লিট ইনসাইড

বন্ধুত্ব

প্রকাশ: ০৮:৩৯ পিএম, ২৬ মে, ২০২৩


Thumbnail

নীলা মধ্যবয়সী একজন নারী। সকাল থেকে রাত কাটে সংসারের চার দেয়ালের মাঝে। খুব সকালে উঠে ছেলে আর বরের জন্য নাস্তা বানায়। টেবিলে সাজিয়ে তারপর ওদের ডাকে। ওরা যে যার মতো উঠে খেয়ে বেরিয়ে পড়ে। খাবার টেবিলে ছেলে ফোন নিয়ে থাকে। বরেরও তাড়া থাকে। টুকটাক দু’একটা কথা ছাড়া তেমন কোনো কথাই হয় না কারও সাথে। কারও কোনো সময় নেই নীলাকে দেবার। যে যার মতো খুব ব্যস্ত। রোজ কত কথা জমে থাকে নীলার মনে! একাকিত্বটা দিন দিন নীলাকে বড় বিমর্ষ করে তুলছে।

নীলার শরীরটা কিছুদিন ধরে বেশ খারাপ। হাসবেন্ড আসিফকে বলল, ‘আজ অফিস থেকে একটু তাড়াতাড়ি এসো ডাক্তারের কাছে যাব।’ আসিফ বলল, ‘সম্ভব নয়। একা চলে যেও। তুমি তো আর বাচ্চা নও যে সঙ্গে আমাকে যেতে হবে।’ কথাটা শুনে নীলার খুব মন খারাপ হলো। বয়স হয়েছে বলেই কি বরের সাথে ডাক্তারের কাছে যাওয়া যাবে না! বিকেলে সে একাই চলে গেল ডাক্তারের কাছে। ফেরার সময় হাসপাতালের করিডোর দিয়ে হাঁটছিল ও। হঠাৎ পাশের একটা রুম থেকে কারও প্রচণ্ড চিৎকার শুনতে পেল। ওর এত খারাপ লাগছিল যে, ও রুমে উঁকি দিল। দরজা খোলাই ছিল। দেখে ডাক্তার নার্স সবাই একজন মহিলাকে চেপে ধরে আছে। কিন্তু সে স্যালাইন হাতে বিছানায় গড়াগড়ি খাচ্ছে আর চিৎকার করছে। দেখে নীলার এত কষ্ট লাগছে! কি কষ্ট পাচ্ছে মানুষটা! নার্স একটা ইনজেকশন পুশ করল। ধীরে ধীরে মহিলাটি শান্ত হলো। নীলা এবার ভালো করে মহিলার মুখটি দেখতে পেল। চেনা চেনা লাগছে। এবার ভালো করে দেখে। আরে! এত ওর কলেজ জীবনের বান্ধবী রুবি। কিন্তু একি অবস্থা ওর! কলেজের সবচেয়ে সুন্দরী মেয়েটি আজ এরকম হয়ে গেছে কিভাবে! শুকিয়ে কংকাল। সেই রূপ কোথায় ওর! বেশ কিছু বছরের ব্যবধানে এমন পরিবর্তন হয়ে যায় মানুষের! তাছাড়া ওর কি হয়েছে যে এত কষ্ট পাচ্ছে! এসব ভাবতে ভাবতেই নীলা রুবির কাছে গেল। রুবি এখন অনেক শান্ত। ‘চিনতে পারছিস?’ নীলা জিজ্ঞাসা করল। 

রুবি কিছুক্ষণ নীলার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর কান্নায় ভেঙে পড়ে। নীলা গিয়ে রুবিকে জড়িয়ে ধরল। অনেকক্ষণ দু'জন দু'জনকে জড়িয়ে ধরে কাঁদল। তারপর কথা বলতে বলতে নীলা জানতে পারে রুবির ক্যান্সার। তাও শেষ পর্যায়ে। নীলা এ কথা শুনে স্তব্ধ হয়ে গেল। এত বছর পর প্রিয় বান্ধবীকে খুঁজে পেলো, তাও এই অবস্থায়! নীলার খুব কষ্ট হচ্ছিল। 

কলেজে ওরা তিনজন ছিল কাছের বন্ধু। ওরা দু'জন। আরেকজন অরুনিমা। একদিন একে অপরকে দেখতে না পেলে যেন জীবন চলত না ওদের। সমস্ত কলেজ জানত ওরা থ্রি জুয়েলস। সব জায়গায় ওরা একসাথে যেত। ক্যাফে, লাইব্রেরি, আইসক্রিম খেতে যাওয়া। কিংবা মার্কেটে যাওয়া। সবাই বলত এমন বন্ধুত্ব খুব কমই হয়। কিছুদিন পর ওদের ক্লাসে একটা নতুন ছেলে ভর্তি হয়। তখন থেকেই শুরু হয় রুবি আর নীলার মধ্যে সমস্যা। রুবি হঠাৎ করেই কেমন নীলাকে এড়িয়ে চলে। নীলা অবাক হয়। কষ্ট পায়। কিন্তু কেন রুবি এমন করছে সেটা ও বুঝতে পারে না। যদিও রুবি তা মুখে প্রকাশ করত না। 

নতুন ছেলেটার নাম অর্ণব । রাস্তায় একদিন কিছু বাজে ছেলেরা নীলাকে টিজ করছিল। অর্ণব সেটা দেখতে পেয়ে ছেলেগুলোকে শায়েস্তা করে। সেটা দেখে নীলার অর্ণবকে খুব ভালো লেগে যায়। ধীরে ধীরে ও অনুভব করে যে ও অর্ণবকে ভালোবাসে। এদিকে রুবি যে অর্ণবকে ভালোবাসে এ কথা সে বুঝতে পারেনি। নীলা খুব ভালো ছবি আঁকত। ও অর্ণবের একটা ছবি এঁকেছে। ভেবেছে আজ সে অর্ণবকে ছবিটি দিয়ে ওর মনের কথা বলবে। কিন্তু গিয়ে দেখে অর্ণব আর রুবি খুব ঘনিষ্ঠভাবে বসে কথা বলছে। নীলার আর বুঝতে কিছু বাকি রইল না রুবি কেন ওকে এড়িয়ে চলে। রুবি জানত নীলা অর্ণবকে ভালোবাসে। তাই ও নীলাকে এড়িয়ে চলত। 

কলেজ জীবন শেষে তিন বান্ধবী একেক বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যায়। তারপর যে যার জীবন নিয়ে ব্যস্ত। কারও সাথে আর কারও যোগাযোগ থাকে না। নীলা রুবির পাশে বসে পুরনো কথাগুলো ভাবছিল। কিন্তু রুবিকে সে এভাবে দেখবে এটা সে ভুলেও ভাবতে পারেনি। ওর খুব কষ্ট হচ্ছে। নীলা জিজ্ঞেস করল অর্ণব কোথায়? রুবি কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে জানাল অর্ণবের সাথে ওর বিয়ে হয়নি ভুল বোঝাবুঝির কারণে। পরে রুবি আর বিয়ে করেনি। অর্ণব কোথায় সে জানে না। কিন্তু ওর শেষ ইচ্ছে অরুনিমা আর অর্ণবের সাথে দেখা করা। রুবি অনেক খুঁজেছে ওদের, পায়নি। নীলা যেন চেষ্টা করে ওদের খুঁজে বের করতে। মৃত্যুর আগে অন্তত একবার তাদের দেখতে চায় সে। নীলা কথা দেয় রুবিকে ওদের খুঁজে বের করবে। রুবি নীলার হাত ধরে শুয়ে আছে। দু'জনের চোখই ভেজা। রুবির কাছ থেকে বিদায় নিয়ে নীলা বাসায় ফিরল। আজ ওর মন অনেক খারাপ রুবির জন্য। আজ আর সময়মত সংসারের সব কাজ নিখুঁতভাবে করার দিকে মন নেই ওর। 

নীলা ওর পুরনো ডায়েরিটা বের করে সব বন্ধুদের ফোন দেয়। কিন্তু কাউকেই আর আগের নম্বরে পাওয়া যায় না। ফেসবুক সার্চ করে। কিন্তু কোনো লাভ হয় না। অনেক খোঁজাখুঁজির পর অবশেষে একজনের মাধ্যমে অরুনিমাকে খুঁজে পায়। কিন্তু অর্ণবকে খুঁজে পায় না কিছুতেই। এদিকে রুবির শেষ ইচ্ছে ওকে পূরণ করতেই হবে। 

নীলার স্বামী আসিফ অফিস থেকে এসে দেখে নীলা চুপচাপ বসে আছে। ইদানিং দেখে নীলা কেমন আনমনা থাকে। সংসারের প্রতি কোনো মন নেই। অন্যসময় হলে এ সময় সে আসিফের জন্য কফি নিয়ে আসত। কিন্তু এখন আর সেটা করে না। হঠাৎ নীলা বলল, "তোমার এক বন্ধু আছে না পুলিশের বড়ো কর্মকর্তা? "
‘হ্যাঁ। কেন?’
‘আমার একটা কাজ করে দিতে পারবে?’ 
‘তোমার আবার কী কাজ?’ আসিফ অবাক হয়। 
‘আমার একজন বন্ধুকে খুঁজে বের করতে হবে।’ 
‘মানে?’ 
আসিফ অবাক হলো। ‘কি বলছ এসব? বন্ধুকে খুঁজে বের করতে পুলিশের সাহায্য লাগবে? সে কি ক্রিমিনাল? তোমার কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে?’

নীলা রুবির শেষ ইচ্ছের কথা শোনালো আসিফকে। আসিফ বলল, ‘ফেসবুকে খুঁজে বের করো।’ ‘খুঁজেছি। পাইনি। কি নামে আছে। সেটা তো জানি না। আসল নামে আর ছবিতে পাইনি।’ আসিফ বলল, ‘আচ্ছা দেখি রাকিবের সাথে কথা বলে। বাসায় আসতে বলবো। তুমিই কথা বলে নিও।’

এখন প্রতিদিন নীলা রুবিকে দেখতে যায়। এটা-সেটা রান্না করে নিয়ে যায়। যদিও রুবি কিছুই খেতে পারে না। ওরা বসে বসে কলেজ জীবনে ওদের ছবিগুলো দেখে। কখনো হাসে। কখনো কাঁদে। 

নীলা অরুনিমার ঠিকানা নিয়ে একদিন গিয়ে দেখে একি অবস্থা ওর! এত ধনী লোকের স্ত্রীর আজ এই অবস্থা! বাসার সবকিছুতে দারিদ্র্যের ছাপ। বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রাখতে না রাখতেই ওর বিয়ে হয়ে গিয়েছিল। বর ধনী ব্যবসায়ী। তারপর আর পড়াশোনা করেনি ও। ওর বিয়েতে শেষবারের মতো সবার সাথে দেখা হয়েছিল নীলার। তারপর যে যার জীবনে ব্যস্ত হয়ে গেল। আর কারও সাথে কারও যোগাযোগ হয়নি। 

নীলাকে দেখে অরুনিমা ওকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলে। বছর চারেক আগে অরুনিমার স্বামী মারা যায়। অনেক দেনা ছিল ওর বরের। সেসব শোধ করতেই সবকিছু শেষ হয়ে যায় ওদের। অরুনিমা যেহেতু বেশি পড়াশোনা করেনি তাই ভালো কোনো চাকরি পায়নি। কোনোরকমে একটা চাকরি করে মেয়েকে নিয়ে চলছে। 

নীলার সব শুনে মন খারাপ হলো। নীলা ওকে রুবির কথা বলল। অরুনিমারও রুবির কথা শুনে খুব কষ্ট হচ্ছে। দু'জনে মিলে রুবিকে দেখতে গেল। রুবি অরুনিমাকে দেখে খুব খুশি হলো। এখন ওরা তিনজন মিলে গল্প করে। সময় কাটায়। তিনজনেরই ভালো লাগে। নীলা ওর একঘেয়ে জীবন থেকে বেরিয়ে এসেছে। অরুনিমা অভাবের ভারে নুয়ে পড়ে বেঁচে থাকার আনন্দ থেকেই বঞ্চিত হচ্ছিল। সেও এখন বন্ধুদের খুঁজে পেয়ে একটু ভালো আছে। রুবিও যে ক'টা দিন বেঁচে আছে ওদের সাথে আনন্দে সময় কাটাচ্ছে। কিন্তু ওরা কিছুতেই অর্ণবকে খুঁজে পাচ্ছে না। এদিকে রুবির শেষ ইচ্ছে বলে কথা। একদিন অরুনিমা আর রুবি একটা কফিশপে বসে কফি খাচ্ছিল। সেখানে গিয়ে অর্ণবের মতো একটা ছেলেকে দেখতে পায়। কিন্তু ছেলেটা বয়সে অনেক ছোটো। অর্ণব কি করে হবে ওরা ভাবে। ছেলেটা বন্ধুদের সাথে আডডা দিচ্ছে। নীলা ছেলেটার সাথে একটু আলাদা করে কথা বলতে চাইল। ও ছেলেটার সাথে কথা বলে জানতে পারে ওর বাবাই ওদের বন্ধু অর্ণব। ওরা ছেলেটার কাছে ওর বাবার ফোন নম্বর চায়। বাসায় ফিরে নীলা অর্ণবকে ফোন দেয়। 
‘হ্যালো, আমি নীলা। চিনতে পারছো?’
অর্ণব কিছুটা সময় নেয় চিনতে। রুবির কথা শোনে। 

পরেরদিন ওরা সবাই যায় রুবিকে দেখতে হাসপাতালে। রুবি অর্ণবকে দেখে চিনতে পারে। রুবি কাঁদছে। হয়ত পুরনো কথাগুলো মনে পড়ছে। নীলা আর অরুনিমা রুম থেকে বেরিয়ে আসে। ওদেরকে একা ছেড়ে দেয়। কত কথা জমে আছে ওদের।  

নীলা বাড়ি ফিরে অর্ণবের ছবিটি বের করে দেখে, যেটা সে অর্ণবের জন্য এঁকেছিল। এতদিন সে ছবিটি যত্ন করে রেখে দিয়েছিল। আজ সেটা ছিঁড়ে ফেলে দিলো। এর কিছুদিন পর রুবি মারা গেল। মৃত্যুর সময় সে একটা চিঠি লিখে গেছে নীলার কাছে। নীলা সেই চিঠিটা অরুনিমা আর অর্ণবকে পড়ে শোনাচ্ছে। 

‘নীলা, তোর হয়তো আমার ওপর রাগ, দুঃখ, অভিমান ছিল। সে জন্যই বোধহয় অর্ণবের সাথে আমার ভাগ্য জুড়েনি। সারাজীবন আমি সুখী হতে পারিনি। জীবনের শেষ সময়গুলোতে সেই তুই আবার আমাকে একটু সুখ দিলি। সবাইকে আবার এক করলি। এভাবে সবাই এক থাকিস। সুখে-দুঃখে বাকি জীবন কেউ কাউকে ছেড়ে যাসনে। একে অপরের পাশে থাকিস। তবেই আমার আত্মা শান্তি পাবে।’ চিঠিটা পড়ে সবার চোখ ভিজে উঠেছে। 


মন্তব্য করুন


লিট ইনসাইড

হাসপাতালে ভর্তি সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

প্রকাশ: ০৮:৪৭ এএম, ১৮ জুন, ২০২৪


Thumbnail

পেসমেকার বদলের জন্য দক্ষিণ কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। পরিবারিক সূত্রের খবর, দুই দিন আগে ভর্তি হন তিনি। জানা গেছে, তার অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে। বর্তমানে ভালো আছেন তিনি।

চিকিৎসার নিয়ম অনুসারে নির্দিষ্ট সময় অন্তর পেসমেকার বদলাতে হয়। পেসমেকারের কারণে বর্ষীয়ান এই লেখকের যাতে অন্যকোনো শারীরিক সমস্যা তৈরি না হয়, তাই তড়িঘড়ি তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। নির্দিষ্ট দিনে তার অস্ত্রোপচার হয়।

তবে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়েছে, বর্তমানে ৮৮ বছরের সাহিত্যিকের অবস্থা স্থিতিশীল। কয়েক দিনের মধ্যেই বাড়ি ফিরবেন তিনি।


হাসপাতাল   সাহিত্যিক   শীর্ষেন্দু   মুখোপাধ্যায়  


মন্তব্য করুন


লিট ইনসাইড

কবিতা

প্রকাশ: ০২:০৩ পিএম, ২৩ মার্চ, ২০২৪


Thumbnail




মন্তব্য করুন


লিট ইনসাইড

বিশ্বের সেরা এবং আকর্ষণীয় পাচ মসজিদ

প্রকাশ: ১১:০২ এএম, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪


Thumbnail

বিশ্বের এমন পাঁচটি মসজিদ সম্পর্কে জেনে নিন:


১. মসজিদুল হারাম, মক্কা, সৌদি আরব:

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মানুষ দেখতে যায়, এমন মসজিদের তালিকায় সবার প্রথমে আছে পবিত্র নগরী মক্কার মসজিদুল হারাম। প্রতিবছর প্রায় ৮০ লাখ মানুষ এই মসজিদে যান। এটিই বিশ্বের সবচেয়ে বড় মসজিদ। একসঙ্গে ১৫ লাখ মানুষ এখানে প্রবেশ করে ঘুরে দেখতে পারেন। মুসলমানদের কাছে সবচেয়ে পবিত্র তিন স্থানের একটি এই মসজিদুল হারাম। মুসলমানদের কিবলা পবিত্র কাবাশরিফ এখানেই অবস্থিত।

তবে যে কেউ চাইলেই মসজিদুল হারামে প্রবেশ করতে পারেন না। অমুসলিমদের জন্য মক্কা নগরীতে প্রবেশ পুরোপুরি নিষিদ্ধ।


২. শেখ জায়েদ মসজিদ, আবুধাবি, সংযুক্ত আরব আমিরাত:

২০০৭ সালে স্থাপিত এই মসজিদ পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মসজিদগুলোর একটি। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ঝাড়বাতি ও সবচেয়ে বড় গালিচাও আছে এই মসজিদে।

আরব আমিরাতে বসবাসকারীদের বেশির ভাগই প্রবাসী, যাঁরা মূলত শ্রমজীবী হিসেবে বিভিন্ন দেশ থেকে সেখানে যান। এই বৈচিত্র্যময়তাই মসজিদটির নকশার মূল ভিত্তি। ব্রিটিশ, ইতালীয় ও আমিরাতি স্থপতিরা মিসর, মরক্কো, তুরস্ক, পাকিস্তানসহ বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশের মসজিদের নকশা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে শেখ জায়েদ মসজিদের নকশা এঁকেছেন।

প্রতিবছর মসজিদটি দেখতে প্রচুর দর্শনার্থী আসেন। শুধু ২০১৭ সালেই এসেছেন প্রায় ৫৮ লাখ দর্শনার্থী। নামাজের সময় ছাড়া অন্য সময় অমুসলিম দর্শনার্থীরাও মসজিদ ঘুরে দেখতে পারেন। তবে শুক্রবার অমুসলিম দর্শনার্থীদের এই মসজিদে প্রবেশ নিষেধ।


৩. আয়া সোফিয়া, ইস্তাম্বুল, তুরস্ক:

ইউরোপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় শহরগুলোর একটি তুরস্কের রাজধানী ইস্তাম্বুল। আর ইস্তাম্বুল বা গোটা ইউরোপের অন্যতম সুন্দর মসজিদ আয়া সোফিয়া। ৩৬০ খ্রিষ্ট-পূর্বাব্দে স্থাপিত এ স্থাপনা শুরুতে মসজিদ ছিল না। ১৪৬৩ সালে সুলতান মেহমেদ এটিকে মসজিদ হিসেবে স্বীকৃতি দেন।

১৯৩৪ সালে এটিকে জাদুঘরে রূপান্তরিত করে তৎকালীন তুরস্ক সরকার। কিন্তু ২০২০ সালে তুরস্কের রাষ্ট্রপতি রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এটিকে আবার নামাজ আদায়ের জন্য মুসল্লিদের কাছে উন্মুক্ত করে দেন। ১৯৮৫ সালে আয়া সোফিয়াকে বিশ্ব ঐতিহ্যর স্বীকৃতি দেয় ইউনেসকো।


৪. আল–আকসা মসজিদ, পূর্ব জেরুজালেম, ইসরায়েল:

মুসলিম স্থাপত্যশৈলীর শুরুর দিককার অন্যতম নিদর্শন জেরুজালেমের আল–আকসা মসজিদ।

বলা হয়ে থাকে, খোলাফায়ে রাশিদিনের অন্যতম খলিফা হজরত উমর (রা.)–র শাসনামলে ৬৩৭ খ্রিষ্টাব্দে শুরু হয় মসজিদটির নির্মাণকাজ। তবে বর্তমানে আল-আকসা বলতে পুরো চত্বরটাকেই বোঝানো হয়। ‘হারাম আল শরিফ’ নামে পরিচিত এই চত্বরের চার দেয়ালের মধ্যে আছে কিবলি মসজিদ, কুব্বাতুস সাখরা (ডোম অব দ্য রক) ও বুরাক মসজিদ। মূল আল–আকসা বা কিবলি মসজিদ হলো ধূসর সীসার পাতে আচ্ছাদিত গম্বুজওয়ালা একটি স্থাপনা। তবে পর্যটকের কাছে আল–আকসা নামে বেশি প্রসিদ্ধ সোনালি গম্বুজের স্থাপনা কুব্বাতুস সাখরা।

জেরুজালেমের সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন এই মসজিদ ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের তালিকায় উঠে আসে ১৯৮১ সালে। এখানে প্রায় চার লাখ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন । তবে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত আল-আকসা মসজিদ বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েলি পুলিশ। কোনো মুসল্লিকে তারা মসজিদ প্রাঙ্গণে ঢুকতে দিচ্ছে না। পবিত্র স্থানটির দায়িত্বে থাকা ইসলামিক ওয়াক্‌ফ বিভাগ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।


৫. দ্বিতীয় হাসান মসজিদ, কাসাব্লাঙ্কা, মরক্কো:

আলজেরিয়ার জামা এল জাযের মসজিদের মিনার সবচেয়ে উঁচু, ৮৭০ ফুট। তারপরেই কাসাব্লাঙ্কার দ্বিতীয় হাসান মসজিদের মিনার, উচ্চতা ৬৮৯ ফুট। মরক্কোর বাদশাহ দ্বিতীয় হাসানের তত্ত্বাবধানে নির্মিত মসজিদটির নকশাকার ফরাসি স্থপতি মিশেল পিনসু।

আটলান্টিক মহাসাগরের একটি শৈলান্তরীপের মাথায় মসজিদটির অবস্থান। মেঝের একটা অংশ স্বচ্ছ কাচের বলে আটলান্টিকের নীল পানি দেখতে পান নামাজে যাওয়া মুসল্লিরা। দেয়ালে মার্বেলের চোখধাঁধানো কারুকাজ। ছাদ অপসারণযোগ্য বলে নামাজ পড়তে যাওয়া মুসল্লিরা রাতের আকাশও দেখতে পান।

দ্বিতীয় হাসান মসজিদের মিনার থেকে একটি লেজাররশ্মি মুসলমানদের কিবলা কাবাঘরের দিকে তাক করা। অনন্য স্থাপত্যশৈলীর জন্য জগৎ–খ্যাত এই মসজিদে একসঙ্গে ১ লাখ ৫ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায় করার সুবিধা আছে।


মসজিদ   সেরা  


মন্তব্য করুন


লিট ইনসাইড

মুখের ঠিকানা

প্রকাশ: ১২:১৬ পিএম, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪