লিট ইনসাইড

চিরদিনই দীপ জ্বেলে যায়

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১০:৫৮ পিএম, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১


Thumbnail

হিন্দু এক অজপাড়াগাঁয় ছোট্ট একটা গলি যা দিয়ে মাত্র একটা রিক্সা বা ঠেলাগাড়ি ঢোকে; সেই গলিটা এঁকে-বেঁকে  গোবিন্দ মন্দিরের দিকে চলে গেছে। গলিতে ঢোকার শুরুতেই বাঁশের বেড়া দেয়া বর্গাকৃতির একটা জায়গা। ছোট একটা টিনের গেট, পাশেই একটা বাঁশঝাড়। গেটের ভিতর ঢুকতেই চোখে পড়ে ছোট্ট একটা ঘর, ঘুণে-ধরা গজারী কাঠের তৈরি দেয়াল আর অনেক বছরের পুরানো ফুটো টিনের চাল। ঘরের দরজার উপরে একটা ক্রুশ ঝোলানো আছে। বোঝা যায়, খ্রিস্টান পরিবারের আবাস। ঘরের খুঁটিগুলোও নড়-বড়ে, ঝড়ের সময় যা মনের মধ্যে একটা সংশয় সৃষ্টি করে। বর্ষাকালে ঘরের বেশির ভাগ অংশই ভেজা অবস্থায় থাকে। বৃষ্টির পানি পড়ার ফলে কিছু-কিছু জায়গায় ছোট-ছোট গর্তের সৃষ্টি হয়েছে যেখানে জায়গা করে নিয়েছে উইপোকা আর কুনোব্যাঙ। ঘরের মাটি এমনই স্যাঁতস্যাতে যে শীতকালেও এর কোন পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় না। ঘরের ভেতর একটা পুরানো চৌকি আর দু-খানা চেয়ার সযতনে রাখা। চৌকির ওজনে ঘরের মাটি ডেবে যাচ্ছে। বারান্দায় একটা লম্বা বেঞ্চি রাখা, যেটাতে চার-পাঁচজন বসে সুবাতাসে প্রাণ জুড়াতে পারে অনায়াসেই। পরিবেশটা বেশ নিরিবিলি এবং ছায়া-ঘেরা। উঠানের মাঝখানে পরিণত বৃষ্টিগাছটা তার শাখা-প্রশাখা এমনভাবে ছড়িয়ে রয়েছে যে এর ফাঁক-ফোকর দিয়ে নীলাম্বরটা সামান্যই চোখে পড়ে। বাড়িটার পরিবেশ দেখে মনে হয় বাড়িতে কোন প্রাণ নেই। বাড়িটিতে শুধু প্রাণ-জুড়ানো সমীরণ সারা দেহে উপলব্ধি করা যায়। সারাদিন এই নিস্তব্ধ বাড়িতে কোনো আওয়াজ শোনা না গেলে কাকের ডাক অবশ্যই শোনা যায়। তাই মানুষের অস্তিত্ব বোঝা না গেলেও গাছে-গাছে যে কাকের বাসা আছে তার প্রমাণ মেলে কা-কা ডাক শুনে।

সেই প্রাণহীন বাড়িতে তিনজন লোকের বাস, এক বিধবা মা আর তার দুই মেয়ে। দুর্ভাগ্যবশত, তিনি স্বামীর সঙ্গে আড়াই বছরের বেশি সংসার করার সুযোগ পাননি। স্বামী মারা যাবার পর থেকেই সংসারটাকে কোনরকম করে চালিয়ে যাচ্ছিলেন। স্বামী মারা যাবার কিছুদিন পরেই ঢাকা থেকে কয়েকজন ব্রতধারিনী বোনের আগমন ঘটে তার বাড়িতে। তারা বাড়িতে আসার উদ্দেশ্য খুলে বলার পর তিনি জানতে পারলেন যে, তারা তার যে কোন এক সন্তানকে দত্তক নিতে আগ্রহী। যদিও সেসময় তিনি প্রতিক‚ল অবস্থার মধ্যদিয়ে দিন যাপন করছিলেন, তারপরও তিনি তাদের খালিহাতে ফিরিয়ে দিলেন। তিনি তাদের জানালেন যে, ‘আমার দুই সন্তানই আমার কাছে সমান, কেউ কারো চেয়ে অধিক মূল্যবান নয়। তাই আমাকে ক্ষমা করবেন, আমি কাউকেই আপনাদের কাছে তুলে দিতে পারবো না’। তিনি আরও বললেন, “আমি কিছু না পারলেও অন্তত দুবেলা দু’মুঠো ভাত তাদের মুখে তুলে দিতে পারবো।” তিনি চাইলেই কিন্তু তার যেকোন এক মেয়েকে দত্তক দিয়ে আরেক মেয়েকে নিয়ে স্বাচ্ছন্দে জীবন যাপন করতে পারতেন। হয়তো এতে তার কষ্ট একটু হলেও কম হতো, কিন্তু তিনি তা করলেন না। তিনি তার সিদ্ধান্তে অবিচল থাকলেন। যাই হোক, মায়ের মনতো; মায়ের ভালোবাসা বোধহয় এমনই নিস্বার্থ হয়। তিনি যা করেছেন সেটা হয়তো মাতৃ¯েœহের কারণেই করেছেন। সেদিন হতে তার সন্তানদের দায়িত্ব তিনি নিজের কাঁধে তুলে নিলেন। সেদিন থেকে তার সংসার এবং পৃথিবী বলতে শুধু তার দুই মেয়ে এবং তাদেরকে ঘিরেই তার সব ভাবনা এবং স্বপ্ন-সাধনা। তার মেয়েদেরকে শিক্ষিত করে মানুষের মতো মানুষ করা এবং খ্রিস্টীয় মূল্যবোধে তাদেরকে গড়ে তোলাই যেন তার একমাত্র  লক্ষ্য।

কয়েক বছর পরে তিনি তার দুই মেয়েকে এক মিশন স্কুলে ভর্তি করে দিলেন। বাড়ি থেকে স্কুলের দুরত্ব প্রায় দুই বা আড়াই মাইল হবে। দুই বোন গলা-গলি করে রাস্তার এক পাশ দিয়ে হেঁটে স্কুলে যেতো। তা দেখে অন্যান্য সকলেই অনুপ্রাণিত হতো। তারা মাকে বলতেন, আপনার মেয়েদের মধ্যে ভালোই মেলবন্ধন যা সত্যিই প্রশংসার দাবীদার। সেসময় বাইবেল সোসাইটি কর্তৃক একটা চাকরীর প্রস্তাব পান মা। সেসময় আর্থিক অবস্থা অনুক‚লে না থাকায় একটা চাকরীর খুবই দরকার ছিলো, তাই তিনিও রাজি হয়ে গেলেন। চাকরীর সুবাদে মিশন স্কুলের পার্শ্ববর্তী এলাকায় যেতে হতো প্রতিদিনই। তাই এতে তার সুবিধাই হয়েছিলো কারণ আসা-যাওয়ার পথে মেয়েদেরকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে নিজের কর্মস্থলে যেতে পারতেন। তিনি বয়স্কদের পড়ানোর সাথে-সাথে সেখানকার স্কুলপড়–য়া ছেলে-মেয়েদের পড়ানোর সুযোগ পান। সকালবেলা শিক্ষার্থীদের পড়ানোর জন্য তিনি তাড়াতাড়ি গ্রামে যেতেন আর তার পিছন-পিছন চলতো দুই মেয়ে। পথ চলার সময় মাকে জিজ্ঞাসা করতো, মা এটা-ওটা কি, ওটা এমন কেন? রাস্তায় চলার সময় তিনি যে কতো রকম প্রশ্নের মুখোমুখি হতেন তার হিসেব কে রাখে! মেয়ের প্রশ্নের উত্তর দিতে-দিতে ক্লান্ত হয়ে যেতেন ও মাঝে-মাঝে বিরক্তবোধও করতেন। তবে জানার কৌতুহলকে তিনি সর্বদাই প্রশংসা করতেন ও উৎসাহিত করতেন।

সন্তানের শিক্ষাকে তিনি এতোটাই গুরুত্ব দিতেন যে, গন্তব্যস্থলে পৌঁছেও অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সাথে-সাথে তার দুই মেয়েকেও পড়াতেন। বাড়ি ফিরে রান্না করতেন কিন্তু দুপুর গড়িয়ে গেলেও আহার করতেন না। তিনি তার মেয়েদের জন্য স্কুল থেকে ফেরার অপেক্ষায় বসে থাকতেন। তারা স্কুল থেকে ফিরলে একসাথে আহার করতেন। তার কাছ থেকেই তার সন্তানেরা শিখেছে একসাথে আহার করা পারিবারিক ভালোবাসার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

সন্ধ্যে হলেই বারান্দায় চাটাই বিছিয়ে, হারিকেন বা কুপি বাতি জ্বালিয়ে মেয়েদের পড়াতে বসতেন। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক বা শিক্ষিকা কি পড়িয়েছেন তার খোঁজ-খবর নেয়া যেন ছিলো তার প্রতিদিনকার রুটিন। তিনি তাদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে খুবই সচেতন ছিলেন। তার সন্তানেরা স্কুলে শিক্ষা গ্রহণ করলেও তাদের জীবনে সবচেয়ে বড় শিক্ষক ছিলেন মা নিজেই। তিনি তার সন্তানদের ইচ্ছে বা স্বপ্নকে নিজের মতো করেই সর্বদা মনে লালন করতেন, যদিও মাঝে-মধ্যে সাধ্য ও সামর্থ না থাকার ফলে তাদের স্বপ্নকে দুঃস্বপ্ন বলে মনে করতেন। তিনি ভাবতেন মাটির ঘরে বসে স্বপ্ন দেখা যে সত্যিই নিছক মরিচীকার খেলা ছাড়া আর কিছইু নয়।

বড় মেয়ে অনেক বড়-বড় স্বপ্নের কথা মায়ের সাথে সহভাগিতা করতো। মা শুধু মনে-মনে ভাবতেন আদৌ কি এই স্বপ্নগুলো শুধু সাদা মেঘমালার মতো আকাশে ভেসে বেড়াবে, নাকি কখনও বৃষ্টি হয়ে মাটিও স্পর্শ করবে! তিনি বলতেন, মা, তুমি যে এত বড়-বড় স্বপ্ন দেখো, তোমার মায়েরতো সেই স্বপ্ন পূরণের সাধ্য নেই। আমরা যে বড় অসহায় মা, আমাদের পাশে দাঁড়ানোর মতো যে কেউ নেই। আমাদের জীবনের সব স্বপ্ন যে অভাব-অনটনের শক্ত শিকলে বাঁধা পড়ে আছে আর তা থেকে বেড়িয়ে আসার ক্ষমতা যে আমাদের নেই। সকলকে আড়াল করে চুপিসারে অশ্রু ঝরাতেন। সন্তানদের চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় মা মনে-মনে খুবই কষ্ট পেতেন। আর্থিক অস্বচ্ছলতা থাকা সত্ত্বেও তিনি নিজের সাধ্যমতো তাদের চাহিদা পূরণে কোন ত্রুটি রাখতেন না। যিনি উপর থেকে সব কিছু অবলোকন করেছেন তিনি হয়তো ভাবতেন যে, এই অতিসাধারণ জীবনও তাদের কাছে কতোই না গভীর, কতোইনা জটিল বলে মনে হয়।

তিনি এমনই একজন মা যিনি তার স্বর্বস্ব দিয়ে সকল প্রতিক‚লতার বিরুদ্ধে লড়াই করে সন্তানদেরকে বেড়ে উঠতে সাহায্য করছিলেন। তিনি তাদের বাবার কোন অভাব বুঝতে দিতে চাননি। তিনি কারো সাহায্যের অপেক্ষায় দিন যাপন করেননি, তিনি নিজেই তার সংসারের সম্পূর্ণ ভার নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। প্রতিদিন পায়ে হেঁটে পড়াতে যেতেন। প্রয়োজনের চেয়েও বেশি খাটতেন তিনি। নিজের শরীরে না কুলালেও প্রচেষ্টার ঘাটতি কখনই ছিলো না। যা সর্বদাই তার সন্তানদের পরিশ্রমী হওয়ার নিরন্তর অনুপ্রেরণা যোগাতো। তিনি অসুস্থাবস্থায়ও দশ টাকা খরচ করে রিকসায় উঠতে দ্বিধাবোধ করতেন, যেন তার মেয়েদের জন্য দশটাকা জমিয়ে রাখতে পারে আর তা দিয়ে তারা একদিন বাসে চড়তে পারে। তার এই অসামান্য ত্যাগস্বীকারই তার সন্তানদের ধীরে-ধীরে জীবনের সাথে সংগ্রাম করতে শিক্ষা দিয়েছেন যা কোন প্রতিষ্ঠান হয়তো দেয়নি তাদের। তাদের কোন কিছু খেতে ইচ্ছে করলে বা মনে-মনে কোন কিছু পছন্দ হলেও মায়ের কাছে আবদার করতো না; বরং মাকে বলতো, “মা, তোমার যখন টাকা হবে, তুমি আমাদের ওই জিনিসটা কিনে দিও।” এই কথা শুনে মা প্রায়শই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়তেন। তার চোখজুড়ে বাঁধহীন জোয়ার বইতো, সন্তানদের কথা যেন মা’কে নির্বাক করে দিতো। মা অবাক হয়ে ভাবতেন যে, এইটুকু বয়সে তারা যে এধরণের কথা বলতে পারে, আর সেকথার ওজন যে কতোখানি তা হয়তো তারা বুঝেই না এখনও। যা অনেক সন্তানই বুঝতে পারে না, বুঝতে না পারারই কথা বলা চলে। তিনি সত্যিই অবাক হতেন, কারণ ছোট হলেও তার সন্তানদের এতোটুকু বোঝার ক্ষমতা আছে যে, তাদের আকাক্সক্ষা ও আবদার পূরণের জন্য মায়ের কাছে এখন টাকা নেই। তিনি ভাবতেন, তিনি অসহায় বলেই হয়তো ঈশ্বরও তাকে এমন সন্তানই দিয়েছেন, যারা তার কষ্ট অনুভব করতে পারে।

আত্মীয়-স্বজন নিকটে না থাকায় মায়ের অন্তরালে লুকিয়ে রাখা কষ্টগুলো কারো সাথে সহভাগিতা করতেও পারতেন না। তিনি এই চিন্তায় নিবিষ্ট থাকতেন যে, তিনি যাদের এতো ভালোবেসে বুকে আগলে রেখেছেন এবং যাদের জন্য প্রতিনিয়ত ত্যাগস্বীকার করছেন, তারা নিশ্চয় তাকে পর করে দিবে না। শেষ বয়সে তাকে নিশ্চয় বৃদ্ধাশ্রমে ঠাঁই নিতে হবে না। সন্তানদের ওপর তার আস্থা ছিলো অবিচল। বৈধব্যের একাকীত্বের জীবনে কখনও তিনি নিজের জন্য আর স্বপ্নের জাল বুনেন না এবং নতুন সংসার শুরু করার কথাও ভাবেন না; তিনি শুধু তার সন্তানদের জন্যই ভাবেন। তিনি তার সন্তানদের নিয়েই অবিরাম স্বপ্ন দেখেন। তিনি আজও বিশ্বাস করেন যে, তার আদরের মেয়েরা এই হতাশার ঘনঘটা কাটিয়ে একদিন আশার আলো দেখাবে তাকে, সেদিন এই ত্যাগস্বীকার এবং কষ্ট আর কিছুই মনে হবে না। সবকিছু স্বপ্নের মতই মনে হবে। আঁধার পেরিয়ে নতুন ভোরে তিনি আখি মেলে চাইবেন ও প্রাণভরে সন্তানদের আশীর্বাদ করবেন। সেই আশায় তিনি তার মনের ঘরে প্রতিনিয়ত দ¦ীপ জ্বেলে রাখেন।

তার প্রিয় সন্তানেরা যে মায়ের কষ্ট অনুভব করতে পারতো না, তা কিন্তু নয়। আঁচলের আড়ালে লুকিয়ে রাখা অশ্রæসজল চোখ তাদের কাছে কোনদিনই গোপন থাকতো না। তাদের গড়ে তুলতে মাকে যে কতো মানুষের অপমান-তুচ্ছ তাচ্ছিল্য সহ্য করতে হয়েছে তার নিরব সাক্ষীতো তার সন্তানেরাই। কেউ-কেউ তাকে চ্যালেঞ্জ করে বলেছিলেন “দেখবো, কিভাবে তুমি তোমার সন্তানদের গড়ে তোল?”। মায়ের জীবনে এমনও দিন এসেছে, যখন কিছু সুযোগ-সন্ধানী লোক তার দারিদ্র্যের এবং অসহায়ত্বের সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করেছেন। সে অপচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে অপমান ও অপদস্তও করেছেন। কিন্তু তিনি মোটেই নিরাশ হোননি, দৃঢ় মনোবল নিয়ে সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। তিনি সর্বদাই তার সন্তানদের যোগ্য করে তুলতে চেয়েছেন এবং সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার প্রেরণা যুগিয়েছেন। তার সন্তানেরাও দৃঢ়প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলো যে, মাকে তারা কখনই এই নির্মম সমাজ ও রুঢ় বাস্তবতার কাছে হেরে যেতে দিবে না। প্রতিটি মুহর্তেই তিনি এবং তার সন্তানেরা মনের অন্দরমহলে দ্বীপ জ্বেলে যায় শুধুমাত্র সেই সুদিনের আশায়, যেদিন তাদের দেখা সব অস্পষ্ট স্বপ্ন চোখের সামনে স্পষ্টরূপে বাস্তবায়িত হবে ও রূপান্তর ঘটবে নবায়িত জীবনের। সেই সুদিনের জন্য তারা দ্বীপ জ্বালে, যেদিন জীবন থেকে সব ব্যর্থতার গ্লানি, হতাশা এবং ভারাক্রান্ত মনের বোঝা পানিতে ভাসা বরফের মতোই হালকা হবে। এভাবেই জীবনের চরম অপ্রত্যাশিত মুহূর্তেও চিরদিনই তারা দীপ জ্বেলে যায় শুধুমাত্র সাফল্যময় আগামীর প্রত্যাশায়। এভাবেই সুখ-দুঃখের লীলাভ‚মিতে দিন গোনে যায় খোলা আকাশের নীচে সকল হতাশা, নিরাশা ও ব্যর্থতার সমাপ্তি ঘটিয়ে একদিন জীবনে সুদিন আসবেই, সেদিন আলো-ছায়ার মেলায় হয়তো হারিয়ে যাবে মা কিন্তু সন্তানেরা নতুন আলোয় নিজেদের প্রকাশ করবে।



মন্তব্য করুন


লিট ইনসাইড

কথা বলতে দে...

প্রকাশ: ০৩:০০ পিএম, ২৭ নভেম্বর, ২০২২


Thumbnail

কী করে শহীদ মিলন উঠে এলো 'নিঝুম স্থাপত্য' থেকে
ডাঃ জালালকে রিক্সা থেকে নামিয়ে দিয়ে সে এসে
চিতা বাঘের মতন বুক চিতিয়ে দাঁড়াল শাহবাগে! 
একি! মিসাইলের মতন হাত উঁচিয়ে গগন বিদারী চিৎকারে কী শ্লোগান দিচ্ছে সে? 

ওমা একি! জয়নাল, জাফর, মোজাম্মেল, কাঞ্চন, দীপালী সাহা, সেলিম, দেলোয়ার, বসুনিয়া, শাহজাহান সিরাজ, তাজুল, জেহাদ, নূর হোসেনসহ একে একে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সকল শহীদ এসে একত্র জড় হচ্ছে!

হায় হায়! তাঁদের ভিসুভিয়াসের মতন চোখ থেকে ঠিকরে পড়া আগুনে জ্বলছে কংক্রিটের বস্তি ঢাকা শহর, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, রমনাপার্ক, চন্দ্রিমা উদ্যান! পিঁপড়ের সারির মতন ঘর থেকে বেরিয়ে আসছে অসংখ্য অগণিত মানুষ, তাঁরা সবাই উলঙ্গ, আহত নেকড়ের মতন ক্রুদ্ধ ক্ষুব্ধ হিংস্র!

সর্বনাশ তাঁদের ঘুষিতে, লাথিতে মড়মড় করে ভেঙে পড়ছে পাহাড়ের মতন সুদৃঢ় উদ্ধত স্থাপত্য সৌন্দর্যে সুশোভিত একেকটি বহুতল ভবন! তাঁরা মুতে ডুবিয়ে দিচ্ছে আমার প্রাণ প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়, পিজি হাসপাতাল এমনকি মিলনের নিজস্ব শিক্ষালয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ, পাবলিক লাইব্রেরি, জাতীয় যাদুঘর, প্রেসক্লাব, প্রতিটি গণমাধ্যম কার্যালয়!

তাঁরা উন্মাদের মতন হাতপা ছুঁড়ে দুনিয়া কাঁপানো আর্তনাদে বলছে-আমরা বাঁচতে চাই, আমরা কথা বলতে চাই, আমাদের কথা বলতে দে...
আমি তাঁদের দিকে ছুটে যেতেই তাঁরা ভীষণ ক্ষিপ্ত বাইসনের মতন আমাকে তাড়া করল
আমি ছুটছি...ছুটছি...উর্ধ্বশ্বাসে প্রাণপণে ছুটছি...

কিন্তু না, বিক্ষুব্ধ জনতা আর শহীদদের ব্যুহ ভেদ করে আমি কিছুতেই বের হতে পারছি না, তাঁরা আমাকে ধরে ফেলল, সমবেত হাতে আমার টুটি চেপে ধরল! আমি শ্বাস নিতে পারছি না, আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে, ঘাম ঝরছে... আমি মারা যাচ্ছি... প্রিয় মিলন, বসুনিয়া, শাহজাহান সিরাজ, সেলিম, দেলোয়ার আর অন্যান্য শহীদেরা আমাকে ক্ষমা করো, ক্ষমা করো, ক্ষমা করো....
এ কেমন ভোরস্বপ্ন দেখালে মিলন?

শহীদ মিলন দিবস
২৭ নভেম্বর ২০২২

শহীদ মিলন  


মন্তব্য করুন


লিট ইনসাইড

জাদুকরের জন্মদিন আজ

প্রকাশ: ০৮:৪২ এএম, ১৩ নভেম্বর, ২০২২


Thumbnail

নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ৭৪ তম জন্মদিন আজ। হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন উপলক্ষ্যে দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। টিভিতে প্রচারিত হবে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। চ্যানেল আই আয়োজন করেছে হিমু মেলার। 

শনিবার দিবাগত রাত ১২টার পর লেখকের ধানমন্ডির ‘দখিন হাওয়া’ জন্মদিনের কেক  ফ্ল্যাটে কাটা হয়েছে। হুমায়ূনকে স্মরণ করে দুই ছেলে নিষাদ ও নিনিতকে নিয়ে কেক কেটেছেন লেখকের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন। অন্যদিকে, রাত ১২টা ১ মিনিটে নুহাশ পল্লীতে মোমবাতি জ্বালানো হয়। রবিবার ভোরে শাওন তার দুই ছেলেকে নিয়ে যাবেন হুমায়ূনের স্মৃতিধন্য গাজীপুরের পিরুজালী গ্রামের নূহাশ পল্লীতে। সেখানে লেখকের সমাধিতে নিবেদন করবেন ফুলেল শ্রদ্ধাঞ্জলি। এছাড়া কেকও কাটবেন।

হুমায়ূন আহমেদ বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখক। উপন্যাসে নিজের প্রতিভার বিস্তার ঘটলেও তার শুরুটা ছিল কবিতা দিয়ে। এরপর নাটক, শিশুসাহিত্য, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি, চলচ্চিত্র পরিচালনা থেকে শিল্প-সাহিত্যের প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি রেখে গেছেন নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর। হুমায়ূন আহমেদ বাংলা সাহিত্যে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির জনকও বটে। ১৯৭২ সালে প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ প্রকাশের পরপরই তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। উপন্যাসে ও নাটকে তার সৃষ্ট চরিত্রগুলো বিশেষ করে ‘হিমু’, ‘মিসির আলী’, ‘শুভ্র’ তরুণ-তরুণীদের কাছে হয়ে ওঠে অনুকরণীয়।

১৯৪৮ সালের আজকের এই দিনে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ ও মা আয়েশা ফয়েজের প্রথম সন্তান তিনি। বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা, আর মা ছিলেন গৃহিণী। তিন ভাই দুই বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। খ্যাতিমান কম্পিউটারবিজ্ঞানী, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক জাফর ইকবাল তার ছোট ভাই। সবার ছোট ভাই আহসান হাবীব নামকরা কার্টুনিস্ট ও রম্যলেখক।

বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পদক ‘একুশে পদক’ লাভ করেন। এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮১), হুমায়ুন কাদির স্মৃতি পুরস্কার (১৯৯০), লেখক শিবির পুরস্কার (১৯৭৩), জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৩ ও ১৯৯৪), বাচসাস পুরস্কার (১৯৮৮) লাভ করেন। 


হুমায়ূন আহমেদ   জাদুকর   জন্মদিন  


মন্তব্য করুন


লিট ইনসাইড

আমার একমাত্র চাওয়া

প্রকাশ: ০৩:০০ পিএম, ২৮ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail আমার একমাত্র চাওয়া

মানুষের কতকিছু সাধ থাকে কত চাওয়া পাওয়া
আমার কিছুই নাই শুধু ইচ্ছা করে, কিছু ভণ্ড নেতাকে
জাঙিয়া পরিয়ে কাকতাড়ুয়া বানিয়ে
জিরো পয়েন্টে সারা বছর দাঁড় করিয়ে রাখতে।

খুব ইচ্ছা করে, কিছু বুদ্ধিজীবী নামক ভাঁড়কে
পাবলিক লাইব্রেরির সামনে জুতার মালা গলায় পরিয়ে
সকাল-সন্ধ্যা প্রতিদিন দাঁড় করিয়ে রাখতে।

ভীষণ ইচ্ছা করে, দলবাজ চালবাজ ফাঁকিবাজ
শিক্ষকগুলোকে প্রত্যকের স্কুল-কলেজ
বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে কান ধরিয়ে
নীলডাউন করিয়ে রাখতে।

প্রচণ্ড বাসনা, বেলেল্লা সংস্কৃতিজীবীদের টিএসসির
রাজু ভাস্কর্যের সামনে মুখে চুনকালি মেখে
সং সাজিয়ে রাতদিন চাকভূম নৃত্য করাই।

বড় ইচ্ছা করে, প্রেস ক্লাবের সামনে সব মিডিয়া-ডন
আর তাদের পা-চাটা সাংবাদিকগুলোকে
পরস্পরের পোঁদে কলম ঢুকিয়ে হে হে করে
দাঁত কেলিয়ে হাসাতে।

কি যে ইচ্ছা করে, আব্দুল গণি রোডে ঘুষখোর চোর
দুর্নীতিবাজ দাম্ভিক আমলাগুলারে বুটপালিশওয়ালা
বানিয়ে রাতদিন জনগণের জুতা পালিশ করাতে।

একান্ত ইচ্ছা, যাদের উপর ন্যস্ত জনগণের
জানমালের নিরাপত্তা অথচ তারাই সবচেয়ে বেশি
জনআতঙ্ক, সেইসব চিহ্নিত আইন লঙ্ঘনকারী
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীকে দেশের প্রতিটি শহরের মোড়ে
মোড়ে ক্ষমার ভঙ্গিতে হাতজোড় করিয়ে রেখে
পথচারীদের দিয়ে মুখে থুথু ছিটিয়ে দিতে।

দুরন্ত এক ইচ্ছা, ব্যাংক লুটেরা ভূমিদস্যু কালোবাজারি
অর্থপাচারকারী মজুরি কম দেয়া রক্তচোষা দুর্বিনীত
বেনিয়াদের সব অর্থ সম্পদ রাষ্ট্রায়ত্ত করে
হাত-পা ভেঙে নুলো ভিখারি বানিয়ে রাস্তার
মোড়ে মোড়ে ভিক্ষা করাতে।

বহুদিনের স্বপ্ন, ধর্মের মুখোশধারী ধর্মব্যবসায়ী
সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়ানো শিশু বলাৎকারী নারীলোভী
ইবলিশগুলোকে খোঁজা বানিয়ে সারা দেশে টয়লেট পরিষ্কারের
কাজে লাগানোর আর চিরদিনের জন্য ধর্মীয় রাজনীতি
বন্ধ করে দেওয়ার।

কিযে ইচ্ছা, দলদাস তেলবাজ মালবাজ চাপাবাজ
ধান্ধাবাজ তদবিরবাজ পদলেহী চামচা দালাল
মোসাহেবদের গলায় ঘণ্টি বেঁধে প্রতিটি শহরের ঝাড়ুদার বানাতে।

আশ্চর্য এক স্বপ্ন নিয়ে অপেক্ষায় থাকি
কবে দেশের প্রতিটি শিক্ষাঙ্গন হবে স্বপ্নচাষের উর্বর বাগান
কবে প্রতিটি শিশুর জীবন হবে মেঘমুক্ত শরতের
আকাশের মতন সমুজ্জ্বল কবে হবে প্রতিটি সেনানিবাস
সংবিধান সমুন্নত রাখার সবচেয়ে বিশ্বস্ত পাহারাদার?

আমার অন্য কোনো চাওয়া পাওয়া সাধ
আহ্লাদ নাই জীবনের একমাত্র চাওয়া
মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন।


('দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন'-এর সাহিত্য পাতায় প্রকাশিত)


মন্তব্য করুন


লিট ইনসাইড

নাগরিক কবির জন্মদিন আজ

প্রকাশ: ১১:০০ এএম, ২৩ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail নাগরিক কবির জন্মদিন আজ

শামসুর রাহমান আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি। জীবদ্দশাতেই তিনি বাংলাদেশের প্রধান কবি হিসেবে মর্যাদালাভ করেছিলেন। বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় ভাগ, তথা পঞ্চাশের দশকে তিনি আধুনিক কবি হিসেবে বাংলা কবিতায় আবির্ভূত হন। কবি শামসুর রাহমানের জন্ম  ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার মাহুতটুলি এলাকায় নানাবাড়িতে।

শামসুর রাহমান বাংলাদেশ ও আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি। বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় ভাগে দুই বাংলায় তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও জনপ্রিয়তা প্রতিষ্ঠিত। তিনি একজন নাগরিক কবি ছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ওপর লিখিত তাঁর দুটি কবিতা খুবই জনপ্রিয়। তিনি মজলুম আদিব (বিপন্ন লেখক) ছদ্মনামে লিখতেন। বিংশ শতকের তিরিশের দশকের পাঁচ মহান কবির পর তিনিই আধুনিক বাংলা কবিতার প্রধান পুরুষ হিসেবে প্রসিদ্ধ। কেবল বাংলাদেশের কবি আল মাহমুদ এবং পশ্চিমবঙ্গের কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় বিংশ শতকের শেষার্ধে তুলনীয় কাব্যপ্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন বলে ধারণা করা হয়।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যত কবিতা রচিত হয়েছে তার মধ্যে শামসুর রাহমানের কবিতা নিঃসন্দেহে অন্যতম এবং উল্লেখযোগ্য। তার বেশকিছু কবিতা মানুষের মুখে মুখে। শামসুর রাহমানের কবিতা সব প্রজন্মের কাছে সমান অনুপ্রেরণাদায়ী। দেশকে ভালোবাসতে যুগে যুগে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। কবি শামসুর রাহমানকে আমরা ব্যস্ত নাগরিক জীবনের কবি হিসেবেই বেশি চিনতে পারি। তিনি ছিলেন একজন সমকালের সমাজ সচেতন কবি। তার চারপাশের অভিজ্ঞতা, নাগরিক জীবনের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, রোমান্টিকতা, প্রেম, নৈসর্গিকতা, শাসন-শোষণ আর শোষকগোষ্ঠীর প্রতি ঘৃণা ও তীব্র ক্ষোভ এসব নিয়েই তিনি লিখেছেন কবিতা। মুক্তিযুদ্ধকালীন তার অভিজ্ঞতার ঝুলি থেকেই লিখেছেন মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে উল্লেখযোগ্য এবং অন্যতম জনপ্রিয় সব কবিতা।

শামসুর রাহমানের প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের ‘মধ্যে রৌদ্র করোটিতে’, ‘বিধ্বস্ত নিলীমা’, ‘নিরালোকে দিব্যরথ’, ‘নিজ বাসভূমে’, ‘বন্দী শিবির থেকে’, ‘দুঃসময়ে মুখোমুখি’, ‘আদিগন্ত নগ্ন পদধ্বনি’, ‘এক ধরনের অহংকার’, ‘আমি অনাহারী’, ‘শূন্যতায় তুমি শোকসভা’, ‘বাংলাদেশ স্বপ্ন দেখে’, ‘প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে’, ‘ইকারুসের আকাশ’, ‘মাতাল ঋত্বিক’, ‘উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে’, ‘কবিতার সঙ্গে গেরস্থালি’, উল্লেখযোগ্য।

বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য শামসুর রাহমান ভূষিত হয়েছেন- বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, স্বাধীনতা পদক, আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, জীবনানন্দ পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কারে। আজ এই প্রতিভাবান কবির জন্মদিন। তাঁর জন্মদিনে আমরা তাকে করি স্মরণ এবং জানাই শ্রদ্ধা।

নাগরিক কবি   জন্মদিন   শ্রদ্ধা   স্মরণ  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন