লিভিং ইনসাইড

বর-কনের বয়সের ব্যবধান কত হওয়া উচিত?

প্রকাশ: ০২:২৮ পিএম, ২৮ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail বর-কনের বয়সের ব্যবধান কত হওয়া উচিত?

বয়সের ব্যবধান সব দম্পতির জন্য আলাদাভাবে কাজ করে। কারো জন্য ২ বছরের ব্যবধান ভালো কাজ করে, কারো ক্ষেত্রে হয়তো দশ বছরের ব্যবধান। অনেকে আছে যারা নিজের থেকে বেশ বয়স্ক সঙ্গী পেতে চায়। নিজের চাওয়ার মতো সঙ্গী খুঁজে পাওয়াটাই সবচেয়ে বেশি কার্যকরী। তবে বেশিরভাগ সফল বিয়ের ক্ষেত্রে বর-কনের মধ্যে একটি নিখুঁত বয়সের ব্যবধান থাকে যা পছন্দের সঙ্গে সামঞ্জস্যের ভারসাম্য বজায় রাখে। কিছু ক্ষেত্রে বয়সের ব্যবধানই হয়ে উঠতে পারে সুন্দর দাম্পত্যের বড় বাধা। চলুন জেনে নেওয়া যাক-

৭ বছর

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বয়সের ব্যবধান সাত বছরের মতো হলে সেটি তুলনামূলক বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। সেক্ষেত্রে দম্পতিদের মধ্যে সংঘর্ষ, ভুল বোঝাবুঝি এবং তর্ক কম হয়। বিয়ের ক্ষেত্রে দুইজনের একজনকে সব সময় পরিণত হতে হবে; তারা বিয়েকে ভেঙে পড়া থেকে রক্ষা করবে। এই বয়সের ব্যবধান অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি আদর্শ, কারণ এটি দম্পতিকে স্থিতিশীলতা অর্জন করতে এবং একে অপরকে ঘনিষ্ঠ দৃষ্টিকোণ থেকে বুঝতে সাহায্য করে।

১০ বছর

এমন অনেক বিয়ে আছে যেখানে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পর্যাপ্ত ভালোবাসা এবং বোঝাপড়া থাকলে বয়সের ব্যবধান দশ বছর হলেও সমস্যা হয় না। যখন দুজন মানুষের জীবনের লক্ষ্য, আকাঙ্ক্ষা এবং দৃষ্টিভঙ্গি মিলে যায়, তখন দশ বছরের ব্যবধান হুমকিস্বরূপ নাও হতে পারে। তবে সাধারণ দম্পতির জন্য এটি কিছুটা বাড়াবাড়ি হতে পারে। কখনো কখনো কম বয়সী জন বেশি বয়সী জনের পরিপক্কতার স্তরে দাঁড়াতে পারে না এবং এটি অনেক সমস্যা তৈরি করতে পারে।

২০ বছর

এটি দম্পতির জন্য বয়সের ব্যবধান হিসেবে সেরা নয়। যদিও অনেক বিখ্যাত দম্পতি আছে যাদের বয়সের ব্যবধান ২০ বছরের বেশি। এটি আসলে পার্থক্য হিসেবে খুব বেশি। এক্ষেত্রে লক্ষ্য, আকাঙ্ক্ষা এবং মতামতের ব্যাপক পরিবর্তন হবেই। সব থেকে বড় সমস্যা হতে পারে সন্তান ধারণের প্রয়োজনীয়তা; স্ত্রী বয়স্ক হলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সন্তান ধারণ করতে চাইবে কম বয়সী হলে ততটা আগ্রহী নাও হতে পারে। এক্ষেত্রে চিন্তার স্তরের পার্থক্য সবচেয়ে অন্যতম বড় সমস্যা হতে পারে।

বয়সের ব্যবধান কি সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ?

হ্যাঁ, বয়সের ব্যবধান সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ। বয়সের ব্যবধান অনেক বেশি হলে মতামতের মধ্যে বিশাল পার্থক্য থাকবে, কারণ বর্তমান বিশ্ব প্রতিটি মুহূর্তে পরিবর্তিত হচ্ছে। সেক্ষেত্রে বিয়ে স্বল্পস্থায়ী এবং বিভিন্ন সমস্যা ডেকে আনতে পারে। সাধারণভাবে, বয়সের ব্যবধান যত বেশি হয়, দম্পতিরা তত বেশি সমস্যার মুখোমুখি হয়।



মন্তব্য করুন


লিভিং ইনসাইড

বর্ষায় রুক্ষ ঠোঁটের যত্ন

প্রকাশ: ১০:৪৩ এএম, ২৮ Jun, ২০২২


Thumbnail বর্ষায় রুক্ষ ঠোঁটের যত্ন

চলছে বর্ষাকাল।বর্ষা অনেকেরই প্রিয় ঋতু হলেও এই সময় বেশ কিছু সমস্যা দেখা দেয়। বৃষ্টিতে ভিজে সর্দি-কাশি, পেটের গন্ডগোল ছাড়াও ত্বকেরও নানা সমস্যা দেখা দেয়। তার মধ্যে অন্যতম ঠোঁট শুকিয়ে যাওয়া। শীতে ঠোঁট ফাটার প্রবণতা বেশি হলেও বর্ষায় এই সমস্যা মারাত্মক আকারে দেখা দেয়। বর্ষাকালে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। ফলে আর্দ্র আবহাওয়ায় ঠোঁট রুক্ষ ও ফ্যাকাশে হয়ে যায়। রুক্ষ ঠোঁট নিজেরও অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠে।

বর্ষায় ঠোঁটের রুক্ষতা দূর করতে কী ভাবে সুরক্ষা নেবেন?

এসপিএফ যুক্ত প্রসাধন ব্যবহার করুন
বর্ষায় ঠোঁটের যত্ন নিতে এসপিএফ যুক্ত প্রসাধন আছেন। সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি থেকে ঠোঁট সুরক্ষিত রাখতে এসপিএফ আছে এমন লিপ বাম বেছে নিন।

ঠোঁট মালিশ করুন
বর্ষায় ঠোঁট নরম ও মসৃণ রাখতে মালিশ করা প্রয়োজন। ঠোঁট শরীরেরও অত্যন্ত স্পর্শকাতর অংশ। ফলে রাসায়নিক উপাদান আছে এমন কোনও প্রসাধনী ঠোঁটে ব্যবহার না করাই ভাল। ঠোঁট নরম রাখতে হোহোবা অয়েল কিংবা অলিভ অয়েল দিয়ে হালকা হাতে মালিশ করে নিন।

ঠোঁট উপযোগী প্রসাধনী বাছুন
বর্ষা বলে নয়, সারা বছরই ঠোঁটের যত্নে এমন কিছু প্রসাধনী ব্যবহার করুন যেগুলির উপকরণের তালিকায় প্রয়োজনীয় উপাদান রয়েছে। ভিটামিন এ, বি, ডি, ই, স্বাস্থ্যকর ফ্যাটি অ্যাসিড ঠোঁটের জন্য অত্যন্ত কার্যকর। কারণ এই উপাদানগুলি ঠোঁটের হারিয়ে যাওয়া আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনে। প্রসাধনী ব্যবহারের পাশাপাশি ঠোঁটের জেল্লা ধরে রাখতে বেশি করে জল খাওয়াও প্রয়োজন।

বর্ষা   রুক্ষ ঠোঁট   যত্ন  


মন্তব্য করুন


লিভিং ইনসাইড

৫ ভুলের কারণে গরমে ডায়রিয়া হতে পারে

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ২৮ Jun, ২০২২


Thumbnail ৫ ভুলের কারণে গরমে ডায়রিয়া হতে পারে

ডায়রিয়া একটি জলবাহিত রোগ। ডায়রিয়া হলে শরীর থেকে পানি বেরিয়ে যায় বলে রোগী দুর্বল হয়ে পড়ে। এমনকি রোগীর অবস্থা গুরুতর হলে হাসপাতালে পর্যন্ত ভর্তি করতে হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, শিশুরা এতে তুলনামূলক বেশি আক্রান্ত হয়। তাদের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতাও কম থাকে। তবে বড়দের ক্ষেত্রেও সময় মতো চিকিৎসা শুরু না করলে এই অসুখ মারাত্মক আকার নিতে পারে।

গরমে পিপাসা মেটাতে অনেক সময় বাইরের বিভিন্ন রং-বেরঙের পানীয় পান করেন। এর মাধ্যমেও শরীরে ডায়রিয়ার জীবাণু শরীরে ঢুকতে পারে। তবে এই অসুখ থেকে দূরে থাকতে কতগুলো নিয়ম মানতেই হবে। জেনে নিন করণীয়-

চিকিৎসকদের মতে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকলে এই অসুখ এড়ানো সম্ভব। রান্নাঘর থেকে খাওয়ার জায়গা পরিষ্কার রাখুন। বাসন মাজার জন্য পরিষ্কার পানি ব্যবহার করুন। মুখ ধোয়ার সময় ব্যবহার করুন পরিষ্কার পানি।

ডায়রিয়া এড়াতে সারা বছরই পরিষ্কার পানি খান। রাস্তাঘাটের যে কোনো জায়গা থেকে পানি খাবেন না। প্রয়োজনে বোতলবন্দি বা ফোটানো পানি খান।

গরমে কোনো খাবার বেশিক্ষণ বাইরে ফেলে রাখবেন না। গরম অবস্থাতেই টাটকা খাবার খান। খাবার ঠান্ডা হলে তাতেও কিছু ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বাসা বাঁধে। যা ডায়েরিয়ার কারণ হতে পারে।

ডায়রিয়া থেকে বাঁচতে রাস্তার খাবার এড়িয়ে চলুন। বিশেষ করে ফুচকা, চটপট, পানিপুরি কিংবা ভেলপুরি একেবারেই খাবেন না। যেসব খাবারে টকজল বা স্যুপের আকারে পানি সরাসরি পেটে যায়। তাই সেসব এড়িয়ে চলুন।

এ সময় পাতে মৌসুমী ফল রাখুন। তবে রাস্তার কাটা ফল খাবেন না। আস্ত ফল কিনে ভালো করে ধুয়ে খান। গরমে বাইরে থেকে লেবুর পানি কিংবা যে কোনো ধরনের পানীয় পান করবেন না।

ডায়রিয়া  


মন্তব্য করুন


লিভিং ইনসাইড

আলুর গুণেই সমাধান ৩ সমস্যার

প্রকাশ: ১১:০৭ এএম, ২৬ Jun, ২০২২


Thumbnail আলুর গুণেই সমাধান ৩ সমস্যার

পরিচিত একটা সবজি আলু। ঘরে কিছু থাকুক আর না থাকুক আলু থাকবেই। আলু ছাড়া বাঙালির রান্না যেনো অসম্পূর্ণই রয়ে যায়। বাঙালি রান্নায় আলু যে স্বাদ বাড়ায়, সে কথা অতি আলোচিত। এখন তো এমনও বহু বাঙালি আছেন, যাঁরা আলু না পড়লে সে খাবার মুখেই তোলেন না। কিন্তু আলুর আরও অনেক ধরনের গুণ আছে। সে দিকেও তো নজর দিতে হয়।

ঘরে যেমন আর কোনও সবজি না থাকলে শুধু আলুই বাঁচিয়ে দিতে পারে, তেমন আরও কিছু সমস্যা আছে যার সমাধান সহজেই করে দিতে পারে এই সবজি।

চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যায় আলুর তিনটি সমস্যার সমাধান-

১) রান্না করার সময়ে হাত পুড়ে গিয়েছে। বাড়িতে ওষুধ নেই। এমন ক্ষেত্রে একটু আলু সেদ্ধ বাঁচিয়ে দিতে পারে। বাড়িতে ওষুধ না রাখার দোষ কাটিয়ে দেবে আলুর গুণ। সেদ্ধ করা আলু ভাল করে চটকে পুড়ে যাওয়া জায়গায় লাগিয়ে নিন। কিছু ক্ষণ এ ভাবে রেখে দিলে কমতে শুরু করবে জ্বালা ভাব।

২) সাদা জামায় ঝোল পড়েছে? অথবা চা? সে দাগ ওঠা সহজ নয়। জামার জন্য মন খারাপ না করে আলু কাটতে শুরু করুন। ভাল করে কুচিয়ে নিয়ে একটি পাত্রে জল ভরে আলু ভিজিয়ে রাখুন। আধ ঘণ্টা পর আলুর কুচিগুলি তুলে নিন। তার পর আলু ভেজানো সেই জলে একটি কাপড় ভিজিয়ে নিন। সেই কাপড় দিয়ে ঘষে নিন দাগ। মুহূর্তে ফেরি পাবেন আহ্লাদের জামার রং।

৩) কোনও কিছু দিয়েই আর রুপোর বাসনপত্রের হারানো ঔজ্জ্বল্য ফিরছে না? নানা জিনিস দিয়ে ঘষেই চলেছেন? এই সমস্যারও সমাধান করতে পারে আলু। কাঁচা আলুর একটি টুকরো ভাল ভাবে ঘষে নিন সে সব বাসনে। তার পর একটি পাত্রে জল নিয়ে টুকরো টুকরো করে কাটা আলু সেদ্ধ করুন। আলু তুলে নিন বাসন ধুয়ে নিন সেদ্ধ করার জল দিয়ে। ফিরবে রুপোর ঔজ্জ্বল্য।

আলু   গুনাগুণ   সমস্যা   সমাধান  


মন্তব্য করুন


লিভিং ইনসাইড

কুরবানির শর্ত ও নিয়মাবলি

প্রকাশ: ০৯:১৬ এএম, ২৬ Jun, ২০২২


Thumbnail কুরবানির শর্ত ও নিয়মাবলি

আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নৈকট্য অর্জন ও তার ইবাদতের জন্য পশু জবেহ করাই কুরবানি। ঈদুল আজহার দিন থেকে কুরবানির দিনগুলোতে নির্দিষ্ট প্রকারের গৃহপালিত পশু আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের জন্য জবেহ করাই হচ্ছে কুরবানি। ইসলামি শরিয়তে এটি ইবাদত হিসেবে সিদ্ধ। যা কুরআন, হাদিস ও মুসলিম উম্মাহর ঐক্যমত দ্বারা প্রমাণিত। কুরআন মাজিদে এসেছে-‘তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় কর ও কুরবানি কর।’ (সুরা কাউসার : আয়াত ২)

১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত যে প্রাপ্ত বয়স্ক সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন পুরুষ ও নারীর কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ৭ ভরি সোনা অথবা সাড়ে ৫২ তোলা রূপার মূল্য পরিমাণ সম্পদ থাকবে তার কুরবানি করা ওয়াজিব।

টাকা-পয়সা, সোনা-রূপার অলঙ্কার, ব্যবসায়িক পণ্য, প্রয়োজনের অতিরিক্ত জমি, সৌখিন বা অপ্রয়োজনী আসবাবপত্র এসব কিছুর মূল্য কুরবানির নেসাবের ক্ষেত্রে হিসাবযোগ্য।

কুরবানির শর্তাবলি
কুরবানি করার জন্য নির্দিষ্ট পশু রয়েছে। তবে এ সব পশুর বয়স এবং এক পশুতে কয়জন অংশগ্রহণ করতে পারবে এ সম্পর্কে ইসলামের অনেক দিকনির্দেশনা রয়েছে। আর তাহলো-

> কুরবানির পশু
এমন পশু দ্বারা কুরবানি দিতে হবে যা ইসলামি শরিয়ত নির্ধারণ করে দিয়েছে। সেগুলো হল- উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা। এগুলোকে কুরআনের ভাষায় বলা হয় ‘বাহীমাতুল আনআম।’ হাদিসে এসেছে- ‘তোমরা অবশ্যই নির্দিষ্ট বয়সের পশু কুরবানি করবে। তবে তা তোমাদের জন্য দুষ্কর হলে ছয় মাসের মেষ-শাবক কুরবানি করতে পার।’

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা ছাড়া অন্য কোনো জন্তু কুরবানি করেননি ও কুরবানি করতে বলেননি। তাই কুরবানি শুধু এগুলো দিয়েই করতে হবে।

ইমাম মালিক রাহমাতুল্লাহি আলাইহি'র মতে, কুরবানির জন্য সর্বোত্তম জন্তু হল শিংওয়ালা সাদা-কালো দুম্বা। কারণ রাসলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ ধরনের দুম্বা কুরবানি করেছেন বলে বুখারি ও মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে।

উট, গরু ও মহিষ সাত ভাগে কুরবানি দেয়া যায়। হাদিসে এসেছে- ‘আমরা হুদাইবিয়াতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে ছিলাম। তখন আমরা উট ও গরু দ্বারা সাত জনের পক্ষ থেকে কুরবানি দিয়েছি।’

গুণগত দিক থেকে উত্তম হল- কুরবানির পশু হৃষ্টপুষ্ট, অধিক গোশত সম্পন্ন, নিখুঁত, দেখতে সুন্দর হওয়া।

> কুরবানির পশুর বয়স
কুরবানির পশু পরিপূর্ণ বয়সের হতে হবে। ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে কুরবানির পশুর বয়সের দিকটা খেয়াল রাখা জরুরি। আর তাহলো-
- উট : পাঁচ বছরের হতে হবে।
- গরু-মহিষ : দুই বছরের হতে হবে।
- ছাগল-ভেড়া-দুম্বা : এক বছর বয়সের হতে হবে।

> পশু দোষ-ত্রুটিমুক্ত হতে হবে
কুরবানির পশু যাবতীয় দোষ-ত্রুটিমুক্ত হতে হবে। হাদিসে এসেছে-
সাহাবি হজরত আল-বারা ইবনে আজেব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের মাঝে দাঁড়ালেন তারপর বললেন- চার ধরনের পশু, যা দিয়ে কুরবানি জায়েজ হবে না। অন্য বর্ণনায় বলা হয়েছে পরিপূর্ণ হবে না। (আর তাহলো)-
- অন্ধ, যার অন্ধত্ব স্পষ্ট।
- রোগাক্রান্ত, যার রোগ স্পষ্ট।
- পঙ্গু, যার পঙ্গুত্ব স্পষ্ট এবং
- আহত, যার কোনো অঙ্গ ভেঙ্গে গেছে। নাসাঈ'র বর্ণনা ‘আহত’ শব্দের স্থলে ‘পাগল’ উল্লেখ আছে।

> কুরবানি মাকরূহ হবে
আবার পশুর এমন কতগুলো ত্রুটি আছে যা থাকলে কুরবানি আদায় হবে কিন্তু তা মাকরূহ হবে। এ সব দোষত্রুটিযুক্ত পশু কুরবানি না করাই ভালো। আর তাহলো-
- পশুর শিং ভাঙ্গা।
- কান কাটা।
- লেজ কাটা।
- ওলান কাটা কিংবা লিঙ্গ কাটা ইত্যাদি।

> পরিপূর্ণ মালিকানা থাকা
কুরবানি দাতা যে পশুটি কুরবানি করবেন, তার উপর কুরবানি দাতার পরিপূর্ণ মালিকানাসত্ত্ব থাকতে হবে। যদি এ পশু বন্ধকের পশু, কর্জ করা পশু বা পথে পাওয়া পশু হয় তবে তা দ্বারা কুরবানি আদায় হবে না।

কুরবানির নিয়মাবলী
> মুখের উচ্চারণ দ্বারা নির্দিষ্ট করা যেতে পারে। এভাবে বলা যায় যে- ‘এ পশুটি আমার কুরবানির জন্য নির্দিষ্ট করা হল।’ তবে ভবিষ্যতের জন্য নির্দিষ্ট করা যাবে না। এমন বলা যে- ‘আমি এ পশুটি কুরবানির জন্য রেখে দেব।’

> কাজের মাধ্যমে নির্দিষ্ট করা যায়। যেমন- কুরবানির নিয়তে পশু কেনা অথবা কুরবানির নিয়তে জবেহ করা। যখন পশু কুরবানির জন্য নির্দিষ্ট করা হয় তখন কিছু বিষয় কার্যকর হয়ে যায়। আর তাহলো-

- প্রথমত : এ পশু কুরবানি ছাড়া অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে না। দান করা যাবে না। বিক্রি করা যাবে না। তবে কুরবানি ভালোভাবে আদায় করার জন্য তার চেয়ে উত্তম পশু দ্বারা পরিবর্তন করা যাবে।

- দ্বিতীয়ত : যদি পশুর মালিক মারা যায় তবে তার ওয়ারিশদের দায়িত্ব হল এ কুরবানি বাস্তবায়ন করা।

- তৃতীয়ত : এ পশুর থেকে কোনো ধরনের উপকার ভোগ করা যাবে না। যেমন- কুরবানির পশুর দুধ বিক্রি করা যাবে না। কৃষিকাজে ব্যবহার করা যাবে না। সাওয়ারি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। পশম বিক্রি করা যাবে না। যদি পশম আলাদা করে তাবে তা সদকা করে দিতে হবে বা নিজের কোনো কাজে ব্যবহার করতে পারবে কিন্তু বিক্রি করা যাবে না।

- চতুর্থত : কুরবানি দাতার অবহেলা বা অযত্নের কারণে যদি কুরবানির নির্ধারিত পশুটি দোষযুক্ত হয়ে পড়ে, চুরি হয়ে যায় কিংবা হারিয়ে যায় তবে কুরবানি দাতার কর্তব্য হবে অনুরূপ বা তার চেয়ে ভাল একটি পশু ক্রয় করা। আর যদি অবহেলা বা অযত্নের কারণে না হয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে দোষযুক্ত হয় তবে এ দোষযুক্ত পশু কুরবানি করা যাবে।

- যদি পশুটি হারিয়ে যায় অথবা চুরি হয়ে যায় আর কুরবানি দাতার উপর আগে থেকেই কুরবানি ওয়াজিব হয়ে থাকে তাহলে সে কুরবানির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি লাভ করবে।

- আর যদি আগে থেকে কুরবানি ওয়াজিব ছিল না কিন্তু সে কুরবানির নিয়তে পশু ক্রয় করে থাকে তবে চুরি হয়ে গেলে বা মরে গেলে অথবা হারিয়ে গেলে তাকে আবার পশু কিনে কুরবানি করতে হবে।

মুমিন মুসলমানের উচিত, উল্লেখিত শর্ত ও নিয়মগুলো মেনে কুরবানি করা প্রত্যেকের একান্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য।

হে আল্লাহ! মুসলিম উম্মাহকে যথাযথ শর্ত ও নিয়ম মেনে কুরবানির পশু কেনার ও কুরবানি করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

কুরবানি   শর্ত   নিয়মাবলি  


মন্তব্য করুন


লিভিং ইনসাইড

কতটা ভয়ঙ্কর ওমিক্রনের সাব-ভ্যারিয়েন্ট!

প্রকাশ: ০৬:১৮ পিএম, ২৫ Jun, ২০২২


Thumbnail কতটা ভয়ঙ্কর ওমিক্রনের সাব-ভ্যারিয়েন্ট!

দেশে ফের বাড়তে শুরু করেছে মহামারি করোনাভাইরাসের প্রকোপ। এবার ওমিক্রনের নতুন সাব-ভ্যারিয়েন্ট বা উপধরন শনাক্ত হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (২১ জুন) যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জিনোম সেন্টারের একদল গবেষক এ সাব-ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত করেন।

যবিপ্রবির সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) আবদুর রশিদ বলেন, বাংলাদেশি দুজনের শরীরে করোনাভাইরাসের ওমিক্রন ধরনের নতুন সাব-ভ্যারিয়েন্ট ‘বিএ.৪-৫’ শনাক্ত হয়েছে।

এদিকে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও এরই মধ্যে ওমিক্রনের সাব-ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ছে। যদিও ওমিক্রনের নতুন সাবভেরিয়েন্ট বিএ.৪ ও বিএ.৫-এর তীব্রতা নিয়ে এখন পর্যন্ত সীমিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

তবে এটা স্পষ্ট যে ওমিক্রনের বিএ৪-৫ ও বিএ.২.১২.১ সাব-ভ্যারিয়েন্ট অতীত সংস্করণের তুলনায় আরও বেশি সংক্রামক ও দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। সিডিসি ধারণা করছে, বিএ৪-৫ চলতি বছরের মে মাসের প্রথম থেকে বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।

সাব-ভ্যারিয়েন্ট কতটা ভয়ঙ্কর!

বিএ.৪ ও বিএ.৫ ভেরিয়েন্ট রোগীর জন্য তেমন গুরুতর না হলেও, তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতা রাখে। করোনার ওমিক্রণের এই সাব-ভ্যারিয়েন্ট ফুসফুসে স্থায়ী হয়। ওমিক্রনের অন্যান্য রূপগুলোর মতোই নতুন সাব-ভ্যারিয়েন্টের উপসর্গগুলো সাধারণত হালকা হয়;

যার মধ্যে জ্বর, অস্বস্তি, শ্বাসকষ্ট, গন্ধ হ্রাস অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। যদিও দীর্ঘমেয়াদি উপসর্গের (লং কোভিড) প্রাদুর্ভাব এখনও মূল্যায়ন করা হচ্ছে। গুরুতর অসুস্থতা বিরল কিন্তু কারও কারও ক্ষেত্রে তা মারাত্মক হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যারা করোনা টিকার সবগুলো ডোজ সম্পন্ন করেননি তারা বিএ৪-৫-এ আক্রান্ত হলো গুরুতর উপসর্গে ভুগতে পারেন। তাই সবাইকে করোনার টিকা ও বুস্টার ডোজ গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি মাস্ক, স্যানিটাইজার, বারবার হাত ধোওয়াসহ ব্যক্তিগত সুরক্ষা বজায় রাখতে হবে।

সূত্র : টাইম ও জিনিউজ

ওমিক্রন   সাব-ভ্যারিয়েন্ট   কতটা ভয়ঙ্কর  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন