ইনসাইড পলিটিক্স

'সরকারের এজেন্ট তাই ফখরুল হরতাল ডাকে না'

প্রকাশ: ০৭:০০ পিএম, ০৩ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail 'সরকারের এজেন্ট তাই ফখরুল হরতাল ডাকে না'

বিএনপিতে হরতালের দাবি ক্রমশ তীব্র হয়ে উঠছে। ভোলার ঘটনায় আজ নূরে আলম সিদ্দিকী নামে আরেকজন মৃত্যুবরণ করেছে। এই মৃত্যুর পর সরকারের বিরুদ্ধে হরতাল ডাকার দাবি বিএনপিতে আরও জোরালো হয়েছে। গত মঙ্গলবার বিএনপি ভোলার ঘটনা নিয়ে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে। সেই প্রতিবাদ সভায় দলের নেতাকর্মীরা হরতাল হরতাল দাবিতে স্লোগান দেয়। কিন্তু মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এতে বিরক্ত হন এবং তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আগে রাজপথ দখল করো, তারপর হরতাল করতে হবে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই বক্তব্য বিএনপি'র মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। স্থানীয় তৃণমূলের নেতারা এমনকি কেন্দ্রীয় নেতারা পর্যন্ত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে সরকারের এজেন্ট হিসেবে মনে করছেন। সরকারকে খুশি রাখতেই মির্জা ফখরুল এখন হরতাল ডাকছেন না বলে তাদের বক্তব্য। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে যে, আগে মির্জা ফখরুলকে টেনেহিঁচড়ে মহাসচিবের পদ থেকে নামানোর কথা বলছেন বিএনপি'র অনেক নেতাকর্মী।

আজ ভোলার ঘটনায় দ্বিতীয় মৃত্যুর পর বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে এবং বিভিন্ন স্থানে ফখরুলবিরোধী স্লোগান দিতে দেখা যায়। দলের নেতাকর্মীরা মনে করছেন যে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কারণেই বিএনপি বড় ধরনের আন্দোলনে যেতে পারছে না। বিএনপি'র ঢাকা মহানগর উত্তরের একজন নেতা বলেছেন যে, আমাদের মহাসচিব রাজপথ দখল করতে বলেছেন। কিন্তু কর্মসূচি না হলে, হরতাল না হলে রাজপথ দখল করবো কিভাবে। একটা হরতালের ঘোষণা তিনি দেন, দেখুন যে আমরা রাজপথ দখল করতে পারি কিনা। কিন্তু কোনো কর্মসূচি ছাড়া রাজপথ দখলের কথা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কিভাবে বলেন। তিনি কি সরকারকে খুশি করতে চাইছেন? একসাথে দুটি কাজ কিভাবে সম্ভব? বিএনপি'র কেন্দ্রীয় একজন নেতা বলেছেন, আমরা বারবার বিভিন্ন সময় বলে আসছি যে, রাজপথের আন্দোলন দিতে হবে, কঠোর কর্মসূচি দিতে হবে। যেন সরকার নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মানতে বাধ্য হয় এবং একইসাথে সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তিও দেয়। কিন্তু সেই পথে যাচ্ছে না মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি লোকদেখানো কিছু কর্মসূচি করছেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি সরকারের সাথে দেন-দরবার করছেন, দফরফা করছেন এবং নিজে লাভবান হচ্ছেন। কিন্তু দলের কোনো লাভ হচ্ছে না।

বিএনপি'র নেতারা মনে করেন যে, নির্বাচনের বাকি আছে দেড় বছর কম সময়। এই সময়ের মধ্যে যদি সরকারের বিরুদ্ধে বড় ধরনের আন্দোলন গড়ে তোলা না যায়, তাহলে পরে কোনোভাবেই সরকারকে চাপে ফেলা যাবে না। এখন যে স্টাইলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দল পরিচালনা করছেন, বিএনপি নেতারা তাতে বিরক্ত। তারা বলছেন যে, বিএনপি কতগুলো নামসর্বস্ব, সাইনবোর্ড সর্বস্ব দলের সাথে বৈঠক করে কালক্ষেপণ করছে। এর ফলে বিএনপি'র কোনো লাভ হচ্ছে না, জনগণও বিভ্রান্ত হচ্ছে। এই দলগুলোর অধিকাংশর সঙ্গেই সরকারের নানা রকম যোগাযোগ রয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সরকারের গোপন সখ্যতা এবং গোপন যোগাযোগের বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। বিএনপির অধিকাংশ কর্মীরাই মনে করেন, মির্জা ফখরুল আসলে আন্দোলনবিমুখ একটি লোক। সরকার নাখোশ হবে বা তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, এই বিবেচনা থেকেই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হরতালের তীব্র বিরোধী। কিন্তু হরতাল-অবরোধ ইত্যাদি কর্মসূচি ছাড়া যেমন রাজপথে নামা যাবে না, তেমনি সরকারকেও চাপে ফেলা যাবে না বলে বিএনপি নেতারা মনে করছেন। এই পরিস্থিতিতে বিএনপি'র সরকারবিরোধী আন্দোলন ক্রমশ ফখরুলবিরোধী আন্দোলনে রূপ নিচ্ছে। 


সরকার   এজেন্ট   বিএনপি   হরতাল  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

অর্থকষ্টে বিএনপি: বহাল তবিয়তে তারেক

প্রকাশ: ১১:০০ পিএম, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪


Thumbnail

২৮ অক্টোবর থেকেই রীতিমতো অর্থকষ্ট শুরু হয়েছিল বিএনপির। এখন সে অর্থকষ্ট তীব্র আকার ধারণ করেছে। অর্থকষ্টে বিএনপির নেতারা কোনো কর্মসূচি নিতে পারছেন না। যে সমস্ত নেতাকর্মীরা আটক রয়েছেন, তাদের আইনি সহায়তা দেওয়াও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিএনপির পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে আন্দোলন সংগ্রামে যে সমস্ত নেতারা গ্রেপ্তার হবেন, তাদের পরিবারের পাশে দাড়াবে বিএনপি। কিন্তু তীব্র অর্থনৈতিক সঙ্কটের কারণে বিএনপির সেই অঙ্গীকারও পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। সব কিছু মিলিয়ে এক নাজুক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে দলটির।

বড় ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করার ইচ্ছা থাকলেও আর্থিক অনটনের জন্য সেই কর্মসূচিও পালন করতে পারছে না দীর্ঘ ১৭ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা এই দলটি। অর্থকষ্টের প্রধান কারণ হল বিএনপিকে যে সমস্ত ব্যবসায়ীরা টাকা দিতো তারা এখন আর টাকা দিচ্ছেন না। বিশেষ করে এক বছর আগেও বড় বড় শিল্প গ্রুপগুলো যারা আওয়ামী লীগের সমর্থন দিতো এবং আওয়ামী লীগকে বিভিন্ন রকমের সহযোগিতা করতো, তারা গোপনে বিএনপিকে সহযোগিতা করা শুরু করেছিল। এর একটি প্রধান কারণ ছিল, ব্যবসায়ীরা মনে করত বিএনপি যেভাবে আন্দোলন করছে তাতে আবার ক্ষমতায় আসা তাদের জন্য অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। ক্ষমতায় না আসুক তারা আওয়ামী লীগকে অন্তত চাপে ফেলতে পারবে।

কিন্তু ২৮ অক্টোবরের পর যেভাবে সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে, যেভাবে বিরোধী দলকে কোণঠাসা করেছে তাতে ব্যবসায়ীরা বুঝে গেছে যে বিএনপির আপাতত ক্ষমতায় আসার সম্ভবনা নেই। বিশেষ করে দুই নৌকায় পা রাখা ব্যবসায়ীরা বুঝে গেছে, এখন বিএনপির সঙ্গে কোনোরকম প্রকাশ্য গোপন সম্পর্ক রাখলেই তাদের উপর বিপদ নেমে আসতে পারে। এ জন্য তারা এখন বিএনপি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। ৭ জানুয়ারি নির্বাচনের পর এখন বড় বড় ব্যবসায়ীরা সবাই আওয়ামী লীগ হয়ে গেছেন।

অন্যদিকে বিএনপিপন্থী যেসমস্ত ২-৪ জন ব্যবসায়ী সংগঠন চালানোর জন্য আর্থিক সাহায্য দিত তারাও এখন নানা রকম সঙ্কটে হাত পা গুটিয়ে হাত গুটিয়ে বসে আছে। আমীর খসরু মাহমুদ দীর্ঘদিন জেলে থাকায় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বিএনপির নেটওয়ার্কও নষ্ট হয়ে গেছে। অন্যদিকে আবদুল আউয়াল মিন্টু অবিশ্বাসী একজন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তার কাছে কোনো ব্যবসায়ীরা টাকা পয়সা দেওয়াটাকে নিরাপদ বোধ করেন না। সবকিছু মিলিয়ে বিএনপির অর্থের উৎসগুলো একে একে বন্ধ হয়ে গেছে।

কিন্তু বিএনপি অর্থের উৎস বন্ধ হলে কী হবে? লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া এখনও বহাল তবিয়তে আছেন। তিনি আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন নানাভাবে। তার আর্থিক সহায়তার এখন প্রধান উৎস হল বিভিন্ন প্রবাসে থাকা বিএনপির নেতারা। যুক্তরাজ্যে বিএনপি নেতা আব্দুল মালেকসহ বিভিন্ন দেশের অবস্থানরত বিএনপির ধনাঢ্য ব্যক্তিরা তারেক জিয়াকে অর্থ সহায়তা অব্যাহত রেখেছেন। আর তাদের আর্থিক সাহায্যে রীতিমতো রাজকীয় জীবনযাপন করছেন লন্ডনে পলাতক দন্ডিত ব্যক্তিটি। এ নিয়ে বিএনপির মধ্যে এখন প্রশ্ন উঠেছে। নেতাকর্মীরা যখন জেলে, তাদের পরিবার যখন অনাহারে-ঠিক তখন তারেক জিয়ার রাজকীয় জীবন কিভাবে সম্ভব তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অনেকেই প্রত্যাশা করেছিলেন, আন্দোলনের গতি বাড়ানোর জন্য কিংবা নেতাকর্মীদের এই দৈনদশায় তারেক জিয়া সহায়তার হাত বাড়াবেন। তারেক জিয়া যে বিপুল পরিমাণ চাঁদা হিসেবে পান তার কিছু কিছু সহায়তা বাংলাদেশে পাঠাবেন, কিন্তু বাস্তবে তেমনটি ঘটেনি। বরং তারেক জিয়া উল্টো বাংলাদেশ থেকে কিভাবে অর্থ আদায় করা যায় তা নিয়ে কলাকৌশল রপ্ত করছেন। ফলে আর্থিক সংকটে থাকা বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে তারেক জিয়ার বিরুদ্ধে ক্ষোভ-অসন্তোষ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বিএনপিকে মার্কিন প্রতিনিধি দলের তিন প্রশ্ন

প্রকাশ: ০৭:০০ পিএম, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪


Thumbnail

বিএনপির তিন নেতার সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপ সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফরিন আক্তারের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল আজ বিকেল তিনটায় ঢাকার ওয়েস্টিন হোটেলে বৈঠক করেছে।  বিএনপির তিন প্রতিনিধি দলের মধ্যে ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং শামা ওবায়েদ। এই বৈঠকে রুমিন ফারহানাকে নেওয়া হয়নি। এ নিয়ে বিএনপির মধ্যে নানারকম প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি দল বিএনপির কাছে তিনটি সুনির্দিষ্ট বিষয় জানতে চেয়েছে। 

প্রথমত, বিএনপি কেন ৭ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন করল। এর জবাবে বিএনপি তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। বিএনপির নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবির যৌক্তিকতা, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ না হওয়ার ক্ষেত্রে তাদের অতীত অভিজ্ঞতা, বিশেষ করে ২০১৮ সালের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা এবং পক্ষপাতপূর্ণ নির্বাচনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।

বিএনপির কাছে দ্বিতীয় প্রশ্ন ছিল যে, বিএনপি কেন ২৮ অক্টোবর সহিংসতা এবং জ্বালাও পোড়াও এর রাজনীতির পথ বেছে নিল। এর জবাবে বিএনপি যথারীতি তাদের পুরনো অবস্থান ব্যক্ত করেছে। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, ২৮ অক্টোবর বিএনপির কোনো তাণ্ডব বা নাশকতা করেনি। সরকারই পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন রকম অঘটন ঘটিয়ে তার দায় বিএনপির ওপর চাপিয়ে দিয়েছে এবং এই ঘটনার জন্য বিএনপি দায়ী নয়।

বিএনপির নেতারা দাবি করেছেন যে, তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বিশ্বাস করে। ২৮ অক্টোবরের আগে থেকে তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে আসছিল। বিএনপি যদি সহিংস আন্দোলনই করবে তাহলে কেন আগে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করল? ২৮ অক্টোবর বিএনপির সন্ত্রাস বা সহিংসতা করার কোন পরিকল্পনা ছিল না বলেও তারা দাবি করেছেন।  

বিএনপির কাছে তৃতীয় প্রশ্ন ছিল, এখন তারা কী করবে? বিএনপির প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তারা ৭ জানুয়ারি নির্বাচনকে স্বীকার করে না। জনগণ এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি। এটা একতরফা দামি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে তাদের নেতারা দাবি করেছেন এবং এই নির্বাচনের ফলে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ধারা আরও সংকুচিত হচ্ছে এবং গণতান্ত্রিক ধারা উত্তরণের পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে বলেও তারা দাবি করেন।  

বিএনপি নেতারা মনে করছেন যে, এই নির্বাচনকে যদি স্বীকৃতি দেওয়া হয় তাহলে বাংলাদেশে একটি ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হবে।   এ ছাড়াও এই বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি দল বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কারা জীবনের অভিজ্ঞতা জানতে চেয়েছেন। একইভাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও কারাগারে তার অবস্থার কথা বর্ণনা করেছেন।

বিএনপির প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে এই বৈঠকে জানানো হয়েছে, বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী বিনা বিচারে আটক রয়েছেন এবং তারা
মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এছাড়াও বিএনপির পক্ষ থেকে সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হয়রানির অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রতিনিধি দল বিএনপি নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে শুধু তাদের বক্তব্য শুনেছেন। তাদের নিজেদের অবস্থানের কথা তেমন একটি বলেননি। তবে মার্কিন প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে মানবাধিকার গণতন্ত্র, সুরক্ষা ইত্যাদি বিষয়গুলো নিয়ে তাদের আগের অবস্থান এখনও অব্যাহত রেখে আছে বলেও দাবি করেছেন। তবে বিএনপি যে তিনটি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে সেই তিনটি প্রশ্ন মার্কিন প্রতিনিধিদের কাছে কতটুকু গ্রহণযোগ্য হয়েছে সেই প্রশ্নও রয়েছে।  উল্লেখ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গত দুই বছর ধরে বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি করে আসছিল এবং এই নির্বাচনের জন্য তারা সরকারের ওপর এক ধরনের চাপ প্রয়োগ করছিল। কিন্তু ২৮ অক্টোবর সন্ত্রাসী ঘটনার পর আস্তে আস্তে বিএনপির ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলে পশ্চিমা বিশ্ব। এরকম একটি প্রেক্ষাপটে ৭ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।   নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বার্তা ইতোমধ্যে দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তবে বাংলাদেশের নির্বাচনকে তারা ত্রুটিপূর্ণ হিসেবে এখনো আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা করে রেখেছে।  

বিএনপি   মার্কিন প্রতিনিধি   মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপ সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী   আফরিন আক্তার  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

যুক্তরাষ্ট্রের উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বিএনপি

প্রকাশ: ০৫:১২ পিএম, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪


Thumbnail

ঢাকা সফররত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফরিন আক্তারের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন বিএনপি নেতারা।

শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তিনটায় রাজধানীর গুলশানের ওয়েস্টিন হোটেলে এ বৈঠক শুরু হয়েছে। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ঢাকা সফররত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন বিএনপি নেতারা। বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ উপস্থিত রয়েছেন।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

ভারত সফরে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদল

প্রকাশ: ১২:০৫ পিএম, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪


Thumbnail

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের নেতৃত্বে দলের একটি প্রতিনিধিদল ভারত সফরে গেছেন। ভারতের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে বাংলাদেশ ও নেপালের রাজনীতিকদের নিয়ে ‘ইন্ডিয়া–বাংলাদেশ–নেপাল: অ্যালাইস ইন কালচার অ্যান্ড কমার্স’ শীর্ষক এক সেমিনারে অংশ নেন তারা।

শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) কলকাতার একটি হোটেলে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদলটির মধ্যে রয়েছেন জাহাঙ্গীর কবির নানক, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী (নাদেল) ও সুজিত রায় নন্দী, সংসদ সদস্য আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী (নাসিম) ও দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া।



বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের কাছে পাঠানো আমন্ত্রণপত্র অনুসারে, সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেপালের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাম সাহে যাদব, ভারতের রাজনীতিকদের মধ্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নিতিশ প্রামাণিক, বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনসালসহ ভারতের লোকসভা ও পশ্চিম বাংলার রাজ্যসভার সদস্যরা। এ সেমিনারে আয়োজকদের পক্ষে মূল ভূমিকায় ছিলেন ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা।

ভারত সফর   আওয়ামী লীগ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

উপজেলা নির্বাচন নিয়ে ‌‘নমনীয়তা’ দেখাবে বিএনপি

প্রকাশ: ১০:৪৭ এএম, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪


Thumbnail

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ইস্যুতে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে আরও সময় নিতে চায় বিএনপি। দলটির হাইকমান্ড বলছে, আগে নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করুক, তারপর দলীয় ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি।

এদিকে উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী দলটির তৃণমূলের বেশ কিছু নেতা। অনেকে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন। সে বিবেচনায় ‘কৌশলী’ হতে পারে দলটি। সে ক্ষেত্রে দলীয় প্রতীকে না যাওয়ার ঘোষণা দিতে পারে। অন্যদিকে স্বতন্ত্রভাবে কেউ অংশ নিলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা না নিয়ে ‘নমনীয়তা’ দেখাতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

বিএনপির নেতারা বলছেন, বিএনপি শুধু নির্বাচনমুখী দলই নয়, এ দলের ভিত্তিই হলো জনগণ ও সুষ্ঠু ভোট। কিন্তু জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জনের পরপরই উপজেলা পরিষদের নির্বাচন দলকে অনেকটা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলেছে। বিএনপি ঘোষণা দিয়ে উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিলে বিরোধীদের কাছ থেকে সরকারের বৈধতা পাওয়ার বিষয়টি সামনে আসবে। এতে মনে হতে পারে, বিএনপি সরকারকে মেনে নিয়েছে। এর সুযোগ নেবে সরকার। আর নির্বাচনে অংশ না নিলে মাঠপর্যায়ে নেতাদের ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। এমন প্রেক্ষাপটে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ব্যাপারে বিএনপির নীতিনির্ধারণী নেতারা আরও সময় নিতে চাচ্ছেন।

উল্লেখ্য, আগামী মে মাসে চার ধাপে ৪ শতাধিক উপজেলা পরিষদের নির্বাচন করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রথম ধাপের ভোট গ্রহণ আগামী ৪ মে, দ্বিতীয় ধাপে ১১ মে, তৃতীয় ধাপে ১৮ মে এবং চতুর্থ ধাপের ভোট হবে ২৫ মে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ইতোমধ্যে জানিয়েছে, তারা এবার স্থানীয় সরকারের কোনো নির্বাচনে দলীয় প্রতীক দেবে না। ফলে এ নির্বাচনে ‘নৌকা’ প্রতীক এবং আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী থাকছে না। 

এদিকে বিএনপির একাধিক নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতা জানিয়েছেন, তারা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া না নেওয়ার প্রশ্নে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক লাভ-ক্ষতি নিয়ে ভাবছেন। বিশেষ করে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জনের পর উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে সরকার এর থেকে কী ধরনের রাজনৈতিক সুবিধা পাবে। আর নির্বাচন না করলে বিএনপির রাজনৈতিকভাবে কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে।

উপজেলা নির্বাচন   বিএনপি  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন