ইনসাইড থট

শেখ হাসিনাকে রাজনীতিতে আসতে বাধাগ্রস্ত করছিলেন যারা!


Thumbnail শেখ হাসিনাকে রাজনীতিতে আসতে বাধাগ্রস্ত করছিলেন যারা!

আজ যাঁর নেতৃত্বগুণে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের মর্যাদায় বাংলাদেশ বিশ্বের রোল মডেল, সেই শেখ হাসিনাকে শুরুতেই রাজনীতিতে আসতে বাধাগ্রস্ত করছিল, কিছু সংবাদপত্র ও   সাংবাদিক। তারা সামরিক শাসক জেনারেল জিয়াউর রহমানের তল্পিতল্পা হয়ে উঠেছিলেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দিল্লিতে থাকাকালীন আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং স্বদেশে ফেরার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তখনই রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংবাদপত্রে নেতিবাচক প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়।

উল্লেখ্য বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ১৯৭৫ সালের ২৯ জুলাই পুত্রকন্যা ও ছোটবোন শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে বেড়াতে গিয়েছিলেন পশ্চিম জার্মানিতে। স্বামী পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার কাছে। শেখ হাসিনার ভাষায় আর এর ১৫ দিনের ব্যবধানে নেমে আসে বিষাদবেদনার খবর। মা-বাবা, ভাই-ভাবী, ছোট্ট আদুরে ভাই রাসেলসহ আত্মীয় পরিজন হারানোর খবর। ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডকে শেখ হাসিনা বর্ণনা করেছেন “রোজকেয়ামত” হিসেবে। কিন্তু তিনি যখন স্বদেশে ফিরে আসেন, তখন তাঁর কেড়ে নেয়া হলো নিজ বাড়িতে থাকার অধিকার। অর্থাৎ ধানমন্ডির বত্রিশ নম্বর সড়কের ৬৭৭ নম্বরের বঙ্গবন্ধুর বাড়িটির সরকারের নিয়ন্ত্রণেই থাকলো। কিন্তু এর দুই সপ্তাহের ব্যবধানে জেনারেল জিয়া  এক ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানে নিহত হন। উপরাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্বগ্রহণের পর ১২ জুন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে বাড়িটি বুঝিয়ে দেন। 

 জেনারেল জিয়াউর রহমানের শাসনামলে শেষপ্রান্তে সারাদেশের আর্থসামাজিক রাজনৈতিক অস্থিরতা সর্বোপরি চরম নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির মুখে বাংলাদেশে পা রেখেছিলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। ১৯৮১ সালের ১৭ মে স্বদেশে ফেরেন মাত্র ৩৩ বছর বয়স যখন। ফেরার পরপরই শুরু হয় নানা ষড়যন্ত্র চক্রান্ত। এতে সরকারি মালিকানাধীন সংবাদ মাধ্যম ছাড়াও ব্যক্তিমালিকানাধীন অনেক পত্রিকা জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর নানাবিধ অপপ্রচার শুরু করে দেয়। শেখ হাসিনার স্বদেশে ফেরাকে বাধাগ্রস্ত করতে নানামুখী অপপ্রচার উল্লেখযোগ্য ঘটনা। সরকারি মালিকানাধীন সাপ্তাহিক বিচিত্রার সম্পাদক হিসাবে দেশবরেণ্য কবি শামসুর রাহমানের নাম ছাপা হলেও ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসাবে শাহাদাত চৌধুরী কলকাঠি নাড়েন। তিনি মাহফুজ উল্লাহকে নয়াদিল্লিতে প্রেরণ করেন। ঢাকায় বসে মাহফুজ উল্লাহর তথ্যউপাত্তের ভিত্তিতে আহমেদ নূরে আলম, শেহাব আহমেদ ও জগলুল আলম বিভিন্ন রিপোর্ট প্রকাশ করেন।

“আওয়ামী লীগের প্রবাসী নেতৃত্ব ভারতের রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছি”-শিরোনামে সাপ্তাহিক বিচিত্রা প্রচ্ছদ প্রতিবেদন প্রকাশ করে ১৯৮১ সালের ১৩ মার্চ সংখ্যায়। ভারতের আনন্দ বাজার পত্রিকার একটি সম্পাদকীয় থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে-  তার আগে চার মার্চ এক প্রতিবেদনের শিরোনাম দেয় “শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করেই ভারত এখন স্বপ্ন দেখে”। প্রতিবেদনে বলা হয়, অকৃতজ্ঞ বাংলাদেশকে শিক্ষা দেয়ার জন্যই বাংলাদেশের সঙ্গে কঠোর ব্যবহার করবে। কেননা এই বাংলাদেশি জাতি ভারতের অবদান ও বন্ধুত্বকে ভুলে গেছে। ভারতের মস্কোপন্থী কমিউনিস্ট পার্টির দৈনিক প্যাট্রিয়টের একটি প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ন্যাপ ও কমিউনিস্ট পার্টির সমন্বয়ে গঠিত বাকশালের আদর্শ উদ্দেশ্যকেই গুরুত্ব দিচ্ছে আওয়ামী লীগ।

শেখ হাসিনা ও তাঁর স্বামী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি করারও জন্য এক প্রতিবেদনে লেখা হয়, “কিন্তু স্ত্রীর নতুন পরিচয় তাঁর জন্য সুখকর নয়”। যেমন করেই হোক তিনি রাজনীতির সঙ্গে নিজেকে জড়াতে চান না, ফিরেও আসতে চান না দেশে। কেননা যোগ্যতার মাপকাঠিতে চাকুরী একটা মিলবে অন্য কোথাও। তাঁর (ড. ওয়াজেদের) দুঃখ অন্যত্র। এক সময় সবাই বলতো বঙ্গবন্ধুর জামাই, আর এখন বলবে হাসিনার স্বামী।

বিচিত্রায় লেখা হয়, ভারতের সরকারের আশ্রয়ে শেখ হাসিনা অবস্থান করলেও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হওয়ার প্রেক্ষাপটে ভারত তাকে ও তার দলকে সমর্থন করছে না। দিল্লির পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে, বিশেষ করে যখন পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক উন্নয়ন হচ্ছে এবং মিসেস ইন্দিরা গান্ধী অভ্যন্তরীণ প্রতিকূল অবস্থার সম্মুখীন, তখন তিনি নতুন রাজনৈতিক ঝুঁকি নিতে রাজী নন। এছাড়া মিসেস গান্ধী নাকি মনে করেন, আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব সমর্থন পাবার মতো সঠিক অবস্থানে নেই। শুধু তাই নয়, শেখ হাসিনা নাকি ভারতে বসে বাংলাদেশ বিরোধী প্রচারণা করছেন এমন প্রশ্ন পর্যন্ত উত্থাপন করা হয় বিচিত্রায়।

আওয়ামী লীগের ভবিষ্যত নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে বিচিত্রায় বলা হয়, “শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের ভগ্নতরী ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ কাউন্সিল সমুদ্র জোড়াতালি দিয়ে পার হতে পেরেছে।” পেরেছে ভাঙ্গনকে সাময়িকভাবে ঠেকিয়ে রাখতে, কিন্তু অসমস্বত্ব মিশ্রণের এই ঐক্য কতদিন টিকবে সে সম্পর্কে আশাবাদ ব্যক্ত করা কঠিন। প্রতিটি কর্মতৎপরতা ও বক্তব্যে নেতাদের পরস্পরের প্রতি দেখা যাচ্ছে সন্দেহ ও অবিশ্বাস। আওয়ামী লীগের ডাকে সাড়া দিতে দলের সমর্থক কর্মীরাই এখন বাধাগ্রস্ত। তাদের এই নির্লিপ্ততা নেতাদের প্রথম হতাশাপীড়িত করে তুলছে। কাজেই আগামী দিনগুলোতে ঘটনাজাল আবার কোনদিকে মোড় নেবে তা হয়ে উঠেছে একরকম অনিশ্চিত।”

তৎকালীন জিয়া সরকার শেখ হাসিনা যাতে রাজনীতিতে না আসেন এবং আওয়ামী লীগ যাতে খন্ড বিখন্ড হয়ে নিঃশেষ হয়ে যায়, সেই পরিকল্পনা থেকেই কতিপয় সাংবাদিককে ব্যবহার করেন। কিন্তু শেখ হাসিনা সকল বাঁধা অতিক্রম করে ১৯৮১ সালের ১৭ মে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করে আওয়ামী লীগের সরাসরি নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।

শেখ দেশে ফিরে টুঙ্গিপাড়ায় সমাহিত জাতির পিতার কবরের পাশে এক সপ্তাহ কাটিয়ে ২৯ মে হযরত শাহজালাল ও হযরত শাহপরানের মাজার জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সিলেট গমন করেন। ওদিন সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম রাজনৈতিক সমাবেশ করেন। একদিকে ঝড়বৃষ্টির অঝর ধারা আরেকদিকে মনের মাঝে পিতামাতা ভাইসহ স্বজনহারানোর বেদনার অশ্রুধারাকে সাথী করে শেখ হাসিনার বাংলাদেশের উৎকট রাজনৈতিক ময়দানে চলা শুরু হয়। দৈনিক ইত্তেফাকের রিপোর্টে বলা হয় শেখ হাসিনার ওই জনসভায় অন্তত তিন লাখ লোকের সমাগম ঘটেছিলো। শেখ হাসিনা ২৯ মে’র ওই সিলেট সমাবেশে বলেন, “ছয় বছর পর দেশে এসে যা দেখতে পাচ্ছি তা উদ্বেগজনক। অর্থনীতি দেউলিয়া, আইনশৃঙ্খলা বলতে কিছু নেই। দেশে সরকার আছে কিনা তা বলা মুশকিল। সার্বিক নৈরাজ্যকর অবস্থায় জনগণের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। আন্দোলন ছাড়া আর পথ নেই। একমাত্র বৃহত্তর আন্দোলনের মাধ্যমেই জনগণকে বর্তমান অবস্থা থেকে মুক্ত করা সম্ভব। শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের ইতিহাস আন্দোলনের ইতিহাস। দেশের সংকটাবস্থায় অতীতে কখনও আওয়ামী লীগ বসে থাকেনি। এখনও বসে থাকবে না। অচিরেই জনগণকে সাথে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে। জনগণের মুক্তির লক্ষ্যে বাকশাল কর্মসূচি বাস্তবায়নই আন্দোলনের লক্ষ্য।

বাংলাদেশের জনগণ বঙ্গবন্ধু ও অন্যান্য নেতার হত্যার প্রতিশোধ নেবে। আর হত্যার রাজনীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। আমি পিতার অসমাপ্ত কাজ দ্বিতীয় বিপ্লব সম্পন্ন করার জন্য আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে দেশে ফিরেছি। দোয়া ও সমর্থন চেয়ে শেখ হাসিনা বলেন, যদি জনগণের মুক্তি আনতে না পারি, আমি যদি ব্যর্থ হই, তবে পিতার কাছেই চলে যাবো। (দৈনিক সংবাদ, ৩০ মে ১৯৮১) ২৯ মে শেখ হাসিনা হযরত শাহজালালের মাজার জিয়াররতের মাধ্যমে সিলেটে প্রথম রাজনৈতিক সমাবেশে- “দেশে হত্যার রাজনীতির অবসান ঘটাতে হবে।”

পরের দিন ৩০ মে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নেমে আসে আরেকটি মহাবিপর্যয়। চট্রগ্রাম সার্কিট হাউজে রাষ্ট্রপতি মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান এক সেনা অভ্যুত্থানে নিহত হন।জরুরি অবস্থা জারি

জেনারেল জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর তৎকালীন উপরাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসাবে শাসনভার গ্রহণ করে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেন। এমন অবস্থায় ৪ জুন আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডকে পঁচাত্তরের পনেরই আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিজন এবং ৩ নভেম্বর কারারুদ্ধ চার নেতা হত্যার জঘন্য ও কলঙ্কময় অধ্যায়ে আরেকটি দুঃখজনক ঘটনার সংযোজন বলে উল্লেখ করা হয়। বিদেশী শক্তি ও তাদের দেশীয় এজেন্টদের দ্বারা হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে ক্ষমতাদখল বা দখলের প্রচেষ্টা জাতির জন্য বিষময় ফল ডেকে আনে, এ পরিণতির প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এরূপ জঘন্য অপরাধী যাতে বিচারের হাত থেকে রেহাই না পায়, সেজন্য সমগ্র জাতিকে সংকল্পবদ্ধ হতে হবে। (সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক, ৫ জুন)। 

বৈঠকে এই মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, “বিরাজমান পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ও বর্তমান সীমিত গণতান্ত্রিক বিধিব্যবস্থা নস্যাতের যে কোন চক্রান্তের ব্যাপারে সোচ্চার থাকবে আওয়ামী লীগ”। প্রস্তাবে বলা হয়, সশস্ত্র বাহিনীকে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যবহার করা উচিত নয়। প্রয়োজনবোধে সর্বশক্তি দিয়ে গনবিরোধী ও স্বাধীনতাবিরোধী শক্রিসমুহের তৎপরতা ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহবান জানান শেখ হাসিনা। অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তারের শাসনামলের শুরুতে ১২ জুন ’৮১ বত্রিশ নম্বরের বাড়িটি বুঝে পান শেখ হাসিনা।


শেখ হাসিনা   রাজনীতি   বাধাগ্রস্ত  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই দেশে আবার শান্তি ফিরে আসবে


Thumbnail

১৭ জুলাই জাতির উদ্দেশ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য খুব গভীর মনোযোগ দিয়ে শুনলাম। এই বক্তব্য শুনার সময় আমার ৭০’এর শেষের দিকের তৎকালীন ব্রিটিশ রানী এলিজাবেথ জাতির উদ্দেশ্যে যে সমস্ত বক্তব্য দিতেন তা মনে পড়ে গেলো। রানী এলিজাবেথের বক্তব্য খুবই সংক্ষিপ্ত হতো। কিন্তু তিনি সবকিছুকে গুছিয়ে বলতেন। এর আগে সময় লক্ষ্য করেছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য দীর্ঘায়িত হয়। কিন্তু সেদিন খুব অল্প কথায় আসল যে বার্তা সেটি তিনি জনগণকে জানিয়ে দিলেন। 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে খুব সংক্ষেপে তিনটি বিষয় তিনি স্পষ্ট করেছেন। প্রথমে তিনি এই আন্দোলনে যারা নিহত হয়েছেন তাদের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করেছেন। সেদিনই মহররম ছিলো তাই ভাষণে তিনি মহররমের কথাও বললেন। এসব বলার পর জাতির উদ্দেশ্যে তিনি যা বললেন সেটি হচ্ছে, এই আন্দোলনে যারা নিহত হয়েছেন তাদের প্রতি শুধু দুঃখ জানানোর পাশাপাশি দল মত নির্বিশেষে তাদের পরিবারের যেসকল সাহায্য প্রয়োজন তা তিনি করবেন। এছাড়াও এসব হত্যার বিচারে বিচার বিভাগীয় তদন্তের বিষয়টি স্পষ্ট করেন। 

আজ পর্যন্ত আমাদের দেশে কোন সরকার প্রধানই যখন ছাত্রদের সাথে বা অন্যকোন গন্ডগোলে কেউ বিচার বিভাগীয় তদন্তের কথা নিজের থেকে বলেন নি। বরং জনগণের দাবির মুখে এটি বাস্তবায়ন করে। আর এখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত হবে বলে জানিয়েছে। আর এতে যেই দোষী সাব্যস্ত হবে তাকেই বিচারের আওতায় আনা হবে এবং তাকে কোন ছাড়া দেয়া হবে না বলেও জানান। 

এরপর তিনি ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বললেন, যেতেতু সাংবিধান অনুযায়ী দেশের তিনটি বিভাগ আছে। এর একটি হচ্ছে, পার্লামেন্ট, শাসন ব্যবস্থা এবং বিচার বিভাগ।  পার্লামেন্টে কোন পাশকৃত আইন নিয়ে যদি আলোচনা বা বিতর্ক থাকে তবে সে বিষয়টি বিচার বিভাগ দেখতে পারে। সুতরাং এর মনে এই দাড়াচ্ছে, বিচার বিভাগকে পাশ কাটানোর কোন সুযোগ নেয়।

কোটা নিয়ে ২০১৮ সালের পরিপত্রটি যখন হাইকোর্ট অবৈধ ঘোষণা করেন তখন সরকারই বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে গেল। পরবর্তীতে এই রায়ের বিষয়ে চূড়ান্ত শুনানি ৭ আগস্ট দেয়া হবে জানিয়েছে। এক্ষেত্রে যারা সময় চেয়েছেন চেয়েছেন তারাই সময় চেয়েছিলেন। যার ফলে এই শুনানির তারিখ ৭ আগস্ট দেয়া হলো। নাহয় এই শুনানীটি আরও আগেই সেই কারণেই শুনানি হতে পারতো টানা চতুর্থবার ক্ষমতায় থাকা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বললেন, এতে এমনভাবে বিচারবিভাগের সিদ্ধান্ত নিবে যাতে ছাত্ররা সন্তুষ্ট হবে। সুতরাং বক্তব্যগুলো খুবই স্পষ্ট।

কয়েকদিন আগে একটি লেখাতে লিখেছিলাম, দল এবং সরকারের প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজর রাখতে হবে। এবং প্রয়োজনে এটিকে আবার পুনবিন্যাস করতে হবে। আমি বিশ্বাস করি সেই পর্যায় এখন এসে গেছে। কারণ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক যে এখন এতো দুর্বল হয়ে গেছে দেশে বর্তমানের ঘটনাগুলো না ঘটলে বুঝতে পারতাম না।

বর্তমানে আওয়ামী লীগের অন্যান্য পেশাজীবি সংগঠনগুলোও এখন দুর্বলতার সর্বোচ্চ পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে। এর কারণ এই সংগঠনগুলোর ভাব এমন যে, ‘আমাদের একজন শেখ হাসিনা আছেন’। অর্থাৎ তিনিই সবকিছু করে দেবেন। অর্থাৎ যদি মনে করা হয়, আমাদের দেশে যতো পাওয়ার জেনারেট হচ্ছে তা শেখ হাসিনাই জেনারেট করছে। এই পাওয়ার জেনারেট করতে হলে সেখানে জ্বালানী দিতে হবে। আর এক্ষেত্রে এই জ্বালানী হচ্ছে কর্মীরা। ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগের কর্মীরা। ঠিক সেভাবেই আমরা নেত্রীকে যে সাহস দেবার আমাদের যে দায়িত্ব, সেই জায়গায় আমরা সবাই অকৃতকার্য হচ্ছি। 

যখন এনএসএফ ক্ষমতায় তখন আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলাম। তখনতো আমাদের এনএসএফ এমনকি আইয়ুব খানের মতো একনায়কও আমাদের হল থেকে বের করতে পারেনি। আমরা সেখানে যুদ্ধ করে টিকে ছিলাম। আর গতকাল দেখলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রলীগের সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদকদের হল থেকে বের করে দেয়া হচ্ছে। 

এই কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে দেখা গেছে, মোটামুটি প্রায় ১৮ ঘণ্টা এ দেশটি তারেক জিয়া নিয়েই গেছিলো বলা চলে। কেননা তারেক জিয়া লন্ডনে বসে, ফোন করে বক্তৃতা দিয়ে যদি এতো জমায়াত বিএনপি একসাথে নামাতে পারে তাহলে তাকে অবশ্যই শক্তিশালী বলতে হবে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের যারা বেনিফিমিয়ারী তাদের মধ্যে বুদ্ধিজীবীদের কোন পদক্ষেপ দেখা যায়নি।  

বাংলাদেশে এখন একমাত্র দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা যার অপর নাম বাংলাদেশ সেজন্য টিকে আছে। এজন্যই শেখ হাসিনাকে আমাদের অবশ্যই সমর্থন দিতে হবে নাহলে বাংলাদেশ পাকিস্তানের দিকে আবার এগোনোর যে ষড়যন্ত্র চলছে তাতে ষড়যন্ত্রকারীরাই সফলকাম হবে। 

বাংলাদেশের জনগণ এখন পর্যন্ত দার্শনিক শেখ হাসিনাকে বিশ্বাস করে। কারণ তিনি ১৯৮১ সালে দেশে আসার পর থেকে যে কথা বলেছেন তার প্রত্যেকটি কথা রেখেছেন। একটি ব্যতিক্রমও কেউ কোথাও খুজে পাবেনা। যে নেত্রী সবসময় সত্যের উপর প্রতিষ্ঠা করে এবং রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেশ চালান তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন না করার তো কোন কারণ থাকতে পারে না। সুতরাং আমরা বিশ্বাস করি দেশে আবার শান্তি ফিরে আসবে। আর তা নেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই আসবে। অতীতে তিনি যেমন সফল হয়েছেন আশা করি এবারও তিনি সফল হবেন।


দিনান্তের কথা   শান্তি   বাংলাদেশ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

‘আন্দোলন সহিংসতায় রূপ নিয়েছে সবার অব্যবস্থাপনার জন্য’

প্রকাশ: ০৫:২২ পিএম, ১৭ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রায়হান শরীফ বলেছেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সবার যে আচরণ (এখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, পুলিশ, রাষ্ট্র সবাইকে বুঝাচ্ছি) সেখানে কোন একটা জায়গায় আমাদের ভুল হচ্ছে বলে আমার মনে হয়। শিক্ষার্থীরা একটি দাবি নিয়ে এসেছে, এর জন্য তাদের সাথে কথা বলা দরকার। তারা কি বলতে চায় সেটা শোনা দরকার। কিন্তু সেটা করা হয়নি। এর ফলে এখানে একটা গ্যাপ বা মিস কমিউনিকেশন (ভুল যোগাযোগ) তৈরি হয়ে গিয়েছে। শিক্ষার্থীরা আসলে কথাই বলতে চেয়েছে। কিন্তু কথা কে বলবে? অবশ্যই প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলা উচিত ছিল। তারা কি বলতে চায় সেটা শোনা উচিত ছিল। 

চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনে সহিংসতা নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে আলাপচারিতায় এ সব কথা বলেন অধ্যাপক রায়হান শরীফ।

অধ্যাপক রায়হান শরীফ বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর যেভাবে হামলা হয়েছে, তা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ছিল। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর বহিরাগত সন্ত্রাসীদের হামলা কোনভাবেই কাম্য ছিল না। আমাদের সাধারণ শিক্ষার্থীরা রাত ২/৩টায় যখন ফোন করে বলে স্যার আমাদের বাঁচান, আমরা তখন বিচলিত হয়ে পড়ি। এগুলো কোন সুস্থ সংস্কৃতির লক্ষণ না। আন্দোলন এক পর্যায়ে যে সহিংসতায় রূপ নিল। এটিকে কারা সহিংসতার রূপ দিয়েছে সেটা একটা ভাবনার বিষয়। আমি মনে করি আন্দোলন সহিংসতায় রূপ নিয়েছে সবার অব্যবস্থাপনার জন্য। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের বলতে পারতো তোমরা শান্তিপূর্ণ ভাবে আন্দোলন কর কিন্তু সেটা না হয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর প্রশাসন চড়াও হল। এর দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এড়িয়ে যেতে পারেনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অন্য কোন দেশের নয়, তারা আমাদেরেই সন্তান। তাদের সাথে আমাদের আচরণটা ভালোবাসার হওয়ার উচিত, মমতার হওয়া উচিত।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়

প্রকাশ: ১২:০০ পিএম, ১৬ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

আমাদের দূরদর্শী প্রধানমন্ত্রী ডাঃ সামন্ত লাল সেনকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। কৃতিত্বের প্রমাণিত রেকর্ড সহ তিনি একজন সবচেয়ে সৎ এবং কর্মমুখী ব্যক্তি। প্রথম দিন থেকেই তিনি মন্ত্রণালয়কে একটি সৎ, ফলাফলভিত্তিক, জবাবদিহিমূলক, জনমুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে রূপান্তরিত করতে শুরু করেছেন। আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং পরিবর্তিত মন্ত্রণালয়ের জন্য আমরা অবশ্যই গর্বিত। তার সামনে এখনও অনেক বিশাল চ্যালেঞ্জ রয়েছে, রূপান্তরমূলক পরিবর্তন আনতে আমাদের অবশ্যই কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে হবে, উত্তর খুঁজতে হবে এবং এগিয়ে যাওয়ার জন্য জনস্বাস্থ্য কৌশল তৈরি করতে হবে। আর তা হল: ১) অতীতে আমরা কী অর্জন করেছি; ২) আমাদের প্রধানমন্ত্রীর জনগণের স্বাস্থ্য উন্নতির দৃষ্টিভঙ্গি অর্জন করতে আমাদের কী শূন্যতা রয়েছে; এবং ৩) আগামী কয়েক দশকে স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন বজায় রাখা এবং সেই দৃষ্টি ও লক্ষ্য অর্জনের জন্য আমাদের আলাদাভাবে কী করতে হবে তা নিয়ে শুধু চিন্তাই নয়, একটি কার্যকরী লক্ষ্য অর্জনের কৌশল এবং কৌশল বাস্তবায়নের পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে।

গত দশকের আমাদের অর্জন: ১৯৭৮ সালে জনগণের গড় আয়ু (একটি দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্য এবং উন্নয়নের একটি সূচক) ছিল ৫১.৬ বছর, আজ এটি ৭৩.৮ বছর - একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন। ১৯৭৮ সালে মোট টিএফআর ( Total Fertility Rate) ছিল ৬.৬ এবং এখন তা নিচে নেমে হয়েছে ১.৯ (জনসংখ্যা প্রতিস্থাপনের নীচে), আমরা পরোক্ষ ভাবে বলতে পারি এটা সম্ভব হয়েছে নারীর ক্ষমতায়ন, নারী শিক্ষার উন্নতি এবং তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতায়নের কারণে। শিশুমৃত্যুর হার ২৫/১০০০ জীবিত জন্মে নেমে এসেছে, মাতৃমৃত্যু এখন ১২৩/১০০,০০০ জীবিত জন্মে। এটি সম্ভব হয়েছে সফল টিকাদান কর্মসূচি এবং স্বাস্থ্যসেবা পরিষেবাগুলিতে সহজ অ্যাক্সেসের জন্য। ১৯৯১ সালে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের স্টান্টিং (দীর্ঘস্থায়ী পুষ্টি সমস্যা) এর প্রবণতা ছিল ৭৩.৬% যা আজ ২৩% এ নেমে এসেছে। অন্যান্য অনেক সূচকের মধ্যে, আমি এখানে শুধুমাত্র কয়েকটি হাইলাইট করেছি। জনগণের আস্থা ও অংশগ্রহণের পাশাপাশি দূরদৃষ্টি, নেতৃত্ব, নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং কর্মক্ষেত্রে এগুলি উল্লেখযোগ্য অর্জন। আমাদের অর্জনের জন্য আমাদের গর্বিত হওয়া উচিত কিন্তু আত্মতুষ্ট হওয়া উচিত নয় কারণ আমাদের একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে এবং একটি স্থিতিস্থাপক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রস্তুত থাকতে হবে।

২১ শতকের চ্যালেঞ্জ: প্রথমে আমাদের বুঝতে হবে যে বিশ্বব্যাপী এবং বাংলাদেশে আমরা কিছু স্বাস্থ্য পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। ১) এপিডেমিওলজিকাল ট্রানজিশন, যেখানে রোগের ধরণটি সংক্রামক রোগ থেকে ব্যাপক হারে অসংক্রামক রোগে পরিবর্তিত হচ্ছে। বর্তমানে ৬৫% এরও বেশি মৃত্যুর কারণ অসংক্রামক রোগের জন্য, যেমন উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, নানা ধরনের ক্যান্সার, সড়ক দুর্ঘটনা ইত্যাদি। এই অবস্থার দীর্ঘমেয়াদি ব্যয়বহুল যত্ন প্রয়োজন। ২) স্থানান্তর জনসংখ্যা: আমাদের বয়স্ক লোক সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে, যাদের বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন। এবং একই সাথে আমাদের এখনও বিশাল বয়ঃসন্ধিকালের/তরুণ জনসংখ্যা রয়েছে যাদের সুস্থ এবং সক্রিয় রাখা দেশের সার্বিক জাতি গঠন ও উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন। ৩) স্থানান্তরের স্থানান্তর/অভিবাসন: অভ্যন্তরীণ অভিবাসন যেখানে আমরা ক্রমবর্ধমান নগরায়ণ, বস্তির জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে তাদের সঠিক পানি, স্যানিটেশন, আবাসন এবং স্বাস্থ্যসেবা পরিষেবাগুলিতে অ্যাক্সেসের অভাব মোকাবেলা করছি। এবং ভবিষ্যতের যেকোনো অশান্তি বন্ধ করতে আমাদের এই জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্যসেবা পরিষেবাগুলিতে অগ্রাধিকার দেয়া প্রয়োজন, যাতে তারা পিছিয়ে না থাকে। আমাদের বিপুল সংখ্যক অভিবাসী এবং অভিবাসী শ্রমশক্তি রয়েছে যারা আমাদের অর্থনীতির জন্য অত্যাবশ্যক। তাদের স্বাস্থ্য এবং মঙ্গল একটি অগ্রাধিকার; ৪) জলবায়ু পরিবর্তন হল আরেকটি পরিবর্তন এবং ক্রমবর্ধমানভাবে খরা, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তন বিশাল ক্ষতিগ্রস্ত জনসংখ্যার স্বাস্থ্য ও মঙ্গলের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে এবং ফেলবে। স্বাস্থ্যসেবা পরিষেবায় অ্যাক্সেসের অভাব বিশেষ করে নারী, শিশু এবং বয়স্ক জনগোষ্ঠীকে প্রভাবিত করছে এবং করবে। ৫) COVID-19 আমাদের দেখিয়েছে যে এমনকি সবচেয়ে ধনী দেশগুলির স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সেই মহামারি মোকাবেলায় প্রস্তুত ছিল না। মহামারি আমাদের জীবন বাঁচাতে দুটি ফ্রন্টে কাজ করতে দেখিয়েছে: রোগের পাশাপাশি জীবিকা থেকেও জীবন বাঁচানো। তাই এই মহামারি মোকাবেলায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ নয় রাজনীতিবিদরা ড্রাইভিং সিটে ছিলেন। আমরা কি পরবর্তী মহামারির মুখোমুখি হওয়ার জন্য এখন প্রস্তুত?; ৬) ডিজিটাল রূপান্তর: আমরা পছন্দ করি বা না করি আজ সাধারণ জনগণ তাদের স্বাস্থ্য এবং মঙ্গল সম্পর্কে অনেক বেশি সচেতন। বাংলাদেশের সকল জনগণের ডিজিটাল সুবিধা রয়েছে। স্বাস্থ্য খাতকে নিজেকে পরিবর্তন করতে হবে এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে একটি সুবিধা এবং সুযোগ হিসাবে ব্যবহার করতে প্রস্তুত হতে হবে হুমকি নয়। ৭) এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বাড়ছে কারণ বাংলাদেশে লোকজন কোনো প্রেসক্রিপশন ছাড়াই এন্টিবায়োটিক কিনছে মানুষ ও পশুর জন্য। আমাদের আরও দেরি হওয়ার আগেই কীভাবে অ্যান্টিবায়োটিকের যৌক্তিক ব্যবহার নীতি ও বাস্তবায়ন শুরু করা যায় তার উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া দরকার। ৮) মা, নবজাতক এবং শিশুদের স্বাস্থ্য এবং বেঁচে থাকা এখনও একটি অসমাপ্ত এজেন্ডা হয়ে রয়ে গেছে। ৯) নানা কারণে মানসিক স্বাস্থ্য একটি অবহেলিত জনস্বাস্থ্য সমস্যা যার জন্য জরুরি ও সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

সিস্টেম চ্যালেঞ্জ: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বাজেটে আরও বেশি বরাদ্দ দাবি করছেন। কিন্তু প্রশ্ন হল, কেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে বরাদ্দকৃত বাজেট সময়মতো ব্যবহার করতে সক্ষম নয়, কেন প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ কোষাগারে ফেরত দিতে হচ্ছে? তাহলে কোন যুক্তিতে অর্থ মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তহবিল আরও বাড়ানোর কথা বিবেচনা করবে? আমরা কি বর্তমান নীতি এবং ব্যবস্থাপনা ক্ষমতা বিশ্লেষণ করেছি যা আমাদের প্রমাণ দিতে পারে কেন আমাদের এই সময়োপযোগী বাস্তবায়ন ক্ষমতার অভাব রয়েছে। আমরা কি আমলাতান্ত্রিক নীতি ও পদ্ধতি বিবেচনা করেছি যা সময়মতো বরাদ্দ এবং কাজ শেষ করতে বাধা দেয়। আমরা কি বিশ্লেষণ করেছি কি ভাবে অপচয় এবং দুর্নীতি বন্ধ করা যায়। আমরা কি পরিচালন ক্ষমতা মূল্যায়ন করেছি বা ফলাফল ভিত্তিক, জবাবদিহিতার কাঠামো প্রতিষ্ঠা করেছি যার সাহায্যে আমরা স্বাস্থ্য সচিব থেকে মহাপরিচালক, প্রোগ্রাম বা হাসপাতাল সহ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার থেকে সিভিল সার্জন পর্যন্ত কর্মকর্তাদের কর্মক্ষমতা মূল্যায়ন করতে পারি?

অন্যান্য চ্যালেঞ্জ: ১৯৭০ দশকে আমাদের যখন বিপুল ভাবে জনসংখ্যা বৃদ্ধি হচ্ছিল তখন জনসংখ্যা বৃদ্ধি রোধে আমাদের জরুরি সময়সীমাবদ্ধ পদক্ষেপের প্রয়োজন ছিল। তাই সময়মতো তা মোকাবেলা করার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দুটি সমান্তরাল স্বাধীন অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করে: স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর। আজ জনসংখ্যা সচেতনতা, নারীর ক্ষমতায়ন, পারিবারিক অর্থনীতি বৃদ্ধি এবং সময় মত সঠিক সেবা পাওয়ার কারণে টিএফআর (total fertility rate) হ্রাস পেয়েছে এবং আরো নিচে যাবে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি এখন হয়ত কোনো বিরাট সমস্যা নয়, আগামী দশকে তা কমতে শুরু করবে। এবং জনসংখ্যা দ্বিগুণ হওয়ার সময় দীর্ঘায়িত হচ্ছে। আমাদের প্রচেষ্টার সময় এসেছে একটি কঠিন নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার- আমাদের কি এখনও দুটি অধিদপ্তর দরকার বা একটি সমন্বিত অধিদপ্তর দরকার? একটি মানসম্পন্ন প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পদ্ধতি ব্যাপকভাবে জনগণকে উভয় পরিষেবা প্রদান করতে পারবে।

আরেকটি বিষয় হল নগর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা স্থানীয় সরকারের দায়িত্ব। বিভিন্ন বহিরাগত উত্স থেকে তহবিল দিয়ে এই ব্যবস্থা পরিচালনা করা হয়। বেশিরভাগ বেসরকারি সংস্থাগুলি পরিষেবা প্রদান করে। আমাদের বিশ্লেষণ করতে হবে স্বাস্থ্যের সর্বোত্তম মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকারগুলি কীভাবে জাতীয় স্বাস্থ্য লক্ষ্যগুলি অর্জনের জন্য তাদের কাজগুলিকে সমন্বয় করে। আমাদের অবশ্যই বিবেচনা করতে হবে যে বহিরাগত তহবিল অনন্তকালের জন্য নাও হতে পারে।

আমরা জানি যে বেশিরভাগ মানুষ অসংক্রামক রোগে ভুগছেন যা একটি জীবনধারার রোগ। এর প্রতিরোধ এবং দীর্ঘমেয়াদি যত্ন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। এমনকি উন্নয়নশীল দেশগুলিতে এটি একটি বিশাল আর্থিক এবং পরিষেবার বোঝা হয়ে উঠছে। তথ্য ও পরিষেবার ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে কোন ব্যবস্থা আমাদের গ্রহণ করা উচিত: ব্যয়বহুল হাসপাতাল ভিত্তিক পরিষেবা বা প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ভিত্তিক পরিষেবা যা প্রয়োজনে হাসপাতালের সাথে যুক্ত হয়ে পরিষেবাগুলিকে জন সাধারণদের কাছে নিয়ে আসা এবং সম্প্রদায়কে নিজের গৃহ ভিত্তিক যত্ন পরিষেবাগুলি তৈরি করতে সহায়তা করা? আমাদের প্রধানমন্ত্রী একটি অনন্য কমিউনিটি সেন্টার ভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা তৈরি করেছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং কমিউনিটি ক্লিনিক ব্যবস্থাপনা কীভাবে তাদের পরিষেবাগুলি সমন্বয় করছে বা করতে পারে তা বিবেচনা করার সময় হয়ত এসেছে। আমাদের বিবেচনা করতে হবে আমাদের কমিউনিটি ক্লিনিক ভিত্তিক পরিষেবাগুলিকে আরও মূল্যায়ন ও প্রসারিত করে একটি সমন্বিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা যা সংযুক্ত প্রয়োজনীয় হাসপাতালের যত্ন সেবার ব্যবস্থা তৈরি করা যা হবে সবচেয়ে দক্ষ এবং খরচ কার্যকর সিস্টেম।

আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য মানব সম্পদের আমাদের নীতি এবং পরিকল্পনাগুলিকে পুনর্বিবেচনা করতে হবে। আগামী কয়েক দশকে বাংলাদেশের কত চিকিৎসক, নার্স, মিডওয়াইফ, প্যারামেডিক এবং সহযোগী মানব সম্পদ প্রয়োজন তা বিশ্লেষণ করতে হবে। একের পর এক সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজ নির্মাণ করা হচ্ছে। সেই ডাক্তারদের কি সরকারি, বেসরকারি বা অন্য দেশে পাঠানো যাবে? আমরা কীভাবে নিশ্চিত করব যে আমাদের মেডিকেল কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলি বিদেশি প্রতিষ্ঠান দ্বারা স্বীকৃত এবং স্বীকৃত হচ্ছে যদি আমরা আমাদের ডাক্তারদের অন্য দেশে নিয়োগ করতে চাই? আমাদের কি পর্যাপ্ত নার্স, মিডওয়াইফ এবং প্যারামেডিকস আছে যারা বাংলাদেশের প্রয়োজন বা অন্য দেশগুলির প্রয়োজন মেটাতে পারে। কিভাবে আমরা স্বাস্থ্যের জন্য রপ্তানি মানের মানবসম্পদ বিকাশ করতে পারি। আমি শুনেছি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে বিপুল সংখ্যক পদ এখনও শূন্য রয়েছে - আমাদের এর কারণগুলি খুঁজে বের করে তার প্রতিকারের ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা দরকার।

স্বাস্থ্য উন্নয়নে বেসরকারি খাত উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। আমাদের এখন প্রয়োজন নীতিমালা , এর বাস্তবায়ন এবং পর্যবেক্ষণ কৌশল তৈরি করা বা বিদ্যমান নীতি পরিবর্তন করা যা তাদের পরিষেবা এবং কার্যগুলি উন্নত মানের যত্নের জন্য সহায়ক হয় এবং তাদের একটি সাধারণ জবাবদিহিতার কাঠামোর মধ্যে আনা যায়।

আরেকটি বিষয় হল একটি কার্যকর প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার জন্য জেলা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা পরিচালনার দক্ষতা তৈরি করা। প্রতি বছর আমাদের জেলা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপকদের সাথে বসতে হবে, তাদের অর্জন আর চ্যালেঞ্জগুলি বিশ্লেষণ করতে হবে, এবং সেই অনুযায়ী আগামী বছরের জন্য স্বাস্থ্য জেলা ভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে হবে। আমাদের কর্মক্ষমতা সূচক এবং একটি জবাবদিহিতার কাঠামো তৈরি করতে হবে, শাস্তির জন্য নয় বরং কার্যকর হওয়ার জন্য তাদের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার জন্য।

এগিয়ে যাওয়ার পথ: আমি বারবার শুনছি আমার মতো যারা জাতিসংঘের ব্যবস্থায় বা বিদেশে অন্যান্য পদে কাজ করেছেন তারা বাংলাদেশের বিরাজমান পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত নন বা বোঝেন না এবং তাই তাদের কিছু বলার অধিকার নেই। আমি তাদের মতামতকে সম্মান করি, আমি স্বীকার করি যে এখানে বাংলাদেশে যা ঘটছে তার সবকিছু হয়তো আমি কভার করতে পারিনি। তবুও আমি বিবেচনার জন্য এগিয়ে যাওয়ার কয়েকটি উপায় নির্দেশ করার সাহস করেছি। আমি বিশ্বাস করি বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি রয়েছে এবং আমাদের প্রধানমন্ত্রী একটি সুস্থ জাতি গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এটি রূপান্তরমূলক পরিবর্তন এবং মানব উন্নয়নমুখী স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা আনার একটি অভূতপূর্ব সুযোগ। আমাদের অতীতের অর্জনগুলো তাৎপর্যপূর্ণ কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমাদেরকে ফলাফল ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে একটি ব্যবস্থা ও ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে।

বাংলাদেশে এবং বিদেশে অনেক বাংলাদেশি আছে যাদের চমৎকার জনস্বাস্থ্য পটভূমি এবং দক্ষতা রয়েছে এবং তারা আর্থিক লাভ, প্রভাব বা উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছাড়াই সহায়তা প্রদানের জন্য, আমি আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করি, তারা প্রস্তুত। আমাদের মাননীয় মন্ত্রী বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের একটি উপদেষ্টা দল গঠনের চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এই দলটি বর্তমান অর্জন, চ্যালেঞ্জ, সুযোগ বিশ্লেষণ করবে, তারা আগামী কয়েক দশকের স্বাস্থ্য নীতি, কৌশল, বাস্তবায়ন পরিকল্পনা, এর খরচ এবং একটি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা প্রণয়ন করবে এবং মন্ত্রীকে সম্ভাব্য পথের সুপারিশ করবে এবং লক্ষ্যমাত্রা ও জবাবদিহিতার কাঠামো নির্ধারণ করতে পারবে, তারা পর্যায়ক্রমে বসে পরিবর্তনগুলি পর্যবেক্ষণ করতে পারবে এবং নির্ধারিত লক্ষ্য ও লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য আরও পরিবর্তনের জন্য সুপারিশ প্রদান করবে। ফলাফল ভিত্তিক ব্যবস্থাপনার উপর ভিত্তি করে সংগঠনের প্রতিটি স্তরের জন্য লক্ষ্যগুলি তৈরি করবে এবং একটি জবাবদিহিতা কাঠামো তৈরি করে একটি স্বচ্ছ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা তৈরি করার সুপারিশ করবে। সুপারিশ এবং তার বাস্তবায়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র দায়িত্ব হবে মন্ত্রণালয়ের। এই দলটি একটি উপদেষ্টা দল হবে, তত্ত্বাবধানকারী দল নয়। উপদেষ্টা দল গঠন করা সহজ সিদ্ধান্ত নয় কারণ আমি বিশ্বাস করি যে অনেক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নিরাপত্তাহীনতা বোধ করতে পারেন এবং হুমকি বোধ করতে পারেন। কিন্তু যত সময় যাবে আমি বিশ্বাস করি তারা অনুভব করবে যে উপদেষ্টা গোষ্ঠী কোন হুমকি নয় বরং তাদের কাজ এবং ফলাফল অর্জনের সহায়ক।

হাসপাতাল পরিদর্শন বা এখানে এবং সেখানে কিছু দুর্নীতি বা কিছু শাস্তির ব্যবস্থা যথেষ্ট নাও হতে পারে। মন্ত্রীকে তার টেবিলে বসা হাতিটিকে চিহ্নিত/সম্বোধন করতে হবে। তার ভবিষ্যৎ দৃষ্টি, লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য বিস্তৃত করা প্রয়োজন। তার সময়কালে তিনি তার সক্ষম দলের সাথে কী অর্জন করতে চান এবং কিভাবে তিনি তা অর্জন করবেন এবং বাংলাদেশের মানুষ কেন তাকে মনে রাখবে তা বিস্তৃত করা। আমি বিশ্বাস করি তিনি একজন স্বপ্নদ্রষ্টা, তিনি পরিবর্তন আনতে তার সক্ষমতায় বিশ্বাসী এবং তিনি তার দেশের মানুষের জন্য তার সক্ষমতার সেরাটা দিতে প্রস্তুত এবং আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে তার সঠিক সিদ্ধান্তে গর্বিত করতে প্রস্তুত।

আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর শোনার এবং শেখার অনন্য ব্যক্তিত্ব রয়েছে। তার সততা, অতীতের অর্জন এবং ফলাফলের অতীত আমাদের সকলকে আশা দেয়। তার দক্ষ নেতৃত্বে মন্ত্রণালয়ে রূপান্তরমূলক পরিবর্তন সম্ভব এবং এটা একটি বাস্তবতা। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করতে চাই।


মতামত   স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

ফিরে দেখা: ১৬ জুলাই


Thumbnail

২০০৭ সাল। ভোররাতে ধানমন্ডির ‘সুধা সদন’ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘেরাও করল। উদ্দেশ্য, শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার। তিনি তখন বিরোধীদলীয় নেতা। ড. ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নিয়েছে ড. ইয়াজউদ্দিনের ব্যর্থ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছ থেকে।

যেটি আসলে বিএনপি সরকারেরই অন্যরূপ। সুতরাং স্বাভাবিকভাবেই বিরোধী দলের নেতা শেখ হাসিনাকে প্রথমে গ্রেপ্তার করার কারণ কেউ বুঝতে পারেনি। কারণ অতীত অভিজ্ঞতা হলো, নতুন সরকার এসে সদ্য বিদায়ী সরকারের বিরুদ্ধে নানা অভিযান পরিচালনা করে। সে ক্ষেত্রে বিরোধী দলের নেতাকে গ্রেপ্তার বিস্ময়কর! এ থেকেই বোঝা যায়, শেখ হাসিনা গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপসহীন ছিলেন। এজন্য তিনিই হন অগণতান্ত্রিক শক্তির প্রধান লক্ষ্য। তারা শেখ হাসিনাকেই সবচেয়ে বেশি ভয় পেয়েছিল।

গ্রেপ্তার হওয়ার আগে ধানমন্ডির ‘সুধা সদনে’ একদিন তিনি তোফায়েল আহমেদকে বললেন, এখনই যদি আমরা এই অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতায় থাকা সরকারকে বাধা না দিই তাহলে পরবর্তীকালে খুবই অসুবিধা হবে। আমার এখনো মনে আছে, তখন তোফায়েল আহমেদ উত্তরে বললেন, ‘তাদের আরও কিছুদিন সময় দেওয়া প্রয়োজন।’ এতে আওয়ামী লীগ সভাপতি খুব অসন্তুষ্ট হলেন। তিনি সিঁড়ি দিয়ে নামছিলেন। নামার পথে তিনি বললেন, ‘না, তাদের কোনো সময় দেওয়া যাবে না।’ তিনি বললেন, এখনই যদি তাদের প্রতিহত না করা যায় এবং তাদের যদি গ্রহণ করা হয় তাহলে তারা ‘সিন্দাবাদের ভূতের’ মতো ঘাড়ে চেপে বসবে।

বঙ্গবন্ধুকন্যা ১৯৮১ সাল থেকে বাংলাদেশের রাজনীতির যে একটি মৌলিক পরিবর্তন করেছেন, যা জনগণের চোখ এড়ায়নি। গণতন্ত্রের জন্য নিরন্তন সংগ্রাম করেছেন। ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তিনিই প্রধান যোদ্ধা। এ লড়াই তাকে দিয়েছে অনন্য অবস্থান। শেখ হাসিনাই একটা ‘ইনস্টিটিউশন’। সুতরাং এখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আর তখনকার শেখ হাসিনার মধ্যে আমি কোনো পার্থক্য দেখি না। তখন তার কথায় লোকে যেমন বিশ্বাস করত, এখনো মানুষ তা করে। এজন্যই তিনি সেনা সমর্থিত সরকারের মাথাব্যথার কারণ হয়েছিলেন।

কয়েক দিন পর শেখ হাসিনা আমাকে ফোনে বললেন, ‘আমি চোখ পরীক্ষার জন্য যাব।’ আর এ সময় তিনি আমাকে বললেন, তিনি কোনো গণমাধ্যমের মুখোমুখি হবেন না। কিন্তু আমি ওই সময় ফোন করে সব মূলধারার গণমাধ্যমকে জানিয়ে দিলাম, আওয়ামী লীগ সভাপতি আসবেন। এরপর শেখ হাসিনা আমার চেম্বার থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকরা তাকে ঘিরে ধরেন। তিনি তখন বললেন, ‘আমার ফুপু অসুস্থ অথচ আমার ফুপাতো ভাই শেখ সেলিম জেলে বন্দি।’ এভাবে তার যেসব নেতা কারান্তরীণ, তাদের কথা বললেন এবং অসাংবিধানিক সরকারকে তিনি যে স্বীকার করেন না, তাদের অবিলম্বে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়া উচিত—এ নিয়ে জোর গলায় বললেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাচন দাবি করলেন শেখ হাসিনা। এর দুদিন পর তিনি ‘ল্যাবএইড’-এ গেলেন ক্যান্সার আক্রান্ত বিখ্যাত সংগীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমীনকে দেখতে। হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে তিনি সাংবাদিকদের দেশের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বললেন। ড. ফখরুদ্দীনের নেতৃত্বাধীন সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কঠোর সমালোচনা করলেন।

সুতরাং এ দুটি ঘটনা থেকেই বোঝা যায়, অসাংবিধানিক সরকার তাকে টার্গেট করবে। এরপরই তার বাড়ি ঘেরাও করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়ার পর তিনি কয়েকজনকে ফোন করেন, তাদের মধ্যে একজন প্রয়াত অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন। ফোন পেয়েই তিনি ‘সুধা সদনে’ হাজির হন। এ ছাড়া নেতাকর্মীরাও আসে। আমার ধারণা, যদি নেতাকর্মীরা শেখ হাসিনার গ্রেপ্তারের বিষয়ে আগে থেকে জানত তাহলে শেষ পর্যন্ত তারা রাস্তা ঘেরাও করত এবং শেখ হাসিনাকে কোর্ট পর্যন্ত নিয়ে যেতে দিত না।

শেখ হাসিনাকে নিয়ে পার্লামেন্ট ভবনের একটি স্যাঁতসেঁতে রুমে রাখা হলো। সেখানে তাকে জাতীয় অধ্যাপক শাহলা খাতুন এবং প্রাণ গোপাল দত্ত দেখতে গিয়েছিলেন। পরে তার সহকারী একজন জানালেন, শেখ হাসিনা চান আমি যেন তার সঙ্গে দেখা করি। এরপর আমি একটি আর্টিকেল লিখি এবং ওই আর্টিকেলটি ড্রাফট করার জন্য আমি নাঈমুল ইসলাম খানের কাছে গেলাম। তিনি ঠিক করে দেওয়ার পর আমি সৈয়দ বোরহান কবীরের কাছে গেলাম এবং তিনি আমাকে ড্রাফট ঠিক করে দিলেন, যা আমি পত্রিকায় দিলাম। সেই ড্রাফটির মূল কথাটি ছিল এরকম—‘আমি শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক। কিন্তু তার সঙ্গে আমাকে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না।’ সেই লেখাটি পরের দিন ‘আমাদের সময়’ এবং ‘মানবজমিন’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এরপর কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়েই জেলখানায় শেখ হাসিনার সঙ্গে আমার দেখা করার ব্যবস্থা করে। আমি শেখ হাসিনার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে তাকে বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করি। কিন্তু আওয়ামী লীগেরই অনেক নেতা এতে আপত্তি তোলেন। তারা বলেন যে, শেখ হাসিনা যদি চিকিৎসার জন্য বাইরে যান তাহলে তাকে আর দেশে আসতে দেওয়া হবে না। তখনকার আওয়ামী লীগের মূল যেসব নেতা মাঠে ছিলেন যেমন—প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, ড. হাছান মাহমুদ, সাহারা খাতুন অনেকেই আমাকে বললেন, আপনি ঠিকই বলেছেন। এরপর আমি সংবাদ সম্মেলন করি। সেখানে আমি দাবি করি, শেখ হাসিনা গুরুতর অসুস্থ। উন্নতর চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশ নেওয়া প্রয়োজন। এরপর আওয়ামী লীগের সবাই শেখ হাসিনার চিকিৎসার প্রশ্নে সোচ্চার হন।

সংবাদ সম্মেলনে আমার সঙ্গে ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক এবিএম আব্দুল্লাহ। এ ছাড়া ছিলেন প্রাণ গোপাল দত্ত এবং শাহলা খাতুন। আমরা এই কজন এসংক্রান্ত একটি বিবৃতি তৈরি করি এবং তা পত্রিকায় পাঠাই।

২০০৭ সালের ১৬ জুলাই যখন শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করা হয়, তখন যারা অবদান রেখেছেন তাদের মধ্যে সাহারা আপা এখন আমাদের মধ্যে নেই। অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম তখন শেখ হাসিনার আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ যিনি পরে আইনমন্ত্রী হয়েছেন, তিনিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সেই সময় ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস একটি ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিলেন। এ ছাড়া মোহাম্মদ আলী নামে একজন আয়কর সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে নেত্রীর সঙ্গে জেলে দেখা করেছেন এবং খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

কিন্তু আজকে কেবিনেট মেম্বার অনেকেরই সেই সময় কোনো ভূমিকা ছিল না। অথচ তারাই আজ প্রধানমন্ত্রীর আশপাশে ঘিরে আছে। এমনকি যেসব আমলা সেই সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন, তারা আজ প্রধানমন্ত্রীর কাছে নেই। নতুনদের ভিড়ে পুরোনোরা চাপা পড়ে গেছেন। কিন্তু নতুনদের মধ্যে ছদ্মবেশে যদি হাইব্রিডরা আসে এবং যারা প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষতি করতে পারে তারা যদি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পায় তখন আমি শঙ্কিত হই, ব্যথিত হই।

আজকে এতদিন পর যখন ১৬ জুলাই এলো, তখন এ কথাটি মনে পড়ছে, সেই সময় শেখ হাসিনার পাশে কারা ছিল আর এখন নেত্রীর পাশে কারা আছে। আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তখন জেলে, ড. হাছান মাহমুদ, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, সাহারা খাতুনরা সেদিন যা করেছেন, তা প্রশংসনীয়। তা ছাড়া প্রয়াত ব্যারিস্টার রফিক-উল-হক আওয়ামী লীগের লোক না হয়েও শেখ হাসিনার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। অন্যদিকে ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলামরা শেখ হাসিনাকে সমুদ্রে ভাসিয়ে দেওয়ার মতো দায়িত্বহীন ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। আজ এতদিন পর এসে আমি বলছি, বর্তমানে বঙ্গবন্ধুর দল এবং তার দলের সরকার নতুনভাবে সাজানো দরকার। যোগ্য, আদর্শবান এবং পরীক্ষিতদের শেখ হাসিনার চারপাশে বড্ড প্রয়োজন।

লেখক: সভাপতি, কমিউনিটি ক্লিনিক

স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট


১৬ জুলাই   এক এগারো   শেখ হাসিনা   গ্রেপ্তার  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

বাংলাদেশটা আমাদের, রাজাকারদের নয়!


Thumbnail

১.
গণতান্ত্রিক দেশে একটা ইস্যুভিত্তিক আন্দোলন হতেই পারে। আন্দোলনের দাবিসমূহ গ্রহণ করা হবে কি না সেটাও সরকার বিবেচনা করবেন। কিন্তু দেশে একটা আন্দোলন হলেই যারা সরকার পতনের স্বপ্ন দেখেন, তারা হয় রাজনীতিতে অদক্ষ নতুবা শেখ হাসিনাকে চেনেন না। তাদের উচিত ২০% ছাড়ে ইংরেজিতে আমার লেখা শেখ হাসিনার জীবনীগ্রন্থটি জরুরি ভিত্তিতে পড়া। 

২.
কোটা বিরোধী আন্দোলনটা খুবই সহজ। সরকার তো কোটা বাতিলই করেছিল। হাইকোর্টের রায়ে সেটা ফিরে এসেছে, সরকার যার বিরূদ্ধে আপিল করেছে। হাইকোর্টের পুরো রায় বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কোটা সংস্কারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টা একদিকে যেমন আদালতের বিবেচনায় আছে, অন্যদিকে সমাধানের সম্ভাব্য পথগুলোও তুলনামূলকভাবে সহজ। সো, নো টেনশন!

৩.
এরকম একটা আন্দোলনে আড়ালে-আবডালে থেকে দুয়েকটা রাজনৈতিক দল হাওয়া দেবে- বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটা নতুন কিছু নয়। তবে কোন আন্দোলন থেকে কী রিটার্ন আসতে পারে তার একটা ধারণা থাকা সবার জন্য মঙ্গল।

৪.
সকালে ঘুম থেকে উঠে একটা বিষয় মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। যত প্রতিকূল পরিস্থিতিই হোক না কেন, একজন প্রকৃত মুসলমান কি কোন অবস্থায় বলতে পারেন, “আমি ইবলিশ”? একটু আগে খুলনা থেকে বাল্যবন্ধু টিপু ফোন করেছিল। তাকেও প্রশ্নটা করতেই সে তাৎক্ষণিক উত্তর দিয়েছিল, “না”। 

তেমনি মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশে নিজেকে কেউ রাজাকার দাবি করতে পারে না, যদি না সে প্রকৃত বা জেনেটিক্যালি রাজাকার না হয়। 

আমাদের সকল প্রজন্মকে জানতে হবে, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে রাজাকারদের ভূমিকা কত নৃশংস ছিল। তারা কীভাবে পাকহানাদার বাহিনী কর্তৃক লক্ষ লক্ষ মানুষকে হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাটে সহযোগিতা করেছে, তা যেন কোন অবস্থায়ই আমরা ভুলে না যাই। 

৫.
গতকাল মধ্যরাতে যারা “তুমি কে আমি কে/ রাজাকার রাজাকার” শ্লোগান দিয়েছে, তারা ভীষণ অন্যায় করেছে। আমি এখনো বিশ্বাস করি, মিছিলে যারা এই ঘৃণিত শ্লোগানটি দিয়েছে, তাদের অধিকাংশই এটি বুঝে করেনি। কারো উপরে অভিমান করা যেতে পারে, কারো কথায় দ্বিমত পোষণ করা যেতে পারে, তাই বলে স্বাধীন বাংলাদেশে নিজেকে রাজাকার ভাবার অবকাশ নাই।

আর যদি কেউ প্রকৃত রাজাকার বা জেনেটিক্যালি রাজাকার হন, তাহলে লড়াইটা খুব স্পষ্ট এবং কাউকেই এ ব্যাপারে ছাড় দেওয়া হবে না।

৬.
এই দেশটা আমাদের, কোন রাজাকারের নয়। এই দেশটা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে, ত্রিশ লক্ষাধিক শহীদ ও চার লক্ষাধিক মা-বোনের আত্মত্যাগের বিনময়ে অর্জিত। এখানে কোন রাজাকারের আস্ফালন মেনে নেওয়া হবে না। 

৭.
আমাদের সৌভাগ্য, আমাদের একজন শেখ হাসিনা আছেন। মায়ের কাছে সন্তানের মত, তাঁর কাছেও দেশের একজন নাগরিক হিসেবে অনেককিছু দাবি করা যায়। তাঁর মুখের ভাষা, শাসন ও সোহাগ, আচরণ সব কিছু বাংলার মাটি থেকে উঠে আসা। যে কারণে তাঁকে আমাদের দূরের কেউ মনে হয় না। কোভিডের সময়ে যখন তিনি বলেন, প্রয়োজনে বিদেশ থেকে ডাক্তার আনবেন তখন কিন্তু আমরা বুঝি, এটা তার মনের কথা নয়। 

তাঁর সাথে অনেকের রাজনৈতিক মতাদর্শের মিল নাও থাকতে পারে, তাঁর অনেক কথার সাথে অনেকে একমত নাও হতে পারেন, গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় এটাই স্বাভাবিক। তারপরও তাঁর সাথে রাজনীতির যৌক্তিক ভাষায় কথা বলা যায়, দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলন করা যায়। 

৮.
অচিরেই চলমান কোটা আন্দোলনেরও গ্রহণযোগ্য সমাধান হবে। মাঝখান দিয়ে আমাদের লাভ হলো, আমরা কিছু নতুন মুখোশধারির সন্ধান পেলাম। আবারো প্রমাণিত হলো, ল্যাঞ্জা লুকিয়ে রাখা আসলেই কঠিন।


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন