ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

করোনা মোকাবিলায় চীনের সফলতার রহস্য!

প্রকাশ: ০৯:০১ পিএম, ১৬ মার্চ, ২০২০


Thumbnail

চীন করোনা মোকাবিলায় প্রায় সফল বলা চলে। কিন্তু কীভাবে এই সফলতা এলো চীনের! সেটা অনেকের মনেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কারণ এখন পর্যন্ত সফলভাবে করোনার কোন ভ্যাক্সিন আবিষ্কার হয়নি। করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় চীন যে কিউবার ওষুধ প্রযুক্তি ‘ইন্টারফেরন আলফা টু-বি’ ব্যবহার করছে। এই খবর ইতোমধ্যেই বিশ্ববাসী জেনে গেছে। মেডিক্যাল সাইন্সে কিউবা অনেক এগিয়ে। প্রায় ৬০ বছর ধরে কিউবা মার্কিন অবরোধের মাঝেও নানান রোগের ভ্যাকসিন নিয়েও গবেষণা করছে। ১৯৮৫ সালে তারা মেনিনজাইটিসের ভ্যাকসিন বের করে। কিছুদিন আগে তারা লাঙ ক্যানসারের ভ্যাকসিনও বের করেছে। মা থেকে সন্তানে এইচআইভি ছড়ানো পুরোপুরি বন্ধ করতে পেরেছে তারা ২০১৫ সালে।  বিশ্বের অন্যতম বড় মেডিক্যাল কলেজটিও (ইএলএএম) কিউবায়। প্রায় ১১০টি দেশের শিক্ষার্থীরা এখানে পড়তে যায়। টিউশন ফি ছাড়াই সেখানে পড়ে সকলে।

এখন জানা দরকার ইন্টারফেরন কী? অনলাইন মিডিয়া থেকে জানা যায়, ইন্টারফেরন হলো প্রতিরক্ষামূলক প্রোটিন। কোন দেহকোষ ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হলে এটি নিঃসৃত হয়। বহিরাগত ভাইরাস,ব্যাক্টেরিয়া, ছত্রাক,বিষ ও অন্য কোনো বস্তু ইত্যাদির আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য প্রতিটি দেহে একটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকে, এটি দেহের প্রতিরক্ষাতন্ত্র ( Immune system)। ইন্টারফেরনস হল প্রোটিন জাতীয় রাসায়নিক প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্র যা দেহের প্রতিরক্ষা তন্ত্রের অন্তর্গত। ভাইরাস দ্বারা আক্রমণের পর যখন ইন্টারফেরন নিঃসৃত হয় তখন তা আক্রমণকারী ভাইরাস এর প্রোটিন সংশ্লেষণ প্রক্রিয়া বন্ধ করে, ফলে ভাইরাসটি আর সংখ্যা বৃদ্ধি করতে পারেনা। তাই সে পরবর্তী কোষগুলোকে আর আক্রমণ করতে পারেনা।কাজেই সংক্রমিত কোষের চারপাশের কোষগুলো ভাইরাসের আক্রমণ থেকে রক্ষা পায়, অধিকন্তু এরা ভাইরাস-প্রতিরোধক্ষম হয়ে ওঠে। কাজেই ইন্টারফেরন এর কাজ হলো আক্রমণকারী ভাইরাসের সংখ্যাবৃদ্ধি বন্ধ করে দেয়া এবং সুস্থ কোষগুলোকে ভাইরাস প্রতিরোধক্ষম করে তোলা ও ভাইরাসের আক্রমণ থেকে রক্ষা করা। AIJ Lindenmann ১৯৫৭ সালে ইন্টারফেরন আবিষ্কার করেন।

ইন্টারফেরন একটি প্রজাতি নির্দিষ্ট হরমোন, এমনকি একই দেহের বিভিন্ন টিস্যু থেকে বিভিন্ন প্রকার ইন্টারফেরন তৈরি হয়। ভাইরাস আক্রান্ত লিউকোসাইট থেকে এক ধরনের ইন্টারফেরন,ফাইব্রোব্লাস্ট কোষ থেকে অন্য ধরনের ইন্টারফেরন নিঃসরণ হয়। ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত কোষ কর্তৃক ইন্টারফেরন নিঃসৃত হলেও বর্তমানে রিকম্বিনেট ডিএনএ কৌশল প্রয়োগ করে অধিক পরিমাণে ইন্টারফেরন উৎপন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। ইন্টারফেরন প্রয়োগ করে জটিল হেপাটাইটিস বি, হার্পিস সংক্রমণ, বিভিন্ন ধরনের প্যাপিলোমা চিকিৎসা করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়াও জলাতঙ্ক রোগের চিকিৎসায়ও সাফল্য অর্জিত হয়েছে। গবেষকগণ ধারণা করছেন যে ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি রহিত করতেও ইন্টারফেরন সফলভাবে ব্যবহার করা যাবে।

বাংলাদেশ কিউবার খুব পুরাতন বন্ধু দেশ। তাই যে কোন মুহূর্তেই বাংলাদেশ সরকার দেশের এই সম্ভাব্য সংকটকালে কিউবার সাহায্য নিতে পারে, যেমনটি করেছে চীন।  


করোনাভাইরাস  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

আর্থিক ঝড়ের কবলে বিশ্বের অন্যতম ধনী গৌতম আদানির সাম্রাজ্য

প্রকাশ: ০৮:১৭ পিএম, ২৮ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail ভারতের গৌতম আদানি। ফাইল ছবি।

ফোর্বসের ধনীদের তালিকায় তিন নম্বর থেকে সাতে নেমে গেছেন ভারতের গৌতম আদানি। আদানির শুধু সম্পদই কমেনি, তাঁর ব্যবসার ধরন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, খ্যাতি বলতে যা ছিল, তাতেও বড় ধাক্কা লেগেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে ঘনিষ্ঠতাই আদানির সাফল্যের রহস্য বলেও বিরোধীরা এতোদিন ধরে অভিযোগ করে আসছিল বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম রয়টার্স এবং নিউইয়র্ক টাইমস। 

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ভারতের গৌতম আদানি স্কুল থেকে ঝরে পড়া এক বিলিয়নিয়ার; যিনি হয়ে উঠেছিলেন এশিয়ার শীর্ষ ধনী। সম্ভবত এ সময়ে তিনি তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন। গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক শেয়ারবাজার বিশ্লেষক সংস্থা হিনডেনবার্গ রিসার্চ গৌতম আদানির প্রতিষ্ঠান আদানি গ্রুপের শেয়ারে কারসাজি, কৃত্রিমভাবে দাম বৃদ্ধি আর আর্থিক লেনদেনে প্রতারণার চাঞ্চল্যকর এক প্রতিবেদন প্রকাশের পর টালমাটাল হয়ে উঠেছে আদানির সাম্রাজ্য। গত এক সপ্তাহে তাঁর সম্পদমূল্য কমেছে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি ডলার।

নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্যমতে, পশ্চিম ভারতের গুজরাটে ভোগ্যপণ্য ব্যবসায়ী হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিলেন গৌতম আদানি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও একই রাজ্য থেকে রাজনীতিতে উঠে আসেন। বিরোধীরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, আদানি ও মোদির মধ্যে বহু বছর ধরে ব্যবসা ও রাজনীতি নিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক রয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সম্পর্কের কারণে ব্যবসায়িক সুবিধা পেয়েছেন আদানি- এমন অভিযোগ, বিরোধীরা তুললেও তা বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন আদানি।

২০১৪ সালে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আদানি বলেছিলেন, রাজনীতির সব পক্ষের সঙ্গেই তাঁর ভালো সম্পর্ক রয়েছে, তবে তিনি নিজে রাজনীতি এড়িয়ে চলেন। মোদি সরকারও আদানিকে সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে। মোদি আদানির করপোরেট বিমান ব্যবহার করার পর এ নিয়ে তুমুল সমালোচনা হয়েছিল। তবে আদানি জানিয়েছিলেন যে, ‘মোদি পুরো টাকা পরিশাধ করেন’।

মার্কিন অর্থ ও বাণিজ্য বিষয়ক সাময়িকী ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, তিনদিন আগেও বিশ্বের শীর্ষ তৃতীয় ধনী গৌতম আদানির মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। কিন্তু মাত্র তিনদিনের ব্যবধানে ২২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার হারিয়ে শীর্ষ ধনীর তালিকায় সপ্তম স্থানে নেমে গেছেন তিনি।

স্বল্প সময়েই আদানির ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে তাঁর সম্পদ ফুলেফেঁপে ওঠে। শুরু থেকেই একটি ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য গড়ে তোলার লক্ষ্য ছিল আদানির। এ জন্য সমুদ্র বন্দর ও বিমান বন্দর থেকে শুরু করে একে একে বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র, খনি, ভোজ্যতেল, পুননবায়নযোগ্য জ্বালানি ইত্যাদি খাতে বিনিয়োগ করেন তিনি। সম্প্রতি গণমাধ্যম ও সিমেন্ট খাতেও বিনিয়োগ করেছেন ভারতের সবচেয়ে ধনী এই ব্যক্তি। আদানির ব্যবসা সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর সাতটি তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের দামও হু হু করে বেড়ে যায়। বিশেষ করে সর্বশেষ তিন বছরে তাঁর কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম দেড় হাজার শতাংশেরও বেশি বেড়েছিল বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে। এ সময়ে প্রচুর পরিমাণে বিদেশি বিনিয়োগও পেয়েছেন আদানি।

এ সময় সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলে ফোর্বসের তালিকায় বিশ্বের তৃতীয় ধনী ব্যক্তি বনে যান আদানি। তার আগে ছিলেন বার্নার্ড আরনল্ট এবং ইলন মাস্ক। এ সময় তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ১২৭ বিলিয়ন বা ১২ হাজার ৭০০ কোটি মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি টাকায় হিসাব করলে এর পরিমাণ দাঁড়ায় (প্রতি ডলার ১০০ টাকা ধরে) ১২ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা।

এত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও একটা সময় পর্যন্ত ৬০ বছর বয়সী আদানি অন্যান্য শত কোটিপতিদের তুলনায় অনেক কম পরিচিত ছিলেন। আদানি নিজেই সক্রিয়ভাবে তাঁর সব কটি শাখার ব্যবসা পরিচালনা করেন। নিজের দুই ছেলে করণ ও জিৎকে এখন তিনি ব্যবসায় যুক্ত করেছেন। তাঁর স্ত্রী প্রীতি আদানি দাঁতের চিকিৎসক।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, সম্প্রতি আদানি তাঁর ভাবমূর্তি গড়ে তোলার দিকে মনোনিবেশ করেছেন। এ জন্য তিনি দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন। ভারতের অন্যতম শীর্ষ গণমাধ্যম এনডিটিভির বড় অংশের শেয়ার কিনে নেওয়াও তার এমন কার্যক্রমের একটি অংশ বলে মনে করা হচ্ছে বলেও জানায় বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

গত কয়েক বছর আদানি গোষ্ঠী ২২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ পেয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম সবুজ হাইড্রোজেন ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার জন্য গত বছর আদানির সাথে চুক্তি করেছে ফ্রান্সের টোটাল এনার্জিস। অতি সম্প্রতি আদানি তার ভাবমূর্তি গড়ে তোলার জন্য সক্রিয় থাকার পন্থা বেছে নিয়ে দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন।

চলতি মাসে ভারতের জনপ্রিয় একটি হিন্দি টেলিভিশনের ‘পিপলস কোর্ট’ নামে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি। এ সময় তিনি আদালতের আদলে বানানো ‘কোর্টরুমে’র ভেতরে বসেন এবং তার ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্নের জবাবও দেন তিনি। ওই অনুষ্ঠানে তিনি নিজেকে ‘একজন লাজুক ব্যক্তি’ হিসাবে বর্ণনা করেন এবং ‘রাজনৈতিক আক্রমণের’ মুখোমুখি হওয়াকেই তার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির কারণ বলে জানান।

নিজেকে একজন লাজুক ব্যক্তি হিসেবে দাবি করা আদানি বলেছেন, তার জনপ্রিয়তার অন্যতম কৃতিত্ব বিরোধীদের। কারণ, তাঁদের ক্রমাগত সমালোচনার কারণেই বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছেন তিনি। ‘মানুষজন আদানিকে চিনতে পেরেছে রাহুলজির জন্য; কারণ, তিনি ২০১৪ সালের নির্বাচন এবং এরপর থেকে তাঁকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে আসছেন।’- এ মাসের আরও আগের দিকে এক অনুষ্ঠানে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সম্পর্কে বলেছিলেন আদানি। অনুষ্ঠানে দেশটির বিরোধীদল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধীর কথা উল্লেখ করে আদানি বলেন, ‘২০১৪ সালের নির্বাচনের সময় এবং এর পরে রাহুল গান্ধী তাকে ক্রমাগত লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করার কারণে মানুষ আদানিকে জানতে পেরেছে।’

অনুষ্ঠানটির তিন সপ্তাহের মাথায় শুক্রবারে আদানির কোম্পানির শেয়ারে ধস নামে। শুধু চলতি সপ্তাহেই তাঁর কোম্পানিগুলো শেয়ারবাজারে ৪৮ বিলিয়ন ডলার বা ৪ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের মূলধন হারিয়েছে। 

হিনডেনবার্গ রিসার্চ বলছে, আদানির ব্যবসাগুলো বিশ্বের নানা জায়গায় দেয়া কর অবকাশ সুবিধার অনুচিত ব্যবহার করেছেন। একই সঙ্গে আদানির বিপুল ঋণের বিষয়েও যে উদ্বেগ রয়েছে, তা-ও তুলে ধরেছে ওই গবেষণা প্রতিষ্ঠান।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, আদানির জন্য বিতর্ক অবশ্য নতুন কিছু নয়। কেরালায় তাঁর ৯০ কোাটি ডলারের বন্দর নির্মাণের বিরুদ্ধে মৎস্যজীবীদের বিক্ষোভ হয়েছে, যার জন্য তিনি রাজ্য সরকার ও জেলে সম্প্রদায়ের নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। অস্ট্রেলিয়ায় তাঁর কারমাইকেল কয়লা খনির বিরুদ্ধে পরিবেশবাদীরা দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন।

এ সম্পর্কে ভারতের ইমেজ গুরু হিসেবে পরিচিত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান পারফেক্ট রিলেশনসের সহপ্রতিষ্ঠাতা দিলীপ চেরিয়ান রয়টার্সকে বলেন, হিনডেনবার্গ রিপোর্টের প্রতিবেদন আদানির খ্যাতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে আদানি সেই ক্ষতি সীমিত করার জন্য পদক্ষেপ নিতে এবং বিনিয়োগকারীদের নানাভাবে আশ্বস্ত করতে পারেন। তবে যে ধরনের উল্কাগতিতে আদানির উত্থান হয়েছে, তাতে তিনি যে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছেন, সে ব্যাপারে হয়তো খুব কম মানুষই দ্বিমত করবেন।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক শেয়ারবাজার বিশ্লেষক সংস্থা হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ এক গবেষণা প্রতিবেদনে আদানি অফশোর ট্যাক্স হেভেন ব্যবহার করে ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ করে। তবে আদানি এই প্রতিবেদনকে ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন, তিনি এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বিবেচনা করছেন।

এদিকে আদানি গ্রুপের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, তাদের প্রতিষ্ঠানের রুপকল্প হল ‘ভালোর সাথে প্রবৃদ্ধির’ ভারসাম্য। কারণ জাতীয় প্রাসঙ্গিক সব বিষয়ে সম্পদ তৈরি, আত্মনির্ভরশীলতা এবং স্থায়িত্বের মাধ্যমে জনজীবনে রূপান্তর ঘটানো তাদের লক্ষ্য।

গৌতম আদানি   ভারত  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

মার্কিন পুলিশের ‘বর্বরতার’ ভাইরাল ভিডিও

প্রকাশ: ০২:৩৬ পিএম, ২৮ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

আমেরিকার মিসিসিপি রাজ্যের মেমফিসে টায়ার নিকোলস নামে আমেরিকার এক কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিক পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়ে মৃত্যুবরন করেছেন। শুক্রবার সেই ঘটনার প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং ওই কৃষ্ণাঙ্গ যুবকের ওপর হওয়া পুলিশি নির্যাতনের ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে।

গত ৭ জানুয়ারি ৫ পুলিশ অফিসারের নির্যাতনের শিকার হন নিকোলস। এর তিনদিন পর হাসপাতালে তিনি মারা যান। ভিডিওতে দেখা যায় নির্যাতনের সময় মা মা বলে আর্তনাত করছিলেন তিনি। চিৎকার-আর্তনাতের পরও তার ওপর দীর্ঘ সময় চলে নির্যাতন।

২৯ বছর বয়সী নিকোলসকে ট্রাফিক আইন অমান্য করার অপরাধে আটকায় পুলিশ। কিছুক্ষণ কথা বলার পর ভয়ে তিনি দৌড় দিলে পুলিশ সদস্যরা তাকে পাকড়াও করে বর্বর নির্যাতন চালান। তার মুখে একাধিক লাথি, ঘুষি মারেন তারা।

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ভিডিওটি দেখার পর বলেছেন, এই ‘ভয়ানক ভিডিও’ দেখে ‘অত্যন্ত ব্যথিত’ হয়েছেন তিনি।

পুলিশের পক্ষ থেকে প্রথমে বলা হয়েছিল বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোয় নিকোলসকে আটক করা হয়েছিল। যে ৫ পুলিশ সদস্য নিকোলসের ওপর নির্যাতন চালিয়েছেন তারাও সবাই কৃষ্ণাঙ্গ।

মেমফিস পুলিশের পক্ষ থেকে সব মিলিয়ে চারটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। প্রথম ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ নিকোলসকে গাড়ি থেকে বের হয়ে মাটিতে শুয়ে পড়তে বলছে। এ সময় নিকোলস বলেন, “আমি কিছু করিনি।”

এ সময় এক অফিসার গালাগাল দিয়ে বলেন, “মাটিতে শুয়ে পড়।” আরেকজন নিকোলসকে টেজার দিয়ে ইলেকট্রিক শক দিতে বলেন।

আরেকজন অফিসারকে চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, “আমি তোমার হাত ভেঙে দেওয়ার আগে হাত পেছনে রাখ।”

পুলিশের এমন আচরণে ভয় পেয়ে যান নিকোলস। তখন তিনি বলেন, “আপনারা এখন অনেক বাড়াবাড়ি করছেন। আমি বাড়িতে যাওয়ার চেষ্টা করছি।”

ওই মুহুর্তে নিকোলসকে ইলেকট্রিক শক দেওয়া হলে তিনি দৌড় দেন।

এরপর সিসি ক্যামেরায় ধারণকৃত একটি ভিডিওতে দেখা যায় নিকোলসকে মারধর করছেন তারা। তার মুখে মরিচের গুড়া ছিটিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মাথায় কিল ঘুষি মারা হচ্ছে।

এদিকে এ ঘটনায় অভিযুক্ত পাঁচ পুলিশ সদস্যকে ইতোমধ্যে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

নির্যাতনের ভিডিও প্রকাশের পর নিকোলসের মা জানিয়েছেন, তার ছেলেকে বাড়ি থেকে মাত্র ২৩০ ফুট দূরে হত্যা করা হয়েছে।

নিকোলসের চার বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো।


আমেরিকা   মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র   পুলিশ নির্যাতন   পুলিশ বর্বরতা   কৃষ্ণাঙ্গ হত্যা  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

ভারতের দুই রাজ্যে যুদ্ধবিমানসহ ৩ বিমান বিধ্বস্ত

প্রকাশ: ০১:১৮ পিএম, ২৮ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

কয়েক মিনিটের ব্যবধানে ভারতের দুই রাজ্যে ভেঙে পড়ল মোট ৩টি বিমান।

শনিবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে রাজস্থানে একটি চার্টার্ড বিমান এবং মধ্য প্রদেশে সুখই-৩০ ও মিরাজ ২০০০ যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে দুর্ঘটনায় হতাহতের বিষয়ে এখনও কোনো তথ্য জানা যায়নি। শনিবার (২৮ জানুয়ারি) এনডিটিভির এক প্রতিবেদেনে তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সুখোই সু-৩০ ও মিরাজ ২০০০ হাজার মডেলের যুদ্ধবিমান দুইটি প্রশিক্ষণ চলাকালে বিধ্বস্ত হয়।

দুইটি যুদ্ধবিমানই গোয়ালিয়র বিমানবাহিনীর ঘাঁটি থেকে উড্ডায়ন করা হয়। এরই মধ্যে সেখানে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। তবে হতাহতের খবর এখনো জানা যায়নি।

জানা গেছে, সু-৩০ যুদ্ধবিমানটিতে দুইজন পাইলট ছিল। অন্যটিতে ছিল একজন পাইলট। তাদের মধ্যে দু’জনকে উদ্ধার করা গেছে। আহত হলেও তারা নিরাপদ। তবে তৃতীয় পাইলটকে উদ্ধারে অভিযান চলছে।

এদিকে একটি প্রতিরক্ষা সূত্র জানিয়েছে, যুদ্ধবিমান দুইটির মধ্যে মাঝ আকাশে সংঘর্ষ হয়েছিল কি না তা জানতে বিমানবাহিনী একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

এর আগে গত বছরের ২৮ জুলাই দিনগত রাত ৯টার দিকে রাজস্থানের বারমার জেলায় দেশটির বিমান বাহিনীর একটি মিগ-২১ নামের একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়। ওই ঘটনায় দুই পাইলট নিহত হয়েছিলেন।

তাছাড়া ২০২১ সালের ডিসেম্বরে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মারা যান ভারতের প্রতিরক্ষাপ্রধান বিপিন রাওয়াত। শুধু তিনিই নন, এ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন রাওয়াতের স্ত্রী, প্রতিরক্ষা সহকারী, নিরাপত্তা কমান্ডো, বিমানবাহিনীর কর্মকর্তাসহ আরও ১২ জন।



মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

নিউজিল্যান্ডে রেকর্ড বৃষ্টিতে ৩ জনের মৃত্যু

প্রকাশ: ০১:১৩ পিএম, ২৮ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিতে তিনজনের প্রাণহানি হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে একজন।

শনিবার (২৮ জানুয়ারি) এ তথ্য জানিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস হিপকিন্স।

হিপকিন্স বলেন, অকল্যান্ডে শুক্রবার ছিল সবচেয়ে বৃষ্টিমুখর দিন। এটি ছিল সাম্প্রতিক সময়ের একটি নজিরবিহীন ঘটনা। আবহাওয়ার তীব্রতা কতো মাত্রায় পৌঁছেছে তা এই প্রাণহানি থেকে বুঝা যায়।

দেশটির আবহাওয়া অফিস বলেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল থেকে ২৪ ঘন্টায় অকল্যান্ড বিমান বন্দরে ২৪৯ মিলিমিটার রেকর্ড বৃষ্টি হয়েছে। অকল্যান্ডের রাস্তাগুলো আকস্মিক বন্যায় নদীতে রূপ নিয়েছে। বিমানবন্দরে যাওয়ার রাস্তাও সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

পরে শনিবার বিকেল নাগাদ আভ্যন্তরীণ টার্মিনাল পুনরায় খুলে দেয়া হয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল রবিবার পুনরায় শুরু করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। হিপকিন্স বলেছেন, আমরা অকল্যান্ডকে যথাসম্ভব দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে চাই।


নিউজিল্যান্ড   বৃষ্টি  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

২৪ ঘণ্টায় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামিয়ে দিতে পারবেন ট্রাম্প!

প্রকাশ: ১১:৩৮ এএম, ২৮ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

দীর্ঘ ১১ মাস ধরে চলছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। গত বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের দেশ ইউক্রেনে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ নামে আগ্রাসন শুরু করলে এই যুদ্ধ শুরু হয়। করোনাভাইরাস মহামারীর পরপরই এই যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে দেখা দিয়েছে চরম অর্থনৈতিক অস্থিরতা।

তবে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই যুদ্ধ থামিয়ে দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

শুক্রবার ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান, তিনি যদি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদে থাকতেন তাহলে একদিনের মধ্যেই এই যুদ্ধ বন্ধ করে দিতেন। তার দাবি, তিনি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট থাকলে এই যুদ্ধ শুরুই হতো না।

বৃহস্পতিবারই মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে কড়া বার্তা দিয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, অবিলম্বে এই যুদ্ধ বন্ধ করুন।

সম্প্রতি ফেসবুক ও টুইটারে নিজের প্রোফাইল ফিরে পেয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তারপর থেকেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে একাধিক টুইট করেছেন তিনি। 

বৃহস্পতিবার বাইডেনের উদ্দেশে তিনি বলেন, “একবার যুদ্ধের জন্য ইউক্রেনকে ট্যাংক দিচ্ছে আমেরিকা, এরপর তো দরকার পড়লে পরমাণু অস্ত্রও দেবে। সময় নষ্ট না করে এই বিধ্বংসী যুদ্ধ থামান। খুব সহজেই এই যুদ্ধ বন্ধ করা যেতে পারে।”

রাশিয়ার পক্ষ থেকেও একাধিকবার এই দাবি করে বলা হয়েছে, ইউক্রেনকে অস্ত্র সাহায্য করে প্রকৃতপক্ষে যুদ্ধকে দীর্ঘস্থায়ী করছে আমেরিকা।

শুক্রবার আরেকটি পোস্ট করেন ট্রাম্প। সরাসরি দাবি করেন, তিনি সুযোগ পেলে একদিনের মধ্যেই এই যুদ্ধ থামিয়ে দিতে পারেন। ট্রাম্পের দাবি, “আমি যদি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হতাম, তাহলে রাশিয়া-ইউক্রেনের বিধ্বংসী যুদ্ধ শুরুই হতো না। এখনও যদি আমাকে প্রেসিডেন্ট পদে বসানো হয়, তাহলে মাত্র ২৪ ঘণ্টা সময় লাগবে। আলাপ আলোচনার মাধ্যমে দুইপক্ষের সহমতে এই যুদ্ধ বন্ধ করে দেব। যেভাবে প্রাণ হারাচ্ছে সাধারণ মানুষ তা মেনে নেওয়া যায় না।”



মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন