ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

করোনা মোকাবিলায় চীনের সফলতার রহস্য!

প্রকাশ: ০৯:০১ পিএম, ১৬ মার্চ, ২০২০


Thumbnail

চীন করোনা মোকাবিলায় প্রায় সফল বলা চলে। কিন্তু কীভাবে এই সফলতা এলো চীনের! সেটা অনেকের মনেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কারণ এখন পর্যন্ত সফলভাবে করোনার কোন ভ্যাক্সিন আবিষ্কার হয়নি। করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় চীন যে কিউবার ওষুধ প্রযুক্তি ‘ইন্টারফেরন আলফা টু-বি’ ব্যবহার করছে। এই খবর ইতোমধ্যেই বিশ্ববাসী জেনে গেছে। মেডিক্যাল সাইন্সে কিউবা অনেক এগিয়ে। প্রায় ৬০ বছর ধরে কিউবা মার্কিন অবরোধের মাঝেও নানান রোগের ভ্যাকসিন নিয়েও গবেষণা করছে। ১৯৮৫ সালে তারা মেনিনজাইটিসের ভ্যাকসিন বের করে। কিছুদিন আগে তারা লাঙ ক্যানসারের ভ্যাকসিনও বের করেছে। মা থেকে সন্তানে এইচআইভি ছড়ানো পুরোপুরি বন্ধ করতে পেরেছে তারা ২০১৫ সালে।  বিশ্বের অন্যতম বড় মেডিক্যাল কলেজটিও (ইএলএএম) কিউবায়। প্রায় ১১০টি দেশের শিক্ষার্থীরা এখানে পড়তে যায়। টিউশন ফি ছাড়াই সেখানে পড়ে সকলে।

এখন জানা দরকার ইন্টারফেরন কী? অনলাইন মিডিয়া থেকে জানা যায়, ইন্টারফেরন হলো প্রতিরক্ষামূলক প্রোটিন। কোন দেহকোষ ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হলে এটি নিঃসৃত হয়। বহিরাগত ভাইরাস,ব্যাক্টেরিয়া, ছত্রাক,বিষ ও অন্য কোনো বস্তু ইত্যাদির আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য প্রতিটি দেহে একটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকে, এটি দেহের প্রতিরক্ষাতন্ত্র ( Immune system)। ইন্টারফেরনস হল প্রোটিন জাতীয় রাসায়নিক প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্র যা দেহের প্রতিরক্ষা তন্ত্রের অন্তর্গত। ভাইরাস দ্বারা আক্রমণের পর যখন ইন্টারফেরন নিঃসৃত হয় তখন তা আক্রমণকারী ভাইরাস এর প্রোটিন সংশ্লেষণ প্রক্রিয়া বন্ধ করে, ফলে ভাইরাসটি আর সংখ্যা বৃদ্ধি করতে পারেনা। তাই সে পরবর্তী কোষগুলোকে আর আক্রমণ করতে পারেনা।কাজেই সংক্রমিত কোষের চারপাশের কোষগুলো ভাইরাসের আক্রমণ থেকে রক্ষা পায়, অধিকন্তু এরা ভাইরাস-প্রতিরোধক্ষম হয়ে ওঠে। কাজেই ইন্টারফেরন এর কাজ হলো আক্রমণকারী ভাইরাসের সংখ্যাবৃদ্ধি বন্ধ করে দেয়া এবং সুস্থ কোষগুলোকে ভাইরাস প্রতিরোধক্ষম করে তোলা ও ভাইরাসের আক্রমণ থেকে রক্ষা করা। AIJ Lindenmann ১৯৫৭ সালে ইন্টারফেরন আবিষ্কার করেন।

ইন্টারফেরন একটি প্রজাতি নির্দিষ্ট হরমোন, এমনকি একই দেহের বিভিন্ন টিস্যু থেকে বিভিন্ন প্রকার ইন্টারফেরন তৈরি হয়। ভাইরাস আক্রান্ত লিউকোসাইট থেকে এক ধরনের ইন্টারফেরন,ফাইব্রোব্লাস্ট কোষ থেকে অন্য ধরনের ইন্টারফেরন নিঃসরণ হয়। ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত কোষ কর্তৃক ইন্টারফেরন নিঃসৃত হলেও বর্তমানে রিকম্বিনেট ডিএনএ কৌশল প্রয়োগ করে অধিক পরিমাণে ইন্টারফেরন উৎপন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। ইন্টারফেরন প্রয়োগ করে জটিল হেপাটাইটিস বি, হার্পিস সংক্রমণ, বিভিন্ন ধরনের প্যাপিলোমা চিকিৎসা করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়াও জলাতঙ্ক রোগের চিকিৎসায়ও সাফল্য অর্জিত হয়েছে। গবেষকগণ ধারণা করছেন যে ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি রহিত করতেও ইন্টারফেরন সফলভাবে ব্যবহার করা যাবে।

বাংলাদেশ কিউবার খুব পুরাতন বন্ধু দেশ। তাই যে কোন মুহূর্তেই বাংলাদেশ সরকার দেশের এই সম্ভাব্য সংকটকালে কিউবার সাহায্য নিতে পারে, যেমনটি করেছে চীন।  


করোনাভাইরাস  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

করোনায় যখন উঠছে পশ্চিমের বিধিনিষেধ, বাড়ছে এশিয়ায়

প্রকাশ: ০২:০৭ পিএম, ২৯ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

করোনা মহামারীর অতি সংক্রমণে যখন বিশ্ববাসীর জীবনযাত্রা একেবারের স্থবিরতা ভেতর দিয়ে পার হচ্ছে তখন আস্তে আস্তে পশ্চিমা দেশগুলো তাদের দেশে করোনার কঠোর বিধিনিষেধ থেকে সরে আসছে। সেখানে যেনো ঠিক উলটো পথে হাঁটছে এশিয়ার বেশির ভাগ দেশ। কোন কোন দেশ তো করোনার সূচনা লগ্নের চেয়েও বেশি কঠোর লকডাউন জারি করছে দেশে। 

এশিয়ার অনেক দেশ তাদের করোনার ভ্যাক্সিন কার্যক্রম আরো জোরালো করলেও তারা করোনার নতুন ধরণ ওমিক্রনের আগমনে দেশে লকডাউন থেকে শুরু করে জীবন যাত্রায় আরো কঠোর অবস্থান গ্রহণ করছে। 

করোনায় লকডাউন নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এপিডেমিওলজির অধ্যাপক চো সুং-ইল বলেন, ‘এশীয়রা স্বাধীনতার চেয়ে জীবনকে বেশি মূল্য দিয়ে থাকতে পারেন। এর কারণ হতে পারে স্বাধীনতার জন্য জীবন বিপন্ন করে গণ–অভ্যুত্থানের তরতাজা স্মৃতি হয়তো আমাদের নেই।’

অন্যদিকে হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের মহামারি বিশেষজ্ঞ বেন কাউলিং বলেন, ‘আমি মনে করি, এশিয়ার দেশগুলোও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চায়। তবে সম্ভবত বিশ্বের অপর অংশের তুলনায় বেশি সাবধানতার সঙ্গে। বিধিনিষেধ এ সাবধানতারই অংশ। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সংক্রমণ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাবে এবং তারপর জনস্বাস্থ্যবিষয়ক পদক্ষেপগুলো শিথিল করা হবে।’

চীনের মূল ভূখণ্ডে কর্তৃপক্ষ করোনা ঠেকাতে ‘শূন্য সহিষ্ণুতা’ নীতিতে কাজ করছে। এর ফলে সেখানে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ প্রায় বন্ধ হচ্ছে, আবার ঘন ঘন কঠোরতর বিধিনিষেধ ও বিধিনিষেধ দেওয়া হচ্ছে।

মহামারির এ দুই বছরে করোনা সংক্রমণে এখনই সবচেয়ে টালমাটাল হংকং। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এরই মধ্যে তারা স্কুল, বার ও শরীরচর্চাকেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। সন্ধ্যা ছয়টার পর রেস্তোরাঁয় বসে খাওয়াও বন্ধ করা হয়েছে। ‘এশিয়ার বিশ্বনগরী’ হিসেবে পরিচিত চীননিয়ন্ত্রিত এ অঞ্চল কঠোরতম কোয়ারেন্টিন ও সীমান্তে কড়াকড়ির কারণে পৃথিবীর সবচেয়ে বিচ্ছিন্ন মহানগরীগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। অবশ্য এ কঠোর অবস্থান থেকে সামান্য সরে এসে বৃহস্পতিবার কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দিয়েছে, বিদেশ থেকে আগত ব্যক্তিদের বাধ্যতামূলক হোটেল কোয়ারেন্টিন ২১ থেকে কমিয়ে ১৪ দিন করা হচ্ছে।
জাপানে দৈনিক করোনা শনাক্ত প্রায় ৮০ হাজারে পৌঁছেছে। অনাবাসী সবার জন্য জাপানের সীমান্ত বন্ধ রয়েছে। দেশটির ৪৭টি প্রিফেকচারের (প্রশাসনিক অঞ্চল) মধ্যে ৩৪টিতে বার ও রেস্তোরাঁ খোলা রাখার সময় নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

মহামারির পুরো সময়জুড়ে সর্বাত্মক বিধিনিষেধ এড়িয়ে চলা দক্ষিণ কোরিয়ায় বিদেশ থেকে আগত ব্যক্তিদের ১০ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হচ্ছে। দেশটিতে একসঙ্গে ছয়জনের বেশি সমবেত হওয়া যাচ্ছে না। এ ছাড়া রাত ৯টার পর বার, রেস্তোরাঁ ও শরীরচর্চাকেন্দ্র খোলা রাখায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। গত শুক্রবার ২৪ ঘণ্টায় ১৬ হাজার নতুন রোগী শনাক্তের খবর জানানো দেশটিতে ৬ ফেব্রুয়ারি বিধিনিষেধ নিয়ে নতুন ঘোষণা আসার কথা রয়েছে। 

মহামারির মধ্যে বিশ্বের যে দেশগুলো সীমান্তে প্রবেশের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কড়াকড়ি আরোপ করেছে, সেগুলোর অন্যতম নিউজিল্যান্ড। দেশটি জানুয়ারির মধ্যভাগ থেকে ধাপে ধাপে সবার জন্য আন্তর্জাতিক সীমান্ত খোলার যে পরিকল্পনা করেছিল, তা ফেব্রুয়ারির শেষ নাগাদ পিছিয়ে দিয়েছে ওমিক্রনের কারণে। এ সিদ্ধান্ত বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত নিউজিল্যান্ডের হাজারো নাগরিকের অসন্তোষ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

অপরদিকে ইউরোপে সর্বশেষ দেশ হিসেবে ডেনমার্ক গত বুধবার প্রায় সব ধরনের করোনা বিধিনিষেধ তুলে নিয়েছে। যদিও এখনো দেশটিতে দিনে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের করোনা শনাক্ত হচ্ছে। এর আগে চলতি মাসেই যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ড অনেকটা একই পদক্ষেপ নিয়েছে। ডেনমার্ক কর্তৃপক্ষ বলেছে, সংক্রমণ বাড়লেও গুরুতর অসুস্থতা বাড়েনি। কোভিড-১৯–এর যেসব রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, তাঁদের ৩০-৪০ শতাংশের অসুস্থতার অন্য কারণ রয়েছে। ফ্রান্সও আগামী সপ্তাহ থেকে হসপিটালিটি ভেন্যুগুলোতে বিধিনিষেধ শিথিল করার ঘোষণা দিয়েছে।

এশিয়ার বেশির ভাগ দেশ এখনো এ সুযোগ না দিলেও ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার অধিকাংশ দেশ পূর্ণ ডোজ টিকাগ্রহীতাদের জন্য কোয়ারেন্টিনমুক্ত ভ্রমণ চালু করছে।

ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইএটিএ) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২১ সালে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বিমান ভ্রমণ ৯৩ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে, যা অন্য যেকোনো অঞ্চলের চেয়ে অনেক বেশি।

টোকিওর টেম্পল ইউনিভার্সিটির এশিয়ান স্টাডিজের পরিচালক জেফরে কিংস্টোন আল–জাজিরাকে বলেন, বিভিন্ন দেশে বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনাও কাজ করে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার কঠোর সীমান্ত নীতির পেছনে তাঁর দুই পূর্বসূরির মহামারি মোকাবিলা নিয়ে ক্ষমতা হারানোর প্রভাব রয়েছে।

জেফরে কিংস্টোন বলেন, ‘এর জন্য জনগণকে চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে বিশেষত যেসব শিক্ষার্থী এখানে পড়তে আসতে চায় বা যেসব ব্যক্তি তাদের পরিবারের কাছে আসতে চায় তাদের জন্য। এটা অর্থনীতির জন্যও ক্ষতিকর, পর্যটন খাতে আঘাত, স্বল্প পুঁজির রেস্তোরাঁ ও বার মালিকদের দেউলিয়া হওয়ার পথ তৈরি এবং পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসা পথে বসার উপক্রম হয়। বৈশ্বিক মহামারি থেকে তা শেষের দশা আসবে, কিন্তু কখন তা কেউ জানে না।’

তবে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় করোনায় যেভাবে মৃত্যু হয়েছে, তা পূর্ব এশিয়ায় না হওয়ায় ‘একটি মাত্রায় আত্মতুষ্টির’ কারণ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন কিংস্টোন।


ইউরোপ   লকডাউন   এশিয়া   করোনা   টিকা  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

দাউদ ইব্রাহিমের ডেরায় কে এই নতুন ‘লেডি ডন’

প্রকাশ: ০১:৩০ পিএম, ২৯ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়ের কালো জগতের বাদশাহ ছিলেন দাউদ ইব্রাহিম। এক সময় তার কথায় পুরো মুম্বাই সহ সমগ্র ভারত থাকতো ভীত। সেই দিন এখন অনেকটাই গত। পুরনো সেই জায়গা এখন দখল করে নিয়েছেন ২২ বছরের এক তরুণী। দাউদ একসময় মুম্বাইয়ের যেই ডোংরি এলাকা থেকে তার সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করতো সেই ডোংরি এলাকা থেকে মাদক সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করছেন ইকরা কুরেশি নামের এই তরুণী। ওই এলাকার ‘ড্রাগ কুইন’ বলা হয় ইকরাকে। 

দাবি করা হয়, ইকরার বছর পাঁচেকের একটি সন্তান আছে। তার বিরুদ্ধে কেউ যদি কোনও কথা বলেন, তাহলে তার ওপর হামলা চালাতে দ্বিধা করেন না ইকরা। অনলাইনে মাদকের ব্যবসা চালান ইকরা। ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে মাদকের কারবার চালান তিনি। পুলিশ সূত্রের খবর, প্রথমে ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে নতুন গ্রাহক জোগাড় করেন। তারপর তার কাছে নারীদের মাধ্যমে মাদক পৌঁছে দেন তিনি। ইকরার মাদক নেটওয়ার্ক চালানোর জন্য নারীদের একটি দল রয়েছে। যারা মুম্বাইয়ের বার এবং ডিস্কোতে মাদক সরবরাহ করেন।

পুলিশের চোখে ধুলা দেওয়ার জন্য একটা ফোন ২-৪ দিনের বেশি ব্যবহার করেন না ইকরা। মাদকের চুক্তি হয়ে যাওয়ার পরই সেই ফোন বাতিল করে দেন। নতুন কোনও চুক্তির জন্য আবার নতুন ফোন এবং নম্বর ব্যবহার করেন। ফলে মুম্বাইয়ের মাদক নিয়ন্ত্রক সংস্থাকেও (এনসিবি) ইকরার গতিবিধি নজর রাখতে সমস্যায় পড়তে হয়।

ইকরার নাম প্রকাশ্যে আসে ২০২১ সালের মার্চে। এনসিবি গোপন সূত্রে খবর পায় ডোংরি এলাকায় হাজিম কসমে এক মাদক পাচারকারী রয়েছে। পুলিশ অভিযান চালাতেই ৫২ গ্রাম মাদক-সহ ধরা পড়েন ইকরা। গ্রেফতার হওয়ার আগে পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ ছিল না পুলিশের খাতায়।

চরস, এমডি এবং এলএসডি’র বড় সরবরাহকারী ইকরা। ডোংরি এলাকায় তাকে ‘লেডি ডন’ এবং ‘ড্রাগ কুইন’ও বলা হয়। ইকরার গতিবিধির ওপর এনসিবি নজর রাখত। ইকরাও এনসিবি কর্তা সমীর ওয়াংখেড়ের গতিবিধির ওপর নজর রাখতেন। তিনি কখন অফিস যাচ্ছেন। কোথায় যাচ্ছেন, কতজন লোক তার সঙ্গে রয়েছেন, কাদের সঙ্গে দেখা করছেন— সব ছিল ইকরার নখদর্পণে। এমনকি এনসিবি দফতরেও ছদ্মবেশে পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। সোনু পাঠান এবং এজাজ সাইকো নামে দুই মাদক পাচারকারীকে এনসিবি গ্রেফতার করার পরই ইকরার নাম তদন্তকারীদের হাতে আসে। সূত্র: আনন্দবাজার

দাউদ ইব্রাহিম   মুম্বাই   মাদক   পুলিশ  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

সব পাত্রী সুন্দরী তবুও বিয়ের জন্য পাত্রই জোটে না যে গ্রামের তরুণীদের

প্রকাশ: ১০:৫৭ এএম, ২৯ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

অদ্ভুত এক রীতির ভেড়াজালে পড়ে গ্রামের বেশিরভাগ নারীর থাকতে হচ্ছে বিয়ে ছাড়াই। ‘নোইভা ডো কোরডোইরো’, ব্রাজিলের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকার একটি পাহাড়ি গ্রাম। গ্রামটি থাকা প্রতিটি নারীর অপরূপ সুন্দরী। কিন্তু এরপরেও তাদের বিয়ে করার জন্য কোন ছেলেই রাজি নয়। 

২০১৪ সালের তথ্যানুযায়ী, ছয় শতাধিক নারী রয়েছেন এই গ্রামে, যাদের সবাই সুন্দরী। কিন্তু বিয়ে করেছেন মাত্র হাতেগোনা ক’জন। কারণ বিয়ের জন্যই পাত্রই খুঁজে পান না তারা। দেখতে দেখতে গ্রামটিতে নারীদের আধিক্যেতা ছাড়া পুরুষের দেখা মেলা ভার। 

জানা গেছে, গ্রামটির যে ক’জন নারী বিয়ে করেছেন তারা ওই গ্রাম ছেড়ে কখনও কোথাও যাননি। ফলে স্বামীকে ছাড়াই থাকতে হয় তাদের। সপ্তাহ শেষে দু’দিনের জন্য গ্রামে আসেন স্বামীরা। তাছাড়া এই গ্রামের ছেলেদের ১৮ বছর বয়স হলেই বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ফলে ক্রমেই পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে গ্রামটি।

এই গ্রামের সকল নারী এবং তরুণী খুবই সুন্দরী। কিন্তু তা সত্ত্বেও জীবনসঙ্গীর অভাব কেন? জানা গেল সেই অদ্ভুত কারণ। এই গ্রামের একটি রীতি রয়েছে, বিয়ের পর কোনও মেয়ে গ্রাম ছেড়ে কোথাও যাবেন না। স্বামীকেই ওই গ্রামে তার স্ত্রীর সঙ্গে থাকতে হবে। ফলে এটা একটা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে ওই গ্রামের তরুণীদের জন্য।

সুন্দরী এবং বিবাহযোগ্যা হলেও মেয়েরা সঙ্গী খুঁজে পাচ্ছেন না। গ্রামেই স্ত্রীর সঙ্গে থাকতে হবে বলে আশেপাশের এলাকার কোনও পুরুষই ওই গ্রামে বিয়ে করতে চান না। ফলে বিবাহযোগ্য ও সুন্দরী হওয়া সত্ত্বেও মেয়েদের অবিবাহিত থাকতে হচ্ছে শুধু এই কারণেই।

এর পিছনেও একটি গল্প রয়েছে। জানা যায়, ১৮৯০ সালে মারিয়া সেনহোরিনা ডি লিমা নামে একটি মেয়েকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দেওয়া হয়। এরপরই তিনি শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে ‘নোইভা ডো কোরডোইরো’ এলাকায় চলে আসেন। ১৮৯১ সালে তিনি এখানে একটি গ্রাম গড়ে তোলেন। আর তখন থেকেই স্থির হয় এই গ্রামের কোনও মেয়ে বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ি যাবে না। স্বামীকেই স্ত্রীর সঙ্গে থাকতে হবে। গ্রামের এই অদ্ভুত রীতির কারণেই অবিবাহিত থাকতে হচ্ছে সেখানকার নারীদের। 

ব্রাজিল   বিয়ে  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

নিজের পুত্রবধূকে স্বাবলম্বী করে অন্যত্র বিয়ে দিলে শাশুড়ি

প্রকাশ: ১০:০৭ এএম, ২৯ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

বিয়ের পর পর স্বামী মারা গেলে ভারতীয় উপমহাদেশে স্ত্রীর কপালে জুটে নানা বিপদ আর বঞ্চনা। অনেক ক্ষেত্রে পুত্রবধূরা শাশুড়ির রোষানলে পড়ে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এমন ঘটনাই লক্ষ্য করা যায়। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এর ভিন্নতাও লক্ষ্য করা যায়। তেমনি একটি ঘটনার সাক্ষী হল ভারতের রাজস্থানের শিকর অঞ্চলের সুনীতা। 

শাশুড়ি, যিনি আইনগত মা। তবে স্নেহে, কর্তব্য, দায়িত্বপালনে গর্ভধারিনী মাকেও টেক্কা দিতে পারেন তিনি। এমনই উদাহরণ সৃষ্টি করলেন ভারতের রাজস্থানের এক বৃদ্ধা।

তার ডাক্তারি পড়ুয়া ছেলের মৃত্যু হয়েছিল বিয়ের ছ’মাসের মাথায়। পুত্রশোকাতুর মা এই পরিস্থিতিতে ভেঙে পড়তে পারতেন তিনি। দুঃখের প্রকাশ করতে পারতেন সদ্য বিধবা পুত্রবধূর ওপর রাগ দেখিয়ে। যেমন অনেকেই করে থাকেন সমাজে। কিন্তু তা করেননি এই বৃদ্ধা।

বিয়ের ছ’মাসের মাথায় স্বামী মারা গেলে ভারতীয় সমাজে সদ্য বিধবার কপালে জোটে নানা ‘দুঃখ’। তবে এ ক্ষেত্রে তেমনটা হয়নি। আসুন জেনে নিই আসল ঘটনা।

২০১৬ সালের মে মাসে রাজস্থানের শিকরের কমলাদেবীর কনিষ্ঠ পুত্র শুভমের সঙ্গে বিয়ে হয় সুনীতার। বিয়ের পরই স্বামী এমবিবিএস পড়তে চলে যান কিরগিজস্তানে। ওই বছরই নভেম্বর মাসে ব্রেনস্ট্রোকে হয়ে মৃত্যু হয় শুভমের।

সুনীতা তখন রাজস্থানে, শ্বশুরবাড়িতে। তার সঙ্গী এবং অভিভাবক বলতে শাশুড়ি কমলা দেবীই। সদ্য বিধবা তরুণীকে ভাল রাখার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন তিনি।

সরকারি স্কুলের শিক্ষিকা কমলা। পুত্রশোক সামলে পুত্রবধূর ভাল মন্দে মন দেন তিনি। সুনীতাকে তার পড়াশোনা সম্পূর্ণ করতে বলেন।

শাশুড়ির উৎসাহেই সুনীতা তার স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পূর্ণ করেন। পরে পুত্রবধূকে বিএড পড়ার জন্যও উৎসাহিত করেন কমলা। স্বামীকে হারানোর চার বছরের মধ্যে শিক্ষিকার চাকরিও পেয়ে যান সুনীতা। রাজস্থানেরই একটি স্কুলে তিনি এখন ইতিহাসের শিক্ষিকা।

প্রতিবেশিরা বলেন, সুনীতাকে প্রথম দিন থেকেই ঘরের ‘লক্ষ্মী’ বলে ডাকতেন তার শাশুড়ি কমলা দেবী। ছেলের থেকেও বেশি ভালবাসতেন বউমাকে। তবে মুখে বলা এবং কাজে করে দেখানো এক কথা নয়। সহজও নয়। কমলা সেই কঠিন কাজ করে দেখিয়েছেন।

কমলা পাঁচ বছর তার ‘গৃহলক্ষ্মী’র খেয়াল রেখেছেন। আত্মজার মতো তার যত্নও করেছেন। তারপর তাকে বাড়ি থেকে ‘বিদায়’ ও করেছেন রীতি মেনে। মেয়েকে লালন-পালন করার পর বাবা-মা যেমন করে থাকেন।

কমলা সম্প্রতিই পুত্রবধূর বিয়ে দিয়েছেন। ভোপালের পাত্র। পেশায় কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের হিসাবরক্ষক। নাম মুকেশ।

স্বাবলম্বী সুনীতার জন্য পাত্র চয়ন করেছেন কমলা দেবী নিজেই। সাজিয়ে গুছিয়ে আত্মীয়-স্বজনকে ডেকে বিয়েও দিয়েছেন। শ্বশুরবাড়িতেই বসেছে সুনীতার বিয়ের আসর। কন্যাদান করেছেন শাশুড়ি কমলাই।

কাণ্ড দেখে অবাক কমলার পরিচিতরা। শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়েছে অনেকেরই। তাদের বক্তব্য বউমাকে লক্ষ্মী বলে ঘরে সব শাশুড়িই আনেন। কিন্তু সেই বলার দায় নেন ক’জন! কমলা তার লক্ষ্মীকে শুধু ঘরে বসাননি, তাকে স্বাবলম্বী করে প্রাণে ধরে বিদায়ও জানিয়েছেন।

ভারতীয় সিনেমা, মেগা ধারাবাহিকে পারিবারিক নাটকে খলনায়িকা হয়ে ওঠেন শাশুড়িরাই। সেই ধারার উল্টোপথে হেঁটে কমলা-সুনীতার কাহিনি হয়তো পর্দায় ঠাঁই পাবে না।

তবে এই অন্যরকম ‘মা-মেয়ের’ গল্প যারা চোখের সামনে দেখলেন, তারা ভুলতে পারবেন না কোনওদিন। সূত্র: আনন্দবাজার 

শাশুড়ি   ভারত   বিয়ে  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

তিউনিসিয়ার উপকূলে নৌকাডুবিতে নিহত ৬

প্রকাশ: ০৯:১৯ এএম, ২৯ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

ভূমধ্যসাগরের অভিবাসন প্রত্যাশীদের বহনকারী এক নৌকা ডুবির ঘটনায় ৬ জন অভিবাসন প্রত্যাশীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নৌকা ডুবির ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩০ জন নিখোঁজও রয়েছেন। মৃত ছয় নাগরিকের সবাই আফ্রিকান। 

গত বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) লিবিয়া উপকূল থেকে ইউরোপের উদ্দেশ্য যাত্রা করা নৌকাটি ভূমধ্যসাগরের তিউনিসিয়া উপকূলে ডুবে যায়। 

 জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, নৌকাটিতে মোট ৭০ জন অভিবাসন প্রত্যাশী ছিলেন। এর মধ্যে ৩৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার কাজ চলছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। 

উদ্ধারকৃতদের বরাত দিয়ে ইউএনএইচসিআর জানায়, অভিবাসন প্রত্যাশীদের নিয়ে নৌকাটি লিবিয়ার সমুদ্র উপকূল থেকে গত বুধবার ইউরোপের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। যাত্রাপথে একপর্যায়ে পরদিন বৃহস্পতিবার তিউনিসিয়ার সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় নৌকাটি ডুবে গেলে ওই হতাহতের ঘটনা ঘটে। অভিবাসন প্রত্যাশীরা সবাই আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিক বলে জানা গেছে।  

উল্লেখ্য, এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে থেকে অভিবাসন প্রত্যাশীরা ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছার চেষ্টা করে থাকেন। বেশিরভাগ সময় আফ্রিকার দেশ তিউনিসিয়া এবং লিবিয়ার উপকূল থেকে ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় এসব যাত্রায় প্রায়ই হতাহতের ঘটনা ঘটে। ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছার চেষ্টা কালে নৌকাডুবিতে গত বছর অন্তত ১ হাজার ৬০০ জন অভিবাসন প্রত্যাশীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

অভিবাসন   নৌকা   ইউরোপ   মৃত্যু  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন