ইনসাইড টক

‘আমেরিকার আমন্ত্রণ না পাওয়াটা বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদ’

প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ২৬ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, বাইডেনের গণতন্ত্র সম্মেলন দুটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রথমটি হলো এটা স্পষ্টতই বুঝা যাচ্ছে যে,  চীনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দেশকে একাত্ম করতেই এ সম্মেলন ডেকেছেন বাইডেন। এটার মধ্যে একটি রাজনীতি আছে, গণতন্ত্র কতখানি আছে, তা বলা মুশকিল। কারণ এটা স্পষ্টতই বুঝা যাচ্ছে যে চীনের বিরুদ্ধে দাঁড়াবার একটি প্রচেষ্টা করছে বাইডেন প্রশাসন। ফলে সেখানে আমরা কেন জড়িত হব? বরং আমন্ত্রণ পেলে আমরা যাবো কি যাবো না প্রশ্নে ঝামেলা হতো। কেননা এটি চীনের বিরুদ্ধে একটি নতুন জিনিস দাঁড় করানো হচ্ছে।

বাইডেনের গণতন্ত্র সম্মেলন সহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক অলিউল ইসলাম।

দ্বিতীয়টি হলো যারা দাওয়াত পেয়েছে তাদের দেশের গণতন্ত্র এমনকি খোদ আমেরিকার নিজের গণতন্ত্র যে নড়বড়ে, এটা বলার তো আর অপেক্ষা রাখে না। ফলে যুক্তরাষ্ট্র কেন বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানালো না সেটা তারাই ভালো বলতে পারবে। যেখানে পাকিস্তান, ফিলিপিন, এমনকি নরেন্দ্র মোদির ভারতকেও যদি গণতান্ত্রিক বলা হয়, তাহলে তো আমাদের কিছু বলার বা করার নেই। যেহেতু রাজনীতির একটি অংশ হিসেবে আমেরিকা এটা করছে, আর আমাদের সাথে চীনের একটি ভালো সম্পর্ক, সেখানে আমরা কখনোই অন্য দেশের হয়ে আরেকটা দেশের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারি না এবং আমরা কখনো দাঁড়াইনি। সেই জায়গায় আমি মনে করি,  আমন্ত্রণ না পাওয়াটা বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদ।

বাংলাদেশে গণতন্ত্রের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র বাংলাদেশের মানুষের উপই ছেড়ে দিতে হবে। এটা বাংলাদেশের জনগণের বিষয়। এটা অন্য দেশ এসে এই জিনিসটা সেইভাবে করার কোনো সুযোগ নেই। এটা আমরা বহুবারই দেখেছি এবং আমরা দেখেছি যে, গত ২০ বছরে আমেরিকা আফগানিস্তানে যে ধরণের গণতন্ত্র চর্চা করেছে, সেটাও আমরা দেখেছি। আমেরিকা বিগত ২০ বছরে আফগানিস্তানে আগ্রাসন চালিয়ে উপনিবেশবাদ চালু করেছে। যে দেশ ভিয়েতনামকে তছনছ করে দিল, যে দেশ একাধিক যুদ্ধে বিভিন্ন দেশে যখন-তখন যুদ্ধ করে যাচ্ছে, সেই দেশকে যদি গণতান্ত্রিক বলা হয়, তাহলে স্বাভাবিক ভাবেই আমি বলবো যে, আমার জানা সংজ্ঞা অনুযায়ী আমেরিকা দেশ ‍হিসেবে গণতান্ত্রিক হতে পারে না। অন্যরা যদি বলে থাকে, বলতে পারে। এটাকে যদি কেউ গণতন্ত্র বলে, সেটাতে আমার আপত্তি আছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সমালোচনা যদি করতে হয়, তাহলে বাংলাদেশ কেন্দ্রিক সমালোচনা করাই ভাল। আমেরিকাকে বলার দরকার নেই। যে দেশ ২০ বছর ধরে আফগানিস্তানকে তছনছ করলো, তার আগে ভিয়েতনামকে তছনছ করলো, ইরাক তছনছ করলো, ইরানে চেষ্টা করেছিল। সেই দেশের গণতন্ত্রকে যদি কেউ গণতন্ত্র বলে, তাহলে আমি তাদেরকে বলবো যে, গণতন্ত্র সম্পর্কে আরও একটু ভালোভাবে জানতে। আমেরিকা নিজে বলে বেড়াচ্ছে গণতন্ত্র, নির্বাচন। কিন্তু হিটলারও তো নির্বাচিত ছিল, মোসেলিনিও নির্বাচন করেই এসেছিল। তাই আমার মনে হয়, আমাদের যে ঘাটতি, তা আমাদের উপরই ছেড়ে দেওয়া উচিত। আমাদের জনগণের উপর ছেড়ে দেওয়া উচিত। সেটা আমেরিকা ব্যাখ্যা করবে, আমি তা মানতে রাজি না।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্বাভাবিক ভাবেই বলবে যে, আমাদের থেকে দুর্বল গণতান্ত্রিক দেশগুলোকে ডাকা হয়েছে। আবার ঐ দিকে শ্রীলঙ্কাকে ডাকা হয়নি কেন, এটাও কেউ বুঝলো না। শ্রীলঙ্কায় মহেন্দ্র রাজা পাকশে তো নির্বাচিত হয়েই ক্ষমতায় এসেছে। আমি ধরে নিলাম, যে আমাদের দেশে নির্বাচন নিয়ে সমস্যা আছে। কিন্তু রাজা পাকশে যে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে, সে নির্বাচন নিয়ে তো সেই ধরণের কোনো সমালোচনা ছিল না। বিরোধী পক্ষও সংসদ বয়কট করেনি। সেখানে বুঝাই যাচ্ছে, শ্রীলঙ্কার সাথে চীনের একটি ভালো সম্পর্ক থাকার কারণে আমন্ত্রণ পায়নি। অন্যকথায় এটা চীন বিরোধী একটি সম্মেলন। শেষপর্যন্ত কয়টা দেশ এই সামিটে যাবে, কোন লেভেলে যাবে, সেটাও দেখা দরকার। আমার মনে হয় না এটা খুব একটা গ্রহণযোগ্যতা পাবে এমনিতেই।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘আইনের এ.বি.সি কেউ বুঝে না, আমিও বুঝাতে বুঝাতে ক্লান্ত’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ২৮ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেছেন, নির্বাচন কমিশন গঠন আইনটি নিয়ে এখন অনেক সমালোচনা হচ্ছে। সব আইনের প্রথম এক নম্বর ধারা থাকে ‘শিরোনাম’। আমি শেষ মূহুর্তে আইনটির শিরোনাম নিয়ে বলেছিলাম, আইনটির শিরোনাম হোক আগামী পাঁচ বছরে নির্বাচনসমূহে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল নিশ্চিতকরণ আইন। তাহলে হয়তো একটা জায়গায় সরকার সৎ থাকতো। এটা তো আসলে তাই হয়েছে। আগামী নির্বাচনসমূহে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল নিশ্চিতকরণ আইন।

নির্বাচন কমিশন গঠন আইন, আগামী জাতীয় সংসদ আইনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা বলেন ড. শাহদীন মালিক।

আইনের শিরোনাম ‘আগামী নির্বাচনসমূহে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল নিশ্চিতকরণ আইন’ রাখা উচিত মনে করার কারণ এবং আপনার কেনো মনে হয় সার্চ কমিটি কোনো যোগ্য মানুষ খোঁজে বের করতে পারবে না, জানতে চাইলে ড. শাহদীন মালিক বলেন, আইনের এ বি সি ডি কেউ বুঝে না। আমিও ক্লান্ত হয়ে গেছি আইনের এ.বি.সি বুঝাতে বুঝাতে। আমাদের দুর্নীতি দমন কমিশনের জন্যও এরকম একটি আইন আছে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে এরকম একটি আইন আছে, তথ্য কমিশন গঠনে এরকম একটি আইন আছে। এসব প্রতিষ্ঠানগুলোতে পদাধিকার বলে কমবেশি হাইকোর্টের বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের সদস্যরাই নিয়োগকৃত হয়।

তিনি আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মো. আবদুল মতিন সাহেব গত রোববার বলেছিলেন যে, উনি প্রথম দুর্নীতি দমন কমিশন নিয়োগের সার্চ কমিটিতে সদস্য এবং পরবর্তী মানবাধিকার কমিশন ও তথ্য কমিশন নিয়োগসংক্রান্ত সার্চ কমিটির সভাপতি ছিলেন। ওনাদের মিটিংয়ে মন্ত্রীপরিষদ থেকে এনভেলাপে কয়েকটি নাম এবং সিভি দিয়ে দেওয়া হয়। উনারা ওই নাম ও সিভিগুলো রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠান। মতিন সাহেব খুবই সিনিয়র লোক। খায়রুল হক সাহেব তাকে ডিঙ্গিয়ে প্রধান বিচারপতি হয়েছিল। উনি গত রোববার একটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমকে এ কথাগুলো বলেছেন।

আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে শাহদীন মালিক বলেন, আইনমন্ত্রী বোধহয় আমাদের তৈরি করা আইনের খসড়াটি পড়েননি। তাই তিনি আইনের ব্যত্যয় ঘটেনি বলেছেন। ২০১১ সালে আমরা যে প্রস্তাবটি দিয়েছিলাম, সেটি ছিলো শামসুল হুদা কমিশনের জন্য। আমাদের দেশের মূল আইনের টেক্সট হলো ৪০ হাজার পৃষ্ঠা। এখন দশ বছর আগে শামসুল হুদা কমিশনকে কি আইন প্রস্তাব করেছিলাম, ওইটা তো আর মুখস্থ করে বসে নাই। আপনারা সাংবাদিকরাও তো চাইলে এটি মিলিয়ে দেখতে পারেন। তাহলেই তো দেখতে পাবেন ব্যত্যয়টা কোথায় আছে।

নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে সকলে ঐক্যমত প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আপনার কোনো পরামর্শ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন তো আইন পাস হয়ে গেছে। এখন তো পরামর্শের কোনো কিছু নাই। এখন রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর নির্ভর করবে তারা এই আইনকে কিভাবে নিবে। আমরা নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে আইনের আলাপ-আলোচনা করে সবকিছু দেখে শুনে আইনের খসড়া করে দিয়েছিলাম এবং বলেছিলাম যে এই এই আদলে আইনটি হলে ভালো হয়। নিয়োগ প্রক্রিয়াটা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় থাকবে। আমরাও জানবো কাদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, কেন নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এই আইনে তো স্বচ্ছতার কোনো জায়গাই রাখা হয়নি। এখন তো আইন-ই পাস হয়ে গেছে। এখন আর কথা বলে লাভ নেই। গতকাল ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বিষয়ে বলেছিলাম, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন না বলে এটাকে বাকস্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণ আইন বললে বোধহয় আরও সৎ হতো।

আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরণের অনিশ্চয়তা দেখেন কিনা প্রশ্নের উত্তরে ড. শাহদীন মালিক বলেন, আগামী নির্বাচন নিয়ে আমার কিছু সাজেশন আছে। এটি আমাদের সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীতেও ছিল। ১৯৭৩ সালের মার্চ মাসে আমাদের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং সংবিধান অনুযায়ী এই সংসদের মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর। অর্থাৎ মার্চ ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত। কিন্তু ১৯৭৫ সালে চতুর্থ সংশোধনীতে বলা হলো যে, বর্তমানে বিদ্যমান সংসদের মেয়াদ এই সংশোধনী পাস হওয়ার দিন থেকে আরও পাঁচ বছর বর্ধিত করা হলো। এটা তো হয়েছে এবং আমাদের এই ঐতিহাসিক উদাহরণ তো রয়েছে। এখন ঝুটঝামেলা না করে সংবিধান সংশোধন করে বলে দিলেই হবে যে, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে যে সংসদ নির্বাচন হইয়া ছিল, আজকে সংবিধানের ১৮তম সংশোধনীর পর থেকে এই সংসদের মেয়াদ আরও ১০ বছর বৃদ্ধি করা হইলো। বিষয়টি এখন ওইদিকেই যাচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদ আইনের একটি জায়গায় বলা আছে, ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের মেয়াদ পাঁচ বছর। এখন এটাকে পাঁচ বছরের পরিবর্তে ১০ বছর সংশোধন করে দিলেই ঝামেলা শেষ হয়ে গেল।

নির্বাচন কমিশন আইন   সংবিধান   রাজনৈতিক দল  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘সার্চ কমিটির প্রস্তাবিত নাম পাবলিক করলে আস্থার জায়গা শক্ত হতো’

প্রকাশ: ০৪:০১ পিএম, ২৭ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, ৫০ বছর পরে এসে এটাকে যদি বলা হয় নির্বাচন কমিশন আইন তাহলে এটা হাস্যতুল্য হয়ে যায় না? যেটা সবসময় বলা হয়েছে যে, আইনটা পড়লে মনে হয় রাষ্ট্রপতিকে সাহায্য করার জন্য, একটা সার্চ কমিটি গঠন করার জন্য এটি করা হয়েছে। ঠিক যেভাবে আগের সার্চ কমিটিগুলো গঠন করা হয়েছিল, ঠিক একইভাবে কিন্তু এটি করা হয়েছে।

জাতীয় সংসদে ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিল ২০২২’ পাস হওয়া প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক মাহমুদুল হাসান তুহিন।

অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, সিভিল সোসাইটি যদি মনে করে এরকম একটা অপূর্ণাঙ্গ আইনকে যদি মেনেও নিতে হয় তাহলে সিভিল সোসাইটির পক্ষ থেকে যে প্রস্তাবটি ছিলো যে, সার্চ কমিটি যাদের নাম প্রস্তাব করবে রাষ্ট্রপতির কাছে সেগুলো পাবলিক করা হোক। তাহলেই তো জনগণের আস্থার জায়গা অনেক বেশি শক্ত হতে পারতো। জনগণ জানতো যে আমরা ক, খ নামগুলো দিয়েছি। এখন ক এবং খ কে, এটা জনগণ জানে। এটা বিচার-বিশ্লেষণ করবে এবং এটা বুঝবে, এই যে সার্চ কমিটি করেছে আইনের মাধ্যমে সেখানে প্রকৃত যথার্থ ব্যক্তিকে তারা বের করেছে সার্চের মাধ্যমে নাকি তারা শুধুমাত্র একপেশে নাম দিয়ে দিয়েছে। সেখানেই বুঝা যাবে নির্বাচন কেমন হবে।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতির কাছে যে নামগুলো দেওয়া হচ্ছে সেগুলো প্রকাশে আপত্তি কোথায়? যাদের মধ্য থেকে বেঁছে নিবেন সেই নামগুলো সকলে জানুক, তাদের মধ্য থেকে বেঁছে নিক। কোন অসুবিধা নাই। বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন উপাচার্যের প্যানেল করা হয় তিন জনের নাম তো পাঠানো হয় এবং সেই তিন জনের নাম সবাই জানে। সেখানে রাষ্ট্রপতি চাইলে ১ নম্বর জনকে না দিয়ে ৩ নম্বর জনকে উপাচার্য করতে পারেন। কিন্তু জনগণ তো দেখলো যে কে লিস্টের ১ নম্বরে ছিলেন। তখন মানুষের মনে একটা জবাবদিহিতার জায়গা সৃষ্টি হয়। সেই জায়গাটি তো গোপন করে রাখার মত কিছু নয়। সরকার যদি মনে করে জনগণের সরকার, জনগণের রাষ্ট্র, জনগণ কেন্দ্রিক প্রশাসন হবে। তাহলে লুকিয়ে রেখে তো কোনদিন সুশাসন হতে পারে না।

নির্বাচন কমিশন   ইসি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘ফরিদ ‍উদ্দিন হয়তো দায় কাঁধে নিয়ে চলে আসতে চাচ্ছেন না’

প্রকাশ: ০৪:০২ পিএম, ২৬ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যলয়ে শিক্ষার্থীদের সাত দিন ধরে চলমান অনশন ভাঙ্গার প্রসঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেছেন, প্রথমত এটি একটি চরম স্বস্তির খবর। আমাদের শিক্ষার্থীরা যেভাবে তাদের জীবন-মরণ এবং উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগ, এ দুইটি বিষয়কে সমান করে দেখেছিল। অর্থাৎ তাদের জীবনের মূল্য হচ্ছে প্রফেসর ফরিদ উদ্দিনের পদত্যাগের সমান। এর থেকে যে শিক্ষার্থীরা বেরিয়ে আসতে পেরেছে, আমি মনে করি এটি একটি সফলতা। যারা যারা এ সংকট নিরসনে ভূমিকা রেখেছে বিশেষ করে ড. জাফর ইকবাল স্যারকে আমি ধন্যবাদ জানাই। বিশেষ করে তিনি সস্ত্রীক সিলেটে গিয়েছেন। তাদেরকে বুঝিয়েছেন। এ জন্য ওনার প্রতি আমাদের সকলের কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। 

ড. জাফর ইকবাল স্যারের অনুরোধে শাবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান অনশন ভাঙ্গা, শিক্ষর্থীদের আন্দোলনসহ নানা বিষয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক অলিউল ইসলাম।

অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, জাফর ইকবাল স্যার তো আর সরকারের সাথে যোগাযোগ না করে সিলেটে যান নাই। অবশ্যই তিনি সরকারের সঙ্গে সলাপরামর্শ করে সেখানে গিয়েছেন। আমাদের শিক্ষামন্ত্রীর সাথে জাফর ইকবাল স্যারের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর সাথেও স্যারের যোগাযোগ আছে। ফলে সরকারের তরফ থেকে ইশারা পেয়েই তিনি এটা করেছেন। 

তিনি বলেন, এখন যেসব সমস্যা আছে, তা সমাধান করতে হবে। এখন যেহেতু অনশন ভেঙ্গে গেছে, আমি মনে করি প্রফেসর ফরিদ উদ্দিনের দিক থেকে একটা কাজ করা দরকার। সেটি হলো একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত বা উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত করে পুরো ঘটনার জন্য কে বা কারা দায়ী, তা চিহ্নিত করা। উনি যদি বলেন আমি দায়ী হলেও চলে যাবো, নির্দোষ হলেও থাকবো না, কিন্তু একটি তদন্ত করা দরকার, তাহলে পরে ভবিষ্যতে এটি নিয়ে আর কোনো বিতর্ক থাকবে না। 

ভিসি ফরিদ ‍উদ্দিনের পদত্যাগ বিষয়ে অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, ভিসি ফরিদ উদ্দিন সম্পর্কে আমার মূল্যায়ন হচ্ছে, একটা পর্যায়ে হয়তো উনি নিজেই শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকতে চাইবেন না। উনি হয়তো বদনাম বা দায় কাঁধে নিয়ে চলে আসতে চাইছেন না। সেই জন্যই হয়তো এখন পর্যন্ত তিনি পদত্যাগ করেননি। কেননা উনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন তিনবার ডীন ছিলেন, শিক্ষক সমিতির সভাপতি ছিলেন, ফেডারেশনের সভাপতি ছিলেন। এমনকি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার বিষয়টিও উনার তদারকিতে হয়েছিল। আমি যখন জগন্নাথ থেকে চলে আসলাম, তখন তিনি একা পুরো জিনিসটিকে গুছিয়ে এনেছেন এবং করেছেন। তিনি দক্ষতার সাথে ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়কে সমন্বয় করে বলতে গেলে এক হাতে পুরো ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন। গুচ্ছ পরীক্ষার সব কৃতিত্ব উনার। প্রশ্নের গোপনীয়তা মেইন্টিন করা, পরীক্ষার গুণগত মান মেনন্টেইন করা, ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্ব দেওয়া, এই বিষয়গুলোতে তার অসাধারণ দক্ষতা আছে। 

শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের করা সংবাদ সম্মেলনটি দেখেছি। ছাত্রদের অভিযোগ টংঘর উঠিয়ে দিয়েছে। আবার আমি শুনেছি টংঘরে বিভিন্ন সময় মাদক পাওয়া গেছে, এটা,সেটা অনেক কিছু। তারপর ভিসি নাকি আল্পনা আঁকতে দেয়নি। পরে শিক্ষার্থীদের অনেক কষ্ট করে আল্পনা আঁকতে হয়েছে। এগুলো হচ্ছে ভিসির বিরুদ্ধে অভিযোগ। কেউ কিন্তু বলতে পারেনি যে, তিনি স্বজনপ্রীতি করেছেন, নিয়োগে দুর্নীতি করেছেন কিংবা প্রকল্পর টাকা মেরে খেয়েছেন, যেগুলো আমরা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখেছি। এমনকি যারা আন্দোলন করছেন, তারাও এ ধরণের কথা বলেনি। ফলে তার যোগ্যতা ও কমিটমেন্ট নিয়ে আমি দ্বিধান্বিত নই। 

অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, শাহজালালে ঘটনা যেটি হয়েছে, তা একটি হল কেন্দ্রিক। একটি হলের সমস্যা সমাধানে প্রভোস্ট অপারগতা প্রকাশ করেছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হয়েছে। প্রশাসন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারতো। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হলেই তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেকগুলো ‍গ্রুপ থাকে। শিক্ষক থাকে, শিক্ষক সমিতি থাকে, শিক্ষার্থী থাকে। এগুলোকে ম্যানেজ করেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়। ছাত্ররা এক দুই দিন সময় দিলে হয়তো এটি ম্যানেজ হয়েও যেতো। কিন্তু এর ভেতরে ক্যাম্পাসে পুলিশের প্রবেশ ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করাতে বিষয়টি উল্টো দিকে ঘুরে যায়। তবে এখানে বলা উচিত  যে পুলিশের হামলার আগে ও পরে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা লাঞ্ছিত করেছে। শিক্ষকদের দৌড়ানি দেয়া হয়েছে। রুমে তালাবন্দি করা হয়েছে। ইট মারা হয়েছে। এখন এগুলো কোনটা আগে হয়েছে আর কোনটা পরে হয়েছে তা জানতে তদন্ত হওয়া দরকার। পুলিশ আগে আক্রমণ করলো নাকি শিক্ষার্থীরা আগে আক্রমণ করেছে, এগুলো নিয়ে বিতর্ক আছে। কিন্তু সেখানে তো সিসিটিভি আছে। ফলে আমি চাই একটি তদন্ত হোক। 

তিনি বলেন,  ফরিদ ‍উদ্দিনের দোষ হিসেবে আন্দোলনকারীরা যা বলছে, তা হলো ক্যাম্পাসে পুলিশ আক্রমণ করেছে। এখন পুলিশ যে আক্রমণ করলো, তা কোন ঘটনার প্রেক্ষিতে আক্রমণ করলো, তা কিন্তু আমরা জানি না। পুলিশের আক্রমণে ফরিদ উদ্দিনের কি ভূমিকা ছিল? ফরিদ ‍উদ্দিনকে তো তার রুমে আটকিয়ে তালা মেরে রাখা হয়েছিল। এখন ফরিদ উদ্দিনিই কি পুলিশ ডেকে নিয়ে এসেছে এবং আক্রমণ করতে নির্দেশ দিয়েছে? আমার তো মনে হয় না। পরবর্তীতে আন্দোলনের সাথে তো দেখলাম ভিন্ন স্বার্থগোষ্ঠী জড়িয়ে গেছে।  

জাফর ইকবাল স্যারকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা বিষয়টিকে সিরিয়াস পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাচ্ছিল। তারা নিজেদের জীবনের সাথে ভিসির পদত্যাগকে সমান করে জীবন ঝুঁকি নিয়ে নিয়েছিল। একজন ভিসির পদত্যাগের সাথে যদি শিক্ষার্থীরা নিজের জীবনের মূল্য সমান করে ফেলে, তখন বিষয়টি মারাত্মক বলেই ধরে নেওয়া যায়। এখন পরিস্থিতি ঠাণ্ডা হচ্ছে। বাদবাকি যে বিষয়গুলোতে ঘাটতি আছে, তা আশু সমাধান করে ফেলা। আর ভিসি ফরিদ উদ্দিনের উচিত একটা নিরপেক্ষ তদন্ত করা। আর ভিসি ফরিদ উদ্দিন শাবিপ্রবিতে আর থাকবে বলে মনে হয় না।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যলয়   ছাত্র আন্দোলন   শাবিপ্রবি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘৬০ শতাংশ লিংক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বন্ধ করা হয়েছে’

প্রকাশ: ০৪:০১ পিএম, ২৫ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, অপপ্রচারটা যেখানে হচ্ছে সেটিকে আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বলি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো বাংলাদেশে তৈরি না, এগুলো হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে মাধ্যম সেই মাধ্যমগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতি, তাদের যে পলিসি সেগুলোর উপর ভিত্তি করেই পরিচালিত হয়। সেই কারণে শুধু বাংলাদেশ না, সকল দেশের জন্যই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম একটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে কাজ করে। শুধুমাত্র অপপ্রচার, মিথ্যা তথ্য দেয়া কিংবা মানহানিকর বিষয় না। এটি রাষ্ট্রবিরোধী কাজে যুক্ত থাকে, সন্ত্রাসে যুক্ত থাকে এবং সাম্প্রদায়িকতা তৈরিতে ভূমিকা পালন করে। এসব নিয়ন্ত্রণের জন্য আমাদের আইনি অবকাঠামো ছিলো না। যেটা ছিলো তা হলো আইসিটি অ্যাক্ট-২০০৬, যেটা ২০১৩ সালে সংশোধিত হয়। এর মধ্যে বহুল আলোচিত কয়েকটি ধারা যেমন- ৫৭ ধারা, ৫৪ ধারা যুক্ত করা ছিলো।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশবিরোধী অপপ্রচার, অপপ্রচার রোধে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক মাহমুদুল হাসান তুহিন।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, ২০১৩ সালে যখন হেফাজতের কর্মকাণ্ড গুলো হয় তখন তাৎক্ষণিকভাবে মোকাবেলা করার জন্য সংশোধন করা হয়। বস্তুতপক্ষে এটা ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্য টার্গেট করাও ছিলো না। ২০১৮ সালে আমি দায়িত্ব নেয়ার পরপরই আমি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করি। এই আইনে আইনি কাঠামোটা দেয়া হয়েছে। আইনি কাঠামোর যেটা সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে এটি তো বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য, বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য। কিন্তু যে প্লাটফর্মটা আমাদের না সেই প্লাটফর্ম তো আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনা।

অপপ্রচার রোধে দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছেনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের দিক থেকে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না তথ্যটি সঠিক নয়। আমাদের দিক থেকে পদক্ষেপ নিয়ে আমরা একবার ফেসবুক বন্ধও করেছিলাম। বন্ধ করে দেয়ার পর ১৫ দিনের বেশি এটা বন্ধ ছিলো। আমরা মনে করি, বন্ধ করাটা সমাধান নয়। কারণ, মাথা ব্যথার জন্য মাথা কেটে ফেলে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে না। ওষুধ খেয়ে এটাকে সারাতে হবে। ২০১৮ সাল পর্যন্ত ফেসবুক-ইউটিউবের সাথে আমাদের কোন যোগাযোগই ছিলো না। আমি এসে তাদের সাথে যোগাযোগ করি, তাদের সাথে বৈঠক করি। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতেই প্রথম এদের উচ্চপর্যায়ের আমেরিকান কর্মকর্তাদের সাথে বার্সেলোনায় বৈঠক করি।

তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত নিয়মিত প্রায় তিন মাস পরপর আমরা একটা করে অফিসিয়াল মিটিং করি। কখনো ভার্চুয়ালি করি, কখনো ফিজিক্যালি করি। তাদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হচ্ছে না এটা একেবারেই ভুল তথ্য। আমরা এখন সবকয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করি। তাদেরকে প্রতিদিন শত শত লিংক পাঠাই। এই লিংকের মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় শতকরা ৬০ শতাংশ লিংক ওরা বন্ধ করেছে। এটা আমাদের জিরো ছিলো। আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় এসে জিরো থেকে ৬০ ভাগ পর্যন্ত আমরা আনতে পেরেছি। তারা আমাদের বাংলাদেশের জন্য এখন একজন প্রতিনিধিও দিয়েছেন একজন বাংলাদেশী নাগরিককে। তারা আমাদের সাথে প্রায় প্রতিদিনিই যোগাযোগ করি।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, আমরা ইউটিউব, গুগল, টিকটকসহ সকলের সাথে কথা বলেছি। এইটুকু আমি বলতে পারি, ২০১৮ সালে যে ভয়ঙ্কর অবস্থায় ছিলাম তার চাইতে অনেক ভালো এখন। আমরা এরইমধ্যে আমাদের নিজস্ব সক্ষমতা তৈরি করেছি। কোন ওয়েবসাইট যদি ক্ষতিকর কিছু করে, অনিবন্ধিত হয়, বেআইনি হয়, সেগুলোকে আমরা বন্ধ করে দিতে পারি। ইতোমধ্যে আমরা ২২ হাজার  পর্নো সাইট বন্ধ করেছি, ৬ হাজার জুয়ার সাইট বন্ধ করেছি এবং অনিবন্ধিত সাইট বন্ধ করেছি।

মোস্তাফা জব্বার  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘ইসি গঠনে অতীতে যা হয়েছে, এবারও তাই হবে’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ২৪ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

নির্বাচন কমিশন গঠন আইন প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সাধারণ সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, সরকার অতীতে যা করেছে, এখন আইনের মোড়কে সব জায়েজ করে নিচ্ছে। তখন সংসদে পাস করে নাই, এখন পাস করে নিচ্ছে। ফলে অতীতে যা হয়েছে, এবারও তাই হবে। সরকার নিজের অনুগতদের অতীতে যেমন নিয়োগ দিয়েছে, এখনও তাই করবে। 

নির্বাচন কমিশন আইন, রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান, শাবিপ্রবিতে চলমান আন্দোলনসহসহ বিভিন্ন বিষয়ে ড. বদিউল আলম মজুমদার বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। পাঠকদের জন্য ড. বদিউল আলম মজুমদার এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক অলিউল ইসলাম।

ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নির্বাচন কমিশন আইনের নামে যা হতে চলেছে, তাতে কোনো ধরণের স্বচ্ছতা নেই। স্বচ্ছ পদ্ধতিতে যদি নিয়োগ দেওয়া হতো, তাহলে নূরুল হুদা কিংবা রকিব উদ্দিনরা নিয়োগ পেতো না। ওনারা নির্বাচন কমিশনে এসে সরকারের কাছ থেকে সুবিধা নিয়েছেন। নানাবিধ দুর্নীতির কারণে ওনাদের বিরুদ্ধে অতীতে অনেক প্রশ্ন ‍উঠতো। ফলে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে স্বচ্ছতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

ইসি গঠন আইন নিয়ে রাজনীতির মাঠ উত্তপ্ত হবে কিনা, জানতে চাইলে ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, দেশে আন্দোলনও হবে না, রাজনীতির মাঠও উত্তপ্ত হবে না। আন্দোলনের কলকাঠি নাড়ে আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাদের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ তো বাংলাদেশের কারও কাছে অজানা নয়। তাদের পক্ষপাতদুষ্টতা বাংলাদেশের রাজনীতিকে অত্যন্ত ভয়ানকভাবে প্রভাবিত করেছে। 

শাবিপ্রবির চলমান আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি বিষয়টি সম্বন্ধে সরাসরি খোঁজ-খবর নিতে পারিনি কিন্তু বিষয়টি সমাধান হওয়া দরকার। আমরা অনুগতদেরকে সবসময় ভিসি বানাই। তাদেরকে ফায়দা হিসেবেই এসকল পদে নিয়োগ করি। ফায়দার ভিত্তিতে নিয়োগের কারণে আমরা সম্মানিত স্থানে সম্মানিত ব্যক্তিদের পাই না। ভিসির যদি সম্মান থাক তো, তাহলে তো অনেক আগেই সড়ে যেতো। ছাত্রছাত্রীরা যখন চায় না, তখন একজন ভিসি স্বপদে বহাল থাকে কিভাবে? কিন্তু ভিসি পদ মানেই তো এখন ফায়দা, সুযোগ-সুবিধা। এটার অবসান হওয়া দরকার। শিক্ষার্থীরা অনশনে আছেন, তাদের অনশন ভাঙ্গানো জরুরি।

ইসি গঠন আইন   সংসদ   শাবিপ্রবি  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন