ইনসাইড বাংলাদেশ

মাদারীপুরে যাত্রীবাহী বাস খাদে, নিহত বেড়ে ১৯

প্রকাশ: ০১:১০ পিএম, ১৯ মার্চ, ২০২৩


Thumbnail

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার ভাঙ্গা-মাওয়া-ঢাকা এক্সপ্রেসওয়েতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৯ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের পরিচয় জানা যায়নি।

রোববার (১৯ মার্চ) সকাল সোয়া ৮টার দিকে উপজেলার কুতুবপুর এলাকায় খুলনা থেকে ঢাকাগামী ইমাদ পরিবহনের বাস খাদে পড়ে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনার বিষয়ে মাদারীপুর রিজিওনের ডিআইজি সালমা বেগম জানান, আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি বাসটির ওভার স্পিডের কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। অতিরিক্ত গতির কারণে প্রথমে বাসটির ডান পাশের চাকা ফেটে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারায়। পরে এক্সপ্রেসওয়ের ১০০ মিটার উঁচু থেকে উড়ে এসে নিচের সার্ভিস লেনের ব্রিজে সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনায় বাসটি দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে এখন পর্যন্ত নারীসহ ১৯ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩০ জন। এদিকে, দুর্ঘটনা কবলিত বাসটি সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। এ ঘটনায় হাইওয়ে পুলিশ তদন্ত করবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিবচর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু নাঈম মো. মোফাজ্জেল হক। তিনি বলেন, রোববার (১৯ মার্চ) সকালে একটি যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে যায়। এ দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে ১৪ জন নিহত হয়। আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও ৫ জন মারা যান। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ জনে।

নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি। 


সড়ক-দুর্ঘটনা   মৃত্যু   মাদারীপুর  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

কুড়িগ্রামে বিপদসীমার উপরে তিস্তার পানি, তীব্র হচ্ছে নদী ভাঙ্গন

প্রকাশ: ০৯:১৭ এএম, ২০ জুন, ২০২৪


Thumbnail

বৃষ্টি ও উজানের ঢলে কুড়িগ্রামের তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে কাউনিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ১৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে করে তীব্র হয়ে উঠেছে নদী ভাঙ্গন। ভাঙ্গনের কবলে পড়ে ঘর-বাড়ি ও ফসল সরিয়ে নিচ্ছেন স্থানীয়রা। হুমকীকে পড়েছে নদীর তীর রক্ষা স্পারসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি। 

 

দেখা গেছে, তীব্র স্রোতে বইছে তিস্তা। স্রোতের তোরে ভাঙ্গছে পাড়। ভাঙ্গনের কবলে পড়ে ঘর-বাড়ি ও ক্ষেতের ফসল সরিয়ে নিচ্ছেন ভুক্তভোগীরা। দেবে গেছে তীর রক্ষা স্পারের পাশে ফেলা জিওব্যাগ।

 

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়ের কালিরমেলা এলাকায় তিস্তার ভাঙ্গনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নদী পাড়ের মানুষজন। তিস্তার পানি বাড়ায় এমন দৃশ্য রাজারহাটের ঘড়িয়াল ডাঙ্গা ইউনিয়নের খিতাবখা, বুড়িরহাটসহ উলিপুর উপজেলার বিভিন্ন ভাঙ্গন কবলিত এলাকার। 

 

ভাঙ্গন কবলিতরা জানান, বার বার পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ জনপ্রতিনিধিদের জানালেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। পানি বাড়ার সাথে সাথে তীব্র ভাঙ্গনে ভেসে গেছে কারো ঘর আবার কেউ কেউ সরিয়ে নিচ্ছেন তাদের ঘর-বাড়িসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র।

 

রাজারহাটের কালিরমেলা এলাকার তিস্তা পাড়ের কুদ্দুস আলী জানান, মঙ্গলবার রাত থেকে তিস্তার তীব্র ভাঙ্গনে আমার একটি ঘর নদীতে চলে গেছে। রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। বাকী ঘর সরিয়ে নিচ্ছি কিন্তু যাওযার কোন জায়গা নেই। 

 

একই এলাকার সবুজ জানান, বাড়ির গাছপালা ঘর সব সরিয়ে নিচ্ছি। না সরালে রাতেই সব সব নদীতে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পানি উন্নযন বোর্ড গত বছর কিছু জিওব্যাগ ফেলেছিল কিন্তু সেগুলো পানির স্রোতে ভেসে গিয়ে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সরকার নদীর কাজ না করায় আমাদের এ অবস্থা।

 

রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম জানান, ‘তিস্তার পানি বাড়ায় আমার ইউনিয়নের অসংখ্য ঘর-বাড়ি, ফসলি জমি নদীতে চলে গেছে। অনেকে ঘর-বাড়ি সরিয়ে নিচ্ছে।’

 

তিস্তার ভাঙ্গনে অসহায়ত্বের কথা স্বীকার করে হুমকীকে থাকা ঘর-বাড়ি, ফসলী জমিসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রক্ষায় সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও সংসদ সদস্যকে অবগত করার কথা জানান ইউপি চেয়ারম্যান।

 

স্থানীয়রা জানান, গত একমাসে রাজারহাটের বিদ্যানন্দ ও ঘড়িয়াল ডাঙ্গা ইউনিয়নের তিস্তার ভাঙ্গন বিলীন হয়েছে প্রায় শতাধিক ঘর-বাড়ি।

 

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, তিস্তার ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে জরুরী ভিত্তিতে ভাঙ্গন রোধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশা তিস্তার স্থায়ী ভাঙ্গন রোধে চলমান সমীক্ষা শেষ হবে কাজ করা হবে।

এছাড়াও উজানের ঢল ও স্থানীয়ভাবে ভারী বৃষ্টি পাতের ফলে জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত দুধকুমারের পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমা দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বেড়েছে ধরলা, ব্রহ্মপুত্রসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানিও।


বন্যা   উজান   নদী ভাঙ্গন   তিস্তার পানি   বিপদসীমা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

সিলেট অঞ্চলে বন্যা: পানিবন্দি সাড়ে ১৩ লাখ মানুষ

প্রকাশ: ০৮:১২ এএম, ২০ জুন, ২০২৪


Thumbnail

বিরামহীন প্রবল বৃষ্টিপাত পাহাড়ি ঢলে সিলেট অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সুরমা, কুশিয়ারা, সারি নদীর পানি টি পয়েন্টে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে সুরমা কুশয়ারা অববাহিকার অন্তত সাড়ে ১৩ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তাদের মধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন অন্তত ৩০ হাজার মানুষ৷ সিলেট সুনামগঞ্জ শহরের অর্ধেকের বেশি বাসা-বাড়ির নিচতলা পানিতে তলিয়ে গেছে।  

শহর থেকে শুরু করে গ্রাম সর্বত্রই পানি। ঈদুল আজহার আগের রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি থামছেই না। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সিলেট অঞ্চলে আরও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে ২০২২ সালের বন্যার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে বলে আশংকা করছে এলাকাবাসী।

সিলেট জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সিলেটের ১৩ উপজেলায় লাখ, সুনামগঞ্জের উপজেলায় সাড়ে চার লাখ ও হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজারসহ অন্যান্য এলাকায় লাখ মিলে সাড়ে ১৩ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

পানিবন্দি এলাকার মানুষজন নিরুপায় হয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে যাচ্ছেন। বন্যা দুর্গত এলাকায় চরম জনদুর্ভোগ বিরাজ করছে। সেখানে বিশুদ্ধ খাবার পানি খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে।  

সিলেট সিটিতে অর্ধলক্ষ মানুষ পানিবন্দি:

সিলেট মহানগরীর ২১ টি ওয়ার্ডে অর্ধলক্ষ মানুষ এখন পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সিলেট জেলা মহানগর মিলিয়ে ৬২৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এর মধ্যে মহানগরে ৮০টি। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ১৭ হাজার ২৮৫ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। সিলেট মহানগরের শাহজালাল উপশহর, যতরপুর, মেন্দিবাগ, শিবগঞ্জ, রায়নগর, সোবহানীঘাট, কালিঘাট, কামালগড়, মাছিমপুর, তালতলা, জামতলা, কাজিরবাজার, মাদিনা মার্কেট, আখালিয়া, মেজরটিলা দক্ষিণ সুরমার লাউয়াই, বরইকান্দি, আলমপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় অনেকের বাসাবাড়িতে গলা  পর্যন্ত পানি। নিচু এলাকার বাসা-বাড়ি প্রায় পুরোটাই তলিয়ে গেছে বন্যার পানিতে।  গত ২৭ মে সিলেটে আগাম বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ঈদের দিন ভোররাত থেকে সিলেটে শুরু হয় ভারী বর্ষণ। সঙ্গে নামে পাহাড়ি ঢল। ফলে হু হু করে বাড়তে থাকে সিলেটের সব নদ-নদীর পানি।

সিলেট সদর, গোয়াইনঘাট, কোমপানীগঞ্জ জৈন্তাপুরসহ কয়েকটি উপজেলার রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অনেক কৃষিজমির ফসল তলিয়ে গেছে, ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। দুর্যোগ ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. মুহিবুর রহমান এমপি সিলেটের বন্যার্তদের জন্য তাৎক্ষনিকভাবে নগদ ১০ লাখ টাকা, ১০০ টন চাল, হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার ত্রাণ সহায়তা প্রদান করেছেন।

সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় প্রধান প্রধান পর্যটনকেন্দ্রগুলো দ্বিতীয় দফায় বন্ধ ঘোষণা করা হয় মঙ্গলবার দুপুরে। এর আগে গত ৩০ মে বন্যা পরিস্থিতির কারণে পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরে অবস্থার উন্নতি হলে ঈদকে সামনে রেখে পর্যটন কেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়া হয়।

সুনামগঞ্জে বন্যা: এদিকে সুনামগঞ্জ জেলা শহরের বিভিন্ন সড়কসহ অর্ধেকের বেশি বাড়ি পানিতে ডুবে গেছে। বুধবার বিকালে বৃষ্টি থামলেও সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি নেই। অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ে গেছেন। আবার অনেকেই ঘরের খাট-পালং উঁচু করে পানির মধ্যেই বসবাস করছেন। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকেছে। মধ্য বাজারে হাঁটু পানি। বাধন পাড়া, উকিল পাড়া, বড় পাড়া, সোমপাড়া, হাসন্নগর, ষোলঘর, নবীনগরসহ বহু এলাকা পানিতে নিমজ্জমান। জেলার মধ্যনগর, ছাতক, দোয়ারা, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর সদর উপজেলার অবস্থা ভয়াবহ।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে।  সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরী জানিয়েছেন, বন্যা মোকাবিলায় সুনামগঞ্জ জেলায় ৫১৬টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

হবিগঞ্জ: হবিগঞ্জে খোয়াই নদীতে বাঁধে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। বুধবার দুপুরে শহরতলীর জালালাবাদে নদীর বাঁধে হঠাৎ ভাঙ্গন দেখা দেয়। ফলে প্রবল বেগে নদীর পানি জালালাবাদসহ আশপাশের এলাকায় প্রবেশ করছে। এদিকে সকাল থেকেই খোয়াই, কুশিয়ারা, কালনী নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বড়লেখা (মৌলভীবাজার): হাকালুকি হাওরের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। বড়লেখা উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ২৫২ গ্রাম বন্যা কবলিত। ডুবে গেছে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ফসলের মাঠ। এতে প্রায় লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

নেত্রকোণা: প্রধান প্রধান নদীর পানি দ্রুত বেগে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইতিমধ্যে কলমাকান্দা উপজেলার উপদাখালি নদীর পানি বিপদসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কলমাকান্দার গুরুত্বপূর্ণ মনতলা সড়ক তলিয়ে গেছে।

এদিকে, টানা ভারী বর্ষণ পাহাড়ি ঢলে উত্তরাঞ্চলের নদ-নদীর পানি বাড়ছে। কয়েকটি স্থানে তিস্তাসহ প্রধান নদ-নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী কয়েক দিন অবিরাম বর্ষণের সম্ভাবনা থাকায় রংপুর, নীলফামারী, গাইবান্ধা কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কা করা হচ্ছে।


সিলেট   সুনামগঞ্জ   বন্যা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

পালিয়ে যাইনি, শনিবার দেশে আসছি: আছাদুজ্জামান মিয়া

প্রকাশ: ১০:২১ পিএম, ১৯ জুন, ২০২৪


Thumbnail

অবৈধভাবে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার তথ্য দিয়ে গণমাধ্যমে যেসব খবর প্রকাশিত হয়েছে তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। তিনি বলেছেন, আমেরিকা পালিয়ে যাননি, হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য তিনি সিঙ্গাপুর গেছেন। ২২ জুন ফিরবেন দেশে ফিরবেন।

বুধবার (১৯ জুন) দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, আমি অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি দুই-একটি মিডিয়া খবর প্রকাশ করেছে যে, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পরে আমি সস্ত্রীক বিদেশে পালিয়ে এসেছি- যা মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মূলত হৃদ্‌রোগের চিকিৎসার জন্য, ডাক্তারের পূর্ব-নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আমি চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে এসেছি। চিকিৎসা শেষে আমি আগামী ২২ তারিখে দেশে ফিরব, ইনশাআল্লাহ।

নিজের নামে বিপুল সম্পদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার সকল সম্পদ বৈধ আয়ে উপার্জিত অর্থ দিয়ে কেনা। বাবার একমাত্র সন্তান হিসাবে পারিবারিকভাবে বেশ কিছু সম্পদও পেয়েছি। সেসবের কিছু বিক্রি করে নতুন করে সম্পদ কেনা হয়েছে। সে সব আয়কর নথিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। আমার ছেলে একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে বড় পদে আছেন এবং ছেলের বউ একটি বিদেশি ব্যাংকে চাকরি করেন। তার মেয়ে এবং জামাতা চিকিৎসক। তাদেরও সম্পদ কেনার যোগ্যতা আছে।

সবশেষে ডিএমপির সাবেক এ কমিশনার বলেন, আমি সম্মানিত মিডিয়াকর্মী ভাইদের কাছে অনুরোধ করব, আমার এবং আমার পরিবারের সম্মান ক্ষুণ্ন হয় এই ধরনের মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন অপপ্রচার থেকে সবাই বিরত থাকবেন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি আছাদুজ্জামান ও তার পরিবারের বিপুল পরিমাণ সম্পদের খবর প্রকাশ পায়। এরপরই দেশজুড়ে শুরু হয় নানা আলোচনা-সমালোচনা। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ঈদুল আজহার ছুটি শেষে তার সম্পদের বিষয়ে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করতে পারে।

আছাদুজ্জামান মিয়া ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ডিএমপি কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তাকে জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত সেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দেয় সরকার। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়।

আছাদুজ্জামান মিয়া   দুর্নীতি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

বেনজীরের বিরুদ্ধে জারি হতে পারে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

প্রকাশ: ০৯:০০ পিএম, ১৯ জুন, ২০২৪


Thumbnail

বেনজীর আহমেদকে গত ৬ জুন দুর্নীতি দমন কমিশন তলব করেছিল। সরজমিনে তার বক্তব্য এবং তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ গুলোর ব্যাপারে তার আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল বেনজীর আহমেদকে। কিন্তু বেনজীর আহমেদ এদিন হাজির হননি। ৮ জুনের আগেই তার আইনজীবীর মাধ্যমে ১৫ দিনের সময় প্রার্থনা করেছিলেন সাবেক পুলিশপ্রধান। তবে দুর্নীতি দমন কমিশন তাকে আবার ২৩ জুন তলব করেছে। আগামী রোববার দুর্নীতি দমন কমিশনে হাজির হতেই হবে বেনজীর আহমেদকে। যদিও ঐদিন তিনি হাজিরা দিতে ব্যর্থ হন তাহলে দুর্নীতি দমন কমিশন তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করবে বলে জানা গেছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের আইন অনুযায়ী এরপর তারা বেনজীর আহমেদকে হাজির করার জন্য আদালতের কাছে আবেদন করবেন এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির জন্যও আবেদন করা হবে। 

উল্লেখ্য যে, বেনজীর আহমেদের ব্যাপক দুর্নীতি এবং অনিয়মের তথ্যাদি নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন অনুসন্ধান করেছে। দেশের সর্বোচ্চ আদালত দুদককে এই তদন্ত করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেছিল। তদন্ত করতে চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন বেনজীর আহমেদের বিপুল সম্পদের তথ্য প্রাথমিকভাবে পায় এবং এই প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন আদালতের শরণাপন্ন হয়। আদালতের কাছে দুই দফায় দুর্নীতি দমন কমিশন বেনজীরের বিপুল সম্পদ ক্রোক করার অনুমতি প্রার্থনা করে। দুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে বেনজীরের বিপুল সম্পদ এখন পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। 

অবশ্য এ সব ঘটনার আগেই বেনজীর আহমেদ দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। তিনি এখন কোথায় অবস্থান করছে তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। কোন কোন মহল বলছেন, তিনি দুবাই অবস্থান করছেন। কারও কারও মতে, তিনি তুরস্কে অবস্থান করছেন। বেনজীর আহমেদ তার স্ত্রীকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে গেছেন বলেও কোনো কোনো গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে তার সঠিক অবস্থান সম্পর্কে সুনিশ্চিত ভাবে কোন তথ্য কেউ দিতে পারেনি। তবে বিদেশে থেকেও বেনজীর আহমেদ তার ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে ঢাকায় যোগাযোগ করেছেন এবং তার আইনি প্রক্রিয়া নিয়েও তিনি কথা বলছেন। 

একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে, আপাতত বেনজীর আহমেদের দেশে ফেরার সম্ভাবনা নেই। দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে, হয়রানির শিকার হতে পারেন- এই কারণেই বেনজীর হয়তো দেশে ফিরবেন না। 

একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, বেনজীর আহমেদ ইতোমধ্যে তুরস্কের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন এবং সেখানকার পাসপোর্ট নিয়ে তিনি বিদেশে অবস্থান করছেন। সেটি যদি সত্যি হয় তাহলে বেনজীর আহমেদের আপাতত দেশে ফেরার কোন সম্ভাবনা নেই। আর সে ক্ষেত্রে বেনজীর আহমেদের মামলার আইনি প্রক্রিয়া কী হবে সে সম্পর্কে আইনজীবীরা বলছেন যে, যদি দুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদনে সাড়া না দিয়ে বেনজীর বিদেশে অবস্থান করেন, তাহলে দুদকের আইন খুবই পরিষ্কার। এক্ষেত্রে দুর্নীতি দমন কমিশন প্রথমে তাকে গ্রেপ্তার করার জন্য আবেদন করবেন। এরপর তাকে ফেরারি ঘোষণা করা হবে। এই অবস্থায় দুর্নীতি দমন কমিশন তার বিরুদ্ধে মামলাকে এগিয়ে নেবে। 

দুর্নীতি দমন কমিশনের আইন অনুযায়ী একজন আসামি যদি অনুপস্থিত থাকে তাহলে তার অনুপস্থিততে বিচারে আইনগত কোন বাঁধা নেই। সে ক্ষেত্রে বেনজীর আহমেদ পালিয়ে থাকলেও তার বিচার বাঁধাগ্রস্ত হবে না। বরং এক্ষেত্রে বিচার আরও দ্রুত নিষ্পত্তি হবে। আর এ কারণেই দুদকের মামলায় পালিয়ে থাকার চেয়ে আত্মসমর্পণ করাই সঠিক বলে অনেকে মনে করেন। তবে বেনজীর আহমেদ কি করবেন সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত তাকেই নিতে হবে। তবে এখন পর্যন্ত সে সমস্ত মনোভাব দেখা যাচ্ছে তাতে আগামী ২৩ জুন তার ফিরে আসার সম্ভাবনা খুবই কম।

বেনজীর আহমেদ   দুর্নীতি দমন কমিশন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের শেষ কোথায়?

প্রকাশ: ০৮:০০ পিএম, ১৯ জুন, ২০২৪


Thumbnail

আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিলেও সরকার এখন প্রচ্ছন্ন ভাবে একটি দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চালাচ্ছে। বিশেষ করে সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের সাঁড়াশি অভিযান জনমনে কিছুটা হলেও স্বস্তি দিচ্ছে। এর মধ্যে আরেকজন পুলিশ কর্মকর্তার দুর্নীতি কেচ্ছা কাহিনী গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তিনিও বিদেশে অবস্থান করছেন। তবে জানা গেছে, আগামী ২১ জুন তার দেশে ফেরার কথা। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন কি ধরনের ব্যবস্থা নেয় তা অধীর আগ্রহে দেখার অপেক্ষায় রয়েছে দেশবাসী। 

তবে সাধারণ মানুষ মনে করছে যে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান গ্রহণ করতে হবে। দুর্নীতির যে সংস্কৃতি, সেই সংস্কৃতি থেকে দেশকে বের করে আনতে হবে। একজন ক্যাডার কর্মকর্তা শুধুমাত্র দুর্নীতি করার জন্য নন-ক্যাডার সাব রেজিস্ট্রার পদে চাকরি গ্রহণ করেন। এই ধরনের ঘটনাগুলো কেন ঘটছে, কিভাবে ঘটছে তা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। শুধুমাত্র সরকার একা দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে জয়ী হতে পারবে না বলে মনে করছে সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে যখন দুর্নীতি, তখন কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করলেই দুর্নীতি বন্ধ হবে কি না তা নিয়ে জনমনে সংশয় রয়েছে। 

অবশ্য এর উল্টো পিঠও রয়েছে। বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে যদি শেষ পর্যন্ত সত্যি সত্যি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় তাহলে সেটি একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে উপস্থিত হবে। সাধারণ মানুষ মনে করবে যে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে শাস্তি হয়। এমনকি যারা দুর্নীতিবাজ তারা মনে করবেন যে, এখন যত ক্ষমতাবানই থাকি না কেন একদিন না একদিন বিচারের আওতায় আসতে হবে। এটি একটি ইতিবাচক মনোভাব। কিন্তু সমাজের ভেতর যে উৎকট প্রতিযোগিতা এবং যে কোন মূল্যে ধনী হওয়ার মানসিকতা সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে এবং সেটি করার জন্য আমাদের মনোজগতের পরিবর্তন দরকার।

গত এক দশকে প্রশাসনের মধ্যে বিশেষ করে যারা সরকারি চাকরিতে আছেন, তাদের মধ্যে দুর্নীতির প্রবণতা মারাত্মক ভাবে বেড়ে গেছে। প্রশাসনের ছোটখাটো পুঁচকে কর্মকর্তারও যে পরিমাণ সম্পদ এবং বিত্ত বৈভব তৈরি হচ্ছে তা অসহনীয়। বিশেষ করে আমলা এবং পুলিশ প্রশাসনের দুর্নীতির বিভিন্ন কাহিনী মাঝে মাঝে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। সমস্যা হল যে যখন একটি দুর্নীতির খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় তখনই তার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়। তার আগে এই সমস্ত দুর্নীতিবাজদেরকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার কোনো কার্যকর ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত নেই। উপরন্তু একজন দুর্দান্ত প্রভাবশালী ক্ষমতাবান ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতির খবর লিখতে ভয় পান অনেকেই।

বেনজীর আহমেদের দুর্নীতির অপকীর্তির কথা সকলেই জানত। কিন্তু অবসর গ্রহণে আগে তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস পায়নি। এ রকম বহু ব্যক্তি আছেন যারা নির্বিচারে দুর্নীতি করে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কেউ লিখতে বা বলতে সাহস পাচ্ছে না। হয়ত আমাদের ভেতর একটা ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে এ কারণেই। আর এই সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুধুমাত্র আইন প্রয়োগ বা দুর্নীতিবাজদেরকে শাস্তির আওতায় আনা যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ। এর জন্য আমাদের রাষ্ট্র সমাজ কাঠামোতে পরিবর্তন প্রয়োজন। একটা দুর্নীতি মনস্ক সমাজ এবং রাষ্ট্র কাঠামো তৈরি হয়েছে আমাদের অলক্ষ্যে। যে কারণে সবাই দুর্নীতির মাধ্যমে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছেন, অনেক ধনী হতে চাইছেন। অনেকে অর্থের নেশায় মত্ত হয়ে উঠছেন। এই মানসিকতার পরিবর্তনের জন্য দরকার একটি সামাজিক আন্দোলন। আর সেই সামাজিক আন্দোলন কিভাবে গড়ে উঠবে, সেই সামাজিক আন্দোলনকে কোন পরিণতির দিকে নিয়ে যাওয়া হবে সেটিই হলো সবচেয়ে বড় দেখার বিষয়।


দুর্নীতিবিরোধী অভিযান   বেনজীর আহমেদ  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন