ইনসাইড পলিটিক্স

‘আওয়ামী লীগ বা বিএনপির সঙ্গে জোটের রাজনীতি করতে চাই না’

প্রকাশ: ০১:১৭ পিএম, ২৮ অক্টোবর, ২০২১


Thumbnail

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরু ও অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়ার নেতৃত্বে গঠিত ‘বাংলাদেশ গণ অধিকার পরিষদ’ নিয়ে আগামীতে ৩০০ আসনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দিতে চান নুরু।

নিজের রাজনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘নৌকা বা ধানের শীষের বাইরে কেউ কেউ বিকল্প নতুন শক্তির কথা বলছেন। সাধারণ মানুষেরও প্রত্যাশা, আওয়ামী লীগ-বিএনপির দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতির বাইরে একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফরম গড়ে উঠুক। তাই আমরা আওয়ামী লীগ বা বিএনপির সঙ্গে জোটের রাজনীতি করতে চাই না। আমরা একটি নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে মাঠে থাকতে চাই। ২০২৩ সালের নির্বাচনে ৩০০ আসনে দলীয় প্রার্থী দিতে চাই।’

আলাপচারিতায় নূর বলেন, ‘নতুন দলের ঘোষণার আগে ও পরে আমরা বেশ সাড়া পাচ্ছি। ঘোষণা দেওয়ার আগে থেকেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আগ্রহ লক্ষ্য করেছি। আমাদের চারটি অঙ্গসংগঠন। ছাত্র অধিকার, যুব অধিকার, শ্রমিক অধিকার ও প্রবাসী পেশাজীবী অধিকার পরিষদ আগেই গঠন করা হয়েছে। দল ঘোষণার আগে বিভিন্ন ব্যক্তি বলেছিলেন আত্মপ্রকাশের পর তারা নতুন দলে যোগ দেবেন। সেই সাড়াও পাচ্ছি। বিভিন্ন দল থেকেও আমাদের দলে আসার ব্যাপারে অনেকেই যোগাযোগ করছেন। সেদিক থেকে বলা যায়, এ রকম একটি প্রতিকূল পরিবেশে যখন রাজনৈতিক ভিন্নমতের ওপর দমন-পীড়ন চলছে, সেই সময় সর্বসাধারণের বিপুল সাড়া পাচ্ছি।’

কোন কোন রাজনৈতিক নেতা যোগাযোগ করছেন জানতে চাইলে ডাকসুর এই সাবেক ভিপি বলেন, ‘এটা সারপ্রাইজ হিসেবেই থাক। যোগদানের পরই সবাইকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাব। এখন বললে তো আকর্ষণ থাকবে না।’ সাংগঠনিক কাঠামো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের চার অঙ্গসংগঠন এরই মধ্যে গঠন করা হয়েছে। দেশ-বিদেশে বিভিন্ন কমিটি হচ্ছে। এখন জেলা থেকে ওয়ার্ড পর্যায়ে সব কমিটি গঠনের কাজ চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে আমরা কমিটি করতে চাই। আমাদের টার্গেট ২০২৩ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে নিজেদের সাংগঠনিকভাবে প্রস্তুত করা। এখন আমরা আগামী নির্বাচনের জন্য দলকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিচ্ছি। সেভাবেই দল সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

গণঅধিকার পরিষদের লক্ষ্য কী জানতে চাইলে দলটির এই মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা মনে করি সব সময় সংকটেই সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন হয়। যেহেতু জাতীয়ভাবে রাজনীতিতে একটা সংকট চলছে, দেশে অস্থিতিশীল অবস্থা বিরাজ করছে সে মুহূর্তে আমরা তরুণরা কিন্তু একটি পরীক্ষা দিয়ে এ পর্যন্ত এসেছি। বিশেষ করে কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনসহ বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আজকের অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছি। এ সময়ে আমাদের আপসহীন ভূমিকা ও কথা বলা বা পাশে থাকার ব্যাপারে দৃঢ়তা মানুষের মধ্যে আশার জন্ম দিয়েছে। আজকের এ সংকট থেকে উত্তরণে তরুণদের একটি ভূমিকা আছে।’

নুরুল হক নূর বলেন, ‘সাধারণ মানুষের যে প্রত্যাশা বা আকাক্সক্ষা- সাম্য, মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র তা স্বাধীনতার ৫০ বছরেও সম্ভব হয়নি। বিচার বিভাগ স্বাধীন এ কথা আমরা বলতে পারি না। সেদিক থেকে ন্যায়বিচার আমরা নিশ্চিত করতে পারিনি। গণমাধ্যম বিশেষ করে ব্যক্তির বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত হয়নি। পাকিস্তানিরা যেমন আমাদের মুখের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল, ঠিক তেমনি সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তার নামে কালো আইন করে আমাদের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নিতে চায়। সে ক্ষেত্রে মানুষ আমাদের কাছে যে প্রত্যাশা করছে এ সংকট থেকে জাতিকে আমরা উদ্ধার করতে পারব।’

দলীয় সরকারের অধীনে ভোটে যাবেন কি না জানতে চাইলে ডাকসুর সাবেক এই ভিপি বলেন, ‘বর্তমান সরকার ২০১৪ ও ২০১৮ সালে প্রতারণামূলক নির্বাচন করেছে। সে কারণে তাদের বিশ্বাস করা যায় না। আমরা দেখেছি দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হয় না। সে ক্ষেত্রে আমাদের দাবি থাকবে অবশ্যই তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা অথবা সব দল ও সমাজের গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে একটি নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন করা। আমাদের স্পষ্ট কথা- এ সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাব না। সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করতে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রয়োজন। এজন্য যদি আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে নামতে হয় তা হলেও আমরা রাজপথে থেকেই দাবি আদায় করব।’

বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ বা জোটগত আন্দোলনে যাবেন কি না জানতে চাইলে নূর বলেন, ‘মৌলিক দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনে কারও আহ্বানের দরকার নেই। আমাদের প্রত্যেকেরই বর্তমানে মৌলিক দাবি একটি নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে ভোট। তা আমার জন্য, বিএনপির জন্য, জাতীয় পার্টি, চরমোনাই পীরের জন্য, সিপিবি বা বাসদের জন্যও প্রয়োজন। এজন্য কারও আহ্বানের প্রয়োজন নেই। যার যার জায়গা থেকে আন্দোলন শুরু করলেই হয়। এতেই সরকার চাপে পড়বে। কারও ব্যানারে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। মৌলিক ইস্যুতে যার যার ব্যানার নিয়ে মাঠে নামলেই কার্যকর আন্দোলন গড়ে উঠবে, দাবি আদায় হবে। এ ক্ষেত্রে জোট বা যুগপৎ আন্দোলনের প্রয়োজন নেই। সব দলের জন্যই নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রয়োজন, কারও একক প্রয়োজন নয়।’

নেতৃত্বে নবীন-প্রবীণের সমন্বয় ঘটবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘৯৭ সদস্যবিশিষ্ট কমিটিতে অনেক অভিজ্ঞ ও নবীন-প্রবীণের সমন্বয় ঘটেছে। তবে আমাদের নেতৃত্বের বড় একটি অংশই তরুণ। কারণ তারা এ প্রতিকূল পরিবেশে নিজের জীবন বিপন্ন করে মানুষের অধিকার আদায়ে রাজপথে অটল থাকে। হামলা-মামলাসহ নানা কারণে তাদের অদম্য শক্তি দমে যায়নি। এই কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে হলে আন্দোলন সংগ্রামের বিকল্প নেই। সে ক্ষেত্রে তরুণরাই সবচেয়ে বেশি ত্যাগ স্বীকার করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে তরুণদের আমরা নেতৃত্বে রেখেছি, ভবিষ্যতেও রাখব। পাশাপাশি সিনিয়ররাও আমাদের পাশে থেকে পরামর্শ দেবেন। আমাদের আহ্বায়ক কমিটিতে সদস্য সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।’

দেশবাসী বা নতুন প্রজন্মের প্রতি আহ্বান কী জানতে চাইলে নুরুল হক নূর বলেন, ‘দেশটা আমাদের সবার। দেশটা গড়ার জন্য যার যার অবস্থান থেকে ভূমিকা পালন করতে হবে। আমাদের রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবেই। তাই বলে একটি মতকে প্রতিষ্ঠিত করতে আরেকটি মতকে দমিয়ে রাখব, অন্য ধর্মের ওপর আক্রমণ করব, মানুষের ওপর হামলা করব, অসহিষ্ণু আচরণ করব তা হতে পারে না। রাজনীতি যার যার জায়গা থেকে করব, কিন্তু আমরা সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখব। আগামীতে বাংলাদেশকে একটি উন্নয়নশীল বাংলাদেশে রূপান্তরিত করতে যার যার জায়গা থেকে ভূমিকা পালন করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়া। স্বাধীনতার ৫০ বছরেও মানুষের ভোটাধিকার নেই। তা আমাদের প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নইলে মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ভূলুণ্ঠিত হবে।’



মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

দেশে ফিরেছেন রওশন এরশাদ

প্রকাশ: ০১:২২ পিএম, ২৭ Jun, ২০২২


Thumbnail দেশে ফিরেছেন রওশন এরশাদ

থাইল্যান্ডে চিকিৎসা শেষে প্রায় ৮ মাস পর দেশে ফিরেছেন সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ। সোমবার (২৭ জুন) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তাকে বহনকারী বিমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বন্দরে অবরতণ করে।

এইচ এম এরশাদ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান কাজী মামুনুর রশীদ এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, রওশন এরশাদ বিমানবন্দর থেকে সরাসরি গুলশানে হোটেল ওয়েস্টিনে চলে যাবেন। ঢাকায় অবস্থানকালে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ সেখানেই থাকবেন। আগামী ৩০ জুন বাজেট অধিবেশনের সমাপনী দিনে তিনি উপস্থিত থাকবেন। পরে আগামী ৪ জুলাই চিকিৎসার জন্য আবারও থাইল্যান্ড চলে যাবেন।

রওশন এরশাদকে অভ্যর্থনা জানাতে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা জিএম কাদের, কো- চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলাসহ দলের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

রওশন এরশাদ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

৮ মাস পর দেশে ফিরছেন রওশন এরশাদ

প্রকাশ: ১০:৩৭ এএম, ২৭ Jun, ২০২২


Thumbnail ৮ মাস পর দেশে ফিরছেন রওশন এরশাদ

দীর্ঘ ৮ মাস থাইল্যান্ডে চিকিৎসা শেষে আজ সোমবার (২৭ জুন) দেশে ফিরছেন সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ। দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে রওশন এরশাদকে বহনকারী বিমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে বলে জানা গেছে।

এর আগে, গত বছরের ৫ নভেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে যান রওশন। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন তিনি।

বিরোধীদলীয় নেতার সহকারী একান্ত সচিব মো. মামুন হাসান গণমাধ্যমকে জানান, রওশন এরশাদ স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের টিজি-৩২১ বিমানে ব্যাংককের সুবর্ণভূমি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা দেবেন। দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে তার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা রয়েছে। এ সময় তার সঙ্গে অবস্থানকারী ছেলে রাহ্গীর আল মাহি (সাদ এরশাদ) ও পুত্রবধূ মাহিমা এরশাদ উপস্থিত থাকবেন।

উল্লেখ্য, জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন শেষে তিনি আগামী ৪ জুলাই রুটিন চেকআপের জন্য ফের ব্যাংককের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন।

রওশন এরশাদ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

ছাত্রসংগঠন দিয়ে অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা ষড়যন্ত্র ও চেষ্টা করছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৮:৪০ পিএম, ২৬ Jun, ২০২২


Thumbnail

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি দেশের উন্নয়ন চায় না। বর্তমান সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে এই শক্তি নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তারা তাদের ছাত্রসংগঠনকে দিয়ে অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র ও চেষ্টা করছে।

রোববার (২৬ জুন) জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রুমানা আলীর প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারা ’৭৫-এর হাতিয়ার গর্জে উঠুক আরেকবার স্লোগানের মাধ্যমে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকি এমনকি সেতু উদ্বোধনের অনুষ্ঠান বানচালের অপচেষ্টায় লিপ্ত। যাঁরা দেশে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টায় লিপ্ত তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার করা হবে।

আসাদুজ্জামান খান বলেন, সরকার জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানসহ কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ সরকারের আমলেই দেশের সব বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়নসহ প্রভূত উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতার বিপক্ষের অপশক্তি দেশের উন্নয়ন চায় না। তারা বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে ঈর্ষান্বিত হয়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ সরকারের আরেকটি বড় সাফল্য ও অর্জন নিজ অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ। দেশ যখন পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আমেজে মেতে উঠেছে, ঠিক তখনই সেতু উদ্বোধন সামনে রেখে সরকারের এ বড় অর্জন ম্লান করে দিতে একটি চক্র অপপ্রচার, গুজব ছড়িয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। সরকারের এত বড় অর্জন থেকে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরাতে এবং নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থে এ চক্রটি মরিয়া হয়ে উঠেছে। তারা তাদের ছাত্রসংগঠনকে দিয়ে এ অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র ও চেষ্টা করছে।

সরকারবিরোধী চক্রটি শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বিঘ্নিত করাসহ দেশে বিরাজমান গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা বিনষ্ট করার চেষ্টা চালাচ্ছে অভিযোগ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের এ অশুভ তৎপরতাকে প্রতিহত করতে সরকার সজাগ রয়েছে। সরকারবিরোধী এ স্লোগান দেওয়া ব্যক্তিদের যেকোনো ধরনের গুজব, অপপ্রচার ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড রোধে সারা দেশে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। যাঁরা দেশে বিশৃঙ্খলা, বিঘ্ন সৃষ্টি ও সরকার তথা ১৭ কোটি মানুষের অর্জনকে ম্লান করে দিতে চায় তাদের কোনোভাবে ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের আইনের আওতায় এনে বিচারের জন্য সোপর্দ করা হবে। সরকার দেশের জনগণের জানমাল রক্ষা, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন ও শিক্ষাঙ্গনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। অপরাধী যে–ই হোক না কেন, যে দলের হোক না কেন, তাদের দমনে সরকার অত্যন্ত কঠোর।

ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান জানান, বিজিবি গত চার বছরে (২০১৮-২০২২) ১টি করে নীলগাই, ভারতীয় মেছো বাঘ, বানর ও বিরল প্রজাতির বনরুই, ৩টি বাঘের বাচ্চা, ১৮টি বিদেশি কুকুর, ৭টি তক্ষক, ২টি ভোঁদড়, ৪৭৮টি কচ্ছপ, ৪৭টি বিভিন্ন প্রজাতির সাপ, ৬৪টি বিভিন্ন প্রজাতির হাঁস ও ২ হাজার ৮৩৮টি বিভিন্ন প্রজাতির পাখি পাচারকালে জব্দ করে অবমুক্ত করেছে। এ ছাড়া কোস্টগার্ড ২০২১ সালে ১৫টি তক্ষক, ২ হাজার ১০৯টি কচ্ছপ, ১৬টি হরিণের চামড়া, ৩টি হরিণের মাথা, ১০৬ কেজি হরিণের মাংস ও ১ হাজার ৯৯৯ ঘনফুট কাঠ জব্দ করার পাশাপাশি ৩২৪ জন চোরাকারবারিকে আটক করেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

শাজাহান খানের পাঁচ প্রশ্নের এক উত্তর ‘খালেদা জিয়া’

প্রকাশ: ০৮:৩৩ পিএম, ২৬ Jun, ২০২২


Thumbnail শাজাহান খানের পাঁচ প্রশ্নের এক উত্তর ‘খালেদা জিয়া’

বিভিন্ন বিষয়ে পাঁচটি প্রশ্ন তুলে তার একটি উত্তর দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান। তিনি বলেছেন, যদি প্রশ্ন করি বাংলার সবচেয়ে হিংসুক মহিলা কে? বাংলার শ্রেষ্ঠ মিথ্যাবাদী কে? বাংলার শ্রেষ্ঠ প্রতারক কে? বাংলাদেশকে পর পর পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করেছে কে? বাংলাদেশের কোন সরকারপ্রধান এতিমের টাকা আত্মসাৎ করে সাজা ভোগ করছেন? এই পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর একটি। তা হলো খালেদা জিয়া।

রোববার (২৬ জুন) একাদশ জাতীয় সংসদের অষ্টাদশ অধিবেশনে প্রস্তাবিত ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ সব কথা বলেন।

শাজাহান খান বলেন, বিএনপির নেতারা এখানে আছেন। দয়া করে আপনারা পদ্মা সেতু পার হবেন না। আপনাদের নেত্রীর নির্দেশ অমান্য করবেন না। আপনাদের জন্য আমরা নদীর পাড়ে নৌকা রেখে দেব। সেই নৌকা দিয়ে আপনাদের পার করব। এই নৌকা বাংলাদেশের স্বাধীনতা এনেছে। আজ বাংলাদেশের উন্নয়ন সাধন করেছে নৌকা। এ নৌকায় আপনাদের আসতে হবে।

তিনি বলেন, বিএনপি একটি ষড়যন্ত্রকারী দল। তাদের ষড়যন্ত্র এখনো শেষ হয়নি। বঙ্গবন্ধুর মতো তারা আবার শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে চায়। তারা স্লোগান দিয়েছে পঁচাত্তরের হাতিয়ার গর্জে উঠুক আরেকবার। আমি প্রস্তাব করবো, এ স্লোগান যারা দিয়েছে তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক। বিচার এবং শাস্তির বিধান করা হোক।

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, কিছু রাজনৈতিক নেতা আছেন যারা পথহারা পাখির মতো নিজেরা আবোল-তাবোল বলছেন। তারা শেখ হাসিনাকে উৎখাত করে খালেদা জিয়াকে ক্ষমতায় বসিয়ে জামায়াত-শিবির স্বাধীনতাবিরোধীদের নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চান। এ সব পথহারা রাজনীতিকদের একজন মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি প্রথমে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ করেছেন। স্বাধীনতার পর জাসদ ছাত্রলীগ করেছেন। পরবর্তী সময়ে জাসদ করেছেন, বাসদ করেছেন, বাসদ মাহমুদ করেছেন। জাতীয় মুক্তি পার্টি গঠন করেছেন। আওয়ামী লীগ করেছেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বগুড়া থেকে নৌকা নিয়ে নির্বাচন করে হেরে গেছেন। গণতান্ত্রিক জোট করেছেন। এখন নাগরিক ঐক্য করেছেন। তার রাজনৈতিক আদর্শ কী? তিনি শেখ হাসিনাকে উৎখাত করতে চান।

তিনি বলেন, আ স ম রব বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ছাত্রলীগ করেছেন। জাসদ করেছেন, জেএসডি করছেন। তিনি ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা সরকারের মন্ত্রী হয়েছেন। শেখ হাসিনাকে উৎখাতের জন্য বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। ড. কামাল হোসেন ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিপরিষদে ছিলেন। পরে গণফোরাম করে বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন।

শাজাহান খান বলেন, কাদের সিদ্দিকী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। বঙ্গবন্ধুকে পিতা হিসেবে মানেন। স্বাধীনতার পর তিনি লোক দেখানোর জন্য বঙ্গবন্ধুর বাড়ি পর্যন্ত ঝাড়ু দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু তাকে টাঙ্গাইলের গভর্নর নিয়োগ করেছিলেন। তাকে স্বাগত জানানোর জন্য টঙ্গী থেকে টাঙ্গাইল পর্যন্ত ১০১টি তোরণ নির্মাণ করা হয়েছিলো। তার মধ্যে একটি ছিলো বঙ্গবন্ধুর ছবিওয়ালা আর সব তার নিজের ছবি। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে ১৯৯৬ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাকে মন্ত্রী না করায় তিনি নাখোশ হলেন। তিনি আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করলেন। পরবর্তীতে উপ নির্বাচনে তিনি আবার দাঁড়ালেন। তিনি হেরে গেলেন।

পদ্মা সেতু শুভ উদ্বোধনের পর তিনি কাদের সিদ্দিকী কী মন্তব্য করেছেন? বলেছেন, পদ্মা সেতু হয়েছে এ জন্য অহংকার করার কিছু নেই। দুঃখিত হবারও কিছু নেই। যারা এর সমালোচনা করেছেন, তারাও ঠিক করেছেন। যারা আশান্বিত হয়েছেন- তারাও ঠিক করেছেন। এই কথা বলার পর আরেকটি কথা বলেছেন। পদ্মা সেতু উদ্বোধনে এত বড় আয়োজন না করলেও চলতো। পদ্মা সেতু হওয়ায় তিনি কি খুশি হয়েছেন? না নাখোশ হয়েছেন? খালেদা জিয়ার মতো দুঃখ পেয়েছেন? একেই বলে পাগলে কী না বলে, ছাগলে কী না খায়।

শাজাহান খান বলেন, বিএনপি মহাসচিব বলেছেন এই সরকার ক্ষমতায় থাকলে মানুষ না খেয়ে মারা যাবে- আমি যদি তাকে প্রশ্ন করি যখন আপনারা ক্ষমতায় ছিলেন তখন উত্তরবঙ্গ ছিলো মঙ্গার দেশ। এখন আর মঙ্গা নেই। অভাবের তাড়নায় মানুষ না খেয়ে থাকত। তার মুখ থেকে আজকে এই কথা শুনতে হচ্ছে। তিনি উন্মাদের মতো কথা বলেছেন। বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন কী করেছিলো, না করেছিল— সেই ইতিহাস তার জানা আছে।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

পদ্মা সেতু নিয়ে কেউ রাজনীতি করবেন না: বিদিশা এরশাদ

প্রকাশ: ০৮:০৩ পিএম, ২৬ Jun, ২০২২


Thumbnail পদ্মা সেতু নিয়ে কেউ রাজনীতি করবেন না: বিদিশা এরশাদ

জাতীয় পার্টি পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিদিশা এরশাদ বলেছেন, স্বপ্নের পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন করে ১৮ কোটি মানুষের স্বপ্ন পূরণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিরোধীদলসহ সব রাজনৈতিক দলকে অনুরোধ করছি, পদ্মা সেতু নিয়ে কেউ রাজনীতি করবেন না। 

রোববার (২৬ জুন) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম মিলনায়তনে জাতীয় পার্টি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বিদিশা বলেন, আমরা বিরোধী রাজনীতি করি ভোটের জন্য। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের জন্য যা করলেন, তা বাঙালি জাতি হাজার হাজার বছর মনে রাখবে। তিনি প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। পদ্মা সেতু পুরো দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

মেজবাউল ইসলাম লাভলুর সভাপতিত্বে, জাতীয় পার্টির দপ্তর সম্পাদক নাফিজ মাহবুবের সঞ্চালনায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান দয়াল কুমার বড়ুয়া। 

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির আইন ও রাজনৈতিক উপদেষ্টা কাজী রুবায়েত হাসান সায়েম, যুগ্ম মহাসচিব কর্নেল অব. হাবিবুল হাসান, মেজর অব. সিকদার আনিসুর রহমান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য পীরজাদা সৈয়দ জুবায়ের আহমেদ ও গাইবান্ধা সদরের সাবেক ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান মিসেস নিলা ইসলামসহ অনেকে।


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন