ইনসাইড টক

‘আমেরিকার আমন্ত্রণ না পাওয়াটা বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদ’

প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ২৬ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, বাইডেনের গণতন্ত্র সম্মেলন দুটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রথমটি হলো এটা স্পষ্টতই বুঝা যাচ্ছে যে,  চীনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দেশকে একাত্ম করতেই এ সম্মেলন ডেকেছেন বাইডেন। এটার মধ্যে একটি রাজনীতি আছে, গণতন্ত্র কতখানি আছে, তা বলা মুশকিল। কারণ এটা স্পষ্টতই বুঝা যাচ্ছে যে চীনের বিরুদ্ধে দাঁড়াবার একটি প্রচেষ্টা করছে বাইডেন প্রশাসন। ফলে সেখানে আমরা কেন জড়িত হব? বরং আমন্ত্রণ পেলে আমরা যাবো কি যাবো না প্রশ্নে ঝামেলা হতো। কেননা এটি চীনের বিরুদ্ধে একটি নতুন জিনিস দাঁড় করানো হচ্ছে।

বাইডেনের গণতন্ত্র সম্মেলন সহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক অলিউল ইসলাম।

দ্বিতীয়টি হলো যারা দাওয়াত পেয়েছে তাদের দেশের গণতন্ত্র এমনকি খোদ আমেরিকার নিজের গণতন্ত্র যে নড়বড়ে, এটা বলার তো আর অপেক্ষা রাখে না। ফলে যুক্তরাষ্ট্র কেন বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানালো না সেটা তারাই ভালো বলতে পারবে। যেখানে পাকিস্তান, ফিলিপিন, এমনকি নরেন্দ্র মোদির ভারতকেও যদি গণতান্ত্রিক বলা হয়, তাহলে তো আমাদের কিছু বলার বা করার নেই। যেহেতু রাজনীতির একটি অংশ হিসেবে আমেরিকা এটা করছে, আর আমাদের সাথে চীনের একটি ভালো সম্পর্ক, সেখানে আমরা কখনোই অন্য দেশের হয়ে আরেকটা দেশের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারি না এবং আমরা কখনো দাঁড়াইনি। সেই জায়গায় আমি মনে করি,  আমন্ত্রণ না পাওয়াটা বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদ।

বাংলাদেশে গণতন্ত্রের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র বাংলাদেশের মানুষের উপই ছেড়ে দিতে হবে। এটা বাংলাদেশের জনগণের বিষয়। এটা অন্য দেশ এসে এই জিনিসটা সেইভাবে করার কোনো সুযোগ নেই। এটা আমরা বহুবারই দেখেছি এবং আমরা দেখেছি যে, গত ২০ বছরে আমেরিকা আফগানিস্তানে যে ধরণের গণতন্ত্র চর্চা করেছে, সেটাও আমরা দেখেছি। আমেরিকা বিগত ২০ বছরে আফগানিস্তানে আগ্রাসন চালিয়ে উপনিবেশবাদ চালু করেছে। যে দেশ ভিয়েতনামকে তছনছ করে দিল, যে দেশ একাধিক যুদ্ধে বিভিন্ন দেশে যখন-তখন যুদ্ধ করে যাচ্ছে, সেই দেশকে যদি গণতান্ত্রিক বলা হয়, তাহলে স্বাভাবিক ভাবেই আমি বলবো যে, আমার জানা সংজ্ঞা অনুযায়ী আমেরিকা দেশ ‍হিসেবে গণতান্ত্রিক হতে পারে না। অন্যরা যদি বলে থাকে, বলতে পারে। এটাকে যদি কেউ গণতন্ত্র বলে, সেটাতে আমার আপত্তি আছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সমালোচনা যদি করতে হয়, তাহলে বাংলাদেশ কেন্দ্রিক সমালোচনা করাই ভাল। আমেরিকাকে বলার দরকার নেই। যে দেশ ২০ বছর ধরে আফগানিস্তানকে তছনছ করলো, তার আগে ভিয়েতনামকে তছনছ করলো, ইরাক তছনছ করলো, ইরানে চেষ্টা করেছিল। সেই দেশের গণতন্ত্রকে যদি কেউ গণতন্ত্র বলে, তাহলে আমি তাদেরকে বলবো যে, গণতন্ত্র সম্পর্কে আরও একটু ভালোভাবে জানতে। আমেরিকা নিজে বলে বেড়াচ্ছে গণতন্ত্র, নির্বাচন। কিন্তু হিটলারও তো নির্বাচিত ছিল, মোসেলিনিও নির্বাচন করেই এসেছিল। তাই আমার মনে হয়, আমাদের যে ঘাটতি, তা আমাদের উপরই ছেড়ে দেওয়া উচিত। আমাদের জনগণের উপর ছেড়ে দেওয়া উচিত। সেটা আমেরিকা ব্যাখ্যা করবে, আমি তা মানতে রাজি না।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্বাভাবিক ভাবেই বলবে যে, আমাদের থেকে দুর্বল গণতান্ত্রিক দেশগুলোকে ডাকা হয়েছে। আবার ঐ দিকে শ্রীলঙ্কাকে ডাকা হয়নি কেন, এটাও কেউ বুঝলো না। শ্রীলঙ্কায় মহেন্দ্র রাজা পাকশে তো নির্বাচিত হয়েই ক্ষমতায় এসেছে। আমি ধরে নিলাম, যে আমাদের দেশে নির্বাচন নিয়ে সমস্যা আছে। কিন্তু রাজা পাকশে যে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে, সে নির্বাচন নিয়ে তো সেই ধরণের কোনো সমালোচনা ছিল না। বিরোধী পক্ষও সংসদ বয়কট করেনি। সেখানে বুঝাই যাচ্ছে, শ্রীলঙ্কার সাথে চীনের একটি ভালো সম্পর্ক থাকার কারণে আমন্ত্রণ পায়নি। অন্যকথায় এটা চীন বিরোধী একটি সম্মেলন। শেষপর্যন্ত কয়টা দেশ এই সামিটে যাবে, কোন লেভেলে যাবে, সেটাও দেখা দরকার। আমার মনে হয় না এটা খুব একটা গ্রহণযোগ্যতা পাবে এমনিতেই।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘চোখ ওঠলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া চোখে ওষুধ ব্যবহার না করাই উত্তম’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail ‘চোখ ওঠলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া চোখে ওষুধ ব্যবহার না করাই উত্তম’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা: দীন মোহাম্মদ নুরুল হক বলেছেন, চোখ ওঠলে চোখ লাল হয়ে তখন চোখের পাতা ফুলে যায়। চোখের ভেতর তখন অস্বস্ত্বিকর লাগে। লাইটের দিকে তাকানো যায় না। লাইটের আলো সহ্য করা যায় না। কাজ করতে অসুবিধা হয়। দৃষ্টি শক্তি কিছুটা ঝাপসা হতে পারে। বেশির ভাগ সময় দুই চোখ লাল হতে দেখা যায়। তবে এক চোখেও হতে পারে। চোখে পুঁজের মতো জমা হয়, ঘুম থেকে উঠলে অনেক সময় চোখের পাতা লেগে থাকতে দেখা যায় এবং চোখ থেকে পানি ঝরে। চোখ জ্বালাপোড়া করে। চোখে খচখচ ভাব, অস্বস্তি হয়। হালকা ব্যথা ও ফটোফোবিয়া বা রোদে তাকাতে অসুবিধা হতে পারে। চোখ উঠলে সাধারণ এই গুলো হয়। এটা কোনটা ভাইরাসের জন্য, কোনটা ব্যাকটেরিয়ার জন্য হয়। আবার কোনটা ফাংগাসের জন্য হয়। 

সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘরে ঘরে চোখ ওঠা বা কনজাংটিভাইটিস নামের সমস্যার কথা শুনা যাচ্ছে। এটি একটি ভাইরাসজনিত সমস্যা। চোখ ওঠলে এর চিকিৎসা এবং সর্তকতাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় অধ্যাপক ডা: দীন মোহাম্মদ নুরুল হক এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য অধ্যাপক ডা: দীন মোহাম্মদ নুরুল হক এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক সূচনা।

অধ্যাপক ডা: দীন মোহাম্মদ নুরুল হক  বলেন, ভাইরাস সাধারণত মহামারি হিসেবে আসে। চোখের বেলায় ভাইরাস একজনের চোখের থেকে আরেকজনের চোখে এটা ছড়াতে থাকে। বিশেষ করে হ্যান্ডশেক করার মধ্য দিয়ে। দুইজন ব্যক্তি একই বস্তু স্পর্শ করলে সেখান থেকে ছড়ায়। অর্থাৎ আক্রান্ত ব্যক্তি যদি কোন কিছু স্পর্শ করে এবং পরে সেখানে কেউ স্পর্শ করে তাহলে এভাবে সবার মধ্যে ছড়াতে থাকে। দেখা যাচ্ছে স্কুলে কোনো বাচ্চার হলে পরে সবারই হচ্ছে। আস্তে আস্তে এটা ব্যাপকভাবে ছড়াতে থাকে। এটা হয় ভাইরাসের বেলায়।

তিনি বলেন, সাধারণ চোখ ওঠা এক থেকে তিন সপ্তাহে সেরে যায়। ঠান্ডা বা সর্দির মতো উপসর্গ থাকলে কেবল অ্যান্টিহিস্টামিন সেবনই যথেষ্ট। অ্যান্টিবায়োটিক ড্রপ ডোজ মেনে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে চক্ষুবিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া চোখে ওষুধ ব্যবহার না করাই উত্তম।

চোখ উঠলে সতর্কতার ব্যাপারে তিনি বলেন, চোখে পিঁচুটি জমলে হালকা নরম পরিষ্কার কাপড় দিয়ে বা পানির ঝাপটা দিয়ে চোখ পরিষ্কার করা যেতে পারে। তবে কোনোমতেই চোখ রগড়ানো যাবে না। কালো চশমা রোদে বা আলোতে কিছুটা স্বস্তিদায়ক হয়। তাই বাইরে বেরোলে কালো চশমা পরুন। চোখে কোনোমতেই হাত দেওয়া যাবে না। একজনের ব্যবহার করা রুমাল, গামছা, তোয়ালে বা কাপড়চোপড় অন্য কেউ ব্যবহার করবেন না। হাত সব সময় সাবান বা স্যানিটাইজার দিয়ে পরিষ্কার রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, জনসমাগম, অনুষ্ঠান, ক্লাস ইত্যাদি পরিহার করে চলাই ভালো। এ সময়টায় অনেক শিক্ষার্থীর ক্লাস চলছে। চোখ ওঠা নিয়ে ক্লাসে উপস্থিত না হওয়াই ভালো। তবে পরীক্ষা থাকলে ওপরের নিয়মগুলো যথাযথভাবে মেনে স্কুলে যাওয়া যাবে। অবশ্যই কালো চশমা পরে থাকতে হবে এবং অন্যদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মেলামেশা করা যাবে না।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা দিয়ে সংগঠনকে মূল্যায়ন করা সমীচীন নয়’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা দিয়ে সংগঠনকে মূল্যায়ন করা সমীচীন নয়’

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ বলেছেন, ছাত্রলীগ অনেক সুশৃঙ্খল এবং শক্তিশালী একটি ছাত্র সংগঠন। কিন্তু ইদানিংকালে ছাত্রলীগের যে বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলো ঘটছে তাতে কিন্তু সাংগঠনিক অগ্রযাত্রার ব্যাহত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ যারা সংগঠনের শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজ করবে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর দুই চার ব্যক্তি দিয়ে বা একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা দিয়ে পুরো সংগঠনকে মূল্যায়ন করা সমীচীন নয় বলে আমি মনে করি। কারণ ছাত্রলীগের অনেক গৌবরময় ইতিহাস আছে, অর্জন আছে। 

বেশ কিছুদিন ধরেই ছাত্রলীগের বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে গণমাধ্যমের শিরোনাম হচ্ছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। সর্বশেষ ইডেন মহিলা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের ঘটনাটি আরও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সংগঠনটির এ ধরনের নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায়  ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য সাইফুর রহমান সোহাগ এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক শান্ত সিংহ।

সাইফুর রহমান সোহাগ বলেন, ইডেন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের ঘটনাটি নিয়ে এখন দেশে ছাত্রলীগকে নিয়ে নেতিবাচকভাবে আলোচনা হচ্ছে। তবে সেখানকার সমস্যা নিয়ে সংগঠনটির বর্তমান নেতৃত্ব অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত গ্রহন করবে বলে আমি মনে করি। সংগঠনপরিপন্থী কাজের সত্যতা পাওয়া কারণে ইতোমধ্যে সেখানে ১৬ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সংগঠন মনে করলে সেখানে আরও ২৬ কেও বহিষ্কার করবে। কারণে কর্মীর চেয়ে সংগঠন বড়। সংগঠনের স্বার্থই সব সময় প্রাধান্য পাবে। সংগঠনকে শৃঙ্খলিত করতে যদি আরও বেশি সংখ্যক নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করতে হয়ে তাহলে বর্তমান নেতৃত্ব সেটা অবশ্যই করবে। সংগঠনের প্রয়োজনে কাউকে তিরস্কার করবে নাকি বহিষ্কার করবে সেটা সংগঠনের নেতৃত্ব অবশ্যই বিচক্ষণতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিবে। 

ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে কমিটি বাণিজ্য নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের সমাজে অপরাধ প্ররণতা আছে। আর ছাত্ররা হচ্ছে সেই সমাজেরই অংশ। সে কারণে দুই এক জায়গায় হয়তো এটা কেউ করতে পারে। কারণ ছাত্রলীগ এই সমাজের বাইরে নয়। তবে কেউ করে থাকলে যে সংগঠন সেটিকে সমর্থন করে সেটাও কিন্তু নয়। কমিটি বাণিজ্যের মতো কেউ অনৈতিক কারণ করলে সংগঠন সেটির নয় দায়ী নয়। সংগঠন এর দায়ও নেবে না। যারা এ ধরনের কাজ করছে সংগঠন অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কারো ব্যক্তিগত অরপাধ সংগঠন বহন করবে না। এটা অতীতে করেনি। সেটি ভবিষ্যতেও করা হবে না। বর্তমান নেতৃত্বও অভিযোগগুলো ভালোভাবে খতিয়ে দেখবে বলে আমি মনে করি। কারণ বর্তমান নেতৃত্ব অনেক দক্ষ এবং সক্রিয় আছে।

তিনি বলেন, ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে এখন অনেক ক্রিয়াশীল সক্রিয় রয়েছে। এ ধরনের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগকে রাজপথে সক্রিয় হতে হবে। বিএনপি-জামায়াত বা ক্রিয়াশীল চক্রের যেধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড তার বিরুদ্ধে ছাত্রলীগকে রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে সক্রিয় থাকতে হবে। 


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘হাতে গোনা কয়েকজনের দোষ ছাত্রলীগ নেবে না’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail ‘হাতে গোনা কয়েকজনের দোষ ছাত্রলীগ নেবে না’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেছেন, ছাত্রলীগের যারা বিভিন্ন ধরনের বিতর্কিত কাজ করছে আমরা এ ধরনের ঘটনাগুলোকে তীব্র নিন্দা জানাই। যারা বিতর্কিত কাজ করছে তাদের কোনো ধরনের সমর্থন করা প্রশ্নই আসে না। বরং যারা এ ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকছে তাদের বিচারের আওতায় আনার দরকার। কারণ হাতে গোনা মাত্র কয়েকজনের দোষ সংগঠন নেবে না। বিচারের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে ছাত্রলীগের আদর্শ এটা নয়।
 
বেশ কিছুদিন ধরেই ছাত্রলীগের বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে গণমাধ্যমের শিরোনাম হচ্ছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। সর্বশেষ ইডেন মহিলা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের ঘটনাটি আরও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সংগঠনটির এ ধরনের নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এসব কথা বলেছেন। 

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ছাত্রলীগ যে সব সময় খারাপ কাজ করছে এমনটা কিন্তু নয়। সংগঠনটির অনেক ভালো কাজের উদাহরণও আছে। নানা আন্দোলন এবং সংগ্রামের অর্জন রয়েছে ছাক্রলীগের। কিন্তু ছাত্রলীগের সেই অর্জনগুলোকে সামনে আনা হচ্ছে না। সামনে আনার হচ্ছে তাদের কিছু বিতর্কিত কর্মকাণ্ড। আর এ সমস্ত কাজ করা হচ্ছে একটি বিশেষ উদ্দেশ্য, একজন বিশেষ ব্যক্তিকে টার্গেট করে করা হচ্ছে। ছাত্রলীগ চলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে। এখন বঙ্গবন্ধু নেই কিন্তু তার জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা আচ্ছেন। তিনি এই সংগঠনের দেখা ভালো করেন। আর এ কারণে সংগঠনটির কিছু কর্মকাণ্ড দিয়ে একটা খারাপ ব্র্যান্ডিং করতে চায় একটি বিশেষ মহল। তারা এটা করতে চায় কারণ সেখানে তাদের স্বার্থ রয়েছে। কয়েকজন ছেলে দায় দায়িত্ব তো পুরো ছাত্রলীগ নেবে না।  

তিনি বলেন, ছাত্রলীগের নিজের একটা বৈশিষ্ট্য আছে। তারা তাদের নিজেদের মতো করে চলবে, চলছে। আমরা বাইরে থেকে তাদের কিছু দিক নিদের্শনা বা পরামর্শ দিয়ে থাকি। আমাদের সব কথা তাদের শুনতে সেটিও নয়। কোনো কথা হয়তো শুনবে, কোনোটা শুনবে না। ছাত্রলীগকে একটি ব্ল্যাক ব্র্যান্ডিং করে দিয়ে সংগঠনের প্রতি মানুষের ভালোবাসা, শ্রদ্ধাকে অসন্মান করা হচ্ছে। যারা ছাত্রলীগকে ব্র্যান্ডিং তাদের উদ্দেশ্যটা কি? তারা খারাপ কাজ নিয়ে ব্র্যান্ডিং করছে কিন্তু ছাত্রলীগ তো ভালো কাজও করছে। তাদের খারাপ কাজ কতো এবং ভালো কাজ কতো সেটাও বিবেচনা করে দেখতে হবে। খারাপ কাজ গুলো সামনে আনলে ভালো কাজগুলোকে সামনে আনা হচ্ছে না কেন? 

তিনি আরও বলেন, গত কয়েক দিন ধরে ইডেন কলেজ শাখা ছাত্রলীগ নিয়ে খুব আলোচনা হচ্ছে। আমরা সেখানে সব ধরনের কর্মকাণ্ড স্থগতি করেছি। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে তাদেরকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া সেখানকার ঘটনা নিয়ে তদন্ত কমিটি তদন্ত করছে। যাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হচ্ছে তারা এখনো সাংগঠনিক নজরদারি বাইরে যায়নি। তদন্ত কমিটির তদন্তে যদি আরও কেউ দোষী সাব্যস্ত হয় আমরা তাদেরকেও বহিষ্কার করবো। 

ছাত্রলীগ   বিতর্কিত  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘নৈরাজ্য সৃষ্টি করার অধিকার রাষ্ট্র কাউকে দেয়নি’

প্রকাশ: ০৪:০১ পিএম, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail ‘নৈরাজ্য সৃষ্টি করার অধিকার রাষ্ট্র কাউকে দেয়নি’

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন বলেছেন, ঢাকাকে টার্গেট করে বিএনপি যে সমস্ত কর্মসূচি দিচ্ছে তাতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কোনো মাথাব্যথার কারণ নেই। ঢাকার প্রতিটি কমিটি যথেষ্ট শক্তিশালী আছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হচ্ছে এবং প্রতিটি কমিটি সাংগঠনিকভাবে বেশ সক্রিয় এবং শক্তিশালী বলে আমি মনে করি। এছাড়া সহযোগী সংগঠনগুলো আছে। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন কর্মসূচি আছে। সবকিছু মিলিয়ে আওয়ামী লীগ সক্রিয় আছে এবং যেকোনো অপশক্তির প্রতিহত করার মতো সক্ষমতা আছে।

ঢাকাকে কেন্দ্র করে আন্দোলন জোরালো বিএনপিসহ বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দল। এ নিয়ে আওয়ামী লীগের অবস্থানসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সাথে আলাপচারিতায় এস এম কামাল হোসেন এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য এস এম কামাল হোসেন এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক শান্ত সিংহ।

এস এম কামাল হোসেন বলেন,আমি মনে করি বিএনপি জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন। জনগণ বিএনপির আন্দোলনের কোনো সাড়া দিচ্ছে না। তাই বিএনপি জনগণের সহানুভূতি পাওয়ার জন্য লাশের রাজনীতি শুরু করেছে। এর আগে তারা খালেদা জিয়ার অসুস্থ নিয়ে নানা নাটকীয় আন্দোলন করেছিল। তার অসুস্থতা নিয়ে এক ধরনের অপরাজনীতি করার চেষ্টা করেছিল বিএনপি। এখন তারা আবার নতুন করে সেই একই অপরাজনীতি শুরু করেছে। বিভিন্ন জায়গায় তারা মিছিল করার সময় পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করছে। বিভিন্নভাবে পুলিশের ওপর হামলা করছে। তারা এ সমস্ত কাজ করছে কারণ লাশের ওপর দিয়ে তারা ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন দেখছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের প্রতিটি কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া আছে যে, আমাদের নেতাকর্মীরা যাতে কোনোভাবেই বিএনপির উস্কানিতে পা না দেয় সে ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া আছে। আবার তাদের সভা সমাবেশ, মিছিল, মিটিংয়ে বাধা দেওয়া যাবে না মানে এই নয় যে, বিএনপি আমাকে উচ্ছেদ করে ঘরে ফেরত পাঠাবে আর আমি ঘরে ফিরে যাব। আমি আমার কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে থাকব। সেখানে যদি কেউ বাধা দেয় তাহলে সেখানকার দায় দায়িত্ব তাকে বহন করতে হবে। বিএনপিসহ যে সমস্ত বিরোধী দল রাজপথে আন্দোলন করছে তারা রাজপথে মিছিল মিটিং করতে পারবে কিন্তু নৈরাজ্য করতে পারবে না। এটা তাদের অধিকার নেই। নৈরাজ্য সৃষ্টির করার অধিকার রাষ্ট্র কাউকে দেয়নি। কিন্তু বিএনপি এখন নিজেরাই গায়ে পড়ে সহিংসতা করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চায়।আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছে রাজপথে আন্দোলন করে। আর এখন কেউ যদি আওয়ামী লীগকে রাজপথ থেকে সরিয়ে দিতে চায় তাহলে সেটা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মেনে নেবে না। তবে আওয়ামী লীগ সর্বোচ্চ ধৈর্য ধারণ করে রাজপথে আছে। কারো কোনো উস্কানিতে পা দিচ্ছে না। কোনো অপশক্তি যেন নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে না পারে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে আমাদের নেত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা উনার সেই নির্দেশনা মেনে চলছি কিন্তু কারো সাথে সংঘর্ষে জড়াচ্ছি না।

বিএনপি   আন্দোলন   ঢাকা কেন্দ্রিক   নৈরাজ্য  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘বাংলাদেশ সম্পর্কে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা পাল্টাচ্ছে’

প্রকাশ: ০৪:০২ পিএম, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail ‘বাংলাদেশ সম্পর্কে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা পাল্টাচ্ছে’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী জাাতিসংঘে যে ভাষণটি দিয়েছেন সেটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি ভাষণ। বিশেষ করে বর্তমান বিশ্ব সংকটময় পরিস্থিতি নিয়ে তিনি যেভাবে দৃঢ়চিত্তে কথা বলেছেন সেটা অত্যন্ত তাৎপর্য বহন করে। আমি মনে করি তিনি যথেষ্ট খোলাখুলিভাবে বিষয়গুলো জাতিসংঘে তুলেছেন। বিশেষ করে ইউক্রেনের যুদ্ধের কারণে একটি দেশকে স্যাংশন দেওয়ার কারণে পুরো বিশ্ব যে সংকট তৈরি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের যে ভোগান্তি এ ব্যাপারে তিনি স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন। তার এই বক্তব্যের কারণে বিশ্বে বাংলাদেশের মর্যাদা আরও বাড়বে। 

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাত এবং দুই দেশের সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক শান্ত সিংহ।

অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, সংকট নিয়ে কাউকে না কাউকে কথা বলতে হবে। আর এক্ষেত্রে বাংলাদেশের কথা বলাটাই যুক্তি সঙ্গত। কারণ বাংলাদেশ বিশ্ব শান্তির ব্যাপারে কখনো দ্বিমত রাখেনি। আমাদের পররাষ্ট্র নীতিই সেটি। ‘সবার সাথে বন্ধুত্ব কারো সাথে যুদ্ধ নয়।’ সে বিবেচনায় জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ অর্থ বহন করে। আমরা আশা করি যে, বাংলাদেশের মতো একটি দেশ যখন এভাবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই বিষয়গুলো তুলে আনলো তখন যারা এই সব যুদ্ধের মধ্যে লিপ্ত তারা বুঝতে পারবে যে, তাদের শান্তির জন্য কাজ করতে শুরু করা দরকার। কারণ একটি দেশের ওপর স্যাংশন দিয়ে পুরো বিশ্বের উন্নয়ন নষ্ট হবে সেটা তো  হতে দেয়া যায় না। 

তিনি বলেন, র‌্যাবের ওপর স্যাংশন নিয়ে যতটা না গুরুত্ব পাওয়া কথা আমরা তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। আর এটা হয়েছে দেশের বিরোধী দল এটিকে অনেক বড় করে দেখেছে। কিন্তু বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে সম্পর্ক বহুমাত্রিক। সে বিবেচনায় র‌্যাবের ওপর স্যাংশন একটি ছোট বিষয়। সেটি গুরুত্বপূর্ণ নয়ও বটে। কারণ যে তথ্যের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্যাংশন দিয়েছে সেই তথ্যের মধ্যেই বড় ঘাটতি রয়েছে। পাশাপাশি যে সংখ্যার কথা তারা বলছে সে সংখ্যাটিও বড় নয়। যদিও গুমের বিষয়টি শূন্যে নিয়ে আসার দরকার। তাছাড়া আমেরিকা নিজেই তো সেটা রক্ষা করতে পারছে না। কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই প্রতিবছর এক হাজারের লোক পুলিশের দ্বারা নির্যাতন বা হয়রানি শিকার হয়ে থাকে। গুমের সংখ্যাও তাদের অনেক বেশি। সুতরাং তারপরও স্যাংশন দেওয়া সেটা বুঝাই যাচ্ছে যে, কোনো একটা দল বা গোষ্ঠী তাদের যেভাবে বুঝিয়েছে তারা সেটার ওপর ভিত্তি করেই স্যাংশন দিয়েছে। 

অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, আমেরিকার মনে রাখতে হবে যে, বাংলাদেশে তাদের প্রচুর বিনিয়োগ আছে। আমাদের যে মাকের্ট সেটি কিন্তু আমেরিকায়। তাদের দেশে আমাদের মাকের্টের কারণে যেমন আমাদের লাভ হয়, তেমনি তাদের লোকেদেরও লাভ হয়। লাভ ছাড়া তো তারা ব্যবসা করছে না। সে তো ক্ষতি করে বাংলাদেশ থেকে পণ্য কিনছে না। সুতরাং বাংলাদেশের সাথে আমেরিকারও একটা বড় স্বার্থ  জড়িত আছে। বাংলাদেশের সাথে আমেরিকা যে বহুমাত্রিক সম্পর্ক আছে সেটা তারাও জানে। বেশ কিছু আলোচনা হওয়া পর আমেরিকা হয়তো বুঝতে পেরেছে যে, তারা যে তথ্যের ওপর ভিত্তি করে স্যাংশন দিয়েছে সেটার পেছেন অন্য কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। আর একারণে বাংলাদেশ সম্পর্কে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা পাল্টাচ্ছে। যার জলন্ত প্রমাণ হলো প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জো বাইডেনের সাক্ষাত এবং সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের প্রতি বাইডেনের সমথর্ন।


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন