ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

ইসরায়েলকে ১০০ কোটি টাকার সহায়তা দিলেন ড. ইউনূস

প্রকাশ: ০৮:০০ পিএম, ১৩ অক্টোবর, ২০২৩


Thumbnail

গাঁজা যখন জ্বলছে, মসুলিম নাগরিকরা সেখানে এক দুর্বিষহ জীবন যাপন করছে, নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে নারী, শিশু সহ সব মানুষকে। মানবতার চরম লঙ্ঘন করছে ইসরায়েল ঠিক সেই সময় ইসরায়েলের পাশে দাঁড়ালেন শান্তিতে নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ড. মুহাম্মদ ইউনূস ইসরায়েলের মানবিক বিপর্যয়ের কথা বলে সেই দেশকে একশো কোটি টাকার সহায়তা দিয়েছেন বলে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেছে। 

গ্রামীণ আমেরিকা ইসরায়েলকে এই মানবিক সহায়তা দিয়েছে। গ্রামীণ আমেরিকার কো-চেয়ার হলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি গ্রামীণ আমেরিকার প্রতিষ্ঠাতাও বটে। গ্রামীণ আমেরিকার দুইজন কো-চেয়ারের মধ্যে ড. ইউনূস একজন। অন্যজন হলেন জন এফ ম্যাকারও জুনিয়র। গ্রামীণ আমেরিকার সিইও আন্দ্রিয়া। সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতিতে দেখা যায় ইসরায়েলের ওপর হামাসের আক্রমণের পর যে সমস্ত ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠান তাদেরকে সহায়তা দিয়েছে তাদের প্রতি ইসরায়েল সরকার কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে। এই সহায়তা দানকারীদের তালিকায় গ্রামীণ আমেরিকা রয়েছে। 

গ্রামীণ আমেরিকা ইসরায়েলের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য স্বাস্থ্য এবং মানবিক সহায়তা হিসেবে এক কোটি ডলার প্রদান করেছে বলে জানা গেছে। যা বাংলাদেশি টাকায় একশো কোটি টাকারও বেশি। ড. মুহাম্মদ ইউনূস একজন বাংলাদেশি নাগরিক। ইসরায়েলের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সরকারি এই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে থেকে তিনি অন্তত ২৮ টি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তৈরি করেন। এই সমস্ত প্রতিষ্ঠানের টাকা দিয়ে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিলিয়ন ডলারের গ্রামীণ আমেরিকা তৈরি করেন। গ্রামীণ আমেরিকার মূল লক্ষ্য হল সেখানে নারীর ক্ষমতায়ন এবং ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্পের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষকে
সহায়তা করা। 

গ্রামীণ আমেরিকা এর আগে হিলারি ক্লিনটনকেও অনুদান দিয়েছিল তাকে নির্বাচনে সহায়তা করার জন্য। আর এবার ইসরায়েলকে সহায়তা দিল। ইসরায়েলের ইহুদিবাদের বিরুদ্ধে যখন সমগ্র মুসলিম বিশ্বে সোচ্চার, যে সময় ইসরায়েলের নিপীড়নে ফিলিস্তিনের নিরীহ মুসলমানরা জর্জরিত ঠিক সেই সময় ইহুদিবাদের পক্ষে ড. ইউনূসের এই অবস্থান সকলকে বিস্মিত করেছে। ড. ইউনূস তার নিজের স্বার্থ রক্ষার জন্য এবং মার্কিন প্রভাব বলয়ে নিজেকে আরও গ্রহণযোগ্য এবং আস্থাভাজন করার জন্যই এই এক কোটি ডলারের সহায়তা দিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। শুধু এবারই প্রথম নয়, বাংলাদেশের কোন দুর্যোগ দুর্বিপাকে ড. ইউনূস হাত না বাড়ালেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সামান্য ঝড় হলেও তিনি সেখানে সহায়তা দেন। 

বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা দুর্বিপাকের সময় ড. ইউনূসের নীরবতা যেমন লক্ষণীয় ঠিক তেমনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামান্য বিষয়ে তার উদ্বেগ উৎকণ্ঠাও সকলের চোখে পড়ে। ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই সহায়তা দিয়ে ইহুদিবাদের পক্ষে অবস্থান নিলেন। তাহলে কি তিনি মুসলিম বিশ্বে মানবিক বিপর্যে উদ্বিগ্ন নন? তিনি কি তাহলে গাঁজার হত্যাকাণ্ড সমর্থন করেন? ফিলিস্তিনি নিরীহ মানুষের ওপর নির্বিচারের যে অত্যাচার হচ্ছে তার প্রতি কি তিনি সমর্থন জানালেন? ইসরায়েলের আগ্রাসনকে সমর্থন করা কি কোন অপরাধ নয়? অন্তত বাংলাদেশের একজন মুসলিম নাগরিকের জন্য। এই প্রশ্নটি এখন বড় হয়ে সামনে এসেছে।

ফিলিস্তিন-ইসরায়েল যুদ্ধ   গ্রামীণ আমেরিকা   ড. মুহাম্মদ ইউনূস   হামাস  


মন্তব্য করুন


ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

বেনজীরের তারেক কানেকশন (ভিডিও)

প্রকাশ: ০২:০০ পিএম, ০৭ জুন, ২০২৪


Thumbnail

সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদের সঙ্গে তারেক জিয়ার যোগাযোগের চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। একাধিক গোয়েন্দা সূত্র নিশ্চিত করেছে, সাবেক পুলিশপ্রধান অবসর গ্রহণের পর অন্তত একবার তারেক জিয়ার সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করেছেন। এছাড়াও তারেক জিয়ার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি আব্দুল মালেকের সঙ্গে তার একাধিক কথোপকথনের তথ্য এখন গোয়েন্দাদের হাতে।

বিএনপি যদি ক্ষমতায় আসে তাহলে যেন বেনজীরের বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের ওপর বিরূপ আচরণ না করে এবং বেনজীর আহমেদকে যেন কোন রকম হেনস্থা না করা হয়, সে কারণেই তারেক জিয়াকে বেনজীর আহমেদ বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়েছিলেন বলেও দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র ধারণা করছে। তবে গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, এ ব্যাপারে আরও বিস্তারিত অনুসন্ধান করতে হবে। সেই অনুসন্ধানের কাজ চলছে।

উল্লেখ্য যে, বেনজীর আহমেদ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ সালে পুলিশ প্রধানের পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এরপর তিনি অবসর জীবনযাপন করছিলেন। ২০২৩ সালের ১৮ এপ্রিল বেনজীর আহমেদ যুক্তরাজ্য সফর করেন। তার কন্যা সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবে- এই কারণে তিনি, তার স্ত্রী এবং আরেক কন্যাসহ যুক্তরাজ্যে যান। যুক্তরাজ্যে তিনি এক মাস অবস্থান করেছিলেন এবং এই এক মাস অবস্থানকালে অন্তত একবার তারেক জিয়ার সঙ্গে তার দেখা হয়েছে।

একাধিক গোয়েন্দা সূত্র বলছে, লন্ডনের স্ট্রেটফোর্ড এলাকায় বেনজীর আহমেদ এবং তারেক জিয়ার সাক্ষাৎ হয়েছে বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে। এই স্ট্রেটফোর্ড এলাকায় হাট হাউজ বলে একটি আবাসিক হোটেল রয়েছে, যে হোটেলটি ওয়েস্টফিল্ড শপিংমলের খুব কাছাকাছি। এখানেই কোন একটি জায়গায় তাদের বৈঠকের কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য একাধিক সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির হাতে আছে।

এ বছর জানুয়ারি মাসে নির্বাচনের পরপরই এই তথ্যগুলো পেতে শুরু করে বিভিন্ন সংস্থা। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আরও বলছে, বেনজীর আহমেদ এই সাক্ষাৎ ছাড়াও টেলিফোনে একাধিকবার যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি আব্দুল মালেকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। আব্দুল মালেক তারেক জিয়ার অত্যন্ত ঘনিষ্ট ব্যক্তি। বাংলাদেশ থেকে যে সমস্ত অর্থ পাচার হয়ে তারেক জিয়ার কাছে যায়, সে সমস্ত অর্থ তারেক জিয়ার কাছে পৌঁছে দেওয়ার মূল দায়িত্বটি পালন করে থাকেন এই আব্দুল মালেক। আব্দুল মালেকের সঙ্গে বেনজীরের অন্তত ১৭টি কল রেকর্ডের তথ্য প্রাথমিকভাবে পাওয়া গেছে। তবে এই সমস্ত আলাপ আলোচনায় কী হয়েছে এ নিয়ে এখন পর্যন্ত কোন বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায়নি।

বিভিন্ন দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে বিএনপি বড় ধরনের আন্দোলন শুরু করে এবং সেই সময় বিএনপির আন্দোলনে একটি জোয়ারের ভাব লক্ষ্য করা গিয়েছিল। এই সময় অনেকেই বিএনপির সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ শুরু করেছিলেন। বিশেষ করে যে সমস্ত ব্যবসায়ী অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ বিত্তের মালিক হচ্ছেন, যারা বিদেশে অর্থ পাচার করেছেন, তারা তারেক জিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে শুরু করেন। মূলত এদের লক্ষ্য ছিল যদি কোন কারণে সরকার বিপদে পড়ে এবং দেশে একটি অন্যরকম পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে যেন তারেক জিয়া তাদেরকে রক্ষা করেন।

২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি একটি প্রভাবশালী অবস্থানে এসেছিল। এই সময় বেনজীর আহমেদের মতো অনেক দুর্নীতিবাজই লন্ডনে যোগাযোগ শুরু করেছিলেন এবং তারেক জিয়াকে বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য যে, তারেক জিয়ার দুবাই, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ অন্তত ৮টি দেশে বিপুল সম্পদ রয়েছে। এ সমস্ত দেশ থেকে লন্ডনে অর্থ পাঠানো কোন জটিল বিষয় নয়।
বিভিন্ন দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, সরকার যে এখন বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অনমনীয় এবং কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে তার অন্যতম কারণ হলো বেনজীরের সঙ্গে তারেক জিয়ার কানেকশন। বেনজীর তার নিজের অবৈধ সম্পদ রক্ষার জন্য তারেক জিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এটি নিশ্চিত। তবে তিনি তারেক জিয়াকে ঠিক কী পরিমাণ অর্থ চাঁদা বা ঘুষ দিয়েছেন সে সম্পর্কে আরও বিস্তারিত অনুসন্ধান প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। সে সময় বেনজীর আহমেদ অন্য দুর্নীতিগ্রস্তদের মতো মনে করেছিলেন যে, আওয়ামী লীগের হয়তো পতন ঘটবে। এ কারণেই তারেক জিয়ার প্রতি ঝুঁকেছিলেন বেনজীর আহমেদ।




দুদক   দুর্নীতি দমন কমিশন   বেনজীর আহমেদ   তারেক জিয়া  


মন্তব্য করুন


ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

জিয়াউর রহমান যেভাবে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ঠেকাতে চেয়েছিলেন

প্রকাশ: ০৮:০০ পিএম, ১৬ মে, ২০২৪


Thumbnail

১৯৮১ সাল ১৬ মে। জিয়াউর রহমান রাতে তাঁর বাসভবনে মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে এক বৈঠকের আয়োজন করেছিলেন। বৈঠকে জিয়াউর রহমান ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিচারপতি আব্দুস সাত্তার, শাহ আজিজুর রহমান, একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী এবং তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এস এম মুস্তাফিজুর রহমান। 

এই সময় বিচারপতি আব্দুস সাত্তার ছিলেন উপরাষ্ট্রপতি। তিনি আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে দায়িত্বে ছিলেন। শাহ আজিজুর রহমান ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং কর্নেল (অবঃ) মুস্তাফিজুর রহমান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এ ছাড়াও তৎকালীন সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানকেও জিয়াউর রহমান ডেকেছিলেন। একই সঙ্গে গোয়েন্দা সংস্থার কয়েকজন ব্যক্তিকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। ওই বৈঠকে জিয়াউর রহমান বলেছিলেন, কোন অবস্থাতেই যেন শেখ হাসিনা দেশে ফিরতে না পারেন। শেখ হাসিনার দেশে ফেরা ঠেকাতে কী কী করা যেতে পারে সে ব্যাপারে তিনি সবার মতামত জানতে চেয়েছিলেন। 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বলেছিলেন যে, এয়ারলাইন্স সংস্থাগুলোকে যদি বলে দেওয়া হয় যে, শেখ হাসিনা পারসোনা নন গ্রাটা, তাকে বাংলাদেশে প্রবেশের অধিকার দেওয়া হবে না, সেক্ষেত্রে এয়ারলাইন্সগুলো তাকে বাংলাদেশে নেবে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিয়াউর রহমানের অনুমতি চেয়েছিলেন এরকম আদেশ দেওয়া হবে কি না। এ ছাড়াও ওই বৈঠকে উপস্থিত শাহ আজিজুর রহমানও বলেছিলেন, শেখ হাসিনা যেন কোনভাবেই বাংলাদেশে আসতে না পারেন। তাকে যদি বাংলাদেশে আসতে দেওয়া হয় তাহলে এটি একটি গণ অভ্যুত্থানের মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে। 

তবে সেই সময় থাকা সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার ব্যক্তিরা জিয়াউর রহমান এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করেছেন। সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার দুজন কর্মকর্তা বলেছেন যে, এর ফলে একাধিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। প্রথমত, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বড় ধরনের অবনতি ঘটতে পারে। কারণ তিনি ভারত থেকে আসছেন। ভারতের ইমিগ্রেশন বিভাগ যদি শেখ হাসিনাকে বিমানে ওঠার অনুমতি দেন, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশে নামলে অন্য রকম পরিস্থিতি হবে। সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে এটাও বলা হয়েছিল যে, শেখ হাসিনাকে যদি আসতে না দেওয়া হয় তাহলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে যেতে পারে। কারণ শেখ হাসিনার আগমন উপলক্ষে শুধু আওয়ামী লীগ নয়, সারা দেশের জনগণের মধ্যে একটা আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। এই সময়ে যদি শেখ হাসিনাকে বাঁধা দেওয়া হয় তাহলে জনগণ সরকারের বিপক্ষে অবস্থান নেবে। মূলত সামরিক গোয়েন্দাদের এই বক্তব্যের পর জিয়াউর রহমান তাঁর অবস্থান থেকে সরে আসেন। এই সময় বলা হয় যে, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলেও তাকে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না। তাকে গৃহবন্দি করা যায় কি না সেই বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। 

বৈঠকে উপস্থিত সিনিয়র ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ কে এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছিলেন, শেখ হাসিনা আসার পর পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। আমরা আগে বুঝার চেষ্টা করি তিনি আসার পরে কী করেন। তবে ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল শেখ হাসিনাকে ৩২ নম্বর বাসভবন দেওয়া হবে না এবং কোন ভাবেই ৩২ নম্বরের গেট খোলা যাবে না। শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পর জনতার ঢল দেখে জিয়াউর রহমান বিচলিত হয়েছিলেন। জিয়াউর রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী ওই দিন ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের গেট খুলে দেওয়া হয়নি। আওয়ামী লীগ সভাপতি ৩২ নম্বরে এসে রাস্তার পর মিলাদ মাহফিল পড়েন, দোয়া পড়েন। এ সময় তিনি আকুল কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর আগে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বুঝে পাননি শেখ হাসিনা। এই তথ্যগুলো ওই সময়ে কর্মরত সামরিক গোয়েন্দাদের কাছ থেকে সংগৃহীত। নানা রকম বাস্তবতার কারণে তারা তাদের পরিচয় গোপন করতে চেয়েছেন।

শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

তৃতীয় লিঙ্গের ক্ষমতায়ন: এলডিডিপি প্রকল্পের নীরব বিপ্লব (ভিডিও)

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ০৫ এপ্রিল, ২০২৪


Thumbnail

খায়রুন তৃতীয় লিঙ্গ জনগোষ্ঠীর একজন। তবে সে আর দশজনের মতো রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে না, মানুষের কাছে চাঁদা চায় না কিংবা কারো কারো মতো অশ্লীল আচরণ করে মানুষকে বিব্রতও করে না। সময় করে একটু ঘাস কাটে, বাচ্চাকে সময় দেয়। তার পরিবারের সদস্যের যত্ন করতেই তার বেশির ভাগ সময় যায়। এভাবেই ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে দিন অতিবাহিত হয় তার। যত স্বপ্ন পুরো পরিবার নিয়েই। সেই স্বপ্ন পূরণে সে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ধাপে ধাপে। আর স্বপ্ন পূরণে সহযাত্রী হয়েছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প (এলডিডিপি)।

বলছি, সিরাজগঞ্জ সদরের কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের কান্দাপাড়া গ্রামের খায়রুন হিজড়ার কথা। যিনি একজন তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর মানুষ। তবে এখন তার বড় পরিচয় হলো তিনি একজন পুরোদমে খামারি এবং প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের পিজি গ্রুপের একজন সক্রিয় সদস্য। তার আইডি নম্বর ৬৮৮৭৮-এসসি-০৩-১১। শুরুতে ২০টি উন্নত জাতের মুরগি দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে তার খামারে গরুর সংখ্যা ৫টি, ছাগল রয়েছে ৮টি। এছাড়া বেশ কিছু মুরগিও রয়েছে তার খামারে। দু মাস আগে একটি ছাগল বাচ্চাও দিয়েছে।

শুরুটা ২০টি মুরগি দিয়ে শুরু করলেও তেমন সুবিধা করতে পারেননি খায়রুন হিজড়া। কোন অজ্ঞাত রোগে দু-একটি মুরগি মারা গেলে যোগাযোগ করেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় তাকে পরামর্শ দেন সেগুলো বিক্রি করে যেন তিনি ছাগল বা অন্য কিছু কেনেন এবং সেগুলো দিয়ে খামার করেন। এরপর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের পরামর্শে তিনি মুরগিগুলো প্রায় ১০ হাজার টাকা দিয়ে বিক্রি করে পাঁচ হাজার টাকা দরে দুটি ছাগল কেনেন। এরপরই যেন ঘুরে যায় খায়রুন হিজড়ার ভাগ্যের চাকা। এখন তার খামারে ছাগলের সংখ্যা ৮টি। একইভাবে ছাগলের পাশাপাশি একটি গরু দিয়ে শুরু করলেও এখন তার গরুর সংখ্যাও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫টি। এতে করে দৈনিক তিনি ৭ থেকে ৯ লিটার গরুর দুধ বিক্রি করতে পারেন তিনি।

খায়রুন হিজড়া বাংলা ইনসাইডারকে বলেন, আমি উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে ট্রেনিং করেছি। এরপর তারা আমাকে ২০টি মুরগি দেয়। কিন্তু সেগুলো দিয়ে বেশি সুবিধা করতে পারিনি। সেজন্য ‍মুরগি গুলো বিক্রি করে আমি ছাগল কিনেছি। পরে একটা সময় আমি একটি গরু কিনি। এখন আমার খামারের ৫টি গরু এবং ৮টি ছাগল এবং বেশ কিছু মুরগি রয়েছে।

এই খামার নিয়ে তার পরিকল্পনার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রত্যেক মানুষের স্বপ্ন থাকে একদিন সে ছোট থেকে বড় হবে। আমারও স্বপ্ন আছে একদিন আমি বড় খামারি হব। সেজন্য এখানে আমার বিনিয়োগ দরকার। যেটা আমার জন্য কঠিন বা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জের। কারণ আমরা হিজড়া (তৃতীয় লিঙ্গ) হওয়ার কারণে কেউ আমাদের ঋণ দেয় না, দিতেও চায় না। বিশেষ করে প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ পাওয়ার আমাদের জন্য দুষ্কর। সেজন্য সরকার থেকে যদি আমাদের বিনা সুদে ঋণের ব্যবস্থা করে তাহলে আমি যেমন আরও এগিয়ে যেতে পারব তেমনি আমার মতো হাজারো হিজড়া স্বাবলম্বী হবে। তাদেরকে কারও কাছে আর হাত পাততে হবে না। এছাড়া সরকারের প্রতি আমার অনুরোধ মুরগির পরিবর্তে যদি ছাগল বা গরু দেয়া হয় তাহলে বেশ ভালো হবে। 

জানা যায়, দেশব্যাপী প্রান্তিক খামারিদের নিয়ে প্রোডিউসার গ্রুপ (পিজি) গঠন করেছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। উদ্দেশ্য এসব পিজিগুলোর মাধ্যমে প্রান্তিক খামারিদেরকে সংগঠিত করে বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা। বিশেষ করে প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ইত্যাদি পৌঁছে দেওয়া এবং তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রাণিসম্পদ খাতের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সাধনে কাজ করা। 

সারাদেশে মোট ৬৫০০টি পিজি গ্রুপ রয়েছে। প্রতিটি গ্রুপে সদস্যের সংখ্যা প্রায় ২০ থেকে ৪০ জন। মোট ৬৫০০ পিজি গ্রুপের মধ্যে সিরাজগঞ্জের এটি একটি এবং একমাত্র তৃতীয় লিঙ্গের পিজি গ্রুপ।

পিজি গ্রুপে শুধু খায়রুন হিজড়া একা নয়, তার সাথে আছে আরও ১৪ জন অর্থাৎ মোট ১৫ জন পিজি গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত। এদের মধ্যে অন্যতম হলেন সোহাগী হিজড়া (৬৮৮৭৮-এসসি-০৩-১২), মো: সবুজ ওরফে সংখিনী (৬৮৮৭৮-এসসি-০৩-১৩), সেতু হিজড়া (৬৮৮৭৮-এসসি-০৩-১৫) সহ আরও কয়েকজন। যারা প্রত্যেকে পিজি গ্রুপের সক্রিয় সদস্য।

সিরাজগঞ্জ জেলার হিজড়া (তৃতীয় লিঙ্গ) সমিতির সভাপতি মো: ওমর ফারুক রাব্বি বাংলা ইনসাইডারকে বলেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্তৃক গঠিত ট্রান্সজেন্ডার ও হিজড়াদের নিয়ে গঠিত ১৫ সদস্যের পিজি দল নিয়ে আমরা কাজ করছি। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর আমাদের সার্বক্ষণিক সহযোগিতা দিয়ে আসছে। আমরা বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ পেয়ে থাকি। গবাদি পশু থেকে শুরু করে লৈঙ্গিক বৈচিত্র্যের জনগোষ্ঠীর সাথে সম্পর্কে, পিজি দলের দায়িত্ব-কর্তব্য কি, দলের সভাপতি, ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব কর্তব্য সর্ম্পকে এবং পিজি দলের নীতিমালা সম্পর্কে জেনেছি। 

তিনি আরও বলেন, আমরা প্রত্যেক সদস্য প্রতি মাসে ১০০ টাকা করে সঞ্চয় রাখি। রাজশাহী ‍কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে আমাদের পিজি দলের একটা একাউন্ট আছে। শুরুতে উপজেলা থেকে আমাদের ২০টি করে মুরগি দেয়া হয়। আমরা সেগুলো লালন পালন করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি। পিজি দলের পক্ষ থেকে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কাছে আমাদের অনুরোধ আমাদের যেন গরু এবং ছাগল দেয়া হয় তাহলে আমরা আরও ভালো ভাবে স্বাবলম্বী হতে পারব। ফলে মানুষের কাছেও আমাদের আর হাত পাততে হবে না। আমরাও কর্ম করেই খেতে চাই। কারও মুখাপেক্ষী হতে চাই না। আমরা একটা দল গঠন করে দেখিয়েছি যে, হিজড়ারা সমাজের মূল স্রোতে এসে কাজ করে খেতে চায়। সমাজের সহযোগিতা পেলে আমরাও স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারবো।

সিরাজগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. মোঃ আলমগীর হোসেন জানান, আমরা যখন রাস্তা ঘাটে বের হয় তখন দেখা যায় যে, রেল স্টেশন বা বাজারগুলোতে তারা (হিজড়া) অন্যের কাছে হাত পাতে। যেহেতু এলডিডিপি প্রকল্প থেকে সুযোগ ছিলো পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে মূল স্রোতে নিয়ে আসা। এরই অংশ হিসেবে তৎকালীন রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক ডা. নজরুল ইসলাম ঝন্টু স্যারের মাথায় প্রথম এই ধারণা আসে। এদেরকে নিয়ে যদি একটা দল গঠন করা যায় তাহলে এরা মানুষের দ্বারে দ্বারে যে হাত পাতে এটা থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে এবং আমাদের সমাজের মূল স্রোতে তারা চলতে পারবে। তারাও আমাদের সমাজে কন্ট্রিবিউট করতে পারবে। এই চিন্তা থেকেই আমরা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে সেটা প্রস্তাব করি। কর্তৃপক্ষ সেটা গ্রহণ করে। এরপর আমরা তাদেরকে প্রশিক্ষণ দিয়ে শুরুতে ২০টি করে মুরগি দিয়েছি। পাশাপাশি মুরগির খাদ্য এবং পাত্র দিয়েছি। সেখানে থেকে তারা এখন একটা ভালো অবস্থানে আছে। 

সিরাজগঞ্জের এই হিজড়া পিজি গ্রুপ একটা দৃষ্টান্ত উল্লেখ্য করে উপজেলা এই প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বলেন, হিজড়া নিয়ে আরও বৃহৎ পরিসরে কিভাবে কাজ করা যায় আমরা সেটা নিয়ে এগোচ্ছি। সিরাজগঞ্জ জেলায় ২০০৫ জন হিজড়া রয়েছে। আমাদের পরিকল্পনা আছে এই রকম দল আরও বাড়ানো যায় কিনা। এখন আমরা শুরুতে তাদের শুধুমাত্র মুরগি দিয়ে থাকি। কিন্তু অদূর ভবিষ্যতে তাদেরকে যেন আমরা গরু বা ছাগলও দিয়ে পারি সেটা নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে। তাদের নিয়ে যদি আমরা আরও বড় পরিসরে কাজ করতে পারি তাহলে সমাজে একটা বিপ্লব ঘটবে।


তৃতীয় লিঙ্গ   এলডিডিপি প্রকল্প   সিরাজগঞ্জ   প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর  


মন্তব্য করুন


ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

ফখরুলের রাজনীতি ছাড়ার বার্তা

প্রকাশ: ০২:০০ পিএম, ০৮ মার্চ, ২০২৪


Thumbnail

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাজনীতি ছেড়ে দিচ্ছেন—এমন বার্তা তিনি দিয়েছেন দলের একাধিক শীর্ষ নেতাকে। লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়াকেও তার অভিপ্রায়ের কথা জানিয়েছেন বলে একটি সূত্র বাংলা ইনসাইডারকে নিশ্চিত করেছে। তবে তারেক জিয়া তাকে এখনই রাজনীতি না ছাড়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন বলেও সেই সূত্রটি বাংলা ইনসাইডারকে জানিয়েছে। 

উল্লেখ্য যে, এখন সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব। তার শারীরিক অবস্থা খুব একটা ভালো না। ২৮ অক্টোবরের বিএনপির তাণ্ডবের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই সময়ে তিনি সাড়ে তিন মাসেরও বেশি জেলে ছিলেন। জেলে থাকাকালীন সময় তার বিভিন্ন বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা আরও জটিল আকার ধারণ করেছে বলে তার পারিবারিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। বিশেষ করে তার হার্টের যে পুরনো সমস্যা তা আগের চেয়ে আরও বেড়েছে। সিঙ্গাপুরে যে চিকিৎসককে মির্জা ফখরুল দেখিয়েছেন বা যাকে তিনি নিয়মিত দেখান, তিনি তাকে এখন বেশি করে বিশ্রাম নেওয়া, চিন্তামুক্ত জীবন যাপন করা এবং কোন রকম স্ট্রেস না নেওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন। এই প্রেক্ষিতে পারিবারিকভাবে তার ওপর চাপ এসেছে যে রাজনীতির চাপ কমিয়ে ফেলার জন্য।

বিএনপির মহাসচিব হিসেবে শুধু নয়, বিএনপির এখন তিনিই প্রধান সার্বক্ষণিক নেতা। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া জামিনে মুক্তি পেয়ে ফিরোজা অবস্থান করছেন। তিনি কোন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে না। অন্যদিকে তারেক জিয়া লন্ডনে পলাতক। তিনিও একুশে অগাস্টের গ্রেনেড হামলা সহ একাধিক মামলায় দণ্ডিত। এরকম বাস্তবতায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ওপর দল পরিচালনার দায়িত্ব এসেছে এবং তিনি সার্বক্ষণিকভাবে দলের জন্য কাজ করছেন। তাই তার শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে খারাপ হয়েছে বলে তার বিভিন্ন ঘনিষ্ঠ মহল জানিয়েছে। বিশেষ করে সাড়ে তিন মাস কারা জীবনের সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শরীরে নতুন নতুন সমস্যা দেখা দিয়েছে বলেও তার পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে। এই সমস্ত শারীরিক সমস্যাগুলো ক্রমশ জটিল আকার ধারণ করেছে। আর এ কারণে তার দীর্ঘমেয়াদি বিশ্রাম প্রয়োজন বলেও চিকিৎসকরা তাকে পরামর্শ দিচ্ছেন। সবকিছু মিলিয়ে রাজনীতির মাঠে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যে ভাবে সক্রিয় ছিল, তেমনটি তার পক্ষে সক্রিয় থাকা আর সম্ভব হবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। 

চিকিৎসকের সাথে পরামর্শের পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকায় বিএনপির অন্তত দু জন নেতাকে জানিয়েছেন যে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ। ডাক্তার তাকে দীর্ঘ বিশ্রামের কথা বলেছেন। এই অবস্থায় মহাসচিবের দায়িত্ব তার পক্ষে পালন করা কতটুকু সম্ভব, সেই নিয়ে তিনি নিজেই সন্দিহান। তবে বিএনপি রাজনীতি থেকে তিনি দূরে যাবেন না। বিএনপির সঙ্গেই তার রাজনৈতিক সম্পর্ক থাকবে। 

একজন স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে টেলি আলাপকালে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন। এই দলের জন্য তিনি জীবন উত্সর্গ করতে প্রস্তুত এমন বার্তা দিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবতা হল যে তিনি দলের পূর্ণকালীন দায়িত্ব পালনের মতো শারীরিক অবস্থায় নেই। 

উল্লেখ্য যে, বিএনপির একাধিক নেতা এখন শারীরিক ভাবে অসুস্থ এবং দায়িত্ব পালনে অক্ষম। ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন দীর্ঘদিন ধরে রোগ শোকের সঙ্গে লড়াই করছেন। তার অবস্থা এখন স্থিতিশীল হলেও তিনি কোন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করছেন না। বিএনপির আরেক নেতা জমির উদ্দিন সরকার বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছেন। তাকেও দলের কর্মকাণ্ডে খুব একটা দেখা যায় না। বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়াও দীর্ঘদিন ধরে শয্যাশায়ী। এই অবস্থায় ফখরুলও যদি অসুস্থ হয়ে রাজনীতির থেকে দূরে যান তাহলে কিএনপির হাল ধরবে কে সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর   বিএনপি   তারেক জিয়া  


মন্তব্য করুন


ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

গ্রামীণ কল্যাণ নিয়ে ইউনূসের ভয়ঙ্কর জালিয়াতি

প্রকাশ: ০৯:০০ পিএম, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪


Thumbnail

জালিয়াতি করে অবশেষে গ্রামীণ কল্যাণেও ফেঁসে যাচ্ছেন ড. ইউনূস। রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাৎ করার ক্ষেত্রে ড. ইউনূস প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন, আইন লঙ্ঘন করেছেন এবং জাল জালিয়াতির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্পদ নিজের কুক্ষিগত করেছেন। বাংলা ইনসাইডার এর অনুসন্ধানে এই তথ্য বেরিয়ে এসেছে। 

সম্প্রতি গ্রামীণ ব্যাংক তার নিজস্ব সম্পত্তি হিসেবে গ্রামীণ কল্যাণ দখলে নিয়েছে। আর এটিকে জবরদখল হিসেবে অভিহিত করেছেন ড. ইউনূস। ১২ ফেব্রুয়ারি গ্রামীণ ব্যাংক তাদের বোর্ড সভার সিদ্ধান্তের আলোকে গ্রামীণ কল্যাণ এবং তার প্রতিষ্ঠানগুলোতে তাদের নিজস্ব চেয়ারম্যান পদে নিয়োগদান করেন। আর ড. ইউনূস দাবি করেছেন যে গ্রামীণ কল্যাণের সঙ্গে গ্রামীণ ব্যাংকের কোন সম্পর্ক নেই। 

আসলে কে সত্য? 

বাংলা ইনসাইডার এ বিষয়ে অনুসন্ধান করছে। বিশেষত গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ড. ইউনূস ডয়েচ ভেলে-তে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন যে, এখন গ্রামীণ কল্যাণের সঙ্গে গ্রামীণ ব্যাংকের কোন সম্পর্ক নেই। একই ভাবে ড. ইউনূসের পক্ষে ৩৪ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি গত রোববার এক বিবৃতি পাঠিয়েছেন। তাতে তারা অভিযোগ করেছেন যে ড. ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত কয়েকটি প্রতিষ্ঠান জবরদখল করার প্রচেষ্টা সংক্রান্ত বিভিন্ন সংবাদ এর প্রতি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে। গ্রামীণ টেলিকম ভবনে অবস্থিত গ্রামীণ কল্যাণ এবং গ্রামীণ টেলিকম সহ এ সব প্রতিষ্ঠান জবর দখলের প্রচেষ্টা হিসাবে এতে অনধিকার এবং জোরপূর্বক প্রবেশ, ভবনটির সামনে রাজনৈতিক সমাবেশ করা হচ্ছে বলেও তারা অভিযোগ করছেন। 

এই ৩৪ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ড. ইউনূসের পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে বলেছেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত এসব অলাভজনক প্রতিষ্ঠান প্রান্তিক পর্যায়ে মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সংশোধিত আর্টিকেল অফ অ্যাসোসিয়েশন অনুসারে প্রতিষ্ঠানগুলোর চেয়ারম্যান পদে পরিবর্তন আনার এখতিয়ার গ্রামীণ ব্যাংকের নেই বলে ড. ইউনূসের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কোন আইনগত দাবি থাকলে তা আদালতের কাছে উপস্থাপন করার উদ্যোগ গ্রামীণ ব্যাংক গ্রহণ করতে পারত বলে তারা উল্লেখ করেছেন। একই বক্তব্য ড. ইউনূস দিয়েছেন। অর্থাৎ ড. ইউনূস গ্রামীণ কল্যাণের আর্টিকেল অফ অ্যাসোসিয়েশন পরিবর্তন করেছেন। 

আমরা অনুসন্ধান করার চেষ্টা করি গ্রামীণ কল্যাণ কীভাবে গঠিত হয়েছিল

১৯.১২.১৯৯৩ সালে গ্রামীণ ব্যাংকের ৩৪ তম বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দাতাগোষ্ঠীর প্রাপ্ত অনুদান ও ঋণের অর্থ দিয়ে সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাডভান্সমেন্ট ফান্ড এর অর্থ দিয়ে ২৫.০৪.১৯৯৬ তারিখে গ্রামীণ ব্যাংকের ৪২ তম বোর্ড সভায় গ্রামীণ ব্যাংকের সদস্য ও কর্মীদের কল্যাণের কোম্পানি আইন ১৯৯৪ এর আওতায় গ্রামীণ কল্যাণ নামক একটি প্রতিষ্ঠান তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদনটি দেয় গ্রামীণ ব্যাংক। তাহলে ওই গ্রামীণ কল্যাণ কার প্রতিষ্ঠান? উত্তর, আইনগত দিক থেকে যদি উত্তর খোঁজার চেষ্টা করা হয়, খুব সহজ সোজা সাপ্টা উত্তর গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠান। 

গ্রামীণ ব্যাংকের বোর্ড সভায় গ্রামীণ কল্যাণ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং গ্রামীণ কল্যাণে গ্রামীণ ব্যাংকের সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাডভান্সমেন্ট ফান্ড হতে মোট ৬৯ কোটি টাকা প্রদান করা হয়। অর্থাৎ যে প্রতিষ্ঠানটিকে টাকা দিয়ে তৈরি করা হল সেই গ্রামীণ কল্যাণ আসলে গ্রামীণ ব্যাংকের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ছাড়া আর কিছু নয়। 

শুধু তাই নয়, পাঠক লক্ষ করুন, মেমোরেন্ডাম এবং আর্টিকেল অনুযায়ী গ্রামীণ কল্যাণের নয় সদস্যের পরিচালনা পরিষদের দুইজন সদস্য গ্রামীণ ব্যাংক হতে মনোনয়ন দেওয়ার বিধান ছিল। এছাড়াও উল্লেখ ছিল যে, গ্রামীণ কল্যাণের চেয়ারম্যান হবেন গ্রামীণ ব্যাংক থেকে মনোনীত প্রতিনিধি। 

এখন প্রশ্ন হল যে, এটি গ্রামীণ কল্যাণের আর্টিকল অফ অ্যাসোসিয়েশন। ড. ইউনূস দাবি করেছেন যে, এই আর্টিকল অফ অ্যাসোসিয়েশন তিনি পরিবর্তন করেছেন। গ্রামীণ ব্যাংকের বোর্ড সভায় যে আর্টিকল অফ অ্যাসোসিয়েশন তৈরি করা হচ্ছে সেই আর্টিকেল অফ অ্যাসোসিয়েশন গ্রামীণ ব্যাংকের অগোচরে রাতের অন্ধকারে ড. ইউনূস পরিবর্তন করেছেন কীভাবে? 

এবার আসুন আসল তথ্য অনুসন্ধান করে দেখি। যখন ড. ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি থেকে বয়সজনিত কারণে অপসারিত হন, তখনই তিনি জানতেন যে, গ্রামীণ কল্যাণ এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলো যেমন গ্রামীণ টেলিকম, গ্রামীণ ডিস্ট্রিবিউশন লি:, গ্রামীণ শিক্ষা ইত্যাদি তার কর্তৃত্বে আর থাকবে না এই সময় তিনি প্রতারণামূলকভাবে বিভিন্ন ব্যক্তিকে ভুল প্রলোভন দেখিয়ে এই কোম্পানির সদস্যদের দিয়ে একটি বোর্ড সভা করেন। এই বোর্ড সভা করে আর্টিকল অফ অ্যাসোসিয়েশন পরিবর্তন করেন। অথচ এই আর্টিকল অফ অ্যাসোসিয়েশন পরিবর্তন করতে গেছে গ্রামীণ ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হবে। কারণ গ্রামীণ ব্যাংকের ৪২ তম বোর্ড সভায় এই আর্টিকল অফ অ্যাসোসিয়েশন অনুমোদিত হয়েছিল। গ্রামীণ ব্যাংক একমাত্র সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা রাখে আইন অনুযায়ী যে গ্রামীণ ব্যাংক তার প্রতিনিধি গ্রামীণ কল্যাণে থাকবে কিনা। গ্রামীণ কল্যাণকে যদি ছেড়ে দিতে হয় তাহলে গ্রামীণ ব্যাংকের বোর্ড সভায় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ড. ইউনূস এই সিদ্ধান্ত নেয়ার কোন এখতিয়ার রাখে না। এটি হল এক অদ্ভুত জালিয়াতি এবং প্রতারণা। এটি রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাতের এক ভয়ঙ্কর ঘটনা। ড. ইউনূসের নিয়ন্ত্রণে থাকা গ্রামীণ কল্যাণ কেবল অবৈধ ভাবেই ছিল না বরং ড. ইউনূস রাষ্ট্রীয় সম্পদ কুক্ষিগত করেছিলেন, প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং এজন্য তার বিরুদ্ধে অনতিবিলম্বে প্রতারণার মামলা হওয়া উচিত বলে মনে করেন আইনজ্ঞ বিশেষজ্ঞ।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন