লিভিং ইনসাইড

পূজায় বিশেষ কিছু খাবার গ্রহণে সতর্কতা

প্রকাশ: ১১:০১ এএম, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail পূজায় বিশেষ কিছু খাবার গ্রহণে সতর্কতা

হিন্দু ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব 'দূর্গাপূজা'। আর এই পূজার আনন্দের অন্যতম অনুষঙ্গ হলো খাবার। তবে পূজার সঙ্গে জমিয়ে পেট পুজো করবেন, নাকি বিশেষ কিছু খাবার গ্রহণে সতর্ক হবেন- এ বিষয়ে খেয়াল রাখা প্রয়োজন।

আসুন জেনে নিই পূজার খাবার গ্রহণে বিশেষ যেসব প্রস্তুতি নেয়া দরকার-

পূজার দিনে নানা পদের খাবার থাকবে। মিষ্টি জাতীয় খাবার যেমন- সন্দেশ, রসগোল্লা, চমচম, মিষ্টি দই, রাজভোগ, কালোজাম, রসমালাই, প্রাণহারা, ছানামুখী, মণ্ডা, মকড়ম, ক্ষীর, বাতাসার আয়োজন থাকে। এছাড়া ঢেঁকিছাঁটা চিড়া, ঝোলাগুড় মাখানো মুড়ির মোয়া, নারকেলের নাড়ু, তালের বড়া, নকশি পিঠা ইত্যাদি লোভনীয়ভাবে উপস্থাপন করা হয়। যা না খেয়ে থাকা যায় না।

এসময় রান্নার মধ্যেও আসে ভিন্নতা। লুচি আলুর দম, বেগুন ভাজি, আলু পোস্ত, ছোলার ডাল, শুক্ত, কাঁচকলার কোফতা, ভেটকি মাছের পাতুরি, চিংড়ি মাছের মালাইকারী, চিতল মাছের মুইঠ্যা, সরিষা ইলিশ, খিচুড়ি এসব খেতে খুব সুস্বাদু। দুই-এক দিন বেশি খেতে যদিও খুব বেশি বাধা নেই, তবুও রয়ে-সয়ে খাবার খাওয়া উচিত। এসব খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে পেটের পীড়া, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা হৃদরোগ আছে এমন মানুষদের বিশেষ সতর্ক হতে হবে।

নিজের বাসায় তো বটেই, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধবের বাসায় ঘুরে ঘুরে, এবং উৎসবস্থল থেকে প্রায় সারাদিনই টুকিটাকি এটা-সেটা খাওয়া হয়। আমরা কী খাচ্ছি, কতটুকু খাচ্ছি, বিভিন্ন খাবার গ্রহণের প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে এসব বিষয়ের ওপর আমাদের একটু নজর দেয়া দরকার।

দুর্গাপূজায় অনেকেই উপোস করেন। তবে উপোস করার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের দিকেও নজর দিতে হবে। যেসব ডায়াবেটিস রোগী ওষুধ খান বা ইনসুলিন নেন, তাদের খাবারটা সঠিক সময়ে খেয়ে নিতে হবে। অথবা যারা গ্যাস্ট্রিক আলসারের রোগী, তারা অনেকক্ষণ খাবার না খেয়ে থাকলে ব্যথায় ভুগতে পারেন। তাদের উচিত হবে উপোসের সময় তরল জাতীয় খাবার, যেমন দুধ, ফলের রস ইত্যাদি খাওয়া।

ষষ্ঠীতে দুপুরে খিচুড়ি আর বেগুনভাজা খেতে পারেন। পাঁচমিশালি সবজি থাকতে পারে। ঢেকিছাঁটা চাল, মসুর বা হরেক ধরনের ডাল দিয়ে রান্না খিচুড়ি খেতে পারেন। মোটকথা বেশি মশলাযুক্ত খাবার না খাওয়াই ভালো। খাবারের তালিকায় বেশি বেশি সবজি রাখুন।

পূজা   বিশেষ কিছু খাবার   গ্রহণে   সতর্কতা  


মন্তব্য করুন


লিভিং ইনসাইড

ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াবে চা-সিগারেট

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ২৬ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

কিছু অভ্যাস রয়েছে যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই বিপজ্জনক। এর মধ্যে একটি হলো চায়ের সঙ্গে  সিগারেট খাওয়া। এটা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। গবেষণা অনুসারে, ধূমপায়ী এবং মদ্যপানকারীরা যদি একসঙ্গে চা পান করেন, তাহলে এটি খাদ্যনালীর ক্যানসারের ঝুঁকি ৩০% বাড়িয়ে দেয়।

জার্নাল অ্যানালস অব ইন্টারনাল মেডিসিন-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গরম চা খাদ্য নালীর কোষের ক্ষতি করে এবং চা ও সিগারেট একসঙ্গে সেবন করলে কোষের ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি ২ গুণ বেড়ে যায়। যা ক্যানসারের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চায়ে ক্যাফেইন পাওয়া যায়, যার কারণে পাকস্থলীতে এক ধরনের বিশেষ এসিড তৈরি হয়, যা হজমে সহায়ক, তবে অতিরিক্ত পরিমাণে ক্যাফেইন পাকস্থলীতে প্রবেশ করলে ক্ষতি হতে পারে। অন্যদিকে, সিগারেট বা বিড়িতে নিকোটিন পাওয়া যায়। যদি খালি পেটে চা এবং সিগারেট একসঙ্গে পান করলে মাথা ব্যথা, মাথা ঘোরার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

সিগারেট খাওয়াও ক্ষতিকর। কারণ ধূমপায়ীর ব্রেইন স্ট্রোক বা হার্ট স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এমন কিছু গবেষণা রয়েছে, যা অনুযায়ী সাধারণ মানুষের তুলনায় যারা দিনে একটি সিগারেট খান তাদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি ৭% বেশি। এছাড়াও, যদি কেউ চেইনস্মোকার হন তাহলে এটি তার আয়ু ১৭ বছর কমিয়ে দিতে পারে।



মন্তব্য করুন


লিভিং ইনসাইড

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাগাজিন ‘ভোগ’-এ বাংলাদেশি চিকিৎসা বিজ্ঞানী ডা. রোকসানা আক্তার

প্রকাশ: ০২:১৯ পিএম, ২৩ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail চিকিৎসা বিজ্ঞানী ডা. রোকসানা আক্তার। ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

ডা. রোকসানা আক্তার একজন চিকিৎসা বিজ্ঞানী, মেডিকেল জার্নালের লেখিকা, গ্লোবাল পিস অ্যাম্বাসেডর, মোটিভেশনাল স্পিকার এবং মানবাধিকার কর্মী। ২০২২ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রর মহিলা আইকন অফ দ্য ইয়ার অ্যাওয়ার্ডস পুরষ্কার জিতেছেন তিনি।  কমিউনিটি ওয়ার্কসের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গোল্ড মেডেল অর্জন করেছেন তিনি।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত মাসিক ফ্যাশন এবং লাইফস্টাইল ম্যাগাজিন ‘ভোগ’ বাংলাদেশি ডাক্তার রোকসানা আক্তার সম্পর্কে এসব তথ্য প্রকাশ করেছে।   

ফ্যাশন এবং লাইফস্টাইল ম্যাগাজিন ‘ভোগ’ বলছে, ২০২২ সালেই তিনি জয় করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের মিসেস ইন্টারন্যাশনাল ক্লাসিক অ্যওয়ার্ডস। ২০১৯ সালের যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল বিউটি কন্টেস্টে রানার আপ হয়েছেন তিনি। ২০১৯ সালের ইন্টারন্যাশনাল বিউটি কন্টেস্টে, টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে রানার-আপ হয়েছেন তিনি। এই বছরই তিনি মুনারির ক্লাসিক্যাল মডেল হিসেবে টেক্সাসের স্বর্ণপদক আর্জন করেন।  



ম্যাগাজিনটি আরও জানায়, ২০২০ সালে নিউ ইয়র্ক ফ্যাশন উইকে মডেল নির্বাচিত হন। আন্তর্জাতিক সঙ্গীত প্রযোজক হিসেবে ইউটিউবে তিনি ৭০টির বেশি গানও প্রকাশ করেছেন। ইউটিউবে মুক্তি পাওয়া এসব গানের মধ্যে আন্তর্জাতিক মানের গায়কের মডেলও হয়েছেন তিনি। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে টেক্সাসে অনুষ্ঠিত ‘ভিক্টিমস অফ ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স, মা ও শিশু’-এর জন্য তহবিল সংগ্রহের ফ্যাশন শোতে মডেল হয়েছিলেন তিনি। তিনি ইন্দো আমেরিকান দাতব্য ফাউন্ডেশনের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ২০১৯ সালের মডেল। 

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্যাশন এবং লাইফস্টাইল ম্যাগাজিনটি বলছে, তিনি টেক্সাসের কমিউনিটি মাদার অ্যাওয়ার্ডস জিতেছেন ২০২১ সালে। টেক্সাসের শিফা হেলথ কেয়ার, কমিউনিটি সার্ভিস, টেক্সাস ইবনে সিনা কমিউনিটি মেডিকেল ক্লিনিক এবং আরও অনেক প্রতিষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবক মেডিকেল প্রফেশনাল হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। টেক্সাসের লায়ন্স ক্লাব, রোটারেক্ট ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এ কাজ করেছেন তিনি। 

স্যান্টি অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস ফাউন্ডেশন ফর সেভ অ্যা ফ্যামিলি, স্টপ বুলিং, ডিসক্রিমিনেশন এবং গার্হস্থ্য হিংসা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং যুব উন্নয়নের বোর্ড অফ ডিরেক্টর এবং পরিচালক পদে রয়েছেন তিনি। তিনি একজন মানবতাবাদী এবং তিনি বিশ্বের সবাইকে ভালোবাসেন। তিনি মনে করেন প্রতিটি নারীই সুন্দর। তিনি আরও মনে করেন, আমাদের সকলের একে অপরকে সমর্থন করা এবং অনুপ্রাণিত করা উচিত। 

তার শখের মধ্যে রয়েছে খেলাধুলা, সঙ্গীত, কবিতা আবৃত্তি (আন্তর্জাতিক সঙ্গীত প্রযোজকের সাথে ইউটিউবে প্রকাশিত), নতুন লোকের সাথে দেখা করা, গান করা, নাচ করা, ভ্রমণ করা, সংবাদপত্র এবং মেডিকেল জার্নাল পড়া, বিতর্ক করা ইত্যাদি ইত্যাদি।

যুক্তরাষ্ট্র   ভোগ   চিকিৎসা বিজ্ঞানী   ডা. রোকসানা আক্তার  


মন্তব্য করুন


লিভিং ইনসাইড

হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে করনীয়

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ২৩ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

হৃদরোগে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলছে ক্রমাগত। এটি সহজ কোনো অসুখ নয়। বরং একবার আক্রান্ত হলে বাড়ে আরও অনেক অসুখের ঝুঁকি। বিশ্বে প্রতি বছর হার্ট অ্যাটাকের কারণে মৃত্যুর সংখ্যা কম নয়। জীবনযাপনে পরিবর্তন এনে এই রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। খাবার, ঘুম, শরীরচর্চা সবকিছুই থাকতে হবে রুটিনের মধ্যে। চলুন জেনে নেওয়া যাক হৃদরোগের ঝুঁকি থেকে বাঁচতে কোন কাজগুলো করতে হবে-

নিজেকে কর্মব্যস্ত রাখুন-

নিজেকে হৃদরোগ থেকে দূরে রাখতে চাইলে অলস দিন কাটানো চলবে না। নিজেকে কর্মব্যস্ত রাখুন। নিয়মিত শরীরচর্চায় মন দিন। হাঁটাহাঁটির অভ্যাস বাড়ান। খানিকটা বিশ্রাম নেওয়া অবশ্যই ভালো, তবে তাতে যেন অলসতা ভর না করে। বাসার টুকিটাকি কাজগুলো নিয়মিত করার অভ্যাস করুন। এতে শরীরে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। মেডিটেশন, ধর্মীয় প্রার্থনা এগুলো আপনাকে মানসিকভাবেও সতেজ রাখবে।

খেতে হবে স্বাস্থ্যকর খাবার-

সুস্থ থাকতে হলে স্বাস্থ্যকর খাবারের বিকল্প নেই। হৃদরোগ থেকে দূরে থাকতে হলে নিয়মিত খেতে হবে স্বাস্থ্যকর খাবার। সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। আপনার প্রতিদিনের যেসব খাবার খাচ্ছেন তা রক্তে কোলেস্টেরলের, রক্তচাপ ও গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। যা বাড়ায় হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি। এ কারণে প্রতিদিনের খাবারে যাতে পর্যাপ্ত ভিটামিন ও মিনারেল থাকে সেদিকে নজর রাখতে হবে। বাদ দিতে হবে সব ধরনের অস্বাস্থ্যকর খাবার।

রক্তচাপ যেন নিয়ন্ত্রণে থাকে

হার্টের অসুখের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে একটি হলো উচ্চ রক্তচাপ। যাদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তাদের ক্ষেত্রে অনেক বেশি। কারণ উচ্চ রক্তচাপের ফলে হৃদযন্ত্রে রক্ত ও অক্সিজেনের প্রবাহ কমে যায়। যে কারণে হতে পারে হার্ট অ্যাটাক। তাই নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করান। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

স্ট্রেসমুক্ত থাকুন

হতাশা কিংবা মানসিক চাপ আমাদের অনেক শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। কোনো কারণে মানসিক চাপ অনুভব করলে তা মস্তিষ্কের কিছু জায়গার কাজ বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে অনেক সময় হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের মতো সমস্যার ঝুঁকি বেড়ে যায়। যে কারণে মানসিক চাপ বা স্ট্রেস থেকে মুক্ত থাকার চেষ্টা করুন। মন ভালো থাকে এমন সব কাজ করুন। বাড়তি দুশ্চিন্তা করবেন না।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে

ওজন অতিরিক্ত হলে নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্থুল ব্যক্তিদের মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। কারণ ওজন অতিরিক্ত হলে বাড়ে উচ্চ রক্তচাপ এবং বেড়ে যায় কোলেস্টেরলের মাত্রা। ফলে বাড়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি। তাই আপনার উচ্চতা অনুযায়ী স্বাভাবিক ওজন ধরে রাখার চেষ্টা করুন।


হৃদরোগ   ঝুঁকি   কর্মব্যস্ত  


মন্তব্য করুন


লিভিং ইনসাইড

কফির উষ্ণতায় আনন্দের হোক ‘একান্ত সময়’

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ১৬ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরের শুরুটা যদি হয় পছন্দের গান শুনতে শুনতে ধোঁয়া উঠা এক কাপ কফি হাতে কিংবা অবসর শীতের বিকেলে পছন্দের বই পড়তে পড়তে কফির কাপে চুমুক কিংবা হতে পারে অলস দুপুরে সিনেমা দেখার ফাঁকে ফাঁকে কফি পান, একান্তে নিজের সাথে সময় কাটানোর জন্য এগুলো হতে পারে চমৎকার কিছু কাজ। যান্ত্রিক কোলাহলপূর্ন ব্যস্ত এই নগরজীবনে নিজের সাথে সময় কাটানোর ‘সময়’ ই যেনো আজ বিলুপ্তির পথে। পড়ালেখা, কর্মজীবন, পরিবার, বন্ধু সবকিছুর জন্য আমরা সময় বের করলেও নিজের জন্য দিনশেষে কতটুকু সময় ই বা বের করতে পারি? শেষ কবে নিজেকে সময় দিয়ে, নিজের পছন্দের কোনো কাজ করেছেন মনে পড়ে কী?  

‘মি টাইম’ কিংবা ‘নিজের সাথে একান্ত সময়’ বলতে মূলত বোঝানো হয় দিনের কিছু নির্দিষ্ট সময় আলাদা করে নিজের জন্য রাখা। 

যেই সময়টুকুতে শুধুমাত্র নিজের পছন্দের কাজ করা। সেটা হতে পারে পছন্দের বই পড়া, সিনেমা দেখা, রূপচর্চা করা, মেকাপ করা, ইয়োগা করা, বেকিং, গাছের পরিচর্যা, শপিং করা, যেকোনো শখের কাজ করা, কিংবা ঘুমানো বা পছন্দের জায়গায় কফি খেতে খেতে একান্তে নিরিবিলি সময় কাটানো। সেটা হতে পারে আপনার নিজের রুম, বাসা কিংবা কোনো নিরিবিলি বুকশপ ক্যাফেতে। আজকাল শহরে বেশকিছু বুকশপ ক্যাফে খুলেছে, যেখানে কফির পাশাপাশি পাওয়া যাচ্ছে দারূন সব বই, সাথে থাকে ইন্সট্রুমেন্টাল মিউজিক। ‘মি টাইম’ কাটানোর জন্য এই ধরণের বুকক্যাফে গুলো কিংবা কফিশপ গুলো অসাধারণ। পছন্দের কফি নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা কাটিয়ে দেওয়া যায় নির্দ্বিধায়। ‘মি টাইম’ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বারবার কফির কথা বলছি কিছু বিশেষ কারনে, যা কফির গুণাগুণের সাথে সম্পর্কিত। চলুন জেনে নেওয়া যাক কফির কিছু গুনাগুন সম্পর্কে

কফিতে থাকা ক্যাফেনাইন এনার্জি বর্ধক-  এই উপাদান শারীরিক ও মানসিক এনার্জি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। কফি পান করলে মস্তিষ্ক ভালো কাজ করে। সারাদিন কাজের মাঝে ক্লান্ত মস্তিষ্কে ১০ মিনিটের ব্রেক নিয়ে এক কাপ কফি খেতে খেতে ‘মি টাইম’ কাটালে তা আপনার শারীরিক ও মানসিক শক্তি বৃদ্ধি করে আপনাকে পূনরায় কাজে ফিরার মনোবল জোগাবে। 

কফিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস আপনার মন কে রাখে ভালো ও মেজাজ কে রাখে ফুরফুরে। ‘মি টাইম’ কাটানোর পর আপনার মন ও মেজাজ ভালো রাখতে জুড়ি নেই কফির। 

শরীর ও মন কে অবসাদমুক্ত রাখতে সহায়তা করে ক্যাফেইন

যাদের অতিরিক্ত মুড সুইং এর সমস্যা রয়েছে তাদের কফি খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। 

কফির ক্যাফেইন মানুষের মস্তিষ্কের নিউরোট্রান্সমিটার অ্যাডেনোসাইনকে ব্লক করে। ফলে নোরপাইনফ্রাইন ও ডোপামিন নিঃসরণ বেড়ে যায়। যা নিউরনের কার্যকারিতা বাড়িয়ে দেয়। কফি পান করলে এই ক্যাফেইন রক্তে মিশে মস্তিষ্ক পর্যন্ত পৌঁছে যা আমাদের মেজাজের উন্নতিতেও সাহায্য করে। এ সব কারণে কফি খেলে আপনি তুলনামূলক কম ক্লান্ত অনুভব করবেন।

কফি মনকে রাখে প্রফুল্ল। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ এক পরীক্ষায় প্রমাণ করেছে, যারা প্রতিদিন চার বা ততোধিক কাপ কফি পান করে তাদের বিষন্নতা হওয়ার সম্ভাবনা যারা কখনও পান করেনি তাদের চেয়ে ১০ ভাগ কম। কফিতে উচ্চমাত্রায় ক্যাফেইন নামে এক প্রকার উপাদান থাকার কারণেই এটি সম্ভব। তবে কোকাকোলোতে ক্যাফেইন থাকা সত্ত্বেও তা বিষন্নতা বাড়িয়ে দেয়। 

আত্মহত্যার ঝুঁকি কমাতে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য বিভাগ পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন ২-৪ কাপ কফি পান করলে ছেলেদের আত্মহত্যার ঝুঁকি হ্রাস পায়। আর মেয়েদের আত্মহত্যার ঝুঁকি অর্ধেকে নেমে আসে।

স্ট্রেস কমাতে সহায়তা করে কফি। সিউল ন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটিতে ইদুরের মস্তিষ্কের উপর চালানো এক পরীক্ষায় দেখা গেছে, নিদ্রাহীনতার ফলে মস্তিষ্কের যে চাপের সৃষ্টি হয় কফি সে চাপ লাঘবে সাহায্য করে।

কফির বহুমুখী এইসব গুণের কারণে ‘মি টাইম’ কাটানোর ক্ষেত্রে কফি হতে পারে চমৎকার একটি সঙ্গী। যা একই সাথে আপনার মন, মেজাজ ও শরীরকে করে তুলবে প্রফুল্ল। আনন্দে কাটবে আপনার একান্ত ব্যক্তিগত সময়।


কফি   বই পড়া   শীতকাল   কুয়াশা  


মন্তব্য করুন


লিভিং ইনসাইড

মাইগ্রেন প্রতিরোধে করণীয়

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ১২ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

ঋতু হিসেবে শীতকাল কার না পছন্দের? প্রতিটি ঋতুর মতই শীতকাল ও তার নিজস্ব রূপ ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে হাজির হয় আমাদের মাঝে। শীত এলে অনিবার্য ভাবেই প্রকৃতিতে ঘটে কিছু পরিবর্তন। একদিকে শীত যেমন উৎসবের আমেজ নিয়ে আসে, অন্যদিকে পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার কারণে ভোগান্তিও পোহাতে হয় আমাদের মধ্যে অনেককে। আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে শীতকালে সাধারণত জ্বর, সর্দি, কাশি লেগেই থাকে তবে এগুলো ছাড়াও অনেকে তীব্রভাবে মাইগ্রেনের সমস্যায় ভুগে থাকেন। 

মাইগ্রেন কি? 

মাইগ্রেন হলো মস্তিষ্কের একধরনের নিউরোলজিক্যাল পেইন বা যন্ত্রণা। এই ব্যথা সাধারণত কপালের একপাশে হয়ে থাকে। তবে ধীরে ধীরে এই ব্যথা ছড়িয়েও পড়তে পারে। সঙ্গে থাকতে পারে বমি ভাব কিংবা বমি, তীব্র আলো বা শব্দে খারাপ লাগা। ৪ থেকে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত থাকতে পারে এই ব্যথা। মাইগ্রেন হলে মস্তিষ্কে একধরনের নিউরোকেমিক্যাল সমস্যা দেখা দেয়। এই নিউরোকেমিক্যাল সমস্যার কারণে মাইগ্রেন হওয়ার আগেই কিছু প্রি-সিম্পটম দেখা যায়। অবস্থাটিকে বলে Aura। এমন হলে চোখে কম দেখতে থাকে, জিগজ্যাগ লাইন দেখতে থাকে, অথবা ফ্লাশিং লাইট দেখতে থাকে। তখনো মাথার যন্ত্রণা শুরু হয় না।

মাইগ্রেনের ব্যথা কেন হয়?

যদিও মাইগ্রেনের কারণ এখনও যথাযথভাবে জানা যায়নি। তবে অধিকাংশের মতে এটি ব্রেইনের অ্যাবনরমাল অ্যাকটিভিটির ফলাফল যার কারণে ব্রেইনের নার্ভ ও ব্লাড ভেসেল আক্রান্ত হয়। ব্রেইনের এই সাময়িক পরিবর্তন এর কারণ স্পষ্ট করা যায়নি। তবে জেনেটিক্যাল কারণের পাশাপাশি কিছু ট্রিগার বা ফ্যাক্টর থাকে যেগুলো মাইগ্রেনের ব্যথা বাড়িয়ে দেয়। যেমন-

অতি উজ্জ্বল আলো

হরমোনাল ইস্যু

ইমোশনাল ও ফিজিক্যাল স্ট্রেস

ক্লান্তি বা অতিরিক্ত কাজের চাপ

কিছু খাবার বা ড্রিংকস যেমন- চকলেট, পনির, কফি ইত্যাদি বেশি খাওয়া

অতিরিক্ত ঘোরাঘুরি

অপর্যাপ্ত ঘুম

দীর্ঘসময় ল্যাপটপ বা কম্পিউটারে কাজ করা বা টিভি দেখা ইত্যাদি

মাইগ্রেনের স্টেজ

মাইগ্রেনের চারটি স্টেজ এবং প্রত্যেকটি স্টেজের লক্ষন ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। প্রায় ৪-৭২ ঘন্টা লাগে এই চারটি স্টেজ শেষ হতে। একেকজনের ক্ষেত্রে ব্যথার তীব্রতা, সময় ও ধরন ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। একদম শুরুর পর্যায়, এ সময়ে কনসেনট্রেশনে সমস্যা হয়, কথা বলা ও পড়তে কষ্ট হয়, মাসল স্টিফনেস, বমি, লাইট, সাউন্ড সেনসিটিভিটি ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়। সময়কাল ৩ ঘন্টা থেকে কয়েকদিনও থাকতে পারে।

Aura

লাইটের ফ্ল্যাশ দেখা, ভিশনে ব্লাইন্ড স্পট, স্পিচে চেঞ্জ, কানের কাছে শব্দ অনুভূত হওয়া, জিগজ্যাগ লাইন দেখা, গন্ধ ও স্বাদে পরিবর্তন আসা ইত্যাদি সিম্পটমস দেখা দেয়। সময়কাল ৫-৬০ মিনিট হয়ে থাকে।

Attack 

লাইট, সাউন্ড এবং স্মেল সেনসিটিভিটি, ক্ষুধামন্দা, মাথাঘোরা, বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া ইত্যাদি। সময়কাল ৪-৭২ ঘন্টা হয়ে থাকে।

Post-drome

কনসেনট্রেশনের সমস্যা, ডিপ্রেশনে থাকা, কোনো কিছু বুঝতে সমস্যা হওয়া ইত্যাদি। এই স্টেজকে মাইগ্রেন হ্যাংওভার বলে এবং ৮০% মানুষ এই স্টেজ এক্সপেরিয়েন্স করে থাকে। সময়কাল ১-২ দিন হতে পারে।

প্রতিরোধের কোনো উপায় আছে কি?

ওষুধের পাশাপাশি কিছু নিয়ম কানুন মেনে চললে এই সমস্যা অনেকাংশে কমে যায়। তবে অবশ্যই ডাক্তারের প্রেসক্রাইব করা ওষুধ সেবন করতে হবে।এছাড়াও জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনলে উপকার পাওয়া সম্ভব। দেখে নিন সেগুলো কী কী-

১) ম্যাগনেশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার রাখুন ডায়েটে

বলা হয়ে থাকে ডায়েটে ম্যাগনেসিয়ামের অভাব মাথাব্যথা বা মাইগ্রেনের সূচনা করে থাকে। তাই, ডায়েটে রাখতে পারেন মিক্সড নাট অ্যান্ড সিড, কলা, ডার্ক চকলেট, ওটমিল ইত্যাদি সেই সাথে আদাও বেশ উপকারী, কারণ বমি বমি ভাব কমাতে আদা বেশ ভালো কাজ করে।

২) পর্যাপ্ত হাইড্রেশন ও সাউন্ডস্লিপ

কাজের চাপে পানি খেতে ভুলে যান অনেকেই! হেলদি লাইফস্টাইল মেনটেইন করার জন্য প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে,সরাসরি কড়া রোদ থেকে দূরে থাকতে হবে। সেই সাথে রাতে ৮ ঘন্টা ঘুমাতে হবে। মাইগ্রেনের ব্যথায় ঠান্ডা পানি দিয়ে জলপট্টি দিলে সাময়িক ভাবে বেশ আরাম পাওয়া যায়।

৩) চা, কফি ও কোমল পানীয় এড়িয়ে চলুন

পরিমিত ভাবে চা-কফি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। অতিরিক্ত কোমল পানীয় পান করার অভ্যাস থাকলে সেটাও বাদ দিতে হবে।

৪) অ্যাসেনশিয়াল অয়েল থেরাপি-

যেকোনো ক্যারিয়ার অয়েলের সাথে ২/৩ ড্রপ ল্যাভেন্ডার অ্যাসেনশিয়াল অয়েল মিক্স করে মাথার তালুতে আলতো হাতে মালিশ করলে বেশ আরাম পাওয়া যায়। স্ট্রেস কমাতে ও ভালো ঘুমের জন্য ল্যাভেন্ডার অ্যাসেনশিয়াল অয়েল সাজেস্ট করা হয়। পেপারমিন্ট অ্যাসেনশিয়াল অয়েলও ব্যবহার করা যেতে পারে, এতে করে একইভাবে উপকৃত হওয়া সম্ভব। 

৫) মেডিটেশন বা ইয়োগা

দিনের শুরুটা করুন কিছু এক্সারসাইজ, মেডিটেশন বা ইয়োগা দিয়ে। শরীর ভালো থাকার পাশাপাশি মাইগ্রেনের সমস্যাও অনেক খানি কমে আসবে। আপনিযতটারিল্যাক্স ও ফ্রেশথাকবেন, মাইগ্রেনততটাইকমেযাবে। মেডিটেশন স্ট্রেস কমাতে দারুণ হেল্পফুল।

৬) ডায়েরি মেনটেইন করুন

আমরা প্রতিদিনই টুকটাক নোট করে থাকি, মাইগ্রেনের ব্যাপারেও তাই করুন। নোট রাখুন ব্যথাটা কবে কবে ও কতদিন পরপর হচ্ছে! ঐ দিন কী কী কাজ করা হয়েছিলো বা কী খেয়েছেন, সেটাও টুকে রাখুন। এতে করে আপনি ট্রিগ্রার ফ্যাক্টর গুলো জানতে পারবেন। ডাক্তার কে হিস্ট্রি দিতেও সুবিধা হবে।

৭) চশমা ব্যবহার করুন

যাদের মাইগ্রেন এর সমস্যা আছে, তারা ল্যাপটপে একটা না কাজ করলে বা রোদে গেলে অবশ্যই ফটোসান চশমা বা পাওয়ার চশমা যদি থাকে সেটা ব্যবহার করুন। তবে চেষ্টা করবেন একটা না যেন স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে কাজ না করতে হয়। একটু বিরতি দিয়ে কাজ করুন।

সর্বপরি একজন মাইগ্রেনের পেশেন্ট কিন্তু অবশ্যই জানেন যে তার মাইগ্রেনের ব্যথা কখন কখন হয়। সে অনুযায়ী জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে নিজেকে মানিয়ে নেবার চেষ্টা করতেহ বে। সবসময়ই মনে রাখতে হবে যে নিজের শরীরের চেয়ে গুরত্বপূর্ণ আর কিছুই নেই, সুস্থতা সবার আগে। তাই হেলদি লাইফস্টাইল মেনে চলুন, নিজের যত্ন নিন।


মাইগ্রেন   করণীয়   লাইফস্টাইল  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন