ইনসাইড টক

‘মালিক সমিতি অনিয়ম-বিশৃঙ্খলা নিয়ে আমাদের মুখোমুখি হতে চায় না’


Thumbnail ‘মালিক সমিতি অনিয়ম-বিশৃঙ্খলা নিয়ে আমাদের মুখোমুখি হতে চায় না’

মোজাম্মেল হক চৌধুরী। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব। গত ৫ আগস্ট মধ্যরাতে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি, গণপরিবহনে নৈরাজ্য ইত্যাদি বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে কথা বলেছেন মোজাম্মেল হক চৌধুরী। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মাহমুদুল হাসান তুহিন

বাংলা ইনসাইডার: জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে গণপরিবহনের ভাড়া বাড়ানোর ক্ষেত্রে সামঞ্জস্যতা দেখা যাচ্ছে না। কোথাও ১০ টাকার ভাড়া ২০ টাকা, আবার ৩০ টাকার ভাড়া ৩৫ টাকা নিচ্ছে। এই বিষয়টি আপনি কিভাবে দেখছেন?

মোজাম্মেল হক চৌধুরী: আমরা এটা পর্যবেক্ষণ করছি। সরকার বাসের ভাড়া বাড়ালেন প্রতি কিলোমিটার হিসেবে। কিন্তু রাজধানীতে যে সিটিং সার্ভিস বাসগুলো চলছে, বাসগুলো আগের বাড়তি ভাড়ার সাথে এখনকার ভাড়াও আদায় করা হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে, সরকারের নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে আগেই যেখানে বেশি ভাড়া নিত, এর সাথে যোগ করে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। যাত্রী সাধারণের অবস্থা এখন নাজেহাল। আমরা বিষয়টি গভীর উদ্বেগের সাথে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি। এই বিষয়ে কর্মসূচি নিয়ে আমরা মাঠে নামবো।

বাংলা ইনসাইডার: ইদানীংকালে গণপরিবহনে দেখা যাচ্ছে অধিকাংশ চালক কিশোর। এই যে কিশোরদের হাতে গণপরিবহন চলে যাচ্ছে এবং তাদের মধ্যে যে অসম প্রতিযোগিতার কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে সেটি রোধে আপনারা কি করছেন?

মোজাম্মেল হক চৌধুরী: আমরা এ ব্যাপারে সব সময় সোচ্চার এবং প্রতিবাদী। কিন্তু বিষয়টি সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হলো আমাদের যারা নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআরটিএ অথবা সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় তাদের এই সমস্ত বিষয় নিয়ে কোনো গবেষণা নেই। মাঠ পর্যায় তাদের তেমন কোনো তদারকি নেই। মাঠের সাথে তাদের কোনো যোগাযোগও নেই। তারা কেবলমাত্র উপরের লেভেলের কয়েকজন নেতার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেন। নেতাদের নিয়ে পরিবহন খাতে সিদ্ধান্ত নেন। যাদের নিয়ে সিদ্ধান্ত নেন তাদের মূলত তৃণমূলের কোনো সম্পর্ক  আছে বলে আমাদের মনে হয় না। আমরা নানা গবেষণায় দেখেছি, তারা মাঠ থেকে বিচ্ছিন্ন নেতা। ফলে তারা মাঠের বাস্তব চিত্রগুলো হাজির করতে পারেন না। এই কারণে এই সমস্ত সমস্যাগুলো দিন দিন গভীর থেকে আরও গভীরতর হচ্ছে। এখান থেকে উত্তরণের জন্য যে ধরনের মেকানিজম দরকার, সে মেকানিজম কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি না।

বাংলা ইনসাইডার: যাত্রী কল্যাণের মহাসচিব হিসেবে আপনি কি পদক্ষেপ নিতে চাচ্ছেন বা কি পদক্ষেপ নিবেন?

মোজাম্মেল হক চৌধুরী: আমাদের কাজ হলো এ সমস্ত তথ্য-উপাত্তগুলো সরকারের কাছে তুলে ধরা, সে কাজটি আমরা করছি। আমাদের কাজ হলো এডভোকসি করা, সে কাজটি আমরা করছি। আমাদের কাজটি হলো জনসাধারণকে সচেতন করা, যাত্রী সাধারণকে সচেতন করা, তাদের দায়িত্বশীল করা। সে কাজটি আমরা গুরুত্ব সহিত করছি। এখন নানা সীমাবদ্ধতার কারণে আজকে হয়তো আমরা ওইভাবে সারা বাংলাদেশে বিস্তৃত করতে পারছি না। যাত্রীরা অসংগঠিত, অসচেতন হওয়ার ফলে এখানে মালিকরা এবং শ্রমিকরা সংখ্যায় কম হলেও তারা কিন্তু নৈরাজ্য করার ক্ষেত্রে বা আরও বিশৃঙ্খলা করার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারেন। যাত্রী সাধারণ অসংগঠিত এবং অসচেতন বলেই আমরা হয়তো আমদের আন্দোলন-সংগ্রাম বেগবান করতে পারি না। তবে আমরা প্রত্যেকটা বিষয় সরকার এবং গণমাধ্যমের নজরে আনার চেষ্টা করি। অর্থাৎ সমস্যা সমাধানের জন্য যে তথ্য-উপাত্ত গুলো প্রয়োজন সেগুলো আমরা সরকারকে নিয়মিত সরবরাহ করছি। সেক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে আমরা যে ধরনের ফিডব্যাক প্রত্যাশা করি, সেভাবে আমরা ফিডব্যাক পাচ্ছি না।

বাংলা ইনসাইডার: আপনার বাস মালিক সমিতির সাথে এইসব বিষয় নিয়ে কি বসেছেন?

মোজাম্মেল হক চৌধুরী: মালিক সমিতি আসলে আমাদের সাথে বসতে চায় না। কারণ, তারা নৈতিকতার জায়গায় অনেক দুর্বল এবং গণপরিবহনের নানা অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা, অরাজকতা নিয়ে আমাদের মুখোমুখি হতে চায় না। কারণ, আমরা যে সমস্ত বিষয় নিয়ে প্রস্তাব দেই সেগুলো ধারণ করার মতো সক্ষমতা তারা রাখে না। সে কারণে আমরা দেখি যে, তারা আমাদের মুখোমুখি হতে চায় না। বিষয়গুলো তারা বিব্রতকর মনে করেন।

বাংলা ইনসাইডার: গণপরিবহনে নৈরাজ্যের পেছনে কি রাজনৈতিক প্রভাব দায়ী?

মোজাম্মেল হক চৌধুরী: পরিবহনের যারা শীর্ষস্থানীয় নেতা তারা সবসময় সরকারি দলের চাদরের নিচে ঢুকে পড়েন। আমরা এখনও লক্ষ করছি, বর্তমান ক্ষমতাসীন দল তিনবার ক্ষমতায়। বিভিন্ন দলে বিভক্ত ছিলেন এমন বাস পরিবহন নেতারাও এখন এই দলের চাদরের নিচে ঢুকে পড়েছে। ফলে আমরা দেখি, তাদের ব্যবসায়ী নেটওয়ার্ক বৃদ্ধি করা, পরিবহনের সুযোগ-সুবিধা আদায়, এবং প্রভাব বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে তারা একটা অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। ২০১৮ আমাদের সালে আমাদের যখন নিরাপদ সড়কের আন্দোলন হলো তখন হেলমেট বাহিনী বা কথিত ছাত্রলীগ নেতাদের আক্রমণ আমরা দেখেছি, কোটা আন্দোলন সময়ও হেলমেট বাহিনীর আক্রমণ দেখেছি। এমনকি সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনেও আমরা হেলমেট বাহিনী দেখেছি। কিন্তু আমরা যখন দেখি বাস মালিক-শ্রমিকরা জনগণকে জিম্মি করে সারা দেশে পরিবহন খাত বন্ধ করে দেয় তখন কোনো হেলমেট বাহিনী তাদের ওপর আক্রমণ করে না। মূলত, মালিক সমিতি, শ্রমিক সংগঠন সরকারী দলের অঙ্গ সংগঠনে পরিণত হয়ে পড়ে। এ কারণে আমরা দেখি এখানে জনস্বার্থ বিষয়গুলো বারবার উপেক্ষিত হয়, মালিক সমিতির স্বার্থগুলো প্রায়োরিটি পায়। ভাড়া নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে সরকারের সাথে মালিক সমিতির বৈঠক। এটা বাসের ক্ষেত্রেও হয়, লঞ্চের ক্ষেত্রেও হয়। আমরা গভীর উদ্বেগে লক্ষ করি যে, সেখানে কোনো গণমাধ্যম থাকে না, যাত্রী সাধারণের কোনো প্রতিনিধি থাকে না। মালিকদের কথার প্রেক্ষিতেই সরকার ভাড়া বাড়িয়ে দেন। ভাড়ার বোঝা যাদের সইতে হবে, তারা কতটুকু লোড নিতে পারবেন বা তাদের অভিযোগ, তাদের কথাগুলো, যাত্রী সেবার মান সংক্রান্ত দাবী গুলো, ভাড়া বাড়ানোর ক্ষেত্রে যাত্রী সাধারণের দুর্ভোগ কান্না তুলে ধরার জন্য যাত্রী প্রতিনিধি নিশ্চিত করা হয় না। ফলে আমরা দেখি একচেটিয়াভাবে ভাড়া বাড়ানো হয় এবং সেটা অযৌক্তিকভাবে বাড়ানো হয়। ফলে যাত্রী সাধারণের দুর্ভোগ বাড়ে। ভাড়া বাড়িয়ে যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় তার চেয়ে বাড়তি বাড়া আদায় করা হয়।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘তফসিল পেছানোর সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ’

প্রকাশ: ০৪:০৩ পিএম, ২০ নভেম্বর, ২০২৩


Thumbnail

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এবং বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশীদ বলেছেন, নির্বাচনের তফসিল পেছানোর সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। আমি এর কোনো সম্ভাবনা দেখি না। কারণ রাজনৈতিক দলগুলোর যে সন্দেহের প্রাচীর তৈরি হয়েছে তাতে সে সম্ভাবনা নেই। তবে এক দফা আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে কোনো কোনো রাজনৈতিক দল শেষ চেষ্টা হিসেবে তফসিল পেছানোর জন্য তৎপরতা চালাতে পারে। কিন্তু তফসিল পেছানোর নামে যদি আবার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতাকে কেউ প্রশ্ন বিদ্ধ করে ফেলে তাহলে আরেকটা অরাজকতার পরিবেশ সৃষ্টি হবে। কাজেই নির্বাচন কমিশন এবং সরকারকে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকবে। নির্বাচনী রোডম্যাপ বিপন্ন হয় এমন কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। তবে তফসিল পেছানোর সম্ভাবনা দেখি না।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে কোনো কোনো মহল বিশেষ করে জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে তফসিল পেছানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ রকম পরিস্থিতি নির্বাচনের তফসিল পেছানোর কোনো সম্ভাবনা রয়েছে কিনা তা নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতা করেন বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশীদ। পাঠকদের জন্য অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশীদ এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক শান্ত সিংহ। 

বিএনপিকে ছাড়া নির্বাচন কতটুকু গ্রহণযোগ্যতা পাবে—এমন প্রশ্নে বিশিষ্ট এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বলেন, শেষ পর্যন্ত বিএনপি নির্বাচনে না আসলেও কোনো সমস্যা হবে না যদি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়। নির্বাচন যদি অবাধ ও সুষ্ঠু হয় এবং ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে যদি কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তার করা না হয় তাহলে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকবে না।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘বহিষ্কৃত হয়েছি আলহামদুলিল্লাহ’

প্রকাশ: ০৪:০৮ পিএম, ১৬ নভেম্বর, ২০২৩


Thumbnail

অ্যাডভোকেট খন্দকার আহসান হাবিব, বিএনপির নির্বাহী কমিটি সদস্য। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় দল থেকে বহিষ্কৃত তিনি। আগামী জাতীয় নির্বাচনে তার অংশগ্রহণ এবং বিএনপি থেকে বহিষ্কার সহ বিএনপির রাজনীতি নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপ চারিতা করেন তিনি। পাঠকদের জন্য এখানে চুম্বক অংশ ‍তুলে ধরা হল।

বাংলা ইনসাইডার: আপনাকে যে বিএনপি বহিষ্কার করল এ বহিষ্কারের ব্যাপারে আপনার প্রতিক্রিয়া কি?
খন্দকার আহসান হাবিব: বহিষ্কৃত হয়েছি আলহামদুলিল্লাহ। এতে আমি খুশি হয়েছি। 

বাংলা ইনসাইডার: আপনি দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতি করলেন এখন বিএনপি থেকে বহিষ্কার হওয়াতে কেন আপনি খুশি 
হলেন?
খন্দকার আহসান হাবিব: মূল কথা এখানে (বিএনপি) কোন রাজনৈতিক চর্চা নাই।  

বাংলা ইনসাইডার: রাজনৈতিক  চর্চা নেই বলতে একটু ব্যাখ্যা করবেন?
খন্দকার আহসান হাবিব: এখানে নিয়মতান্ত্রিক কিছু হয় না। যখন যা ইচ্ছা তাই হয়ে যাচ্ছে। যার ইচ্ছা সে একটা চিঠি ইস্যু করছে। যদি ধরে নিই আমাকে বহিষ্কার করেছে তবে এটা কোন নিয়ম তান্ত্রিকভাবে হয়নি। আমাদের গঠনতন্ত্রে যেটা আছে সেই আইন অনুযায়ী আমাকে এই ভাবে বহিষ্কার করতে পারেনা । দলে যদি কোন নিয়ম থাকতো তাহলে তো আমাকে আইন অনুযায়ী বহিষ্কার করত। আমাকে শোকজ করত। আমি সে ব্যাখ্যা দিতাম। আর বহিষ্কার করতে হলে স্ট্যান্ডিং কমিটির মিটিংয়ে অনুমোদন হতে হয়। এভাবে বহিষ্কার করা যায় না। 

বাংলা ইনসাইডার: তাহলে কি আপনি বলতে চাচ্ছেন যে তারেক জিয়ার একক কর্তৃত্বে বিএনপি পরিচালিত হচ্ছে?
খন্দকার আহসান হাবিব: হ্যাঁ, উনার (তারেক জিয়া) একক কর্তৃত্বেই তো হচ্ছে। 

বাংলা ইনসাইডার:  তার মানে বিএনপির গঠনতন্ত্র কি মূল্যহীন? 
খন্দকার আহসান হাবিব: হ্যাঁ এটার কোন দাম নেই। এখন আর ওইটা (বিএনপির গঠনতন্ত্র ) ঐ অনুযায়ী চলছে না।

বাংলা ইনসাইডার:  এখন আপনি কি করবেন, অনেকে বলে যে আপনারা নির্বাচন করবেন একটা গ্রুপ নির্বাচন করবে এবং নির্বাচনে যাওয়ার ষড়যন্ত্র করছেন এই জন্য তারা বহিষ্কার করেছে এই অভিযোগের জবাবে আপনি কি বলবেন?
খন্দকার আহসান হাবিব: আমি স্বতন্ত্র নির্বাচন তো করতেই পারি। এটা আমার সাংবিধানিক অধিকার। এটা দোষারোপের কিছু নেই তো।

বাংলা ইনসাইডার:  বিএনপি যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আন্দোলন করছে, তখন আপনার নির্বাচনের ইচ্ছাটা দলের বিরুদ্ধে অবস্থান না ?
খন্দকার আহসান হাবিব: আমি দীর্ঘদিন যাবত রাজনীতি করছি। আমি আর কতদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করব। এখন তো আমাকে নির্বাচনমুখী হতেই হবে। নির্বাচন ছাড়া তো বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিবর্তন হওয়ার কোন সুযোগ নাই।

বাংলা ইনসাইডার: আপনি কি মনে করেন যে  আরও অনেক নেতাই এবার নির্বাচনে আসবে, আপনার মতো অনেকেই আসবে?
খন্দকার আহসান হাবিব: সম্ভাবনা অনেক বেশি।

বাংলা ইনসাইডার: নির্বাচন নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে, সংলাপের কথা বলা হচ্ছে। আপনার অভিমত কি, বাংলাদেশে কি নির্বাচন হওয়া উচিত নাকি নির্বাচন বন্ধ করে একটা অনির্বাচিত সরকার আসা উচিত?
খন্দকার আহসান হাবিব: বাংলাদেশে নির্বাচন হওয়া উচিত এবং গণতান্ত্রিক উপায়েই রাষ্ট্রীয় পরিবর্তন হওয়া উচিত। কোন অন্যভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা পরিবর্তন হওয়া উচিত না।

বাংলা ইনসাইডার: তার মানে আপনি কি নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিকে অ্যাকসেপ্ট করেন না? 
খন্দকার আহসান হাবিব: যেহেতু আমি একজন অ্যাডভোকেট, আমি সুপ্রিমকোর্টে প্র্যাকটিস করি। যেহেতু এই আইনটা পরিবর্তন হয়েছে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট রায়ের কারণে। কোর্টের রায়ের কারণে যেহেতু হয়েছে সেহেতু একজন আইনজীবী হিসেবে তো ওটা আমি বলতে পারি না। কারণ আমি কোর্ট অফিসার আর এটা তো রিভিউ ফাইল করে নাই। যদি রিভিউ পেন্ডিং থাকত তাহলেও বলা যেত। কিন্তু এটা যেহেতু একটা কোর্টের রায় হয়েছে সেহেতু আমি এটার সাথে ডিফার করি না।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘টিকে থাকার জন্যই শ্রমিকরা আন্দোলন করছে, কারো উস্কানিতে নয়’

প্রকাশ: ০৪:১০ পিএম, ১২ নভেম্বর, ২০২৩


Thumbnail

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেছেন, সরকার এবং নির্বাচন কমিশন যদি জনমত উপেক্ষা করে একতরফা নির্বাচনের দিকে যায় তাহলে চলমান যে সংঘাতময় পরিবেশ চলছে সেটাকে আরও উস্কে দেওয়া হবে। সেটা সাধারণ জনগণের জন্যও ভালো হবে না, সরকারের জন্যও ভালো হবে না। দেশের সাধারণ মানুষ এখন একটা সংকটের মধ্যে আছে। দ্রব্যমূল বৃদ্ধি সহ দুর্নীতি, লুটপাট, অব্যবস্থাপনা আগামীতে অর্থনৈতিক সংকটকে আরও তীব্রতর করতে পারে এমন আভাস অর্থনীতিবিদরা দিচ্ছেন। এ রকম পরিস্থিতিতে জনমত উপক্ষো করে এবং নির্বাচন কমিশনের কোনো কর্মকাণ্ড যেমন গ্রহণযোগ্য হবে তেমনি আমাদের দেশের সংকটকে আরও বাড়িয়ে দেবে।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা এবং সরকারবিরোধী আন্দোলনের পরিণতি নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় রুহিন হোসেন প্রিন্স এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য রুহিন হোসেন প্রিন্স এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক শান্ত সিংহ।

শ্রমিকরা আন্দোলনের পেছনো বাম রাজনীতির উস্কানির অভিযোগের প্রেক্ষিতে রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, শ্রমিকরা যারা কাজ করেন তারা তাদের নিজের শক্তি খরচ করেই কাজ করে। সেজন্য তারা ন্যায্য মজুরি চায়। কারণ তাদের টিকে থাকতে হবে। এখানে উস্কানি দেওয়ার আমি কিছু দেখি না। বরঞ্চ বিভিন্ন সময় মালিকদের কথাবার্তা, সরকারের নেতৃবৃন্দের কথাবার্তাই প্রকৃতপক্ষে শ্রমিকদের উস্কানি দেয়। 

তিনি বলেন, পাঁচ বছর পর যখন নূন্যতম মজুরির সিদ্ধান্তের কথা বলা হল তখন আর কিছু না দেখে আমরা যদি ডলারের মূল্য দেখি পাঁচ বছর আগের যে অবস্থা আর আজকে বাজারে ডলারের মূল্য বিবেচনা করলেই যেটা ঘোষণা করা হয়েছে সেটা কম। শাসকরা শ্রমিক আন্দোলন দমন করার জন্যই এ ধরনের উস্কানি মূলক কথা বলতে পারে। শ্রমিকদের প্রকৃত মজুরি নির্ধারণের জন্য শ্রমিক নেতৃবৃন্ধের সঙ্গে আলোচনা করেই যদি এই সংকটের উত্তরণ করা যায় তাহলে উস্কানির যে কথা উঠেছে এটা থাকবে না, শ্রমিকরাও কাজে ফিরে যাবে। মালিক এবং সরকারের এ ধরনের ষড়যন্ত্র না খুঁজে শ্রমিকদর সঙ্গে কথা বলে তাদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করাটাই প্রধান কর্তব্য হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘ভারত যে আমেরিকার কথা শুনবে না সেটি তারা স্পষ্ট করেছে’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ১১ নভেম্বর, ২০২৩


Thumbnail

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের ‘টু প্লাস টু’ বৈঠকে একটা বিষয় স্পষ্ট যে, যেভাবে আমেরিকা চাচ্ছিল যে বাংলাদেশের নির্বাচন ইস্যুতে ভারতও যেন আমেরিকার সাথে একই সুরে কথা বলে কিন্তু সেটা যে হবে না তা পরিষ্কার হয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ভারত যে আমেরিকার কথা শুনবে না সেটি তারা স্পষ্ট করেছে। এখন আমেরিকা কি করবে সেটা তারা ভালো জানে। তবে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আমেরিকা সারা বিশ্বের মধ্যে প্রচন্ড সমালোচনার মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে ইসরায়েল ইস্যুতে তারা প্রচন্ড প্রতিরোধের মুখে পড়েছে। আমেরিকা তার নিজ দেশেই প্রতিরোধের মুখে পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের ‘টু প্লাস টু’ বৈঠকে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে স্পষ্ট আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিনয় কাত্রা। বাংলাদেশের নির্বাচন দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে স্পষ্ট করে যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে ভারত। ভারতের এ রকম অবস্থানের বিপরীতে আমেরিকার অবস্থান কি রকম হতে পারে তা নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতা করেন অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডারের নিজস্ব প্রতিবেদক শান্ত সিংহ।

ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, শুধু আমেরিকাতে নয়, ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও আমেরিকা প্রতিরোধের মুখে পড়েছে। আজকে তো ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন যে, ইসরায়েলকে অবশ্যই গাজায় বোমা হামলা বন্ধ করতে হবে। তার মানে সেখানেও ভাঙন শুরু হয়েছে। এ রকম অবস্থায় বাংলাদেশ নিয়ে আমেরিকা শেষ পর্যন্ত কতটুকু এগোতে পারবে সেটা একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ইস্যুতে আমেরিকার ভূমিকাই এখন সারা বিশ্বের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচন সেটা বাংলাদেশের জনগণই ঠিক করবে। বাংলাদেশের গণতন্ত্র কোনো বিদেশি শক্তি দিয়ে হয়নি আর সেটা হবেও না। আমেরিকার উচিত সেটা অনুধাবন করা। বাংলাদেশের নির্বাচন এটা বাংলাদেশের জনগণের ওপরই ছেড়ে দিতে হবে। বাংলাদেশে অনেক বড় বড় আকারে আন্দোলন করেছে সেটা বাংলাদেশের জনগণই করেছে। তখন তো আর আমেরিকা করে দেয়নি। বরং তারা আমাদের মুক্তিযুদ্ধে বা আমাদের স্বাধীনতার বিপেক্ষর অবস্থান নিয়েছিল। সে জায়গায় আমেরিকার বুঝার দরকার এই গুলো করে তারা বরং বিভাজনটা বাড়ায়। যদিও আমেরিকা হয়তো তার সুবিধা আদায় করে কিন্তু এতে তার ভাবমূর্তিও নষ্ট হয়। ভিসা নিষেধাজ্ঞা বা স্যাংশন এই গুলো করে আমেরিকা আরও পরিস্থিতি ঘোলাটে করছে। এতে করে গণতন্ত্র আরও দুর্বল হয়ে যায়। সে জায়গায় তাদের অবস্থান পরিবর্তন হওয়া দরকার বলে আমি মনে করি। যদি তারা সত্যিকার অর্থেই বাংলাদেশে গণতন্ত্র চায় তাহলে সেটা জনগণের ওপরই ছেড়ে দেওয়া দরকার এবং কিভাবে বড় বড় দলগুলো তাদের পরস্পরের প্রতি আস্থা অর্জন করতে পারে সেটির ওপর নজর দেওয়া যেতে পারে। 


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘হরতাল-অবরোধে ভোক্তা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন’

প্রকাশ: ০৪:৫০ পিএম, ০৪ নভেম্বর, ২০২৩


Thumbnail

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেছেন, অনেক দিন ধরে আমাদের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ছিল। রাস্তা-ঘাট বন্ধ না করে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল। সাধারণত নির্বাচনের আগ দিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ে। নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো কি করবে না করবে, নির্বাচনী ইশতেহার কেমন হবে ইত্যাদি। কিন্তু রাস্তা-ঘাট বন্ধ করে দিয়ে হরতাল-অবরোধ করা কোন রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর উচিত না। 

হরতাল-অবরোধের কর্মসূচি দেশের অর্থনীতির ওপর কি রকম প্রভাব রাখে তা নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতা করেন ড. আতিউর রহমান। পাঠকদের জন্য ড. আতিউর রহমান এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক শান্ত সিংহ।

ড. আতিউর রহমান বলেন, যারা সাধারণ মানুষ, যারা দিন আনে দিন খায়, রাস্তার পাশে যারা ছোটখাটো ভ্যান নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে কিংবা দোকান দেয়, যারা কষ্ট করে বেঁচে থাকার জন্য চেষ্টা করে তাদের সেই জীবন চলাটা বন্ধ হয়ে যায় এই সব হরতাল-অবরোধের কারণে। এমনিতেই মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার কারণে তারা কষ্টে আছে। সুতরাং এই নতুন এই প্রতিবন্ধকতা এগুলো বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নিশ্চিয় চাপে ফেলবে। এখন প্রতিদিন কতটুকু অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে সেটা এই মুহূর্তে বলা মুশকিল। তবে প্রতিটি অংশীজন যেমন- যিনি দিনমজুর তিনিও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। যিনি কৃষক তিনিও ক্ষাতগ্রস্ত হবেন, যিনি পরিবহন শ্রমিক তিনিও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। যিনি ছোট দোকারদার তিনিও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। যিনি ভোক্তা তিনি তো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। কারণ তাকে বেশি দামে সব কিছু কিনতে হবে। সব মিলিয়ে অর্থনীতির ভেতরের যে প্রক্রিয়া যেমন সরবরাহ, চাহিদার ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া সবগুলো প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়বে। 

হরতাল-অবরোধে স্বাভাবিক ব্যবসা-বাণিজ্য করা যায় না উল্লেখ্য করে ড. আতিউর রহমান বলেন, গার্মেন্টসের যারা উদ্যোক্তা আছেন তাদের আমদানি বা রপ্তানির বা পণ্য সংগ্রহ করতে খরচ অনেক বেড়ে যায় এবং এ সমস্ত পণ্যের নিরাপত্তা নিয়ে তারা শঙ্কিত থাকে। ইতোমধ্যে গতমাসের আমাদের রপ্তানির হার কমেছে। এই মাসে আরও কমেতে পারে। আমাদের দেশে যখন রিজার্ভের ওপর এতো চাপ সেখানে রপ্তানি কমে গেলে এর প্রভাব বিরাট আকার ধারণ করবে। আমরা ভেবেছি হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচি হয়তো দেশ থেকে উঠে গেছে কিন্তু এখন আবার নতুন করে রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে হরতাল-অবরোধ দিচ্ছি এর মানে আমরা যারা রাজনীতি করছি তারা সাধারণ মানুষের স্বার্থকে উপেক্ষা করছি।


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন