ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে সরাসরি সংঘাতের আশঙ্কা

প্রকাশ: ০৮:৩০ এএম, ১৬ মার্চ, ২০২৩


Thumbnail

রাশিয়ার যুদ্ধবিমানের সঙ্গে সংঘর্ষে গতকাল মঙ্গলবার কৃষ্ণসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর একটি ড্রোন বিধ্বস্ত হয়েছে। এক বছরের বেশি সময় আগে ইউক্রেনে মস্কোর সর্বাত্মক অভিযান শুরুর পর থেকে দৃশ্যত এখন পর্যন্ত রুশ–মার্কিন বিবাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ্য ঘটনা হয়ে উঠেছে এটি।

এ ঘটনা একই সঙ্গে যেমন অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে, সেই সঙ্গে এক বিপৎসংকুল মুহূর্তও তুলে ধরেছে।

মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের (এনএসসি) জন কিরবি বলেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে (যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে) বাধা দেওয়ার অন্যান্য ঘটনাও ঘটেছে। তবে ওই ঘটনা একেবারেই ভিন্ন।

যুক্তরাষ্ট্রের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার কৃষ্ণসাগরের ওপর দিয়ে রাশিয়ার দুটি এসইউ-২৭ যুদ্ধবিমান ও যুক্তরাষ্ট্রের একটি রিপার ড্রোন উড়ছিল। এ সময় একটি যুদ্ধবিমান ‘ইচ্ছাকৃতভাবে’ ড্রোনের সামনে যায় ও এটির প্রপেলারে আঘাত করে।

এ বিষয়ে মার্কিন বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা জেনারেল জেমস বি হেকার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘তাঁদের ওই ড্রোন আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় নিয়মিত অভিযানে ছিল। তখন সেটিকে আঘাত করে রুশ যুদ্ধবিমান।’

এটি কি কোনো দুর্ঘটনা?

‘রাশিয়ার বিমানচালকদের নেওয়া পদক্ষেপের ভিত্তিতে এটি পরিষ্কার, ওই ঘটনা ছিল রাশিয়ার একটি অনিরাপদ ও অপেশাদার পদক্ষেপ’, বলেন মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের প্রেস সেক্রেটারি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল প্যাট রাইডার। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, এই পদক্ষেপ তাদের (রাশিয়ার) নিজেদের কথাই বলছে।’  

যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ অনুযায়ী, রুশ যুদ্ধবিমান ইচ্ছাকৃতভাবে ড্রোনটির সামনে যায় এবং সেটির যাত্রাপথে কয়েকবার জ্বালানি তেল ফেলে। এরপর যুদ্ধবিমানটি ড্রোনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। তাই প্রশ্ন উঠেছে, এ ঘটনা কি দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনা বেড়ে যাওয়াকেই নির্দেশ করছে?

পেন্টাগন বলেছে, পুরো ঘটনার স্থায়িত্ব ছিল প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট। জেনারেল রাইডার বলেন, এ সময়ে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর মধ্যে সরাসরি কোনো যোগাযোগ হয়নি।

কিছু মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, তাঁদের ধারণা, রাশিয়ার এসইউ–২৯ যুদ্ধবিমানের যেটি সংঘর্ষে জড়িয়েছে, সম্ভবত সেটি কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটি এ ইঙ্গিত করে, ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত ছিল না।

‘আমি জানি, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এ ঘটনাকে ঘিরে আমাদের উদ্বেগ সরাসরি রুশ সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট করছে’, বলেন জেনারেল রাইডার।

কৃষ্ণসাগরে মার্কিন ড্রোনের তৎপরতার ভবিষ্যৎ ও ইউক্রেনকে দেওয়া নজরদারিমূলক সহায়তার ক্ষেত্রে এ ঘটনার তাৎপর্য কি? উঠেছে এমন প্রশ্নও।

জন কিরবি মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম ভয়েস অব আমেরিকাকে (ভিওএ) বলেন, ‘এ ঘটনার যদি এটিই বার্তা হয় যে তারা (রাশিয়া) কৃষ্ণসাগরের আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় আমাদের কার্যক্রম পরিচালনা বা উড়োজাহাজের উড্ডয়ন প্রতিহত করতে বা এসব থেকে আমাদের নিবৃত্ত করতে চায়; তবে এ বার্তা ফলপ্রসূ হবে না। কেননা, যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু মানবে না।’

বিস্ময়কর না হলেও রাশিয়া সম্ভবত ইউক্রেনের মিত্র দেশগুলোকে কৃষ্ণসাগরে তাদের কার্যক্রম পরিচালনাকে যতটা সম্ভব কঠিন করে তুলবে।

অবশ্য ড্রোন বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় ওয়াশিংটন এ পর্যন্ত শক্তভাবেই মুখ আটকে রেখেছে।

রুশ যুদ্ধবিমানের সঙ্গে সংঘর্ষের পর দূরবর্তী অবস্থানে থাকা মার্কিন বিমানের পাইলটরা ড্রোনটিকে ভূপাতিত করতে বাধ্য হন।

ড্রোনটি কোথায় নামানো হয়েছে বা রুশ নৌবাহিনী এটিকে জব্দ করার চেষ্টা করছে কি না, সে বিষয়ে জেনারেল রাইডার কিছু বলেননি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু অডিও রেকর্ডিংয়ে দৃশ্যত এই ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, ড্রোনটি জব্দ করতে অভিযান চালাচ্ছে রুশ নৌবাহিনী। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এটি স্পষ্ট, রাশিয়ার হাতে এমন স্পর্শকাতর প্রযুক্তি গেলে ওয়াশিংটনের জন্য তা স্বস্তিদায়ক হবে না। আর ইউক্রেনের জন্য ‘যত দিন প্রয়োজন’ সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনে জন্য বর্তমান মুহূর্তটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

এসব ড্রোন শুধু পশ্চিমা অস্ত্রই নয়; এগুলো রাশিয়ার অভিযানের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতেও সহায়তা করছে ইউক্রেনকে।

কৃষ্ণসাগরে রুশ নৌযানের চলাচল ও ইউক্রেনকে নিশানা করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপসহ  রাশিয়ার সামরিক অভিযানের প্রতিটি পদক্ষেপের তাৎক্ষণিক গোয়েন্দা তথ্যের এক বিশাল ভান্ডারও এসব ড্রোন।

ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামো টিকিয়ে রাখা থেকে শুরু করে নিজস্ব আক্রমণ পরিচালনার পরিকল্পনা পর্যন্ত নানা বিষয়ে কিয়েভ নিরবচ্ছিন্ন গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

অনিবার্য কারণেই মার্কিন কর্মকর্তারা এখন নজরদারি কার্যক্রমে বাড়তি কিছু যুক্ত করতে চাইবেন না। ওয়াশিংটন স্বাভাবিক নজরদারি কার্যক্রমই চালু রাখতে চাইবে। তবে শক্তি প্রয়োগ এড়ানো ও মস্কোর সঙ্গে আরও সরাসরি সংঘাতে যুক্ত হওয়ার ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে তার।    

রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর আগে থেকেই নজরদারির কাজে কৃষ্ণসাগরের আকাশসীমায় রিপার ড্রোন দিয়ে অভিযান চালিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী রুশ জঙ্গি বিমানকে দোষারোপ করলেও রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে ভিন্ন কথা। তাদের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাশিয়ার বিমান কোনো অস্ত্র ব্যবহার করেনি বা ড্রোনটির সংস্পর্শে আসেনি।

মস্কো বলেছে, রাশিয়ার অ্যারোস্পেস ফোর্সেসের নিয়ন্ত্রণকক্ষ ক্রিমিয়া উপদ্বীপের কাছে কৃষ্ণসাগরে একটি মার্কিন এমকিউ–৯ ড্রোন শনাক্ত করে। সেটি রুশ ফেডারেশনের সীমান্ত বরাবর এগোচ্ছিল। ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের জন্য যে অস্থায়ী আকাশপথ তৈরি করা হয়েছে, তা সেটি লঙ্ঘন করছিল। তখন অনুপ্রবেশকারী ড্রোনটিকে চিহ্নিত করার জন্য জঙ্গি বিমান পাঠানো হয়। কিন্তু দ্রুত বাঁক বদল করতে গিয়ে এমকিউ–৯ ড্রোনটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং সাগরে গিয়ে পড়ে।



মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

নয়াদিল্লির ইতিহাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড

প্রকাশ: ০৬:১৪ পিএম, ২৯ মে, ২০২৪


Thumbnail

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির সরকারি আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ভারতের রাজধানীতে বুধবারের (২৯ মে) সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ৫২ দশমিক তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস (১২৬ দশমিক এক ডিগ্রি ফারেনহাইট)। 

ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি) জানিয়েছে, দিল্লি রাজ্যে 'ভয়াবহ মাত্রার তাপদাহ' চলছে।

ভারতের সরকারি আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, নয়াদিল্লির শহরতলীর মুঙ্গেশপুর এলাকায় বুধবার বিকেলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার এই রেকর্ড সৃষ্টি হয়, যা রাজস্থানের মরুভূমির আগের রেকর্ড তাপমাত্রার চেয়ে এক ডিগ্রি বেশি।


নয়াদিল্লি   তাপমাত্রা  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

সৌদিতে নাইটক্লাবের যাত্রা শুরু

প্রকাশ: ০৪:২৫ পিএম, ২৯ মে, ২০২৪


Thumbnail

ধনী নাগরিকদের নৈশজীবন উদযাপনের জন্য প্রথম নাইটক্লাব খুলেছে সৌদি আরব। চলতি মে মাসই রিয়াদের অভিজাত এলাকা জাক্সে উদ্বোধন করা হয়েছে ‘বিস্ট হাউস’ নামের এই নাইটক্লাব। নাইটক্লাবটিতে নারীদের প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়েছে।

ব্যাপক রক্ষণশীল দেশ হিসেবে পরিচিত সৌদি আরবে এক সময় নারীরা প্রায় পুরোপুরি অন্তপুরবাসী ছিলেন। কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ তো দূর, একসময় স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখা, সিনেমা হলে গিয়ে ফিল্ম দেখা এমনকি গাড়ি চালানোরও অনুমতি ছিল না তাদের; কিন্তু দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান ক্ষমতায় আসার পর থেকে এই চিত্র বদলাতে শুরু করে। নারীদের জন্য কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের দরজা খুলে যায়, সেই সঙ্গে অন্যান্য সামাজিক বিধিনিষেধও কেটে যেতে শুরু করে।

সেই সঙ্গে রয়েছে মিউজিক ভেন্যু, একাধিক স্টুডিও, ডাইনিং এরিয়া এমনকি জমজমাট ডিজে পার্টির ব্যবস্থাও। তবে ১৯৫০ সালে দেশজুড়ে মদ নিষিদ্ধের যে আইন জারি করেছিল সৌদির তৎকালীন প্রশাসন, তা এখনও বলবৎ থাকায় বিস্ট হাউসে মদ নিষিদ্ধ। হাউসে আগত অতিথিদের কেবল মকটেল (ফল, মধু/সিরাপ দিয়ে তৈরি একপ্রকার অ্যালকোহলমুক্ত পানীয়) এবং বিভিন্ন অ্যালকোহলমুক্ত পানীয় খেতে পারবেন।

উল্লেখ্য, অনেক দিন ধরে পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে কাজ করছে সৌদি, আমন্ত্রণ জানাচ্ছে বিদেশিদের। তবে এতদিন দেশটিতে বিদেশিদের পার্টির করার কোনো স্থায়ী জায়গা ছিল না। এবার সে অভাব পূরণ হলো। ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মরুর দেশটি চালু করল নাইট ক্লাব।

নাইটক্লাবে আগত সৌদি তরুণী নৌফ ব্রিটিশ দৈনিক ডেইলি মেইলকে উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলেন, ‘এটা একটা নুতন জীবন। আমরা, বিশেষ করে সৌদি নারীরা আবার নতুন করে জন্মাচ্ছি।’


সৌদি   নাইট ক্লাব  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্রিফিংয়ে বেনজীর ও আজিজের দুর্নীতি প্রসঙ্গ

প্রকাশ: ০১:০৮ পিএম, ২৯ মে, ২০২৪


Thumbnail

দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে সম্প্রতি বাংলাদেশের সাবেক সেনাপ্রধান অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল আজিজ আহমেদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আলোচনা হচ্ছে সাবেক পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদের ব্যাপক দুর্নীতি নিয়েও। এবার এই বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার।

মঙ্গলবার (২৮ মে) স্টেট ডিপার্টমেন্টের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পরও জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ ব়্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (ব়্যাব) সদস্যদের নিয়োগ দেওয়া অব্যাহত রাখা প্রসঙ্গে করা এক প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।

স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্রকে প্রশ্ন করা হয়, ডয়েচে ভেলে, সাডেচ সায়েতিং এবং নেত্র নিউজের রিপোর্টে উঠে এসেছে বাংলাদেশের ব়্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (ব়্যাব) বর্তমান এবং সাবেক সদস্যরা নিয়মিতভাবেই জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োগ পাচ্ছেন। চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে যুক্তরাষ্ট্র যেখানে ব়্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, সেই প্রেক্ষাপটে এই বাহিনীর সদস্যদের যেভাবে শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োগ দেওয়া অব্যাহত রয়েছে, সে বিষয়ে আপনারা কতটা উদ্বিগ্ন?

জবাবে ম্যাথিউ মিলার বলেন, এই রিপোর্টগুলো সম্পর্কে আমরা অবগত। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শান্তি নিরাপত্তা নিশ্চিতে শান্তিরক্ষা মিশন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে। জাতিসংঘের যে যথাযথ নীতিমালা রয়েছে, সেটা মেনে শান্তিরক্ষা মিশনে যারা নিয়োগ পাবে, তারা যেন মানবাধিকারের সুরক্ষার পক্ষে থাকে তা নিশ্চিত করাটা জরুরি।

জাতিসংঘের -সংক্রান্ত নীতিমালা অনুসারে সংস্থাটি চায় শান্তিরক্ষা মিশনে যেসব দেশ তাদের পুলিশ এবং সেনাসদস্যদের নিয়োগ দেবে, নিয়োগকৃতরা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জড়িত নয় বলে মন্তব্য করেন এই মুখপাত্র।

অপর এক প্রশ্নে দুর্নীতির অভিযোগে ব্যাপক আলোচিত সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদের কথা উল্লেখ করে এই প্রতিবেদক জানতে চান, বাংলাদেশের সদ্য বিদায়ী পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদের ব্যাপক দুর্নীতির বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুই ধাপে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো এজেন্সি যুক্তরাষ্ট্র কিংবা অন্যকোনো দেশে এই পুলিশপ্রধানের কোনো সম্পদের খোঁজ পেয়েছে কি না? যদি তার সম্পদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কী সেগুলো জব্দ করেছে?

একইভাবে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের বিদেশে সম্পদের কোনো তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে রয়েছে কিনা? অতিসম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র তার ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

জবাবে মিলার বলেন, আপনার প্রথম প্রশ্ন প্রসঙ্গে বলছি, আমার কাছে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে বলার মতো কিছু নেই। দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে- যেসব অভিযোগ এবং মিডিয়া রিপোর্টের তথ্যসমূহ আপনি এখানে তুলে ধরেছেন আমরা সে বিষয়ে অবগত।


বেনজীর   আজিজ  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে প্রস্তুত ফ্রান্স!

প্রকাশ: ১২:১৪ পিএম, ২৯ মে, ২০২৪


Thumbnail

যেকোন ‘উপযোগী মুহূর্তে’ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত ফ্রান্স। মঙ্গলবার (২৮ মে) জার্মানিতে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ।

এসময় ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ফ্রান্সের জন্য কোনো লুকোচুরি নেই, আমি একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত... আমি মনে করি এই স্বীকৃতি একটি কার্যকর মুহূর্তে হতে হবে।’ এছাড়াও ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি যাতে একটি কার্যকর ফলাফল বয়ে আনে তার জন্য রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি।

ইমানুয়েল মাখোঁ রাফাহ পরিস্থিতিকে ভয়াবহ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সংঘাতে আক্রান্ত বেসামরিক নাগরিকদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।’ রাফাহতে ইসরায়েলি অপারেশন অবশ্যই বন্ধ করতে হবে বলেও আহ্বান জানান তিনি।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ফিলিস্তিন বিষয়ে একটি জরুরি সভা ডাকতে জাতিসংঘে অনুরোধ জানিয়েছে আলজেরিয়া। আমরা এতে সমর্থন জানাই। আমরা আলজেরিয়া এবং নিরাপত্তা পরিষদে আমাদের সমস্ত অংশীদারদের সাঙ্গে একটি যৌথ রেজুলেশনে কাজ করছি যা মানবিক জরুরিতা, যুদ্ধবিরতির শর্ত এবং গাজায় জাতিসংঘের একটি স্পষ্ট ম্যান্ডেট প্রকাশ করে।’

এই মুহূর্তে যুদ্ধবিরতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সমস্যার একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানে কাজ করতে প্রস্তুত ফ্রান্স।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে এবং স্পেন আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনকে একটি রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এছাড়া বেলজিয়ামও ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য একটি উপযোগী সময়ের অপেক্ষা করছেন বলে জানিয়েছে দেশটির কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলের হামলায় প্রাণ হারিয়েছে ৪৬ জন। এবং এনিয়ে গত অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় নিহত হয়েছেন ৩৬ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি।


ফ্রান্স   ফিলিস্তিন   স্বীকৃতি  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

রাশিয়ায় পশ্চিমা অস্ত্র আঘাত হানলে পরিণতি হবে গুরুতর: পুতিন

প্রকাশ: ১১:০০ এএম, ২৯ মে, ২০২৪


Thumbnail

ইউক্রেনে রাশিয়ার অভিযান চলছে টানা দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে। এ যুদ্ধে শুরু থেকেই ইউক্রেনকে সামরিক আর্থিক সহায়তা করে আসছে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো।

ইউক্রেনীয় বাহিনী পশ্চিমাদের দেওয়া বিভিন্ন অস্ত্র রাশিয়ার সেনাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে। ইউক্রেন অবশ্য এসব অস্ত্র দিয়ে রাশিয়ার ভেতরেও হামলা চালাতে চায়। এমন অবস্থায় কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

তিনি বলেছেন, পশ্চিমা অস্ত্র রাশিয়ায় আঘাত হানলে তার পরিণতি হবে গুরুতর। বুধবার (২৯ মে) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিয়েভের চাওয়া অনুযায়ী পশ্চিমা দেশগুলো যদি ইউক্রেনকে রাশিয়ার লক্ষ্যবস্তুতে হামলার করতে তাদের অস্ত্র ব্যবহার করার অনুমতি দেয় তাহলে তারগুরুতর পরিণতিভোগ করতে হবে বলে মঙ্গলবার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

এর আগে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছিলেন, রাশিয়ান সামরিক ঘাঁটিগুলোকেঅকার্যকরকরতে ইউক্রেনকে অনুমতি দেওয়া উচিত। মূলত এসব ঘাঁটি থেকেই রুশ সৈন্যরা ইউক্রেনে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে। এদিকে বিশ্বকে যুদ্ধে ক্লান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

এএফপি বলছে, প্রেসিডেন্ট পুতিন এমন এক সময়ে এই মন্তব্য করলেন যখন সামরিক জোট ন্যাটোর কিছু সদস্য দেশের পাশাপাশি জোটের প্রধান জেনস স্টলটেনবার্গ ইউক্রেনকে রাশিয়ার ভূখণ্ডে হামলা চালানোর জন্য পশ্চিমা অস্ত্র ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

উজবেকিস্তান সফরকালে পুতিন বলেন, ‘সংঘাতের এই ক্রমাগত বৃদ্ধি গুরুতর পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারে। ইউরোপে, বিশেষত ছোট দেশগুলোতে, তারা কী নিয়ে খেলছে সে সম্পর্কে তাদের সচেতন হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, এমন অনেক ইউরোপীয় দেশ রয়েছে যারাআয়তনে ছোটএবং সেসব দেশেরঘনবসতিপূর্ণ জনসংখ্যারয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে আঘাত করার কথা বলার আগে এই বাস্তবতাটি তাদের মনে রাখা উচিত, এটি গুরুতর বিষয়।

তিনি আরও বলেন, ইউক্রেনের বাহিনী হামলা চালালেও তার দায়ভার পশ্চিমা অস্ত্র সরবরাহকারীদের ওপরই বর্তাবে।

প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন পশ্চিমা সামরিক প্রশিক্ষকরা ইতোমধ্যেই ইউক্রেনে ভাড়াটে হিসাবে গোপনে কাজ করছে। তবে পশ্চিমা দেশগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের সেনাদের ইউক্রেনে পাঠানোর কোনও পদক্ষেপ নিলে তা সংঘাতের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেবে এবং ইউরোপকে গুরুতর সংঘাতের দিকে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সেটি হবে বৈশ্বিক সংঘাতের দিকেও আরেকটি পদক্ষেপ। পুতিন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘ইউক্রেনের ভূখণ্ডে যারাই থাকুক না কেন আমরা যা প্রয়োজন মনে করব সেটিই করব

এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রধান জোসেপ বোরেল ব্রাসেলসে ইইউ প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠকের পর বলেন, ইউক্রেনে সামরিক প্রশিক্ষক পাঠানোর বিষয়ে ইউরোপীয় দেশগুলো বিভক্ত। এছাড়া জার্মানিসহ অন্য দেশগুলোও এমন পদক্ষেপ নেওয়ার বিরোধিতা করছে। যার ফলে তাদেরকে পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাশিয়ার সাথে সরাসরি সংঘর্ষের কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।


রাশিয়া   পশ্চিমা   পুতিন  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন