ইনসাইড থট

ফুলার থেকে সাহাবুদ্দিন, ছোটলাট থেকে রাষ্ট্রপতি!

প্রকাশ: ১০:০০ এএম, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

"দিলখুশা" মানে "মনপ্রফল্লু"। ১৮৬৬ সাল। ঢাকার নওয়াব খাজা আবদুল গণি। তাঁর জ্যেষ্ঠপুত্র খাজা আহসানউল্লাহ। পিতা পুত্রপ্রেমে এতটাই আবেগাপ্লুত ছিলেন যে, পুত্রের মনোরঞ্জনে একটি বাগানবাড়ি বানাতে চাইলেন। জনৈক স্মিথের কাছ থেকে কিনলেন ঢাকা শহরে ৫৪ একর ৫০ শতাংশ জমি। উর্দুভাষী নওয়াব পুত্রের মনপ্রফুল্ল রাখতে এলাকার নাম দিলেন "দিলখুশা বাগানবাড়ী"। আর সেটাই কালক্রমে হয়ে উঠলো বঙ্গভবন। "রঙমহল" বলেও এর পরিচিতি ছিল। ১৯০৬ নওয়াব সলিমুল্লাহর কাছ থেকে বার্ষিক ১১ হাজার টাকায় লীজ নিলেন ভারত ভাইসরয় বড়লাট লর্ড কার্জন। নবগঠিত পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের শাসনকর্তার বাসভবন রূপে গড়ে তোলা হলো। নাম হলো "ছোটলাট ভবন"। ১৯৪৭ সালে "গভর্নর হাউজ"। ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারী "বঙ্গভবন" নামকরণ করলেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি ওদিন রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে দেশে সংসদীয় সরকার পদ্ধতি প্রবর্তন করেন এবং সয়ং প্রধানমন্ত্রী হলেন। "গণভবন"-কে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে পরিণত করলেও অফিস হিসেবেই ব্যবহার করতেন বঙ্গবন্ধু। তা়ঁর বাসভবন ছিল বরাবর ধানমন্ডিস্থ বত্রিশ নম্বর সড়কের বাড়িটিই। অপরদিকে দেশের দ্বিতীয়  রাষ্ট্রপতি আবু সাঈদ চৌধুরী পরিবারসহ বঙ্গভবনের বাসিন্দা হন। সেই থেকে এটি রাষ্ট্রপতির বাসভবন। আলংকারিক রাষ্ট্রপ্রধানের বাসভবন হিসাবে বঙ্গভবনের যাত্রা শুরু হলেও ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুও ছিল লম্বা সময় ধরে। যখন দুই যুগেরও বেশি সময় দেশ পরিচালিত হয় রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থার অধীনে। সংসদীয় সরকার পদ্ধতি প্রবর্তিত হলে ক্ষমতা ও গুরুত্ব হারায় বঙ্গভবন। রাষ্ট্রপতি হয়ে যান নিয়মতান্ত্রিক রাষ্টৃপ্রধান মাত্র। ১৯৯১ সাল থেকে দেশ পরিচালিত হচ্ছে সংসদীয় সরকার পদ্ধতিতে।

ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলে লেফটেন্যান্ট গর্ভনর বা গর্ভনররাই ছিলেন এ দেশের ক্ষমতার প্রকৃত মালিক। সেই অর্থে ১৯০৬-২০২৩ সময়ের মধ্যে গভর্নর হাউজ বা  বঙ্গভবনই প্রায় নব্বই বছর ক্ষমতার উৎস ছিল। বিগত একশত ষোল বছরে বঙ্গভবনে যাঁরা বাসিন্দারা- তাঁরা ছিলেন বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণ ও গোত্রের। যাদের মধ্যে অবশ্য বিস্ময়করভাবে একজনও নেই হিন্দু ধর্মাবলম্বী। অধিকাংশই খ্রীস্ট ধর্মালম্বী বিভিন্ন গোত্রীয় ইংরেজ। অবশিষ্টরা মুসলিম সূন্নী-ইসলাম ধর্মালম্বী। ১৯৪৭ দেশবিভাগপূর্ব বাংলা ব্রিটিশ শাসিত ভারতের সর্ববৃহত্তম প্রদেশ। কিন্তু তা সত্ত্বেও বাংলাভাষী বাঙালী অথবা হিন্দি বা অসমীয় ভাষাভাষী কোন অবাঙালী-হিন্দু বাংলার গভর্নর বা রাষ্ট্রপতি হতে পারেননি। যে কারণে ঢাকার গভর্নর হাউজ তথা বঙ্গভবনের বাসিন্দা হননি কোন হিন্দু ধর্মাবলম্বী। বঙ্গভবনের যারা বাসিন্দা হয়েছেন, তারা কেউ ইংরেজ বিট্রনী, কেউ উর্দুভাষী পশ্চিম-পাকিস্তানী, কেউবা পূর্ব পাকিস্তানী বাংলাভাষী বাঙালী এবং স্বাধীনত্তোর যাঁরা হয়েছেন তাঁরা সকলেই বাংলাদেশী বাঙালী মুসলমান।

১৯০৫ সালে থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত  পূর্ববঙ্গ ও আসাম এবং বাংলা প্রাদেশিক সরকারের হয় লেফটেন্যান্ট গভর্নর, নয়তো পূর্ববঙ্গ- তথা পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর এবং নয়তো স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি।

আজকের যে বঙ্গভবন তা রূপে-রঙে-নামে শুধু নয়, ক্ষমতার উত্থান-পতনের চরিত্রেও তার রঙ বদলেছে। রূপে ও রঙে পরিবর্ধিত হয়েছে অবকাঠামোগত স্থাপত্য। সর্বপ্রথম ১৯০৬ সালের ১৮ জানুয়ারি এই বাসভবনে বাসিন্দা হিসাবে পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রাদেশিক সরকারের লেফটেন্যান্ট গভর্নর বামফিল্ড ফুলার সংবর্ধিত হন। সেই থেকে"দিলখুশা বাগানবাড়ি" লোকমুখে পরিচিতিলাভ করে "ছোটলাট ভবন" হিসেবে। এরপর লাটভবনের বাসিন্দা হন স্যার ল্যান্সলট হেয়ার ও চার্লস স্টুয়ার্ট বেইলি। তখন প্রবল আন্দোলন বঙ্গভঙ্গ এর বিরুদ্ধে। এই তিন শাসকের নামে ঢাকার তিনটি রোড এখনও রয়েছে। বৃটিশ পার্লামেন্ট ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করে দুই বাংলাকে আবার একীভূত করে দেয়। ফলে ঢাকা পূর্ববঙ্গ ও আসামের রাজধানী রূপে যে মর্যাদা পেয়েছিল তা লুপ্ত হয়ে যায়। তবে বাংলার রাজধানী আবার কলকাতা হলেও ছোটলাট ঢাকায় এলে এখানেই থাকতেন। ১৯৪৭ সালে আবার বাংলা দ্বিখণ্ডিত হয় পূর্ববঙ্গ ও পশ্চিম বঙ্গ নামে। স্বাধীন পাকিস্তানের প্রদেশ হিসেবে অঙ্গীভূত হয় পূর্ববঙ্গ। পশ্চিম বঙ্গ অন্তর্ভুক্ত হয় স্বাধীন ভারতে।

পূর্বপাকিস্তানের প্রথম গর্ভনর হয়ে আসেন স্যার ফ্রেডারিক চার্লমার বোর্ন। ছোটলাট ভবন পরিচিতি লাভ করতে থাকে গর্ভনর হাউজ রূপে। ১৯৫০ সালের ৫ এপ্রিল পর্যন্ত স্যার বোর্ন  দায়িত্ব পালন করেন। সেই থেকে গর্ভনর হাউজের বাসিন্দা হন বিচারপতি আবু সালেহ মোহাম্মদ আকরাম, মালিক ফিরোজ খান নুন (পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী), চৌধুরী খালেকুজ্জামান, আব্দুর রহমান সিদ্দিকী (অস্থায়ী), মেজর জেনারেল ইস্কান্দার মীর্জা (পরে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি), বিচারপতি স্যার টমাস হার্বার্ট এলিস, বিচারপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দীন, বিচারপতি আমিরউদ্দিন, শেরেবাংলা একে ফজলুল হক, মোহাম্মদ হামিদ আলী (অস্থায়ী), সুলতানউদ্দিন আহমদ, জাকির হোসেন, লেঃ জেনারেল আজম খান, সৈয়দ হাসিম রেজা, গোলাম ফারুক, আব্দুল মোনয়েম খান, ডঃ মীর্জা নূরুল হুদা, মেজর জেনারেল মোজাফফর উদ্দিন, ভাইস এডমিরাল এস এম আহসান, সাহেবজাদা এম ইয়াকুব খান, লেঃ জেনারেল টিক্কা খান ও ডাঃ এ এম মালিক। এ়ঁরা গভর্নর হাউজে বসেই পূর্বপাকিস্তান শাসন বা শোষণ করতেন।

১৯৭১ সালে ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানের আত্মসমর্পণের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর   গভর্নর পদটির অস্তিত্ব লুপ্ত হয়ে যায়। মুক্তিযুদ্ধকালীন পাকিস্তানের অনুগত  গভর্নর ছিলেন ডাঃ আব্দুল মোত্তালিব মালিক। তিনি গর্ভনর হাউজ থেকে পালিয়ে রেডক্রস ভুক্ত নিরাপদ জোন হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে গিয়ে আশ্রয় নেন এবং পরবর্তীতে দালাল আইনে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দন্ডিত হন। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল শপথগ্রহণকারী অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারের উপরাষ্ট্রপতি (অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি) সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ ১৯৭১ সালের ২২ ডিসেম্বর রাজধানী কুষ্টিয়া থেকে ঢাকায় স্থানান্তরিত করে গভর্নর হাউজে ওঠেন। রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানে বন্দীদশা থেকে মুক্ত হবার পর ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারী স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করে রাষ্ট্রপতির পদ ত্যাগ করে প্রধানমন্ত্রী হন এবং দেশে সংসদীয় শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।

নতুন রাষ্ট্রপতি হন বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী। কিন্তু তিনি নিজেকে ক্ষমতাহীন মনে করে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন স্পীকার মোহাম্মদ উল্লাহ। এই দুই রাষ্ট্রপতিই বঙ্গভবনে থেকেছেন সপরিবারে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারী সাংবিধানিক বিপ্লব সংঘটিত করে রাষ্ট্রপতির শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করেন এবং রাষ্ট্রপতির পদ অলংকৃত করেন। বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী ও মোহাম্মদ উল্লাহ দু'জনই মন্ত্রীত্ব গ্রহণ করেন। বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রপতি হলেও বঙ্গভবন তাঁর আবাসভূমি হয়ে ওঠেনি। বরং তিনি অরক্ষিত ধানমন্ডির বত্রিশ নম্বর সড়কের বাসভবনেই ছিলেন এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কতিপয় উচ্ছৃঙ্খল বিপদগামী সেনা সদস্যের হাতে সপরিবারে নিহত হন। 

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল অপরাহ্ন দেড়টায় কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহাকুমার 'বৈদ্যনাথপুর" গ্রামের আম্রকুঞ্জে স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথগ্রহণ করে। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি (কারাবন্দী) সৈয়দ নজরুল ইসলাম উপ রাষ্ট্রপতি  (অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি) এবং তাজউদ্দীন আহমদ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

১৯২৫ সালে জন্মগ্রহণকারী

সৈয়দ নজরুল ইসলাম ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত অস্থায়ী  রাষ্ট্রপতির দায়িত্বপালন করেন। ১৯২৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারী কিশোরগঞ্জে জন্মগ্রহণকারী সৈয়দ নজরুল ২২ ডিসেম্বর থেকে ১২ জানুয়ারী পর্যন্ত বঙ্গভবনেই ছিলেন।

সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপরাষ্ট্রপতি থেকে শিল্পমন্ত্রী হন। বাকশাল হলে তিনি উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ১৯২১ সালে টাঙ্গাইলে জন্মগ্রহণকারী বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রপতি করলেও তাঁর অনুরোধ উপেক্ষা করে পদত্যাগ করেন ১৯৭৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর। স্পীকার মোহাম্মদ উল্লাহকে তখন  রাষ্ট্রপতি করা হয়। ১৯২১ সালে নোয়াখালীতে  জন্মগ্রহণকারী মোহাম্মদউল্লাহর স্বাক্ষরেই ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারী দেশে জারি করা হয় রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে রাষ্ট্রপতি হন  ১৯১৯ সালে কুমিল্লায় জন্মগ্রহণকারী খন্দকার মোশতাক আহমদ। সিজিএস বিগ্রেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বাধীন ব্যর্থসামরিক অভ্যুত্থানে ৮১ দিনের মাথায় খন্দকার মোশতাকের পতন ঘটে। এর আগেই খন্দকার মোশতাক তোপের মুখে সেনাপ্রধান নিযুক্ত করেন খালেদ মোশাররফকে। বঙ্গবন্ধু হত্যার এক সপ্তাহের ব্যবধানে রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক কর্তৃক সেনাপ্রধান হওয়া জেনারেল জিয়াউর রহমান তখন গৃহবন্দী। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি মোশতাকের নির্দেশে বঙ্গবন্ধুর খুনীরাই ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বঙ্গবন্ধু সরকারের উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী এম মনসুর আলী, অন্যতম মন্ত্রী এএইচএম কামরুজ্জামান এবং স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদকে হত্যা করে। মুক্তিযুদ্ধকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের "চতুর্থস্তম্ভ" বলে অভিহিত এই জাতীয় চারনেতার হত্যার খবরে দৃশ্যপট পাল্টে যায় এবং নবনিযুক্ত সেনাপ্রধান খালেদ মোশাররফের পছন্দে ১৯১৬ সালে রংপুরে জন্মগ্রহণকারী দেশের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি আবু সাদত মোহাম্মদ সায়েমকে রাষ্ট্রপতি করা হয়। খন্দকার মোশতাককে করা হয় পদচ্যুত। ৭ নভেম্বর ঢাকা সেনানিবাস থেকে শুরু হয় আরেকটি পাল্টা সামরিক অভ্যুত্থান- "সিপাহী জনতা ভাই ভাই অফিসারদের রক্ত চাই" হত্যানীতির ভিত্তিতে। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের গণবাহিনী এবং জাসদপন্থী কর্নেল (অবঃ) আবু তাহেরের নেতৃত্বাধীন বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা এ অভ্যুত্থান সংঘটিত করে। খালেদ মোশাররফকে তাঁর কয়েকজন সঙ্গীসহ হত্যা করে জেনারেল জিয়াকে বন্দীদশা থেকে মুক্ত করে সেনাপ্রধান জিয়াকে কাঁধে তুলে ট্যাংকবহর সহকারে রাজধানীতে মিছিল করে। তারা রাষ্ট্রপতি পদে বিচারপতি আবু সাদত মোহাম্মদ সায়েমকে অধিষ্ঠিত রেখেই জেনারেল জিয়াকে দিয়ে ১২ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ক্ষমতাদখলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে জাসদীয় গণবাহিনী ও বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা। কিন্তু ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারী বগুড়ায় জন্মনেয়া জেনারেল জিয়া অভ্যুত্থানকারীদের দাবী অগ্রাহ্য করে  উল্টো মুক্তিদাতা কর্নেল তাহেরকেই  ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেন এবং সামরিক আদালতের মাধ্যমে জাসদের প্রবক্তা সিরাজুল আলম খানসহ শীর্ষ নেতাদের বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ডাদেশ দেন। তন্মধ্যে জাসদ সভাপতি মেজর (অবঃ) এম এ জলিলকে যাবজ্জীবন, সাধারণ সম্পাদক আসম আব্দুর রবকে দশ বছর, গণবাহিনী প্রধান হাসানুল হক ইনুকে সাত বছর  দণ্ডাদেশ দেয়া হয়। এভাবেই জাসদের ক্ষমতা দখলের স্বপ্ন ভঙ্গ হয়। ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারী বগুড়ায় জন্মগ্রহণকারী জেনারেল জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি সায়েমকেও হটিয়ে প্রথমে ১৯৭৬ সালের ২৯ নভেম্বর প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের পদটি দখল করেন। তিনি রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সায়েমকে পদচ্যুত করে ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির পদেও আসীন হন। জেনারেল জিয়া ১৯৭৮ সালের ৩ জুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন রাষ্ট্রপতি, প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ও সেনাপ্রধান তিন পদে থেকেই। সামরিক শাসনের অধীনে অনুষ্ঠিত সেই নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধকালীন মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি জেনারেল এমএজি ওসমানীকে হারিয়ে রাষ্ট্রপতি হন জেনারেল জিয়া।

প্রসঙ্গত বঙ্গবন্ধু হত্যার সপ্তাহের ব্যবধানে সেনাপ্রধান কেএম শফিউল্লাহর আনুগত্য থাকা সত্ত্বেও খুনীদের পছন্দে রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক জেনারেল জিয়াকে সেনাপ্রধান করেন। একই দিন ২৪ আগস্ট পূর্ণমন্ত্রীর মর্যাদায় রাষ্ট্রপতির প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা হিসেবে যোগদান করেন জেনারেল ওসমানী। তিনি বঙ্গবন্ধু শাসনামলে নৌ চলাচল মন্ত্রীর পদ হারিয়ে ছিলেন এবং সংবিধান চতুর্থ সংশোধনীর প্রতিবাদে সংসদ থেকে পদত্যাগ করে বহুল আলোচিত ছিলেন। ৩ নভেম্বর জাতীয় চার নেতা হত্যাকান্ডের খবরে কর্নেল শাফায়াত জামিলের নেতৃত্বাধীন পদাতিক বাহিনী বঙ্গভবনে দরজা ভেঙে মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রবেশের পর রাষ্ট্রপতি মোশতাকের দিকে স্টেনগান তাক করে অকথ্য গালিগালাজ করে হত্যায় উদ্যত হলে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা জেনারেল ওসমানী তাকে রক্ষা করেন এবং তার অনুরোধেই বঙ্গবন্ধুর খুনীদেরও বঙ্গভবন থেকেই বিমানে করে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেন জেনারেল খালেদ মোশাররফ।

বলা বাহুল্য দ্বিধাবিভক্ত ও দিকভ্রান্ত আব্দুল মালেক উকিলের নেতৃত্বাধীন  আওয়ামী লীগ সেই জেনারেল ওসমানীকেই রাষ্ট্রপতি পদে সমর্থন দিয়ে নৌকা প্রতীক দিয়ে দেয়। স্পীকার মালেক উকিল মোশতাক সরকারের প্রতি আস্থা রেখেই স্পীকারদের এক আন্তঃমহাদেশীয় সম্মেলনে যোগ দেন এবং যোগদান শেষে লন্ডনে সাংবাদিকদের বঙ্গবন্ধু হত্যা প্রসঙ্গে তোপের মুখে পড়ে বলেন,"দেশ ফেরাউনের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।"

বিচারপতি সায়েম রাষ্ট্রপতি হয়ে

৬ নভেম্বর জাতীয় সংসদ বাতিল করেন। খালেদ মোশাররফের সামনে একটি সাংবিধানিক পদ খোলা ছিল - চাইলে তিনি স্পিকার মালেক উকিলকেই রাষ্ট্রপতি পদে আসীন হওয়ার সুযোগ করে দিতে পারতেন। উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রী মনসুর আলী ৩ নভেম্বর নিহত হওয়ার পর স্পীকারই ছিলেন রাষ্ট্রপতি পদের দাবিদার। প্রকৃতপক্ষে খালেদ মোশাররফ আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় ফেরাতে চাননি। তার মা বরং জাতীয় চার নেতা হত্যার প্রতিবাদে বের হওয়া মিছিলে শামিল হওয়ার খবর শুনে নিজের পতনের পদধ্বনিই শুনতে পেয়েছিলেন। 

জেনারেল জিয়া, জেনারেল খালেদ মোশাররফ ও কর্নেল তাহের মুক্তিযুদ্ধের তিন বীর উত্তমেরই লক্ষ্য ছিল ক্ষমতা। তিনজনই পরিচালিত হচ্ছিলেন অবৈধ পন্থায়। জিয়া ক্ষমতার স্বাদ পেলেও ১৯৮১ সালের ৩০ মে মুক্তিযুদ্ধের আরেক বীর উত্তমের হাতেই নৃশংসভাবে হত্যার শিকার হন। ফিরে আসছি মূল বিষয়ে। জেনারেল জিয়া রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে পদচ্যুত রাষ্ট্রপতি সায়েমেরই বিশেষ সহকারী বিচারপতি আব্দুস সাত্তারকে উপরাষ্ট্রপতি করেন। জিয়া নিহত হলে তিনি অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হন। জেনারেল জিয়া বঙ্গভবনকে অফিস হিসেবে ব্যবহার করলেও পরিবার নিয়ে বাস করতেন ক্যান্টনমেন্টেই। ১৯০৬ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমে জন্ম নেয়া আব্দুস সাত্তার ১৯৮১ সালের ১৫ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ প্রার্থী ডঃ কামাল হোসেনকে হারিয়ে। তাঁরও সুখ সইলো না। তাঁকেও বঙ্গভবন ছাড়তে হয়। জেনারেল জিয়া কর্তৃক নিযুক্ত সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ঘুম হারাম করে দিয়ে বঙ্গভবনে নীরব সামরিক অভিযান চালালে ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ। জেনারেল এরশাদ সামরিক আইন জারি করে ২৭ মার্চ রাষ্ট্রপতি পদে বসিয়ে দিলেন দূরসম্পর্কের আত্মীয় বিচারপতি আবুল ফজল মোহাম্মদ আহসান উদ্দিন চৌধুরীকে। ১৯১৫ সালে ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণকারী রাষ্ট্রপতি চৌধুরীরও বিদায় ঘটলো অসৌজন্যমূলকভাবে। বঙ্গভবন ত্যাগ করতে হলো তাঁকেও। ১৯৮৩ সালের ১১ ডিসেম্বর প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক এরশাদ নিজেই রাষ্ট্রপতির পদ দখলে নিলেন। ১৯৩০ সালের ১ ফেব্রুয়ারী জন্মনেয়া এরশাদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনও দিলেন। যে নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর খুনী কর্নেল সৈয়দ ফারুক রহমানও তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় হাফেজ্জী হুজুরের সঙ্গে। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের মুখে পতন হয়। জেনারেল এরশাদও বঙ্গভবন ব্যবহার করলেও পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন ক্যান্টনমেন্টেই। ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর তা়ঁকে  পদত্যাগ করতে হয় তিনজোটের রূপকথার আলোকে। উপরাষ্ট্রপতি ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ পদত্যাগ করলে রাষ্ট্রপতি এরশাদ তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদকে উপরাষ্ট্রপতি নিয়োগ করেন। তারপর এরশাদ পদত্যাগ করলে উপরাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন  অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি বঙ্গভবনে থাকতেন পরিবার নিয়ে। ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার পদ্ধতি নিয়ে তিনজোটের ঐতিহাসিক রূপরেখা নিয়ে অচলাবস্থা দেখা দেয়। শেষ পর্যন্ত ক্ষমতাসীন বিএনপি, বিরোধী দল আওয়ামী লীগ তিনজোটের রূপরেখার ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের পক্ষে ভোটদান করে  দেশে সংসদীয় সরকার পদ্ধতি প্রবর্তন করে। অবসান ঘটে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার পদ্ধতির। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হন এবং ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি হন স্পীকার আব্দুর রহমান বিশ্বাস। ১৯২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর জন্ম আব্দুর রহমান বিশ্বাস প্রথম মেয়াদ পূর্ণ করা দেশের রাষ্ট্রপতি। তবে ক্ষমতাসীন বিএনপির সঙ্গে তার সম্পর্কের টানাপোড়েন চলে। গণঅভ্যুত্থানের মুখে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বিল পাস করে আওয়ামী লীগের দাবি মেনে নিতে হয় ক্ষমতাসীন বিএনপিকে। প্রতিরক্ষা এসময় রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যাস্ত হয়। প্রধান উপদেষ্টা (প্রধানমন্ত্রী) হন সাবেক প্রধান বিচারপতি মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান। ওই সময় সম্ভাব্য একটি সামরিক অভ্যুত্থান রাষ্ট্রপতি রহমান বিশ্বাস নস্যাৎ করে দেন। তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল নাসিমসহ কয়েকজন জিওসিকে জেনারেলকে বরখাস্ত করার মাধ্যমে। প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানের অধীনে অনুষ্ঠিত  ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়ে জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠন করেন।  ১৯৯৬ সালের ৯ অক্টোবর সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন ১৯৩০ সালের ১ ফেব্রুয়ারী নেত্রকোনায় জন্মগ্রহণকারী  বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ। তিনি সপরিবারে বঙ্গভবনেই থাকতেন। ১৯৩০ সালের ১ ফেব্রয়ারি জন্মনেয়া সাহাবুদ্দিন আহমেদের সঙ্গেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দুরত্বের সৃষ্টি হয়। ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের নির্বাচনকে আওয়ামী লীগ "সালসা" নির্বাচন বলে অভিহিত করে। সা- মানে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন, ল-মানে প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি লতিফুর রহমান এবং সা- মানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ সাঈদ। বিএনপি-জামাত টু থার্ট মেজররিটি নিয়ে বেগম খালেদা জিয়া নেতৃত্বে সরকার গঠন করে। ২০০১ সালের ১৪ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি হন অধ্যাপক ডাঃ একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। ১৯৩২ সালের ১ নভেম্বর মুন্সিগঞ্জে জন্মগ্রহণকারী বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সঙ্গে কয়েকটি নীতিগত প্রশ্নে বিএনপির মতদ্বৈততার সৃষ্টি হয়। মহামান্য রাষ্ট্রপতির মৃত্যুবার্ষিকীর  বানীতে জিয়াউর রহমানকে "স্বাধীনতার ঘোষক" না বলা, জিয়ার মাজার জিয়াররত করতে না যাওয়া  ইত্যাদি এ দ্বন্দ্বের কারণ। শেষ পর্যন্ত যে সংসদ কর্তৃক তিনি নির্বাচিত হন সেই সংসদের সরকারি দলই অভিশংসনের হুমকিপ্রদান করে এবং বিএনপি সংসদীয় দলের সভায় তাকে পদত্যাগ করতে বলা হয়। বদরুদ্দোজা চৌধুরী ২০২০ সালের ৬ জুন রাষ্ট্রপতির পদ ত্যাগ করেন। বদরুদ্দোজা চৌধুরী এরপর বঙ্গভবন ত্যাগ করেন। ফলে অস্থায়ী বা ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হন স্পীকার

ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। তিনি তিনমাস দায়িত্ব পালনকালে বঙ্গভবনে থাকেননি। বেইলীরোডে স্পিকারের বাসভবনেই থাকতেন।

২০০২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি হন ডঃ ইয়াজউদ্দীন আহমেদকে।

১৯৩১ সালের ১ ফেব্রুয়ারী মুন্সিগঞ্জে জন্মনেয়া ইয়াজউদ্দিন মহাবিতর্কের অবতারণা করেন। আওয়ামী লীগ তথা মহাজোটের তীব্র আন্দোলনের মুখে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা পদগ্রহণে বিচারপতি কেম হাসান অস্বীকৃতি জানালে ডঃ ইয়াজউদ্দিন নিজেই প্রধান উপদেষ্টা পদ গ্রহণ করেন। ২০০৬ সালের ২২ জুলাই একতরফা সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানেরও মতলব আঁটলে মহাজোট তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারী মানে ওয়ান ইলেভেন সংঘটিত হয়। রাষ্ট্রপতি ডঃ ইয়াজউদ্দিনকে বাধ্য করা হয় প্রধান উপদেষ্টা পদ ছাড়তে। সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপে প্রধান উপদেষ্টা হন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ফখরুদ্দিন আহমেদ। নির্বাচনও বাতিল করা হয়। নতুন করে ভোটার তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়। হঠাৎ করেই সামনে নিয়ে আসা হয় "টু মাইনাস থিউরি।" অর্থাৎ শেখ হাসিনা ও বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে বিদায় করার ষড়যন্ত্র। শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করে কারাবন্দী করা হয়। পরে বেগম খালেদা জিয়াকেও গ্রেফতার করে কারাবন্দী করা হয়। পরিস্থিতি ভিন্নদিকে মোড় নেয়। খেলার মাঠের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের সঙ্গে সঙ্গে সংঘর্ষ হয় সেনাবাহিনীর সদস্যদের। সঙ্গে আস্থার সংকটে পড়ে সেনাবাহিনী প্রধান মইন ইউ আহমেদ ও  সেনাসমর্থিত ফখরুদ্দিন সরকারের। শুরু হয় দুই নেত্রীর পৃথক  মুক্তির আন্দোলন। শেষ পর্যন্ত মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হয় সংসদ নির্বাচন। আওয়ামী লীগ একাই টুথার্ট মেজররিটি ছাড়িয়ে যায়।

বিএনপি পায় মোটে ২৯টি আসন।

 ইতিমধ্যে সুপ্রিমকোর্ট কর্তৃক নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অবৈধ ও বাতিল ঘোষিত হয়েছিল, তার আলোকে সংসদে সংবিধান সংশোধন বিলও পাস হয়ে যায়। সুপ্রিমকোর্টের রায় অনুযায়ী বাহাত্তরের মূলনীতিও পুনঃস্থাপিত হয় সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করে দলের প্রবীন নেতা জিল্লুর রহমানকে। ১৯২৯ সালের ৯ মার্চ কিশোরগঞ্জে জন্মগ্রহণকারী জিল্লুর রহমান ২০১৩ সালের ২০ মার্চ লন্ডন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। ২০০৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জিল্লুর রহমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনিও বঙ্গভবনে ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর স্পীকার অ্যাডভোকেট মোঃ আব্দুল হামিদ রাষ্ট্রপতি হন। ১৯৪৪ সালের ১ জানুয়ারি কিশোরগঞ্জে  জন্ননেয়া আব্দুল হামিদ দ্বিতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন ২০১৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি। তিনি দুই মেয়াদই বঙ্গভবনের বাসিন্দা। তাঁর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় নতুন রাষ্ট্রপতি  নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ  সাহাবুদ্দিন। তিনি আগামী ২৪ এপ্রিল তার শপথ নিবেন। ১৯৪৯ সালের ১০ ডিসেম্বর পাবনায় জন্মগ্রহণকারী সাহাবুদ্দিন দেশের ২২ তম রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপ্রধানের বাসভবন হিসাবে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হোক, আর নিয়মতান্ত্রিক রাষ্ট্রপ্রধানের  আলংকারিক শোভাবর্ধনকারী হোক, বঙ্গভবন আমাদপর অনুভূতির স্থল। যার আষ্টেপৃষ্ঠে লেপ্টে আছে উত্থানপতনের স্মৃতিচিহ্ন আর  বঙ্গভবনের প্রাচীন ইতিহাস।

লেখকঃ সিনিয়র সাংবাদিক, কলামিস্ট ও ইতিহাস গবেষক।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

ইফতার পার্টি না করতে শেখ হাসিনার নির্দেশ: নেপথ্যে দার্শনিক ভিত্তি


Thumbnail

রমজান মাস হলো সংযমের মাস। সংযম হিসেবেই আমরা রোজা রাখবো আর ইফতারের নামে ইফতার বিলাশ করবো এটা একটা আরেকটার সাথে বিশেষ করে বর্তমান বিশ্বের অর্থনৈতিক বিচারে মানায় না। সম্প্রতি দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা বড় ইফতার পার্টি আয়োজন না করার নির্দেশ দিয়েছেন। কি জন্য বারবার তাকে দার্শনিক বলি এটাই হচ্ছে তার বড় প্রমাণ। তিনি দেখলেন যে, যদি ইফতার বিলাশ বন্ধ না করা যায় তাহলে দুটি দিক ক্ষতি হবে। একটি হচ্ছে রোজার মাসে যে সংযম করার কথা সেটা হবে না। অন্যটি হলো ইফতার বিলাশের আড়ালে অপচয় হবে। ইফতার পার্টি না করলে অপচয় রোধ হবে। এই অপচয়কে রোধ করতে না পারলে সমস্ত জিনিসের দাম বাড়বে। আপাতত দৃষ্টিতে দার্শনিক শেখ হাসিনার এই সিদ্ধান্তটিকে ছোট মনে হলেও এর বিশাল একটা দার্শনিক ভিত্তি আছে। 

মানানীয় প্রধানমন্ত্রী যে আহ্বান আমাদেরকে জানিয়েছেন আমরা যদি এই আহ্বান পালন করি তাহলে রোজার মাসে কোন দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়ার কোন সম্ভাবনা থাকবে না। তখন আর পেঁয়াজের দামও বাড়াতে পারবে না। বেগুনির নামে বেগুনের দামও আর বাড়াতে পারবে না। কারণ এতোদিন পর্যন্ত বড় বড় ইফতার পার্টিতে আমরা দেখেছি যে অপচয়ই হয় বেশি। কারণ দাওয়াত করলে পার্টিতে অনেক কিছুর আয়োজন করা হয়। কোন কোন সময় সেটা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি করা হয়। অথচ ইফতার যার যার ব্যক্তিগত ব্যাপার। রোজার মাসে আমাদের প্রতিটি ক্ষেত্রে সংযম করতে হবে। এই কারণেই দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা আমাদের স্মরণ করিয়ে দিলেন যে, অপচয় করা যাবে না এবং ইফতার বিলাশ বন্ধ করতে হবে। এজন্য তার প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা। 

আমরা যদি সঠিকভাবে সংযম করতে পারি তাহলে দেশের বাইরে থেকে আমাদের অনেক কিছু আমদানি করতে হবে না। এর ফলে আমাদের ডলারেরও অপচয় রোধ করা হবে। কারণ অনেক অপ্রয়োজনীয় জিনিস আমরা আমদানি করে থাকি যা আসলে দরকারই নয়। ইফতার পার্টি না করার নির্দেশ দিয়ে দার্শনিক শেখ হাসিনার ধর্মের সাথে জাগতিক বিষয়ের একটা অসাধারণ সমন্বয় ঘটালেন। এর ফলে উনি আমাদের মধ্যে ধর্মের ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করলেন। এতে বুঝা যায় যে, তিনি সত্যিকারে কতটুকু ধার্মিক। একজন সত্যিকারের ধার্মিক না হলে তার পক্ষে রোজার মাসে এ ধরনের নির্দেশ নিশ্চিয় আসত না। প্রতিটি জিনিসের ক্ষেত্রে দার্শনিক শেখ হাসিনা মাইক্রো লেভেল পর্যন্ত খোঁজ খরব রাখন এবং উপযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তিনি আমাদের দেখালেন যে, আমরা যদি ইফতার বিলাশ বন্ধ করি তাহলে শুধু অপচয় রোধই হবে না, এর ফলে জিনিসপত্রের দাম যেমন বাড়বে না তেমনি ডলারের অপচয় রোধ হবে। ফলে বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী একটি পিলারের ওপর দাঁড়াতে পারবে। সুতরাং এই নির্দেশ আমাদের অবশ্যই মানতে হবে। এর সুদূরপ্রসারী একটি ফল পাবে বাঙালিরা। এই নির্দেশ মানার ফলে অপচয় না করার একটা অভ্যাস আমাদের মধ্যে তৈরি হবে এই এক মাসে। ফলে আমাদের অপ্রয়োজনীয় অনেক খরচই কমে আসবে।

আমাদের মনে রাখতে হবে যে, আমরা বিলাশ বহুল অনেক জিনিস আমদানি করি যার কোন প্রয়োজন নেই। এই যে অপচয় করার অভ্যাস এই অভ্যাস থেকে আমাদের মুক্তি হবে যদি আমরা শেখ হাসিনার নির্দেশ মানি। আমাদের রোজার মাসের যাত্রাটাও অনেক সুন্দর হবে। আমরা দার্শনিক শেখ হাসিনার নির্দেশ মানলে আমাদের আর শুনতে হবে না যে, কালকে পেঁয়াজ নাই, পরশু দিন পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। সুতরাং অপচয় বন্ধের আমরা যে নির্দেশনা পেয়েছি আমরা যদি এটা পালন করি তাহলে আমরা ধর্মের সাথে আমাদের জাগতিক বিষয়গুলো সুন্দর ভাবে মেলাতে পারব এবং আমাদের জীবনযাত্রায় অভূতপূর্ব ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।


রমজান   ইফতার পার্টি   দার্শনিক  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

পিলখানা ট্র্যাজেডি ও শেখ হাসিনার নেতৃত্ব

প্রকাশ: ১১:০০ এএম, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪


Thumbnail

আজ থেকে ১৫ বছর আগে ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি (২০০৯) বিডিআর সদর দফতর পিলখানায় ইতিহাসের বর্বরতম হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়। এটি ছিল জাতির জীবনের অন্যতম কলঙ্কিত অধ্যায়। সেসময় রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার দৃঢ় ও সাহসী ভূমিকার জন্য বাংলাদেশ কঠিন সংকট মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোটের দুঃসহ অত্যাচার, অনাচার এবং দুর্নীতির প্রেক্ষাপটে দেশের মানুষ নিজের অধিকার আদায়ের জন্য নিরপেক্ষ-নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত সর্বজন প্রশংসিত নির্বাচনের মাধ্যমে ২০০৯ সালে মহাজোটকে দেশ পরিচালনার ম্যান্ডেট দেয়। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট দেশের দায়িত্বভার গ্রহণ করার মাত্র ৪৭ দিনের মাথায় পিলখানার বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। ওই বীভৎস ঘটনায় সর্বমোট ৭৪ জন প্রাণ হারান। যার মধ্যে ৫৭ জন ছিলেন দেশের মেধাবী সেনা কর্মকর্তা। এটি সহজে অনুমান করা যায় যে, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী অপশক্তি নতুন সরকারকে অস্থিতিশীল করার জন্যই এ ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছিল।

২০১৩ সালে তার রায় ঘোষিত হওয়ার মধ্য দিয়ে, ইতিহাসের বীভৎসতম হত্যাকাণ্ডের কলঙ্ক মোচন হয়েছে। পিলখানায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে হত্যার দায়ে ডিএডি তৌহিদসহ ১৫২ জনের ফাঁসির আদেশ হয়েছে। বিএনপির নেতা নাসিরউদ্দিন পিন্টু ও স্থানীয় নেতা তোরাব আলীসহ ১৬১ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে। সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজার আদেশ হয়েছে ২৬২ জনের। রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হওয়ায় খালাস পেয়েছে ২৭১ জন। বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পর সরকার কালবিলম্ব না করে তিন পর্যায়ে ওই ঘটনার তদন্ত কাজ সম্পন্ন করে। এগুলো হলো- বিডিআর কর্তৃক তদন্ত, সেনাবাহিনী কর্তৃক তদন্ত এবং জাতীয় তদন্ত। তদন্ত শেষে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কয়েকটি দাবি উত্থাপিত হয়। দাবিসমূহের মধ্যে একটি দাবি ছিল বিদ্রোহের বিচার সামরিক আইনে করা। শেখ হাসিনা সরকার অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে সেনা কর্মকর্তাদের সব দাবি পূরণ করেছেন। একই সঙ্গে বিচার প্রক্রিয়াকে সর্বপ্রকার বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখার জন্য ১৭ আগস্ট ২০০৯ তারিখে মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক সংবিধানের আর্টিকেল ১০৬-এর অধীনে সুপ্রিম কোর্টে রেফারেন্স প্রেরণ করেন। ১৯ আগস্ট ২০০৯ তারিখে সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক ১০ জন সিনিয়র আইনজীবীকে এমিকাস কিউরি নিয়োগ করা হয়। দীর্ঘ বিচার ও রায় শেষে ২০২০ সালের ৮ জানুয়ারি পিলখানা হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন হাইকোর্ট।

পৃথিবীর ইতিহাসে আসামির সংখ্যা বিবেচনায় এত বড় বিচার কার্যক্রম কোথাও কখনো অনুষ্ঠিত হয়নি। সঙ্গত কারণেই এই বিচারকে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও প্রশ্নাতীত করার লক্ষ্যে কিছুটা সময় লেগেছে। এরই সুযোগ নিয়ে বিএনপি-জামায়াত জোট এই বিচার বাধাগ্রস্ত করার লক্ষ্যে বিরতিহীনভাবে নানাবিধ অপপ্রচার চালিয়েছে। এমনকি তারা ক্ষমতায় গেলে বিজিবি-এর নাম পরিবর্তন করে আগের নাম এবং পোশাক বহাল রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে বলেও জানা যায়। বিজিবিতে ভবিষ্যতে যে কোনো প্রকার বিদ্রোহ বন্ধের জন্য বর্তমান সরকার ‘বিজিবি এ্যাক্ট-২০১০’ সংসদে পাস করেছে, যা আর্মি এ্যাক্টের অনুরূপ। এই আইনে বিদ্রোহের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। দুঃখজনক হলেও সত্য, বিএনপি-জামায়াত জোট আজও বিডিআরের বিচার-সংক্রান্ত বিভিন্ন অপপ্রচার চালিয়ে সেনাবাহিনী এবং দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চক্রান্তে জড়িত। তাদের অনেকেই ওই সময় সেনা বিধি ৫ মোতাবেক সেনা আইনে এ বিদ্রোহের বিচারের বিরোধিতা করেছিল। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বিডিআর বিদ্রোহ চলাকালীন রহস্যজনক অবস্থান অনেকের মনে প্রশ্নের উদ্রেক করেছে। বিএনপি শাসনামলে ১৯৭৭-১৯৮১ সাল পর্যন্ত সংঘটিত ২১টি সামরিক অভ্যুত্থানে ১২০০’র বেশি সেনা ও বিমানবাহিনীর সদস্য নিহত হলেও এসব অভ্যুত্থানের কোনো দৃশ্যমান বিচার হয়নি। এমনকি অনেক মামলার নথিও গায়েব হয়ে গেছে।

শেখ হাসিনা বিডিআর হত্যাযজ্ঞ পরিস্থিতি সেদিন দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছিলেন। অপরাধীদের বিচারকার্য সম্পন্ন করে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে সম্মানিত করার প্রতিজ্ঞাও রয়েছে তাদের। ২০০৯ সালে মহাজোট সরকারের নেতৃত্বে গণতন্ত্র নতুন করে বিকশিত হওয়ার সময় চক্রান্তকারীদের পিলখানা হত্যাযজ্ঞ দেশের ইতিহাসে মর্মন্তুদ ঘটনা। ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র দেড় মাসের মাথায় এই বর্বরোচিত ঘটনা কিসের আলামত ছিল? সেনাবাহিনীর ৫৭ কর্মকর্তা হত্যার শিকার হবার পরেও গোটা ফোর্স ধৈর্য ধারণ করেছেন; ন্যায় বিচারের অপেক্ষা করেছেন। বর্তমান সরকারের প্রতি সেনাবাহিনীর এরচেয়ে বড় অবদান আর কি হতে পারে? গত আমলে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে আরো একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এসব কেবল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা থেকে সম্ভব হয়েছে। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৯-এ বিডিআরদের উদ্দেশ্যে তাঁকে বলতে শোনা যায়- ‘আপনারা জানেন, গতকাল (২৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার পিলখানায় বিডিআর সদর দপ্তরে যে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেছে তার জন্য আমি অত্যন্ত মর্মাহত। আত্মঘাতী এই হানাহানিতে জীবন দিতে হয় আমাদের দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তা, বিডিআর সদস্য ও বেসামরিক নাগরিকদের। এ প্রাণহানির ঘটনায় আমি দারুণভাবে মর্মাহত এবং দুঃখিত। আমি নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। তাদের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানাই। আমার প্রশ্ন, কার বুকে গুলি চালাবেন? তারা তো আপনারই ভাই। ভাই হয়ে ভাইয়ের বুকে গুলি করবেন না। আপনার বোনকে বিধবা করবেন না। আমরা আপনাদের সমস্যা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। অত্যন্ত ধৈর্য সহকারে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা আমরা করে যাচ্ছি। আপনারা আমাকে সাহায্য করুন। এমন পথ নেবেন না যে ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায়। আমাকে দেশের স্বার্থে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করবেন না। মনে রাখবেন, সংঘাত আরো সংঘাত বাড়ায়। আপনারা সংযত হোন। অস্ত্র সমর্পণ করুন। আপনাদের কোনো ক্ষতি হবে না, আমি আশ্বস্ত করছি।’

প্রধানমন্ত্রীর সেদিনের পুরো ভাষণ জুড়ে ছড়িয়ে আছে নিহতদের জন্য শোক আর তাদের স্বজনদের জন্য কাতরতা। ভাষণটির শেষাংশে তিনি বিডিআর হানাদারদের কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি করেছেন যেমন, তেমনি বারবার সেনা পরিবারের ক্ষতির কথা স্মরণ করেছেন। এর চেয়ে মানবিক দলিল আর কি হতে পারে? ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে পিলখানার তাণ্ডবের খবর পেয়ে তিনি সংকট সমাধানে নিজেই উদ্যোগ গ্রহণ করেন। মন্ত্রিসভার সদস্য, নিজের দল ও মহাজোটের নেতৃবৃন্দ, তিন বাহিনী প্রধান, পুলিশের আইজি, র্যাবের ডিজিসহ আরো অনেকের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেন। সকলের পরামর্শের ভিত্তিতেই প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও হুইপ মির্জা আজমকে পিলখানায় প্রেরণ করা হয়। তাঁরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নেত্রীর নির্দেশে সংকট নিরসনে প্রচেষ্টা চালান। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনসহ আওয়ামী লীগ ও মহাজোটের বেশ কয়েকজন নেতা বর্বর বিডিআর জওয়ানদের ভয়ে ভীত না হয়ে পিলখানায় ঢুকে জিম্মিদশা থেকে উদ্ধার করেন সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারদের। শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর প্রজ্ঞা, বুদ্ধিমত্তা, কৌশল ও দূরদর্শী নেতৃত্ব, সশস্ত্র বাহিনী প্রধানদের আন্তরিক সহযোগিতায় অবসান ঘটে তথাকথিত বিডিআর বিদ্রোহের।

বড় ধরনের রক্তপাত থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করলেও শেখ হাসিনার দায়িত্ব তখনো শেষ হয়নি। কঠিন শোকের মধ্যেও সমগ্র সেনাবাহিনীর সদস্যরা শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে প্রতিশোধ স্পৃহায় মেতে ওঠেননি নেত্রীর প্রতি আস্থার কারণে। আর তাদের দেশপ্রেম ও সংযমের কথা দেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে বলেই তিনি মার্চের প্রথম দিন সেনাকুঞ্জে সেনা-কর্মকর্তাদের মুখোমুখি হয়ে তাদের ক্ষোভের প্রশমন করেন। সেনাকুঞ্জের এই সাক্ষাতের ঘটনা নিয়ে বিরুদ্ধ পক্ষ ইন্টারনেটে নানা অপপ্রচার চালায় এবং এখনো তা অব্যাহত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগত জীবনের শোকের কথা বলে সেদিন উপস্থিত সেনাদের প্রাথমিক বিভ্রান্তির অবসান করেছিলেন। তবে সেনাপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রীর সামনে বিক্ষুব্ধ অফিসারদের আচরণ শৃঙ্খলা পরিপন্থী হলেও শেখ হাসিনার পরিস্থিতি মোকাবিলার ক্ষমতায় তা বীভৎস হয়ে ওঠেনি। বরং নির্বাচিত ও গণতান্ত্রিক সরকারের নির্দেশকে অসীম মর্যাদা দিয়েছিলেন সেনা কর্মকর্তারা। সেনাকুঞ্জে তাদের চিৎকার ও ক্রন্দনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী সেদিন শোকের প্রকাশ দেখেছিলেন।

মূলত শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় নৃশংস বিডিআর বিদ্রোহের কারণে এ বাহিনীর পুনর্গঠনের দাবি ওঠে। ২০০৯ সাল থেকেই সরকার দ্রুততার সঙ্গে বিডিআরকে পুনর্গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করে। বিজিবিকে পুনর্গঠনের লক্ষ্যে নতুন আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর ‘বর্ডার গার্ড আইন ২০১০’ সংসদে পাস করা হয়েছে। ফলে বিডিআর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবি নামে আত্মপ্রকাশ করেছে। নতুন পোশাক, নতুন নাম এবং সংশোধিত আইন নিয়ে এই প্রতিষ্ঠান আবারো দৃঢ় পদক্ষেপে সামনের দিকে এগিয়ে চলছে মাথা উঁচু করে। পুনর্গঠনের আওতায় বিজিবির ৩৬ ব্যাটালিয়ন বিজিবি অবলুপ্ত করা হয়েছে ২০১৩-এর ১৫ জুলাই এবং ১৩ ব্যাটালিয়ন বিজিবিকে ২৫ আগস্ট অবলুপ্ত করা হয়। এর আগে ২০১১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ২৪ ব্যাটালিয়নকে (পিলখানায় অবস্থিত) অবলুপ্ত করা হয়। প্রথম পর্যায়ে ২০১২-১৩ অর্থবছরে চারটি অঞ্চল, চারটি সেক্টর, চারটি অঞ্চল ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো এবং তিনটি বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের জন্য (বিয়ানীবাজার, রুমা ও বাবুছড়া) মোট ছয় হাজার ৩১৬টি পদের বিপরীতে লোক নিয়োগের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

দ্বিতীয় পর্যায়ে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বাগাইহাট এবং কুলাউড়া বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের জন্য এক হাজার ৫২৪টি পদে লোক নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন সম্পন্ন হয়েছে। পুনর্গঠনে পাল্টে গেছে বিজিবির প্রশাসনিক ও অপারেশনাল কাঠামো। পাশাপাশি বেড়েছে জওয়ানদের সুযোগ-সুবিধাও। এখন বিজিবি সব সদস্যই সীমান্ত ভাতা পাচ্ছে। একই সঙ্গে জওয়ানদের পরিবারের মাসিক জ্বালানি খরচও বাড়ানো হয়েছে ৩ গুণ। বাড়ানো হয়েছে মসলা ভাতার পরিমাণও। পুনর্গঠনের আলোকে বিজিবিকে ৪টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়। এসব অঞ্চলের মধ্যে উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের সদর দফতর হয়েছে নওগাঁয়, দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের সদর দফতর যশোর, উত্তর-পূর্ব সদর দফতর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে এবং দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের সদর দফতর চট্টগ্রাম। একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদমর্যাদার কর্মকর্তা আঞ্চলিক সদর দফতরের প্রধান। তাছাড়া নতুনভাবে তৈরি ১১টি ব্যাটালিয়ন নিয়ে সদর দফতর করা হয়েছে। বিজিবির পুনর্গঠন প্রস্তাবের আলোকে বেশকিছু সংস্কারমূলক কাজে হাত দেয় কর্তৃপক্ষ।

বিজিবির পুনর্গঠনে জওয়ানদের সুযোগ-সুবিধার বিষয়গুলোতে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে জওয়ানদের রেশন ও অন্যান্য ভাতাও। সীমান্ত ভাতা অনুমোদিত হওয়ায় এখন থেকে সব বিজিবি সদস্যই মাসিক ৩৩৮ টাকা ভাতা পাচ্ছেন। ইতোমধ্যে জওয়ানদের রেশন সুবিধা বাড়ানো হয়েছে শতভাগ। বাড়ানো হয়েছে যানবাহন ও চিকিৎসা সুবিধাও। এ জন্য বিজিবি সদস্যদের জন্য আরো ৩টি হাসপাতাল তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তাছাড়া বিজিবি সদস্যদের জাতিসংঘ মিশনে পাঠানোর বিষয়টিও সক্রিয়ভাবে সরকার বিবেচনা করছে। পুনর্গঠনের আলোকে বিজিবি জওয়ানদের মানবাধিকার বিষয়েও প্রশিক্ষণ দেয়া শুরু হয়েছে।

তাছাড়া প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাপনাতেও আমূল পরিবর্তনের অংশ হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে নতুন পাঠ্যসূচি। বিশেষ করে সীমান্ত সুরক্ষা, জওয়ানদের শারীরিক ও মানসিক যোগ্যতার বিষয়াদি নিয়ে পৃথক ট্রেনিং অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাছাড়া যুক্ত করা হয়েছে নারী ও শিশু পাচার রোধে করণীয়-সংক্রান্ত অধ্যায়ও। একইভাবে বিজিবি জওয়ানরা কীভাবে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় পারদর্শিতা অর্জন করতে পারবে সে বিষয়েও শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। তাছাড়া সীমান্তে অপারেশনাল কর্মকাণ্ড জোরদারের পাশাপাশি চোরাচালন, মাদক নিয়ন্ত্রণ ও নিয়োগ প্রক্রিয়া ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্তে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার জন্য সরকার বিজিবি সদস্যদের ১৪শ মোটরসাইকেল সরবরাহ করেছে।

বিজিবি পুনর্গঠনের এই ব্যাপক তৎপরতার সঙ্গে সঙ্গে শেখ হাসিনা সরকার কর্তৃক নিহত সেনা পরিবারদের জন্য নেয়া উদ্যোগগুলো উল্লেখের দাবি রাখে। বিজিবি হত্যাকাণ্ডে নিহত সামরিক কর্মকর্তাদের পরিবারের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আর্থিক সহযোগিতা দেয়া হয়েছে কয়েকটি তহবিল থেকে। প্রতিটি পরিবারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর অনুদান দশ লাখ টাকা; সেনাবাহিনী কল্যাণ তহবিল থেকে অনুদান পাঁচ লাখ; বিডিআর তহবিল থেকে অনুদান পঞ্চাশ হাজার; বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ব্যাংকস কর্তৃক প্রতি বছর চার লাখ আশি হাজার টাকা হিসেবে অদ্যাবধি সর্বমোট বিগত ৫ বছরে চব্বিশ লাখ টাকা প্রদান করা হয়েছে।

এ ছাড়া নিহত অফিসার পরিবারবর্গকে দুই লাখ টাকার ট্রাস্ট মিউচুয়্যাল ফান্ডের প্লেসমেন্ট শেয়ার প্রদান করা হয়েছে। তাছাড়া নিয়মানুযায়ী প্রত্যেক নিহতের পরিবারকে পরিবার নিরাপত্তা প্রকল্প তহবিল, ডিএসওপি ফান্ড, কল্যাণ তহবিল থেকে অনুদান, মৃত্যু আনুতোষিক, ছুটির পরিবর্তে নগদ অর্থ, কম্যুটেশন এবং মাসিক পেনশন প্রদান করা হয়েছে। আর্থিক প্রণোদনা ও সহযোগিতার সঙ্গে অন্যান্য কল্যাণমূলক কাজও করা হয়েছে নিহতদের পরিবারবর্গের জন্য। নিহত অফিসার পরিবারের ৩২ জন সদস্যকে চাকরি প্রদান করা হয়েছে, ৮৪ জন সদস্যকে (স্ত্রী/সন্তান) বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি এবং বিনা বেতনে অধ্যয়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদের স্থায়ী আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিতের জন্য ৩৭ জনকে মিরপুর ডিওএইচএসে প্লট দেয়া হয়েছে। ১০ জনকে মিরপুর ডিওএইচএসে ২টি করে স্বয়ংসম্পূর্ণ ফ্ল্যাট প্রদানের জন্য বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।

নিহতদের পরিবারবর্গের দুধ কুপন কার্ড, সামরিক টেলিফোন সংযোগ এবং নিয়মানুযায়ী সিএমএইচে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নানা প্রতিকূলতা, অপপ্রচার ও চক্রান্তকে অতিক্রম করে তথাকথিত বিডিআর বিদ্রোহের বিচার সম্পাদনের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা সরকার একটি ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেছে। যারা নানা ধূম্রজাল সৃষ্টি করে এ ন্যক্কারজনক হত্যাকাণ্ডের বিচারকে বাধাগ্রস্ত করতে চেয়েছে তাদের অপপ্রয়াস ভেস্তে গেছে। বরং জাতি একটি কলঙ্কের দায় থেকে মুক্তি পেয়েছে।

গত ১৫ বছরে পুনর্গঠিত বিজিবি অতীতের গ্লানি ভুলে নবউদ্যমে সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। কেবল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা সরকারের সদিচ্ছার কারণে দেশবাসীর প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে; বাহিনীগুলোর মধ্যে পারস্পরিক হৃদ্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ২০০৯ সালে পরিস্থিতি মোকাবিলা থেকে শুরু করে ২০২৩ সাল অবধি সেনা ও বিজিবি’র জন্য যা কিছু কর্মসূচি বাস্তবায়ন হয়েছে তার জন্য অবশ্যই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রশংসার দাবি রাখেন।তাঁর সহানুভূতি, মমত্ববোধ ও আন্তরিকতার জন্যই শোকাহত পরিবারগুলো শোক কাটিয়ে উঠতে পেরেছে।


(লেখক : ড. মিল্টন বিশ্বাস, বঙ্গবন্ধু গবেষক, অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান, বাংলা বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়,  বিশিষ্ট লেখক, কবি, কলামিস্ট, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরাম, নির্বাহী কমিটির সদস্য, সম্প্রীতি বাংলাদেশ email-drmiltonbiswas1971@gmail.com)    



মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

সিডেশনে মৃত্যু : করণীয় কি?


Thumbnail

সুন্নতি খৎনা ও এন্ডোস্কোপি করতে যেয়ে গত দেড় মাসে খোদ ঢাকা শহরে মারা গেছে তিনজন। অনেকে বলছেন, খৎনায় মৃত্যু, এন্ডোস্কোপিতে মৃত্যু, গ্যাপ কোথায়? এ ব্যাপারে আমার মতামত হচ্ছে, হাসপাতাল গুলোতে সিডেশন গাইডলাইন না থাকাটাই একটি বড় গ্যাপ।

ঢাকা শহরে কয়টি হাসপাতালে সিডেশন গাইডলাইন রয়েছে? দুয়েকটি হাসপাতালে থাকলেও সেখানে সে গাইডলাইন মানা হয় কিনা? 'সিডেশন' হচ্ছে, রোগীর শিরাপথ দিয়ে ঘুম পাড়ানোর ব্যবস্থা করা। সেই ঘুম মানে এনেসথেসিয়া নয়। তাই এ সব সিডেশনের জন্য এনেস্থেটিস্ট এর উপস্থিতি বাধ্যতামূলক নয়। তবে থাকলে ভাল, নিরাপদ।

সিডেশন যে কোন রেজিস্টার্ড চিকিৎসক দিতে পারে, তবে সেটা গাইডলাইন মেনে দিতে হয় । তিনি কি কি ওষুধ কতটুকু প্রয়োগ করতে পারবেন, কোথায় থাকে থামতে হবে সেটি গাইড লাইনে উল্লেখ থাকা প্রয়োজন। যিনি সিডেশন দেন, তাকে বেসিক লাইফ সাপোর্ট জানতে হয়। শুধু জানাটাই যথেষ্ট নয়। বেসিক লাইফ সাপোর্ট প্র্যাক্টিসটি তার রপ্ত রাখা প্রয়োজন। যেখানে গাইডলাইন নেই, সেখানে এ সব মানার সুযোগ কোথায়?   

এনেসথেসিয়ার  অভিধানে 'একটু সিডেশন' বা 'একটু এনেসথেসিয়া' নামে কোন শব্দ নেই। কারণ জীবনটা তো ‘একটু’ নয়। জীবন যার বা যাদের যায়, তারা এর মর্ম বোঝে। 'একটু সিডেশন' দিতে যেয়ে মৃত্যুর দায় কেউ এড়াতে পারে না।

উন্নত বিশ্বে এ ধরণের কোন ঘটনা ঘটলে পরবর্তী কয়েক মাসের মধ্যে সমগ্র দেশের জন্য একটি অবশ্য পালনীয় গাইড লাইন তৈরী হয়ে যায়। আশাকরি আমাদের বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী এমন একটি উদ্যোগ নিবেন, যেটি কার্যকর হতে পারে আগামী সর্বোচ্চ তিন মাসের মধ্যে।

এনেসথেসিয়া সোসাইটিকে অনুরোধ করব, গাইডলাইন তৈরীতে মাননীয় মন্ত্রীকে সহায়তা করুন। সেটি না করলে দিয়ে সিডেশন দিয়ে খৎনা বা এন্ডোস্কোপি করার রোগী দেশে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। সে সব রোগীদের তখন পাওয়া যাবে বেনাপোল সীমান্তে বা এয়ার ইন্ডিয়ার চেক ইন কাউন্টারে।

লেখকঃ ব্রুনাই প্রবাসী এনেস্থেটিস্ট


সুন্নতি খৎনা   এন্ডোস্কোপি   এনেসথেসিয়া সোসাইটি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

'কুই' ভাষা কই?


Thumbnail

দেশে মাত্র চারজন বয়স্ক লোক এখন 'কুই' ভাষায় কথা বলে। এদের  মৃত্যুর সাথে সাথে দেশ থেকে এ ভাষার মৃত্যু হবে। মার্তৃভাষার দাবিতে যে দেশের সূর্যসন্তানেরা আত্মাহুতি দিয়েছেন, সে দেশে অযত্ন, অবহেলায় একটি ভাষার মৃত্যু কোন ভাবে মেনে নেয়া যায় না।

বলছিলাম 'কুই' ভাষার কথা। এটি বাংলাদেশে বসবাসকারী একটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী  'কন্দ' সম্প্রদায়ের ভাষা। দেশে প্রায় পাঁচ হাজার লোক এ সম্প্রদায়ের। উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে এরা বাংলাদেশে বসবাস শুরু করে। এদের আদিনিবাস ভারতের উড়িষ্যা রাজ্য। সে সময় কন্দরা চা ও রেল শ্রমিক হিসাবে এদেশে আসে। পরে তারা চা শ্রমিক হিসাবে এদেশে বসবাস শুরু করে। বর্তমানে এদের বসবাস মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার হরিণছড়া, উদনাছড়া, পুটিয়া ও লাখাউড়ায় এবং কমলগঞ্জ উপজেলার কুড়মাছরা চা বাগানে। ধীরে ধীরে মার্তৃভাষা ভুলে যায়, বাংলা শিখে যায়। এখন তারা বাংলা অথবা উড়িয়া ভাষায় কথা বলে। শুধুমাত্র চারজন প্রবীণ ব্যাক্তি এখন এ ভাষায় কথা বলে। 'কুই' ভাষায় কথা বলার মানুষ পাওয়া যায় না বলে এরা একা একাই 'কুই' ভাষায় কথা কয় (বলে)। এই চার জনের মৃত্যু হলে এদেশ থেকে 'কুই' ভাষা উধাও হয়ে যাবে। তখন 'কুই' ভাষা শুনতে উড়িষ্যা যেতে হবে।  

'কুই' ভাষার অস্তিত্ব রয়েছে ভারতের উড়িষ্যা রাজ্যে। সেখানে প্রায় সাড়ে নয় লাখ 'কন্দ' সম্প্রদায়ের লোক 'কুই' ভাষায় কথা বলে। এদের নিজস্ব কোন বর্ণমালা নেই। 'কুই' ভাষা বিহারে 'দেবনাগরী' লিপিতে ও উড়িষ্যায় 'উড়িয়া' লিপিতে লেখা হয়। ইন্দোনেশিয়ার তিমুর এলাকার কিছু ছিটমহলবাসী 'কুই' ভাষায় কথা বলে। তবে ইন্দোনেশিয়ার 'কুই' ভাষা ও উড়িষ্যার 'কুই' ভাষা পরিপূর্ণভাবে ভিন্ন, কোথাও কোন মিল নেই। তিমুরের ভাষা কে 'কুই' ভাষায় 'মাসিন লাক' বলা হয়।

লাইফ সাপোর্টে থাকা 'কুই' ভাষাটির অস্তিত্ব বজায় রাখতে সরকারি উদ্যোগ ও পরিকল্পনা অত্যাবশ্যক। বাড়িতে নিজেদের মধ্যে মার্তৃভাষার প্রচলন বাড়ানোর জন্য ‘গৃহ ভাষার বিকাশ’ নামের কোনো কর্মসূচি নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে দেশের ভাষা গবেষকরা। 'কন্দ' অধ্যুষিত মৌলভীবাজার জেলায় এ কর্মসূচি গ্রহণ করা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে দেশে অবস্থানরত 'কুই' ভাষাভাষী চারজন, বা প্রয়োজনে উড়িষ্যা থেকে শিক্ষক আনা যেতে পারে। মোদ্দাকথা, লাইফ সাপোর্টে থাকা 'কুই' ভাষাকে বাঁচানো প্রয়োজন।  নতুবা, মার্তৃভাষার দাবিতে জীবনদানকারীদের দেশ থেকে একটি মার্তৃ ভাষার মৃত্যু হলে বায়ান্নর একুশের শহীদদের আত্মা শান্তি পাবে না। এবারের একুশের প্রত্যয় হোক, দেশের সকল মার্তৃভাষা বেঁচে থাকুক। 

লেখক: প্রবাসী চিকিৎসক, কলামিস্ট  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

আমাদের নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই

প্রকাশ: ১২:০০ পিএম, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪


Thumbnail

আমাদের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে সবচেয়ে নিবেদিতপ্রাণ ও একজন সৎ ব্যক্তিকে বেছে নিয়েছেন। আমরা সকল জনস্বাস্থ্য পেশাদার এবং সহায়তা গোষ্ঠী আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানাই এবং আসুন আমরা কোনো স্বার্থ ছাড়াই সকল প্রকার সহায়তার হাত বাড়াই। কয়েক দশক ধরে বড় সাফল্যের সাথে বাংলাদেশে একটি চিত্তাকর্ষক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছে – স্বাস্থ্যসেবা পরিষেবাগুলি এখন মাঠ পথের সম্প্রদায় থেকে সর্বোচ্চ স্তরের এমনকি তৃতীয় স্তর পর্যন্ত সকলের জন্য আজ উপভোগ করা সম্ভব।  সরকারি, অলাভজনক বেসরকারি সংস্থা এবং ক্রমবর্ধমান বেসরকারি সব খাতই আজ বাংলাদেশের জনগণের জন্য স্বাস্থ্যসেবা পরিষেবা উপলব্ধ করতে অবদান রাখছে। বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবার প্রাপ্যতা, ক্রয়ক্ষমতা এবং মান উন্নত হওয়ার সাথে সাথে, আজ (২০২০ সালের পরিসংখ্যান), বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারী গড় ব্যক্তি ৭২ বছরেরও বেশি বয়সে বেঁচে থাকার আশা করতে পারেন, যা ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশি - এই ক্রমবর্ধমান আয়ুর একক সূচক বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য উন্নত মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা পরিষেবার প্রমাণ প্রদান করে।

জনস্বাস্থ্যের ইতিহাস অনেক ঐতিহাসিক ধারণা, পথ এবং ত্রুটি, মৌলিক বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং মহামারীবিদ্যার বিকাশ থেকে উদ্ভূত। সমস্ত সমাজকে অবশ্যই রোগ এবং মৃত্যুর বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে এবং তাদের কার্যকরভাবে পরিচালনা করার জন্য ধারণা এবং পদ্ধতিগুলি বিকাশ করতে হবে। এই কৌশলগুলি বৈজ্ঞানিক জ্ঞান এবং পথ এবং ত্রুটি থেকে বিকশিত হয়, তবে সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক অবস্থা, বিশ্বাস এবং অনুশীলনের সাথে জড়িত যা স্বাস্থ্যের অবস্থা এবং স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য প্রতিরোধমূলক এবং নিরাময়মূলক হস্তক্ষেপ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, স্বাস্থ্যের উন্নতি বজায় রাখার জন্য, আমাদের অতীত এবং বর্তমান কৌশলগুলি বিশ্লেষণ করতে হবে এবং সাফল্য এবং ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। আমাদের স্বাস্থ্য পরিবর্তনগুলি বুঝতে হবে এবং পরিবর্তনশীল পরিবেশ এবং রোগ মূল্যায়নের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থ্য নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মানুষ আজ তাদের অধিকার এবং তাদের নিজস্ব স্বাস্থ্য সম্পর্কে আরও সচেতন। শুধুমাত্র সমস্যা নয়, সাধারন মানুষ সমাধানের অংশ হতে চায়। ক্রমবর্ধমান পরিবর্তিত পরিবেশ এবং পরিবর্তনগুলি উপলব্ধি করে আমাদের স্বাস্থ্যসেবা পরিষেবার পুনর্বিবেচনা এবং সংস্কার করা দরকার। এই ধরনের সংস্কার ও প্রস্তুতি আগামীকালের জন্য অপেক্ষা না করে আজ থেকে শুরু করতে হবে। আসুন আমরা বাংলাদেশ সহ বিশ্বব্যাপী ঘটতে থাকা চলমান পরিবর্তনগুলির নিয়ে কিছু আলোচনা করি।

১.    মহামারী ও রোগের স্থানান্তর (epidemiological transition):  প্রতিটি দেশই সংক্রামক রোগ থেকে অসংক্রামক রোগে মহামারী সংক্রান্ত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। উন্নত পুষ্টি, আবাসন, পানি ও স্যানিটেশন, সফল টিকাদানের মত কর্মসূচির পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ থাকার কারনে কলেরা, টিবি, ম্যালেরিয়া, এইচআইভির মতো রোগে কম মানুষ মারা যাচ্ছে। তবে সামাজিক রীতিনীতি ভেঙ্গে পড়া, পরিবর্তিত খাদ্যাভ্যাস, বসে থাকা জীবন এবং ব্যায়ামের অভাব আর জীবনধারা/জীবনযাত্রার পরিবর্তনের ফলে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ক্যান্সারের মতো অসংক্রামক রোগ ক্রমবর্ধমানভাবে বাড়ছে। সর্বশেষ বিশ্লেষণ অনুসারে বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর ৬০% এরও বেশি আজ অসংক্রামক রোগের কারণে। এগুলি দীর্ঘস্থায়ী রোগ। তাই তথ্য প্রদান, আচরণ পরিবর্তন এবং দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করা কঠিন এবং অনেক বেশি ব্যয়বহুল, যা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর চাপ সৃষ্টি করছে।

২.    জনসংখ্যাগত পরিবর্তন: একদিকে ভৌগোলিকভাবে ছোট দেশ বাংলাদেশের বিশাল এবং ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা শিক্ষা, অর্থনৈতিক সুযোগ, চাকরি এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য চ্যালেঞ্জ আরোপ করছে। অন্যদিকে, উদাহরণস্বরূপ, সফল নারী শিক্ষা এবং ক্ষমতায়ন, ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধির সাথে অত্যন্ত সফল মানের পরিবার পরিকল্পনা পরিষেবার কারণে বাংলাদেশের মোট জন্মের হার (total fertility rate) জনসংখ্যা প্রতিস্থাপন স্তরের নীচে নেমে আসছে, যা বাংলাদেশে ৬ থেকে বর্তমানে ১.৯ পর্যন্ত নেমে এসেছে। এই হ্রাস অব্যাহত থাকায়, নির্ভরশীলতার অনুপাত বাড়ছে, কারণ কাজের বয়সের জনসংখ্যার অনুপাতের অনুপাত হ্রাস পেতে শুরু করেছে এবং আয়ু বৃদ্ধির সাথে সাথে বয়স্ক ব্যক্তিদের সংখ্যা বাড়ছে, বয়স্কদের যত্ন পরিষেবার প্রয়োজনীয়তাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। যাইহোক, বাংলাদেশে এখনও একটি বৃহৎ তরুণ জনসংখ্যা রয়েছে, বাংলাদেশের শিশু ও যুবকদের সুস্থ রাখার আর দক্ষতা উন্নতির মাধ্যমে জনসংখ্যাগত লভ্যাংশের সুবিধা নেওয়ার সুযোগ এখনও রয়েছে। এই তরুণ ও সুস্থ প্রজন্মের জনসংখ্যা আর্থ-সামাজিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদানে রাখতে সক্ষম এবং প্রয়োজন।

৩.    অভিবাসন: চাকরি, অর্থনৈতিক সুযোগ, বিভিন্ন উন্নত সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কারণে অনেক মানুষ স্থায়ীভাবে বা অস্থায়ীভাবে গ্রাম থেকে শহরাঞ্চলে অভিবাসন করছে। ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তনও এই জনসংখ্যার অভিবাসনকে আরো বাড়িয়ে তুলবে। শহুরে অস্বাস্থ্যকর বস্তির জনসংখ্যা বাড়ছে। উপযুক্ত আবাসন, নিরাপদ পানীয় জল, স্যানিটেশন এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠছে। নগর স্বাস্থ্য সেবা অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব হয়ে উঠছে। তার উপরে বিভিন্ন সেক্টর এবং মন্ত্রীদের মধ্যে সমন্বয় চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠছে। আমাদের উপলব্ধি করতে হবে এই ভাসমান জনসংখ্যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। তাই তাদের স্বাস্থ্য বজায় রাখা কঠিন হলেও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক অভিবাসী শ্রমিক রয়েছে যাদের হয়তো স্বাগতিক দেশের স্বাস্থ্যসেবা পরিষেবাগুলিতে পর্যাপ্ত অ্যাক্সেস নেই এবং প্রায়শই রোগে আক্রান্ত হয়ে নিজ দেশে নির্বাসিত হচ্ছে। বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি বিদেশে কর্মরত এবং বসবাস করছেন, এই জনসংখ্যা তাদের রেমিট্যান্সের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও মানব উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। কোভিডের সময় এটি স্পষ্ট হয় যে বর্তমানের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এই অভিবাসী জনগোষ্ঠীকে পরিষেবা দেওয়ার জন্য পর্যাপ্তভাবে প্রস্তুত ছিল না। এই ভাসমান এবং স্থানান্তরিত জনসংখ্যার স্বাস্থ্যসেবা পরিষেবার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য এবং স্বাস্থ্য সেবা সরবরাহ করার জন্য বর্তমান ব্যবস্থার সংস্কার, পুনর্বিন্যাস এবং প্রস্তুত থাকতে হবে।

৪.    জলবায়ু পরিবর্তন: জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশের অর্থনীতি, স্বাস্থ্যের পাশাপাশি বেঁচে থাকার উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলছে, ভবিষ্যতে আরো ফেলবে। জলবায়ু পরিবর্তন খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টির ওপর প্রভাব ফেলছে। যদিও বাংলাদেশ একটি অত্যন্ত সফল প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি তৈরি করেছে, ঘূর্ণিঝড়ের ক্রমবর্ধমান ফ্রিকোয়েন্সি, বন্যা এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা স্বাস্থ্যসেবা পরিষেবা প্রদানের সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। প্রমাণ দেখায় যে জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষ করে ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা, খরা, বন্যা, পানীয় জল এবং খাদ্যের অভাব জনসংখ্যা বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলা, নবজাতক এবং শিশু এবং সেইসাথে বয়স্ক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলবে। জনসংখ্যার দরিদ্র অংশ জনগনকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করবে। অন্যদিকে ক্রমবর্ধমানভাবে অনুপযুক্ত অবকাঠামো, বর্জ্য, সরবরাহের ক্রমবর্ধমান চাহিদা, যন্ত্রপাতি ও ইলেকট্রনিক্স, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ইত্যাদির মাধ্যমে গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমনে স্বাস্থ্য খাতের অবদান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্বাস্থ্য পেশাদারদের মধ্যে সচেতনতার অভাব রয়েছে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে কীভাবে আরও পরিবেশবান্ধব এবং জলবায়ু পরিবর্তনকে স্থিতিস্থাপক করা যায় তা জরুরিভাবে প্রয়োজন। উদাহরণস্বরূপ, পুনরায় ব্যবহারযোগ্য উপকরণের ব্যবহার বৃদ্ধি, বর্জ্য হ্রাস এবং সৌর শক্তির ব্যবহার।

৫.    হামারী বা মহামারী: কোভিড-১৯ নগ্নভাবে আমাদের দেখিয়েছে যে বাংলাদেশ সহ এমনকি সবচেয়ে ধনী দেশগুলোও কোভিড-১৯ মহামারী মোকাবিলা ও পরিচালনা করতে প্রস্তুত ছিল না। এটি অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং স্বাস্থ্যগতভাবে প্রতিটি দেশকে অনেক নিচে ঠেলে দিয়েছে। লকডাউন, আয় হ্রাস, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় স্বাস্থ্যসেবা পরিষেবাগুলিতে অ্যাক্সেসকে আরও কঠিন করে তুলেছিল, বিশেষত শিশু, বয়স্ক এবং গর্ভবতী মহিলাদের জন্য। যেহেতু মানুষ প্রাণীদের আবাসস্থল সীমিত করে ক্রমবর্ধমান প্রাণীর সাথে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসছে, ভাইরাসগুলি পরিবর্তিত হচ্ছে এবং মানুষের স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করছে। আমরা ক্রমবর্ধমানভাবে বিভিন্ন উদীয়মান রোগ দেখতে পাচ্ছি যেমন SARS, Ebola, Zika এবং তারপর CIVID-19। ডেঙ্গু আমাদের নীতি এবং সিস্টেম ব্যর্থতার আরেকটি উদাহরণ। আমরা নিশ্চিত নই কোভিডের পরবর্তী কি হবে। তাই ত্রুটি এবং সফলতা বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন এবং পর্যাপ্ত প্রস্তুতির প্রয়োজন। স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে পূর্ব সতর্কতা এবং সামঞ্জস্য ও প্রস্তুত করার জন্য পর্যাপ্ত সময় প্রদানের জন্য আমাদের টেকসই এবং কার্যকর নজরদারি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

৬.    অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ: নন-প্রেসক্রিপশন অ্যান্টিবায়োটিকের প্রাপ্যতার কারণে, অ্যান্টিবায়োটিকের অনুপযুক্ত ব্যবহার এবং প্রাণীদের জন্য অ্যান্টিবায়োটিকের বিপুল অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের কারনে এন্টিবায়োটিক সহ বহু ওষুধের প্রতিরোধের কারণ হচ্ছে। সংক্রমণ ব্যবস্থাপনা কঠিন এবং ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। এসব ধারা বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে অনেক মানুষ অকালে মারা যেতে পারে।

৭.    মুঠোফোন আর ডিজিটাল রূপান্তর: বাংলাদেশের প্রতিটি কোণায় এবং জনসংখ্যায় মোবাইল এবং ডিজিটাল পরিষেবাগুলির প্রাপ্যতা, বিশেষ করে প্রতিরোধমূলক এবং ফলো-আপের পাশাপাশি বেশিরভাগ জনসংখ্যার জন্য পরামর্শ/প্রেসক্রিপশন পরিষেবাগুলি তৈরি করার সুযোগ দিচ্ছে তবে অপব্যবহার, গুজব ছড়ানো, অপতৎপরতা এবং মিথ্যা প্রতিকার প্রতিরোধে একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশে কোভিড-১৯-এর সময় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলি মানুষের কাছে পৌঁছাতে এবং সময়মতো পরিষেবা দেওয়ার জন্য ব্যাপক ব্যবহার করা হয়েছিল। সৌভাগ্যবশত বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় জ্ঞান, প্রযুক্তি, বিশেষজ্ঞ এবং বাস্তবায়ন ক্ষমতা রয়েছে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জনসংখ্যাকে সময়োপযোগী এবং প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদানের জন্য, ফলো-আপ কেয়ার, বয়স্ক এবং দীর্ঘস্থায়ী হোম কেয়ারের জন্য এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজনীয়তা কমাতে মোবাইল এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে হবে। এই প্ল্যাটফর্মগুলি পরিষেবা প্রশিক্ষণেও ব্যবহার করা যেতে পারে যা স্বাস্থ্যকর্মীদের তাদের কার্য স্থান ছেড়ে যাওয়ার প্রয়োজন কমাতে সহায়তা করবে।

৮.    অসমাপ্ত এজেন্ডা: মানসিক স্বাস্থ্য এখনও স্বাস্থ্যসেবার একটি অবহেলিত এলাকা। এটি কলঙ্ক, কুসংস্কার, জ্ঞান এবং বোঝার অভাবের কারণে, আর এই সমস্যার ব্যাপকতার প্রমাণের অভাবের পাশাপাশি জনসংখ্যা, নীতিনির্ধারক এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের সচেতনতার অভাবের কারনে অবহেলিত হচ্ছে। অনেকে এখনও সমাজের দ্বারা কলঙ্কিত হওয়ার ভয়ে তাদের সমস্যা প্রকাশ করতে চান না। স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পর্যাপ্তভাবে প্রতিক্রিয়াশীল বা তথ্য এবং পরিষেবা প্রদান করতে সক্ষম নয়। বিশেষ করে তরুণরা ব্যাপক সামাজিক পরিবর্তন এবং ভবিষ্যতের উন্নয়নের সুযোগের অভাবের কারণে চাপের সম্মুখীন হচ্ছে। মানসিক চাপ এবং বিষণ্নতায় ভুগছেন, আত্মবিশ্বাস হারাচছে। তরুণদের আত্মহত্যার হার বাড়ছে। তাদের প্রয়োজনীয় সময়মত সহায়তা প্রতিরোধ এবং প্রদানের জন্য স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এখনও পর্যাপ্ত নয়। অন্যান্য অসমাপ্ত এজেন্ডা হল মা, নবজাতক এবং শিশুর স্বাস্থ্য সমস্যা। যদিও তাদের স্বাস্থ্যের উন্নতি এবং বেঁচে থাকার জন্য অনেক কিছু অর্জন করা হয়েছে, কোভিড-১৯ দেখিয়েছে যে আকস্মিক পরিবর্তনগুলি সমস্ত অর্জনকে দুর্বল করে দিতে পারে।

৯.    স্বাস্থ্যের রাজনীতি: যদিও কিছু সময়ের জন্য জনস্বাস্থ্য নেতারা বুঝতে পেরেছিলেন যে স্বাস্থ্য নীতি, কৌশল এবং এর বাস্তবায়ন রাজনীতি এবং রাজনীতিবিদদের দ্বারা ইতিবাচক পাশাপাশি নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে, কোভিড-১৯ মহামারী আরও স্পষ্ট করে তুলেছে যে এটি জনস্বাস্থ্য নেতারা নয় বরং এটি রাজনীতি এবং রাজনীতিবিদরা তা নির্ধারিত হচ্ছে। রাজনীতি এবং রাজনীতিবিদরা নির্ধারণ করছেন স্বাস্থ্য পরিচর্যা পরিষেবার বিধান এবং পর্যাপ্ত অর্থ ও বাজেট বরাদ্দের জন্য কী, কখন বা কিভাবে প্রয়োজন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞকে আরও বুঝতে হবে যে আজকে শুধু রোগ থেকে জীবন বাঁচানো যথেষ্ট নয়, স্বাস্থ্য নীতি এবং কৌশল নির্ধারণের সময় জীবিকা থেকে জীবন বাঁচানো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। স্বাস্থ্য মানে শুধু রোগ বা জীবানু থেকে জীবন বাঁচানো নয় বরং জীবিকা থেকেও জীবন বাঁচানো। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের স্বাস্থ্য নীতি তৈরির সময় স্বাস্থ্যের রাজনীতি বুঝতে হবে, রাজনৈতিক ভাষা শিখতে হবে এবং জয়ের পরিস্থিতি তৈরি করতে হবে।  স্বাস্থ্য রক্ষা এখন আর জনস্বাস্থ্য আধিকারিকদের বা স্বাস্থ্য মন্ত্রকের একার ডোমেইন নয়। আমাদের বিভিন্ন সেক্টর এবং মন্ত্রণালয়, সুশীল সমাজ, এনজিও, বেসরকারি খাত এবং সামগ্রিক সাধারণ জনগণকে জড়িত করতে হবে। আজ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা স্বাস্থ্য নীতি, কৌশল এবং হস্তক্ষেপ প্রণয়ন করতে পারেন তবে রাজনীতিবিদরাই সেইগুলি ঘটাবেন এবং বাস্তবে বাস্তবায়ন করবেন।

১৯৮০ সালে বাংলাদেশের একটি প্রত্যন্ত থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কাজ করার সময়, আমি দেখেছি যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সকল স্তরের অদক্ষতা, নিরাপত্তাহীনতা এবং দুর্নীতি জনসংখ্যার জন্য স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকে কঠিন করে তুলেছে। সেই অবস্থায় আমার কাছে দুটি বিকল্প ছিল, হয় সেই দুর্নীতির অংশ হওয়া বা চলে যাওয়া। এখন হয়তো পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। আমি অনেক জেলা ও উপজেলা এবং শিক্ষণ হাসপাতালে গিয়েছি, এমনকি অতি সম্প্রতি এবং দেখেছি বেশ দক্ষ ভাবে চালিত হাসপাতাল এবং সেইসাথে অকার্যকর অব্যবস্থাপিত ব্যবস্থার হাসপাতাল, দেখেছি বিপুল সংখ্যক কেনা কিন্তু অব্যবহৃত আধুনিক এবং দামী যন্ত্রপাতি এবং সরবরাহ মেঝেতে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকতে। আমাদের নতুন স্বাস্থ্য মন্ত্রীর প্রচুর চ্যালেঞ্জ রয়েছে,  বার্ন এবং প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে তার অতীত উত্সর্গ, নিরবধি প্রচেষ্টা এবং কৃতিত্বের কথা বিবেচনা করে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে তিনি সেই চ্যালেঞ্জগুলিকে সুযোগে পরিণত করতে সবচেয়ে বেশি সক্ষম। আমাদের প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্যকে তার একটি অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি হিসেবে বিপুল বাজেট বরাদ্দ দিয়েছেন। হ্যাঁ, কেউ কেউ বলতে পারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আরও অর্থের প্রয়োজন, কিন্তু আমি মনে করি প্রথমে আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই যে অর্থ বরাদ্দ আছে, তা যেন সময় মত, সৎ ভাবে ব্যবহার করা হয়- যেন অপচয় না হয়, দুর্নীতি না হয়, অদক্ষতা না থাকে এবং জবাবদিহিতার মানসিকতা এবং কাজের কাঠামো নিয়ে কাজ করা হয়। মন্ত্রী নিজেকে অকার্যকর, স্বার্থপর, দুর্নীতিগ্রস্ত, চাটুকার, যারা তাকে খুশি করার জন্য ফিল্টার করা তথ্য দেবে, তাকে বাস্তব থেকে অন্ধ করে রাখবে এমন লোকেদের সাথে তাকে ঘিরে রাখার পরিবর্তে তিনি এমন লোকেদের ডাকবেন যারা বর্তমান পরিস্থিতি এবং জনস্বাস্থ্যের পরিবর্তনের উপরে বিশ্লেষণ করতে সক্ষম এবং যারা তাকে নিঃস্বার্থভাবে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে, এবং তাকে সত্য, বাস্তবতা, তথ্য জানাবে যা তার জ্ঞাত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে। আমি জানি একজন বহিরাগতের জন্য সংস্কার সম্পর্কে অনেক কিছু বলা সহজ, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন এবং অনেক কঠিন। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি যে আমাদের মন্ত্রী একজন সৎ প্রমাণিত নেতা এবং তিনি অনেক দীর্ঘ প্রতিষ্ঠিত ইনসুলেটেড জং ধরা প্রতিষ্ঠানের আরপিত বাধা অতিক্রম করতে সক্ষম হবেন। জাতি, সাধারণ মানুষ তার দিকে তাকিয়ে আছে। বাংলাদেশে অনেক চমৎকার এবং সবচেয়ে দক্ষ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আছেন এবং আমি নিশ্চিত যে তাদের মধ্যে অনেকেই তাদের সেবা দিতে ইচ্ছুক হবে, যদি সেই সুযোগ দেওয়া হয়। আমার মনে আছে, প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন যখন নির্বাচিত হয়েছিলেন, তখন তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার আগে বিভিন্ন ট্রানজিশন টিম গঠন করেন। আমি তখন WHO/HQ-এ ছিলাম, কেন জানি না, তার স্বাস্থ্য খাতের ট্রানজিশন টিমে যোগ দিতে আমাকে ওয়াশিংটনে ডাকা হয়। আমি সেখানে দেখেছি কিভাবে আমরা প্রত্যেকে আলোচনা করেছি, বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেছি, উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বাস্থ্য উন্নয়নে প্রয়োজন আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এর প্রভাব এবং বিভিন্ন উপায় ও উপায় গুলো সুপারিশ করেছি। আমরা শুধু সুপারিশ করেছি কিন্তু রাষ্ট্রপতি এবং তার দল শেষ পর্যন্ত নীতি ও কৌশল নির্ধারণ করেছিল। ঠিক একই ভাবে, প্রমাণিত জনস্বাস্থ্য নেতারা স্বাস্থ্য লক্ষ্য অর্জনের উপায় এবং উপায় প্রদানে আমাদের  স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সমর্থন করতে পারে কিন্তু  স্বাস্থ্যমন্ত্রী আমাদের নেতা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব ও চূড়ান্ত কর্তৃত্ব তাঁর। আমাদের কেবল সেবা বিস্তৃত করা/কভারেজ উন্নত করার জন্য কাজ করা উচিত নয়, আমরা এটি প্রায় অর্জন করেছি, এখন সেবার গুণমান, প্রতিক্রিয়াশীলতা এবং জবাবদিহিতা উন্নত করার সময় এসেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে একটি রূপান্তরমূলক পরিবর্তন আশা করছি। আমি বিশ্বাস করি হ্যাঁ তিনি পারবেন।

 


Prof Dr Quazi Monirul Islam, MBBS, MPH, FRCOG

Department of Epidemiology, Prince of Songkla University, Hat Yai, Thailand

Senior Specialist, International Centre for Migration, Health and Development

Former Senior Specialist (Maternal and Newborn), Liverpool School of Tropical Medicine, UK

Former WHO Director and WHO Country Representative to Thailand and Namibia



মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন