ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

বঙ্গবন্ধু হত্যা: পাকিস্তানের সঙ্গে কনফেডারেশন তত্ত্ব

প্রকাশ: ০৯:৫৮ পিএম, ১৩ অগাস্ট, ২০২০


Thumbnail

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পেছনে পাকিস্তানের সঙ্গে কনফেডারেশন করার এক ষড়যন্ত্র যুক্ত ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গবেষণা এবং তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এমন ইঙ্গিত পাওয়া যায়। খুনী মোশতাক যখন ফারুকদের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছিলেন, সেই বৈঠকের ফলাফল তিনি পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-কে অবহিত করতেন। বাংলাদেশে পাকিস্তানের আইএসআই-এর অন্তত দুজন এজেন্টের সঙ্গে খুনী মোশতাকের নিয়মিত যোগাযোগ হতো। একাধিক গবেষণায় এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, জাতির পিতার হত্যাকাণ্ড পরিকল্পনায় পাকিস্তানের একটি বড় ভূমিকা ছিল এবং এই হত্যাকাণ্ডের মূল ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করেছিল আইএসআই।

সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সাবেক প্রধানের এক গ্রন্থেও বলা হয়েছে যে, এই উপমহাদেশে আইএসআই-এর সবথেকে বড় সাফল্য হলো ভারতকে অন্ধকারে রেখে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড সংগঠিত করা। খুনী মোশতাক যে পাকিস্তান প্রেমী, বাংলাদেশের স্বাধীনতা চান না এবং কনফেডারেশনে বিশ্বাসী এটা মুক্তিযুদ্ধের সময়ই প্রমাণিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের একাধিক দলিলপত্রে দেখা যায় যে, খন্দকার মোশতাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাবস্থায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন এবং পাকিস্তানের সঙ্গে কনফেডারেশনের মাধ্যমে একটি আপোসনামা প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছিলেন। এক্ষেত্রে তিনি বঙ্গবন্ধুকে মুক্ত করার অজুহাত দাঁড় করিয়েছিলেন। যদিও তাজউদ্দীন আহমেদের দৃঢ়তা, আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতাদের স্পষ্ট অবস্থান এবং ভারতের ভূমিকার কারণে খন্দকার মোশতাকের স্বপ্ন পূরণ হয়নি এবং মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ইন্দিরা গান্ধী খন্দকার মোশতাকের ভূমিকা সম্পর্কে অবহিত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে তাজউদ্দীন আহমেদ মুক্তিযুদ্ধের সময়েই তাঁকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তাঁকে সরিয়ে দিয়েছিলেন। খন্দকার মোশতাক এই নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন এবং এই কারণেই তিনি বঙ্গবন্ধু ফিরে এলে আওয়ামী লীগে তাজউদ্দীনের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন। মোশতাক শেষ পর্যন্ত তাজউদ্দীন আহমেদকে দলে কোণঠাসাও করে ফেলেছিলেন। একাধিক গবেষকরা অনুসন্ধানে দেখেছেন যে, খন্দকার মোশতাকের যে কনফেডারেশন তত্ত্ব, যা তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময়ে উত্থাপন করেছিলেন সেই তত্ত্ব মাথায় রেখেই বঙ্গবন্ধু হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এই কারণেই খুনী মোশতাক যখন রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন, তখন জয় বাংলা না বলে বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বলেছেন। খুনী মোশতাক পাকিস্তান আমলের সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, খুনী মোশতাক যদি নিজের অবস্থান সংহত করতে পারতেন এবং তাঁর মসনদকে পাকাপোক্ত করতে পারতেন তাহলে তিনি পাকিস্তানের সঙ্গে কনফেডারেশনের বিষয়টি প্রকাশ্য আনতেন। কিন্তু এর আগেই সেনাবাহিনীতে অসন্তোষ এবং খালেদ মোশাররফদের অভ্যুত্থান চেষ্টা, ৭ নভেম্বরের ষড়যন্ত্র ইত্যাদি কারণে মোশতাক ক্ষমতাচ্যুত হন এবং ষড়যন্ত্রের সময়ে জিয়াউর রহমানও পাকিস্তানের সঙ্গে কনফেডারেশন তত্ত্বে নীতিগত সম্মত ছিলেন বলে কিছু কিছু গবেষণায় দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত অতি চতুর এই সামরিক একনায়ক সেখান থেকে সরে আসেন। বরং নিরবে বাংলাদেশে পাকিস্তানের এজেন্ডা বাস্তবায়নের কর্মপন্থা গ্রহণ করেন। সেই কর্মপন্থার অংশ হিসেবেই স্বাধীনতাবিরোধী জামাত-শিবিরের রাজনৈতিক পথ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়, গোলাম আজমকে দেশে ফেরার অনুমতি দেওয়া হয় এবং স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের জেল থেকে বের করে দেওয়া হয় ও তাঁদের বিচার বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু জিয়াউর রহমান পাকিস্তানের সঙ্গে কনফেডারেশনের কথা প্রকাশ্যে বলেননি। তবে খন্দকার মোশতাকের একাধিক সাক্ষাৎকারে এটা স্পষ্ট হয় যে, তিনি পাকিস্তানের সঙ্গে কনফেডারেশনের পক্ষেই ছিলেন। 



মন্তব্য করুন


ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

ব্যবসায়ীদের ইউটার্ন, তারেক বিপাকে

প্রকাশ: ১০:০০ পিএম, ২৭ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail তারেক রহমান। ফাইল ছ

গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকেই ব্যবসায়ীরা তারেকের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছিলেন। বিশেষ করে যখন বিদ্যুতের লোডশেডিং এবং অর্থনৈতিক সংকট শুরু হয় তখন অনেক বড় বড় ব্যবসায়ী, যারা বিভিন্নভাবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ এবং আওয়ামী লীগের আমলে ফুলে-ফেঁপে ওঠে ছিলেন তারা গোপনে তারেক জিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরকম অন্তত পাঁচজন ব্যবসায়ী গ্রুপকে বিভিন্ন সংস্থা চিহ্নিত করেছে। যার আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কিন্তু গোপনে তারেক জিয়াকে অর্থায়ন করে। এ সমস্ত ব্যবসায়ীরা মনে করেছিল, সরকার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে না, বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার মতো হয়ে যাবে। কাজেই এখন বিএনপির সাথে একটি গোপন সম্পর্ক রাখা ভালো। যাতে তাদের ভবিষ্যতে কোনো বিপদে পড়তে না হয়। আর এই অর্থ বিএনপির আন্দোলনে প্রলুব্ধ করা ছিল। বিভিন্ন বিভাগীয় শহরগুলোতে বিএনপির ব্যাপক সমাবেশ এবং ব্যাপক অর্থ ব্যয় থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, বিএনপির কাছে প্রচুর অর্থ আসছে। 

আওয়ামী লীগ আমলে টেলিভিশন, সংবাদপত্র পাওয়া একজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ী তারেক জিয়ার কাছে অর্থ পাঠিয়েছেন এমন বিষয়টি নিয়ে গুঞ্জন ছিল। সাবেক হাওয়া ভবনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী আবার আওয়ামী লীগ আমলেও আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ রেখে ব্যবসার প্রসার বৃদ্ধি করা। একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি একটি ইংরেজী পত্রিকায় সরকারের বিভিন্ন অর্থনৈতিক নীতির ব্যাপক সমালোচনা করছে। সেরকম একটি ব্যবসায়িক গ্রুপও তারকের সঙ্গে নতুন করে তাদের সম্পর্ক ঝালিয়ে নিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। 


বাংলাদেশের আর্থিক খাতে একটি প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গ্রুপের সঙ্গেও তারেকের যোগাযোগ হয়েছিল এবং তারা তারেককে আর্থিক সহায়তা দিয়েছিল এমন অভিযোগও কোনো কোনো মহল থেকে উঠে এসেছিল। এই সমস্ত ব্যবসায়ী গ্রুপদের আর্থিক সহায়তার কারণে বিএনপির আন্দোলনে গতি পেয়েছিল এবং তারা সরকার পতনের দিবা স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু সময় যত এগোতে থাকে ততই এই ব্যবসায়ীরা বুঝতে শুরু করে যে, সরকারের পতন এতো সহজ নয়। সরকার আইএমএফের থেকে ঋণ সহায়তা পাচ্ছে, অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে সামাল দিতে সক্ষম হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মহল থেকে বলা হচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি ভালো অবস্থায় রয়েছে। পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন মহল যখন জানতে পারে যে, এরকম ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো তারেকের সঙ্গে যোগাযোগ করছে, তখন সরকারও নজরদারি বাড়ায়। এর ফলে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। কথিত ব্যবসায়িক গ্রুপগুলো ইউটার্ন নেয়। তারা বিএনপিকে এবং তারেক জিয়াকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া থেকে বিরত থাকতে শুরু করে। সব ধরনের সহায়তা বন্ধ করে দেয়, বন্ধ করে দেয় যোগাযোগ। ফলে বিএনপির আন্দোলনে যে জোয়ার এসেছিল সেই জোয়ারে ভাটার টান আসে। আর অন্যদিকে লন্ডনে পলাতক তারেক জিয়া এখন এ ধরনের কয়েকজন ব্যবসায়ী সঙ্গে যোগাযোগ করেও পাত্তা পাচ্ছেন না।

ব্যবসায়ীরা একটা বিষয় বুঝে গেছে, আওয়ামী লীগের দোষ ক্রটি আছে, তবে শেখ হাসিনার বিকল্প এখন নেই। ফলে তারা আবার তারেক বিমুখ হয়ে পড়েছেন। ফলে বিএনপির আন্দোলনে শক্তি হচ্ছেনা। কর্মসূচি দেওয়ার অর্থ জোগাড় করার জন্য বিএনপি নেতারা লন্ডনের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। কিন্তু লন্ডন তাদেরকে আর্থিক সহায়তা দিতে পারছে না। ফলে বিএনপির আন্দোলন যেমন গতি হারাচ্ছে তেমনি বিপাকে পড়েছেন তারেক জিয়াও। 

ব্যবসায়ী   তারেক জিয়া   বিএনপি   সরকার   আইএমএফ   আওয়ামী লীগ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

মসিউর রহমানই হচ্ছেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি

প্রকাশ: ০৭:০০ পিএম, ২৬ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

কোন অঘটন না ঘটলে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমানই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন। সরকারের নীতিনির্ধারক মহল এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বাংলা ইনসাইডারকে নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য যে, বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের মেয়াদ আগামী এপ্রিলে শেষ হতে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে ফেব্রুয়ারির ১৯ তারিখ ভোটের দিন রেখে বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগ্রহী প্রার্থীরা ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন। ১৩ ফেব্রুয়ারি যাচাই বাছাইয়ের পর ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে।

মনোনয়ন জমা দেয়ার পর পরই নতুন রাষ্ট্রপতি চূড়ান্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোন রাজনৈতিক দল এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দিচ্ছে না। যেহেতু ৩৪৩ জন সংসদ সদস্যের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে এবং সংসদে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, কাজেই আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ ড. মসিউর রহমানকে চূড়ান্ত করেছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

মসিউর রহমান একজন বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা। মসিউর রহমান একজন সিএসপি কর্মকর্তা ছিলেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর তিনি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ছিলেন।

সরকারি চাকরি থেকে অবসরের পর মসিউর রহমান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ের পর শেখ হাসিনা সরকার গঠন করেন এবং মসিউর রহমানকে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় তাঁর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেন। ২০১৬ সালের অক্টোবরে আওয়ামী লীগের দলীয় পরিষদের নির্বাচনে তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৯ সালে তিনি পুনরায় একই পদে নিয়োগ পান।



মন্তব্য করুন


ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

ভোটে যেতে তারেক চায় হাজার কোটি টাকা

প্রকাশ: ০৮:০১ পিএম, ১৩ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

তারেক জিয়া। লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তিনি এখন বিএনপির সর্বেসর্বা হর্তাকর্তা। তার নির্দেশেই বিএনপির সবকিছু করছে। তিনি যা সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন, সেটি পালন করাই যেন বিএনপি নেতাদের একমাত্র কাজ। তাকে নিয়েই বিএনপিতে সন্দেহ এবং রহস্য। বাংলা ইনসাইডারের হাতে এসেছে তার নির্বাচন ভাবনা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অন্তত তিনজন বিদেশি কূটনীতিকদের সাথে তারেক জিয়ার বৈঠক হয়েছে বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। ওই বৈঠকে তারেক জিয়া বিএনপিকে আগামী নির্বাচনে নিয়ে যাওয়ার  ইঙ্গিত দিয়েছেন। এজন্য তিনি দাবি করেছেন এক হাজার কোটি টাকা। এই টাকা পেলেই বিএনপির সুর পাল্টে যাবে এবং বিএনপি নির্বাচনে যাবে এমন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন মহলে। 

একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়ে বসবাসরত তারেক জিয়া মূলত চাঁদাবাজি, পদ বাণিজ্য এবং কমিটি বাণিজ্য করেই বিপুল পরিমাণ অর্থের মালিক। সেখানে তিনি রাজকীয় জীবনযাপন করছেন। আগামী নির্বাচন তার টাকা উপার্জনের একটি বড় অস্ত্র হিসেবে মনে করা হচ্ছে। 

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন মনোনয়ন বাণিজ্য করে তারেক জিয়া অন্তত সাড়ে তিনশ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন। এবং এই টাকাই তার রাজকীয় জীবনযাপনের প্রধান উৎস। বিএনপি নেতা আব্দুল আউয়াল মিন্টু, তাবিদ আউয়াল, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মাধ্যমে এই টাকার লেনদেন হয়েছিল, যে টাকাগুলো সিঙ্গাপুর, দুবাই, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব হয়ে লন্ডনে গিয়েছে। এই টাকাগুলো যে সূত্র ধরে গেছে, তার প্রমাণ পাওয়া যায় তার একটি কনসাল্টিং পিআর ফার্মের হিসাব খতিয়ে দেখলেই। 

হিসেবে দেখা যায় যে,লন্ডনে তারেক জিয়া এবং তার স্ত্রীর এই কোম্পানির স্ফীতি ঘটেছে দুইশত গুন। তাদের অ্যাকাউন্টে এখন এই সম্পত্তির পরিমাণ বাংলাদেশি টাকায় প্রায় পাচশ কোটি টাকা। অথচ, তারা কি ব্যবসা করছে, সে সম্পর্কে তেমন কোনো তথ্য জমা দিতে পারেনি। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় ব্রিটিশ সরকার তদন্ত করলেও রহস্যজনক কারণে সেই সমস্ত তদন্ত মাঝপথে থেমে গেছে। এখন বিএনপির ভূমিকা কি, আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে কি করবে না, ইত্যাদি বিষয়ে জানার জন্য অন্তত তিনটি দেশের কূটনীতিকরা লন্ডনে তারেক জিয়ার সাথে বৈঠক করেছেন। এই বৈঠকে তারেক জিয়া নির্বাচনে না যাওয়ার কথা সরসরি কোথাও বলেননি বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। 

সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন দূতাবাসের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদের সাথে একান্ত বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে তিনি প্রথম জানেন, তারেক জিয়া নির্বাচন করতে আগ্রহী। আমীর খসরু মাহমুদ এই ঘটনায় অন্তত বিস্মিত হন। তিনি জানতে চান, তার এই তথ্যের সত্যতা কি? তখন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, লন্ডনে মার্কিন একজন কূটনীতিকের সাথে তারেক জিয়ার দু’দফা বৈঠক হয়েছে এবং সে বৈঠকে তারেক জিয়া বলেছেন যে, সরকার যদি তার সাথে একটি সমঝোতা করে, তাহলে তিনি নির্বাচনে যেতে পারেন। 

বিএনপির একজন নেতা বলছেন, তারেকে জিয়া ভালোমতোই জানেন, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আদায় করা সম্ভব না। তিনি এটিও জানেন, আগামী নির্বাচনে তাদের যে সাংগঠনিক অবস্থা, তাতে বিজয়ী হওয়া সম্ভব নয়। এই বাস্তবতায় বিএনপির পক্ষ থেকে বিএনপিকে আন্দোলনে ঠেলে দিয়ে একটা শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করা এবং সেই অবস্থান থেকে সরকারের সাথে পর্দার আড়ালে দর কষাকষি, টাকা-পয়সার লেনদেন চূড়ান্ত করাটাই তারেক জিয়ার রাজনৈতিক কৌশল বলে কেউ কেউ মনে করছেন। আর এই রকম একটি তথ্য তিনি আরেকটি প্রতিবেশি দেশের কূটনীতিকদেরকেও দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেছেন যে, বিএনপি যদি নির্বাচনে যায়, তাহলে কত টাকা আমাদেরকে দেওয়া হবে। এ ব্যাপারে তিনি একটি সুনির্দিষ্ট তথ্য চেয়েছেন। এর পর ওই কূটনীতিক তার সাথে আর কথা বাড়াননি। কারণ, যে বিপুল আর্থিক লেনদেনের কথা বলা হচ্ছে, সেটি তার কাছে অবাস্তব মনে হয়েছে। 

একাধিক সূত্র বলছে, সরকারের কাছেও তারেকের পক্ষ থেকে প্রস্তাব এসেছে, যদি তাকে এক হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়, তাহলে তিনি বিএনপিকে নির্বাচনমূখী করবেন। কিন্তু সরকারে অবস্থান এখন পর্যন্ত সুষ্পষ্ট। সরকার বলছে, সংবিধান অনুযায়ী আগামী নির্বাচন হবে এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের নিজস্ব সিদ্ধান্তের ব্যাপার। সে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোনো রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করবে কি করবে না, সেটা তাদের বিষয়। তবে শেষ পর্যন্ত তারেকের প্রস্তাব সরকার বা অন্য কেউ গ্রহণ করবে কি না সেটাই এখন দেখার বিষয়।


মন্তব্য করুন


ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

ওয়াশিংটনে পিটার ডি হাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল

প্রকাশ: ০৮:০০ পিএম, ২২ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাসের বিরুদ্ধে পক্ষপাত, কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন এবং দলীয়  রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। ১৪ জন বাংলাদেশের নাগরিক যৌথভাবে ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্র দপ্তরে অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগে পিটার ডি হাসের সাম্প্রতিক কার্যক্রম দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে এবং দুই দেশের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির তৈরি করছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই অভিযোগ গ্রহণ করেছে এবং এই বিষয়টি তদন্ত করে দেখবে বলে আবেদনকারীদেরকে আশ্বস্ত করা হয়েছে। গত সোমবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন বিশিষ্ট নাগরিক ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্র দপ্তরে এই অভিযোগটি দাখিল করেন। তারা অভিযোগে কয়েকটি সুস্পষ্ট বিষয় উল্লেখ করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে যে, পিটার ডি হাস বাংলাদেশের যাওয়ার পরপরই বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাচ্ছেন। যা আন্তর্জাতিক কূটনীতির রীতিনীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে যে, বিএনপির একাধিক নেতাদের সঙ্গে তিনি বিভিন্ন সময় বৈঠক করছেন এবং এই সমস্ত বৈঠকগুলো একপেশে অযাচিত এবং দুই দেশের সম্পর্কের জন্য হানিকর বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। 

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু এবং দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে চলছে। পিটার ডি হাসের কারণে এই সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। গত ১৪ ডিসেম্বর মার্কিন রাষ্ট্রদূত শাহীনবাগ যাওয়া নিয়ে এই অভিযোগে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে যে, পিটার ডি হাস যে শাহীনবাগে গেছেন সেটি সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র দপ্তর বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় কাউকে তিনি অবহিত করেনি। অথচ এরকম একটি স্পর্শকাতর জায়গায় তার যাওয়ার আগে সরকারকে অবহিত করা উচিত ছিল। এভাবে যার কারণে তার নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। একজন রাষ্ট্রদূত এভাবে যেতে পারেন কিনা সে ব্যাপারেও তারা প্রশ্ন তুলেছেন। ছাড়াও সাজেদুল ইসলাম সুমনের বাসায় যাওয়া প্রসঙ্গে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি একজন বিএনপি নেতা ছিলেন এবং তাঁর মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। 

ধারণা করা হয় যে, মাদক ব্যবসায়ী পক্ষের সহিংসতার কারণেই তিনি গুম হয়ে থাকতে পারেন। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে তদন্ত যাচাই-বাছাই না করে এক পাক্ষিক অবস্থান গ্রহণ করে পিটার ডি হাস কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন করেছেন বলেও মনে করেন প্রবাসী এই বাংলাদেশীরা। তারা অভিযোগে এটাও উল্লেখ করেছেন যে, কূটনীতির একটি মৌলিক বিষয় হলো নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক না গলানো। কিন্তু পিটার ডি হাস অনেক ক্ষেত্রে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের পক্ষ অবলম্বন করছেন। যে রাজনৈতিক দলটির সঙ্গে জঙ্গী এবং মৌলবাদীদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি কূটনীতির যে আচার-আচরণ সেটি লঙঘন করেছেন। বিবৃতিতে অনতিবিলম্বে তাকে বাংলাদেশ থেকে সরিয়ে নেয়ার আবেদন করা হয়েছে। বলা হয়েছে, না হলে এটি দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিঘ্ন সৃষ্টি করবে এবং বাংলাদেশ সম্পর্কে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ভুল বার্তা দেবে। এখন দেখার বিষয় যে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর পিটার ডি হাসের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো কিভাবে খতিয়ে দেখে। তবে একটি সূত্র বলছে যে, পিটার ডি হাস যেভাবে শাহীনবাগে গেছেন সেটা ওয়াশিংটন পছন্দ করেনি এবং এ রকম যাওয়ার আগে যে ধরনের সর্তকতা অবলম্বন করা উচিত ছিল এবং উপযুক্ত কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা উচিত ছিল সেটি তিনি করেননি। 

সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে নিয়ে পিটার ডি হাসের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। তখন  ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ইমরান সুস্পষ্টভাবে বলেন যে, তিনি যদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করে যেতেন তাহলে তার নিরাপত্তা উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতো। পিটার ডি হাসের বিষয়টি এখন ওয়াশিংটন কিভাবে দেখছে এবং কিভাবে এর সমাধান করবে সেটাই এখন দেখার বিষয়। 

ওয়াশিংটন   পিটার ডি হাস   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর  


মন্তব্য করুন


ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

২ মাস পর মানবাধিকার কমিশনের নতুন কমিটি গঠন

প্রকাশ: ০৫:২৩ পিএম, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের বর্তমান কমিটির মেয়াদ অতিক্রান্ত হওয়ার দুই মাস পর নতুন কমিটি গঠন করা হচ্ছে। আগামীকাল এই সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে একাধিক সূত্র বাংলা ইনসাইডারকে নিশ্চিত করেছে।

মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান এবং একজন স্থায়ী সদস্য মনোনয়ন চূড়ান্ত করার জন্য স্পিকার ড. শিরীন শারমিনের নেতৃত্বে একটি কমিটি করা হয়েছিলো। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য এবং সাবেক সচিব ড. কামাল উদ্দিন আহমেদকে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে সাবেক রেলপথ সচিব সেলিম রেজাকে মানবাধিকার কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ একাধিক মন্ত্রণালয়ে সচিবের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এর আগে সার্বক্ষণিক সদস্য হিসেবে তিনি দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিলেন। বাংলাদেশ-ভারত স্থলসীমান্ত চূড়ান্তকরণের ক্ষেত্রে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিলো এবং মানবাধিকার বিষয়ে তার দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা রয়েছে।

অন্যদিকে সার্বক্ষণিক সদস্য সেলিম রেজা একসময় প্রবাসী কল্যাণের সচিব ছিলেন এবং পরবর্তীতে তিনি রেলপথ সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ শেষ হওয়ার পর তিনি অবসরে ছিলেন।

মানবাধিকার কমিশন  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন