লিভিং ইনসাইড

ব্যক্তিত্ব উন্নয়নে করণীয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮:০২ এএম, ১৯ অক্টোবর, ২০২১


Thumbnail

আমরা সব সময় নিজেকে অন্যের চেয়ে বুদ্ধিমান, যোগ্য ও শ্রেষ্ঠ হিসেবে তুলে ধরার জন্য সচেষ্ট থাকি। কারণ বর্তমান যুগ হচ্ছে প্রতিযোগিতার যুগ। নিজেকে শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করতে না পারলে আপনি অন্যদের থেকে পিছিয়ে পড়বেন। এই প্রচেষ্টায় আপনি কখনও কখনও সফল হচ্ছেন।

কিন্তু যখন নিজেকে নিয়ে একান্তে ভাবছেন তখন আপনি নিজেও স্বীকার করবেন যে আপনার ব্যক্তিত্ব উন্নয়নের যথেষ্ঠ সুযোগ রয়েছে। আপনার এমন অনেক গুণ আছে যা আপনি কাজে লাগাননি, অনেক কৌশল রয়েছে যা আপনি আয়ত্ব করতে পারেননি। মেধার অনেক ক্ষেত্রকে বিকশিত করতে পারেননি। তাই প্রতিনিয়ত নিজের উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে। আর এই পরিবর্তনের লক্ষ্য থাকে আরও ভাল মানুষ হওয়া। অমরা চাই আমাদের ব্যক্তিত্ব আরও আকর্ষণীয় হোক, প্রভাব বলয় আরও বাড়ুক। কিছু ভুল ভ্রান্তি কাটিয়ে উঠতে পারলেই আমাদের ব্যক্তিত্ব আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।

লক্ষ্য স্থির করুন

আমরা প্রতিনিয়ত কিছু কাজ করতে চাই। আমরা মনে করি যে এই কাজগুলো করতে হবে। কিন্তু দেখা যায় যে সে কাজগুলো করা হয় না, জমতে থাকে বা আমাদের মধ্যে এমন আলস্য রয়েছে যা কাজকে পিছিয়ে দেয়। হয়তো আমরা ব্যস্ত, অথবা ক্লান্ত বা সময়মত কাজটি করতে মন চাচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে আমাদের আসল সমস্যা হচেছ সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যের অভাব। তাই কাজ করার আগে আমাদের লক্ষ্য স্থির করতে হবে। লক্ষ্য সবসময় মানসিক প্রেরণা যোগায়, আপনার শক্তিকে বাড়িয়ে দেয়। গবেষণায় দেখা যায়, লক্ষ্য যদি খুব ভাসা ভাসা হয় তাহলে তা আদৌ কার্যকরী হয় না। বাস্তবতার সাথে লক্ষ্যের সঙ্গতি না থাকলে তা ফলপ্রসু হয় না। আর লক্ষ্য অর্জনের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা আবশ্যক।

নিজেকে ভালোবাসুন

আপনি নিজেকে যখন পছন্দ করতে শুরু করবেন তখনি আপনি আত্মবিশ্বাসী ও সৃজনশীল হয়ে উঠবেন। দৈনন্দিন কাজের বাধাগুলো আপনার কাছে সহনীয় মনে হবে। তাই নিজের সম্পর্কে ধারণাকে উন্নত করতে সচেষ্ট হোন। আপনার কাজের প্রশংসাসূচক চিঠি, নোট, যে কোন প্রসংশাপত্র, মানপত্র, সার্টিফিকেট এগুলোকে সযত্নে একটি ফাইলে রেখে দিন। কোন কারণে কখনও হতাশা সৃস্টি হলে বা মন খারাপ লাগলে এই কাগজগুলোর দিকে তাকান। আপনি উদ্দীপনা ফিরে পাবেন। নেতিবাচক চিন্তাকে পুরোপুরি বাদ দিন। নিজের সীমাবদ্ধতা নিয়ে না ভেবে নিজের কাজ করার ক্ষমতা ও শক্তি সম্পর্কে বেশি ভাবুন। 

প্রয়োজনে নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপিত করুন। নিজের অবয়বে কিছু পরিবর্তন, গোঁফ, দাড়ি বা নতুন হেয়ার স্টাইল, নতুন পোশাক পরিচ্ছদ এমন কি নতুন শেইপের শাইনিং জুতো ইত্যাদি আপনার ব্যক্তিত্বের প্রকাশকে উন্নততর করতে পারে।

সময়মত কাজ করুন

হাতে সময় থাকতেই কাজ শুরু করুন। সময়ের কাজ সময়ে শেষ না করলে একদিকে যেমন প্রতিদিন কিছু কিছু করে জমতে থাকে তেমনি অন্যদিকে হঠাৎ আপনার বস এমন একটি  জরুরী কাজ আপনাকে ধরিয়ে দিয়েছেন যে সেটি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়তে হবে। ফলে টেবিলে কাজের স্তুপ হয়ে উঠে। যা মনকে খিটমিট করে তোলে। অফিসে উপস্থিতি, মিটিং, অ্যাপয়েন্ট সব ব্যাপারে সময়ানুবর্তী হোন। কোথাও দেরিতে উপস্থিত হওয়া নিজের সম্পর্কে অন্যদের মনে নেতিবাচক বার্তা দেয়।

সময় বাঁচানোর জন্য আপনার কর্মদিবসগুলোতে এক ঘন্টা কম ঘুমান। ঘুম থেকে প্রতি কর্মদিবসে এক ঘন্টা বাঁচাতে পারলে বছর শেষে আপনি পুরো একটি মাস পেয়ে যাচ্ছেন। আর এই অতিরিক্ত কর্মমাস যোগ করতে পারায় আপনি আপনার অনেক অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে পারবেন। যা অন্যদের চেয়ে আপনাকে এগিয়ে রাখবে।

রাগ নিয়ন্ত্রণ করুন

রাগ ও ক্রোধ ব্যক্তিত্ব বিকাশের অন্তরায়। রাগের সময় মানব মস্তিস্ক গামা লেভেলে অবস্থান করে। এ সময় ব্রেনের সার্কিটগুলোর সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে মানুষ সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়। এজন্য ক্রোধের কারণগুলো খুঁজে বের করুন। সেগুলো দূর করার জন্য বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করুন, দেখবেন রাগ বা উত্তেজনা কমে গেছে। 

জ্ঞানচর্চা করুন

আত্মনির্মাণ বা আত্মআবিস্কারের জন্য ব্যস্ততার ফাঁকে নিয়মিত পড়াশুনা করুন। আত্মউন্নয়নমূলক, শরীরচর্চা, খাবার, ব্যায়াম, চিকিৎসা, সাহিত্যবিষয়ক বইপত্র সংগ্রহ করে পড়ুন। সফল মানুষদের জীবনী পড়ুন, সে সাথে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও আর্তমানবতার সেবামূলক কর্মকান্ডে নিজকে যুক্ত রাখুন। কারণ জীবন সম্পর্কিত জ্ঞানই আপনার চলার পথকে সহজ করতে পারে। 

ধ্যানচর্চা করুন

আত্মনিমঘ্ন হওয়া ছাড়া নিজের অমিত সম্ভাবনাকে আবিস্কার করা যায় না। তাই প্রতি রাতে শোয়ার আগে বিছানায় গিয়ে চুপচাপ বসুন। ধ্যানের প্রক্রিয়ায় দেহ মনকে প্রশান্ত করুন। সারাদিনের কাজের পর্যালোচনা করুন। ভুলগুলোর জন্য নিজের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিন। ভালো কাজের জন্য নিজকে ধন্যবাদ দিন। নিজের যোগ্যতার প্রতি নতুনভাবে বিশ্বাস স্থাপন করুন। তারপর ঘুমিয়ে পড়ুন।

সকালে ঘুম থেকে উঠে পুনরায় ধ্যানচর্চা করুন। সারাদিনের কাজের পরিকল্পনা করুন। নতুন বিশ্বাসে নতুন দিনের কাজ শুরু করুন। আপনার ব্যক্তিত্ব যেমন উন্নত হবে তেমনি আপনি ধীরে ধীরে সাফল্যের স্বর্ণশিখরে আরোহন করবেন।



মন্তব্য করুন


লিভিং ইনসাইড

পূজায় বিশেষ কিছু খাবার গ্রহণে সতর্কতা

প্রকাশ: ১১:০১ এএম, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail পূজায় বিশেষ কিছু খাবার গ্রহণে সতর্কতা

হিন্দু ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব 'দূর্গাপূজা'। আর এই পূজার আনন্দের অন্যতম অনুষঙ্গ হলো খাবার। তবে পূজার সঙ্গে জমিয়ে পেট পুজো করবেন, নাকি বিশেষ কিছু খাবার গ্রহণে সতর্ক হবেন- এ বিষয়ে খেয়াল রাখা প্রয়োজন।

আসুন জেনে নিই পূজার খাবার গ্রহণে বিশেষ যেসব প্রস্তুতি নেয়া দরকার-

পূজার দিনে নানা পদের খাবার থাকবে। মিষ্টি জাতীয় খাবার যেমন- সন্দেশ, রসগোল্লা, চমচম, মিষ্টি দই, রাজভোগ, কালোজাম, রসমালাই, প্রাণহারা, ছানামুখী, মণ্ডা, মকড়ম, ক্ষীর, বাতাসার আয়োজন থাকে। এছাড়া ঢেঁকিছাঁটা চিড়া, ঝোলাগুড় মাখানো মুড়ির মোয়া, নারকেলের নাড়ু, তালের বড়া, নকশি পিঠা ইত্যাদি লোভনীয়ভাবে উপস্থাপন করা হয়। যা না খেয়ে থাকা যায় না।

এসময় রান্নার মধ্যেও আসে ভিন্নতা। লুচি আলুর দম, বেগুন ভাজি, আলু পোস্ত, ছোলার ডাল, শুক্ত, কাঁচকলার কোফতা, ভেটকি মাছের পাতুরি, চিংড়ি মাছের মালাইকারী, চিতল মাছের মুইঠ্যা, সরিষা ইলিশ, খিচুড়ি এসব খেতে খুব সুস্বাদু। দুই-এক দিন বেশি খেতে যদিও খুব বেশি বাধা নেই, তবুও রয়ে-সয়ে খাবার খাওয়া উচিত। এসব খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে পেটের পীড়া, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা হৃদরোগ আছে এমন মানুষদের বিশেষ সতর্ক হতে হবে।

নিজের বাসায় তো বটেই, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধবের বাসায় ঘুরে ঘুরে, এবং উৎসবস্থল থেকে প্রায় সারাদিনই টুকিটাকি এটা-সেটা খাওয়া হয়। আমরা কী খাচ্ছি, কতটুকু খাচ্ছি, বিভিন্ন খাবার গ্রহণের প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে এসব বিষয়ের ওপর আমাদের একটু নজর দেয়া দরকার।

দুর্গাপূজায় অনেকেই উপোস করেন। তবে উপোস করার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের দিকেও নজর দিতে হবে। যেসব ডায়াবেটিস রোগী ওষুধ খান বা ইনসুলিন নেন, তাদের খাবারটা সঠিক সময়ে খেয়ে নিতে হবে। অথবা যারা গ্যাস্ট্রিক আলসারের রোগী, তারা অনেকক্ষণ খাবার না খেয়ে থাকলে ব্যথায় ভুগতে পারেন। তাদের উচিত হবে উপোসের সময় তরল জাতীয় খাবার, যেমন দুধ, ফলের রস ইত্যাদি খাওয়া।

ষষ্ঠীতে দুপুরে খিচুড়ি আর বেগুনভাজা খেতে পারেন। পাঁচমিশালি সবজি থাকতে পারে। ঢেকিছাঁটা চাল, মসুর বা হরেক ধরনের ডাল দিয়ে রান্না খিচুড়ি খেতে পারেন। মোটকথা বেশি মশলাযুক্ত খাবার না খাওয়াই ভালো। খাবারের তালিকায় বেশি বেশি সবজি রাখুন।

পূজা   বিশেষ কিছু খাবার   গ্রহণে   সতর্কতা  


মন্তব্য করুন


লিভিং ইনসাইড

চোখ ওঠা সমস্যায় যা করবেন

প্রকাশ: ০৮:০১ এএম, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail চোখ ওঠা সমস্যায় যা করবেন

ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে চোখ ওঠা রোগের প্রকোপ বাড়ছে। প্রায় প্রতিটি ঘরেই কেউ না কেউ এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। এদিকে চিকিৎসকরা বলছেন, গরমে আর বর্ষায় চোখ ওঠার প্রকোপ বাড়ে। চিকিৎসা বিজ্ঞানে এটিকে কনজাংটিভাইটিস বা কনজাংটিভার বলা হয়। তবে স্থানীয়ভাবে এ সমস্যাটি চোখ ওঠা নামেই পরিচিত। রোগটি ছোঁয়াচে। ফলে দ্রুত অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

আসুন জেনে নিই চোখ ওঠা সমস্যায় যা করবেন:

আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ: চোখের নিচের অংশ লাল হয়ে যাওয়া, চোখে ব্যথা, খচখচ করা বা অস্বস্তি। প্রথমে এক চোখ আক্রান্ত হয়, পরে অন্য চোখে ছড়িয়ে পড়ে। এ রোগে চোখ থেকে পানি পড়তে থাকে। চোখের নিচের অংশ ফুলে ও লাল হয়ে যায়। চোখ চুলকাতে থাকে। আলোয় চোখে আরও অস্বস্তি হয়।

আক্রান্তরা যা করবেন না:

* চোখ চুলকানো থেকে বিরত থাকুন।
 
* রোগীর ব্যবহার করা সামগ্রী অন্যদের ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে।

*এক চোখে সমস্যা দেখা দিলে অন্য চোখকে সংক্রমণ থেকে নিরাপদে রাখতে হবে।

*আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ পরিহার করতে হবে।

*আক্রান্ত ব্যক্তির রুমাল, কাপড়-চোপড়, তোয়ালে ব্যবহার করা যাবে না।

* হ্যান্ডশেকের মাধ্যমেও অন্যরা আক্রান্ত হতে পারেন। তাই হ্যান্ডশেক করার পর দ্রুত হাত ধুয়ে ফেলুন। নোংরা হাতে কখনই চোখে হাত দেবেন না।

এই রোগ হলে যা করবেন:

* সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর চোখে পানি দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।

* চোখে সাবধানে টিস্যু বা নরম কাপড় দিয়ে মুছে নিতে হবে। ব্যবহার করা সেই টিস্যু বা কাপড় সাবধানে নিরাপদ স্থানে ফেলতে হবে। যাতে করে এ রোগ অন্য কারো না হয়।

* আক্রান্ত ব্যক্তি বাইরে গেলে সানগ্লাস পরতে হবে, তা নাহলে রোদে চোখ জ্বলবে।

*চোখে চুলকানি ও বেশি ফুলে গেলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চক্ষু বিভাগের চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. শাহনুর হাসান বাংলানিউজকে বলেন, চোখ ওঠা রোগকে আমরা ভাইরাল কনজাংটিভাইটিস বলে থাকি। এটা সিজনাল একটি রোগ। গরমে এবং বৃষ্টিতে এই রোগ বেশি ছড়ায়। ঋতু পরিবর্তনের ফলে এই ভাইরাল ইনফেকশন হচ্ছে।
 
এ রোগে সতর্কতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চোখ ওঠা রোগ হলে, আতঙ্কিত হওয়া যাবে না। ভাইরাসজনিত এ রোগ যার হবে, তিনি যেন অন্যের সংস্পর্শে না আসেন। রোগীর ব্যবহার করা তোয়ালে, বিছানা, বালিশ যেন অন্য কেউ যেন ব্যবহার না করে। বাচ্চাদের চোখ ওঠলে, স্কুলের অন্য বাচ্চাদের সুরক্ষিত রাখতে সে যেন কিছু দিন স্কুলে না যায়। ভাইরাস জ্বর যেমন ৫/৭ দিনে ভালো হয়ে যায়, এটাও তেমন এমনিতেই ভালো হয়ে যায়। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চোখ ওঠা নিশ্চিত হয়ে এন্টিবায়োটিক ড্রপ ব্যবহার করা যেতে পারে।

চোখ ওঠা   ঋতু পরিবর্তন  


মন্তব্য করুন


লিভিং ইনসাইড

পানি শূন্যতা রোধে করণীয়

প্রকাশ: ১১:৪৩ এএম, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail পানি শূন্যতা রোধে করণীয়

অতিরিক্ত গরমে ঘামের সাথে শরীরের প্রয়োজনীয় পানি বের হয়ে যায়। এই সময় বেশি পরিমাণে পানি পান না করলে শরীর পানিশূন্যতায় ভোগে এবং আমরা এই পানির অভাবজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ি। তাই সাবধান হোন খাওয়ার পানি, পানীয় এবং খাবার নির্বাচনে।

বাইরের খাবার বাদ দিন
হোটেল-রেস্টুরেন্টের তৈরি খাবার, পানি, রাস্তার পাশে তৈরি শরবত, পানীয়, খোলা পানি, জুস প্রভৃতি অস্বাস্থ্যকর খাবার থেকে নিজেকে দূরে রাখুন; বিশেষ করে রাস্তার পাশে তৈরি লেবুর শরবত, হারবাল জুস, আইসক্রিম এবং খাবার একেবারে বর্জন করুন। এগুলো প্রতিটি একেকটা জটিল রোগের আধার, যা আপনার স্বাস্থ্যের সুরক্ষার চেয়ে ক্ষতিই করবে বেশি। 

পানি শূন্যতা   রোধে   করণীয়  


মন্তব্য করুন


লিভিং ইনসাইড

আপনার মধ্যে নেই তো ডিপ্রেশনের এই লক্ষণগুলো?

প্রকাশ: ০৮:০৩ এএম, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail আপনার মধ্যে নেই তো ডিপ্রেশনের এই লক্ষণগুলো?

ডিপ্রেশন যে একটি মানসিক ব্যাধি তা অনেকেই মানতে নারাজ। ফলে অনেকেই এই কঠিন মানসিক ব্যধির সঙ্গে কাটিয়ে দিচ্ছে দিনের পর দিন এবং নিজের অজান্তেই লড়াই করার চিন্তা করে। আত্মহত্যার প্রবণতার জন্য ডিপ্রেশনকেই দায়ী করা হয় অনেকক্ষেত্রে। ডিপ্রেশন ধীরে ধীরে মানুষের মধ্যে মৃত্যুঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

এটি এমন এক অসুখ, যা মানুষকে কিছুতেই খুশি হতে দেয় না। জীবনে বড় কোনও দুর্ঘটনা বা ছোট কোনও ধাক্কা, ডিপ্রেশনের কারণ হতে পারে অনেককিছুই। তাই ঠিক কখন কোন ঘটনা মানুষকে অবসাদের খাদে ঠেলে দেবে, তা বোঝা কঠিন। এই গহ্বর থেকে সহজে বেরনো কঠিন। প্রয়োজন সঠিক চিকিৎসার। অবসাদে থাকলে মানুষ নিজের সঙ্গে কথা বলে। কখনও আবার ছোটখাটো ঘটনাতেই কেঁদে ফেলে। বারবার মৃত্যুর কথা বলে। অথবা হঠাৎ করেই উত্তেজিত হয়ে ওঠে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর দেওয়া গাইডলাইন অনুযায়ী ডিপ্রেশনকে যে ক’টি বিষয় দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে সেগুলো হলো: দুঃখ, আগ্রহ বা আনন্দ হারিয়ে ফেলা, অপরাধবোধ, নিজেকে মূল্যহীন লাগা, ঘুম ও ক্ষুধায় বিরক্তি, ক্লান্তি, দুর্বল মনোযোগ। বিভিন্ন কারণে ডিপ্রেশন হতে পারে, হয় জৈবিক কিংবা পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির কারণে।

যেকোনো দেশের জনসংখ্যার প্রায় ১০ থেকে ২০ শতাংশ লোক বিষণ্ণতা রোগে ভুগে থাকে। মেয়েদের এ রোগে ভোগার প্রবণতা পুরুষের চেয়ে দ্বিগুণ। বেকার ও নিঃস্ব জীবন যাপনকারীরাও  এ রোগে বেশি ভুগে থাকেন। যারা বিভিন্ন ধরনের নেশা করে তাদের মধ্যেও ডিপ্রেশনের হার বেশি।

ডিপ্রেশন বা বিষণ্নতা সাধারণ কোনো বিষয় নয়। । তাই সঠিক সময়ে এর চিকিৎসা করা জরুরি।
শুধু যে বড়দের মধ্যেই ডিপ্রেশন দেখা দেয় তা কিন্তু নয় ছোটরাও এই ব্যাধির কারণে নানা ভুল কর্মকাণ্ড করে বসে। চলুন তবে দেখে নেওয়া যাক ডিপ্রেশনের কোন লক্ষণগুলো অবহেলা করবেন না-

নেতিবাচক কথাবার্তা

হতাশাগ্রস্থ মানুষের নেতিবাচকতা থেকে সহজে বেরিয়ে আসতে পারেন না। সবকিছু নিয়েই তারা হতাশা করেন। যা তাদেরকে আরও বিষণ্ন করে তোলে। আপনার মধ্যেও যদি এই লক্ষণ থাকে তাহলে বুঝবেন অজান্তেই ডিপ্রেশনে ভুগছেন আপনি।

ক্লান্তি

বিষণ্নতা একজন ব্যক্তিকে আরও ক্লান্ত ও অলস করে তোলে। ডায়েট ও শরীরচর্চা যতই করুক না কেন সব সময়ই ক্লান্তির অনুভুতি হতে পারে। কোনো কারণ ছাড়া ক্লান্তির কিন্তু অনেক কারণ থাকতে পারে। তাই এই বিষয় নিয়ে অবহেলা করবেন না।

মনোযোগে অসুবিধা

যারা ডিপ্রেশনে ভোগেন তারা কোনো কাজে একাগ্রতার সঙ্গে মন বসাতে পারেন না। মনে সব সময়ই নেতিবাচক বিভিন্ন চিন্তা খেলা করে। চাইলেও তারা এসব দুশ্চিন্তা থেকে বেরিয়ে বাস্তবতার সঙ্গে তাল মেলাতে পারেন না।
আগ্রহের অভাব

বিভিন্ন কাজের ক্ষেত্রে উৎসাহী হতে পারেন না এমন রোগীরা, যদিও বা কাজটি তার পছন্দের হোক না কেন। সব কাজেই এদের মধ্যে আগ্রহ ও উৎসাহ কম দেখা দেয়।

অনিদ্রা

ডিপ্রেশন গুরুতর আকার ধারণ করলে রোগী ভোগেন অনিদ্রায়। ঘুমের ধরনে পরিবর্তন আসাও বিষণ্নতার আরও এক লক্ষণ। যা স্বাস্ত্যের জন্য বিপজ্জনক।

খিটমিটে মেজাজ

ডিপ্রেশনের রোগী অকারণে রাগ করে‚ ভীষণ অস্থিরতা কাজ করে এবং সব সময়ই উদ্বিগ্ন থাকেন। যাদের ডিপ্রেশন হয় তারা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রাগ বেশি হয়‚ বা অস্থির ব্যবহার করে থাকেন। এর দ্বারা বোঝা যায় ডিপ্রেশনের শিকার তিনি।


আত্মঘাতী প্রবণতা

নিজের শরীরে আঘাত করা বা নিজের জীবন শেষ করে দেওয়ার কথা চিন্তা করা সবই ডিপ্রেশনের লক্ষণ। ডিপ্রেশনে আক্রান্ত হলে রোগীর  মাঝে আত্মঘাতী হওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়।

ক্ষুধা কমে যাওয়া

ওজন কমানোর জন্য অনেকেই ডায়েটে পরিবর্তন আনেন ও কম খেয়ে সুস্থ থাকার চেষ্টা করেন। তবে কোনো কারণ ছাড়াই যদি দেখেন আপনার ক্ষুধা কমে গেছে তাহলে তা ডিপ্রেশনের লক্ষণ হতে পারে। ডিপ্রেশনের রোগীরা বিভিন্ন বিষয়ে ভাবতে এতোটাই মগ্ন হন যে দৈনন্দিন ক্রিয়াকলাপে মনোনিবেশ করতে পারেন না।

বিচ্ছিন্নিতা

যারা ডিপ্রেশনে ভুগছেন তাদের মধ্যে একা থাকার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। কারও সঙ্গে দেখা করা, গল্প করা কিংবা হাসিখুশি থাকতে তাদের ভালো লাগে না। বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে এরা ইতস্তত করেন।

বিষণ্নতা বিভিন্ন স্তরে ব্যক্তিদের প্রভাবিত করে। বিষণ্তার লক্ষণগুলো বেশিরভাগের মধ্যেই একই দেখা দেয়। তাই আপনার বা প্রিয় কোনো মানুষের মধ্যে এসব লক্ষণ দেখলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

অবসাদের চিকিৎসা কীঃ যদি আপনার মনে হয়, উপরে উল্লিখিত লক্ষণগুলি আপনার মধ্যে আছে, তাহলে দেরি না করে মনরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।ডিপ্রেশন পুষে রাখলে এক সময় আপনি উস্মাদও হয়ে যেতে পারেন। তাই সঠিক সময়ে এর চিকিৎসা করুন। মানসিক স্বাস্থ্য ভাল রাখতে পর্যাপ্ত ঘুম, মন ভাল রাখতে রোদ্দুরে একটু হাঁটুন, মানুষের সঙ্গে কথা বলুন,সারাদিনের কাজ ভাগ করে নিন।

ডিপ্রেশন   হতাশাগ্রস্থ   মৃত্যুঝুঁকি  


মন্তব্য করুন


লিভিং ইনসাইড

গা ছমছমের দ্বীপ, হাশিমা দ্বীপ

প্রকাশ: ০৮:০১ এএম, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail গা ছমছমের দ্বীপ, হাশিমা দ্বীপ

ভূতুরে শহর, ভূতুরে দ্বীপ, ভুতুরে বাড়ির কথা শোনা যায় হর হামেশাই। আর সেগুলোর সাথে নানান গাল-গল্পের ফিরিস্তি তো আছেই। এমনি একটি দ্বীপ হলো  হাশিমা দ্বীপ। জাপানের নাগাসাকি থেকে প্রায় ১৫ কি.মি দূরে অবস্থিত এই  হাশিমা দ্বীপ  বর্তমানে ভূতুড়ে  দ্বীপ নামে পরিচিত। এই দ্বীপটি জাপানি উপকূলের ঠিক সামনেই  অবস্থিত যা দূর থেকে দেখলে মনে হবে সাগরে ভেসে থাকা কোন জাহাজ হয়তো। তাই এর আকৃতির উপর বিচার করে এই দ্বীপটির ডাকনাম রাখা হয়েছে ব্যাটলশিপ দ্বীপ।

অনেক কাল আগে এই দ্বীপটি গুরুত্বপূর্ণ কয়লা খনি হিসেবে সুপরিচিত  ছিল যা ১৮৮৭ সালে আবিষ্কৃত করা হয়। এবং ১৮৯০ সালের পর, দ্বীপটি জাপানের দ্রুত বর্ধনশীল শিল্পায়নের প্রতীক হয়ে ওঠতে থাকে। যেহেতু এই দ্বীপটি সমুদ্রের মাঝখানে তাই টাইফুনের হাত থেকে বাঁচানোর মতো করেই দ্বীপটি তৈরি করা হয়েছিল। দায়িত্বে ছিল মিতসুবিশি। প্রাকৃতিক দুর্যোগকে জয় করে এখনও বেশ কিছু ভগ্নাংশ রয়ে গেছে এই পরিত্যক্ত দ্বীপে। কিন্তু দ্বীপটিতে গেলে গা ছমছম ভাব এমনিতেই চলে আসে পর্যটকদের মাঝে।


এই দ্বীপটি শুধুমাত্র একটি দ্বীপই নয়,বরং এই  দ্বীপের সাথে জড়িয়ে আছে একটি অন্ধকার সময়ের  সংযুক্তি।   এখানে থাকা প্রত্যেকটি ভবন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে বন্দী হওয়া বন্দীদের দিয়ে নির্মান করা হয়েছিল। ১৯৩০ থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে অব্ধি ভবনগুলি কোরিয়ান এবং চীনা বন্দীদের দ্বারা নির্মিত হয়েছিল বলে জানা যায়। এক কথায় বাধ্য করা হয়েছিল এই বন্দীদের । আর এই বাধ্যতামূলক শ্রমিকদের অবস্থা এখানে ছিল করুণ। এবং অনেকেই আর কখনো বাড়িও ফিরে আসেননি বলে জানা যায়। তাদের ভাগ্যে আদৌ কি ঘটেছিল তা এই দ্বীপের মাঝেই চাপা পরে হারিয়ে গিয়েছিল।যারা এখানে কাজ করেছিল তারা দ্বীপের নাম দিয়েছিল“জেল আইল্যান্ড” কিংবা “হেল আইল্যান্ড”। ১৯৫৯ সালের দিকে  দ্বীপটির জনসংখ্যা ছিল  সর্বাধিক। তখন হাশিমা দ্বীপে ৫,০০০ এরও বেশি লোক কাজ করত এবং বাস করত। এবং যেহেতু দ্বীপটি খুব বড় ছিল না, তার মানে তাদের প্রত্যেকের জন্য জায়গার বরাদ্দ ছিল মাত্র  ৫ ফুট।

এরপর ১৯৭৪ সাল আসে, ধীরে ধীরে  ফুরিয়ে যেতে শুরু করে  খনির কয়লা এবং  খুব শীঘ্রই লোকেরা দ্বীপ ছেড়ে চলেও  যায়। আর তার ফলে  শীঘ্রই দ্বীপের জনবসতিহীন অংশগুলি প্রকৃতি দ্বারা আবৃত হতে থাকে,যেন প্রকৃতির কোলে ঘুমিয়ে যেতে থাকে এই দ্বীপটি। আর যেহেতু দ্বীপটি সমুদ্রের মাঝখানে অবস্থিত সেহেতু আবহাওয়ার পরিস্থিতি কংক্রিটকে প্রভাবিত করতে শুরু করে এবং ভবনগুলি ভেঙে পড়তেও শুরু করে। অনেকদিন জাপানিজ কর্তৃপক্ষ বিপজ্জনক বিধায় জনগনকে এখানে যাওয়ার নিরুৎসাহিত করতে শুরু করেছিল কিন্তু বর্তমানে ২০০৯ সালে এটি অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে জাপান কর্তৃপক্ষ।

হাশিমা দ্বীপ ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় গৃহীত হয়েছে। ২০১৫ সালে এটিকে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট ঘোষণা করা হয়।যদিও উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছিল তখন। কারণ অন্ধকার অতীতের কথা তারা ভোলেনি। কোরিয়া অবশেষে মাথা নত করে, কিন্তু তারা জাপানকে তাদের অপরাধ স্বীকার করার দাবি জানায়। তারা আরও চেয়েছিল যে জাপান তাদের সকলের জন্য দ্বীপে একটি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করুক যাদের সেখানে কাজ করতে বাধ্য করা  হয়েছিল। জাপান শেষ পর্যন্ত রাজিও হয় কিন্তু হেরিটেজের খাতায় সাক্ষরের সাথে সাথে সেই স্মৃতিস্তম্ভের কথাও মিলিয়ে যায় সেই বন্দীদের ভাগ্যের মত।

ইতিপূর্বে এই হাশিমা দ্বীপ নিয়ে তৈরি হয়েছে চলচিত্র।এছাড়া জেমস বন্ডের স্কাইফলসহ বেশ কয়েকটি ছবির শুটিং হয়েছে এই হাশিমা দ্বীপে। এছাড়া  নেটফ্লিক্সের 'ডার্ক ট্যুরিস্ট' ওয়েব সিরিজে এই ফাঁকা দ্বীপ নিয়ে একটি শো করেছেন ডেভিড ফেরিয়ার নামে নিউজিল্যান্ডের এক সাংবাদিকও।

পরিতক্ত্য দ্বীপ কথাটি থাকবে আর ভূতের গল্প থাকবেনা,এই ব্যপারটি তো হতেই পারেনা। হাশিমা দ্বীপকে নিয়েও রয়েছে এমন মুখরোচক গল্প। অনেক পর্যটক এখানে অতীতের প্রতিধ্বনি শোনার দাবী করেন। আবার সমুদ্রে কাজ করা জেলেরা দাবী করেন রাতের বেলা এই বিল্ডিংগুলোর ভেতরে চকচকে আলোর ফুল্কি তারা দেখেছেন। আবার অনেকে দাবী করেন তারা এখানে গিয়ে ঠান্ডা এক হাতের স্পর্শের অনুভূতি পেয়েছে। আর এসব মিলে হাশিমা দ্বীপ এখন অ্যাডভেঞ্চার প্রিয়দের পছন্দের জায়গা, দল বল নিয়ে তাই ক্যাম্পেইন করতে হর হামেশাই দেখা যায় উৎসুক দলকে হাশিমা দ্বীপের দিকে যেতে।

হাশিমা দ্বীপ  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন