ইনসাইড ট্রেড

দুদকের জালে স্বাস্থ্য খাতের রাঘববোয়ালরা  

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১০:২২ এএম, ২০ অক্টোবর, ২০২১


Thumbnail

খুলনায় স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ইতোমধ্যে দুর্নীতি চক্রের মূল দুই হোতা বিভাগীয় স্বাস্থ্য দফতরের স্টেনোগ্রাফার ও সিভিল সার্জন অফিসের সাবেক হিসাবরক্ষকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি ওষুধ পাচারে জড়িত নার্স-ফার্মাসিস্টদের বিরুদ্ধে মামলা ও জেনারেল হাসপাতালে ল্যাব ইনচার্জ টেকনোলজিস্টের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের তদন্ত শুরু হয়েছে। দরপত্র বাণিজ্যে ও দুর্নীতির তালিকায় নাম রয়েছে সাবেক দুজন সিভিল সার্জনের।

জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) ১ কোটি ১১ লাখ ৮৯ হাজার টাকা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় জেলা সিভিল সার্জন অফিস ও খুমেক হাসপাতালের সাবেক হিসাবরক্ষক গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। 

মহানগর বিশেষ আদালতে পিপি ও দুদক আইনজীবী খন্দকার মজিবর রহমান জানান, দায়িত্বে থাকাকালে গোলাম কিবরিয়া বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২৭/১ ও মানি লন্ডারিং আইনে ২০১২ সালের ৪ (২) ধারায় জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও আয়ের উৎস গোপন করার অভিযোগে মামলা হয়েছে। শুনানি শেষে গোলাম কিবরিয়াকে গ্রেফতারের জন্য সংশ্লিষ্ট থানাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের দুদকের আরেক মামলায় বিভাগীয় স্বাস্থ্য দফতরের  স্টেনোগ্রাফার ফরিদ আহমেদ ও তার স্ত্রী পলি আহমেদকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। ফরিদ আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে জেলা পর্যায়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি, প্রমোশন নিয়োগ-বাণিজ্যে জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে মুজগুন্নি আবাসিক এলাকায় বিলাসবহুল বাড়ি, নগরীর বয়রা এলাকায় তার স্ত্রীর নামে ক্রোকারিজের দোকান ‘মেসার্স পলি এন্টারপ্রাইজ’সহ অবৈধ বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। 

সস্ত্রীক স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা : ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে ৬ কোটি ১৭ লাখ ৩১ হাজার ৭৬৩ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল সংস্থাটির উপ-পরিচালক আশীষ কুমার কুন্ডু বাদী হয়ে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ মামলাটি করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন- প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলামের স্ত্রী সৈয়দা তামান্না শাহেরীন ও সৈয়দ হাসান শিবলী। 

মামলার এজাহারে বলা হয়, প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলামের নামে ইস্টার্ন ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখায় ১৪টি এফডিআরে ৮ কোটি টাকা এবং যমুনা ব্যাংকের বৈদেশিক বাণিজ্য শাখায় ৮ লাখ ৭৪ হাজার ৫৩৭ টাকা জমার তথ্য পায় দুদক। দুদকের অনুসন্ধানে তার স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে ৮ কোটি ৩৮ লাখ ১৩ হাজার ৯৩৭ টাকার সম্পদের তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায়। এর মধ্যে সরকারি চাকরির আগের সঞ্চয় ও চাকরিকালীন সঞ্চয়সহ অন্যান্য আয় মিলিয়ে ২ কোটি ৩৮ লাখ ১৩ হাজার ৯৩৭ টাকার গ্রহণযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়। তার বিরুদ্ধে ৬ কোটি ১৭ লাখ ৩১ হাজার ৭৬৩ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে।

সমাজ কল্যাণ পরিষদে অভিযান : দরিদ্র ও প্রতিবন্ধীদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে জাতীয় সমাজ কল্যাণ কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ ছাড়া কভিড-১৯ টিকাদান প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে কুমিল্লার একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অভিযান পরিচালনা করে দুদক। গতকাল এই অভিযান চালানো হয়।

দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ আরিফ সাদেক জানান, জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধী ও দরিদ্রদের জন্য সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থ অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে উত্তোলন করে আত্মসাতের অভিযোগ পায় দুদক। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের একটি টিম জাতীয় সমাজ কল্যাণ পরিষদ কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করে। 



মন্তব্য করুন


ইনসাইড ট্রেড

৬ মাসে কেরুর ২৩৩ কোটি টাকা আয়

প্রকাশ: ০৫:০৬ পিএম, ২৮ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail চলতি অর্থবছরের ৬ মাসে কেরুর ২৩৩ কোটি টাকা আয়।

চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে কেরু অ্যান্ড কোম্পানি রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব আয় করেছে। চিনি উৎপাদনে মিলটি প্রতিবছর লোকসান গুনলেও অ্যালকোহল বিক্রি করে শত কোটি টাকা আয় করছে কোম্পানিটি। প্রতিষ্ঠানটি চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ২৩২ কোটি ৯৬ লাখ টাকার মদ বিক্রি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২১ শতাংশ বেশি।

কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচারক মোশারফ হোসেন জানান, মদ উৎপাদনের প্রধান উপকরণ চিটাগুড়। মিলেই উৎপাদন হয় প্রয়োজনীয় চিটাগুড়। দেশের অন্য চিনিকল থেকেও চিটাগুড় আনা হয়। এ চিটাগুড় প্রক্রিয়াকরণ শেষে মদ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হয়। কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ইতিহাসে এ অর্থ বছরের ছয় মাসে রেকর্ড পরিমাণ বাংলা ও বিলেতি মদ উৎপাদন করা হয়েছে। বিদেশি মদ আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা থাকায় কেরুর উৎপাদিত মদের চাহিদা দেশের বাজারে কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।


কেরুর ডিস্টিলারি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে অর্থাৎ জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলা ও বিলেতি মদ বিক্রি করে প্রতিষ্ঠানটি আয় করেছে ২৩২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। এর আগে ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আয় হয়েছিল ১৯২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। যা গতবছরের একই সময়ের তুলনায় ৪০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা বেশি। প্রতিমাসে প্রায় ২১ হাজার কেসেরও বেশি অ্যালকোহল বিক্রি করছে কেরু। প্রতিষ্ঠানটি ১৭৫ মিলিলিটার, ৩৭৫ মিলিলিটার ও ৭৫০ মিলিলিটারের বোতলে বিলেতি মদ বাজারজাত করে। প্রত্যেকটি কেসে ৭৫০ মিলিলিটারের ১২টি, ৩৭৫ মিলিলিটারের ২৪টি এবং ১৭৫ মিলিলিটারের ৪৮টি করে প্লাস্টিকের বোতল থাকে। 

জানা গেছে, কেরুর ডিস্টিলারিতে সেমি-অটোমেশন পদ্ধতিতে মদ উৎপাদনের লক্ষ্যে কাজ চলছে। কেরুর কক্সবাজার ও কুয়াকাটায় নতুন দুটি বিক্রয়কেন্দ্র অল্পদিনেই চালু হতে যাচ্ছে। দেশে প্রতিষ্ঠানটির ১৩টি ওয়্যারহাউস ও তিনটি বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে।

প্রসঙ্গত, ১৯৩৮ সালে চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় কেরু অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড গড়ে ওঠে। রবার্ট কেরু নামে ব্রিটিশ নাগরিক ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা করেন মিলটি। দেশ স্বাধীনের পর বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন মিলটি পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সমস্যা আর সম্ভাবনার মধ্যে দিয়ে মিলের কার্যক্রম চলছে। ডিস্টিলারি বিভাগ ছাড়া বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির সব ইউনিটে প্রতিবছর প্রায় ৭০-৮০ কোটি টাকা লোকসান গুনতে হয়।


চলতি অর্থবছর   কেরু অ্যান্ড কোম্পানি   রাজস্ব আয়  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ট্রেড

সরবরাহ কমেছে শীতের সবজির, চিনি আদার দাম আগুন

প্রকাশ: ০১:০০ পিএম, ২৭ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

শেষের দিকে শীতের মৌসুম। শুরু হয়েছে নতুন ঋতুর আগমনী বার্তা। এর ফলে অনেক কিছুরই পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে কাঁচাবাজারে শীত শেষের বার্তা পাওয়া গেছে। আগের তুলনায় রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারের শীতকালীন অনেক সবজিরই সরবরাহও কমেছে।

এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী সপ্তাহ পর সবজির দাম বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছারা বাজারে কাগজ-কলমে আরও এক দফা বাড়ছে চিনির দাম। আগামী ফেব্রুয়ারি মাস থেকে নতুন করে প্রতি কেজি চিনিতে দাম বাড়বে পাঁচ টাকা। এতে এক কেজি পরিশোধিত খোলা চিনি ১০৭ টাকা ও প্যাকেটজাত চিনি ১১২ টাকায় বিক্রি হবে। কিন্তু জানুয়ারিতেই বাড়তি দামে চিনি বিক্রি শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি চিনি ১১৫ থেকে ১২০ টাকার কমে মিলছে না।

ক্রেতা-বিক্রেতারা বলছেন, দাম এখনো না বাড়লেও শীতের টাটকা সবজির সরবরাহ কিছুটা কমেছে। সবজির দোকানগুলোতেও কাঁচামালের পদের সংখ্যা ও পরিমাণ কমেছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে আগামী সপ্তাহ পর সবজির দাম বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শীতের শুরুতে টাটকা সবজিতে ভরপুর থাকলেও এখন এ চিত্রে কিছুটা ভাটা পড়েছে। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, চলতি সপ্তাহ থেকে শীতের সবজির উৎপাদন অনেকটা কমেছে। ফলে বাজারে সবজির সরবরাহ ধীরে ধীরে কমে আসছে। আর দুয়েক সপ্তাহ পর বাজারে অনেক শীতের সবজির সংকট দেখা দিতে পারে।

এদিকে সবজি বাজারের সর্বশেষ খুচরা দাম অনুযায়ী, প্রতি কেজি আলু ৩০ টাকা, কাঁচামরিচ ১২০ টাকা, ধনিয়া পাতা ১২০ টাকা, টমেটো ৫০ টাকা, শিম ৪০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ১২০ টাকা, করলা ১২০ টাকা, বাঁধাকপি আকার অনুযায়ী ৫০-৪০ টাকা, ফুলকপি আকার অনুযায়ী ৫০-৪০ টাকা, গাজর ৬০ টাকা, বরবটি ১২০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, ঝিঙ্গা ১০০ টাকা, বেগুন ৬০ টাকা ও পেঁপে ৩০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে প্রতি পিস লাউ ৮০-১০০ টাকা, প্রতি হালি কাঁচকলা ৪০ টাকা, প্রতি আটি লাল ও পালন শাক ১০-১৫ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে চিনির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা জানায় চিনি পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সুগার রিফাইনার্স অ্যাসোসিয়েশন। সবশেষ গত বছরের ১৭ নভেম্বর খুচরা পর্যায়ে চিনির দাম বাড়ানো হয়েছিল। তখন প্রতি কেজি প্যাকেটজাত চিনি ৯৫ টাকা থেকে ১২ টাকা বাড়িয়ে ১০৭ টাকা এবং খোলা চিনি দাম বাড়িয়ে করা হয় ১০২ টাকা। সেক্ষেত্রেও চিনি বিক্রি হয়েছে বাড়তি দামে। নতুন করে দাম বাড়ায় চিনির বাজার লাগামছাড়া হতে পারে বলে আশঙ্কা খুচরা বাজারের ব্যবসায়ীদের।

শুধু চিনি নয়, মসলাসহ আদা-রসুন ও শুকনো মরিচের দামেও অস্থিরতা চলছে। সপ্তাহান্তেই বাড়ছে দাম। এখন প্রতি কেজি আদা ১৫০-২০০ টাকায় ঠেকেছে। রসুনের দামও বেড়ে হয়েছে ১৫০-১৮০ টাকা। বাজারে তুলনামূলক কিছুটা কম দামে দেশি জাতের আদা-রসুন থাকলেও সেগুলোর চাহিদা কম।

আগে যে শুকনো মরিচ প্রতি কেজি বিক্রি হতো ১০০-১৫০ টাকায় তা এখন ৫০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে। আমদানি কমে যাওয়ার পাশাপাশি উৎপাদন সংকটে পণ্যটির রেকর্ড পরিমাণ দাম বেড়েছে। বর্তমানে শুকনো মরিচ কেজিপ্রতি সর্বনিম্ন ৩৫০-৫০০ টাকায় ওঠানামা করছে। আসন্ন রমজানের আগে সরবরাহ না বাড়লে দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড ট্রেড

চিনির দাম আরও বাড়লো

প্রকাশ: ০৪:১০ পিএম, ২৬ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail চিনির দাম আরও বাড়লো

চিনির দাম আরেক দফা বেড়েছে। রমজান না আসতেই চিনির দাম কেজিতে ৫ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সুগার রিফাইনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআরএ)।

বিএসআরএ জানায়, প্রতি কেজি পরিশোধিত চিনির দাম (খোলা) ৫ টাকা বাড়িয়ে ১০৭ টাকা করা হয়েছে। আর পরিশোধিত চিনির (প্যাকেটজাত) দাম ৪ টাকা বাড়িয়ে ১১২ টাকা করা হয়েছে। আগে খোলা চিনির দাম ছিল ১০২ টাকা এবং প্যাকেটজাত চিনির দাম ১০৮ টাকা। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বিএসআরএ।

মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে আমদানিকারক ও পরিশোধন মিল মালিকেরা বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি, ডলারের বিনিময় হার, উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন এ দামে চিনি বিক্রি করা হবে। 

জানা গেছে, গত বছরের নভেম্বরে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশন চিনির দাম কেজি প্রতি ১৪ টাকা বাড়িয়েছিল। এর আগে সবশেষ গত বছরের ১৭ নভেম্বর খুচরা পর্যায়ে চিনির দাম বাড়ানো হয়েছিল। সেবার প্যাকেটজাত চিনির দাম ৯৫ টাকা থেকে ১২ টাকা বাড়িয়ে করা হয়েছিল ১০৭ টাকা। আর প্রতি কেজি খোলা চিনির দাম বাড়িয়ে করা হয় ১০২ টাকা। 


চিনির দাম   বিএসআরএ   পরিশোধিত চিনি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ট্রেড

সপ্তাহের বাজারদর: দাম বেড়েছে সবজি ও মাছের, মাংস অপরিবর্তিত

প্রকাশ: ০২:৫৯ পিএম, ২০ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail দাম বেড়েছে সবজি ও মাছের, মাংস অপরিবর্তিত।

ছুটির দিনে সকাল সকাল মিরপুরের আনসার ক্যাম্প এলাকার ফুটপাতের অস্থায়ী বাজারে বাজার করতে এসেছেন মো. বিল্লাল হোসেন। সকাল হওয়ার সাথে সাথেই ফুটপাতের এই অস্থায়ী বাজার জমে ওঠে। কিন্তু ফুটপাতের এ বাজারেও গত সপ্তাহের চেয়ে বেড়েছে মাছ ও সবজির দাম। শীতের মৌসুমেও শীতের সবজির দাম বেশি দেখে অবাক হয়েছেন তিনি।

বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজধানীর পাইকারী বাজারেও বেড়েছে মাছের দাম। তার সঙ্গে মিল রেখেই এই অস্থায়ী বাজারেও মাছের দাম বাড়ানো হয়েছে। অতিরিক্ত শীতের কারণে মাছের সরবরাহ কম হচ্ছে বলে মাছের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। কয়টা টাকা লাভের আশায়ই তারা ব্যবসা করেন বলেও জানান তারা।   

ব্যবসায়ীরা আরও বলছেন, অতিরিক্ত শীতের কারণে গ্রামাঞ্চলে ফসল তুলতে পারছেন না কৃষকরা। ফলে এর প্রভাব পড়েছে রাজধানীর সবজির বাজারেও। পাশাপাশি গত সপ্তাহে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের কারণে টঙ্গীতে প্রচুর পরিমাণে সবজির চাহিদা ছিল। তাই সবজির দাম বেড়েছিল, কিন্তু আর কমেনি। এখনও ইজতেমা চলছে। আজ থেকে আগামী ২ দিন (২২ জানুয়ারি) দ্বিতীয় দফায় ইজতেমার সময় পর্যন্ত সবজির দাম আরও চড়া থাকতে পারে বলেও জানান সবজি বিক্রেতারা। তবে শীত কিছুটা কমলে বাজারে সবজির সরবরাহ বাড়বে। তখন কমতে পারে সবজি দাম।

রাজধানীর মিরপুরের শেওড়াপাড়া বাজারেও দেখা গেছে একই চিত্র। সেখানেও শীতের সবজির দাম একটু বাড়তি। গত সপ্তাহের চেয়ে সব ধরনের মাছের দাম বেড়েছে। সেই সঙ্গে শীতের প্রতিটি সবজির দামও বাড়তি। সব সবজিতেই কেজিতে অতিরিক্ত ১০ থেকে ২০ টাকা গুনতে হচ্ছে।

শুক্রবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর মহাখালী কাঁচাবাজার, মিরপুর এলাকার আনাছার ক্যাম্প, শেওরাপাড়াসহ বিভিন্ন বাজার সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের তুলনায় সব ধরনের মাছের দাম বেড়েছে। তবে গরু, খাসি, সোনালি মুরগি ও ব্রয়লার মুরগির দাম আগের মতই রয়েছে। গত সপ্তাহের তুলনায় সকল প্রকার সবজির দাম ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

মিরপুরের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শুক্রবার ছুটির দিনে বাজারে কাতল মাছ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায়, তেলাপিয়া ২২০ টাকায়, পাবদা ৪৫০ টাকা, মলা ৩৬০ টাকা, শোল ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, শিং মাছ ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা, পাঙাশ ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা, কৈ ২৬০ টাকা, বোয়াল ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকা, টেংরা ছোটগুলো ৫০০ আর বড় ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা, রুই ২৬০ থেকে ২৮০ টাকা, চিংড়ি ৬০০ এবং গলদা চিংড়ি ৭০০ টাকায় প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে শীত এবং ইজতেমার অজুহাতে বেড়েছে সব ধরনের সবজির দাম। বাজারে প্রতি পিস ফুল কপি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, যা গত সপ্তাহেও ছিল ৩০ টাকা। একইভাবে বাঁধাকপিও প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়, ব্রুকলি প্রতি পিস ৫০ টাকা, বেগুন প্রতি কেজি ৬০ টাকা, টমেটো প্রতি কেজি ৫০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকা, গাঁজর প্রতি কেজি ৪০ টাকা, সিম প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০ টাকা, ঝিঙা প্রতি কেজি ৬০ টাকা, মুলা প্রতি কেজি ৩০ টাকা, শালগম প্রতি কেজি ৩০, খিরা প্রতি কেজি ৩০ টাকা, শসা প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বরবটি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১০০ টাকা এবং পটল প্রতি কেজি ১২০ টাকা। নতুন আলু প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৬০ থেকে ৭০ টাকা, পেঁপে প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত সপ্তাহে সবজি অনুসারে কেজি প্রতি কমপক্ষে ৫ টাকা থেকে ১০ টাকা বা ২০ টাকা কম ছিল। 

মিরপুরের বাজারগুলোতে গরুর মাংস আগের মতই দামে, অর্থাৎ কেজি প্রতি ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খাসির মাংস ৯০০ টাকা কেজি, সোনালি মুরগি প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ২৬০ টাকায়, লেয়ার মুরগি ২৫০ থেকে ২৬০ টাকায় এবং ব্রয়লার প্রতি কেজি ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

দাম বেড়েছে সবজি ও মাছের, মাংস অপরিবর্তিত ।  

রাজধানীর মহাখালী কাঁচাবাজারের দৃশ্যাদৃশ্য একই রকম। এই বাজারেও সব ধরনের মাছ এবং সবজির দাম বেড়েছে। সাধারণ মানুষেরা বাজারে এসে সাধারণত কম দামের মাছ যেমন, পাঙাশ, রুই, চাষের কই, তেলাপিয়া, নলা এবং বরফ দেওয়া বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ- বেশি কিনে থাকেন। কিন্তু আজকের বাজারে এসব মাছের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে ক্রেতারা ছুটির দিনের বাজারে এসে দাম বৃদ্ধি দেখে অস্বস্তিতে পড়েছেন।

মহাখালী কাঁচাবাজারের মাছ বিক্রেতা রাসেল হোসেন জানান, গ্রামাঞ্চলে অতি মাত্রায় শীতের কারণে মাছ তুলতে পারছেন না চাষিরা। এ ছাড়া কুয়াশাসহ শীতের কারণে পরিবহন নিয়েও বিপাকে পড়েছেন অনেকে। ফলে বাজারে মাছের সরবরাহ কম, এ কারণেই মাছের দাম কিছুটা বেড়েছে।

এদিকে, সব ধরনের সবজির দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে সবজি বিক্রেতা ফজল মিঞা বলেন, শীত ও কুয়াশার কারণে গ্রামের কৃষকরা ফসল তুলতে পারছেন না। যে কারণে সরবরাহ কমেছে। তবে শীত কিছুটা কমলে আগের মতো প্রচুর সবজি সরবরাহ হবে। তখন দাম কিছুটা কমে আসবে।

তিনি বলেন, প্রচুর পরিমাণে সবজি ইজতেমা ময়দানের দিকে চলে গেছে। সেখানে সবজির চাহিদা বেশি। যে কারণে ঢাকায় সবজি কম এসেছে। দাম বাড়ার পেছনে এটিও একটি কারণ। রবিবার ইজতেমা শেষ হলে সবজির দাম কিছুটা কমতে পারে বলেও জানান তিনি।


বাজারদর   সবজি   মাছ   মাংস   কাঁচাবাজার  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ট্রেড

ভরা মৌসুমেও আকাশচুম্বী সবজির দাম

প্রকাশ: ০৯:৪০ এএম, ১৩ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

দেশজুড়ে কুয়াশা তীব্র শীতের কারণে মাঠ থেকে ফসল তুলতে সমস্যায় পড়ছেন কৃষকেরা। আর ঘন কুয়াশার কারণে সবজি পরিবহনও ব্যাহত হচ্ছে। তাতে ঢাকার বাজারে শীতের সবজি আসছে কম। ভরা মৌসুমেও গত দু-তিন দিনের ব্যবধানে কেজিতে সবজির দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা। মাছ আদা-রসুনের দামও একটু বাড়তি। আর চাল, ডালসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য স্থিতিশীল।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর পলাশী বাজার, নিউমার্কেট কাঁচাবাজার, কাঁঠালবাগান রাজাবাজার ঘুরে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত দু-তিন দিনের ব্যবধানে নতুন করে সবজির দাম বেড়েছে। তাতে এখন বাজারে প্রতি কেজি বেগুন ৬০-৮০ টাকা, শিম টমেটো ৫০-৬০ টাকা, করলা ১০০-১২০ টাকা, গাজর শসা ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ঝিঙে, ধুন্দল চিচিঙ্গার কেজিপ্রতি দাম রাখা হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা। গত সপ্তাহেও এসব সবজির কেজি ৫০-৬০ টাকার মধ্যে ছিল।

এদিকে প্রতিটি ফুলকপি বাঁধাকপির দাম পড়ছে ৪০-৫০ টাকা। আর বড় আকারের প্রতিটি লাউ বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকায়। খুচরায় এক কেজি কাঁচা মরিচ কিনতে হলে গুনতে হচ্ছে ১২০ টাকার ওপরে। মানভেদে নতুন আলুর দাম পড়ছে ২০-৩০ টাকা কেজি।

গত কয়েক দিনে অন্তত ৩০ শতাংশ সবজির ট্রাক কম এসেছে উল্লেখ করে বাংলাদেশ কাঁচামাল আড়ত মালিক সমিতির সভাপতি মো. ইমরান মাস্টার প্রথম আলোকে বলেন, এই সময়ে সবজির দাম কম থাকে। তবে কয়েক দিন আবহাওয়া একটু বৈরী। তাতে দাম একটু বাড়তি। উৎপাদন খরচও বেশি। তবে সরবরাহ বেড়ে গেলে দাম দ্রুত কমে যাবে।

এদিকে কেজিতে ১০-৩০ টাকা বেড়েছে পাঙাশ, তেলাপিয়া রুই মাছের দাম। তেলাপিয়া পাঙাশের কেজি ১৮০-২০০ টাকা নিচে মিলছে না। রুই মাছের দাম মানভেদে ২৫০-৪০০ টাকা কেজি।

পলাশী বাজারের মাছ বিক্রেতা মো. হারুন প্রথম আলোকে বলেন, শীতের কারণে চাষের মাছ বাজারে কম আসছে। তাতে মাছের দাম বাড়ছে। তবে এটা দীর্ঘ মেয়াদে থাকবে না। দ্রুত কমে আসবে।

ব্রয়লার মুরগি ১৫০-১৬০ টাকা সোনালি মুরগি ২৫০-২৭০ টাকা কেজি পাওয়া যাচ্ছে। ফার্মের মুরগির বাদামি ডিমের ডজন এখন ১১০-১২০ টাকা। গরুর মাংস ৬৮০-৭০০ খাসির মাংস মানভেদে ৯০০-১০০০ টাকা কেজি।

এদিকে মোটা চালের দাম একটু কমে ৫০ টাকার নিচে নামলেও, অন্যান্য চাল আগের দামেই কিনতে হচ্ছে। বাজারে চিনির দাম এখনো তেতে আছে। ১১৫-১২০ টাকার নিচে চিনির কেজি পাওয়া যাচ্ছে না। প্যাকেটজাত খোলা আটার দামেও বড় পরিবর্তন নেই।

বাজারে মোটা, মাঝারি সরু মসুর ডাল কেজি ১০০-১৪০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। বোতলজাত প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১৯০ টাকা। পেঁয়াজের দাম নাগালের মধ্যেই আছে। ৫০ টাকার মধ্যে নতুন পুরোনো উভয় পেঁয়াজ মিলছে। তবে আদা রসুনের দাম কেজিতে ২০-৩০ টাকা বাড়তি। দেশি আমদানি করা রসুনের কেজি ১২০-১৫০ টাকা। আর আদার কেজি ২৫০ টাকার মধ্যে।

নিউমার্কেট কাঁচাবাজারে সদাই করতে আসা আসফিয়া পারভিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাজার খরচ গত বছর হু হু করে বেড়েছে। বছর বড় দাগে কিছু না বাড়লেও, দাম একটারও কমেনি। এতে সংসার সামলাতে কষ্ট হচ্ছে। নানাভাবে কাটছাঁট করে চলতে হচ্ছে।



মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন