লিট ইনসাইড

ব্যাড ব্রান্ডেড জেনারেশন আখ্যান

প্রকাশ: ১০:০০ পিএম, ২০ Jul, ২০২১


Thumbnail

গল্পটি বেশ পুরনো।
সোহেল ক্লাস সেভেন থেকে এইটে উঠেছে মাত্র। নব্বই দশকের মাঝের ওই সময়টাতে বাংলা ব্যান্ড সংগীতের বেশ শক্ত একটা অবস্থান হয়েছে। মফস্বল শহরের বাজারটার দুইটি ক্যাসেটের দোকানেই পাল্লা দিয়ে বাজছিলো সদ্য মুক্তি পাওয়া “দুঃখিনী দুঃখ কোরোনা” অ্যালবামের ঈশ্বর, সুলতানা বিবিয়ানা আর বিবাগী। টিফিনের টাকা থেকে অল্প অল্প করে জমানো কিছু টাকা পকেটে নিয়েই সোহেল ছুটলো বাজারে। নতুন ক্যাসেট পকেটে নিয়ে বাড়িতে ফিরেই শুরু হয়ে গেলো সোহেলের হেঁড়ে গলার সংগীত সাধনা। 

জেমসের গলার সাথে পাল্লা দিয়ে উচ্চস্বরের সেই চিৎকারে হয়তো বিরক্ত হতো পাশের বাড়ির বৃদ্ধ কলিম জোয়ারদার থেকে শুরু করে আশেপাশের কয়েক ঘর। অবশ্য সোহেলের এই ফুল ভলিউমে গান ছাড়ার আরো একটা উদ্দেশ্য ছিলো যেটা কেবলমাত্র একজন মানুষই জানতো। পাশের বাড়িতেই থাকতো একই সাথে ক্লাস সেভেনে পড়ুয়া নিশাত। যদিও নিশাতের গন্ডি ছিলো গার্লস স্কুলের চার দেয়াল আর মায়ের হাত ধরে অংকের কোচিং শেষে বাড়ি ফিরে সন্ধ্যা নামার পরেই পরার টেবিলে বসা। তবে রাস্তায়, গলিতে নিশাতের দিকে তাকিয়ে সোহেলের সেই ভালোবাসার চাহুনি নিশাত ঠিকই বুঝতো। তাই ফুল ভলিউমের গানগুলো যে নিশাতকে শোনানোর জন্যই সেটা বুঝতে নিশাতের বেশি দেরী হয়নি।

বছর কয়েক পরে ডিসেম্বরের এক শীতের সকালে নিপুন স্যারের ইংরেজী কোচিং শেষে হাটতে হাটতেই নিশাতকে প্রেম নিবেদন করেছিলো সোহেল। যদিওবা সেই প্রেম নিবেদনে কোনো জাঁকজমক আয়োজন ছিলো না, তাই মনে মনে কিছুটা দ্বিধায় ছিলো সোহেল। তবে শান্ত স্বভাবের সোহেলকে আগে থেকেই বেশ ভালো লাগায় সেদিন প্রেমের প্রস্তাবে সায় দিয়েছিলো নিশাত। 

রমজানের রোজার দিনগুলো বেশ অন্যরকম ছিলো সোহেলের কাছে, কারন এই সময়টাতেই ইফতারির বাহারি পদে প্লেট সাজিয়ে মাথায় ওড়না টেনে শেষ বিকালে সোহেলের বাড়ির দরজায় হাজির হতো নিশাত। পরে অবশ্য সোহেল স্বীকার করেছে ওই সময়টাতে নাকি নিশাতকে সবথেকে সুন্দর লাগতো দেখতে। 

এভাবে দূর থেকে অল্প অল্প দেখা, স্কুল ছুটির পরে পিছুপিছু বাড়ি পর্যন্ত আসা আর ঈদ কার্ডের ভাজে ঈদ শুভেচ্ছার ছলে চার বর্ণের ভালোবাসি লেখার সময়গুলো পাড়ি দিয়ে কলেজের গন্ডিও পেরুলো দুজন। 
উচ্চমাধ্যমিক শেষে দুজনে ভর্তি হলো আলাদা দুইটি বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২৭৪ কিলোমিটার দূরের পথ পাড়ি দিয়ে মাসে একবার কয়েক ঘন্টার জন্য নিশাতকে দেখতে পাওয়ার সুখস্মৃতি এখনো বেশ নস্টালজিক করে দেয় সোহেলকে।

গ্রাজুয়েশনের পরে ঢাকার একটি বেসরকারী কোম্পানীতে ভালো বেতনেই একটা চাকরী পায় সোহেল। সোহেলের এখনো মনে আছে চাকরী ফাইনাল ভাইভা শেষে নিশাতকে ফোন দিয়ে অঞ্জনের “চাকরীটা আমি পেয়ে গেছি নিশাত শুনছো” গেয়ে শুনিয়েছিলো সোহেল। মাত্র ৬ মাসের মাথায় ছোট্টবেলার প্রেমকে চূড়ান্ত পরিণতি দিয়ে নিশাতকে নিজের ঘরে নিয়ে আসার সময়টা এখনো মাঝে মাঝে সোহেলকে রোমাঞ্চিত করে।

বিয়ের ২ বছরের মাথায় সোহেল নিশাতের ঘর আলোকিত করে এসেছিলো ফুটফুটে নিকিতা। সারাদিন পরে অফিস শেষে বাসায় ফিরে নিকিতাকে কোলে তুলে নিলেই ওর মিষ্টি হাসিটাই সারাদিনের ক্লান্তি ভুলিয়ে দিতো সোহেলের। ধীরে ধীরে বড় হতে লাগলো নিকিতা। জীবনের লম্বা একটা সময় পার করে এসে বর্তমান সময়কে বেশ উপভোগ করে সোহেল। ছোট্ট নিকিতা এখন ক্লাস সেভেনে উঠেছে। নিকিতার বড় হয়ে ওঠার সাথে যুগের পরিবর্তনটাও একদম কাছ থেকে দেখেছে সোহেল নিশাত দম্পতি। 

মাঝে মাঝে নিকিতাদের এই জেনারেশনকে ওদের থেকে বেশি এগিয়ে থাকা প্রজন্ম মনে হয় ওদের কাছে। আবার যখন সোহেল দেখে যে মেয়ের দিনের অর্ধেক সময় কাটছে টিকটক লাইকীতে ভিডিও বানিয়ে, এই পার্টি সেই পার্টি আর অদ্ভুতুড়ে আচরনের ছেলে বন্ধুদের তখন বেশ আফসোসে ভোগে তারা দুজনেই। জাস্টফ্রেন্ড, ক্লোজফ্রেন্ড আর বেস্টবফ্রেন্ডের এই জটিল ধাঁধায় মাথা তলিয়ে যায় মাঝে মাঝে।

ওদের এই জেনারেশনে সুর তাল ছাড়াই গান গেয়ে ভাইরাল হয় হিরো আলম। নানান রকমের বই পড়ার অভ্যাস বা ইচ্ছা কোনোটাই যেন নেই তাদের। ওদের এই সময়ে সেরা গানের ট্যাগ লাগে ইউটিউবের ভিউ কাউন্টের পরিপ্রেক্ষিতে। ভার্চুয়াল জগতটাতে শোঅফ আর লিংক লবিংয়ের জানান দেওয়াটাই ওদের কাছে জীবনের উদ্দেশ্য মনে হয় হয়তোবা। সকল ধরণের নেশা দ্রব্য সেবন করার অভিজ্ঞতা থাকলেই সে ওদের বন্ধুমহলের কাছে হয়ে যায় আইকন আর এই বাজে অভ্যাসগুলোই নাকি ওদের ভাষায় কুলনেস। 

সেদিনের এক ঘটনা নিকিতার এক বন্ধুকে নাকি পুলিশ ধরে নিয়ে গেলো নাম না জানা এক মাদক বিক্রি আর সেবনের দায়ে। ভয় ধরিয়ে দেয় চারপাশের অনেক ঘটনায়। প্রেমের সংজ্ঞাই যেন পাল্টে দিয়েছে এই জেনারেশন। 

নিশাত জানে একই ক্লাসে পড়া ফাহিম তার মেয়ে নিকিতার তৃতীয় বয়ফ্রেন্ড। এর আগে দুটো ব্রেকআপের পরেও কোনোরকম আক্ষেপ বা হতাশা চোখে পড়েনি নিশাতের। বয়ফ্রেন্ডটা ওরা হয়তো মুড়িমুড়কির মতোই পাল্টে ফেলে। গতমাসেই নিকিতার এক মেয়ে ফ্রেন্ডকে কেন্দ্র করে তুলকালাম যুদ্ধ বাধিয়েছিলো পাশাপাশি দুই এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের ছেলেরা। নিশাত সোহেল দম্পতির মনে ভয় ধরেছিলো কলাবাগানে বন্ধুর বাসায় রেপ হয়ে এক মেয়ের মৃত্যুর খবরে। 

ঈদের সময়টা এই জেনারেশন আর উপভোগ করেনা হয়তো। অথচ সোহেলের মনে পড়ে যায় ঈদের আগের রাতে পটকা বাজি ফুটানো বাইরে বাইরে ঘুরে বেড়ানোতেই মজা খুঁজে পেতো ওরা। এখন নাকি আর ঈদকার্ডে শুভেচ্ছা জানানোর দরকার পড়ে না। সোশ্যাল মিডিয়াতে ঈদ এসেছে ঝড় তুলতে তুলতে ঠিক পরদিনই সেটা “অন দিস ডে” এর অতীতে হারিয়ে যায়। 

এই সময়টা কেমন যেন লাগে তাদের দুজনের, একটা জেনারেশনের মধ্যে এতো এতো হতাশা, এতো অজ্ঞতা, নিজের প্রতি নিজের এতো কনফিডেন্সহীনতা বেশ মন খারাপ করিয়ে দেয় ওদের। মাঝে মাঝে স্মৃতি রোমন্থন করে নিজেদের অতীতে ফিরে নিশাত আর সোহেল। অস্থিরতা ভর করা এই সময়ের জেনারেশনকে তাই ওদের কাছে মনে হয় ব্যাড ব্রান্ডেড জেনারেশন।  


জেনারেশন   সাহিত্য   ব্রান্ড  


মন্তব্য করুন


লিট ইনসাইড

যুব নেতৃত্ব সম্মাননায় ভূষিত আলতামিশ নাবিল

প্রকাশ: ০৪:৫৬ পিএম, ২৬ Jun, ২০২২


Thumbnail যুব নেতৃত্ব সম্মাননায় ভূষিত আলতামিশ নাবিল

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের রয়্যাল থাই আর্মি ক্লাবে অনুষ্ঠিত-২০২২ গ্লোবাল ইয়্যুথ লিডারশিপ সামিট-এর ‘গ্লোবাল ইয়্যুথ লিডার অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন লেখক, সমাজকর্মী ও টেক ইভানজেলিস্ট মুহাম্মাদ আলতামিশ নাবিল। 

গত ২৪ থেকে ২৫ জুন অনুষ্ঠিত হওয়া এ সামিটে অংশ নেয় বিশটির অধিক দেশ থেকে তরুণ নেতারা। সামিটটি আয়োজন করে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ইয়্যুথ পার্লামেন্ট এবং ইউনাইটেড ন্যাশনস পিসকিপারস ফেডারেল কাউন্সিল। বাংলাদেশের যুবদের দক্ষতাবৃদ্ধিতে প্রশংসনীয় অবদানের স্বীকৃতিস্বরুপ নাবিলকে এই অবদানে ভূষিত করা হয়।

পুরস্কার প্রসঙ্গে আলতামিশ নাবিল বলেন, ‘আন্তর্জাতিক পরিসরে অর্জিত জীবনের সকল স্বীকৃতিই ভীষণ অনুপ্রেরণার। এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিটি সামনের দিনে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাকে মাথায় রেখে যুবদের দক্ষতাবৃদ্ধি এবং সমাজের নানা অসুবিধা-অসংগতি নিয়ে কাজ করতে উৎসাহ হিসেবে কাজ করবে।’

আলতামিশ নাবিল নিয়মিত লেখালেখি ও প্রামাণ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের পাশাপাশি ম্যানেজড সার্ভিসের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে বর্তমানে কর্মরত আছেন মিয়াকি নামের একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে। এরই সাথে তিনি আন্তর্জাতিক সংগঠন জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল (জেসিআই)-এর ঢাকা ওয়েস্ট শাখার বর্তমান প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও প্রতিষ্ঠা করেছেন বি. পজিটিভ ফাউন্ডেশন নামের একটি সামাজিক উদ্যোগ। 

এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ও ভারত মিলিয়ে প্রকাশিত হয়েছে তার লেখা বেশকিছু বই। পাশাপাশি পার্সোনাল ব্র‍্যান্ডিং, কন্টেন্ট রাইটিং, অ্যাপ্লিকেশন মনিটাইজেশন সহ নানা যুগোপযোগী বিষয়ে সারাদেশে যুবদের জন্য চালিয়ে যাচ্ছেন নানা কর্মশালা।

গ্লোবাল ইয়্যুথ লিডারশিপ সামিট  


মন্তব্য করুন


লিট ইনসাইড

পদ্মা সেতু

প্রকাশ: ১১:১৩ এএম, ২৫ Jun, ২০২২


Thumbnail পদ্মা সেতু

আমি আজ এসেছি ওই জেদি মেয়েটির কথা বলতে-
আমি এসেছি রাত্রিজাগা ওই বহ্নিশিখার কথা বলতে,

তাঁকে দাবিয়ে রাখা যায়নি
দাবিয়ে রাখা যাবে না ভবিষ্যতে।

আমি এসেছি স্পষ্টভাষী একেলা চলা ওই সাহসী মেয়েটির কথা বলতে-
বজ্রের মতো কঠোর ফুলের মতো কোমল,
দহন তেজে রুখেছে অপরাধীর ভয়াল ছোবল।

আমি আজ এসেছি আশৈশব তুখোড় সতত ওই বালিকার কথা বলতে- 
বাংলার মাঠে বাংলার ঘাটে ছুটেছে রৌদ্রদুপুর, 
শক্ত পায়ে কাঁঠালে-পলাশে হেঁটেছে বহুদূর। 
আমি আজ এসেছি তেজি একরোখা 
দূরদর্শিনী ওই বুদ্ধিমতীর কথা বলতে
আগলে রেখেছে বাঙালির সম্মান অহংকার, 
কখনোই ভয় করেনি কোনো কিছু হারাবার।

আমি আজ এসেছি,
পাহাড়সম দৃঢ়তা আর আকাশচুম্বী ওই দেশপ্রেমিকের কথা বলতে-
খুঁজে ফেরে জায়নামাজ নির্ঘুম রাতের কিনারে,
বেদনার তসবি জপে ফরিয়াদ খোদার দরবারে।

সীতারামের চোখের জল ঝরে যায় মরে যাওয়ার শর্তে-
ওই জেদি মেয়েটি স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখে, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়তে।

দেশ-বিদেশ সকল ষড়যন্ত্রের জাল ছিঁড়ে, 
মৃত্যুর সাথে কত শতবার পাঞ্জা লড়ে, 
এক লাখ চল্লিশ হাজার ঘনমিটার পানির তলে-
একটির পর আরেকটি পাইল ফেলে ফেলে, 
বিশ্বের শ্রেষ্ঠ চৌদ্দটি মেধার প্রয়োগ বলে, 
মিথ্যে গুজব নিন্দুক দৃষ্টি যত অপচেষ্টা অনাসৃষ্টি, 
ভেসে গেছে আজ পদ্মার বানের জলে। 
সকল বাধাবিপত্তি মাড়িয়ে-বিশ্বব্যাংক ছাড়িয়ে, 
নিজেদের অর্থায়নে ওই জেদি মেয়েটির নেতৃত্বে-
পদ্মা সেতু-আজ দৃশ্যমান।

বিশ্ব আজ আছে মুখিয়ে
আছে সম্মানের হাত বাড়িয়ে
ভারত বলে দশভুজা 
ইউনেস্কো বলে শান্তিবৃক্ষ
বিশ্ব মঞ্চের অনিন্দ্য এক কণ্ঠ।

আমি আজ বলতে এসেছি অবিরত বলতে চাই-
বিশ্বের বিস্ময় ওই জাদুকরের নাম 
শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সুনাম।


পদ্মা সেতু  


মন্তব্য করুন


লিট ইনসাইড

চোখের জলে এ্যালকোহল

প্রকাশ: ০৮:১৬ পিএম, ২১ Jun, ২০২২


Thumbnail চোখের জলে এ্যালকোহল

শাহাবুদ্দীন জনি

কই সব সময়তো চোখ দিয়ে পানি আসে না,
খুব কষ্ট হয় চোখ ভারী হতে
আক্ষেপ, হতাশা, বিষণ্ণতা, যান্ত্রিকতা আঁকড়ে ধরতে ধরতে মন পিষে ফেলে।
মস্তিষ্ক কাজ করা বন্ধ করে দেয়,
ফিলিংস তার অটোমেটেড যন্ত্রকে না করে দেয়,
ইনপুট আউটপুট দিও না।

কাজের প্রেশারে বুকে চাপা কষ্ট জমা নেয়
কাঁদতে চাইলেও জল আসে না, মন হালকা হয় না।
কে? রাঁধা কষ্ট মেটাবে? সে তো কলঙ্কিনী রাধা!
মৌসুমী পাখির মত এক জায়গায়
থাকতে পারে না, শুইতে পারে না, ঘুমোতে পারে না।
সিজনে সিজনে ডাল চেঞ্জ করে দেশ থেকে দেশান্তর।

বাসায় বুকের চাপ নিয়েই ঘুমাতে হয়,
তবে আক্ষেপে মন ভার থেকেই যায়, চোখের জল বুকে জমতে থাকে।
সীমাহীন ধৈর্য বাঁধ ভেঙ্গে
জল ফেলতে মদের টেবিলে আসতে হয়।
চোখের জল ফেলতে গিয়ে কখনও কাঁদি, হাসি, চিল্লাই, উচ্চস্বরে রাজনৈতিক আলাপ পারি।
এই ভিড়ে আমি একা না হাজারো লোক আছে, ভিন্নও আছে।
কেউ এসব দেখে, হাসে, নাচে, ঠাট্টা করে।

তবে এ এমনই একটা বাস্তুসংস্থান,
ঘুরেফিরে চোখের জল ফেলতেই হবে।
প্রকৃতি থেকে যা নেবে তা ফেরত দিতে হবে বস,
এটাই নিয়ম!
সব সময় আঁখি ভরা জল আসে না,
বুক ফেটে আর্তনাদ ভরা চিৎকারও আসে।
লোকে তখন বলে নিজেই টাল অবস্থায় পাগল, পাগল বাদ দে।


মন্তব্য করুন


লিট ইনসাইড

কবি সুফিয়া কামালের জন্মবার্ষিকী আজ

প্রকাশ: ১০:২৩ এএম, ২০ Jun, ২০২২


Thumbnail কবি সুফিয়া কামালের জন্মবার্ষিকী আজ

দেশে ‘নারী জাগরণের অগ্রদূত’ মহীয়সী নারী কবি সুফিয়া কামালের ১১১তম জন্মবার্ষিকী আজ (সোমবার)। ‘জননী সাহসিকা’ হিসেবে খ্যাত এই কবি ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে জন্মগ্রহণ করেন। সুফিয়া কামাল আজীবন মুক্তবুদ্ধির চর্চার পাশাপাশি সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদের বিপক্ষে সংগ্রাম করে গেছেন। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন। তিনি ১৯৯৯ সালের ২০ নভেম্বর ঢাকায় মারা যান।

কবির জন্মদিন উপলক্ষে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তারা নারী জাগরণের অন্যতম পথিকৃৎ কবি সুফিয়া কামালের জন্মবার্ষিকীতে তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, কবি সুফিয়া কামাল ছিলেন বাংলাদেশের নারী সমাজের এক ও অনুকরণীয় উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব। তিনি নারী সমাজকে কুসংস্কার আর অবরোধের বেড়াজাল থেকে মুক্ত করতে আমৃত্যু সংগ্রাম করে গেছেন। তিনি ছিলেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। দেশের সব প্রগতিশীল আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। নারীদের সংগঠিত করে মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা, দেশাত্মবোধ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখতে তিনি ছিলেন পথিকৃৎ।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান, ৭১’র অসহযোগ আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীন বাংলাদেশে বিভিন্ন গণতান্ত্রিক সংগ্রামসহ শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে তার প্রত্যক্ষ উপস্থিতি তাকে জনগণের ‘জননী সাহসিকা’ উপাধিতে অভিষিক্ত করেছে। তার স্মরণে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের জন্য ‘বেগম সুফিয়া কামাল হল’ নির্মাণ করে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ সোমবার (২০ জুন) বিকেল ৪টায় বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সুফিয়া কামালের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে স্মারকবত্তৃতা ও সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ‘সুফিয়া কামাল ও নারীবাদী আন্দোলন’ শীর্ষক স্মারকে বক্তব্য রাখবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কাবেরী গায়েন। কবি সুফিয়া কামাল সম্মাননা দেওয়া হবে বিশিষ্ট রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী ইফফাত আরা দেওয়ানকে।

বাংলার প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে সুফিয়া কামালের ছিল আপসহীন এবং দৃপ্ত পদচারণা। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর সুফিয়া কামাল পরিবারসহ কলকাতা থেকে ঢাকায় চলে আসেন। ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং এই আন্দোলনে নারীদের উদ্বুদ্ধ করেন। তিনি ১৯৫৬ সালে শিশু সংগঠন কচিকাঁচার মেলা প্রতিষ্ঠা করেন।

পাকিস্তান সরকার ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র সংগীত নিষিদ্ধ করলে তার প্রতিবাদে সংগঠিত আন্দোলনে তিনি জড়িত ছিলেন এবং তিনি ছায়ানটের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার ধানমন্ডির বাসভবন থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা দেন। স্বাধীন বাংলাদেশে নারী জাগরণ ও নারীদের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামেও তিনি উজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেন।

সাঁঝের মায়া, মন ও জীবন, শান্তি ও প্রার্থনা, উদাত্ত পৃথিবী ইত্যাদি তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। এছাড়া সোভিয়েতের দিনগুলি এবং একাত্তরের ডায়েরি তার অন্যতম ভ্রমণ ও স্মৃতিগ্রন্থ। সুফিয়া কামাল দেশ-বিদেশের ৫০টিরও বেশি পুরস্কার লাভ করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার, সোভিয়েত লেনিন পদক, একুশে পদক, বেগম রোকেয়া পদক, জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার ও স্বাধীনতা দিবস পদক।

কবি   সুফিয়া কামাল   জন্মবার্ষিকী  


মন্তব্য করুন


লিট ইনসাইড

চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন ফরিদুর রেজা সাগর

প্রকাশ: ০৮:৩১ পিএম, ১৬ Jun, ২০২২


Thumbnail চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন ফরিদুর রেজা সাগর

ইমপ্রেস টেলিফিল্ম চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন। বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) বিকেল ৫টার দিকে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। এ সময় সঙ্গে ছিলেন তার সহধর্মিনী বিশিষ্ট নারী উদ্যোক্তা কণা রেজা।

বিমানবন্দরে ফরিদুর রেজা সাগরকে স্বাগত জানান চ্যানেল আইয়ের পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ। সে সময় ফরিদুর রেজা সাগরের ছোটভাই স্থপতি ফরহাদ রেজা প্রবালসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অসুস্থতার সময় তার সুস্বাস্থ্য কামনা করে দোয়া ও প্রার্থনা করায় সকল গণমাধ্যম কর্মীসহ দেশবাসীর প্রতি ফরিদুর রেজা সাগর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

একুশে পদকে ভূষিত শিশুসাহিত্যিক ফরিদুর রেজা সাগর চিকিৎসাকালীন সময় বেশকিছু গল্প-উপন্যাস লিখেছেন। শীঘ্রই তিনি চ্যানেল আইয়ে তার নিয়মিত কার্যক্রমও শুরু করবেন।


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন