লিট ইনসাইড

জীবন ও কবিতায় সমান লড়াকু কবি মোহন রায়হানের ৬৫-তম জন্মদিন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ০১ অগাস্ট, ২০২১


Thumbnail

স্বাধীনতা পরবর্তীকালে বাংলাদেশে যে কয়জন নবীন কবির দীপ্ত আবির্ভাব হয়, কবি মোহন রায়হান তাদের অন্যতম। বাংলাদেশের কবিতার ধারায় কবি মোহন রায়হান এক তেজী কণ্ঠস্বর। ১৯৭১-এর রণাঙ্গন থেকে উঠে আসা দ্রোহ, প্রেম, স্বাধীনতা, সাম্য ও বিপ্লবের কবি মোহন রায়হান কবিতাকে কেবল শিল্প ভাবেন না বরং কবিতা তাঁর কাছে সমাজ বদলের শাণিত হাতিয়ার। জীবন ও কবিতায় সমান লড়াকু কবি মোহন রায়হান। কবি মোহন রায়হান আমাদের দেশের এক কিংবদন্তি পুরুষ। তাঁর জীবন ইতিহাস বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জাতীয় ও গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ঘাত-প্রতিঘাত ও উত্থান-পতনের জটিল আবর্তনের খতিয়ান। রাষ্ট্রিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সাহিত্য আন্দোলনের ইতিহাসে কবি মোহন রায়হান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

কবি মোহন রায়হান ১৯৫৬ সালের ১ আগস্ট সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তিঁনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর বাবা মরহুম ফরহাদ হোসেন ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামী নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর আজাদ হিন্দ ফৌজের সৈনিক, সিরাজগঞ্জ জেলা সদরের খোকশাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের অত্যন্ত জনপ্রিয় চেয়ারম্যান ছিলেন। তিঁনি একটানা ৩০ বছর চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে খোকশাবাড়ি হাসপাতাল, ব্রাহ্মণবয়ড়া গোয়েন বাঁধ প্রতিষ্ঠা করেন এবং সিরাজগঞ্জের কওমী জুট মিলস লি. প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্যোক্তা। কবি মোহন রায়হানের মা মরহুমা মাহমুদা খাতুন ছিলেন আজীবন সমাজ হিতৈষিনী।

কবি মোহন রায়হান স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে সকল রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও কবিতা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। তিঁনি বাংলাদেশের একজন অন্যতম সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও জাতীয় কবিতা পরিষদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, জাতীয় কবিতা পরিষদের দুই বারের সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ রাইটারস্ ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, স্ফুলিঙ্গ সাংস্কৃতিক সংসদ, সৃজন, আবৃত্তি সংসদ, বাংলাদেশ লেখক শিবির, প্রাক্সিস অধ্যয়ন সমিতি, অরণি সাংস্কৃতিক সংসদ, তাহের সংসদ, রাখাল, লেখক ইউনিয়ন, সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ কমিটিসহ অসংখ্য সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালনায় দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর সম্পাদিত পত্র-পত্রিকাগুলোর মধ্যে ঢেউ, সূর্য সৈকত, স্ফুলিঙ্গ, সমকণ্ঠ,  জনান্তিক, অরণি, সাহস, দুর্বিনীত এই মাটি জ্বলে প্রতিরোধে, লাল তোমার পতাকা, ইশতেহার, বিদ্রোহের পংক্তিমালা উল্লেখযোগ্য। তিঁনি সাপ্তাহিক দিকচিহ্ন, কবিতাপত্র দিকচিহ্ন এবং সাওল সময় পত্রিকার সম্পাদক।

তিঁনি বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রপন্থি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাহিত্য সম্পাদক ও জাতীয় সমাজতান্ত্রীক দল-জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক ছিলেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক আন্দোলনে রাজপথে নেতৃত্ব দেন কবি মোহন রায়হান। তিঁনি ছিলেন সামরিক স্বৈরাচার বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে দেশ-কাঁপানো সাহসী ছাত্রনেতা। আশির দশকে স্বৈরশাসন বিরোধী আন্দোলনের সূচনাকারী ১৪টি ছাত্র সংগঠন নিয়ে যে সংগ্রাম কমিটি গঠন করা হয়, তিঁনি তার কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন। ১৯৮৩ সালেরৈ ১১ জানুয়ারি ছাত্র-বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়ে প্রথম সামরিক শাসন ভঙ্গ করে ১০ হাজার ছাত্র-ছাত্রীর মিছিল নিয়ে শিক্ষাভবন ঘেরাও করেন। এ অভিযোগে তাঁকে চোখ-হাত বেঁধে সামরিক গোয়েন্দা বাহিনী তুলে নিয়ে ২১ দিন গুম করে রেখে নির্মম নির্যাতন চালিয়ে মেরুদণ্ড ভেঙে পঙ্গু করে দেয়। পরে ভারতের চেন্নাইয়ে অপারেশন করায়ে তিঁনি চলাচলে সক্ষমতা লাভ করেন।

এই কবি সম্পর্কে কবি শামসুর রাহমান বলেছেন- ‘বাংলাদেশের প্রতিবাদী কবিতার ধারা যে ক’জন কবির অবদানে বেগবান হয়ে উঠেছে, মোহন রায়হান নিঃসন্দেহে তাঁদের অন্যতম। এ তেজী তরুণ কবি কবিতাকে ব্যবহার করেন সমাজ বদলের হাতিয়ার হিসেবে। তাই তাঁর কবিতা অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে অস্ত্রের মতো ঝলছে ওঠে, নতুন পৃথিবীর উদ্দেশ্যে।’

সৈয়দ শামসুল হক বলেছেন- ‘কবি-সাহিত্যিকদের মধ্যে অনেকেই বিক্রি হয়েছেন। মোহনকে আমি জানি, চিনি এবং বিশ্বাস করি সে তাদের মধ্যে ব্যতিক্রম।’

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বলেছেন- ‘মোহন জীবনে অনেক সংগ্রাম করেছে, নির্যাতনও সহ্য করেছে কিন্তু কখনও নিজের স্থিরবিন্দু থেকে সরে যায় নি। তার কবিতার মধ্যে রয়েছে আগুন, যা অনেককে উদ্দীপ্ত করে। কবিতার আন্দোলনের সঙ্গে সে জড়িত। বাংলা কবিতাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই তাঁর আদর্শ। আমি দেখেছি, পশ্চিম বাংলাতেও সে বেশ জনপ্রিয়। অনেক তরুণ-তরুণী তার কবিতা আবৃত্তি করে।’

কবীর চৌধুরী বলেছেন- ‘মোহন রায়হান সমাজ-পরিবর্তনে অঙ্গীকারবদ্ধ। এই পরিবর্তনের জন্য সে মার্ক্সীয় বস্তুবাদী দ্বান্দ্বিকতার দর্শনে আস্থাশীল। এবং সে একজন নিষ্ঠাবান কবি। তাঁর জীবন ও কবিতা একসূত্রে গাঁথা। বাংলা কাব্যের ইতিহাসে এই ধারার একটি দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ ঐতিহ্য আছে। মোহন রায়হান তাঁর স্বকীয়তা নিয়ে ওই ধারার একজন উল্লেখযোগ্য কবি। বিপ্লব ও বিদ্রোহ মোহনের কবিতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকলেও তাঁর কবিতা একমুখী নয়। বেশকিছু প্রেমের কবিতা আছে তাঁর। ওই কবিতাগুলি কখনো গাঢ় আবেগে উত্তাল, কখনও স্নিগ্ধ মাধুর্যে কোমল। কখনও কখনও তিনি ছন্দ নিয়ে খেলা করেছেন, কখনও ভাষা নিয়ে।’

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন- ‘মোহন তাঁর লেখা একটি কবিতায় মাইকেল মধুসূদন ও নজরুল ইসলামকে স্মরণ করেছে। সেটা খুবই স্বাভাবিক। ওই দুই কবির মতোই সেও বিদ্রোহী, বলা যায় বিপ্লবী। তুলনার প্রশ্ন অবান্তর কিন্তু তাঁর কবিতায় মাইকেল মধুসূদনের উপস্থিতিটাই বিশেষভাবে গ্রাহ্য। মাইকেলের মতোই সে প্রথাবিরোধী এবং মনে-প্রাণে বাঙালি-পরিস্থিতি যাকে বিপরীত দিকে ঠেলতে চায় কিন্তু নিজ ভূমির প্রতি ভালবাসায় সে অনড়।’

কামাল লোহানী বলেছেন- ‘মোহন বিমোহিত করেছিল রাজপথকে একদিন, যখন রাজনীতির লোকযাত্রা খানিকটা উঁকি দিয়েছিল প্রিয় স্বদেশে, তখন তারুণ্যের রক্তিম উদ্ভাস তাঁকে প্রচণ্ডভাবে নাড়া দিয়েছিল। মোহন রায়হানকে আমি সংগঠক হিসেবে চিনেছিলাম। স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে তাঁর দক্ষ সাংগঠনিক ভূমিকা নজর কেড়েছিল পূর্বসুরিদেরও। যমুনার কুলে বাস করে নিত্যই ভাঙন রোধ করেছে যে শক্তি পাঁজরের সংঘবদ্ধ বুকটা দিয়ে সেই এক তরুণের আবেগতাড়িত অথচ রাজনীতির আদর্শনিষ্ঠ রুদ্র শব্দাবলী শুনেছিলাম একদিন।’

বেলাল চৌধুরী বলেছেন- ‘মানবীয় ও অতিমানবীয় গুণাবলি থেকে শুরু করে দর্শনকাণ্ডের প্রায় সকল বিষয়ই কবিতার প্রাথমিক উপাদান হিসেবে পরিচিত। আর কবিতার নতুন আগমন তো আরো রহস্যময়-আবিষ্কার প্রবণতাই কবির কলমের চলমানতা বা গতিপ্রবাহ। আরো জটিলতর হয়ে উঠেছে সমকালীন বিশ্ব কবিতা-সেখানেও মোহন রায়হান নিঃসন্দেহে একজন একাই একশোর মতো কবি। মোহন পাঠে এটাই আমার সিদ্ধান্ত।’

আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেছেন- ‘জন্মান্ধ উৎসাহ ওর রক্তগত। ওর ক্রোধ আর দ্রোহের উৎস প্রেম। একটা সুখী ও মানবিক পৃথিবীর স্বপ্ন ওকে উজ্জীবিত করে, তার বিপর্যয় ওর ভেতর ক্রোধ জাগায়। এজন্যেই ওর সারাজীবনের পদচারণা ভালবাসা থেকে বীর রসে, বীর রস থেকে রুদ্রে। ওর প্রধান পরিচিতি উচ্চকণ্ঠ কবিতায়, হয়ত ওর সচেতন অবচেতন আকুতিও তাই। কিন্তু ওর নিবিড় ও নিম্নকণ্ঠ কবিতার সিদ্ধিও যে বেশ গভীর তা অনেকেরই চোখে পড়ে না। ওর প্রেমের কবিতা, স্বপ্নের কবিতা পাঠকের বেঁচে থাকার ইচ্ছা বাড়িয়ে দেয়। ওর ভয়-ধরানো আশাবাদ ও নৈরাশ্য, দুর্ধর্ষ ক্রোধ ও নিষ্ক্রিয়তা, পেলব প্রেম আর মানবতার স্বপ্ন সব নিয়ে ওকে শুভেচ্ছা।’

আনোয়ারা সৈয়দ হক বলেছেন- ‘মোহন রায়হানের কবিতা মানুষের পোড় খাওয়া জীবনে এক অনির্বচনীয় স্বাদ বহন করে আনে। তাঁর কবিতার ভেতরে স্বাদেশিকতা ও আন্তর্জাতিকতার এক অপূর্ব মিশেল আমি লক্ষ করেছি। যে স্বদেশের প্রতি তাঁর বেদনাময় অর্ঘ কবিতার ছত্রে ছত্রে, সে অর্ঘ কত সহজেই বিশ্বের ভৌগোলিকতার ভেতরে নিজেকে সম্পৃক্ত করে ফেলে। মাটি, মানুষ, সমাজ, প্রেম এবং প্রকৃতির রসায়ন হচ্ছে মোহনের কবিতা।’

সেলিনা হোসেন বলেছেন-‘মোহনের কবিতায় সাহস ও স্নিগ্ধতা একই সঙ্গে বয়ে যায়। প্রতিবাদ ও ভালবাসা একইসঙ্গে বয়ে রয়। জীবনের এপিঠ-ওপিঠ মোহন খুব কাছ থেকে দেখেন। দেখেন অন্তরঙ্গ ভঙ্গিতে। মোহন ঘুরে ঘুরে জীবনের অন্বেষনে ফিরে ফিরে দেখেন নতুন দরোজা। খোলা দরোজায় ঢুকে যায় আলো-বাতাস, ঢুকে যায় আগুন।’

হায়াৎ মামুদ বলেছেন- ‘মোহন রায়হানের কবিতা অনাগত ভবিষ্যতেও ক্রমাগত কুসুম ফোটাতে থাকবে। এটাই আমার বিশ্বাস। কারণ, তাঁর কবিতার উৎসবিন্দু বাংলাদেশের মাটিতে আরও দীর্ঘকাল শোণিতসিক্ত থেকে যাবে, শুকোবে না।’

কবি সাযযাদ কাদির বলেছেন- ‘নতুন ইতিহাসের বুকে এ রকম এক নতুন জন্মের ঘোষণা দিয়ে আত্মপ্রকাশ মোহনের। তারপর নতুন রণাঙ্গনের অঙ্গীকার তাঁকে নিয়ে যায় বীরের রক্ত আর মায়ের অশ্রুর কাছে-তাঁর পরিচয় হয়ে ওঠে আন্দোলন সংগ্রাম যুদ্ধ বিপ্লবের এক সোচ্চার অনুষঙ্গ; কত নামের সঙ্গে জড়িয়ে যায় তাঁর নাম-শহীদ মনিরুজ্জামান তারা, কমরেড শহীদ সিরাজ শিকদার, কর্নেল আবু তাহের, মার্কস, লেনিন, মাওসেতুং, থালমান, গ্রামসি, লুকসেমবার্গ, হো চি মিন, ফিদেল ক্যাস্ত্রো, চে গুয়েভারা, হোকাকু, শাহজাহান সিরাজ, ইলা মিত্র, বেনজামিন মলয়েজ, রউফুন বসুনিয়া, কফিল, উইনি, ডা. মিলন, অনুপ চেটিয়া, মধু দা, নূর হোসেন ... আরও কত নাম। আমি এই মোহনকে চিনি-সে কোনো ব্যক্তি নয়, এক শক্তি।’

মফিদুল হক বলেছেন- ‘মোহন রায়হানকে দেখে আমার মনে হতো অগাস্তঁ ব্লাঙ্কির কথা। কার্ল মার্কসের একটি রচনা ছিল ‘ব্লাঙ্কি দ্যা ইনসারেকশনিস্ট’। রচনার উদ্দিষ্ট সেই মানুষটি যিনি বিপ্লবী গণ-উত্থানের জন্যে নিরন্তর কাজ করে চলেছেন। ব্লাঙ্কির জীবন কেটেছে কারাগারে ও রাজপথে এবং ১৮৭১ সালের পারি কমিউনের তিনি ছিলেন অন্যতম নায়ক। ব্লাঙ্কি সম্পর্কে কার্ল মার্কসের ঐ অভিধা মনে পড়ে যায় মোহন রায়হানকে দেখে-মিছিলে যে যুবক থাকবে সবচেয়ে আগে, পুলিশের সামনে এগিয়ে যাবে নির্দ্বিধায় এবং সংঘাতের জন্যে যেন সব সময়ে মুখিয়ে আছে। আমার মনে হতো এরকম অকুতোভয় তরুণরাই তো পারি কমিউনের যুগ থেকে দেশে দেশে জনগণের বিপ্লবী উত্থানের অগ্রপথিক হয়ে থেকেছে। আগুন জ্বলে উঠতে যে স্ফুলিঙ্গের প্রয়োজন তার যোগানদাতা এঁরা। সেই থেকে আমি মোহন রায়হানকে চিনি। আর সবাই তাঁকে নানাভাবে চেনেন, আমার কাছে এই যুবক তখন থেকেই মোহন দ্যা ইনসারেকশনিস্ট।’

শাহরিয়ার কবির বলেছেন- ‘সত্তরের দশকের এক ব্যতিক্রমী কবি মোহন রায়হান। মুক্তিযুদ্ধোত্তর বাংলা কবিতায় প্রান্তিক মেহনতি মানুষের আনন্দ-বেদনা, আশা-আকাঙ্ক্ষা, ক্ষোভ-যন্ত্রণা মোহনের কবিতায় যেভাবে বাক্সময় হয়েছে তাঁর সমসাময়িক অন্য কোনো কবির রচনায় আমরা তেমনটি প্রত্যক্ষ করিনি। মোহন আপাদমস্তক একজন রাজনৈতিক কবি-নেরুদা, লোরকা, নাজিম হিকমত, নজরুল, সুভাষ, সুকান্ত আর দীনেশের যোগ্য প্রতিনিধি। মোহনের মতো আর কোনো কবি সামরিক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে কারানির্যাতনের শিকার হননি।’

সলিমুল্লাহ খান বলেছেন- ‘যে কবিতা আমি লিখিতে চাহিয়াছিলাম, কিন্তু পারি নাই। একদিন দেখিলাম আমার বন্ধু কবি মোহন রায়হান সেই কবিতা ‘সাহসী মানুষ চাই’ লিখিয়া ফেলিয়াছেন। তাহাকে অভিনন্দন জানানোই আমি আমার কর্তব্য বলিয়া সাব্যস্ত করিলাম। ভর্তি হইলাম তাহার অগুনতি ভক্তদের দলে।’

কামাল চৌধুরী বলেছেন- ‘একজন কবি প্রেমিক না হলে তার পক্ষে দ্রোহী হওয়াও সম্ভব নয়। দ্রোহ এক ধরনের প্রেমেরই নামান্তর। ইতোমধ্যে তাঁর অনেকগুলো গ্রন্থ বেরিয়েছে। লালটুপি মার্কা একটা রাগী চেহারা তাঁর দাঁড়িয়ে গেলেও শুধু দ্রোহী বা বিপ্লবী বললে তার কবিতার যথার্থ মূল্যায়ন হবে না। ভেতরে ভেতরে এক অসাধারণ প্রেমিক লুকিয়ে আছে তাঁর কবিতায়। তাঁর প্রেম, তাঁর ভালবাসা, তাঁর স্বদেশ- সেই সঙ্গে প্রিয় নারীর সান্নিধ্যের কুহকও জড়িয়ে আছে কবিতার পরতে পরতে।’

বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেছেন- ‘সঙ্ঘশক্তির জাগরণ দিয়ে, ঐতিহ্যের শক্তি দিয়ে, লোকজীবনের সাহস দিয়ে মোহন রায়হান নির্মাণ করতে চেয়েছেন একটি নতুন পৃথিবী। কবিতায় এই নতুন পৃথিবীর সন্ধান তাঁর উপনিবেশবাদ-বিরোধী মানসিকতারই আন্তরিক বহিঃপ্রকাশ। শোষণমুক্ত একটি সমাজ প্রতিষ্ঠার বাসনায় তাঁর কবিতায় এসে মিশেছে সাম্যবাদী যুবক, গ্রামীণ কালো চাষা, সর্বহারা শ্রমিক। উপনিবেশবাদ-বিরোধী এই বৈশিষ্ট্যই বাংলাদেশের কবিতার ধারায় মোহন রায়হানকে এনে দিয়েছে স্বতন্ত্র মর্যাদা, প্রাতিস্বিক প্রতিষ্ঠা।’



মন্তব্য করুন


লিট ইনসাইড

কথা বলতে দে...

প্রকাশ: ০৩:০০ পিএম, ২৭ নভেম্বর, ২০২২


Thumbnail

কী করে শহীদ মিলন উঠে এলো 'নিঝুম স্থাপত্য' থেকে
ডাঃ জালালকে রিক্সা থেকে নামিয়ে দিয়ে সে এসে
চিতা বাঘের মতন বুক চিতিয়ে দাঁড়াল শাহবাগে! 
একি! মিসাইলের মতন হাত উঁচিয়ে গগন বিদারী চিৎকারে কী শ্লোগান দিচ্ছে সে? 

ওমা একি! জয়নাল, জাফর, মোজাম্মেল, কাঞ্চন, দীপালী সাহা, সেলিম, দেলোয়ার, বসুনিয়া, শাহজাহান সিরাজ, তাজুল, জেহাদ, নূর হোসেনসহ একে একে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সকল শহীদ এসে একত্র জড় হচ্ছে!

হায় হায়! তাঁদের ভিসুভিয়াসের মতন চোখ থেকে ঠিকরে পড়া আগুনে জ্বলছে কংক্রিটের বস্তি ঢাকা শহর, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, রমনাপার্ক, চন্দ্রিমা উদ্যান! পিঁপড়ের সারির মতন ঘর থেকে বেরিয়ে আসছে অসংখ্য অগণিত মানুষ, তাঁরা সবাই উলঙ্গ, আহত নেকড়ের মতন ক্রুদ্ধ ক্ষুব্ধ হিংস্র!

সর্বনাশ তাঁদের ঘুষিতে, লাথিতে মড়মড় করে ভেঙে পড়ছে পাহাড়ের মতন সুদৃঢ় উদ্ধত স্থাপত্য সৌন্দর্যে সুশোভিত একেকটি বহুতল ভবন! তাঁরা মুতে ডুবিয়ে দিচ্ছে আমার প্রাণ প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়, পিজি হাসপাতাল এমনকি মিলনের নিজস্ব শিক্ষালয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ, পাবলিক লাইব্রেরি, জাতীয় যাদুঘর, প্রেসক্লাব, প্রতিটি গণমাধ্যম কার্যালয়!

তাঁরা উন্মাদের মতন হাতপা ছুঁড়ে দুনিয়া কাঁপানো আর্তনাদে বলছে-আমরা বাঁচতে চাই, আমরা কথা বলতে চাই, আমাদের কথা বলতে দে...
আমি তাঁদের দিকে ছুটে যেতেই তাঁরা ভীষণ ক্ষিপ্ত বাইসনের মতন আমাকে তাড়া করল
আমি ছুটছি...ছুটছি...উর্ধ্বশ্বাসে প্রাণপণে ছুটছি...

কিন্তু না, বিক্ষুব্ধ জনতা আর শহীদদের ব্যুহ ভেদ করে আমি কিছুতেই বের হতে পারছি না, তাঁরা আমাকে ধরে ফেলল, সমবেত হাতে আমার টুটি চেপে ধরল! আমি শ্বাস নিতে পারছি না, আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে, ঘাম ঝরছে... আমি মারা যাচ্ছি... প্রিয় মিলন, বসুনিয়া, শাহজাহান সিরাজ, সেলিম, দেলোয়ার আর অন্যান্য শহীদেরা আমাকে ক্ষমা করো, ক্ষমা করো, ক্ষমা করো....
এ কেমন ভোরস্বপ্ন দেখালে মিলন?

শহীদ মিলন দিবস
২৭ নভেম্বর ২০২২

শহীদ মিলন  


মন্তব্য করুন


লিট ইনসাইড

জাদুকরের জন্মদিন আজ

প্রকাশ: ০৮:৪২ এএম, ১৩ নভেম্বর, ২০২২


Thumbnail

নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ৭৪ তম জন্মদিন আজ। হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন উপলক্ষ্যে দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। টিভিতে প্রচারিত হবে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। চ্যানেল আই আয়োজন করেছে হিমু মেলার। 

শনিবার দিবাগত রাত ১২টার পর লেখকের ধানমন্ডির ‘দখিন হাওয়া’ জন্মদিনের কেক  ফ্ল্যাটে কাটা হয়েছে। হুমায়ূনকে স্মরণ করে দুই ছেলে নিষাদ ও নিনিতকে নিয়ে কেক কেটেছেন লেখকের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন। অন্যদিকে, রাত ১২টা ১ মিনিটে নুহাশ পল্লীতে মোমবাতি জ্বালানো হয়। রবিবার ভোরে শাওন তার দুই ছেলেকে নিয়ে যাবেন হুমায়ূনের স্মৃতিধন্য গাজীপুরের পিরুজালী গ্রামের নূহাশ পল্লীতে। সেখানে লেখকের সমাধিতে নিবেদন করবেন ফুলেল শ্রদ্ধাঞ্জলি। এছাড়া কেকও কাটবেন।

হুমায়ূন আহমেদ বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখক। উপন্যাসে নিজের প্রতিভার বিস্তার ঘটলেও তার শুরুটা ছিল কবিতা দিয়ে। এরপর নাটক, শিশুসাহিত্য, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি, চলচ্চিত্র পরিচালনা থেকে শিল্প-সাহিত্যের প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি রেখে গেছেন নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর। হুমায়ূন আহমেদ বাংলা সাহিত্যে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির জনকও বটে। ১৯৭২ সালে প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ প্রকাশের পরপরই তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। উপন্যাসে ও নাটকে তার সৃষ্ট চরিত্রগুলো বিশেষ করে ‘হিমু’, ‘মিসির আলী’, ‘শুভ্র’ তরুণ-তরুণীদের কাছে হয়ে ওঠে অনুকরণীয়।

১৯৪৮ সালের আজকের এই দিনে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ ও মা আয়েশা ফয়েজের প্রথম সন্তান তিনি। বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা, আর মা ছিলেন গৃহিণী। তিন ভাই দুই বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। খ্যাতিমান কম্পিউটারবিজ্ঞানী, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক জাফর ইকবাল তার ছোট ভাই। সবার ছোট ভাই আহসান হাবীব নামকরা কার্টুনিস্ট ও রম্যলেখক।

বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পদক ‘একুশে পদক’ লাভ করেন। এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮১), হুমায়ুন কাদির স্মৃতি পুরস্কার (১৯৯০), লেখক শিবির পুরস্কার (১৯৭৩), জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৩ ও ১৯৯৪), বাচসাস পুরস্কার (১৯৮৮) লাভ করেন। 


হুমায়ূন আহমেদ   জাদুকর   জন্মদিন  


মন্তব্য করুন


লিট ইনসাইড

আমার একমাত্র চাওয়া

প্রকাশ: ০৩:০০ পিএম, ২৮ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail আমার একমাত্র চাওয়া

মানুষের কতকিছু সাধ থাকে কত চাওয়া পাওয়া
আমার কিছুই নাই শুধু ইচ্ছা করে, কিছু ভণ্ড নেতাকে
জাঙিয়া পরিয়ে কাকতাড়ুয়া বানিয়ে
জিরো পয়েন্টে সারা বছর দাঁড় করিয়ে রাখতে।

খুব ইচ্ছা করে, কিছু বুদ্ধিজীবী নামক ভাঁড়কে
পাবলিক লাইব্রেরির সামনে জুতার মালা গলায় পরিয়ে
সকাল-সন্ধ্যা প্রতিদিন দাঁড় করিয়ে রাখতে।

ভীষণ ইচ্ছা করে, দলবাজ চালবাজ ফাঁকিবাজ
শিক্ষকগুলোকে প্রত্যকের স্কুল-কলেজ
বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে কান ধরিয়ে
নীলডাউন করিয়ে রাখতে।

প্রচণ্ড বাসনা, বেলেল্লা সংস্কৃতিজীবীদের টিএসসির
রাজু ভাস্কর্যের সামনে মুখে চুনকালি মেখে
সং সাজিয়ে রাতদিন চাকভূম নৃত্য করাই।

বড় ইচ্ছা করে, প্রেস ক্লাবের সামনে সব মিডিয়া-ডন
আর তাদের পা-চাটা সাংবাদিকগুলোকে
পরস্পরের পোঁদে কলম ঢুকিয়ে হে হে করে
দাঁত কেলিয়ে হাসাতে।

কি যে ইচ্ছা করে, আব্দুল গণি রোডে ঘুষখোর চোর
দুর্নীতিবাজ দাম্ভিক আমলাগুলারে বুটপালিশওয়ালা
বানিয়ে রাতদিন জনগণের জুতা পালিশ করাতে।

একান্ত ইচ্ছা, যাদের উপর ন্যস্ত জনগণের
জানমালের নিরাপত্তা অথচ তারাই সবচেয়ে বেশি
জনআতঙ্ক, সেইসব চিহ্নিত আইন লঙ্ঘনকারী
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীকে দেশের প্রতিটি শহরের মোড়ে
মোড়ে ক্ষমার ভঙ্গিতে হাতজোড় করিয়ে রেখে
পথচারীদের দিয়ে মুখে থুথু ছিটিয়ে দিতে।

দুরন্ত এক ইচ্ছা, ব্যাংক লুটেরা ভূমিদস্যু কালোবাজারি
অর্থপাচারকারী মজুরি কম দেয়া রক্তচোষা দুর্বিনীত
বেনিয়াদের সব অর্থ সম্পদ রাষ্ট্রায়ত্ত করে
হাত-পা ভেঙে নুলো ভিখারি বানিয়ে রাস্তার
মোড়ে মোড়ে ভিক্ষা করাতে।

বহুদিনের স্বপ্ন, ধর্মের মুখোশধারী ধর্মব্যবসায়ী
সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়ানো শিশু বলাৎকারী নারীলোভী
ইবলিশগুলোকে খোঁজা বানিয়ে সারা দেশে টয়লেট পরিষ্কারের
কাজে লাগানোর আর চিরদিনের জন্য ধর্মীয় রাজনীতি
বন্ধ করে দেওয়ার।

কিযে ইচ্ছা, দলদাস তেলবাজ মালবাজ চাপাবাজ
ধান্ধাবাজ তদবিরবাজ পদলেহী চামচা দালাল
মোসাহেবদের গলায় ঘণ্টি বেঁধে প্রতিটি শহরের ঝাড়ুদার বানাতে।

আশ্চর্য এক স্বপ্ন নিয়ে অপেক্ষায় থাকি
কবে দেশের প্রতিটি শিক্ষাঙ্গন হবে স্বপ্নচাষের উর্বর বাগান
কবে প্রতিটি শিশুর জীবন হবে মেঘমুক্ত শরতের
আকাশের মতন সমুজ্জ্বল কবে হবে প্রতিটি সেনানিবাস
সংবিধান সমুন্নত রাখার সবচেয়ে বিশ্বস্ত পাহারাদার?

আমার অন্য কোনো চাওয়া পাওয়া সাধ
আহ্লাদ নাই জীবনের একমাত্র চাওয়া
মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন।


('দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন'-এর সাহিত্য পাতায় প্রকাশিত)


মন্তব্য করুন


লিট ইনসাইড

নাগরিক কবির জন্মদিন আজ

প্রকাশ: ১১:০০ এএম, ২৩ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail নাগরিক কবির জন্মদিন আজ

শামসুর রাহমান আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি। জীবদ্দশাতেই তিনি বাংলাদেশের প্রধান কবি হিসেবে মর্যাদালাভ করেছিলেন। বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় ভাগ, তথা পঞ্চাশের দশকে তিনি আধুনিক কবি হিসেবে বাংলা কবিতায় আবির্ভূত হন। কবি শামসুর রাহমানের জন্ম  ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার মাহুতটুলি এলাকায় নানাবাড়িতে।

শামসুর রাহমান বাংলাদেশ ও আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি। বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় ভাগে দুই বাংলায় তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও জনপ্রিয়তা প্রতিষ্ঠিত। তিনি একজন নাগরিক কবি ছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ওপর লিখিত তাঁর দুটি কবিতা খুবই জনপ্রিয়। তিনি মজলুম আদিব (বিপন্ন লেখক) ছদ্মনামে লিখতেন। বিংশ শতকের তিরিশের দশকের পাঁচ মহান কবির পর তিনিই আধুনিক বাংলা কবিতার প্রধান পুরুষ হিসেবে প্রসিদ্ধ। কেবল বাংলাদেশের কবি আল মাহমুদ এবং পশ্চিমবঙ্গের কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় বিংশ শতকের শেষার্ধে তুলনীয় কাব্যপ্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন বলে ধারণা করা হয়।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যত কবিতা রচিত হয়েছে তার মধ্যে শামসুর রাহমানের কবিতা নিঃসন্দেহে অন্যতম এবং উল্লেখযোগ্য। তার বেশকিছু কবিতা মানুষের মুখে মুখে। শামসুর রাহমানের কবিতা সব প্রজন্মের কাছে সমান অনুপ্রেরণাদায়ী। দেশকে ভালোবাসতে যুগে যুগে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। কবি শামসুর রাহমানকে আমরা ব্যস্ত নাগরিক জীবনের কবি হিসেবেই বেশি চিনতে পারি। তিনি ছিলেন একজন সমকালের সমাজ সচেতন কবি। তার চারপাশের অভিজ্ঞতা, নাগরিক জীবনের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, রোমান্টিকতা, প্রেম, নৈসর্গিকতা, শাসন-শোষণ আর শোষকগোষ্ঠীর প্রতি ঘৃণা ও তীব্র ক্ষোভ এসব নিয়েই তিনি লিখেছেন কবিতা। মুক্তিযুদ্ধকালীন তার অভিজ্ঞতার ঝুলি থেকেই লিখেছেন মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে উল্লেখযোগ্য এবং অন্যতম জনপ্রিয় সব কবিতা।

শামসুর রাহমানের প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের ‘মধ্যে রৌদ্র করোটিতে’, ‘বিধ্বস্ত নিলীমা’, ‘নিরালোকে দিব্যরথ’, ‘নিজ বাসভূমে’, ‘বন্দী শিবির থেকে’, ‘দুঃসময়ে মুখোমুখি’, ‘আদিগন্ত নগ্ন পদধ্বনি’, ‘এক ধরনের অহংকার’, ‘আমি অনাহারী’, ‘শূন্যতায় তুমি শোকসভা’, ‘বাংলাদেশ স্বপ্ন দেখে’, ‘প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে’, ‘ইকারুসের আকাশ’, ‘মাতাল ঋত্বিক’, ‘উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে’, ‘কবিতার সঙ্গে গেরস্থালি’, উল্লেখযোগ্য।

বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য শামসুর রাহমান ভূষিত হয়েছেন- বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, স্বাধীনতা পদক, আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, জীবনানন্দ পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কারে। আজ এই প্রতিভাবান কবির জন্মদিন। তাঁর জন্মদিনে আমরা তাকে করি স্মরণ এবং জানাই শ্রদ্ধা।

নাগরিক কবি   জন্মদিন   শ্রদ্ধা   স্মরণ  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন