ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

একটি চিঠি এবং জিয়া পরিবারের রাজনীতির উৎসের সন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৯:৫৯ পিএম, ১২ অগাস্ট, ২০২০


Thumbnail

একটি দূর্লভ চিঠি আমাদের হাতে এসেছে। চিঠিটি ১৯৭১ এর ২৯ মে লেখা। চিঠি লিখেছেন তৎকালীন কর্ণেল বেগ, লিখেছেন, মেজর জিয়াউর রহমানকে। প্রথমেই চিঠির ভাষ্য পাঠকদের জন্য উপস্থাপন করছি:-

Major Ziaur Rahman, Pak Army, Dacca

We all happy with your job. We must say good job. you will get new job soon.

Don’t worrie about your family. Your wife and kids are fine

you have to be more carefull about major Jalil.

Col. Baig Pak Army

May 29. 1971


(মেজর জিয়াউর রহমান, পাক আর্মি, ঢাকা

তোমার কাজে আমরা সবাই খুশী। আমাদের অবশ্যই বলতে হবে তুমি ভালো কাজ করছো। খুব শিগ্গীরই তুমি নতুন কাজ পাবে।

তোমার পরিবার নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়োনা। তোমার স্ত্রী ও বাচ্চারা ভালো আছে। তোমাকে মেজর জলিল সম্পর্কে আরো সতর্ক থাকতে হবে।

কর্ণেল বেগ, পাক আর্মি

মে ২৯, ১৯৭১)

প্রিয় পাঠক একটু থামুন। ফিরে যান ১৯৭১। বাঙালী জাতি স্বাধীনতার জন্য মরণ প্রাণ সংগ্রাম করছে। অস্ত্র, গ্রেনেড, আর মৃত্যু-প্রতিদিনের চিত্র। মেজর জিয়া তখন সেক্টর কমান্ডার, মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতার জন্য লড়াই করছেন। আর কর্ণেল বেগ, পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর অন্যতম কর্তা। সকাল-সন্ধ্যা বাঙালী নিধনের নির্দেশ দিচ্ছেন, ব্লুপ্রীন্ট তৈরী করছেন। দুই জন সমর ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষ। অথচ কর্ণেল বেগ বলছেন ‘তোমার কাজে আমরা খুশী।’ মুক্তিযোদ্ধা মেজর জিয়া কি কাজ করলেন যে তার কাজে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী খুশী হলো? মেজর জিয়া যে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছেন, সেই প্রতিপক্ষ তার সন্তানের দেখভাল করছে?

মুক্তিযুদ্ধের অকথিত অধ্যায়ের এটি এক বড় আবিস্কার। এর মানে কি এই যে, দৃশ্যত জিয়া মুক্তিযুদ্ধ করলেও আসলে তিনি ছিলেন পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর এজেন্ট? মুক্তিযুদ্ধের সময়ই খন্দকার মোশতাকদের ষড়যন্ত্রের কথা আজ জাতি জানে। ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট ষড়যন্ত্রে মোশতাক চক্রের সংগে জিয়ার যোগাযোগের কথাও জাতি জানে। কিন্তু যেটি এই চিঠি স্পষ্ট করে দিয়েছে তা হলো ‘মুক্তিযোদ্ধা’ জিয়া আসলে ছিলেন স্বাধীনতা বিরোধী পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর এজেন্ট। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানী ষড়যন্ত্রের অন্যতম অংশ ছিলেন মেজর জিয়া। মুক্তিযুদ্ধের সময়ই তাকে পাকিস্তানীরা ‘বিশেষ দায়িত্ব’ দিয়েছিল, যে দায়িত্ব তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পালন করেছিলেন। ৭৫ এ জিয়ার ভূমিকায় যারা হিসেব মিলাতে পারেন না, তাদের জন্য এই চিঠি একটি বড় উম্নোচন।

এই চিঠি প্রামাণ করে, জিয়া কখনও বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে ছিলেন না, তিনি ছিলেন পাকিস্তানের ‘গুপ্তচর’। আর একারণেই ৭৫ এর ১৫ আগস্ট জিয়া মোশতাক চক্রকে সাথে নিয়ে ইতিহাসের বর্বোচিত ঘটনা ঘটান। একারণেই, ৭৫ এর পর জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করেছিলেন। যুদ্ধাপরাধে আটকদের মুক্তি দিয়েছিলেন। একারণেই, জিয়া গোলাম আযমকে দেশে ফিরিয়ে এনেছিলেন। একারণেই জিয়া আবার জামাতকে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছিলেন। একারণেই জিয়া, চিহ্নিত স্বাধীনতা বিরোধীদের প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছিলেন। যুদ্ধাপরাধী, স্বাধীনতা বিরোধীদের মন্ত্রী বানিয়েছিলেন, দলে নিয়েছিলেন। একারণেই জিয়া রক্তে ভেজা আমাদের সংবিধান কাঁটাছেড়া করে রক্তাক্ত করেছিলেন। একারণেই, জিয়া মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধুলিসাৎ করেছিলেন।

একারণেই, জিয়ার মৃত্যুর পরও ১৯৯১ এ ক্ষমতায় এসে বিএনপি ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করেনি, একারণেই বেগমজিয়া স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি জামাতকে নিয়ে জোট করেছেন। একারণেই, ক্ষমতায় এসে চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানিয়েছিলেন। একারণেই বেগমজিয়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। প্রকাশ্যেই যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। একারণেই তিনি জঙ্গী, মৌলবাদী সন্ত্রাসীদের মদদ ও পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছেন।

এই চিঠির যোগসূত্র আমরা পাই, পাকিস্তানের আদালতে দেয়া আইএসআই প্রধানের বক্তব্যে। কিছু দিন আগে আইএসআই প্রধান আদালতে এক লিখিত জবানবন্দীতে বলেছিলেন ‘বিএনপিকে আইএসআই নিয়মিত অর্থ দেয়।’

সম্প্রতি বেগম খালেদা জিয়া ‘ওয়াশিংটন টাইমস’ নামে একটি মৌলবাদী পত্রিকায় একটি নিবন্ধ লিখেছেন। ঐ নিবন্ধে তিনি যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে অবস্থান প্রকাশ্যে ঘোষণা করে, এব্যাপারে তিনি মার্কিন হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অর্থাৎ জিয়া ‘গুপ্তচর’ হয়ে পাকিস্তানী আনুগত্যের যে বীজ বপন করেছিলেন, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে তা এখন মহিরুহে পরিণত হয়েছে। এই জন্যই জামাত-শিবিরের তান্ডব আর বেগম জিয়ার হাহাকার। এই চিঠির সংগে বেগম খালেদা জিয়ার নিবন্ধের যোগসূত্র পাওয়া যায়। খালেদা জিয়া তার নিবন্ধের শুরুতে বলেছেন ‘১৯৭১ সালে প্রথম সারির জাতিগুলোর মাঝে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের আত্ম সংকল্পের অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়।’ ৭১ এর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা আমরা সবাই জানি। অনেকে মনে করতে পারেন বেগম জিয়া কিভাবে এই মারাত্মক ভুল করলেন। কিন্তু জিয়ার কাছে লেখা কর্ণেল বেগের ৭১ এর চিঠি বলে দেয়, বেগম জিয়া যা লিখেছেন তা জেনে বুঝেই। ৭১ এ পাকিস্তানী হানাদারদের পক্ষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সপ্তম নৌবহর পাঠিয়েছিল ইয়াহিয়ার নির্দেশে। ইয়াহিয়া খানের গুপ্তচর জিয়ার গড়া দলের নেত্রী, বেগম জিয়া তাই মার্কিন ভূমিকার প্রশংসা তো করবেনই। একই কায়দায় তিনিও তো মার্কিন আগ্রাসনের আমন্ত্রণও জানাবেন।

এই একটি চিঠিই দিয়েছে অনেক প্রশ্নের উত্তর। অনেক অমীমাংসিত বিষয়ের সমাধান।

 



মন্তব্য করুন


ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

আইভীকে হারানোর সব চেষ্টাই করেছেন শামীম ওসমান

প্রকাশ: ০৫:০০ পিএম, ১৭ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন শেষ হয়েছে। প্রায় ৭০ হাজার ভোটের ব্যবধানে সেলিনা হায়াৎ আইভী তৃতীয়বারের মতো সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। আপাতদৃষ্টিতে এই নির্বাচন ছিলো আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীর সঙ্গে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকারের লড়াই। কিন্তু পর্দার পেছনে আইভীকে মূলত লড়তে হয়েছে তার দলের প্রতিপক্ষ শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে। বৃহত্তর ভাবে বলতে গেলে ওসমান পরিবারের বিরুদ্ধে। শুরু থেকেই ওসমান পরিবার আইভীর বিরুদ্ধে ছিলো। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বাংলা ইনসাইডারকে নিশ্চিত করেছে যে, এই নির্বাচনে তৈমুর আলম খন্দকারকে প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করানোর ক্ষেত্রে শামীম ওসমান এবং ওসমান পরিবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তাদের অর্থায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছিল রাইফেল ক্লাবের একজন ব্যবসায়ী নেতার মাধ্যমে। এই বিষয়গুলো যখন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব জানেন তখন জাহাঙ্গীর কবির নানকের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা শামীম ওসমানের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বার্তাটি জানিয়ে দেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতির বার্তা ছিলো খুবই স্পষ্ট। দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে যারাই কাজ করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আওয়ামী লীগ সভাপতির এই নির্দেশনার আলোকেই নারায়ণগঞ্জ ছাত্রলীগকে বিলুপ্ত করা হয়। এরপর শামীম ওসমান একটি সংবাদ সম্মেলনের নাটক করেন এবং সেখানে তিনি নৌকা প্রতীকের পক্ষে সমর্থন ঘোষণা করেন। কিন্তু এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আড়ালে হয়েছে ভয়ঙ্কর খেলা। শামীম ওসমানের লোকজন নির্বাচনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আইভীর বিরুদ্ধে কাজ করেছেন এবং এ নিয়ে আইভীও শঙ্কিত ছিলেন। সেলিনা হায়াৎ আইভী জানতেন যে, শামীম ওসমান এই নির্বাচনে অনেক কিছুই করতে পারেন। আর এ কারণেই তিনি বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে নির্বাচনী এজেন্টদের নাম প্রকাশ করেন ভোটের আগের দিন গভীর রাতে। কারণ তার শঙ্কা ছিলো যে, শামীম ওসমানের লোকজন তাদেরকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা দিতে পারেন। এরকম ঘটনার পরও অন্তত তিনজন এজেন্টকে শামীম ওসমানের লোকজন ভয় দেখিয়েছেন বলে প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং তারা দুপুর ১২টায় ভোট কেন্দ্রে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন।

আইভী চেয়েছিলেন নির্বাচনটি সুষ্ঠু হোক এবং পুলিশ যেন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে। অন্যদিকে, শামীম ওসমানের পক্ষের লোকজন চেয়েছিল নির্বাচনকে যেকোনো মূল্যে বিতর্কিত করতে এবং একটা সহিংসতার আবরণ তৈরি করতে। যদিও প্রকাশ্যে শামীম ওসমান ভোটের দিন বলেছেন যে, নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত। কিন্তু নৌকাকে হারাতে তিনি যে ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন সে সম্পর্কে বেশকিছু তথ্য-প্রমাণ আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির হাতে রয়েছে। আর এ কারণেই নির্বাচনের পরপরই স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের নির্বাচন সমন্বয়কারী জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, নারায়ণগঞ্জে এখনো অনেক কাজ করতে হবে এবং এ বিষয়গুলো তারা আওয়ামী লীগ সভাপতিকে অবহিত করবেন। তবে কি বিষয় সে সম্পর্কে তিনি কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানান।

বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে যে, শামীম ওসমান মুখে বলেছেন এক কথা আর কাজ করেছেন অন্যরকম। এ ধরনের বেশকিছু অভিযোগ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পেয়েছে। একাধিক সূত্র বলছে যে, নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কমিটিগুলো শামীম ওসমানের পকেট কমিটি। সেখানকার ছাত্রলীগ, যুবলীগ, মহিলা যুবলীগ, কৃষকলীগ,  শ্রমিকলীগ ইত্যাদি সবই শামীম ওসমানের পকেটে। কিন্তু সাধারণ কর্মীরা আইভীর পক্ষে হলেও শামীম ওসমানকে ভয় পায়। আর একারণেই আইভী চেয়েছিলেন যে, প্রভাবমুক্ত একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন হোক। শেষ পর্যন্ত প্রভাবমুক্ত নিরপেক্ষ নির্বাচন হওয়ার কারণে তৃতীয়বারের মতো আইভী নির্বাচিত হয়েছেন। তবে এই নির্বাচনের পর নারায়ণগঞ্জে একটা বড় ধরনের শুদ্ধি অভিযান হবে। নারায়ণগঞ্জ নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অন্তত দুজন নেতা বাংলা ইনসাইডারকে নিশ্চিত করেছেন, শামীম ওসমান যে আইভীবিরোধী তৎপরতা করেছেন সে সম্পর্কে তথ্য-প্রমাণ তাদের হাতে আছে এবং এগুলো তারা আওয়ামী লীগ সভাপতির কাছে দেবেন।

শামীম ওসমান   নাসিক নির্বাচন   ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী  


মন্তব্য করুন


ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

শুভাশীষই কি তাহলে হারিছ চৌধুরী?

প্রকাশ: ০৬:০৭ পিএম, ১৬ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

হারিছ চৌধুরীর মৃত্যু নিয়ে বিতর্ক থামছেই না। হারিছ চৌধুরী ঢাকায় মারা গেছেন বলে তার কন্যা ব্যারিস্টার সামিরা আনুষ্ঠানিকভাবে একটি ট্যাবলয়েটে সাক্ষাৎকার দিয়ে জানিয়েছেন। কিন্তু তার এই বক্তব্য বিশ্বাসযোগ্য নয় বলেই মনে করছেন বিভিন্ন মহল। বিশেষ করে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা বলছে যে, হারিছ চৌধুরীর ঢাকা থাকার কথাটি অবাস্তব, ভিত্তিহীন এবং অলৌকিক। এটি অসম্ভব ব্যাপার।

উল্লেখ্য যে, ওয়ান-ইলেভেনের সময় হারিছ চৌধুরীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। এ সময় তিনি ঢাকার বাসা থেকে পালিয়ে সিলেটে যান এবং সেখানেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান পরিচালনা করলে তিনি ভারতে আশ্রয় নেন। এই ব্যাপারে কোনো সংশয় নেই এবং ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার বরাত দিয়েই ২০০৮ সালে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে যে, হারিছ চৌধুরী ভারতে অবস্থান করছেন। এমনকি বিএনপির কয়েকজন নেতা সেসময় ভারতে গিয়ে হারিছ চৌধুরীর সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন, এমন তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর পরপরই হারিছ চৌধুরী নিখোঁজ হয়ে যান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বলছেন যে, আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি এতো দুর্বল নয় যে হারিছ চৌধুরী ঢাকায় থাকবেন এবং হাসপাতালে চিকিৎসা নিবেন, অথচ তার কোনো খবর পাওয়া যাবে না। এটি কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে মনে করা হচ্ছে। অবশ্য অনেকে মনে করছেন যে, হারিছ চৌধুরী যদি সত্যি সত্যি বাংলাদেশে আত্মগোপনই করে থাকেন, তাহলে হয়তো অনেক ব্যক্তিই এরকম আত্মগোপন করে আছেন, যাদেরকে এখন গুম করা হয়েছে বলে প্রচার করা হচ্ছে। সেটি আরেকটি দিক। 

কিন্তু এভাবে একজন মোস্ট ওয়ান্টেড ক্রিমিনাল, একাধিক মামলায় দণ্ডিত ব্যক্তি দেশেই থাকবেন সেটি অসম্ভব। বিভিন্ন সূত্র বলছে যে, আওয়ামী লীগ সরকারের কথা বাদ দেয়া হোক, ওয়ান-ইলেভেনের সময় শুরুতেই হারিছ চৌধুরীকে গ্রেফতারের চেষ্টা করা হয় এবং তখনও তিনি পালিয়ে যান। সেনা সমর্থিত ওয়ান ইলেভেন সরকার প্রায় দুই বছর ক্ষমতায় ছিল। এই দুই বছরের মধ্যে হারিছ চৌধুরী ঢাকায় থাকবেন এবং তাকে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী খুঁজে পাবে না এটি যুক্তি সঙ্গত নয়। নাটকের শেষ এখানেই নয়, ২০১৮ সালে হারিছ চৌধুরীকে লন্ডনে দেখা যায়। সে সময় লন্ডনে একটি বিএনপির পুনর্মিলনই অনুষ্ঠানে তারেক জিয়া প্রধান অতিথি ছিলেন, সেই অনুষ্ঠানে হারিছ চৌধুরীকে দেখা গিয়েছিল এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন লন্ডনে বিএনপির একাধিক নেতা। হঠাৎ করেই যুক্তরাজ্যে বিএনপির সভাপতি মালেক সাহেব কেন সাক্ষাৎকার দিয়ে বললেন তিনি তিনি কখনো লন্ডনে আসেননি সেটি একটি বিস্ময়। কারণ হারিছ চৌধুরী যে পুণর্মিলনি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন সে পুণর্মিলনি অনুষ্ঠানে মালেকেরও ছবি ছিল। এখন প্রশ্ন হল যে, ২০১৮ তে হারিছ চৌধুরী লন্ডনে গেলেন কিভাবে ? এবং তার লন্ডনে থাকার খবরটিও কেন গোপন রাখা হল? বিভিন্ন মহল মনে করছেন যে, হারিছ চৌধুরীর বিভিন্ন আত্মীয় স্বজন যেহেতু ভারতে থাকে কাজেই ভারতে অবস্থান করে যেকোনো প্রকারে তিনি ভারতীয় পাসপোর্ট যোগাড় করেছেন এবং এটি অসম্ভব নয়। এর আগে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত একজন খুনিও ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করেছিলেন এবং সেখানে তিনি ভারতীয় নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছিলেন, ভারতীয় পাসপোর্ট নিয়েছিলেন, এমনকি ভারতের আধার কার্ডও গ্রহণ করেছিলেন। কাজেই এভাবে পাসপোর্ট নেয়া অসম্ভব নয়।

বিভিন্ন মহল বলছে যে, হারিছ চৌধুরী ২০১৮-১৯ সালে হারিছ চৌধুরীকে একাধিকবার বিএনপির কার্যক্রমের মধ্যে দেখা গিয়েছে এবং বিএনপির অনেক নেতার সঙ্গেই তার সে সময় যোগাযোগ হয়েছিল। এরপর তিনি আবার কিভাবে বাংলাদেশে এলেন সেটিও একটি বড় প্রশ্ন। হারিছ চৌধুরী বাংলাদেশে যে পথেই আসুক না কেন তাকে কেউ আটকাবে না, চিনবে না সেটি অবাস্তব ব্যাপার। বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে যে, হারিছ চৌধুরীর যে সমস্ত শারীরিক বর্ণনা এবং যে সমস্ত বৈশিষ্ট্য সেই বৈশিষ্ট্যগুলো থাকা একজন ভারতীয় ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে এন এইচ এর তালিকায় যিনি করোনায় আক্রান্ত হয়ে লন্ডনের একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। ঐ ব্যক্তির নাম শুভাশীষ চৌধুরী। তার চেহারার সঙ্গে হারিছ চৌধুরীর চেহারার হুবহু মিল পাওয়া যায়।  ঐ ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সময় জানা গিয়েছিল যে, তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত এবং অন্যান্য জটিলতায় ভুগছেন। লন্ডনেই একাধিক বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন যে হারিছ চৌধুরীর বাংলাদেশে থাকা এবং একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করা এবং শেষ পর্যন্ত তাকে দাফন করা স্রেফ একটি আষাঢ়ে গল্প। কারণ, হারিছ চৌধুরী কোনো অজানা ব্যক্তি নন। তিনি যদি হাসপাতালে ভর্তি হন তার একটা ডেথ সার্টিফিকেট লাগবে। এই ডেথ সার্টিফিকেট তিনি কিভাবে নিলেন এবং তাকে কিভাবে দাফন করা হলো আর আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘুমিয়ে থাকলেও এটা অবাস্তব ব্যাপার। ধারণা করা হচ্ছে হারিছ চৌধুরীর মৃত্যুর ঘটনাটি স্রেফ সম্পত্তিগুলোকে বাঁচানো এবং সম্পত্তিগুলোকে পুত্র কন্যার কাছে ভাগ বাটোয়ারা করারই একটি নীল নকশা। এজন্যই তাকে  মৃত দেখানো হচ্ছে। যেহেতু লন্ডনে ডেথ সার্টিফিকেট জাল করা বা ভুয়া মৃত্যুর খবর করা প্রায় অসম্ভব সেজন্যই এখন বাংলাদেশকে বেছে নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশেই হারিছ চৌধুরীকে মৃত দেখিয়ে জাল  সার্টিফিকেট বা অন্যান্য বিষয়গুলো করা হয়ে থাকতে পারে। শুভাশীষই কি হারিছ চৌধুরী নাকি সেটি খতিয়ে দেখা দরকার বলে বিভিন্ন মহল মনে করছেন।

হারিছ চৌধুরী  


মন্তব্য করুন


ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

কতবার মারা গেলেন হারিছ চৌধুরী?

প্রকাশ: ০৫:০০ পিএম, ১৪ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

হারিছ চৌধুরীর মৃত্যু নিয়ে বিএনপি নিজেই নিজের ফাঁদে পড়েছে। তাকে মৃত বানিয়ে তার বিরুদ্ধে সমস্ত ওয়ারেন্ট এবং মামলা আড়াল করার যে প্রয়াস বিএনপির বিভিন্ন মহল করেছিল, সেই প্রয়াসে বিএনপি নিজেই ধরা পড়েছে। এখন পর্যন্ত হারিছ চৌধুরীর তিনটি মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া গেছে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো যে, যুক্তরাজ্য শাখার বিএনপির সভাপতি মালেক দাবি করেছিলেন যে, হারিছ চৌধুরী কখনো লন্ডনে আসেননি। অথচ হারিছ চৌধুরীর সঙ্গে মালেকের ছবি এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরছে-ফিরছে। এই ছবিটি ২০১৮ সালের। অর্থাৎ ২০১৮ সাল থেকেই হারিছ চৌধুরী যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছিলেন। এখন পর্যন্ত হারিছ চৌধুরীর যে সমস্ত মৃত্যুর খবর জানা গেছে তার মধ্যে রয়েছে-

১. হারিছ চৌধুরীর ভাই সিলেট বিএনপির সহ-সভাপতি দাবি করেছেন যে, হারিছ চৌধুরী লন্ডনে মারা গেছেন। তার বর্ণনা মতে, তিনি প্রথমে করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। পুরোপুরি সুস্থ হয়ে বাসায় ফেরেন। এরপর তিনি আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত মারা যান। কিন্তু তার এই বক্তব্যের কোন সত্যতা এনএইচএস-এ পাওয়া যায়নি। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল মেডিকেল সার্ভিসের (এনএইচএস) তথ্য অনুযায়ী হারিছ চৌধুরী নামে কোন ব্যক্তি ২০২০ সালের আগস্ট, সেপ্টেম্বর, অক্টোবরে মৃত্যুবরণ করেননি।

২. হারিছ চৌধুরীর দ্বিতীয় মৃত্যুর খবর জানাচ্ছেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি মালেক। তিনি এক অবিশ্বাস্য গল্প ফেঁদেছেন। তিনি দাবি করছেন, হারিছ চৌধুরী কখনোই বাংলাদেশ থেকে বের হননি। বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থা এবং ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে জানিয়েছেন যে, হারিছ চৌধুরী জকিগঞ্জ এলাকা দিয়ে ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করেন এবং সেখানেই তিনি ছিলেন। ভারতেই তিনি দীর্ঘদিন বসবাস করেছেন, এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং গোয়েন্দা বিভাগ নিশ্চিত বলে জানিয়েছেন। তার কোনো ভাবেই বাংলাদেশে প্রবেশ করার কোনো কারণ নেই। বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে হারিছ চৌধুরীর বাংলাদেশী পাসপোর্ট বাতিল হয়ে যায় এবং সেটি আর নবায়ন করা হয়নি। অর্থাৎ ২০১৩ সাল থেকে তিনি আর বাংলাদেশে থাকেন না। অন্য কোনভাবে বাংলাদেশে আসার কোন সম্ভাবনা আছে কিনা এটি নাকচ করে দিয়ে আইনশৃঙ্খলার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, এটা অসম্ভব, হারিছ চৌধুরী মোস্ট ওয়ান্টেড ক্রিমিনাল। তিনি একাধিক মামলায় দণ্ডিত। কাজেই তিনি ঢাকায় আসবেন, বোনের বাসায় থাকবেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে দেখবেন না, বিএনপি নেতারা দেখবেন না এটি অবিশ্বাস্য, অবাস্তব এবং কোনভাবেই সম্ভব নয়। কাজেই হারিছ চৌধুরীর বাংলাদেশে মৃত্যুর খবরটিও একেবারেই আষাঢ়ে গল্পের মত।

৩. এখন অনুসন্ধান করতে গিয়ে হারিছ চৌধুরী তৃতীয় মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। হারিছ চৌধুরীর মেয়ে সামিরা তানজিন চৌধুরী ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য যে আবেদন করেছিলেন সেই আবেদনে তিনি তার পিতা হারিছ চৌধুরীকে মৃত দেখিয়েছেন। ২০১৯ সালে সামিরা তানজিন চৌধুরী ব্রিটিশ নাগরিকত্ব লাভ করেন এবং এই নাগরিকত্বের যে আবেদন পত্র দেখা গেছে সে আবেদন পত্রে তিনি হারিছ চৌধুরীকে মৃত দেখিয়েছেন। শুধু সামিরা তানজিন চৌধুরী নয় ছেলে নয়, ছেলে নায়েম শাফি জনি, এবং স্ত্রী হোসনে আরা চৌধুরীও হারিছ চৌধুরীকে তাদের কাগজপত্র মৃত দেখিয়েছেন। ধারণা করা হয়, হারিছ চৌধুরী যেহেতু মোস্ট ওয়ান্টেড ক্রিমিনাল, ইন্টারপোলে তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ছিলো, সে কারণেই তার পরিবারের সদস্যরা তাঁকে মৃত দেখিয়েছেন এবং হারিছ চৌধুরী তাদের সঙ্গেই যে লন্ডনে বসবাস করছেন, এটি মোটামুটি নিশ্চিত।

তাহলে হারিছ চৌধুরী তিনটি মৃত্যুর মধ্যে কোনটি সত্যি? তিনি কি আদৌ মারা গেছেন? একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, হারিছ চৌধুরী মৃত্যুবরণ করেননি। বরং একটি ভারতীয় পাসপোর্ট নিয়ে তিনি যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। নানা কৌশলগত কারণে হারিছ চৌধুরীকে এখন মৃত দেখানো হচ্ছে। এই মৃত দেখানোর মধ্যেই হারিছ চৌধুরীর যে সমস্ত সম্পদ ছিলো বিভিন্ন দেশে সে সম্পদগুলো তার পরিবারের সদস্যরা ভাগ-বাটোয়ারা করেছে। বিভিন্ন সূত্র বলছে যে, দেশে অধিকাংশ সম্পত্তি ক্রোক হয়েছে। তার যে বেনামী সম্পত্তিগুলো ছিলো সেগুলো তার ছেলে, মেয়ে এবং স্ত্রীর নামে আগেই হস্তান্তর করেছিলেন। দুবাই, যুক্তরাজ্য, কানাডায় হারিছ চৌধুরীর বিপুল সম্পদ রয়েছে। এই সম্পদগুলোর মালিকানা তার স্ত্রী, পুত্র এবং কন্যার নামে হস্তান্তর করার জন্যই হয়তো হারিছ চৌধুরী এই নাটকটি সাজিয়েছেন বলে অনেকে মনে করেন। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, গত বছরের আগস্টে যদি হারিছ চৌধুরী মারা যান তাহলে ডিসেম্বরে তারেক জিয়ার বাড়ি থেকে কে বের হলো? ডিসেম্বরে অন্তত ৩ দিন হারিছ চৌধুরী কালো রংয়ের একটি একটি বিএমডব্লিউ গাড়িতে করে তারেক জিয়ার বাড়িতে গিয়েছিলেন, এমন তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ সংক্রান্ত সিসিটিভিও এখন যুক্তরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে রয়েছে বলে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেছে।

বিএনপি   হারিছ চৌধুরী  


মন্তব্য করুন


ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

পরিচয় গোপন করতেই হারিছ চৌধুরীর মৃত্যু নাটক

প্রকাশ: ০৫:০০ পিএম, ১৩ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

হারিছ চৌধুরী মারা যাননি। তার মৃত্যু সংক্রান্ত কোনো তথ্য নেই লন্ডন বা ঢাকায়। ধারণা করা হচ্ছে, পরিচয় গোপন করার জন্যই হারিছ চৌধুরী মৃত্যুর নাটকটি সাজিয়েছেন। এ ব্যাপারে বাংলা ইনসাইডার এর অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। উল্লেখ্য যে, চার মাস আগে হারিছ চৌধুরী মারা গেছেন বলে তার চাচাতো ভাই একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস দেন। এই ফেসবুকে স্ট্যাটাসে বলা হয় যে, হারিছ চৌধুরী করোনায় আক্রান্ত হয়ে লন্ডনের একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন। তার চাচাত ভাই সিলেট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আশিক চৌধুরী এই তথ্য দেন এবং তিনি দাবি করেন, গত আগস্ট মাসে হারিছ চৌধুরী মারা গেছেন। লন্ডনের করোনা আক্রান্ত বা বিভিন্ন মৃত্যু সংক্রান্ত তথ্য গুলো পাওয়া যায় ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসে (এনএইচএস)। ন্যাশনাল হেলস সার্ভিসের (এনএইচএস) তথ্য খতিয়ে দেখা যায় যে, সেখানে গত আগস্ট, সেপ্টেম্বর এমনকি অক্টোবরে হারিছ চৌধুরী নামে কেউ মারা যায়নি। তাহলে হারিছ চৌধুরী মারা গেলেন কিভাবে? আবার একটি মহল জানাচ্ছে, হারিছ চৌধুরী দেশে এসেছিলেন এবং দেশে আসার পর তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। কিন্তু বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন সূত্র নিশ্চিত করেছে, হারিছ চৌধুরী মোস্ট ওয়ান্টেড ক্রিমিনাল। কাজেই তার বাংলাদেশে আসার প্রশ্নই আসে না।

উল্লেখ্য যে, ওয়ান-ইলেভেনের সময় হারিছ চৌধুরী পালিয়ে ভারতে গিয়েছিলেন। সেখানে তার নানা বাড়ি রয়েছে। সেখান থেকে হারিছ চৌধুরী লন্ডনে যান। কিন্তু বাংলা ইনসাইডার এর অনুসন্ধানে পাওয়া যাচ্ছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরে হারিছ চৌধুরী তার নাম পরিবর্তন করেন এবং ভারত থেকে তিনি অন্য নামে একটি পাসপোর্ট গ্রহণ করেন। তবে তার পাসপোর্টের নামটি কি সেটি এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে হারিছ চৌধুরীর পরিবারের ঘনিষ্ঠ একজন নিশ্চিত করেছে যে, হারিছ চৌধুরী তার নাম বদল করেছেন এবং ভারতীয় পাসপোর্ট নিয়ে তিনি লন্ডনে প্রবেশ করেন। ওই ভারতীয় পাসপোর্ট থাকার কারণে তিনি লন্ডন, কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করেছেন। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, এই পাসপোর্ট গ্রহণের পর হারিছ চৌধুরী অবাধে বেশ কয়েক বছর বিভিন্ন দেশে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশ যখন দণ্ডিত অপরাধীদের তালিকা ইন্টারপোলকে প্রদান করে এবং যখন তারেক জিয়াকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করে তখন জানা যায় যে, হারিছ চৌধুরী লন্ডনে অবস্থান করছেন।

গত বছরের শুরু থেকেই হারিছ চৌধুরীকে লন্ডনে তারেক জিয়ার সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখা যেতে থাকে এবং তখন হারিছ চৌধুরীর ব্যাপারে ইন্টারপোল সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থা সজাগ হয়ে যায়। উল্লেখ্য, হারিছ চৌধুরী একাধিক মামলায় দণ্ডিত হয়ে পলাতক জীবনযাপন করছিলেন। যখন হারিছ চৌধুরীর অবস্থান সম্পর্কে ইন্টারপোল এবং বাংলাদেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নিশ্চিত হয় তখন হারিছ চৌধুরীর নাম ইন্টারপোলের রেড তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আবেদন করে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ আবেদনের পরপর হারিছ চৌধুরী আবার আত্মগোপনে যান। গত বছর জুলাই মাসে হারিছ চৌধুরী করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন, এ খবর সঠিক। করোনায় আক্রান্ত হয়ে ওই সময়ে যারা বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তাদের মধ্যে একজনের নাম শুভাশিস চৌধুরী, যার চেহারার সঙ্গে হারিছ চৌধুরীর চেহারা হুবহু মিল রয়েছে। তিনি রয়েল হসপিটাল লন্ডনে করোনার চিকিৎসা নিয়েছিলেন এবং ওই হাসপাতালের তথ্য বিবরণী পর্যালোচনা করে যে সমস্ত তথ্য পাওয়া গেছে তাতে ওই শুভাশিস চৌধুরীর সঙ্গে হারিছ চৌধুরীর অনেকগুলো মিল রয়েছে। প্রথমত, শুভাশিস চৌধুরী বাঙালি। দ্বিতীয়ত, শুভাশিস চৌধুরীকে ক্যান্সারে আক্রান্ত দেখানো হয়েছে। হারিছ চৌধুরী ও ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। তৃতীয়ত, শুভাশিস চৌধুরী ভারত থেকে যুক্তরাজ্যে এসেছেন এবং রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়।

লন্ডন রয়েল হাসপাতালের এই তথ্য বিশ্লেষণ করে মনে করা হয় যে, এই ব্যক্তিটি হারিছ চৌধুরী। তিনি হয়তো ভারতীয় পরিচয় দিয়ে লন্ডনে এসেছিলেন কিন্তু তারপর তাকে যখন স্থানীয় বাঙালিরা চিনে ফেলে এবং তার ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া হয় তখন তিনি আবার আত্মগোপনে যান। এরপরও যখন তিনি রক্ষা পাচ্ছিলেন না, এজন্যই তার এই মৃত্যুর নাটক সাজানো হয়েছে। এখন হারিছ চৌধুরীকে মৃত দেখিয়ে শুভাশিস চৌধুরী যদি হারিছ চৌধুরী হয়ে যান তাহলে অন্তত হারিছ চৌধুরী তার সমস্ত মামলাগুলো থেকে রেহাই পাবেন এবং তাকে যে ইন্টারপোল খুঁজচ্ছেন সেখান থেকেও তিনি মুক্তি পাবেন। এ যেন হিন্দি ছবির একটি গল্পের মতোই। হারিছ চৌধুরীর মতো যে শুভাশিস চৌধুরী, যিনি যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন তিনি যদি শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক আশ্রয় পান বা ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পান তাহলে তিনি যে পাসপোর্টটি পাবেন সেটি শুভাশিস চৌধুরী নামেই হবে। তাহলে কাগজে-কলমে হারিছ চৌধুরীর যদি মৃত হয় এবং শুভাশিস চৌধুরী যদি ব্রিটিশ পাসপোর্ট পান তাহলে হারিছ চৌধুরীকে আর কে পায়। পরিচয় গোপন করার জন্যই হারিছ চৌধুরীর এই মৃত্যুর নাটকটি সাজানো হয়েছে বলে বিভিন্ন মহল মনে করছে। লন্ডনের প্রবাসীরা বলছেন যে, হারিছ চৌধুরীর মত একজন বিএনপির নেতা লন্ডনে মারা যাবেন তার খবর কেউ রাখবে না এটি হতে পারে না, এটি অবিশ্বাস্য। এমনকি হারিছ চৌধুরীর মেয়ে ব্যারিস্টার মুনা বা তার ছেলের মধ্যে কোন পরিবর্তন নাই। তারা সকলেই লন্ডনে বসবাস করে। এরকম পরিস্থিতিতে হারিছ চৌধুরী যে মারা গেছেন এটি স্রেফ যে নাটক তা বুঝতে কারো অসুবিধা হবার কথা নয়।

বিএনপি   লন্ডন   হারিছ চৌধুরী  


মন্তব্য করুন


ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

৬ জানুয়ারি ২০১৪: কি হয়েছিল বেগম জিয়ার?

প্রকাশ: ০৬:০০ পিএম, ০৬ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন বর্জন করেছিল বিএনপি। নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বেগম খালেদা জিয়া ঐ নির্বাচন বর্জন করেছিল। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। সরকার গঠনের পরপরই বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপর রায় দেয়। ঐ রায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে অবৈধ ঘোষণা করে পরে। পরে বিচারপতি খায়রুল হক পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন। এর ফলে সরকারের তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করতে হয় এবং ৭২ এর সংবিধানে ফিরে যেতে হয়। ৭২ এর সংবিধানে ফিরে গিয়ে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থায় দেশ যখন ফিরে যায় তখন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি এবং ২০ দলীয় জোট এই ব্যবস্থাকে অস্বীকার করে। তারা নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি করে আর এই দাবিতে তারা আন্দোলন শুরু করে। আন্দোলনের এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা করেন যে,  সকল দলের অংশগ্রহণে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হবে এবং বিএনপিকে প্রধানমন্ত্রী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় দেয়ার প্রস্তাব করেন। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া সেই প্রস্তাবও নাকচ করে দেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তৎকালীন বিরোধী দলের নেতা বেগম খালেদা জিয়াকে টেলিফোন করেন এবং তাকে গণভবনে চায়ের নিমন্ত্রণ করেন। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া সে নিমন্ত্রনও প্রত্যাখ্যান করেন।

এরকম প্রেক্ষিতে ২০ দলীয় জোট নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্তে অটল থাকে। একইসাথে বামমোর্চাও ঐ নির্বাচন বর্জন করে। সকল রাজনৈতিক দলগুলো যখন নির্বাচন বর্জন করার পরও ৫ই জানুয়ারি নির্বাচন শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। যদিও ঐ নির্বাচনে ১৫৩ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়। ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের আগে বেগম খালেদা জিয়া সারাদেশে লাগাতার অবরোধের ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং ভোট প্রতিরোধের ডাক দিয়েছিলেন। কিন্তু এই ভোট প্রতিরোধের ডাকের পরও বিভিন্ন স্থানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। অনেকেই মনে করেছিল যে, এই নির্বাচনের পর জ্বালাওপোড়া, ভাঙচুর অব্যাহত থাকবে। কিন্তু নাটকীয় ভাবে ৬ জানুয়ারি বেগম খালেদা জিয়া তার সমস্ত আন্দোলনের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন এবং বিএনপি প্রচ্ছন্নভাবে ওই নির্বাচনকে মেনে নেন। 

কেনো সেদিন বেগম খালেদা জিয়া আন্দোলন প্রত্যাহার করেছিলেন, কি হয়েছিল তার, কি কারণেই বিএনপি নির্বাচনের পর আন্দোলন থেকে সরে আসলো। বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া খবরে জানা যায় যে, বেগম খালেদা জিয়াকে আন্তর্জাতিক মহল এবং দেশের বিভিন্ন মহল থেকে বলা হয়েছিল যে, এই নির্বাচন নিয়ে যদি তিনি লাগাতার আন্দোলন করেন তাহলে এটি বিএনপি'র জন্য নেতিবাচক হবে এবং তারা বেগম জিয়াকে আন্দোলন থেকে সরে এসে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পরামর্শ দিয়েছিলেন। বিএনপির একজন নেতা বলেছেন ওই সময় মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং ভারতের রাষ্ট্রদূত বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন এবং তাকে জ্বালাও-পোড়াও, ধ্বংসাত্মক রাজনীতি যদি করা হয় সেক্ষেত্রে বিএনপি'র প্রতি সব ধরনের সহানুভূতি প্রত্যাহার করা হবে বলে প্রচ্ছন্ন হুমকি দেয়া হয়েছিল। এই হুমকির পরেই বেগম খালেদা জিয়া আন্দোলনের কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছিলেন বলে অনেকে মনে করেন। তবে বিএনপির নেতারা এ সম্পর্কে ভিন্ন ধরনের বক্তব্য উপস্থাপন করেন। সম্প্রতি বিএনপির নেতারা বলছেন যে,  ওই সময় বেগম খালেদা জিয়াকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে, এই নির্বাচনের পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি নতুন নির্বাচন দেয়া হবে এবং নতুন নির্বাচনের আগে যেনো কো্নো রকম আন্দোলনের কর্মসূচি না নেয়া হয়। তবে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সূত্র এই ধরনের বক্তব্যকে অস্বীকার করছেন। তারা বলেছেন যে, এ ধরনের কোনো কিছুই হয়নি। কারণ রাজনৈতিক সংলাপ সেটি নির্বাচনের আগেই অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং বিদেশি রাষ্ট্রদূতরাও শেষ পর্যন্ত এ নির্বাচনকে মেনে নিয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পাওয়া খবরে জানা গেছে যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহল যখন ২০১৪ নির্বাচনকে স্বীকৃতি দেয় তখন বেগম খালেদা জিয়া আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিজের অবস্থান অব্যাহত রাখার জন্যই ওই নির্বাচনের পরদিন আন্দোলনের কর্মসূচি থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। 

খালেদা জিয়া   আওয়ামী লীগ   বিএনপি   ২০১৪ সালের নির্বাচন  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন