ইনসাইড থট

ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল হলো যেদিন

প্রকাশ: ১১:০০ এএম, ১২ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

১২ নভেম্বর ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল দিবস। এ সম্পর্কে ২০১৯ সালের আগস্ট মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘১৯৯৬ সালে যখন ইনডেমিনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করি তখন সমালোচনা করা হয়েছিল, অনেকেই বলেছিল আমি প্রতিশোধ নিচ্ছি। বিএনপি সেদিন খুনীদের রক্ষা করতে হরতাল ডেকেছিল। বিচারপতির পরিবারের ওপর হামলা হয়েছিল। একজন সাধারণ মানুষের হত্যার বিচার যেভাবে হয়, জাতির পিতার হত্যার বিচারও সেভাবেই হয়েছে।’ কিন্তু বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন হলেও কয়েকজন খুনি এখনও ধরা ছোঁয়ার বাইরে। ১৯৯৬- এ আওয়ামী লীগ শাসনামলে বঙ্গবন্ধুর ২০ খুনিকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন বঙ্গবন্ধুর আবাসিক সহকারী মুহিতুল ইসলাম৷ এরপর মামলা চলে প্রায় ১৩ বছর৷ বিচারিক আদালত ১৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিলেও হাইকোর্ট ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে৷ দীর্ঘ ২১ বছর বিচার বন্ধ থাকার মূল কারণ ছিল কুখ্যাত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ। যা বাতিল হওয়ার ফলে খুনিদের বিচারকার্য সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে এবং এজন্যই আজকের এই দিনটি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার উজ্জ্বলতম দিন, গৌরবময় দিন।

আসলে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর খুনিদের রক্ষার জন্য বাংলাদেশের সংবিধান জুড়ে এক অদ্ভুত কেলেঙ্কারির ইতিহাস রচিত হয়। প্রণীত হয় ইনডেমনিটি বিল। ইনডেমনিটি হলো কোনো বিচারকার্যকে বাঁধা প্রধান সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বা আইন। কোনো অভিযান বা অভ্যুত্থানের ক্ষয়ক্ষতি আদালতের বহির্ভূত রাখার জন্য আইনসভা যে বিল পাস করে তাকেই  ইনডেমনিটি বিল বলে। এই শব্দের অর্থ শাস্তি এড়াইবার ব্যবস্থা অর্থাৎ ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ হলো সেই অধ্যাদেশ যার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের শাস্তি এড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিলো।

এই দায়মুক্তি আইন বাতিলের দিবসটি কেন আমরা স্মরণ করছি। কারণ এটি প্রণয়ন করেছিল খুনিদের প্রধান খলনায়ক খন্দকার মোশতাক আহমেদ। অর্থাৎ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বপরিবারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা হলে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আইনি ব্যবস্থা থেকে শাস্তি এড়ানোর জন্য বাংলাদেশে এ আইন করা হয়েছিলো। তখন বাংলাদেশে সংসদ অধিবেশন না থাকায় আওয়ামী লীগের একজন ঘনিষ্ট রাজনৈতিক সহযোগী হয়েও বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতক করে মোশতাক আহমেদ অধ্যাদেশ আকারে ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৭৫ সালে এ আইন প্রণয়ন করে। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পরে খন্দকার মোশতাকই বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদ গ্রহণ করে। আইনটি ১৯৭৫ সালের ৫০ নং অধ্যাদেশ হিসেবে অভিহিত ছিলো। ১৯৭৯ সালে আইনটি সংসদ কর্তৃক অনুমোদন দেওয়া হয়। এটি ১৯৭৯ সালের ৯ জুলাই বাংলাদেশ সংবিধানের ৫ম সংশোধনীর পর সংশোধিত আইনে বাংলাদেশ সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। যার ফলে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। পরে ১৯৯৬ সালের ১২ নভেম্বর সপ্তম জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আইনটি বাতিল করেন। যার ফলে বঙ্গন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচারের পথ আবার খুলে যায়। ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশ হাইকোর্ট সংবিধানের ৫ম সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করে।

ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ যেদিন স্বাক্ষরিত হয় সেদিন ছিলো শুক্রবার। ‘দি বাংলাদেশ গেজেট, পাবলিশড বাই অথরিটি’ লেখা অধ্যাদেশটিতে খন্দকার মোশতাক স্বাক্ষরিত। মোশতাকের স্বাক্ষরের পর অধ্যাদেশে তৎকালীন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এম এইচ রহমানের স্বাক্ষর আছে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শাহ আজিজুর রহমান পঞ্চম সংশোধনী বিলটি পেশ করে। এই ব্যক্তি রাজাকারদের মধ্যে অন্যতম ছিলো। অধ্যাদেশটিতে দুটি অংশ আছেÑ প্রথম অংশে বলা হয়েছে, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোরে বলবৎ আইনের পরিপন্থি যা কিছুই ঘটুক না কেন, এ ব্যাপারে সুপ্রিমকোর্টসহ কোনো আদালতে মামলা, অভিযোগ দায়ের বা কোনো আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়া যাবে না। দ্বিতীয় অংশে বলা আছে, রাষ্ট্রপতি উল্লিখিত ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে যাদের প্রত্যয়ন করবে তাদের দায়মুক্তি দেওয়া হলো অর্থাৎ তাদের বিরুদ্ধে কোনো আদালতে মামলা, অভিযোগ দায়ের বা কোনো আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়া যাবে না। সংবিধানের গণতন্ত্র বিষয়টা খর্ব হবে বলে অনেকে বিরোধিতা করলেও রাষ্ট্রপতি একক ক্ষমতা বলে সংশোধনী বিল পাশ করায়।

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর মেজর জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণকারী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ১৯৭৬ সালের ২৯ এপ্রিল জিয়া রাষ্ট্রপতি সায়েমের কাছ থেকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্ব নিয়ে নেয়। ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করায় এবং নিজে রাষ্ট্রপতি হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত ইনডেমিনিটি অধ্যাদেশসহ চার বছরে সামরিক আইনের আওতায় সব অধ্যাদেশ, ঘোষণাকে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে আইনি বৈধতা পায়। সংসদে উত্থাপিত আইনটির নাম ছিলো সংবিধান (সংশোধনী) আইন, ১৯৭৯। এটি সংবিধানের চতুর্থ তফসিলের ১৮ অনুচ্ছেদে সংযুক্ত হয়েছিলো, যা পঞ্চদশ সংশোধনীতে বিলুপ্ত হয়।

পঞ্চম সংশোধনীকে বৈধতা না দিলে জিয়াউর রহমানের আমলে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার করা যেত কিন্তু জিয়াউর রহমান তা করেনি। এই সামরিক জান্তা বরং খুনিদের সুবিধা দিয়ে চাকরি দিয়েছে। জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর বিচারপতি আবদুস সাত্তার, এইচ এম এরশাদ এবং ১৯৯১ সালে বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এলেও ইনডেমিনিটি অধ্যাদেশ বাতিল বা রহিত করেনি। ফলে দায়মুক্তি পেয়ে খুনিরা হত্যার কথা প্রকাশ্যে বলে বেড়াত। এরশাদ ক্ষমতায় আসীন হলে ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বরের ইনডেমিনিটি অধ্যাদেশ বাতিল না করে আবার নিজের সুবিধার জন্য দ্বিতীয়বার ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে যা ১৯৮৬ সালের ১০ নভেম্বর জাতীয় সংসদে পাস হয় এবং সংবিধানের সপ্তম সংশোধনীতে এটি অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ থেকে ১৯৮৬ সালের ৯ নভেম্বর পর্যন্ত এরশাদ সরকারের জারিকৃত সকল প্রকার সামরিক আইন, অধ্যাদেশ, বিধি নির্দেশ ইত্যাদি বৈধতাদানের উদ্দেশ্যে দ্বিতীয় ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়। পরে চারদলীয় জোট সরকারের সময় ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০০৩ ‘যৌথ অভিযান দায়মুক্তি বিল ২০০৩’ নামে সবশেষে ইনডেমনিটি আইন পাস হয়।

বাংলাদেশে মোট তিনবার ইনডেমনিটি আইন পাস করা হয়। ২০১০ সালে এসব অধ্যাদেশকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়। এ ইনডেমিনিটি ছিল এমন একটি আইন যা ইতিহাসে লজ্জাজনক। বঙ্গবন্ধু ছাড়াও আব্রাহাম লিংকন, মহাত্মা গান্ধী, রাজিব গান্ধী, ইন্দিরা গান্ধী, বেনজির ভুট্টো, বন্দর নায়েককে গুলি করে হত্যা করা হলেও সেসব দেশে ইনডেমনিটি আইন জারি করা হয়নি কিন্তু বাংলাদেশে এমনটি করা হয়েছিল। পৃথিবীর কোনো সংবিধানে লেখা নেই যে, খুনিদের বিচার করা যাবে না। বাংলাদেশেই প্রথম ঘটেছিলো এমনকি বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর ২০ বছর পার হলেও কোন রাষ্ট্রপতি বা সরকার প্রধান সেটি বাতিল না করে উল্টো নিজেদের সুবিধা নেওয়ার জন্য ইনডেমনিটি বহাল রাখে। আওয়ামীলীগ সরকার  ক্ষমতায় আসার পরে আইন প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট আবদুল মতিন খসরু ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বিল বাতিলের জন্য ‘দি ইনডেমনিটি রিপিল অ্যাক্ট-১৯৯৬’ নামে একটি বিল উত্থাপন করেন। ১৯৯৬ সালের ১২ নভেম্বর মাসে মানবতা ও সভ্যতা বিরোধী কুখ্যাত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল হয়। পরে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচারে শুরু হয়। উল্লেখ্য, জিয়া সরকার খুনিদের বিচার না করে সরকারি উপর মহলে এবং বিদেশের দূতাবাসে চাকরির ব্যবস্থা করে। তারা পালিয়ে যায়; এখনও অনেকে পালিয়ে আছে। ২০০১ সালে বিএনপি-জামাত চারদলীয় জোট সরকার যারা ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারির সমর্থক তারা ক্ষমতায় এলে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড মামলার কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে, বিচারকরা বিব্রত হতে থাকেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় লাভের পর আওয়ামী লীগ সরকার আবার এ বিচারকার্য চালিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করে। ২০০৯ সালে লিভ-টু-আপিল-এর মাধ্যমে এ বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। আপিল শেষে বারো জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন মহামান্য আদালত।

ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল দিবসে ঘৃণা জানাচ্ছি বঙ্গবন্ধুর খুনিদের। ওই ঘাতকদের তালিকা হলোÑ লে. কর্নেল শরিফুল হক (ডালিম), লে. কর্নেল আজিজ পাশা, মেজর এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ, মেজর বজলুল হুদা, মেজর শাহরিয়ার রশিদ, মেজর রাশেদ চৌধুরী, মেজর নূর চৌধুরী, মেজর শরিফুল হোসেন, কর্নেল কিসমত হাশেম, লে. খায়রুজ্জামান, লে. নাজমুল হোসেন, লে. আবদুল মাজেদ। বিচারের আগেই মৃত্যু ঘটে খন্দকার মোশতাক আহমদ, মাহবুব আলম চাষী, ক্যাপ্টেন মোস্তফা, রিসালদার সৈয়দ সারওয়ার হোসেন, লে. ক. মোহাম্মদ আজিজ পাশা (বিচার চলাকালে পলাতক অবস্থায় তার মৃত্যু হয়)।২০১০ সালে বঙ্গবন্ধুর ৫ ঘাতকের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। এরা হলোÑ মহিউদ্দিন আহমেদ, বজলুল হুদা, সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান এবং এ কে এম মহিউদ্দিন।  গতবছর (২০২০) কলকাতা থেকে ঢাকায় এলে ধরা পড়ে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলেছে ক্যাপ্টেন আব্দুল মাজেদের। অবশ্য মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৬ জন আসামি এখনও পলাতক৷ এরা হলো খোন্দকার আব্দুর রশিদ, নূর চৌধুরী, শরিফুল হক ডালিম, রিসালদার মুসলেহ উদ্দিন, রাশেদ চৌধুরি এবং আবুল হাশেম মৃধা৷ তাদের গ্রেফতার করার জন্য ইন্টারপোলের পরোয়ানা রয়েছে৷ বঙ্গবন্ধুর এই পলাতক খুনিদের ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করার মধ্য দিয়ে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিলের দিনটি আরো বেশি সার্থকভাবে পালন করতে চাই আমরা।

লেখক : ড. মিল্টন বিশ্বাস, ইউজিসি পোস্ট ডক ফেলো, বিশিষ্ট লেখক, কবি, কলামিস্ট, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরাম, নির্বাহী কমিটির সদস্য, সম্প্রীতি বাংলাদেশ এবং অধ্যাপক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়



মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

শান্তিনিকেতন

প্রকাশ: ০৬:০০ পিএম, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail শান্তিনিকেতন

কথা ছিল কলকাতা কেন্দ্রিক পরবর্তী সফরে অতীতে যে সকল স্হান বা ঐতিহাসিক স্হাপনা দেখি নি, এবার চেষ্টা করবো। সকালে হাওড়া থেকে ট্রেনযোগে বীরভূম জেলাধীন বোলপুরে যাত্রা করি। ট্রেনের নামই শান্তিনিকেতন এক্সপ্রেস । সময় লাগে তিন ঘন্টার মত। পথে বড় স্টেশন বলতে বর্দ্ধমান জংশন। আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মস্হান আসানসোল এ জেলাতেই। দেখলাম, এখানে অগ্নিবীণা নামেও একটি এক্সপ্রেস ট্রেন রয়েছে। জানালার পাশে সীট পাওয়ায় সরাসরি প্রকৃতির কোমল স্পর্শ অনুভব করি। বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে সবুজ ফসলের মাঠ। নয়ন জুড়ানো নিসর্গে নেমে আছে অবারিত আকাশ। দিগন্ত রেখায় শরতের সাদা মেঘের আনাগোনা। কলকাতা শহর ছেড়ে মফস্বলের দিকেও শারদীয় দূর্গোৎসবের সাজ সাজ রব পড়ে আছে। আজকের দিনটাও যেন এক অপূর্ব মোহনীয় সৌন্দর্যের আবেশে জড়ানো। একরাশ ঝলমলে রৌদ্রময় সকাল দিয়ে শুরু। ভাবছিলাম আহা! আমাদের কত বড় বাংলাদেশ ছিল। এক সময়ে এ পথেই নিত্য পাড়ি দিয়েছেন, মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, রাজনীতিবিদ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, আবুল হাশিম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবসহ আরও কত মনীষী। অল্পক্ষণের মধ্যেই পাশে বসা যাত্রীর পরিচয় পেলাম। বোলপুরের এক ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের একজন শিক্ষিকা তিনি। নাম নমরুতা মুখার্জি। পড়াশুনা করেছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস নিয়ে। তাঁর পূর্বপুরুষ ছিলেন আমাদের ময়মনসিংহের। লক্ষ করলাম, শান্তিনিকেতন ট্রেনের কামরাতেও রবীন্দ্রনাথের বাণী উৎকীর্ণ করা আছে। দাঁড়িয়ে একটু পড়ে নিলাম, "We come nearest to the great, when we are great in humility."  বা "Faith is the bird that feels the light when the dawn is still dark" ইত্যাদি। বোলপুর স্টেশনে নেমে সোজা ডানে যাই। প্রথমেই বাংলাদেশ ভবন ও ইন্দিরা স্মৃতি ভবন। ফিরে এসে পরবর্তী সারাদিন শান্তিনিকেতনের নানা অলিগলি ধরে ঘুরি। টেক্সিওয়ালা নিজেই গাইড। তারা সবই চিনে। প্রতিদিনের নতুন অভিজ্ঞতা বলে কথা।

২) মামুন, সুজনসহ আমরা তিনজন দীর্ঘ রাস্তা ধরে যাচ্ছি। চোখে পড়ে সূচনালগ্নের সেই  ছাতিম তলা, উপাসনা গৃহ, শান্তিনিকেতন বাড়ি, লাইব্রেরি, তালগাছ একপায়ে দাঁড়িয়ে, কলা ভবন, সংগীত ভবন, যাদুঘর, পূর্বাঞ্চল সংস্কৃতি কেন্দ্র, ইন্দিরা গান্ধীর ছাত্রী হোস্টেল, পেছনের রাঙা মাটির পথ, বিশালাকার খেলার মাঠ ইত্যাদি। ঘুরতে গিয়ে প্রবেশ করি সৃজনী শিল্পগ্রামের ভেতরে। এতে টিকিট করে যাওয়ার ব্যবস্হা। দু'পাশে উন্মুক্ত সবুজে আলোচনা মঞ্চ। নানা প্রকার মূর্তিসহ গৃহের সারিবদ্ধ প্রদর্শনী। এগুলোতে ভারতের বিভিন্ন প্রদেশের গৃহায়ণ ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়েছে। আদিবাসীদের হস্তশিল্প ও হোম-মেড পোশাক প্রদর্শনীও চোখে পড়ে। সবচেয়ে আকর্ষীয় ছিল একগুচ্ছ বাঁশঝাড়ের নিচে বসে বাউলশিল্পী দিলীপ বীরবংশীর গান। তার হাতের একতারাটা যেন কথা বলছে। সে গাইছিল "তোমায় হৃদ মাজারে রাখবো ছেড়ে যাব না"। আমার অনুরোধে রবি ঠাকুরের গান "দেখেছি রূপ সাগরে মনের মানুষ কাঁচা সোনা" কী অসাধারণ সুর, তাল ও লয়। মুগ্ধতায় আচ্ছন্ন হয়ে আমার মতন অনেকেই শুনছিল। আমি 
কিছু সময় তাকে সঙ্গ দিই। আলাপ করে জানি, বোলপুর স্টেশনের পাশেই ওর বাড়ি ; বংশ পরম্পরায় এখানে বসে রবীতীর্থে আগত দর্শণার্থীদের মনোরঞ্জনের নিমিত্ত কন্ঠসেবা দিয়ে চলেছেন। মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত দানই তার জীবিকার প্রধান অবলম্বন।

৩) ফেরার পথে বিশ্বভারতীর উদ্যোগে ছোট ছোট ছাত্র-ছাত্রীদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত শিক্ষা বিষয়ক মেলায় প্রবেশ করি। দেখি, শিশুরাই হরেকরকম খাবার বিক্রি করছে। মূলত এদেরকে উৎসাহ দেওয়ার লক্ষে নিজেরাও খেয়েছি। ভেতরে ঘুরে একে ওকে জিজ্ঞেস করে বিচ্ছিন্ন বিক্ষিপ্ত ভবনের নাম জানার চেষ্টা করি। তখন বারংবার মনে পড়ছিল আমাদের বিখ্যাত রম্যলেখক সৈয়দ মুজতবা আলী ও ক্ষীতিমোহন সেনের কথা । তবে বাঙালি  নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের জন্মবাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ভেতরটা দেখলাম। অমর্ত্য সেনের জন্ম এখানেই। জনশ্রুতি আছে,  তাঁর এ নামটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই রেখেছিলেন। ভাবছিলাম, সর্বত্র প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত এবং অন্তহীন কঠোরতার ভেতরেও একজন বাঙালি নিরাপত্তাকর্মী সদয় হয়ে আমাদের ঈশারায় অনুমতি দিলেন। এতে আমরা কৌতুহল উদ্দীপক এবং একইসাথে  আনন্দিত ও বিস্মিত হই। এতটা প্রত্যাশাই করিনি। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে, আমাদের ট্রেনের সময় প্রায় আসন্ন। টেক্সি মূল রাস্তায় দাঁড়িয়ে। বের হওয়ার পথে নিরাপত্তা কর্মীকে ধন্যবাদ জানিয়ে অন্তত তাকে একটু প্রসন্ন করি। তার অকৃত্রিম হাসিটা আমাদেরও প্রীত করেছিল।

৪) বিরাট এলাকা জুড়ে এখন শান্তিনিকেতন। জানা যায়, ভেতরে ৩৬৭০ বিঘা জমি। মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ শুরু করেছিলেন মাত্র ২০ বিঘা দিয়ে। রবীন্দ্রনাথের জন্মের দু'বছর আগেই তিনি ব্রম্মধর্মের আধ্যাত্মিক জগতের সন্ধানে এমন নিরালায় উপাসনালয় নির্মান করে নাম দেন শান্তিনিকেতন। এখানেই কালক্রমে গড়ে উঠে আজকের পৃথিবীর বহুভাষার সূতিকাগার এবং বিশ্বব্যাপী সুপরিচিত বিশ্বভারতী  বিশ্ববিদ্যালয়। যার আচার্য স্বয়ং ভারতের প্রধানমন্ত্রী। এখানকার যে বাড়িতে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ বাস করতেন এর বয়স হয়েছে ১৫৮ বছর। বছরব্যাপী, এমনকি বারোমাসেই বহুবিধ উৎসব,পার্বণ,মেলায় মুখরিত হয়ে থাকে শ্রীনিকেতন প্রাঙ্গন। অবাক চোখে তাকিয়ে দেখছি, মানুষ আসছে, মানুষ যাচ্ছে, তাঁরা  যুগযুগান্তর ধরে ঘুরছে। অনাগত কালের জন্য   এ যেন এক মহাতীর্থভূমির কিংবদন্তিতে পরিনত হয়ে আছে। রবীন্দ্র গবেষকদের অনেকেই  মনে করেন,বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এ শান্তিনিকেতনের উদয়ন বাড়িতেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মৃত্যুর মাত্র ১৫ দিন পূর্বে শারীরিক অবস্থার অবনতিতে তাঁকে ইজি চেয়ারে উপবিষ্ট করিয়ে বোলপুর স্টেশনে নিয়ে জোড়াসাঁকোর ঠাকুর বাড়িতে আনা হয়েছিল। ডাঃ নীল রতন সরকার ও ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ের তত্ত্বাবধানেই তাঁর প্রস্টেট অপারেশন হয়েছিল, তবে সফল হয়নি। ২২ শ্রাবণ, ৭ আগস্ট, ১৯৪১ খ্রিঃ তিনি পৃথিবী ছেড়ে চলে যান।

৫) সূর্যাস্ত হয়ে পড়ে। বোল রেলস্টেশন বেশ জনাকীর্ণ। ওপরের ফুটওভার ব্রিজ ডিঙিয়ে ওপারে যাই। দুই মিনিটও অপেক্ষার ফুরসত পেলাম না। বিকট শব্দে দিকবিদিক কাঁপিয়ে অসম্ভব দীর্ঘ এক এক্সপ্রেস ট্রেন এসে থামলো। কোনো রকম খোঁজাখুঁজি না করে ওঠে পড়ি। পর্যায়ক্রমে তিনজনই আসন পেয়ে যাই। ঝমঝম ঝিকঝিক শব্দ করে চলছে ট্রেন। বর্দ্ধমান স্টেশনটা ছাড়া প্রায় বিরতিহীন ভাবে চলেছে। ঘন্টাতিনেক বাদে ঘোষণা আসে, আমরা শিয়ালদহ রেলস্টেশনে অবতরণ করছি। ভাবছি ভালোই হলো, রবীন্দ্রনাথ এর অসংখ্য লেখায় বিশেষ করে ছিন্নপত্রে শিয়ালদহ রেলস্টেশনের নাম এসেছে একাধিক বার। আমরা গেলাম হাওড়া থেকে ফিরে এলাম শিয়ালদহ হয়ে। আবার কলকাতা।

২৭ সেপ্টেম্বর 
বেঙ্গালোর,
ভারত।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

বিশ্ব হার্ট দিবস

প্রকাশ: ০৩:০০ পিএম, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail বিশ্ব হার্ট দিবস

২৯ সেপ্টেম্বর। বিশ্ব হার্ট দিবস। বিশ্ব হার্ট ফেডারেশন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাথে ১৯৯৯ সালে প্রতি বছর ২৯ সেপ্টেম্বর ‘বিশ্ব হার্ট দিবস’ পালনের ঘোষণা দেয়। সে ধারাবাহিকতায় হৃদরোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ২০০০ সাল থেকে  পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব হার্ট দিবস’। এবারের প্রতিপাদ্য- ‘Use Heart for Every Heart’. সারা বিশ্বে হৃদরোগে মৃত্যু ও পঙ্গুত্বের হার বাড়ছে। স্বাস্থ্য সচেতনতা ও স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস এ অকাল মৃত্যু ও পঙ্গুত্বরোধে ভাল ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন বিভিন্ন ক্ষেত্রে দৃশ্যমান হয়েছে। জনমিতিক পরিবর্তনে আছে অনেক সম্ভাবনার বাঁক। শিশুমৃত্যু, মাতৃমৃত্যু এবং অনুরূপ অনাকাক্সিক্ষত ও অকাল মৃত্যুরোধে অগ্রগতি হয়েছে অনেক। সংক্রামক রোগের সংক্রমণ ও মৃত্যু বহুলাংশে কমেছে। কিন্তু সমানতালে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে অসংক্রামক রোগের সংক্রমণ ও মৃত্যু। ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগে মৃত্যুহার ছিল মাত্র ৮% ভাগ। ২০১৪ সালে এ হার ৫৯%-এ উন্নীত হয়েছে। এখন অসংক্রামক রোগে মৃত্যু আরো বেশি, এবং সেখানে হৃদরোগের ভূমিকাই প্রধান। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২১ সালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অসংক্রামক রোগে এদেশে মৃত্যুর হার ৬৭%, এবং এর মধ্যে ৩০% মৃত্যুর জন্য দায়ী হৃদরোগ। 

হৃদপিণ্ডের রোগ বা হৃদরোগ প্রধানত ৪ প্রকার। এর মধ্যে আছে হৃদপিণ্ডের রক্তবাহী নালী (করোনারি) সংক্রান্ত হৃদরোগ, হার্টের ভাল্ব সংক্রান্ত হৃদরোগ, হার্টের পাম্প করার অক্ষমতাজনিত হৃদরোগ এবং অনিয়মিত হৃদস্পন্দন সম্পর্কিত হৃদরোগ। তবে ৪ প্রকার হৃদরোগের মধ্যে করোনারি হৃদরোগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি এবং এ মৃত্যুর হার প্রতি বছর বাড়ছে। করোনারি হৃদরোগ বৃদ্ধির গতি নারীদের মধ্যে আরো বেশি। ১৯৮৬ সালে এদেশে প্রতি ১ লক্ষ পুরুষের মধ্যে ১৬ জনের হৃদরোগে মৃত্যুবরণের চিত্র ছিল। ২০০৬ সালে তা বেড়ে ৪৮৩ জনে দাঁড়িয়েছে। মৃত্যুর হার বেড়েছে ৩০ গুণ। নারীদের মধ্যে এ হার বেড়েছে প্রায় ৪৭ গুণ। প্রতি লাখে বেড়েছে সাত জন থেকে ৩৩০ জনের মৃত্যু। সাম্প্রতিক সময়ে হৃদরোগে মৃত্যুহার কি সংখ্যায় বেড়েছে, তা নির্ধারণ করলে একটা আশঙ্কাজনক চিত্রই পাওয়া যাবে। 

এদেশে হৃদরোগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার কেন প্রতি বছর বাড়ছে? এর পেছনে কারণ অনেক। কিছু জানা, কিছু অল্প বা ভাসা ভাসা জানা। কিছু এখনো অজানা। হৃদরোগ বিশেষ করে করোনারি হৃদরোগ সবচেয়ে দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের মধ্যে বেশি। বলা হয় জেনেটিক কারণ। কিন্তু দেহকোষের কোন জিন হৃদরোগের সৃষ্টি করে, তা এখনো শনাক্ত হয়নি। জেনেটিক কারণ ছাড়া অন্য যেসব কারণে হৃদরোগ হয়, তার মধ্যে প্রধান হচ্ছে- শরীরে ক্ষতিকর চর্বি বৃদ্ধি। খাদ্যাভ্যাস বিশেষ করে লাল মাংস ও চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া, ধূমপান, কায়িক পরিশ্রম বা ব্যায়াম না করা, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, খাবারে লবণ বেশি খাওয়া ইত্যাদির কারণে ক্ষতিকর চর্বি বৃদ্ধি হয় ও হৃদরোগ সৃষ্টি করে। হৃদরোগের প্রধান কারণগুলো তাই জেনেটিক ও অভ্যাসের মধ্যে বেশি ঘুরপাক খায়। আপাতত: জেনেটিক কারণ প্রতিরোধ না করা গেলেও খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন ঘটালে হৃদরোগ বহুলাংশে প্রতিরোধ করা যায়। প্রয়োজন স্বাস্থ্য সচেতনতা ও স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস। এজন্যই প্রতি বছর পালিত হয় ‘বিশ্ব হার্ট দিবস’।

করোনরি হৃদরোগের প্রাদুর্ভাব অহেতুকভাবে দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি। আবার দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের মধ্যে আনুপাতিক হারে বাংলাদেশে এ রোগ বেশি। কারণ অজানা। ধরা হয় জেনেটিক কারণ। বাংলাদেশি মানুষ বিদেশে থাকলেও এর ব্যতিক্রম ঘটে না। নিউইয়র্কে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের করোনারি হৃদরোগের হার সেখানের শে^তাঙ্গ মানুষের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী বাংলাদেশি পুরুষদের মধ্যে শে^তাঙ্গদের চেয়ে করোনারি হৃদরোগ ১১২% বেশি এবং মৃত্যু হার ২২০% বেশি।

বাংলাদেশের মানুষের এ করোনারি হৃদরোগের ৪০% থেকে ৬০% কারণ জেনেটিক, উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের শরীরে এলডিএল (লো-ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন) এবং ট্রাইগ্লাসারাইড বেশি। অপরদিকে, এইচডিএল (হাই-ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন) আনুপাতিক হারে কম। এলডিএলকে শরীরের জন্য খারাপ কোলস্টেরল এবং এইচডিএলকে ভাল কোলস্টেরল হিসাবে গণ্য করা হয়। অর্থাৎ, যে কোলস্টেরল খারাপ সেটা আনুপাতিক হারে বেশি এবং যেটা ভাল সেটি আবার কম। কোলস্টেরল ও  ট্রাইগ্লাসারাইডের এ ভারসাম্যহীনতার জন্য দায়ী জেনেটিক কারণ। সাথে আছে সম্পৃক্ত চর্বি ও ট্রান্স ফ্যাট ব্যবহার, বেশি করে ভাজি করা খাদ্য খাওয়া, রান্নার তেল পুনর্ব্যবহার, অতিমাত্রায় সিদ্ধ করে খাওয়ার অভ্যাস।

বাংলাদেশে কম জন্ম ওজন নিয়ে শিশু জন্মানোর হার এখনও ২২.৫%। জন্মের সময় শিশুর ওজন ২.৫ কেজির নিচে থাকলে কম জন্ম ওজন (Low Birth Weight) হিসেবে গণ্য করা হয়। কম জন্ম ওজনের শিশু পরবর্তী জীবনে হৃদরোগসহ অনেক অসংক্রামক রোগের শিকার হয় বলে তথ্য পাওয়া যায়। করোনারি হৃদরোগের সাথে ভিটামিন ‘ডি’ স্বল্পতার সম্পর্ক আছে। সারা পৃথিবীতে ৫০% মানুষের ভিটামিন স্বল্পতা আছে। বাংলাদেশও ব্যতিক্রম নয়। শহরের বিশেষ করে সচ্ছল ও শিক্ষিত মানুষের মধ্যে ভিটামিন ‘ডি’ স্বল্পতার হার বেশি। আর্সেনিক দূষণের সাথেও হৃদরোগের সম্পর্ক পাওয়া যায়। বাংলাদেশে প্রায় এক কোটি মানুষ আর্সেনিক দূষণযুক্ত পরিবেশে বসবাস করে। পানি, তরিতরকারি, খাদ্যশস্যের মাধ্যমে তারা আর্সেনিক দূষণের শিকার হয়। দূষিত বায়ু বিশেষ করে বাতাসের ভাসমান অতি সূক্ষ্মকণা, সালফার-ডাই অক্সাইড, নাইট্রোজেন-ডাই অক্সাইড করোনারি হৃদরোগ সৃষ্টি করে বলে গবেষণায় পাওয়া যায়। এ দেশে ঢাকা ও বড় শহরের বায়ুদূষণ একটা মারাত্মক জনস্বাস্থ্য সমস্যা, যা হৃদরোগ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে। ক্যালসিয়াম কার্বাইড দিয়ে পাকানো ফল খেলে করোনারি হৃদরোগের ঝুঁকি আছে। ঝুঁকি আছে আর্থিক দুশ্চিন্তার সাথে, ডিপ্রেশান, বঞ্চনা ও সামাজিক বৈষম্যজনিত মানসিক দুশ্চিন্তার সাথে। এ  ঝুঁকি সম্পর্কে যেমন বেশি করে গবেষণা প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন সামাজিকভাবে এ সকল বঞ্চনা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা।

হৃদরোগ চিকিৎসা বিশেষ করে করোনারি হৃদরোগ চিকিৎসায় এ দেশে সাম্প্রতিক সময়ে অগ্রগতি অনেক। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে সর্বপ্রথম ১৯৮৭ সালে এনজিওপ্লান্টি শুরু হয়, বিদেশি চিকিৎসকদের অত্ত্বাবধানে। ১৯৯৫ সালে সম্পন্ন হয় প্রথম ওপেন হার্ট সার্জারি। করোনারি ধমনীতে স্টেন্টিং বসানো শুরু হয়- ১৯৯৭ সালে। ইতোমধ্যে হার্ট সার্জন ও চিকিৎসক তৈরি হয়েছে অনেক। সরকারি-বেসরকারি অনেক হাসপাতালেই এখন এনজিওগ্রাম, স্টেন্টিং এবং বাইপাস সার্জারির মাধ্যমে করোনারি হৃদরোগের ভাল চিকিৎসা হয়। সার্জারি ও চিকিৎসায় যে অগ্রগতি, সে তুলনায় এ রোগ প্রতিরোধে অগ্রগতি প্রায় নেই। এটি একটি ব্যয়বহুল চিকিৎসা এবং অধিককাংশ রোগী যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ পায় না। তাছাড়া হৃদরোগে আক্রান্ত হলে মৃত্যুর আশঙ্কা বেশি থাকে। পঙ্গুত্বের হারও অনেক। দেশে হৃদরোগ এক নম্বর মারণঘাতী রোগ হিসেবে চিহ্নিত। এ অবস্থা নিরসনে সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রতিরোধের কোন বিকল্প নেই। স্বাস্থ্য-শিক্ষা এবং পাঠ্যপুস্তকে এ রোগ প্রতিরোধের বিষয় অন্তর্ভুক্ত হওয়া খুবই জরুরি। মানুষই যদি না বাঁচে, তবে শিক্ষিত করে অগ্রগতি করা যাবে না। বিশ^ হার্ট দিবসে এবং আগামী দিনগুলোতে হৃদরোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে- সেটাই হোক অঙ্গীকার।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ‘অদম্য বাংলাদেশ‘: বিশ্ব অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে রয়

প্রকাশ: ১২:০০ পিএম, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ‘অদম্য বাংলাদেশ‘: বিশ্ব অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে রয়

কিছু মানুষ পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করে তাকে পালটে দিতে, নিজের জীবন বিলিয়ে দেয় অন্যের সুখ আহরণে, তেমন একজন মানুষ, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠা কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা। ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর বর্তমান গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় মধুমতি নদীর তীরে গিমাডাঙ্গা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সারাবিশ্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের এক রোল মডেল। স্বাধীনতার পর আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরী কিসিঞ্জার বাংলাদেশকেতলাবিহীন ঝুড়িবলে যে ব্যঙ্গোক্তি করেছিল তা শেখ হাসিনার দূরদর্শী ভিশনারী নেতৃত্বের যাদুকরি স্পর্শে মিথ্যা প্রমান করে বাংলাদেশ আজ খাদ্যভান্ডারে পরিনত হয়েছে, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে বিদেশে রপ্তানি করারও সক্ষমতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ।

শুধু খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা নয়- নিজস্ব অর্থায়নেপদ্মা সেতু মত মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ। শেখ হাসিনার ক্যারিশ্ম্যাটিক নেতৃত্বে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে পরিকল্পনা মোতাবেক অবকাঠামো উন্নয়ন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, শেখ হাসিনা প্লাস্টিক বার্ণ হাসপাতাল, ১০০টি ইকোনমিক জোন, মেট্রোরেল, এলিভেটেড হাইওয়ে, গভীর সমুদ্রবন্দর, রেল সংযোগসহ পদ্মা সেতু, ঢাকায় মেট্রোরেল, কর্ণফুলি ট্যানেল, সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র, পায়রা সমুদ্রবন্দর, মহেশখালী এলএনজি টার্মিনাল, দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার-ধুমধুম রেললাইন ইত্যাদি মেগাপ্রকল্পসহ অসংখ্য উন্নয়ন কর্মকাণ্ড/ প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে বা হয়েছে। এসব বহুবিধ কারণে সারাবিশ্বে বাংলাদেশ আজউন্নয়নের এক রোল মডেল’- পরিণত হয়েছে।

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশদের বিতাড়িত করে সবাই যখন ভারত-পাকিস্তান নিয়ে ব্যস্ত, সে সময় মুসলিম লীগের তৎকালীন প্রগতিশীল ধারার তরুণ নেতা ২৭ বছর বয়সী শেখ মুজিব পূর্ববাংলাকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে দেখার স্বপ্ন দেখেছিলেন। শুধু স্বপ্ন দেখেই ক্ষান্ত হননি। সে অনুযায়ী পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছিলেন। ব্রিটিশরা বিতাড়িত হলেও পশ্চিম পাকিস্তানের ঔপনিবেশিকতার বেড়াজালে শোষণ, বঞ্চনার কষাঘাতে জর্জরিত দেশের জনগণ দারিদ্রতা দুর্বিষহ যন্ত্রণা থেকে মুক্তির জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়।

১৯৭১-এর মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে শেখ মুজিব বলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনা হামলা শুরুর সাথে সাথেই স্বাধীনতার চূড়ান্ত ঘোষণা দেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ৩০ লক্ষ শহীদের রক্ত লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে বাঙ্গালী জাতি স্বাধীনতা লাভ করে। সেই থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার স্বাদ বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে স্বাধীন বাংলাদেশকে ক্ষুধামুক্ত-দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করেন। কিন্তু বিধি বাম, ১৫ আগস্ট ১৯৭৫-এর কালো রাতে স্বাধীনতা বিরোধীদের ষড়যন্ত্রে ঘাতকের বুলেটে ঝাঁঝরা হয়ে যায় বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্য। থমকে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। সোনারবাংলা গড়তে গৃহীত সকল কর্মসূচি বাতিল হয়ে যায়। স্বাধীনতার মূল্যবোধ ধ্বংস করে দেয় স্বাধীনতা বিরোধীরা। পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। এমনি পরিস্থিতিতে ১৯৮১ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে সুদুরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে দিবানিশি নির্ঘুম পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তিনি।

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জেষ্ঠ্যকন্যা শেখ হাসিনা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের চারবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। মমতাময়ী এবং মানবকল্যাণে ব্রতী এক অনন্য দূরদৃষ্টিসম্পন্ন রাষ্ট্রনায়ক তিনি।

দেশী-বিদেশী নানা চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র, রাজনৈতিক সহিংসতা, করোনা অতিমারীর কুফল, রাশিয়া-ইউক্রেণ যুদ্ধ ইত্যাদি প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে টানা প্রায় ১৪ বছর ক্ষমতা থাকা  চ্যালেঞ্জিং ছিল সবসময়। মানুষের প্রতি বিশ্বাস, অকৃত্রিম ভালোবাসা, অভিজ্ঞতা, আত্মপ্রত্যয় দূরদর্শিতার কারণে জননেত্রী শেখ হাসিনা এখন বিশ্বনেত্রী। তাঁর প্রজ্ঞা, মেধা বিচক্ষণতা দ্বারা দেশের মানুষকে উজ্জীবিত করতে পারায়, দেশের অর্থনীতিতে তাক লাগানো ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে- বাংলাদেশ বিশ্বে এক অপার বিস্ময় সৃষ্টি করেছে। এরই ফলশ্রুতিতে ২০০৯ সালে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু যেখানে ৬৭ বছর ছিল, ২০২১ সালে তা বেড়ে ৭৩ বছরে উন্নীত হয়েছে। স্বাক্ষরতার হার ১৯% বৃদ্ধি পেয়ে ৭৫% হয়েছে। ২০২২ সালে মাথাপিছু আয় ২৮০০ ডলার ছাড়িয়ে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। ১০২ মিলিয়ন ডলারের জিডিপি বৃদ্ধি পেয়ে দাড়িয়েছে ৪১৬ মিলিয়ন ডলারে। শেখ হাসিনা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূলভিত্তি যে কৃষি, রপ্তানী, অবকাঠামো উন্নয়ন তা চিহ্নিত করতে পেরেছেন। বাংলাদেশে কৃষির উন্নয়ন ঈর্ষণীয়। ১৫. বিলিয়ন ডলারের রপ্তানির আকার ৫২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়ন যে একটি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়ক, পদ্মা সেতুই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। পদ্মা সেতু দিয়ে যাতায়াত বিপনন ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় দক্ষিণবঙ্গের কৃষিতে সবুজ বিপ্লব ঘটেছে। কৃষক তার উৎপাদিত কৃষিপণ্য নিয়ে সূর্যোদয়ের আগেই ঢাকার বাজারে চলে আসে। মালামাল বিক্রয় করে গ্রামে ফিরে সকালের নাস্তা খেয়ে ফসলের ক্ষেতে কাজে হাত দেয়। পচনশীল কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে অনিশ্চয়তা না থাকায় ফলমূল, শাকসবজিসহ উচ্চমূল্যের কৃষিপণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে।

মেগাশহর ঢাকা মহানগরে মেট্রোরেল প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ডঃ আতিউর রহমান এক টেলিভিশন সাক্ষাতকারে বলেন, ‘মেট্রোরেল চালু হলে প্রতিদিন ৬০ হাজার মানুষের দৈনন্দিন কর্মঘণ্টা সাশ্রয় হবে, দেশের অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়বে। দিল্লীর মেট্রোরেল চালু হওয়ার পর দিল্লীর জিডিপি ১০% এর চেয়েও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছিল। তেমনি কর্নফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত বঙ্গবন্ধু টানেল, মাতারবাড়ী উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে % জিডিপি বৃদ্ধি পাবে বাংলাদেশে। এই সবকিছুই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ফসল।

গত প্রায় ১৪ বছরে শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। একজন নেতা সৎ, জনদরদী, চিন্তাশীল, দূরদর্শী হলে একাই যে অসাধ্য সাধন করতে পারেন, তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ শেখ হাসিনা। সবচেয়ে বড় কথা হলো, দেশের সিংহভাগ মানুষ তাঁকে বিশ্বাস করে, তাঁর ওপর আস্থা রাখে এবং ভালোবাসে। বাংলাদেশে এই মুহূর্তে শেখ হাসিনার কোনো বিকল্প নেই।

বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়তে মানুষের মৌলিক চাহিদা- খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান নিশ্চিতকরণে কাজ করছেন। নিজেকে জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করে জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করছেন।

এমন এক মহান নেত্রীর শুভ জন্মদিনে অন্তরের গভীর থেকে অকৃত্রিম শ্রদ্ধা, ফুলেল শুভেচ্ছা ভালোবাসা।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

শেখ হাসিনা- একুশ শতকের সবচেয়ে বর্ণাঢ্য বিশ্বনেতা


Thumbnail শেখ হাসিনা- একুশ শতকের সবচেয়ে বর্ণাঢ্য বিশ্বনেতা

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা এবং বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা তাঁর নেতৃত্বের দূরদর্শিতা, প্রজ্ঞা, অসীম সাহসিকতা দিয়ে জাতীয়, আঞ্চলিক, আন্ত-আঞ্চলিক পর্যায় এমনকি উন্নতনশীল বিশ্বের সীমানা অতিক্রম করে নিজেকে একজন ব্যতিক্রমধর্মী এবং প্রকৃত তারকা বিশ্বনেতায় পরিণত করেছেন। এখানেই শেষ নয়।

শেখ হাসিনা একুশ শতকের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী বিশ্বনেতা। নেতৃত্বের স্থায়িত্ব এবং জাতীয়, আঞ্চলিক ও মানবতার কল্যাণের ক্ষেত্রে মৌলিক অবদান বিবেচনায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনাই বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নেতা। উন্নত এবং উন্নয়নশীল বিশ্বে তাঁর সমপর্যায়ের কোন নেতা বর্তমানে দৃশ্যপটে নেই। তাঁর মতো বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যরিয়ার সম্পন্ন নেতা পৃথিবীতে বিরল।  
পৃথিবীতে অনেক বিশ্বনেতার আবির্ভাব হয়েছে, যারা কেবলমাত্র তাদের দেশের অবস্থান কিংবা ভূরাজনীতির কারণে বিশ্বনেতায় পরিণত হয়েছেন। বিশ্বনেতা হিসেবে তাদের স্থান টেকসই হয়নি। তাদের কারো কারো নিজেদের দেশে কিংবা আঞ্চলিক পর্যায়ে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা দীর্ঘ সময়ের জন্য হয়নি। তাদের অনেকেই নিজেদের দেশ এবং অঞ্চলে আর্থসামাজিক ও ভূরাজনৈতিক ক্ষেত্রে মৌলিক কোনো অবদান রাখতে পারেননি।  

শেখ হাসিনা একুশ শতকে উন্নয়নশীল বিশ্বের একমাত্র নেতা যিনি দীর্ঘ সময়ের জন্য উন্নয়নশীল এবং উন্নত বিশ্বের মাঝে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেছেন। কোল্ড ওয়ার পরবর্তী সময়ে বিংশ শতকের শেষ ভাগ এবং একুশ শতকের প্রথম দুই দশকে বিশ্বব্যাপী চলমান আর্থ সামাজিক, ভূরাজনৈতিক, জলবায়ু, প্রযুক্তির ট্রান্সফরমেশন বা পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শেখ হাসিনা উন্নয়নশীল বিশ্বের আদর্শ প্রতিনিধি হিসেবে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সাথে দরকষাকষি সহ নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বিশ্ব মানব কল্যাণের নানা মৌলিক ক্ষেত্রে তিনি বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য ধ্রুবতারার মতো ভূমিকা রেখে চলেছেন।

শেখ হাসিনার দারিদ্র বিমোচনের কৌশল ও অভিজ্ঞতা থেকে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও শিক্ষা গ্রহণ করছে। তাঁর অর্থনৈতিক উন্নয়নের মডেল আজ সারা পৃথিবীতে অনুসরণ করা হচ্ছে। তাঁর যোগ্য নেতৃত্বে সুপ্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পের কারণে আজ বাংলাদেশের উপর উন্নত বিশ্বের প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর নির্ভরতা বেড়েছে। আমাদের এই পোশাক শিল্প আজ পৃথিবীর সকল দেশের কাছেই একটি সফলতার গল্প। এই সাফল্যের মূল কারিগর শেখ হাসিনা।  

শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ বৈশ্বিক মহামারি কোভিড অসাধারণ দক্ষতায় মোকাবেলা এবং টীকা সংগ্রহ, ব্যবস্থাপনা এবং বিনা মূল্যে বিতরণের জন্য শেখ হাসিনার কৌশল আজ সারা পৃথিবীতে অনুকরণীয়। নারীর ক্ষমতায়ন ও সমাজের নেতৃত্বে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণের আন্দোলনে শেখ হাসিনা সারা বিশ্বে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন গত শতাব্দীর শেষ ভাগ থেকে। এই ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে তিনি বিশ্বে বিশেষ সুখ্যাতি অর্জন করেছেন।

গনতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নেতৃত্ব দেয়ার ক্ষেত্রে তাঁর সমপর্যায়ের কোনো নেতা বর্তমান পৃথিবীতে নেতৃত্বের পর্যায়ে নেই। তিনি দীর্ঘ ৪১ বছর ধরে তাঁর দল তথা নিজের দেশে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। পিতা মাতা সহ পুরো পরিবারকে হত্যার পরও তিনি নিজের নিরাপত্তার কথা চিন্তা না করে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন। তাঁর পরিবার যে রকম নির্মম ও পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে, পৃথিবীর কোনো রাজনৈতিক পরিবার এই রকম ভয়াবহ নির্মমতার শিকার হয়নি। এই ঘটনা শুধু বাংলাদেশ কিংবা এই অঞ্চলের জন্য সবচেয়ে বড়ো ট্রাজেডি নয়, এটি পুরো পৃথিবীর সবচেয়ে জঘন্যতম  রাজনৈতিক  ট্রাজেডি। এই রকম এক তীব্র ট্রমা নিয়ে খুব কম মানুষই স্বাভাবিক থাকতে পারে। এই তীব্র বেদনা নিয়ে তিনি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিজেকে নিবেদন করেছিলেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবনে তিনি একজন সংগ্রামী নেতা থেকে কালজয়ী রাষ্ট্রনায়কে পরিণত হয়েছেন। জাতির পিতার পর বাংলাদেশের সকল অর্জন তাঁর মাধ্যমেই অর্জিত হয়েছে।  

শেখ হাসিনা গণতন্ত্র হরণকারী স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর সংগ্রামের গল্প বিশ্বের অনেক সংগ্রামী জাতির জন্য অনুপ্রেরণা ও অনুকরণীয়। স্বৈরশাসকের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে কীভাবে গণতান্ত্রিক সংগ্রামে নেতৃত্ব দিতে হয় সেটি পৃথিবীর সকল গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য শিক্ষণীয়।  

শেখ হাসিনা আজ বিশ্বের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ অথচ সাহসী ও উচ্চকণ্ঠ শান্তির দূত। পৃথিবীর অনেক নেতা আছেন, যারা নিজেদের দেশ কিংবা অঞ্চল পেরুলে নিজেদের কণ্ঠের স্বর বা কণ্ঠের উচ্চতা পরিবর্তন করেন। বর্তমান বিশ্বে শেখ হাসিনা একমাত্র নেতা যিনি দেশি, আঞ্চলিক এমনকি বিশ্ব ফোরামে স্বার্থ সংঘাতে জড়িত সকল রক্ত চক্ষুকে উপেক্ষা করে প্রকৃত অর্থে বিশ্ব শান্তি ও মানবতার কল্যাণে বিশ্ব সম্প্রদায়কে তার  করণীয় সম্পর্কে স্পষ্টভাবে পরামর্শ দেন। শেখ হাসিনা এই আদর্শ ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট পেয়েছেন তাঁর পিতা বাঙালির জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকে, যিনি তাঁর সময়ে সমগ্র পৃথিবীর শোষিত বঞ্চিত মানুষের নেতা ছিলেন। এই ভূমিকায় শেখ হাসিনা তাঁর পিতার আদর্শ থেকে গত চার দশকে এক বিন্দুও বিচ্যুত হননি।

ব্যক্তিগত নিরাপত্তার প্রশ্নে গত চার দশকে শেখ হাসিনাই পৃথিবীর সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ রাজনীতিবিদ। বাংলাদেশের আদর্শ বিরোধী শক্তি অসংখ্যবার তাঁকে হত্যার চেষ্টা করেছে। সেই চেষ্টা এখনও অব্যাহত রয়েছে। তিনি মৃত্যুঞ্জয়ী নেতা। তিনি বার বার বলেছেন, দেশের জন্য পিতার মতো তিনিও জীবন দিতে প্রস্তুত। তবে দেশবিরোধী অপশক্তির কাছে তিনি মাথা নত করবেন না।  

শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষতা ও অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির প্রতীক। জাতির পিতার হত্যার পর মুক্তিযুদ্ধের অর্জন আমাদের সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতাকে বাদ দিয়ে সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছিল। শেখ হাসিনা সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার বিধানকে পুন:প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

বর্তমান বিশ্ব নেতাদের মধ্যে শেখ হাসিনাই একমাত্র নেতা যিনি যুদ্ধ বিগ্রহ ছাড়াই অসাধারণ প্রজ্ঞা ও দক্ষ কূটনীতি ও অতুলনীয় নেতৃত্বের মাধ্যমে  নিজের দেশের ন্যায্য স্বার্থ আদায়ের ক্ষেত্রে মৌলিক অবদান রাখতে পেরেছেন। জাতীয় স্বার্থের সপক্ষে তাঁর প্রতিটি অবদানই বিশ্বে মাইল ফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।

বৃহত্তম প্রতিবেশী ভারতের সাথে শেখ হাসিনার গঙ্গা নদীর পানি বন্টনের চুক্তি আন্তর্জাতিক নদী আইনের জন্য এক মাইল ফলক অধ্যায়। এটি এ সংক্রান্ত কাস্টমারি ইন্টারন্যাশনাল ল' এর এক গুরুত্বপূর্ণ দিক।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গণহত্যা ও মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচারে নুরেমবার্গ এবং টোকিও ট্রায়ালের পর শেখ হাসিনা  বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যা ও মানবতা বিরোধী অপরাধীদের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক মানের ট্রাইবুনাল গঠন করে যে বিচার সম্পন্ন করেছেন, সেটি পৃথিবীর দেশে দেশে প্রশংসিত হয়েছে। কোনো যুদ্ধ সংঘটিত হওয়ার দীর্ঘ ৪০ বছর পর মানবতা বিরোধী অপরাধীদের বিচার পৃথিবীতে বিরল। এটি বিশ্বের জন্য এক মাইল ফলক।  

অশান্ত পার্বত্য চট্টগ্রামে ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির মাধ্যমে শেখ হাসিনা একদিকে যেমন শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছেন, অন্যদিকে ঐ এলাকায় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব টেকসই করার জন্য যথাযথ আইনি ও প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তিনি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর স্বতন্ত্র্য সত্তাকে সুরক্ষা দিয়েছেন। এই ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী চুক্তির জন্য তিনি অনায়াসেই সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক পুরষ্কার পেতে পারতেন। কিন্তু বাংলাদেশ বিরোধী আন্তর্জাতিক লবি'র কারণে তাঁকে সেই প্রাপ্য থেকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বঞ্চিত করা হয়েছিল।  

শেখ হাসিনার সুদক্ষ নেতৃত্ব ও কূটনীতির কারণে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক আইনি যুদ্ধের মাধমে সমুদ্রে তার ন্যয্য সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। উত্তর সাগরে ১৯৬৯ সালে এই ধরণের সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত বিরোধ নিস্পত্তির পর বাংলাদেশের এই সমুদ্র জয় সমগ্র পৃথিবীর জন্য এক নতুন নজির।  

শেখ হাসিনা গণতন্ত্র এবং বাংলাদেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রকারীদের বারে বারে পরাস্ত করেছেন। শেখ হাসিনা শুধু দেশেই সফল হননি, অভূতপূর্ব দক্ষতা ও অসীম সাহসিকতা দিয়ে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ভূরাজনীতিকে তিনি জয় করেছেন। বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থে তিনি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ক্ষেত্রে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে বাংলাদেশের নানা ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন। ভূরাজনীতির প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনাই বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ নেতা।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে। জাতিসংঘের এসডিজি বাস্তবায়নে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সারা বিশ্বে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। সেজন্য শেখ হাসিনাকে মুকুট মনি খেতাবে ভূষিত করা হয়। এর আগে মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল অর্জনেও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বে ঈর্ষণীয় সাফল্য দেখিয়েছিলো। বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই বাংলাদেশের অর্থনীতি মাথাপিছু আয়ের ভিত্তিতে দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠ অর্থনীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

শেখ হাসিনা উন্নয়নশীল বিশ্বের একমাত্র নেতা যিনি বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় সবচেয়ে প্রভাবশালী আন্তঃরাষ্ট্রীয় সংগঠন বিশ্বব্যাংকের অন্যায্য খবরদারীকে চ্যালেঞ্জ করে তাঁর দেশের সবচেয়ে বৃহত্তম প্রকল্প পদ্মা সেতু নিজেদের অর্থায়নে বাস্তবায়ন করেছেন। এটি শুধু দক্ষিণ এশিয়া কিংবা এশিয়া মহাদেশে নয়, সমগ্র বিশ্বে তাঁর এই সিদ্ধান্ত একটি মাইল ফলক ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। শেখ হাসিনার এই সিদ্ধান্ত শুধু বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থই রক্ষা করেনি, তাঁর এই অসীম সাহসী সিদ্ধান্ত বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায়ও এক পরিবর্তনের সূচনা করেছে।  

এই ঘটনার ফলে বিশ্বব্যাংক সহ বহুপাক্ষিক ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান গুলোর বিপরীতে উন্নয়নশীল বিশ্বের দরকষাকষির ক্ষমতা উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পাবে। শেখ হাসিনার এই সিদ্ধান্ত স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশসমুহে এই বিশ্বমোড়লদের নানামুখী শোষণ আর খবরদারীর উপর এক বড় ধরণের আঘাত। এর ফলে স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল বিশ্বে বহুপাক্ষিক ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান গুলোর জাতীয় স্বার্থবিরোধী প্রভাব কমতে শুরু করবে।

পিতা মাতাসহ পরিবারের সকলকে হারিয়ে শেখ হাসিনা একদিকে যেমন পৃথিবীর সবচেয়ে দুঃখী কন্যা, অন্যদিকে তিনি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ কন্যা, একজন ব্যতিক্রমধর্মী বিশ্বনেতা যিনি তাঁর পিতার হত্যাকাণ্ডের ২১ বছর পর পিতাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। পিতার হত্যাকারীদের বিচার করেছেন। পৃথিবীর ইতিহাসে তাঁর মতো এই রকম সৌভাগ্যবান কন্যা দ্বিতীয় কেউ নেই।

আজ এই ব্যতিক্রমধর্মী বিশ্ব নেতা শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মদিন। আমরা দোয়া করি, আল্লাহ যেনো আপনাকে বাংলাদেশের প্রয়োজনে যুগ যুগ ধরে বাঁচিয়ে রাখেন।

শেখ হাসিনা   একুশ শতকের   সবচেয়ে বর্ণাঢ্য বিশ্বনেতা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

উন্নয়নের রোল মডেল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা


Thumbnail উন্নয়নের রোল মডেল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

সমগ্র জীবনই যার কেটেছে লড়াই সংগ্রামে। সাধারণ আর দশটা মানুষের মতো তিনি পাননি পরিবারের সান্নিধ্য, ছিলো না জীবনের স্বাভাবিক গতিধারাও। সব হারিয়েও যিনি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন সাফল্যের সর্বোচ্ছ চ‚ড়ায়। বর্ণাঢ্য সেই সংগ্রামী ব্যক্তিত্ব আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যোগ্য উত্তরসূরি, গণতন্ত্রের মানসকন্যা, আধুনিক ও উন্নত বাংলাদেশের রূপকার প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার আজ ৭৬তম শুভ জন্মদিন। ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টম্বর গোপালগঞ্জের মধুমতি নদী বিধৌত টুঙ্গিপাড়ায় শেখ হাসিনা জন্মগ্রহণ করেন। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছার জ্যেষ্ঠ সন্তান এবং বাংলাদেশ আওয়মী লীগের সভাপতি।

শেখ হাসিনার শিক্ষা জীবন শুরু হয় টুঙ্গিপাড়ার এক পাঠশালায়। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য (এমপিএ) নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি তার পরিবারকে ঢাকায় নিয়ে আসেন। পুরানো ঢাকায় মোগলটুলির রজনী বোস লেনে বসবাস শুরু করেন। পরে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার সদস্য নির্বাচিত হলে আবাস স্থানান্তারিত হয় ৩ নম্বর মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে। ১৯৫৬ সালে শেখ হাসিনা ভর্তি হন টিকাটুলির নারী শিক্ষা মন্দির বালিকা বিদ্যালয়ে। ১৯৬৫ সালে আজিমপুর বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ন হন। ১৯৬৭ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন ঢাকার বকশী বাজারের পূর্বতন ইন্টারমিডিয়েট গভর্নমেন্ট গার্লস কলেজ (বর্তমান বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা মহাবিদ্যালয়) থেকে। কলেজে অধ্যয়ন কালে তিনি কলেজ ছাত্র সংসদের সহ সভানেত্রী (ভিপি) পদে নির্বাচিত হন। একই বছর ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ¯œাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা আবস্থায় ১৯৬৭ সালে এম এ ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুল নামে দুই সন্তান রয়েছে।

১৯৭৫ সালের পটপরিবর্তনের পর ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে দলীয় প্রধানের দায়িত্ব নেন বঙ্গবন্ধু কন্যা। এরপর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত নিজ রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও আপোষহীন নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশের অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক রাজনীতির মূল ¯্রােতধারার প্রধান নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি।

তাঁর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ এবং অন্য রাজনৈতিক জোট ও দলগুলো ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারবিরোধী গনআন্দোলনের মাধ্যমে গনতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে বিজয়ী হয়। ১৯৯৬ সালে তার নেতৃত্বেই তৎকালীন বিএনপি সরকারের পতন ও তত্ত¡াবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বিজয় অর্জন করে আওয়ামী লীগ। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ এ পর্যন্ত চার মেয়াদে ক্ষমতাধীন রয়েছে। ১৯৯৬ সালে তার নেতৃত্বে দীর্ঘ ২১ বছর পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দানকারী দালটি। এরপর ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের ঐতিহাসিক নির্বাচনে চারতৃতীয়াংশ আসনে বিশাল বিজয় অর্জনের ম্যধ্যমে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারী আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার গঠিত হয়। দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা। ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনে বিজয়ের পর ১২ জানুয়ারি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে টানা দ্বিতীয় এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর টানা তৃতীয়বার সরকার গঠিত হয়। এছাড়া তিনি তিনবার বিরোধীদলের নেতা হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ ঘটেছে। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন নীতি সংক্রান্ত কমিটি বাংলদেশকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। যুদ্ধ বিদ্ধস্ত দেশ থেকে আজকের এই উত্তরণ, যেখানে রয়েছে এক বন্ধুর পথ পাড়ি দেওয়ার ইতিহাস। এটি সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী এবং দূরদর্শী নেতৃত্বের কারনে। তার সাহসী এবং গতিশীল উন্নয়ন কৌশল গ্রহণের ফলে সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কাঠামোগত রূপান্তর এবং উল্লেখযোগ্য সামাজিক অগ্রগতির মাধ্যমে বাংলাদেশকে দ্রæত উন্নয়নের পথে নিয়ে এসেছে।

শেখ হাসিনা সরকার উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে। সমুদ্র বিজয়, মহাকাশ বিজয় এবং পদ্মা সেতু বিজয়তো পুরো জাতির সামনে দৃশ্যমান। বিশ্ববাসীর সামনে গত ২৫ জুন ২০২২ ইং জননেত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু উদ্বোধন করলেন। শান্তিকামী বিশ্ববাসী শেখ হাসিনার আরেকটি অর্জন দেখতে পেলেন। অভিবাদন জননেত্রী। অভিনন্দন জননেত্রী শেখ হাসিনাসহ পুরো জাতিকে। অভিনন্দন সেই সব শ্রমিকদের, যাদের নিরলস পরিশ্রমে এই স্বপ্ন সেতু নির্মিত হয়েছে। পদ্মা সেতু আমাদের আবেগের সেতু, আত্মনির্ভরশীলতার প্রতীক। পদ্মা সেতু আমাদের আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। আত্মগৌরবের প্রতীক এই পদ্মা সেতু বাঙালীদের সারাবিশ্বে আরেকবার মহিমান্বিত করেছে।

 কিন্তু এমন অনেক কাজ আছে যা মানুষের চোখের আড়ালে রয়ে গেছে যার সুযোগ-সুবিধা মানুষ পাচ্ছে। এই সুযোগ সুবিধার কারনটা মানুষ সঠিকভাবে জানেও না, জানতে চেষ্টাও করে না। তেমনি একটা ক্ষেত্র হলো স্বাস্থ্য খাত।

মানুষের গড় আয়ু প্রায় ৭৩ বছরে উন্নীত হয়েছে। মাতৃমৃত্যু হার হ্রাস, শিশু মৃত্যু হার হ্রাস পেয়েছে। সীমাবদ্ধ সম্পদ ও বিপুল জনগোষ্টী নিয়ে এ অর্জন যে প্রশংসনীয় ব্যাপার তা জাতীয় সহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সবাই স্বীকার করেন। স্বাস্থ্যখাতের এই অর্জনের জন্য ৩টি জাতিসংঘ পুরস্কারসহ ১৬টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করেছে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত। এর মধ্যে এমডিজি অ্যাওয়ার্ড, সাউথ সাউথ অ্যাওয়ার্ড বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

জাতীয় স্বাস্থ্য নীতির প্রনয়ন এই সরকারের এক উল্লেখযোগ্য অর্জন। বাংলাদেশের ঔষধ শিল্পের উন্নয়ন গর্বের সঙ্গে উল্লেখ করা যায়। আজ নিজ দেশের চাহিদা মিটিয়ে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্যমতে ৪৬ কম্পানির প্রায় ৩০০ রকমের ঔষধ যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ ১৬০টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে।

বিশাল এই জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ মোটেও সহজকথা নয়। অনেকেই বিদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার সঙ্গে আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থার তুলনা করেন। আমাদের দেশের জনসংখ্যা এবং আমাদের আর্থিক সক্ষমতা তারা মাথায় রাখেন না। ডাক্তার-রোগী, ডাক্তার-সেবিকার আনুপাতিক হারের বিষয়টি মাথায় রাখেন না। বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্যখাতে অন্যতম পদক্ষেপ হলো কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন। ১৯৯৬ সালে প্রথমবার ক্ষমতায় এসে এই কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্পটি শেখ হাসিনা সরকার গ্রহণ করেন এবং প্রায় দশ হাজার ক্লিনিক স্থাপন করেছিলেন। ২০০১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে কমিউনিটি ক্লিনিকের  মতো জনবান্ধব মানবিক উদ্যোগকে শুধু রাজনৈতিক রোষে বন্ধ করে দিয়েছিল। বর্তমানে দেশে প্রায় ১৮ হাজার ৫ শত কমিউনিটি ক্লিনিক চালু আছে। বর্তমানে কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে দেশব্যাপী বিস্তৃত স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বিভিন্ন অনলাইন জরিপ এবং বিবিএসের তথ্য অনুসারে কমিউনিটি ক্লিনিকের ৯০ শতাংশের বেশি গ্রাহকেরা তাদের পরিসেবা ও সুবিধার ক্ষেত্রে সšুÍষ্টি প্রকাশ করেছেন। উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতাল গুলোতে শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে সুযোগ সুবিধা। স্থাপন করা হয়েছে হৃদরোগ, কিডনি, লিভার, ক্যান্সার, নিউরো, চক্ষু, বার্ন, নাক-কান-গলা সহ বিভিন্ন বিশেষায়িত ইনষ্টিটিউট ও হাসপাতাল, অব্যাহত নার্সের চাহিদা মেটাতে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে নার্সিং ইনস্টিটিউট। প্রতিটি জেলায় কমপক্ষে একটি করে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন করার কাজ চলছে।

শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নের সদস্যের জন্য বাংলাদেশ বিশে^ অন্যতম আদর্শ দেশ হিসাবে স্থান করে নিয়েছে। উপজেলা হাসপাতালকে উন্নীত করা হয়েছে ৫০শয্যায়। মেডিকেল কলেজ ও জেলা হাসপাতাল গুলোতেও শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের ডিজিটালাইজেশনের উন্নয়ন স্বাস্থ্যখাতকে উন্নত করছে। সব হাসপাতালে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ই-গভর্ন্যান্স ও ই-টেন্ডারিং চালু করা হয়েছে। সরকারি হাসপাতালগুলোকে অটোমেশনের আওতায় আনা হচ্ছে। গোপালগঞ্জের শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব চক্ষু হাসপাতালকে কেন্দ্র করে অনলাইন সেবা কার্যক্রম চালু করতে “ভিশন সেন্টার” স্থাপন করা হয়েছে।

বিশ্ব মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে ও মৃত্যুরোধে এখনো পর্যন্ত সফলতার পরিচয় দিয়ে বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশে ইতোমধ্যে বিনামূল্যে প্রায় বার কোটি মানুষের টিকাদান স¤পন্ন হয়েছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্যা কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনার দিক নির্দেশনায় দেশে করোনা ভ্যাক্সিন উৎপাদনের কাজ শুরু হয়েছে, যা দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা হবে। ২০১০ সালে প্রকাশিত “গুড হেলথ অ্যাট লো কস্ট : টোয়েন্টি ফাইভ ইয়ারস অন” শীর্ষক বইয়ে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে অগ্রগতির যে কারণগুলো উল্লেখ করা হয়, তার মধ্যে ছিল বাংলাদেশের টিকাদান কর্মসূচি।

স্বাধীনতার ৫০ বছরে দেশের স্বাস্থ্যসেবাখাত বিশ্বব্যাপী প্রশংসনীয় সফলতা অর্জন করেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম খরচে মৌলিক চিকিৎসা চাহিদা পূরণ, সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল, অসংক্রামক রোগসমূহের ব্যবস্থাপনা ও প্রতিরোধে ব্যাপক উদ্যোগ, পুষ্টি উন্নয়ন, স্বাস্থ্য সূচকসমূহের ব্যাপক অগ্রগতিতে স্বাস্থ্য অবকাঠামো খাতে অভ‚তপূর্ব অর্জন বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়েছে বহুদূর।

বাংলাদেশ ইতিমধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিনত হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারন করে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন মানবতার জননী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশ থেকে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা হতে যাচ্ছে যা মোটেও সহজ সাধ্য কাজ নয়। যাহা একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে সম্ভব হয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা, এমডিজি অর্জন, এসডিজি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি সহ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, লিঙ্গসমতা, কৃষিতে ব্যাপক উন্নয়ন, দারিদ্রসীমা হ্রাস, গড় আয়ু বৃদ্ধি, রপ্তানীমুখী শিল্পায়ন এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা, পোশাক শিল্প, ঔষধ শিল্প, রপ্তানী আয় বৃদ্ধি সহ নানা অর্থনৈতিক সূচক বৃদ্ধি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দূরদৃষ্টি ও পরিশ্রমের ফসল। এছাড়া চলমান রয়েছে, পদ্মা-সেতু, রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর, ঢাকা মেট্রোরেলসহ দেশের মেগা প্রকল্পসমূহ। ভবিষ্যতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ^বিদ্যালয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে কমিউনিটি ক্লিনিক ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হবে। যা সারা বাংলাদেশে ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ও পপুলেশন ল্যাব হিসেবে পরিচালিত হবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনার উদাত্ত আহবানে আসুন আমরা দলমত নির্বিশেষে সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি উন্নত সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলি যা হবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্নপূরণের একমাত্র পথ। 

এই সময়ের বাংলাদেশে তিনি একজন ব্যক্তি মাত্র নন, ব্যক্তির ঊর্ধ্বে গণমানুষের আশা-জাগানিয়া অভিভাবক। নিজেকে নিয়ে ভাবার সময় নেই। সকাল-দুপুর-বিকাল-রাত কেটে যায় দেশ মানুষের মঙ্গল চিন্তায়। তিনি দীর্ঘ জীবনের সুস্থতা নিয়ে আমাদের মাঝে সজীব থাকবেন এই প্রত্যাশা আমাদের। আপনি আছেন বলেই আমরা আছি, আপনি আছেন বলেই বাংলাদেশ আছে। আজ এই বিশেষ দিনে মনে পড়ে প্রয়াত কবি ত্রিবিদ দস্তিদারের কবিতার লাইন-‘আপনিইতো বাংলাদেশ।’


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন