানসিক রোগ দ্রুত শনাক্ত করে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। পারিবারিক বন্ধনগুলো দৃঢ় করতে হবে। আত্মহত্যার উপকরণ, যেমন ঘুমের ওষুধ, কীটনাশকের সহজপ্রাপ্যতা কমানোর পাশাপাশি প্রেসক্রিপশন (ব্যবস্থাপত্র) ছাড়া ঘুমের ওষুধ বিক্রি বন্ধ করতে হবে। সঠিক সময়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে পারলে আত্মহত্যার ঘটনা আর ঘটবেই না, তা বলা না গেলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আত্মহত্যার ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। মূল কথা, এসব লক্ষণ দেখা দিলে ওই ব্যক্তির প্রতি সবাইকে মনোযোগী হতে হবে। মনে রাখতে হবে, পরিবারে যদি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে থাকে, তবে পরিবারের অন্য সদস্যদেরও আত্মহত্যার ঝুঁকি থেকে যায়, তাই সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী অবন্তিকার আত্মহত্যার পর প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টরা নড়েচড়ে বসেছেন। আত্মহত্যা কোনো সমস্যার সমাধান নয়। অবন্তিকার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে কোনোভাবেই বিচার কাম্য নয়। ভুক্তভোগীকে বেঁচে থেকেই অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হবে। কোনো জায়গায় প্রতিকার চেয়ে ব্যর্থ হলে অন্য জায়গায় যেতে হবে। একইভাবে সমাজে অন্যায়ের প্রতিকার ও বিচার পাওয়ার সুব্যবস্থাও থাকতে হবে।

বাংলা ইনসাইডার: আত্মহত্যার সংবাদ পরিবেশনে গণমাধ্যমের ভূমিকা কেমন হবে?

অধ্যাপক হেলাল উদ্দীন: গণমাধ্যমে আত্মহত্যার সংবাদের অতি প্রচার, অপপ্রচার বা অদায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনে কখনো কখনো আত্মহত্যার ঘটনা বাড়তে পারে। দেশে পরপর দুটো আত্মহত্যার ঘটনায় দেখা যাচ্ছে, সাদি মহম্মদের ঘটনায় গণমাধ্যমগুলো সংবাদ পরিবেশনে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে। তবে অবন্তিকার ক্ষেত্রে তা সেভাবে হয়নি। অবন্তিকার ব্যক্তিগত জীবন বা তাকে গ্লোরিফাই (মহিমান্বিত) করে এমন অনেক কিছু প্রকাশ বা প্রচার করা হচ্ছে। এতে করে এমন বার্তা প্রতিষ্ঠিত হতে পারে যে অবন্তিকা আত্মহত্যা করেছিলেন বলেই অভিযুক্তদের শাস্তির আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে। অবন্তিকার মতো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আরও অনেকে থাকতে পারেন, তারা এতে করে আত্মহত্যা করতে উৎসাহিত হতে পারেন। তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আত্মহত্যার খবর পরিবেশনে গাইডলাইন দিয়েছে। তা মেনে চলতে হবে। আত্মহত্যার খবর নির্মোহভাবে পরিবেশন করতে হবে। তবে গত ১০ বছরে বলা যায়, দেশের প্রথম সারির গণমাধ্যমগুলো এ বিষয়ে অনেক সংবেদনশীল আচরণ করছে।

বাংলা ইনসাইডার: আত্মহত্যা প্রতিরোধে আপনার পরামর্শগুলো জানতে চাই?

অধ্যাপক হেলাল উদ্দীন: কারও মধ্যে মৃত্যু–ইচ্ছা দেখা দিলে বিদ্রূপ হাসাহাসি এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রল করা যাবে না। প্রতিটি মৃত্যু–ইচ্ছাকে আত্মহত্যার ইঙ্গিত হিসেবে ধরে নিতে হবে। এ সময় বন্ধু হয়ে তাদের পাশে থাকতে হবে। মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলতে হবে। মনের যত্ন নেওয়াটা যে গুরুত্বপূর্ণ, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সেটা বোঝাতে হবে। আত্মহত্যার প্রসঙ্গ উঠলে তা এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। আত্মহত্যা যে কোনো সমাধান নয়, সেটাও বোঝাতে হবে। সব থেকে বড় কথা, মানসিক সমস্যাকে লোকলজ্জার ভয়ে লুকিয়ে রাখা যাবে না। মনোচিকিৎসকের সাহায্য নিয়ে প্রয়োজন হলে ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘শিক্ষার্থীদের বোঝাতে হবে কেন এখন কোটা সংস্কার করা যাচ্ছেনা’

প্রকাশ: ০৫:১০ পিএম, ১৬ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেছেন, সব দেশেই কোটা আছে। পৃথিবীর এমন কোন দেশ নেই যেখানে কোটা নেই। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতেও ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কোটা আছে। এটা একটি দেশের বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে কম বেশি করা যায় এটা নিয়ে কোন দ্বিমত নেই। 

সম্প্রতি কোটা বিরোধী আন্দোলনে সহিংসতায় ঘটনা নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় এ বিষয়ে কথা বলেন  অধ্যাপক আবদুল মান্নান। পাঠকদের জন্য অধ্যাপক আবদুল মান্নান এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক শান্ত সিংহ।

অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, আমরা ২০১৮ সালের কোটা বিরোধী আন্দোলনে কি দেখেছি। শুরুতে এটা শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ছিল, পরে পরে সেই আন্দোলনে রাজনীতিককরণ ঘটেছে। এবারও এমন কিছুর আলামত লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যারা কোটা নিয়ে আন্দোলন করছে তাদের মধ্যে সমন্বিত নেতৃত্ব নাই। তারা বলছে তাদের এ আন্দোলনে সমন্বয় রয়েছে, কিন্তু সেটা হচ্ছে ২০১৮ সালে নূরের মতো নেতৃত্ব। যারা কোন কোন রাজনৈতিক দলের দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে। সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এখন সরাসরি ভাবে কোটা আন্দোলনে জড়িয়ে গেছে। তারা দেখছে যে, তারা তো এতো আন্দোলন করে কিছু করতে পারল না। কিন্তু শিক্ষার্থীরা অনেক বেশি শক্তিশালী। সেজন্য তাদেরকে তারা কিভাবে ব্যবহার করতে পারে সেটার একটি দুরভিসন্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। 

শিক্ষার্থীরা হয়তো একটি ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে আন্দোলন শুরু করেছিল কিন্তু এখন সেটা তাদের কাছ থেকে ছিনতাই হয়ে গেছে। একই ঘটনা ঘটেছিল নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের বেলায়ও। এখন এই কোটা আন্দোলনেও তাই হয়েছে। কারণ বিএনপি এবং এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠন কিংবা তাদের মিত্রদের কথাবার্তা সেই বার্তাই বহন করছে। 

তিনি বলেন, কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বোঝার চেষ্টা করতে হবে কেন এখন কোটা সংস্কার করা যাচ্ছে না। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন আছে। এই মুহূর্তে আসলে কিছু করার নেই। পরিস্থিতি যেহেতু অবনতি হচ্ছে সেজন্য সরকার চাইলে হয়তো শুনানি একটু এগিয়ে আনা যায় কি না তার জন্য আদালতে আবেদন করতে পারে। এর বাইরে আসলে করার কোন কিছুই নেই। 

কোটা কিরোধী আন্দোলনে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে উল্লেখ্য করে আবদুল মান্নান বলেন, কেন সরকার এই মুহুর্তে কিছু করতে পারছে না বা কেন কোটা রাখা দরকার তার একটি বিস্তারিত তথ্য উপাত্ত নিয়ে তাদের বোঝানো যেতে পারে। কোটা থাকার ফলে কি হয়েছে আর না থাকার কারণে কি হয়েছে তার একটি বাস্তব চিত্র আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরা দরকার। এক্ষেত্রে সরকার বিভিন্ন ক্রোড়পত্রের মধ্য দিয়ে এই বাস্তব চিত্রগুলো সবার সামনে তুলে ধরতে পারে। এতে করে আমার মনে হয় শিক্ষার্থীরা বাস্তব চিত্র বুঝতে সক্ষম হবে।

তিনি আরও বলেন, মানুষ অনেক সময় ভুল তথ্য পেয়ে অনেক বড় ভুল করে বসে কিংবা গুজব ছড়ায়। কিন্তু বাস্তব চিত্র তাদের সামনে থাকলে সেই ভুল করা বা গুজব ছড়ানোর সুযোগটা আর থাকে না। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর কোটা ছিলই না। কোটা বন্ধ ছিল। আর মুক্তিযুদ্ধ করার কারণে অনেকে চাকরি হারিয়েছেন। জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে সেনাবাহিনীতে ‘ক্যু’ হয়েছে এই অজুহাতে ১৪৪ জন সেনা সদস্যকে বিনা বিচারে হত্যা করেছিলেন। যাদের বেশিরভাগই ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। তাদের লাশটাও ফেরত দেয়া হয়নি। সরকারের উচিত এই তথ্যগুলো জনসাধারণের সামনে তুলে ধরা।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

ট্রাম্পের ওপর হামলা যতটা রাজনৈতিক, তার চেয়ে বেশি সামাজিক অস্থিরতার বহিঃপ্রকাশ

প্রকাশ: ০৪:১১ পিএম, ১৪ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক সাহাব এনাম খান বলেছেন, ট্রাম্পের ওপর হামলা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ক্ষোভের প্রকাশ। এটি নিন্দনীয়। আমি ব্যক্তিগতভাবে এটির তীব্র নিন্দা জানাই। দেখুন, যুক্তরাষ্ট্রের ইলেকটোরাল সিস্টেম বেশ জটিল। তাই চট করেই হামলাকে কেন্দ্র করে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা রাতারাতি বেড়ে যাবে এ কথা বলার সুযোগ আপাতত নেই। অনেকগুলো ফ্যাক্টরের ওপর নির্ভরশীল দেশটির নির্বাচন। ফলে হামলার মাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা আসতে পারে একজন প্রার্থির পক্ষে তা বলা এখনই ঠিক নয়। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের বিষয় রয়েছে। 

শনিবার (১৩ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের বাটলার শহরে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর হামলা হয়েছে। কেনো বা কী কারণে এমন ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে এ নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক সাহাব এনাম খান বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা বলেন। 

হামলাটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম থেকে সৃষ্ট কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক সাহাব এনাম খান বলেন, এটি একেবারেই অসম্ভব। কারণ বাইডেন এমনিতেই বিপর্যস্ত ও দুর্বল অবস্থায় রয়েছেন। এছাড়াও এমন একটি হামলা ঘটিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা নেয়ার তেমন দৃষ্টান্ত দেশটিতে আগেও দেখা যায়নি। অতএব ষড়যন্ত্র তত্ত্বের দিক থেকে এমন ভাবার কোন রকমের অবকাশ নেই। একইসঙ্গে এমন বাইডেন প্রশাসন কখনই এমন বিতর্কিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে না। 

তিনি বলেন, এমন সমীকরণ থেকে এটা বলাই যায় যে একান্তই ব্যক্তিগত বিকৃত মানসিকতা থেকেই হামলাকান্ডটি হয়েছে। ট্রাম্পের ব্যক্তি ইমেজ নিয়ে পূর্বে নানা সমালচনা রয়েছে আর সে হিসেবে নির্বাচনে বাড়তি জনপ্রিয়তা লাভের  আশায় তিনি নিজে এমন হামলার নেপথ্য পরিকল্পনাকারী কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক এনাম খান সেটিকে নাকচ করে দেন। এ প্রশ্নের জবাবে বাংলা ইনসাইডারকে তিনি বলেন, দেশটির ফেডারেল সরকার ব্যবস্থা, গোয়েন্দা সংস্থা ও অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী এবং বিচার ব্যবস্থা এতটাই জটিল যে এমন কাজ করে ট্রাম্প নিজের বিপদ ডেকে আনবেন না। 

তিনি বলেন, আপনারা জানেন যুক্তরাষ্ট্র কোন রকমের বেআইনি কিছু হলে দেশটির বিচার ও আইন সংস্থাগুলো অত্যন্ত কঠোরতার সাথে সকল বিষয় জবাবদিহিতার আওতায় এনে থাকে। এমনকি সে ব্যক্তি যতই প্রভাবশালী হোক না কেন তাকেও আইনের উর্ধ্বে রাখ হয় না। তাই ট্রাম্প যদি এটি ভুলেও করিয়েও থাকতেন তবে পরে তদন্তে তা প্রমাণিত হলে ট্রাম্পের রাজনৈতিক জীবন যেমন আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তো অনুরূপ রিপাবলিক দলের গ্রহনযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠে আসতো। 

তিনি বলেন, অতএব এত বড় অপরাধ ঘটানোর কোনো সম্ভাবনা ট্রাম্পের নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্প্রতি বিভিন্ন বন্দুক হামলা বৃদ্ধির কারণ নিয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক সাহাব এনাম খান বলেন, দেশটির বন্দুক আইনের বিপক্ষে রিপাবলিকদের অবস্থান জোরালো। কিন্তু বাইডেন প্রশাসন সেটিকে জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলেও রিপাবলিকের বাধার মুখে কার্যত বাস্তবায়নে পিছিয়ে। সেক্ষেত্রে বলা যায় দেশটিতে সঠিক অস্ত্র আইনের উপস্থিতির অভাবের আরেকটা প্রতিফলনও আজকের এ হামলা। আমি মনে করি সামাজিক নিরাপত্তার স্বার্থে এখনই সঠিক সময় কার্যকরি একটি অস্ত্র আইনের দিকে যাওয়া। 

তিনি আরো বলেন, অস্থির সামাজিক প্রেক্ষাপট ও ব্যক্তি পর্যায়েও নানা অস্থিরতা দেশটিকে ক্রমেই সহিংসতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আজকের হামলা থেকে এটা বলাই যেতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক অবক্ষয় ও অস্থিরতার আরেক চিত্র এ হামলা। 

অন্যদিকে বিশ্বের অন্য কোন পরাশক্তি এমন হামলার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে কিনা এমন শঙ্কার কথা নাকচ করে দিয়ে এনাম খান বলেন, এটি কোনোভাবেই সমভব নয়। কারণ, রাশিয়া, চীনসহ অন্যান্য বেশ কিছু পরাশক্তিধর রাষ্ট্র সবসময় চায় ট্রাম্প ক্ষমতায় আসলে বিশ্ব রাজনীতির মেরুকরণে তাদের একটা সুবিধাজনক অবস্থান থাকবে। অতএব এ হামলার সঙ্গে অন্য কোনো শক্তিধর রাষ্ট্রের কোনো রকমের সম্ভাবনা নেই   যুক্ত থাকার। 

অধ্যাপক সাহাব এনাম খান অবশেষে বলেন, ট্রাম্পের ওপর এ হামলাকে সম্পূর্ণ ‘ক্রিমিনোলজি পারসপেকটিভ’ থেকেই আমাদের দেখতে হবে। না ব্যক্তি ট্রাম্প, না রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট কিংবা অন্য কোনো গোষ্ঠীর এ হামলায় জড়িত। এটি একেবারেই বিকৃত মানসিকতাবোধ থেকে বিচ্ছিন্ন একক ব্যক্তি দ্বারা সংঘটিত একটি হামলার বিষয়।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা দূর করার জন্য মানুষের সচেতনতা অনেক বেশি জরুরি’

প্রকাশ: ০৪:১৩ পিএম, ১৩ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পরিবেশ, জলবায়ু ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সার্কেল) মোঃ খায়রুল বাকের বলেছেন, ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা দূর করার জন্য মানুষের সচেতনতা অনেক বেশি জরুরি। কারণ আমরা যে ড্রেনেজ সিস্টেমগুলো করেছি সেগুলোতে প্রচুর পরিমাণ প্লাস্টিক এবং পলিথিন পাই। কোন কোন ড্রেনেজ থেকে ১ থেকে ২ ট্রাক পর্যন্ত প্লাস্টিক এবং পলিথিন পাওয়া যায়। আজকে সকালে গোড়ানের একটি ড্রেনে জাজিন পাওয়া গেছে। এই বিষয়গুলোই ড্রেন দিয়ে পানি সরে যেতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে।

শনিবার (১৩ জুলাই) বাংলা ইনসাইডারের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় মোঃ খায়রুল বাকের এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, আগে ড্রেনেজের দায়িত্ব ছিলো ঢাকা ওয়াসার। ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর সেটা ঢাকা উত্তর এবং দক্ষিণ দুই সিটি কর্পোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর থেকে আমরা স্বল্প এবং দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। এর মধ্যে যে সমস্ত জায়গাগুলো জলাবদ্ধ প্রবণ সেগুলোকে প্রথমে চিহ্নিত করেছি। এ রকম আমরা ১৬১টি স্থান চিহ্নিত করেছি। এর মধ্যে ১০৯ টি স্থানে জলাবদ্ধতা ইতোমধ্যে দূর হয়েছে। যেমন আজিমপুর, নটর ডেম কলেজের সামনে। তবে ঘূর্ণিঝাড় রেমাল বা মোখার ফলে যে বৃষ্টিপাত হয় সেক্ষেত্রে একটু জটিলতা তৈরি হয়। কারণ আমাদের ড্রেনেজগুলো এই বৃষ্টিপাতের উপযোগী নয়। 

যারা ড্রেনেজ সিস্টেম নষ্ট করে তাদের বিরুদ্ধে সিটি কর্পোরেশন কেন আইন ব্যবস্থা গ্রহণ করে না জানতে চাইলে মোঃ খায়রুল বাকের বলেন, আমাদের যথেষ্ট লোকবল নেই। এছাড়া এগুলো সারাক্ষণ পাহারা দিয়ে রাখার মতো আমাদের নিজস্ব কোন বাহিনী বা পুলিশ নেই। এখানে মানুষের সচেতনতাই মুখ্য। মানুষের সহযোগিতা ছাড়া শুধু সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে এর রক্ষণা বেক্ষণ করা সম্ভব নয়। 

তিনি বলেন, আগে ঢাকায় বৃষ্টি হলে সেই বৃষ্টির পানি সরতে ৪ থেকে ৫ দিন পর্যন্ত সময় লেগে যেত। কিন্তু এখন সেটা নেই। কোথাও কোথাও কিছুটা জলাবদ্ধতা তৈরি হলেও সেটা এখন ঘণ্টায় নেমে এসেছে। আমরা সেটাকে আরও কমিয়ে আনার জন্য কাজ করছি। গতকাল আমরা সারাদিন কাজ করেছি। আজকেও আমরা সকাল থেকে সবাই কাজ করছি।

গতকালের জলাবদ্ধতা দ্রুত কেন শেষ হলো না জানতে চাইলে মোঃ খায়রুল বাকের বলেন, ঢাকা শহরের বৃষ্টির পানি যে নদীগুলো নামবে এখন সেই সবগুলো নদী পানিতে ভরে গেছে। সেজন্য কালকের এই জলাবদ্ধা তৈরি হয়েছিল।

জলাবদ্ধতা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘কোটা ইস্যুতে আদালতের আদেশের জন্য অপেক্ষা করা উচিত’

প্রকাশ: ০৪:২৭ পিএম, ১১ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও চেয়ারম্যান, বায়ুমন্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস) অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেছেন, আমাদের দেশের শিক্ষার মানের উন্নয়নের জন্য গবেষণার দিকে আরও বেশি নজর দেয়া উচিত। বিশ্বের অন্যান্য উন্নত দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মতোই আমাদেরকে শিক্ষার গবেষনার মান বাড়ানোর দিকে নজর দেয়া উচিত। কিন্তু বর্তমানে শিক্ষাঙ্গনের নানা অস্থিরতা ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি থেকে নিরসনে অবশ্যই শিক্ষার্থীদের মধ্যে আরও সহনশীলতা বাড়ানোর জন্য আমাদের সকল সচেতন মহলকে কাজ করতে হবে। 
দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সাথে একান্ত আলাপচারিতা করেন ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার। 

চলমান আন্দোলন নিরসনে দ্রুত সমাধানের কথা উল্লেখ করে ড. আহমদ কামরুজ্জামান বলেন, আমরা তা না করে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অস্থিতিশীলতায় বাস করি। আন্দোলনের বিষয়টি নিয়ে আদালতের আদেশের জন্য অপেক্ষা করা উচিত।

দেশের শিক্ষার স্থিতিশীলতার বিষয়ে তিনি বলেন, ২০২২ সালে প্রকাশিত ইকোনোমিস্ট ইনটেলিজেন্স প্রকাশিত গ্লোবাল লায়েবিলিটি ইনডেক্সে বিশ্ব শিক্ষার স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন সংক্রান্ত প্রতিবেদনে আমাদের স্কোর ছিল ৫৫। অথচ সেখানে ২০২৩-২৪ এর রিপোর্টে দেখা যায় এ মান এসে দাঁড়িয়েছে ৫০। আমি মনে করি শিক্ষার মান বাড়াতে ছাত্র-শিক্ষকসহ সকলকেই অধিক মনোযোগী হওয়া দরকার। আর তাতেই একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত সফলতা আসবে। 


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘রাজশাহীর রাজনীতিতে গ্রুপিং নতুন নয়’

প্রকাশ: ০৩:৫৮ পিএম, ২৯ জুন, ২০২৪


Thumbnail

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম কামাল হোসেন বলেছেন, রাজশাহীর এই ভুল বোঝাবুঝি বা গ্রুপিং অনেক আগের। আমরা কয়েকবার বসার চেষ্টা করেছি। ভুল বোঝাবুঝির অবসানের উদ্যোগও নিয়েছিলাম। ব্যক্তিগত ভাবেও আমি সবার সাথে যোগাযোগ করে কয়েকবার বসার চেষ্টা করেছি। কিন্তু বসা হয়নি। সংসদ নির্বাচন, উপজেলা নির্বাচনের জন্য পরে আর বসা হয়নি। এর মধ্যে একটি দু:খজনক ঘটনা ঘটে গেল। বাঘার সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবুল অভ্যন্তরীণ কোন্দলে নিহত হলেন। এক সময় তিনি ছাত্ররাজনীতির সাথে জড়িত ছিল, ছাত্রলীগের রাজনীতি করতো। পরে বাঘা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। নিজেদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে সে মারা গেল, এটা দু:খজনক।

সম্প্রতি রাজশাহীর বাঘায় আওয়ামী লীগের দু পক্ষের সংঘর্ষ এবং পরবর্তীতে এক পক্ষ অন্য পক্ষকে হুমকি সহ সেখানকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সাথে একান্ত আলাপচারিতা করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন। উল্লেখ্য, কামাল হোসেন রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করছেন।

কামাল হোসেন বলেন, রাজশাহীর এই পুরো বিষয়টি আমি অবগত আছি। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটিতে আলোচনা করা হবে। দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সিদ্ধান্তে হবে সাংগঠনিক কি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমি এরই মধ্যে দলের পুরো রিপোর্ট সংগ্রহ করে রাখবো। দল চাইলে আমি সে রিপোর্ট জমা দিব। দলের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক আমাকে যেভাবে নিদের্শনা দিবেন আমি সেভাবে কাজ করবো।

তিনি আরও বলেন, এই মুহুর্তে আমি চেষ্টা করছি দুই পক্ষের সাথে আলোচনা করতে যাতে করে আর কোন সংঘাতের মতো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। এখানে আসলে আমার একার পক্ষে কোন কিছু করার সম্ভব না। কারণ এখানে একজন কেন্দ্রীয় নেতা আছেন যিনি প্রেসিডিয়াম সদস্য। পদাধিকারবলে তিনি আমার চেয়ে বড় এবং তিনি জাতীয় নেতা এ.এইচ.এম. কামারুজ্জামানের সন্তান। এখানে একটা পুরো টিম আছে। এখানে একজন  ‍যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আছেন, একজন প্রেসিডিয়ামের সদস্য আছেন। এছাড়াও কয়েকজন সদস্য আছেন। সুতরাং দল থেকে আমাকে যে নিদের্শনা দেওয়া হবে আমি আমার পুরো টিম বসে সেটি বাস্তবতায়ন করবো।


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন