লিট ইনসাইড

ব্যাড ব্রান্ডেড জেনারেশন আখ্যান

প্রকাশ: ১০:০০ পিএম, ২০ Jul, ২০২১


Thumbnail

গল্পটি বেশ পুরনো।
সোহেল ক্লাস সেভেন থেকে এইটে উঠেছে মাত্র। নব্বই দশকের মাঝের ওই সময়টাতে বাংলা ব্যান্ড সংগীতের বেশ শক্ত একটা অবস্থান হয়েছে। মফস্বল শহরের বাজারটার দুইটি ক্যাসেটের দোকানেই পাল্লা দিয়ে বাজছিলো সদ্য মুক্তি পাওয়া “দুঃখিনী দুঃখ কোরোনা” অ্যালবামের ঈশ্বর, সুলতানা বিবিয়ানা আর বিবাগী। টিফিনের টাকা থেকে অল্প অল্প করে জমানো কিছু টাকা পকেটে নিয়েই সোহেল ছুটলো বাজারে। নতুন ক্যাসেট পকেটে নিয়ে বাড়িতে ফিরেই শুরু হয়ে গেলো সোহেলের হেঁড়ে গলার সংগীত সাধনা। 

জেমসের গলার সাথে পাল্লা দিয়ে উচ্চস্বরের সেই চিৎকারে হয়তো বিরক্ত হতো পাশের বাড়ির বৃদ্ধ কলিম জোয়ারদার থেকে শুরু করে আশেপাশের কয়েক ঘর। অবশ্য সোহেলের এই ফুল ভলিউমে গান ছাড়ার আরো একটা উদ্দেশ্য ছিলো যেটা কেবলমাত্র একজন মানুষই জানতো। পাশের বাড়িতেই থাকতো একই সাথে ক্লাস সেভেনে পড়ুয়া নিশাত। যদিও নিশাতের গন্ডি ছিলো গার্লস স্কুলের চার দেয়াল আর মায়ের হাত ধরে অংকের কোচিং শেষে বাড়ি ফিরে সন্ধ্যা নামার পরেই পরার টেবিলে বসা। তবে রাস্তায়, গলিতে নিশাতের দিকে তাকিয়ে সোহেলের সেই ভালোবাসার চাহুনি নিশাত ঠিকই বুঝতো। তাই ফুল ভলিউমের গানগুলো যে নিশাতকে শোনানোর জন্যই সেটা বুঝতে নিশাতের বেশি দেরী হয়নি।

বছর কয়েক পরে ডিসেম্বরের এক শীতের সকালে নিপুন স্যারের ইংরেজী কোচিং শেষে হাটতে হাটতেই নিশাতকে প্রেম নিবেদন করেছিলো সোহেল। যদিওবা সেই প্রেম নিবেদনে কোনো জাঁকজমক আয়োজন ছিলো না, তাই মনে মনে কিছুটা দ্বিধায় ছিলো সোহেল। তবে শান্ত স্বভাবের সোহেলকে আগে থেকেই বেশ ভালো লাগায় সেদিন প্রেমের প্রস্তাবে সায় দিয়েছিলো নিশাত। 

রমজানের রোজার দিনগুলো বেশ অন্যরকম ছিলো সোহেলের কাছে, কারন এই সময়টাতেই ইফতারির বাহারি পদে প্লেট সাজিয়ে মাথায় ওড়না টেনে শেষ বিকালে সোহেলের বাড়ির দরজায় হাজির হতো নিশাত। পরে অবশ্য সোহেল স্বীকার করেছে ওই সময়টাতে নাকি নিশাতকে সবথেকে সুন্দর লাগতো দেখতে। 

এভাবে দূর থেকে অল্প অল্প দেখা, স্কুল ছুটির পরে পিছুপিছু বাড়ি পর্যন্ত আসা আর ঈদ কার্ডের ভাজে ঈদ শুভেচ্ছার ছলে চার বর্ণের ভালোবাসি লেখার সময়গুলো পাড়ি দিয়ে কলেজের গন্ডিও পেরুলো দুজন। 
উচ্চমাধ্যমিক শেষে দুজনে ভর্তি হলো আলাদা দুইটি বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২৭৪ কিলোমিটার দূরের পথ পাড়ি দিয়ে মাসে একবার কয়েক ঘন্টার জন্য নিশাতকে দেখতে পাওয়ার সুখস্মৃতি এখনো বেশ নস্টালজিক করে দেয় সোহেলকে।

গ্রাজুয়েশনের পরে ঢাকার একটি বেসরকারী কোম্পানীতে ভালো বেতনেই একটা চাকরী পায় সোহেল। সোহেলের এখনো মনে আছে চাকরী ফাইনাল ভাইভা শেষে নিশাতকে ফোন দিয়ে অঞ্জনের “চাকরীটা আমি পেয়ে গেছি নিশাত শুনছো” গেয়ে শুনিয়েছিলো সোহেল। মাত্র ৬ মাসের মাথায় ছোট্টবেলার প্রেমকে চূড়ান্ত পরিণতি দিয়ে নিশাতকে নিজের ঘরে নিয়ে আসার সময়টা এখনো মাঝে মাঝে সোহেলকে রোমাঞ্চিত করে।

বিয়ের ২ বছরের মাথায় সোহেল নিশাতের ঘর আলোকিত করে এসেছিলো ফুটফুটে নিকিতা। সারাদিন পরে অফিস শেষে বাসায় ফিরে নিকিতাকে কোলে তুলে নিলেই ওর মিষ্টি হাসিটাই সারাদিনের ক্লান্তি ভুলিয়ে দিতো সোহেলের। ধীরে ধীরে বড় হতে লাগলো নিকিতা। জীবনের লম্বা একটা সময় পার করে এসে বর্তমান সময়কে বেশ উপভোগ করে সোহেল। ছোট্ট নিকিতা এখন ক্লাস সেভেনে উঠেছে। নিকিতার বড় হয়ে ওঠার সাথে যুগের পরিবর্তনটাও একদম কাছ থেকে দেখেছে সোহেল নিশাত দম্পতি। 

মাঝে মাঝে নিকিতাদের এই জেনারেশনকে ওদের থেকে বেশি এগিয়ে থাকা প্রজন্ম মনে হয় ওদের কাছে। আবার যখন সোহেল দেখে যে মেয়ের দিনের অর্ধেক সময় কাটছে টিকটক লাইকীতে ভিডিও বানিয়ে, এই পার্টি সেই পার্টি আর অদ্ভুতুড়ে আচরনের ছেলে বন্ধুদের তখন বেশ আফসোসে ভোগে তারা দুজনেই। জাস্টফ্রেন্ড, ক্লোজফ্রেন্ড আর বেস্টবফ্রেন্ডের এই জটিল ধাঁধায় মাথা তলিয়ে যায় মাঝে মাঝে।

ওদের এই জেনারেশনে সুর তাল ছাড়াই গান গেয়ে ভাইরাল হয় হিরো আলম। নানান রকমের বই পড়ার অভ্যাস বা ইচ্ছা কোনোটাই যেন নেই তাদের। ওদের এই সময়ে সেরা গানের ট্যাগ লাগে ইউটিউবের ভিউ কাউন্টের পরিপ্রেক্ষিতে। ভার্চুয়াল জগতটাতে শোঅফ আর লিংক লবিংয়ের জানান দেওয়াটাই ওদের কাছে জীবনের উদ্দেশ্য মনে হয় হয়তোবা। সকল ধরণের নেশা দ্রব্য সেবন করার অভিজ্ঞতা থাকলেই সে ওদের বন্ধুমহলের কাছে হয়ে যায় আইকন আর এই বাজে অভ্যাসগুলোই নাকি ওদের ভাষায় কুলনেস। 

সেদিনের এক ঘটনা নিকিতার এক বন্ধুকে নাকি পুলিশ ধরে নিয়ে গেলো নাম না জানা এক মাদক বিক্রি আর সেবনের দায়ে। ভয় ধরিয়ে দেয় চারপাশের অনেক ঘটনায়। প্রেমের সংজ্ঞাই যেন পাল্টে দিয়েছে এই জেনারেশন। 

নিশাত জানে একই ক্লাসে পড়া ফাহিম তার মেয়ে নিকিতার তৃতীয় বয়ফ্রেন্ড। এর আগে দুটো ব্রেকআপের পরেও কোনোরকম আক্ষেপ বা হতাশা চোখে পড়েনি নিশাতের। বয়ফ্রেন্ডটা ওরা হয়তো মুড়িমুড়কির মতোই পাল্টে ফেলে। গতমাসেই নিকিতার এক মেয়ে ফ্রেন্ডকে কেন্দ্র করে তুলকালাম যুদ্ধ বাধিয়েছিলো পাশাপাশি দুই এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের ছেলেরা। নিশাত সোহেল দম্পতির মনে ভয় ধরেছিলো কলাবাগানে বন্ধুর বাসায় রেপ হয়ে এক মেয়ের মৃত্যুর খবরে। 

ঈদের সময়টা এই জেনারেশন আর উপভোগ করেনা হয়তো। অথচ সোহেলের মনে পড়ে যায় ঈদের আগের রাতে পটকা বাজি ফুটানো বাইরে বাইরে ঘুরে বেড়ানোতেই মজা খুঁজে পেতো ওরা। এখন নাকি আর ঈদকার্ডে শুভেচ্ছা জানানোর দরকার পড়ে না। সোশ্যাল মিডিয়াতে ঈদ এসেছে ঝড় তুলতে তুলতে ঠিক পরদিনই সেটা “অন দিস ডে” এর অতীতে হারিয়ে যায়। 

এই সময়টা কেমন যেন লাগে তাদের দুজনের, একটা জেনারেশনের মধ্যে এতো এতো হতাশা, এতো অজ্ঞতা, নিজের প্রতি নিজের এতো কনফিডেন্সহীনতা বেশ মন খারাপ করিয়ে দেয় ওদের। মাঝে মাঝে স্মৃতি রোমন্থন করে নিজেদের অতীতে ফিরে নিশাত আর সোহেল। অস্থিরতা ভর করা এই সময়ের জেনারেশনকে তাই ওদের কাছে মনে হয় ব্যাড ব্রান্ডেড জেনারেশন।  


জেনারেশন   সাহিত্য   ব্রান্ড  


মন্তব্য করুন


লিট ইনসাইড

বাণিজ্য মেলা বন্ধ এবং বই মেলা পেছানোর সুপারিশ

প্রকাশ: ০৫:৫৮ পিএম, ২৫ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

করোনাভাইরাসের প্রকোপ  দিন দিন বেড়ে যাওয়ার ফলে সংক্রমণ ঠেকাতে বাণিজ্য মেলা বন্ধের সুপারিশ করেছে কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। একইসঙ্গে আসন্ন বইমেলাও আরো পিছিয়ে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে সরকারকে কোভিড-১৯ জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির পক্ষ থেকে আরও কঠোর হওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি)  কারিগরি কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

করোনাভাইরাস   বাণিজ্য মেলা   বই মেলা  


মন্তব্য করুন


লিট ইনসাইড

মাইকেল মধুসূদন দত্তের আজ ১৯৮ তম জন্মবার্ষিকী

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ২৫ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

অমিত্রাক্ষর  ছন্দের জনক মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মবার্ষিকি আজ। এই মহা কবি ১৮২৪ সালের আজকের এ দিনে তিনি যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর মায়ের নাম জাহ্নবী দেবী এবং পিতা জমিদার রাজ নারায়ণ । তাঁর বাবা পেশায় ছিলেন কলকাতার একজন প্রতিষ্ঠিত উকিল।

মধুসূদন ছিলেন বাংলা সাহিত্যের যুগপ্রবর্তক কবি। তিনি তার কাব্যের বিষয় সংগ্রহ করেছিলেন প্রধানত সংস্কৃত কাব্য থেকে, কিন্তু পাশ্চাত্য সাহিত্যের আদর্শ অনুযায়ী সমকালীন ইংরেজি শিক্ষিত বাঙালির জীবনদর্শন ও রুচির উপযোগী করে তিনি তা কাব্যে রূপায়িত করেন এবং তার মধ্য দিয়েই বাংলা সাহিত্যে এক নবযুগের সূচনা হয়।  

তাঁর মায়ের হাত ধরেই তা শিক্ষা জীবনের হাতেখড়ি। এরপর ছোটবেলায় নিজ গ্রামের এক পাঠশালায় মাওলানা লুৎফর রহমানের কাছে শিশু মধুসূদন তার শিক্ষা জীবন শুরু করেন। পাশাপাশি গৃহশিক্ষক হরলাল রায়ের কাছে বাংলা ও ফারসি ভাষায় শিক্ষা লাভ করেন তিনি। আর জাহ্নবী দেবীই শিশু মধুসূদনকে রামায়ণ, মহাভারত, পুরাণ প্রভৃতি ধর্মগ্রন্থের সঙ্গে পরিচিত করে তোলেন। সাগরদাঁড়িতে বাল্যকাল অতিবাহিত করে ১৩ বছর বয়সে তিনি কলকাতায় যান। কৃতী ছাত্র হিসাবে তার সুনাম ছিল। কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি নারী শিক্ষা বিষয়ে প্রবন্ধ লিখে স্বর্ণ পদক লাভ করেছিলেন।

মধুসূদন মহাকবি হওয়ার স্বপ্নে বিলেত যাওয়ার সুবিধার জন্য ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি হিন্দুধর্ম ত্যাগ করে খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহণ করেন। এতে তাকে ত্যাজ্যপুত্র করা হয়। বিভিন্ন পত্রিকায় ছদ্মনামে কবিতা লিখতে থাকেন। কয়েকটি পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন ও সম্পাদকীয় বিভাগেও কাজ করেন। একই বছর বিয়ে করেন রেবেকা ম্যাকটাভিসকে। তাকে হিন্দু কলেজ থেকে বিতাড়িত করা হয়। পরে তিনি শিবপুরের বিশপ কলেজে ভর্তি হন। 

মধুসূদন দত্ত বাংলা ভাষায় মহাকাব্য রচনা এবং বাংলা কবিতায় অমিত্রাক্ষর ছন্দ প্রবর্তনের পথিকৃৎ। নাটক, প্রহসন, মহাকাব্য, পত্রকাব্য, সনেট, ট্র্যাজেডিসহ সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় তার অমর সৃষ্টি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে উন্নত মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছে। খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করার পর তার নামের সঙ্গে 'মাইকেল' যুক্ত হয়। তিনি ‘পদ্মাবতী’ নাটক, ‘তিলোত্তমাসম্বব কাব্য’, ‘একেই কি বলে সভ্যতা’ ও ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’ নামে দুটি প্রহসন, ‘মেঘনাদবধ কাব্য’, ‘ব্রজাঙ্গনা কাব্য’, ‘কৃষ্ণকুমারী’ নাটক, ‘বীরাঙ্গনা’ কাব্য ও চতুর্দশপদী কবিতা রচনা করেন। বাংলা সাহিত্যে গাম্ভীর্যপূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক তিনি। 

তার মেঘনাদবধ কাব্য রামায়ণের পৌরাণিক কাহিনী থেকে সংগৃহীত হলেও প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সাহিত্যের ভাবনার সংমিশ্রণে মধুসূদনের এ এক অপরূপ সৃষ্টি।

শেষ জীবনে অর্থাভাব, ঋণগ্রস্থ ও অসুস্থতায় মাইকেল মধুসূদন দত্তের জীবন দূর্বিষহ উঠেছিল। এরপর সকল চাওয়া পাওয়াসহ সকল কিছুর মায়া ত্যাগ করে ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন কলকাতায় তিনি মাত্র ৪৯ বছর বয়সে মহাকবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত  


মন্তব্য করুন


লিট ইনসাইড

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পাচ্ছেন ১৫ জন

প্রকাশ: ০৭:২৭ পিএম, ২৩ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

২০২১ সালের বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। এবার ১১ বিভাগে ১৫ গুণীজনকে পুরস্কার দেওয়া হবে।

আজ রোববার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে বাংলা একাডেমির সচিব এ এইচ এম লোকমান স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।

পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন- কবিতায় আসাদ মান্নান ও বিমল গুহ, কথাসাহিত্যে ঝর্না রহমান ও বিশ্বজিৎ চৌধুরী, প্রবন্ধ বা গবেষণায় হোসেনউদ্দীন হোসেন, অনুবাদে আমিনুর রহমান ও রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী, নাটকে সাধনা আহমেদ, শিশুসাহিত্যে রফিকুর রশীদ, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গবেষণায় পান্না কায়সার, বঙ্গবন্ধু-বিষয়ক গবেষণায় হারুন-অর-রশিদ, বিজ্ঞান বা কল্পবিজ্ঞান বা পরিবেশ বিজ্ঞানে শুভাগত চৌধুরী, আত্মজীবনী বা স্মৃতিকথা বা ভ্রমণকাহিনিতে সুফিয়া খাতুন ও হায়দার আকবর খান রনো এবং ফোকলোর বিভাগে আমিনুর রহমান সুলতান।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার প্রদান করবেন।’

বাংলা একাডেমি   সাহিত্য পুরস্কার  


মন্তব্য করুন


লিট ইনসাইড

১১ পাঠাগারে ৫ শতাধিক বই উপহার রিভার বাংলার

প্রকাশ: ০৬:০৪ পিএম, ২২ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

নদী বিষয়ক সংগঠন ‘রিভার বাংলা’ পাঁচ শতাধিক বই উপহার দিয়েছেন কিশোরগঞ্জের ১১টি পাঠাগারে। আজ শনিবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে জেলা পাবলিক লাইব্রেরিতে আনুষ্ঠানিকভাবে বইগুলো তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন জেলা পাবলিক লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক, লেখক-গবেষক মু আ লতিফ ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ এ কে এম নূরুন্নবী বাদল।

কবি আমিনুল ইসলাম সেলিমের সঞ্চালনায় রিভার বাংলার পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে জেলার ১১টি পাঠাগারের প্রতিনিধিদের হাতে পাঁচ শতাধিক বই হস্তান্তর করা হয়।

উপহার পাওয়া পাঠাগার হচ্ছে—জেলা পাবলিক লাইব্রেরি, হাজী আব্দুল খালেক স্মৃতি পাঠাগার, অ্যাডভোকেট শেখ নূরুন্নবী বাদল পাঠাগার ও সংগ্রহশালা বাজিতপুর, মহিনন্দ ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণ পাঠাগার, বাতিঘর পাঠাগার, কবি আইয়ূব বিন হায়দার পাঠাগার, জ্ঞানতীর্থ পাঠাগার, বাদশাহ ভূঁইয়া স্মৃতি পাঠাগার, জিয়াউল হক বাতেন পাঠাগার, কবি নূরে মালেক স্মৃতি গ্রন্থাগার এবং সুলতানপুর নূরুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা পাঠাগার।

রিভার বাংলার সমন্বয়ক ও লেখক ফয়সাল আহমেদের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জেলা পাবলিক লাইব্রেরির সহ-সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. নিজাম উদ্দিন, জেলা বেসরকারি গণগ্রন্থাগার সমিতির সভাপতি মো. রুহুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার বর্মন, কবি নূরে মালেক স্মৃতি পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা শ্রমিক নেতা আবদুর রহমান রুমী, সাংবাদিক আশরাফুল ইসলাম প্রমুখ।

বই উপহার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লেখক, কবি, সাহিত্যিক, বইপ্রেমী, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ।

রিভার বাংলা   বই-উপহার  


মন্তব্য করুন


লিট ইনসাইড

প্রখ্যাত নাট্যকার সাঈদ আহমদের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ২১ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

নাট্য জগতের বিখ্যাত নাট্যকার সাঈদ আহমদের আজ ২২ তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১০ সালের ২১ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) ঢাকার ল্যাব-এইড হাসপাতালে  চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মারা যাওয়া পূর্বে তিনি কিছুদিন বিবিধ বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগেছিলেন। মৃত্যুর পর তাঁকে আজিমপুরের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

নাট্যকার সাঈদ আহমদ ১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দের ১ জানুয়ারি  পুরান ঢাকার ইসলামপুরের এক সম্ভ্রান্ত শিল্প-সংস্কৃতিকমনা পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মীর্জা এফ মোহাম্মদ ও মা জামিলা খাতুন দুজনেই সংস্কৃতি আমোদে মানুষ ছিলেন।  ভাইদের মধ্যে সাঈদ আহমদ ছিলেন কনিষ্ঠ ।

সাঈদ আহমদে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী কলেজিয়েট স্কুল থেকে ১৯৪৬ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন এবং ১৯৪৯ সালে ইন্টারমিডিয়েট পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৫৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করে ব্রিটেনে যান। সেখানে তিনি ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দে লন্ডন স্কুল অব ইকনোমিক্স থেকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি লাভ করেন। জীবিকাসূত্রে তিনি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের একজন সদস্য ছিলেন।

তিনি নাটকের জন্য সমধিক পরিচিত হলেও শৈশব ও কৈশোরে এমনকি প্রথম যৌবনেও অসম্ভব টান ছিল তার সঙ্গীতের প্রতি। আবৃত্তি আর গান মিলে ছিল তার ছেলেবেলা। ১৯৫১ সালে তিনি সাঈদ আহমদ অ্যান্ড পার্টি নামে পাশ্চাত্যের ধাঁচে একটি সঙ্গীতের দল গড়ে তোলেন। তিনি বাংলাদেশের সঙ্গীতাঙ্গনে প্রথম ইলেকট্রিক গিটার ব্যবহার শুরু করেনে এবং খুব ভালো সেতার বাজাতে পারতেন। ১৯৫১ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত রেডিও পাকিস্তানে সেতার ও অর্কেস্ট্রা বাদন পরিবেশন করেন এবং ১৯৫৪ থেকে ১৯৫৬ পর্যন্ত তিনি বিবিসির সাথে জড়িত ছিলেন।

১৯৭৫ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৭৬ সালে সূফী মোতাহার হোসেন পুরস্কার সহ মুনীর চৌধুরীর সম্মাননা, ঋষিজ পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। তাঁর এই সম্মানে  ১৯৭৬ সালে ওয়াশিংটন ডিসির প্রখ্যাত নাট্যশালা এরিনা স্টেজের দর্শকের আসনের একটি সারি তাঁর নামে নামকরণ করা হয়। তাঁর নাটক ইংরেজি, ফরাসি, জার্মান ও ইতালিয়ান ভাষাতেও অনুদিত হয়েছে।

তাঁর অন্যান্য বইয়ের মধ্যে 'ফাইভ পেইন্টার অব বাংলাদেশ', 'কনটেম্পোরারি আর্ট', 'কনটেম্পোরারি গ্রাফিক আর্টস অব বাংলাদেশ', 'বাংলাদেশের সুরস্রষ্টারা' উল্লেখযোগ্য।

নাট্যকার  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন