ইনসাইড পলিটিক্স

‘ছন্নছাড়া’ ছাত্রলীগ: কে হবেন ত্রাতা?

প্রকাশ: ১০:০৭ পিএম, ০২ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail ‘ছন্নছাড়া’ ছাত্রলীগ: কে হবেন ত্রাতা?

বাংলাদেশের ঐত্যিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলের অ্যাসেম্বলি হলে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দেশের রাজনীতিতে খ্যাতিমান রাজনীতিবিদদের রাজনীতির হাতেখড়ি এই ছাত্র সংগঠন। কিন্তু ঐত্যিবাহী এই ছাত্র সংগঠন জৌলুস হারাতে বসেছে। দেশব্যাপী ছাত্রলীগের কর্মকান্ড যেন সেই বিষয়েরই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ছাত্রলীগের বর্তমান এবং বিগত কয়েকটি কমিটি নিয়েই রয়েছে বেশ বিতর্ক। চেইন অব কমান্ড না থাকা, অনুপ্রবেশকারীদের আধিপত্য, অভ্যন্তরীণ কোন্দল, চাঁদাবাজি, ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধরণের অপরাধের সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জড়িত, এমন খবর এখন প্রতিদিনই পাওয়া যাচ্ছে। সম্প্রতি ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের ঘটনা কিংবা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্তি করে সেই নোটিশ 'সরিয়ে ফেলা'র মত কর্মকাণ্ড নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে রীতিমত ঝড় ওঠেছে। এতকিছুর পরও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ যেন নির্বিকার! ছাত্রলীগের বর্তমান অবস্থা বেশ ‘ছন্নছাড়া’ বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ছাত্রলীগের বর্তমান এবং সাবেক নেতৃবৃন্দ।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে বর্তমান সময়ের মত এতটা ‘ছন্নছাড়া’ ছাত্রলীগ কখনোই হয়নি বলে মনে করছেন সাবেক নেতৃবৃন্দ। বর্তমান কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পরিবর্তন চান তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। সেই প্রেক্ষিতে শীঘ্রই ছাত্রলীগের কাউন্সিলের দাবি তুলেছেন নেতাকর্মীরা। কিন্তু কাউন্সিলের দাবির প্রেক্ষিতে এখন প্রশ্ন উঠেছে, কে হতে যাচ্ছেন ছাত্রলীগের পরবর্তী নেতা? ছাত্রলীগ কি এই সঙ্কট থেকে সহসাই উত্তরণ পাবে? এমন প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মনে।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য হলেন মোস্তাফিজুর ও শরিফুল

প্রকাশ: ০৮:২৪ পিএম, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪


Thumbnail

দলের দুই সংসদ সদস্যকে প্রেসিডিয়াম সদস্য করল জাতীয় পার্টি (জাপা)। তারা হলেন- কুড়িগ্রাম-১ ও বগুড়া-২ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান ও শরিফুল ইসলাম জিন্নাহকে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মনোনীত করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে দলের যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন। দলের চেয়ারম্যান গঠনতন্ত্র প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ মনোনয়ন দিয়েছেন। 
 
বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের পার্টির গঠনতন্ত্রে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে চেয়ারম্যানের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান এমপি ও শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ এমপিকে প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে মনোনয়ন প্রদান করেছেন। 

উল্লেখ্য, জাতীয় পার্টিতে চলমান অস্থিরতার জেরে বিগত মাসে দলের দুই প্রেসিডিয়াম সদস্য শফিকুল ইসলাম সেন্টু ও সুনীল শুভ রায়কে অব্যাহতি দেন গোলাম মোহাম্মদ কাদের। একই সঙ্গে দুই কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা ও কাজী ফিরোজ রশীদকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান   শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ   জাতীয় পার্টি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

ওবায়দুল কাদের বিএনপির বিকল্প স্থায়ী কমিটির সদস্য: রিজভী

প্রকাশ: ০৮:১৩ পিএম, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪


Thumbnail

বিএনপির উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের সমালোচনা করে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ওবায়দুল কাদের যেভাবে কথাবার্তা বলেন, তাতে মনে হয় তিনি বিএনপির বিকল্প জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য। 

মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি।

রিজভী বলেন, ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি উপজেলা নির্বাচনে যাবে।’ তাতে মনে হচ্ছে, তিনি শুধু আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নন, বিএনপির বিকল্প জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যও। মনে হচ্ছে, বিএনপির অনেক গোপন কথা উনি জেনে যাচ্ছেন। এগুলো আসলে জনগণের সঙ্গে তামাশা ও প্রতারণা করা। 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের কাছে বিএনপি নালিশ করেছে- ওবায়দুল কাদেরের এই বক্তব্যে বিষয়ে জানতে চাইলে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে তারা (আওয়ামী লীগ) কি করেছেন? শুধু দেশে না বিদেশে গিয়ে, এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশে গিয়ে বাংলাদেশের সরকারের বিরুদ্ধে খুব জোরালো কণ্ঠে সেখানে তারা কথা বলেছেন। আর কিসের নালিশ। উনি (ওবায়দুল কাদেদের) কি শুনেছেন কি কথাবার্তা হয়েছে? উনি কি জানেন? আমরা তো জানি না। 

তিনি আরও বলেন, বিদেশি কোন রাষ্ট্র এবং বিদেশী কোন কর্মকর্তা আসলে, বিশেষ করে গণতান্ত্রিক দেশের কর্মকর্তারা আসলে সরকারি দল এবং বিরোধী দলসহ সবাই সঙ্গেই বসেন। এটা তো রেওয়াজ, এটা তো দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। তারা ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। সেকারণে আমাদের নেতৃবৃন্দ দেখা করতে গিয়েছেন। কিন্তু কি আলোচনা হয়েছে, কি কথা হয়েছে- আমরা তো কেউ জানি না। আমাদের নেতৃবৃন্দ যারা গেছেন, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তারা তো কিছু বলেননি। তাহলে উনি জানলেন কি করে? তাহলে উনি কি কোন গোপন ডিভাইস কোথাও রেখেছিলেন? 

রিজভী বলেন, ওবায়দুল কাদের একসময় ছাত্র নেতা ছিলেন। কিন্তু 'ডামি সরকারের' ডামি মন্ত্রী হয়ে উনি সত্য কথা বলতে ভুলে গেছেন। জনগণের কাছে জবাবদিহিতা করতে হবে, সেটা তারা ভুলে গেছেন। এক ধরনের দস্যুবৃত্তির মানসিকতা নিয়ে তারা ক্ষমতা দখল করে আছেন। 

আরেক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, খেসারত তারা (আওয়ামী লীগ) দিয়েছেন। আমরা দেই নাই। তাই এদেশের যখন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন তখন এই যে বিভ্রান্তমূলক কথাবার্তা বলছেন, তার পরিণতি আওয়ামী লীগকে ভোগ করতে হবে। আর ওবায়দুল কাদেররা যে মিথ্যাচার করছেন, তারও পরিণতি ভোগ করতে হবে।

ওবায়দুল কাদের   বিএনপি   রুহুল কবির রিজভী  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বিএনপিতে শুদ্ধি অভিযান: পালিয়ে থাকা নেতারাও ছাঁটাই হচ্ছেন

প্রকাশ: ০৭:৫৯ পিএম, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪


Thumbnail

বিএনপিতে শুদ্ধি অভিযান শুরু করা হচ্ছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার লন্ডন থেকে শুদ্ধি অভিযানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন। বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। চারটি শ্রেণী বিন্যাসে এই শুদ্ধি অভিযান পরিচালিত হবে বলে বিএনপির একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতা বাংলা ইনসাইডারকে নিশ্চিত করেছেন। 

যে চার ধরনের ব্যক্তিরা এবার নেতৃত্ব থেকে ছাঁটাই পড়বেন করবেন, তাদের মধ্যে রয়েছে; 

প্রথমত, যারা নিষ্ক্রিয় ছিলেন। বিএনপি যে সমস্ত নেতারা গত ২৮ অক্টোবর থেকে ৭ জানুয়ারি নির্বাচন পর্যন্ত নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন, তাদেরকে শুদ্ধি অভিযানের আওতায় আনা হবে। বিশেষ করে যারা জেল জুলুমের ভয়ে পালিয়ে ছিলেন, দলের কোন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেননি, কেউ কেউ প্রকাশ্যে বা গোপনে সরকারের সাথে সমঝোতা করেছিলেন তাদেরকে এই শুদ্ধি অভিযানের আওতায় আনা হবে এবং এই সমস্ত নেতারা পদ হারাবেন। ইতোমধ্যে তারেক জিয়ার নিজস্ব পছন্দের কর্মীরা বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির কারা কারা ২৮ অক্টোবরের পর থেকেই গ্রেপ্তার হননি বা রাজপথেও আন্দোলন করেননি এ রকম নেতৃবৃন্দের তালিকা তৈরি করছেন এবং সেই তালিকায় যাদের নাম থাকবে, তারা দলের পদ হারাতে পারেন বলে একাধিক বিএনপির সূত্র বাংলা ইনসাইডারকে নিশ্চিত করেছে। 

দ্বিতীয়ত, যারা আন্দোলনে ছিলেন কিন্তু সরকারের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রেখেছেন। বিএনপির যে সমস্ত নেতারা লোক দেখানোর জন্য আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছেন কিন্তু গোপনে গোপনে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন তাদের সম্পর্কে তথ্যপ্রমাণ পেয়েছে তারেক জিয়ার নিজস্ব ক্যাডাররা। এই প্রেক্ষিতে এদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। যারা সরকারের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধা নিয়েছেন এবং সরকারকে বিএনপির বিভিন্ন গোপন তথ্য ইত্যাদি দিয়েছেন। 

তৃতীয়ত, যে সমস্ত নেতৃবৃন্দ বিএনপির সঙ্গে ছিলেন কিন্তু তারা বিভিন্ন ফোরামে গিয়ে বিএনপির সমালোচনা করেছেন, নেতাকর্মীদেরকে হতাশার বাণী শুনিয়েছেন, নেতৃত্ব সঠিকভাবে কাজ করছে না বলে বক্তব্য রেখেছেন তাদেরকেও দলের পদ ছাড়তে হচ্ছে। তবে বিএনপির সূত্রগুলো বলছে, সবগুলো পদে একসাথে ছাঁটাই হবে না। ছাঁটাই করার প্রক্রিয়াটি হবে ধীরে ধীরে এবং প্রথমে একেবারেই যারা নিস্ক্রিয় হয়ে ছিলেন তাদেরকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে এবং তাদের স্থানে যারা কাজ করছেন আন্দোলন সংগ্রামে, জেল জুলুম নির্যাতন ভোগ করছেন তাদেরকে সামনে আনা হবে। 

চতুর্থত, যারা অসুস্থ এবং রোগশয্যায় পড়ে আছেন কিন্তু অতীতে দীর্ঘদিন দলের জন্য কাজ করেছেন, দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন তাদেরকে এই মুহুর্তে দলের নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে না মানবিক কারণে। তাদেরকে সরিয়ে না দিয়ে বরং যে সমস্ত শূন্য পদগুলো আছে এবং যারা দলের দলের সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করেছেন, দলের জন্য ঠিকঠাক মতো কাজ করেননি তাদেরকে বাদ দিয়ে নতুন নেতৃত্ব আনা হবে। আর সবশেষ যারা বিভিন্ন ফোরামে দলের সমালোচনা করেছেন, কর্মীদের মধ্যে হতাশা ছড়িয়েছেন তাদেরকে এই পদগুলো থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। বিভিন্ন স্তরের এক থেকে দেড়শ ব্যক্তি শুদ্ধি অভিযানের আওতায় আসবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদের মধ্যে অন্তত দুই ডজন কেন্দ্রীয় নেতা আছেন বলেও বিএনপির বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছ।


বিএনপি   শুদ্ধি অভিযান   তারেক জিয়া  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণের প্রস্তুতি শুরু

প্রকাশ: ০৭:০০ পিএম, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪


Thumbnail

মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। আজ সংসদে সংরক্ষিত আসনের ৫০ জন নতুন সংসদ সদস্যের নাম গেজেট বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। আগামীকাল তারা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথগ্রহণ করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর পরপরই মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে একাধিক সূত্র বাংলা ইনসাইডারকে নিশ্চিত করেছে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আগামী ২৯ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার অথবা ৩ মার্চ রোববার মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ হতে পারে। আর এই মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণে নতুন ১০ থেকে ১২ জন মন্ত্রী মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, সম্প্রসারিত মন্ত্রিসভায় অন্তত তিনজন নারী সংসদ সদস্য মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। যে সমস্ত নারী সংসদ সদস্যরা মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারেন বলে আলোচনা আছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন শাম্মী আহমেদ, তারানা হালিম এবং ডা. রোকেয়া সুলতানা। এ ছাড়াও চট্টগ্রাম থেকে নির্বাচিত একজন সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্যকেও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া সাবেক শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ান একই পদে স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন বলেও কোন কোন মহলে আলোচনা আছে। 

অন্যদিকে, এই সম্প্রসারিত মন্ত্রিসভায় দুইজন অন্তত টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী হতে পারেন বলে একাধিক সূত্র আভাস দিয়েছে। তবে রাজনীতিবিদ কারা কারা মন্ত্রিসভায় স্থান পান বা আদৌ স্থান পান কিনা সেটি নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে আলাপ আলোচনা এবং জল্পনাকল্পনা সবচেয়ে বেশি। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কর্মীবান্ধব জনপ্রিয় নেতাদের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তি চান। এটি তাদের প্রত্যাশার কথা৷ এ নিয়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন মহলে আলোচনা হচ্ছে। 

আওয়ামী লীগের যে সমস্ত জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারেন বলে বিভিন্ন মহল মনে করছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন- বাহাউদ্দিন নাছিম, মির্জা আজম, এস এম কামাল হোসেন। এছাড়াও গত মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়া এবং নতুন মন্ত্রিসভায় বাদ করা এনামুল হক শামীম মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন এমন গুঞ্জনও রয়েছে।

মন্ত্রিসভায় বর্তমানে ছয়টি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং শ্রম মন্ত্রণালয়ে নতুন মন্ত্রী নিয়োগ হবে এটা মোটামুটি নিশ্চিত। এছাড়াও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একজন পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী নিয়োগের সম্ভবনা রয়েছে বলেও বিভিন্ন সূত্র আভাস দিচ্ছে। 

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়েও টেকনোক্র্যাট কোটায় একজন প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে‌ প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ পেতে পারেন বলে একাধিক সূত্র আভাস দিচ্ছে। তবে মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণের কাজটি প্রধানমন্ত্রী একাই করছেন এবং এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্ৰহণের ক্ষমতা সংবিধান তাকেই দিয়েছে। তাই সব কিছু নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায়ের ওপর।



মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

যে কারণে আওয়ামী লীগকে বেছে নিল যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: ০৫:০০ পিএম, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪


Thumbnail

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তিন সদস্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশ সফরের পর এটা স্পষ্ট হল যে, যুক্তরাষ্ট্র এখন দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার পক্ষপাতী। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কোনো বিকল্প নেই—এই বার্তাটি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হল। এই সফরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা সুশীল সমাজের সঙ্গে বৈঠক করেছে, বৈঠক করেছে বিএনপির সঙ্গে কিন্তু এই সমস্ত বৈঠক ছাপিয়ে সরকারের সঙ্গে হৃদ্যতা পূর্ণ সম্পর্ক এবং দু দেশের ভুল বোঝাবুঝি অবসান ঘটিয়ে অংশীদারিত্বের সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তাটি প্রবল হয়ে দেখা দিয়েছে। এর ফলে এটা স্পষ্ট হল যে, আওয়ামী লীগ সরকারের কোনো বিকল্প আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নেই। 

কেন যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগকে বেছে নিল? 

দুবছর আগে মনে হয়েছিল, বাংলাদেশের সরকার পরিবর্তন করতে চায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আর এই সরকার পরিবর্তনের জন্য তারা উঠেপড়ে লেগেছিল। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের ওপর তাদের নানামুখী চাপ ছিল দৃশ্যমান। কিন্তু নির্বাচনের পর সেই অবস্থান পরিবর্তন ঘটল। কেন এই পরিবর্তন ঘটল—এ নিয়ে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা একাধিক কারণ খুঁজে পেয়েছেন। তাদের মতে; 

১. ভারতের অবস্থান: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলের নেতৃত্ব দিতে চায় ভারতকে এবং ভারতের নেতৃত্ব মেনে নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে তার পরিকল্পনা সাজাতে চায়। ভারত যেহেতু আওয়ামী লীগের কোন বিকল্প নেই বলেই মনে করছে এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের প্রয়োজনীয়তার কথা অনুভব করছে সে কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কোনো বিকল্প ভাবছে না। তারা আওয়ামী লীগকেই বেছে নিয়েছে।

২. বিরোধী দলগুলির দুর্বলতা: গত দুই বছর ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নীতিনির্ধারকদের মধ্যে একটা মৌলিক অবস্থান তৈরি হয়েছে। তা হল তারা দেখছে যে, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের বিশেষ করে আরও নির্দিষ্ট করে বললে বলা যায়, শেখ হাসিনার কোন বিকল্প নেই। কারণ শেখ হাসিনা ছাড়া বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো কোন বিকল্প শক্তির অবস্থান নেই। আর এই কারণেই তারা আওয়ামী লীগকে আবার বেছে নিয়েছে। 

৩. বিএনপির দুর্বলতা এবং নেতৃত্বের সংকট: বিএনপির সঙ্গে একটা সময় পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক ছিল এবং বিএনপিকে তারা এক ধরনের আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছিল। কিন্তু।বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে নীতিনির্ধারকদের কাছে এটা স্পষ্ট হয়ে যায় যে, বিএনপি আওয়ামী লীগের বিকল্প নয় এবং দেশ পরিচালনা করার জন্য বা সরকার পরিচালনার মতো নেতৃত্ব বিএনপিতে নেই। এ কারণে তারা আওয়ামী লীগের ওপরই আস্থা রাখছে। 

৪. সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ মোকাবেলা করা: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম আন্তর্জাতিক এজেন্ডা হল সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদ মোকাবেলা করা। সেক্ষেত্রে তারা বাংলাদেশের বাস্তবতায় এটা অনুভব করতে সক্ষম হয়েছে যে, এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সরকার পরিবর্তনের মাধ্যমে যদি কোন রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়, তাহলে সেখানে জঙ্গিরা এবং সন্ত্রাসবাদ লালিত হবে। জঙ্গিরা এবং সন্ত্রাসবাদের উত্থান ঘটবে। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কখনোই চায় না। 

৫. চীনকে এই অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ করা: এই অঞ্চলে চীনকে নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে বাংলাদেশকে কাছে নিতেই হবে। যদি শেষ পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার বিরোধী অব্যাহত রাখত তাহলে বাংলাদেশ চীন-রাশিয়া-ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের মাধ্যমে তাদের উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং উন্নয়ন অভিযাত্রা অব্যাহত রাখত। আর তাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দেখছে যে, চীনকে প্রতিহত করার জন্য আওয়ামী লীগের সঙ্গে রৈরিতা নয়, বরং আওয়ামী লীগের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি করাই উত্তম পথ। আর এ কারণেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগকেই বেছে নিয়েছে।

মার্কিন প্রতিনিধি দল   আওয়ামী লীগ   বিএনপি   ভারত   চীন   রাশিয়া  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন