ইনসাইড টক

‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচন হচ্ছে নির্বাচন-নির্বাচন খেলা’

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ১৫ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সাধারণ সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এই যে সহিংসতা আমরা দেখছি, মনোনয়ন বাণিজ্য দেখছি, এগুলো হলো রোগের উপসর্গ, রোগ নয়। আমার বিবেচনায় রোগ তিনটি। এর মধ্যে প্রথমটি হল আমাদের রাজনীতিতে সুবিধাবাদ। রাজনীতি হওয়া উচিত জনগণের কল্যাণের জন্য, জনস্বার্থে। কিন্তু আমাদের রাজনীতিটা হয়ে গিয়েছে ব্যক্তির স্বার্থে, গোষ্ঠীর স্বার্থে, দলের স্বার্থে। অর্থাৎ রাজনীতিতে মানুষ এখন যুক্ত হয় কিছু পাওয়ার জন্য। তাই রাজনৈতিক দলের পদ-পদবী পেলে কিংবা এইসব নির্বাচিত পদ-পদবী পেলে তারা রাতারাতি অর্থবিত্তের মালিক হয়। বিভিন্ন রকম অন্যায় করে পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়। এই পরিস্থিতি যতদিন থাকবে, অর্থাৎ রাজনীতি যদি আবারও জনকল্যাণমুখী না হয়, জনগণের স্বার্থে না হয়, ততদিন পর্যন্ত এই অসম প্রতিযোগিতা, মনোনয়ন বাণিজ্য, একে অপরকে নিশ্চিহ্ন করার, ল্যাঙ মারার, সহিংস আচরণ বিরাজ করতেই থাকবে। এটি হলো প্রথম রোগ। রাজনীতিকে কলুষিত মুক্ত করতে হবে, কল্যাণমুখী করতে হবে এবং রাজনীতিটা করতে হবে জনস্বার্থে, কিছু পাওয়ার জন্য নয়।

স্থানীয় নির্বাচনে সহিংসতা, নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা সহ বিভিন্ন বিষয়ে ড. বদিউল আলম মজুমদার বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। পাঠকদের জন্য ড. বদিউল আলম মজুমদার এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক অলিউল ইসলাম।

ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, দ্বিতীয় রোগটি হল আমাদের সবকিছু দলীয় হয়ে গেছে। প্রশাসন দলীয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দলীয়, আমাদের নির্বাচন কমিশন দলীয়। এর ফলে এই যে দলীয় ভিত্তিক নির্বাচন হচ্ছে, যারাই ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন পাচ্ছে, তাদের বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নিশ্চিত। এবং এরই প্রতিফলন ঘটছে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়া। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়া কিন্তু নির্বাচন নয়। এটা হচ্ছে নির্বাচন-নির্বাচন খেলা। নির্বাচন হলো বিকল্প বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকা। কিন্তু আমাদের নির্বাচনী ব্যবস্থাই ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। ফলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থী নির্বাচিত হয়ে যাচ্ছেন। আর তৃতীয় রোগটি হলো, আমাদের নির্বাচন কমিশন নির্বাসনে চলে গিয়েছে। বস্তুত নির্বাচন কমিশন তথা ইসি নির্বাচনকে `নির্বাসনে` নিয়ে গেছে। তারা যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হচ্ছে বলেই নির্বাচনে সহিংসতা বাড়ছে। ভোটের মাঠে প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নির্বাচন কমিশনের অধীনে। অথচ ইসি সেখানে পদক্ষেপ নিচ্ছে না। প্রার্থী বা রাজনৈতিক দল বুঝে গেছে- যত অন্যায়ই করুক না কেন, নির্বাচন কমিশন কিছু করতে পারবে না। ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা মনে করছেন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের পক্ষে। ফলে কেউ কোনো আইন বা রীতির তোয়াক্কা করছে না। তারা যে কোনো মূল্যে জয় পেতে চাইছে এবং সহিংসতায় জড়াতেও দ্বিধা করছে না।

ইসি মাহবুব তালুকদারের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ওনি তো সাহিত্যিক মানুষ। ওনি ওনার ভাষায় কথা বলেন এবং হয়তো পাঠকদের জন্য, শ্রোতাদের জন্য আকর্ষণীয় হবে ভেবে এই ভাষায় মন্তব্য করেছেন। আমি যে ভাষা ব্যবহার করেছি তা হল আমাদের নির্বাচনী ব্যবস্থা নির্বাসনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই নির্বাচন কমিশনের অকর্মণ্যতা, অদক্ষতা এবং পক্ষপাতদুষ্টটার কারণে হয়েছে। তো ওনি ওনার ভাষার কথা বলেছেন। আমাদের নির্বাচনী ব্যবস্থা তো ভেঙ্গে পড়েছে। আমাদের মধ্যরাতে ভোট হয়। আমাদের অন্যায় করে পার পাওয়া যায়। পাশাপাশি আমাদের নিকৃষ্ট যন্ত্র ইভিএম, যা নিরীক্ষণ করা যায় না, তা ব্যবহার করা হয়। 

নির্বাচন কমিশনার হিসেবে ওনার ভূমিকা কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওনাদের বিরুদ্ধে তো আমরা অভিযোগ করেছি। ওনারা চরমভাবে  ব্যর্থই নয় শুধু, চরম অসদাচরণও করেছে। তারা মধ্যরাতে ভোট নিয়েছেন। বিভিন্ন রকমের অন্যায় বিশেষ করে টকা-পয়সা লোপাট, দুর্নীতি করেছেন এবং সাফাই গেয়েছেন। তারা ট্যাক্স পেয়ারের টাকা ভাগ বাটোয়ারা করে দিয়েছেন। বৈশাখী টেলিভিশনে সাত-আট পর্বের একটি প্রোগ্রামও করেছে তাদের দুর্নীতি নিয়ে। শুধু তাই নয়, তাদের অন্যতম দুর্নীতি হল ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজে লাভবান হওয়া এবং অন্যকে লাভবান করা। তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে মধ্যরাতে ভোট করেছে। বিভিন্নভাবে ক্ষমতাসীনদেরকে অন্যায় করে পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। সেটাই তো সবচেয়ে বড় দুর্নীতি। সুতরাং তারা চরমভাবে ‍দুর্নীতিগ্রস্থ এবং তারা চরমভাবে ব্যর্থ। তারা আমাদের নির্বাচনী ব্যবস্থা ভেঙ্গে দিয়ে ধ্বংস করে দিয়েছে। আমি মনে করি আমরা মহা সংকটের মধ্যে আছি এবং এই সংকটটি আরো ঘনীভূত হবে। যেহেতু ক্ষমতায় যাওয়া মানে হল সুযোগ সুবিধা পাওয়া, অন্যায় করে পার পেয়ে যাওয়া, তাই ক্ষমতা ছাড়ার আর কোনো রকম আগ্রহ কারোরই নাই এবং থাকবেও না। এটি আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। তাই ক্ষমতায় থাকার জন্য ক্ষমতাসীনরা সবকিছুই করবে। যা আমাদের সবগুলো প্রতিষ্ঠানকে নিয়ম-কানুন, বিধি-বিধান সবকিছু ধ্বংস করে দিবে। পক্ষপাতদুষ্ট ব্যক্তিদেরকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দিবে এবং প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে যাবে।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘ফরিদ ‍উদ্দিন হয়তো দায় কাঁধে নিয়ে চলে আসতে চাচ্ছেন না’

প্রকাশ: ০৪:০২ পিএম, ২৬ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যলয়ে শিক্ষার্থীদের সাত দিন ধরে চলমান অনশন ভাঙ্গার প্রসঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেছেন, প্রথমত এটি একটি চরম স্বস্তির খবর। আমাদের শিক্ষার্থীরা যেভাবে তাদের জীবন-মরণ এবং উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগ, এ দুইটি বিষয়কে সমান করে দেখেছিল। অর্থাৎ তাদের জীবনের মূল্য হচ্ছে প্রফেসর ফরিদ উদ্দিনের পদত্যাগের সমান। এর থেকে যে শিক্ষার্থীরা বেরিয়ে আসতে পেরেছে, আমি মনে করি এটি একটি সফলতা। যারা যারা এ সংকট নিরসনে ভূমিকা রেখেছে বিশেষ করে ড. জাফর ইকবাল স্যারকে আমি ধন্যবাদ জানাই। বিশেষ করে তিনি সস্ত্রীক সিলেটে গিয়েছেন। তাদেরকে বুঝিয়েছেন। এ জন্য ওনার প্রতি আমাদের সকলের কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। 

ড. জাফর ইকবাল স্যারের অনুরোধে শাবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান অনশন ভাঙ্গা, শিক্ষর্থীদের আন্দোলনসহ নানা বিষয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক অলিউল ইসলাম।

অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, জাফর ইকবাল স্যার তো আর সরকারের সাথে যোগাযোগ না করে সিলেটে যান নাই। অবশ্যই তিনি সরকারের সঙ্গে সলাপরামর্শ করে সেখানে গিয়েছেন। আমাদের শিক্ষামন্ত্রীর সাথে জাফর ইকবাল স্যারের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর সাথেও স্যারের যোগাযোগ আছে। ফলে সরকারের তরফ থেকে ইশারা পেয়েই তিনি এটা করেছেন। 

তিনি বলেন, এখন যেসব সমস্যা আছে, তা সমাধান করতে হবে। এখন যেহেতু অনশন ভেঙ্গে গেছে, আমি মনে করি প্রফেসর ফরিদ উদ্দিনের দিক থেকে একটা কাজ করা দরকার। সেটি হলো একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত বা উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত করে পুরো ঘটনার জন্য কে বা কারা দায়ী, তা চিহ্নিত করা। উনি যদি বলেন আমি দায়ী হলেও চলে যাবো, নির্দোষ হলেও থাকবো না, কিন্তু একটি তদন্ত করা দরকার, তাহলে পরে ভবিষ্যতে এটি নিয়ে আর কোনো বিতর্ক থাকবে না। 

ভিসি ফরিদ ‍উদ্দিনের পদত্যাগ বিষয়ে অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, ভিসি ফরিদ উদ্দিন সম্পর্কে আমার মূল্যায়ন হচ্ছে, একটা পর্যায়ে হয়তো উনি নিজেই শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকতে চাইবেন না। উনি হয়তো বদনাম বা দায় কাঁধে নিয়ে চলে আসতে চাইছেন না। সেই জন্যই হয়তো এখন পর্যন্ত তিনি পদত্যাগ করেননি। কেননা উনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন তিনবার ডীন ছিলেন, শিক্ষক সমিতির সভাপতি ছিলেন, ফেডারেশনের সভাপতি ছিলেন। এমনকি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার বিষয়টিও উনার তদারকিতে হয়েছিল। আমি যখন জগন্নাথ থেকে চলে আসলাম, তখন তিনি একা পুরো জিনিসটিকে গুছিয়ে এনেছেন এবং করেছেন। তিনি দক্ষতার সাথে ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়কে সমন্বয় করে বলতে গেলে এক হাতে পুরো ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন। গুচ্ছ পরীক্ষার সব কৃতিত্ব উনার। প্রশ্নের গোপনীয়তা মেইন্টিন করা, পরীক্ষার গুণগত মান মেনন্টেইন করা, ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্ব দেওয়া, এই বিষয়গুলোতে তার অসাধারণ দক্ষতা আছে। 

শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের করা সংবাদ সম্মেলনটি দেখেছি। ছাত্রদের অভিযোগ টংঘর উঠিয়ে দিয়েছে। আবার আমি শুনেছি টংঘরে বিভিন্ন সময় মাদক পাওয়া গেছে, এটা,সেটা অনেক কিছু। তারপর ভিসি নাকি আল্পনা আঁকতে দেয়নি। পরে শিক্ষার্থীদের অনেক কষ্ট করে আল্পনা আঁকতে হয়েছে। এগুলো হচ্ছে ভিসির বিরুদ্ধে অভিযোগ। কেউ কিন্তু বলতে পারেনি যে, তিনি স্বজনপ্রীতি করেছেন, নিয়োগে দুর্নীতি করেছেন কিংবা প্রকল্পর টাকা মেরে খেয়েছেন, যেগুলো আমরা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখেছি। এমনকি যারা আন্দোলন করছেন, তারাও এ ধরণের কথা বলেনি। ফলে তার যোগ্যতা ও কমিটমেন্ট নিয়ে আমি দ্বিধান্বিত নই। 

অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, শাহজালালে ঘটনা যেটি হয়েছে, তা একটি হল কেন্দ্রিক। একটি হলের সমস্যা সমাধানে প্রভোস্ট অপারগতা প্রকাশ করেছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হয়েছে। প্রশাসন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারতো। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হলেই তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেকগুলো ‍গ্রুপ থাকে। শিক্ষক থাকে, শিক্ষক সমিতি থাকে, শিক্ষার্থী থাকে। এগুলোকে ম্যানেজ করেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়। ছাত্ররা এক দুই দিন সময় দিলে হয়তো এটি ম্যানেজ হয়েও যেতো। কিন্তু এর ভেতরে ক্যাম্পাসে পুলিশের প্রবেশ ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করাতে বিষয়টি উল্টো দিকে ঘুরে যায়। তবে এখানে বলা উচিত  যে পুলিশের হামলার আগে ও পরে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা লাঞ্ছিত করেছে। শিক্ষকদের দৌড়ানি দেয়া হয়েছে। রুমে তালাবন্দি করা হয়েছে। ইট মারা হয়েছে। এখন এগুলো কোনটা আগে হয়েছে আর কোনটা পরে হয়েছে তা জানতে তদন্ত হওয়া দরকার। পুলিশ আগে আক্রমণ করলো নাকি শিক্ষার্থীরা আগে আক্রমণ করেছে, এগুলো নিয়ে বিতর্ক আছে। কিন্তু সেখানে তো সিসিটিভি আছে। ফলে আমি চাই একটি তদন্ত হোক। 

তিনি বলেন,  ফরিদ ‍উদ্দিনের দোষ হিসেবে আন্দোলনকারীরা যা বলছে, তা হলো ক্যাম্পাসে পুলিশ আক্রমণ করেছে। এখন পুলিশ যে আক্রমণ করলো, তা কোন ঘটনার প্রেক্ষিতে আক্রমণ করলো, তা কিন্তু আমরা জানি না। পুলিশের আক্রমণে ফরিদ উদ্দিনের কি ভূমিকা ছিল? ফরিদ ‍উদ্দিনকে তো তার রুমে আটকিয়ে তালা মেরে রাখা হয়েছিল। এখন ফরিদ উদ্দিনিই কি পুলিশ ডেকে নিয়ে এসেছে এবং আক্রমণ করতে নির্দেশ দিয়েছে? আমার তো মনে হয় না। পরবর্তীতে আন্দোলনের সাথে তো দেখলাম ভিন্ন স্বার্থগোষ্ঠী জড়িয়ে গেছে।  

জাফর ইকবাল স্যারকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা বিষয়টিকে সিরিয়াস পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাচ্ছিল। তারা নিজেদের জীবনের সাথে ভিসির পদত্যাগকে সমান করে জীবন ঝুঁকি নিয়ে নিয়েছিল। একজন ভিসির পদত্যাগের সাথে যদি শিক্ষার্থীরা নিজের জীবনের মূল্য সমান করে ফেলে, তখন বিষয়টি মারাত্মক বলেই ধরে নেওয়া যায়। এখন পরিস্থিতি ঠাণ্ডা হচ্ছে। বাদবাকি যে বিষয়গুলোতে ঘাটতি আছে, তা আশু সমাধান করে ফেলা। আর ভিসি ফরিদ উদ্দিনের উচিত একটা নিরপেক্ষ তদন্ত করা। আর ভিসি ফরিদ উদ্দিন শাবিপ্রবিতে আর থাকবে বলে মনে হয় না।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যলয়   ছাত্র আন্দোলন   শাবিপ্রবি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘৬০ শতাংশ লিংক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বন্ধ করা হয়েছে’

প্রকাশ: ০৪:০১ পিএম, ২৫ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, অপপ্রচারটা যেখানে হচ্ছে সেটিকে আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বলি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো বাংলাদেশে তৈরি না, এগুলো হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে মাধ্যম সেই মাধ্যমগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতি, তাদের যে পলিসি সেগুলোর উপর ভিত্তি করেই পরিচালিত হয়। সেই কারণে শুধু বাংলাদেশ না, সকল দেশের জন্যই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম একটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে কাজ করে। শুধুমাত্র অপপ্রচার, মিথ্যা তথ্য দেয়া কিংবা মানহানিকর বিষয় না। এটি রাষ্ট্রবিরোধী কাজে যুক্ত থাকে, সন্ত্রাসে যুক্ত থাকে এবং সাম্প্রদায়িকতা তৈরিতে ভূমিকা পালন করে। এসব নিয়ন্ত্রণের জন্য আমাদের আইনি অবকাঠামো ছিলো না। যেটা ছিলো তা হলো আইসিটি অ্যাক্ট-২০০৬, যেটা ২০১৩ সালে সংশোধিত হয়। এর মধ্যে বহুল আলোচিত কয়েকটি ধারা যেমন- ৫৭ ধারা, ৫৪ ধারা যুক্ত করা ছিলো।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশবিরোধী অপপ্রচার, অপপ্রচার রোধে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক মাহমুদুল হাসান তুহিন।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, ২০১৩ সালে যখন হেফাজতের কর্মকাণ্ড গুলো হয় তখন তাৎক্ষণিকভাবে মোকাবেলা করার জন্য সংশোধন করা হয়। বস্তুতপক্ষে এটা ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্য টার্গেট করাও ছিলো না। ২০১৮ সালে আমি দায়িত্ব নেয়ার পরপরই আমি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করি। এই আইনে আইনি কাঠামোটা দেয়া হয়েছে। আইনি কাঠামোর যেটা সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে এটি তো বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য, বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য। কিন্তু যে প্লাটফর্মটা আমাদের না সেই প্লাটফর্ম তো আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনা।

অপপ্রচার রোধে দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছেনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের দিক থেকে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না তথ্যটি সঠিক নয়। আমাদের দিক থেকে পদক্ষেপ নিয়ে আমরা একবার ফেসবুক বন্ধও করেছিলাম। বন্ধ করে দেয়ার পর ১৫ দিনের বেশি এটা বন্ধ ছিলো। আমরা মনে করি, বন্ধ করাটা সমাধান নয়। কারণ, মাথা ব্যথার জন্য মাথা কেটে ফেলে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে না। ওষুধ খেয়ে এটাকে সারাতে হবে। ২০১৮ সাল পর্যন্ত ফেসবুক-ইউটিউবের সাথে আমাদের কোন যোগাযোগই ছিলো না। আমি এসে তাদের সাথে যোগাযোগ করি, তাদের সাথে বৈঠক করি। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতেই প্রথম এদের উচ্চপর্যায়ের আমেরিকান কর্মকর্তাদের সাথে বার্সেলোনায় বৈঠক করি।

তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত নিয়মিত প্রায় তিন মাস পরপর আমরা একটা করে অফিসিয়াল মিটিং করি। কখনো ভার্চুয়ালি করি, কখনো ফিজিক্যালি করি। তাদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হচ্ছে না এটা একেবারেই ভুল তথ্য। আমরা এখন সবকয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করি। তাদেরকে প্রতিদিন শত শত লিংক পাঠাই। এই লিংকের মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় শতকরা ৬০ শতাংশ লিংক ওরা বন্ধ করেছে। এটা আমাদের জিরো ছিলো। আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় এসে জিরো থেকে ৬০ ভাগ পর্যন্ত আমরা আনতে পেরেছি। তারা আমাদের বাংলাদেশের জন্য এখন একজন প্রতিনিধিও দিয়েছেন একজন বাংলাদেশী নাগরিককে। তারা আমাদের সাথে প্রায় প্রতিদিনিই যোগাযোগ করি।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, আমরা ইউটিউব, গুগল, টিকটকসহ সকলের সাথে কথা বলেছি। এইটুকু আমি বলতে পারি, ২০১৮ সালে যে ভয়ঙ্কর অবস্থায় ছিলাম তার চাইতে অনেক ভালো এখন। আমরা এরইমধ্যে আমাদের নিজস্ব সক্ষমতা তৈরি করেছি। কোন ওয়েবসাইট যদি ক্ষতিকর কিছু করে, অনিবন্ধিত হয়, বেআইনি হয়, সেগুলোকে আমরা বন্ধ করে দিতে পারি। ইতোমধ্যে আমরা ২২ হাজার  পর্নো সাইট বন্ধ করেছি, ৬ হাজার জুয়ার সাইট বন্ধ করেছি এবং অনিবন্ধিত সাইট বন্ধ করেছি।

মোস্তাফা জব্বার  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘ইসি গঠনে অতীতে যা হয়েছে, এবারও তাই হবে’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ২৪ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

নির্বাচন কমিশন গঠন আইন প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সাধারণ সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, সরকার অতীতে যা করেছে, এখন আইনের মোড়কে সব জায়েজ করে নিচ্ছে। তখন সংসদে পাস করে নাই, এখন পাস করে নিচ্ছে। ফলে অতীতে যা হয়েছে, এবারও তাই হবে। সরকার নিজের অনুগতদের অতীতে যেমন নিয়োগ দিয়েছে, এখনও তাই করবে। 

নির্বাচন কমিশন আইন, রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান, শাবিপ্রবিতে চলমান আন্দোলনসহসহ বিভিন্ন বিষয়ে ড. বদিউল আলম মজুমদার বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। পাঠকদের জন্য ড. বদিউল আলম মজুমদার এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক অলিউল ইসলাম।

ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নির্বাচন কমিশন আইনের নামে যা হতে চলেছে, তাতে কোনো ধরণের স্বচ্ছতা নেই। স্বচ্ছ পদ্ধতিতে যদি নিয়োগ দেওয়া হতো, তাহলে নূরুল হুদা কিংবা রকিব উদ্দিনরা নিয়োগ পেতো না। ওনারা নির্বাচন কমিশনে এসে সরকারের কাছ থেকে সুবিধা নিয়েছেন। নানাবিধ দুর্নীতির কারণে ওনাদের বিরুদ্ধে অতীতে অনেক প্রশ্ন ‍উঠতো। ফলে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে স্বচ্ছতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

ইসি গঠন আইন নিয়ে রাজনীতির মাঠ উত্তপ্ত হবে কিনা, জানতে চাইলে ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, দেশে আন্দোলনও হবে না, রাজনীতির মাঠও উত্তপ্ত হবে না। আন্দোলনের কলকাঠি নাড়ে আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাদের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ তো বাংলাদেশের কারও কাছে অজানা নয়। তাদের পক্ষপাতদুষ্টতা বাংলাদেশের রাজনীতিকে অত্যন্ত ভয়ানকভাবে প্রভাবিত করেছে। 

শাবিপ্রবির চলমান আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি বিষয়টি সম্বন্ধে সরাসরি খোঁজ-খবর নিতে পারিনি কিন্তু বিষয়টি সমাধান হওয়া দরকার। আমরা অনুগতদেরকে সবসময় ভিসি বানাই। তাদেরকে ফায়দা হিসেবেই এসকল পদে নিয়োগ করি। ফায়দার ভিত্তিতে নিয়োগের কারণে আমরা সম্মানিত স্থানে সম্মানিত ব্যক্তিদের পাই না। ভিসির যদি সম্মান থাক তো, তাহলে তো অনেক আগেই সড়ে যেতো। ছাত্রছাত্রীরা যখন চায় না, তখন একজন ভিসি স্বপদে বহাল থাকে কিভাবে? কিন্তু ভিসি পদ মানেই তো এখন ফায়দা, সুযোগ-সুবিধা। এটার অবসান হওয়া দরকার। শিক্ষার্থীরা অনশনে আছেন, তাদের অনশন ভাঙ্গানো জরুরি।

ইসি গঠন আইন   সংসদ   শাবিপ্রবি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘ভিসি থাকাকালীন ১৭ ঘণ্টা অবরুদ্ধ ছিলাম, কিন্তু পুলিশ ডাকিনি’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ২৩ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান আন্দোলন প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেছেন, শাহজালালে যে অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছে, সেটি তো কারও কাম্য নয়। আমি যেটা খবর নিয়ে শুনেছি ও মিডিয়াতে দেখে বুঝেছি তা হলো ছোট একটি বিষয় দিয়ে ঘটনাটির শুরু। একটি ছাত্রী হলে সমস্যা হয়েছে। প্রভোস্ট তাদের সাথে ওই সময় কথা বলেনি এবং শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে অসদাচরণ করেছে। কিন্তু একজন প্রভোস্ট একটি হলের শুধু প্রাধ্যক্ষই নন, অভিভাবকও বটে। সেটা ছাত্রী হল হোক আর ছাত্র হল হোক। ছাত্রীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রভোস্ট প্রায়শই তাদের সাথে অসদাচরণ করেন।

শাবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীদের অনশন, শিক্ষামন্ত্রীর বৈঠক, ৩৪ জন ভিসির একযোগে পদত্যাগের হুমকিসহ নানা বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা বলেছেন অধ্যাপক আবদুল মান্নান। পাঠকদের জন্য অধ্যাপক আবদুল মান্নান এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক অলিউল ইসলাম।

অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, আমি মনে করি, শিক্ষকতা পেশা অন্যসব পেশার মতো নয়। শিক্ষকতা পেশায় আসতে হলে অনেক জিনিস সম্পর্কে অনেক বেশি সচেতন হতে হয়। পাশাপাশি সংবেদনশীল ও সহনশীল হতে হয়। কারণ ছাত্ররা বিভিন্ন জায়গা থেকে আসে, বিভিন্ন পরিবেশ, পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসে। ফলে সবার আচার আচরণ এক হবে, তা তো না। সেটা মেনে নিয়েই আমাদেরকে শিক্ষক হতে হবে, প্রাধ্যাক্ষ হতে হবে, ডীন হতে হবে, ভিসি হতে হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত অনেক সময় কোনো কোনো ক্ষেত্রে শিক্ষকদের মধ্যে ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়। 

তিনি বলেন, যারা গতকাল ছাত্র ছিল, তারাই আজকে শিক্ষক হবে, প্রশাসনিক দায়িত্ব পাবে। এটি সাধারণ নিয়ম। কিন্তু কিছুদিন আগে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে যুবতী মহিলা শিক্ষক ছাত্রদের চুল কেটে দিচ্ছিল। এটা আমার কাছে একেবারেই শুধু অপ্রত্যাশিত না,  অবাক করা বিষয়ও ছিল। একজন শিক্ষক কেন ছাত্রদের চুল কেটে দিবে? উনি হয়তো ভালোভাবে সর্বোচ্চ বলতে পারতো একটু ভদ্রভাবে চুল কেটে আসো। এটাতো ওই ভদ্রমহিলাকে কেউ শিখিয়ে দেবে না। এটাতো ওনার নিজেরই জানার কথা। ছাত্ররা তো বাচ্চা না, ওরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। এখন সিলেটে যেটা হয়েছে আমি মনে করি, শুরুতেই এটি শেষ হয়ে যাওয়া উচিত ছিল। অভিযোগের আঙ্গুল প্রাধ্যক্ষ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখা দরকার ছিল। ছাত্রদের অভিযোগ আমলে নিয়ে সেটি তদন্ত করে যেভাবেই হোক, এটি সুরাহা করা উচিত ছিল। কিন্তু আমি মনে করি পরবর্তীকালে পুলিশের অতিমাত্রায় উৎসাহী হওয়া ও তাদের হস্তক্ষেপ জিনিসটাকে ঘোলাটে করেছে। 

তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পাসের ছাত্ররা অসন্তোষ হতে পারে। তারা ভিসির বাসভবন ঘেরাও করতে পারে। আমাদের দেশে এটা অতীতেও ঘটেছে। এমনকি আমি নিজেও ভিসি থাকাকালীন একবার ১৭ ঘণ্টা অবরুদ্ধ ছিলাম। কই, আমি তো পুলিশ ডাকিনি। আমার ৪৯ বছর শিক্ষকতা চলছে। আমি জীবনে এগুলো অনেক দেখেছি। কিন্তু সিলেটে যা হলো, পুলিশ জল কামান, সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার, শটগান ব্যবহার করেছে। এগুলো কেন ব্যবহার করতে হবে? শিক্ষার্থীরা কি বাইরের কেউ ছিল? পুলিশের এ আচরণ একেবারেই মেনে নেওয়া যায় না। যদিও উপাচার্য বলেছে উনি পুলিশ ডাকেননি। তাহলে পুলিশ ডাকলো কে? পুলিশের এ ধরণের আচরণের জন্য আমি বলবো পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে গেছে।

আবদুল মান্নান বলেন, এখন প্রাধ্যক্ষ বা প্রভোস্ট পদত্যাগ করেছেন। ছাত্ররা ভিসির পদত্যাগের দাবিতে অনশন করছে। কিন্তু আমি মনে করি, উপাচার্যের পদত্যাগ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। এর আগেও শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় ঘেরাও হয়েছে। ভিসির বাসভবনে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়েই উপাচার্য বিরোধী প্রতিবাদ, সভা-সমাবেশ হয়েছে। এমনকি আট-দশজন উপাচার্য বিভিন্ন সময় পদত্যাগও করেছেন। কিন্তু তাতে কি ওইসব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সমস্যা সমাধান হয়েছে? আজকে একজন পদত্যাগ করলে কালকে আরেকজন আসবে। উনি কি নিশ্চয়তা দিয়ে বলতে পারবেন এসব হবে না। আমি মনে করি আমাদের আলোচনা করে সমস্যা সমাধান করা উচিত। অন্যথায় এ ধরণের আন্দোলনে তৃতীয়পক্ষ ঢুকে যেতে পারে।   

শিক্ষামন্ত্রীর সাথে শিক্ষার্থীদের বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একজন শিক্ষামন্ত্রী যখন ছাত্রদের সাথে বৈঠকে বসতে চায়, আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজে, তখন আমার মনে হয় সৌজন্যতাবোধ থেকে হলেও শিক্ষার্থীদের তার কথা শুনা ও তার সাথে সমস্যা নিয়ে কথা উচিত। 

৩৪ জন ভিসির একযুগে পদত্যাগের হুমকির বিষয়ে তিনি বলেন, আমি খবরে দেখেছি ৩৪জন ভিসি একযুগে পদত্যাগের কথা বলেছেন। আসলে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরণের ঘটনা ঘটবেই। ভারতে এধরণের একাধিক ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু উপাচার্যের পদত্যাগের দাবি আমার জানা মতে ঘটেনি। যেকোনো সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করাই সহজ ও শ্রেয়। যদি যুদ্ধের ময়দানে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করা যায়, এখানে যাবে না কেন?

শাবিপ্রবি   শিক্ষার্থীদের অনশন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘অথর্ব সুশীল সমাজ বললেই কি, আর না বললেই কি’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ২২ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

ইসি গঠনে আইনের বিষয়ে বিএনপির সাবেক সাংসদ মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন বলেছেন, ইসি গঠনের আইনটি প্রকাশ না করার কারণে পুরোপরি জানি না। এখন আইন দেখে কথা বলতে হবে। আইনে তো অবশ্যই এই কথা বলবে না যে, বিরোধী দল প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেবে। আইনে বলা হবে রাষ্ট্রপতি সার্চ কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচন কমিশন গঠন করে দেবে। আইন না হলেও এটিই হতো। তাহলে আইন করে লাভ কি?

ইসি গঠনে আইন, আগামী জাতীয় নির্বাচন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক অলিউল ইসলাম।

মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন বলেন, রাষ্ট্রপতি যেটা ভালো মনে করবে, সেটাই হবে। আর রাষ্ট্রপতির যেকোনো কাজ করতে হলো প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশ লাগবে। প্রধানমন্ত্রী যদি বলে মেজর আখতারকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বানাতে হবে, তাহলে রাষ্ট্রপতি মেজর আখতারকেই নিয়োগ দেবে। সংবিধান অনুযায়ী এটাই হওয়ার কথা। এর বাইরে রাষ্ট্রপতির ইসি গঠনের কোনো সুযোগ নেই। প্রধানমন্ত্রী যাকে ইসি বানাবে, সেই ইসি হবে। এখানে আইন করলেই কি, আর বেআইন করলেই কি!

আগামী জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সুশীল সমাজের অনেকেই বলে ২০১৪ সাল বা ২০১৮ সালের নির্বাচনের মতো আগামী নির্বাচন হবে না। কিন্তু তাদের কথায় তো কিছু হবে না। বাংলাদেশ সরকার কি বলে, সেটিই হলো ভাষ্য। এর বাইরে সুশীল বলেন, কুশীল বলেন, তাদের তো ক্ষমতা নাই। ২০১৪ বা ২০১৮ সালের নির্বাচনের সুষ্ঠতা নিয়ে নির্বাচন কমিশন তো কিছু বলেনি। তারা বলছে ভোট সুষ্ঠু হয়েছে। সরকারও বলে নাই। আমি আপনে মনের দু:খে বলে তো কোনো লাভ নাই। যা হওয়ার তাই হবে। অর্থহীন-অথর্ব সুশীল সমাজ বললেই কি, আর না বললেই কি?

তিনি আরও বলেন, একটি নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় থেকে জনগণের করের পয়সায় বেতন-ভাতা নিয়ে পাঁচ বছর কাটিয়ে দিয়ে আবারও পাঁচ বছর কাটাচ্ছে। আর তারা এতদিনে এসেছে ভোট সুষ্ঠু হয়নি বলতে। এই সমস্ত সুশীল সমাজের জন্যই তো আজকে সমাজ, রাষ্ট্র কাজ করতে পারছে না। কারণ এইসব সুশীলরা ডাকাতকে মারলে বলে বিচারবহির্ভূত হত্যা। কিন্তু এই ডাকাত যে আমার সব কিছু চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে, আমার স্বাধীনতা হরণ করছে, তা নিয়ে কিছু বলবে না। এই হলো সুশীলের চরিত্র।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন বলেন, দুর্নীতির দায়ে যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আমার সাত কর্মকর্তাকে নিষেধাজ্ঞা করতে পারে, আওয়ামী লীগ সরকারকে নিষেধাজ্ঞার ভয় দেখাতে পারে, তাহলে তো বিএনপির এ টু জেড, সবাইকেই নিষেধাজ্ঞা দিতে হবে। বিএনপির নেতারা তো ইতোমধ্যে দুর্নীতির দায়ে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত। ফলে যুক্তরাষ্ট্র কি বিএনপির বেলায় মাফ করে দেবে? এটা তো সম্ভব না। ওরা ওদের স্বার্থে কাজ করবে। আমাদের স্বার্থটা আমাদেরই দেখতে হবে।

ইসি গঠন   রাষ্ট্রপতি   মার্কিন নিষেধাজ্ঞা  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন