ইনসাইড বাংলাদেশ

বাজেটের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো সম্পর্ক নেই: জি এম কাদের

প্রকাশ: ১০:০৩ পিএম, ০২ জুন, ২০২৩


Thumbnail জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জি এম কাদের।

জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জি এম কাদের বলেছেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো সম্পর্ক নেই। নিজেদের স্বার্থে ও আইএমএফ’র পরামর্শে যেভাবে ট্যাক্স ধরা হয়েছে তাতে সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকা কষ্টের হয়ে উঠবে। এ বাজেটের কারণে সাধারণ মানুষ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

 শুক্রবার (২ জুন) সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরার বিসিক মিলনায়তনে উত্তরা কালচারাল সোসাইটির ১৫তম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জি এম কাদের বলেন, ‘চাপিয়ে দিয়ে এ বাজেট বাস্তবায়ন করতে পারবে না। কারণ সম্পূর্ণ ঋণ নির্ভর বাজেট বাস্তবায়ন হয় না। মানুষের গলায় রশি লাগিয়ে সরকার বাজেট অনুযায়ী ট্যাক্স আদায় করতে পারবে না। রিজার্ভ সংকটের কারণে বিদেশি ঋণ পাওয়াও সহজ হবে না। আর দেশি ব্যাংকগুলো এখনই ঋণ দিতে পারছে না। সরকারকে টাকা ছাপিয়ে টাকার সংকুলান করতে হচ্ছে। টাকা আরও ছাপাতে হবে। এতে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে। মূল্যস্ফীতি লাগাম ছাড়া হয়ে উঠবে। এখনই মানুষের জীবন বাঁচাতে ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। বাজেট বাস্তবায়ন হলে মানুষের অবস্থা কেমন হবে তা জানি না। এ বাজেটের কারণে দারিদ্র্যের সংখ্যা আরও বাড়বে। যারা মধ্যবিত্ত হিসেবে সম্মানের সঙ্গে আছেন, তাদের দরিদ্র হবার আশঙ্কা রয়েছে। এ বাজেটের কারণে দেশে বিপর্যয় নেমে আসবে।’  

তিনি বলেন, ‘জাতীয় সংসদে সার্কাস চলছে। সংসদে গণমানুষের কথা বলা যায় না। গণমানুষের কথা বললে অবান্তর মনে করা হয়। এমন বাস্তবতা থেকে দেশকে মুক্ত করতে হবে।’

উত্তরা কালচারাল সোসাইটির সভাপতি শেরিফা কাদের এমপির সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন আইটিআই বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক দেব প্রসাদ দেবনাথ, উত্তরা কালচারাল সোসাইটির উপদেষ্টা প্রকৌশলী মো. ইউনুস আলী ও সাধারণ সম্পাদক রবিউল মাহমুদ ইয়ং।

পরে উত্তরা কালচারাল সোসাইটি ও রাঙামাটির জুম কালচারাল সোসাইটির শিল্পীরা মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন।  



জাতীয় পার্টি   চেয়ারম্যান   জি এম কাদের   বাজেট  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

ক্যাম্পাসের পরিবেশ নষ্ট করতে চাইলে প্রতিহত করবে ইবি ছাত্রলীগ


Thumbnail

ক্যাম্পাসে রাজাকার বিরোধী বিক্ষোভ মিছিল ছাত্র সমাবেশ করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রলীগ। কেউ ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করতে চাইলে তাদের প্রতিহত করা হবে বলে ঘোষণা দেন ছাত্রলীগ নেতারা।

সোমবার (১৫ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টায় দলীয় টেন্ট থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে নেতাকর্মীরা। মিছিলটি নিয়ে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে বিভিন্ন সড়ক কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে শিক্ষার্থীরা।

বিক্ষোভ মিছিল শেষে দলীয় টেন্টে এসে সমবেত হয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরে সেখানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাত সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জয়ের নেতৃত্বে তিন শতাধিক নেতাকর্মী সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জয় বলেন, দেশের পবিত্র মাটিতে গতকাল রাতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মুষ্টিমেয় কিছু শিক্ষার্থী নিজেদেরকে রাজাকার দাবি করে স্লোগান দিয়েছে। এতে পুরো ছাত্র সমাজ ব্যথিত হয়েছে। আজ থেকে এই পবিত্র বাংলায় কেউ রাজাকার রাজাকার স্লোগান দিলে তাদেরকে যোগ্য জবাব দেওয়া হবে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটিতে কেউ যদি আর একবার তুমি কে? আমি কে? রাজাকার, রাজাকার স্লোগান দেয় তাহলে তাদেরকে সমূলে উৎপাটন করা হবে। 

শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাত বলেন, যারা সামনে থেকে ধরণের স্লোগান দিবে তাদেরকে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যারা নিজেদেরকে রাজাকার দাবি করে তারা স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি। তারা ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করতে চাই। আগামীতে কেউ ধরনের ধৃষ্টতা দেখালে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে ছাত্রলীগ তা প্রতিহত করবে।

এদিকে সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উক্তি ঘিরে রোববার রাতে ক্যাম্পাসে তুমি কে? আমি কে? রাজাকার, রাজাকার স্লোগানে বিক্ষোভ মিছিল করে শিক্ষার্থীরা। এরই প্রতিবাদে শাখা ছাত্রলীগ বিক্ষোভ মিছিল ছাত্র সমাবেশ করেছে।


কোটা আন্দোলন   ইবি   ছাত্রলীগ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

অবৈধ অনুপ্রবেশের সময় বিজিবির হাতে আটক ১

প্রকাশ: ০৪:৩২ পিএম, ১৫ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে মনির হোসেন (২৮) নামে এক বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বিজিবির সদস্যরা।

 

সোমবার (১৫ জুলাই) সকালে যশোরে শার্শা গোগা সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক মনির হোসেন শার্শার গোগা গ্রামের নুর হোসেনের ছেলে।

 

খুলনা ২১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে: কর্নেল মোহাম্মাদ খুরশিদ আনোয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

তিনি জানান, বিনা পাসপোর্টে ভারতে কাজের উদ্দেশ্যে প্রবেশকালে কর্তব্যরত বিজিবি টহল সদস্যরা তাকে আটক করে।

আটক মনির হোসেনের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশ আইনে মামলা দিয়ে শার্শা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।


অবৈধ অনুপ্রবেশ   বিজিবি   আটক  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

ঢাবিতে মুখোমুখি আন্দোলনকারী-ছাত্রলীগ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, সংঘর্ষ

প্রকাশ: ০৩:৩৯ পিএম, ১৫ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল পাড়ায় মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ।

সোমবার (১৫ জুলাই) বিকেল ৩টা থেকে মুখোমুখি অবস্থান নেয় আন্দোলনকারী ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। এসময় দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলতে থাকে।

ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ফলে মুহূর্তেই রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে ঐ এলাকা। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর ৩টার দিকে বিজয় একাত্তর হলের সামনে মাইকিং করতে শুরুর করলে হল শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের ধাওয়া দেন। এরপর কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরাও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের পাল্টা ধাওয়া দেন।

এক পর্যায়ে ধাওয়া খেয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিজয় একাত্তর হলে অবস্থান নেন। পরে তারা হলের তালা লাগিয়ে ভেতর থেকে ইট ছুড়তে থাকেন। শিক্ষার্থীরাও হলের দেয়ালের ওপর দিয়ে পাল্টা ইট ছুড়তে থাকেন। অন্যদিকে ছাত্রলীগের আরেকটি দলকে হেলমেট পরে একাত্তর গেটের কাছাকাছি অবস্থান করতে দেখা গেছে।

এদিকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, ‘আন্দোলনের রিমোট কন্ট্রোল এখন শিক্ষার্থীদের হাতে নেই, এটি অন্য কেউ নিয়ন্ত্রণ করছে।’

এছাড়াও যারা নিজেদের রাজাকার বলে স্লোগান দিচ্ছে তাদের শেষ দেখে নেয়ারও হুশিয়ারি দেন তিনি। 


কোটা আন্দোলন   ঢাবি   ছাত্রলীগ   আন্দোলনকারী  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

রাজাকার স্লোগানধারীরা এ যুগের রাজাকার: শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশ: ০৩:৩২ পিএম, ১৫ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

কোটা আন্দোলনে যারা নিজেদেরকে রাজাকার বলে স্লোগান ‍দিচ্ছে তাদেরকে এ যুগের রাজাকার বলে অভিহিত করেছেন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। এ রাজকারদের পরিণতি ওই যুগের রাজাকারদের মতোই হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।  

সোমবার (১৫ জুলাই) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এসব কথা উল্লেখ করেছেন।

ফেসবুক স্টেটাসে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে কোটা ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে অনেকেই পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা করেছে, আন্দোলন করেছে। এটি অবশ্যই নাগরিক অধিকার। ব্যাপারে কারও কোনো দ্বিমত নেই।

কিন্তু যারা প্রকাশ্যে নিজের আত্মপরিচয়, জন্ম পরিচয়, ব্যক্তিত্ব বিসর্জন দিয়ে, ‘তুমি কে, আমি কে রাজাকার! রাজাকার!’ স্লোগান দিয়েছে, এরা সবাই এই যুগের রাজাকার।

এরা রাষ্ট্র মানে না, আদালত মানে না, ইতিহাস মানে না, এবং সর্বোপরি এই দেশকেই মানে না!

আর ফেসবুকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই যুগের রাজাকারেরা একটু সক্রিয় বেশি। কারণ, কিছু একটা মন্তব্য লিখে, একটা স্ট্যাটাস দেওয়ার ভার্চুয়াল রাজাকারি করা অনেক সহজ।

তিনি বলেন, রাজাকার আগেও ছিল এবং এর ধারাবাহিকতায় এখনও আছে! ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে প্রায় ২০% শতাংশ ভোট পড়েছিল নেজামি ইসলামি, মুসলিম লীগ ইত্যাদি মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী পক্ষ তথা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে। এই ২০% এর অর্ধেক ১০% ধরে আজকের ১৬ কোটি মানুষের সাথে মেলালে আসবে . কোটি। এর মধ্যে . কোটিও যদি সারাদিন নিজের রাজাকারির অরাজকতা প্রকাশ করে, বাকি জনগোষ্ঠীর তুলনায় এরা নগণ্যই থাকবে!

উল্লেখ্য, রোববার (১৪ জুলাই) বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে সম্প্রতি নিজের চীন সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে প্রসঙ্গক্রমে কোটা সংস্কার আন্দোলনের বিষয়টিও উঠে আসে। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে এত ক্ষোভ কেন? মুক্তিযোদ্ধার নাতি-নাতনিরা কোটা পাবে না, তাহলে কি রাজাকারের নাতিরা কোটা পাবে? তা তো আমরা দিতে পারি না।

সরকারপ্রধানের এমন বক্তব্যের প্রতিবাদে কোটা এদিন রাতেই বিক্ষোভে নামেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালসহ অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।


শিক্ষা মন্ত্রী  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

জাবি আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা, তোপের মুখে প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ

প্রকাশ: ০৩:১৮ পিএম, ১৫ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

কোটা সংস্কার নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় স্লোগান দেয়ায় কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ছাত্রলীগের জেরা ও মোবাইল ফোন চেক করার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিলে ছাত্রলীগের হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রলীগের হামলায় আন্দোলনকারীদের ৪ জন সহ অন্তত ৫ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গিয়েছে। আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার ও এনাম মেডিকেলে প্রেরণ করা হয়। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক নাজমুল হাসান তালুকদার পদত্যাগ করেছেন।

 

রোববার (১৪ জুলাই) রাত ৯ টার দিকে আন্দোলনে সংশ্লিষ্ট জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ছাত্রলীগের জেরা ও মোবাইল ফোন চেক করার ঘটনা ঘটে। এরই প্রেক্ষিতে হল প্রাধ্যক্ষকে এ ঘটনার জবাবদিহিতার জন্য এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের বিচার নিশ্চিতের দাবিতে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল সংলগ্ন সড়কে অবস্থান নেয়৷ 

 

পরে দিবাগত রাত ৩টার দিকে আন্দোলনকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল হল প্রদক্ষিণ শেষে বিক্ষোভ-মিছিলে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশ করতে গেলে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের বাধার সম্মুখীন হন তারা। ঘটনার এক পর্যায়ে হল ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা আন্দোলনকারীদের উপর হামলা করে বসে। ছাত্রলীগের হামলায় আন্দোলনকারীদের ৪ জন সহ অন্তত ৫ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গিয়েছে।

 

হামলার ঘটনায় আন্দোলনকারীদের মধ্যে আহসান লাবিব, সোহাগী সামিয়া, তৌহিদ সিয়াম ও মেহরাব সিফাতসহ একজন নিরাপত্তা কর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে আহসান লাবিবকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে সোহাগী সামিয়াকে এনাম মেডিকেলে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

হামলার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল ছাত্রলীগের সভাপতি পদপ্রত্যাশী ৪৬ ব্যাচের ছাত্র প্রাচুর্য সহ বেশ কয়েকজন হামলা করছেন। এছাড়া এ ঘটনায় শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ৪৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. আর রাফি চৌধুরী ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল্লাহর সম্পৃক্ততার বিষয়েও জানা গিয়েছে। 

 

ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া 'তুমি কে আমি কে, রাজাকার রাজাকার' স্লোগানে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজেদের হলেও এমন স্লোগান দেওয়ার পরিকল্পনা করেন কিছু শিক্ষার্থী। তারপর স্লোগান পুরো হলে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা সমস্বরে স্লোগান দিতে শুরু করলে 'পলিটিক্যাল ব্লক' থেকে কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষার্থী এসে তাদের সবাইকে ডেকে ডাইনিংয়ে আসতে বলেন। সেখানে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। 

 

ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ডাইনিং হলে ডেকে আনার পর শিক্ষার্থীদের স্লোগান দেওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করা হয়। এ সময় 'শিবির' সন্দেহে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন নিয়ে মেসেঞ্জারের মেসেজ চেক করা হয়। দীর্ঘসময় পর্যন্ত ডাইনিং হল থেকে চিৎকার-চেঁচামেচি শুনতে পান হলের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা। পরে সন্দেহজনক কিছু না পেয়ে তাদেরকে স্লোগানের জন্য ক্ষমা চাইতে বলা হয়। ছাত্রলীগের নেতারা এ সময় হল প্রভোস্ট অধ্যাপক নাজমুল হাসান তালুকদারকে সেখানে নিয়ে আসেন। প্রভোস্টের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা তাদের কাছে ক্ষমা চান। এরপর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

 

এরই প্রেক্ষিতে হল প্রাধ্যক্ষকে এ ঘটনার জবাবদিহিতার জন্য রাত পৌনে ১২টার দিকে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা ওই হলের সম্মুখে অবস্থান নেন। এসময় আন্দোলনকারীরা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের বিচার নিশ্চিতের জন্য বারবার তাগাদা দিলেও হল প্রাধ্যক্ষ বরাবরই বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

 

পরে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক নাজমুল হোসেন তালুকদারকে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়ে আলোচনায় বসতে দেখা যায়। এর কিছুক্ষণ পর রাত আড়াইটার দিকে আন্দোলনকারীরা মিছিল নিয়ে পুনরায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের সামনে আসলে মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে হল ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা তাদের অগ্রসর হতে বাধা প্রদান করতে রাস্তা আটকে স্লোগান দিতে থাকে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। 

 

এক পর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হলে শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক আর রাফি চৌধুরী ও অর্থ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম তাকিদের নেতৃত্বে হল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আন্দোলনকারী কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ধাওয়া করেন আন্দোলকারীরা। এ সময় ছাত্রলীগ কর্মীরা হলে ঢুকে গেটে তালা আটকে দেয়।

 

এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমগীর কবিরসহ কয়েকজন শিক্ষক উভয়ই পক্ষকে থামানোর চেষ্টা করেন। তবে প্রক্টর ও শিক্ষকদের প্রচেষ্টার তোয়াক্কা না করেই ছাত্রলীগের কর্মীরা বাধা প্রদান করতেই থাকে৷ তারা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের 'জামায়াত-শিবির' আখ্যা দেন এবং উপস্থিত নারী শিক্ষার্থীদের অশ্লীল কথাবার্তা বলেন। এক পর্যায়ে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের বাধা অতিক্রম করে আন্দোলনকারীরা হলের সামনে গেলে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা চেয়ার দিয়ে হামলা চালান।

 

এক পর্যায়ে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা হলের সকল লাইট বন্ধ করে দিয়ে ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন৷ এসময় হলের সামনে আন্দোলনকারীরা অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকে৷ এসময় উপর (ছাদ) থেকে ঢিল ছোড়ার অভিযোগ-ও করেন আন্দোলনকারীরা।

 

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা হল প্রাধ্যক্ষ আন্দোলনকারীদের দমাতে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের উস্কে দিয়ে মুখোমুখি দাড় করিয়ে দেন এমন অভিযোগ করলে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক নাজমুল হাসান তালুকদার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তবে শিক্ষার্থীরা এসময় তাকে ঘিরে এ ঘটনার জবাবদিহিতা চান। একপর্যায়ে 'আমি পদত্যাগ করলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপকার হবে' এমন মন্তব্য করে মৌখিকভাবে তিনি পদত্যাগ করেন।

 

ঘটনার বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের ৪৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী আহসান লাবিব বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল হলের সামনে বিক্ষোভ মিছিল শেষ করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের সামনে এসে উপস্থিত হই৷ এসময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আমাদের হল গেটে যেতে বাধা দেয়। আমরা শিক্ষকের সাথে কথা বলতে নিলে আমায় সামনে থেকে প্রথমে মাথায় ঘুষি দেয়া হয়৷ পরে আমার বুকেও আঘাত করে তারা। এতে করে আমি মাটিতে পড়ে যাই এবং আমার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। পরে আমি ক্যাম্পাস মেডিকেলে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করি।

 

আরেক ভুক্তভোগী নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ৫১ ব্যাচের শিক্ষার্থী সোহাগী সামিয়া বলেন, আমরা যখন হলগেট থেকে ফিরে এসে ফাকা স্থানে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম তখন হলের ছাদ থেকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আমাদের ইট পাটকেল ছুড়তে থাকে। এই সময়ই একটা ইটের ভাঙা অর্ধেক অংশ আমার পায়ের উপর এসে পড়ে। পরে আমাকে মেডিকেলে নিয়ে আসা হয়।

 

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে শাখা ছাত্রলীগের অর্থ সম্পাদক ও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের ছাত্রলীগের জ্যেষ্ঠ নেতা তৌহিদুল আলম তাকিদ গণমাধ্যমকে বলেন, 'আন্দোলনকারীরা আমাদের হলের সামনে এসে কোটা আন্দোলনের নামে মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও ছাত্রলীগকে অবমাননা করে স্লোগান দিচ্ছিল। তখন আমরা একটা শান্তিপূর্ণ মিছিল নিয়ে যেতে চাইলে তারা বাধা দেন এবং গালিগালাজ করেন। তাদের ওপর কোনো হামলা করিনি, যথেষ্ট সম্মান দেখিয়েছি। আমরা হলে ফিরে যাওয়ার সময় তারাই আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে।'

 

জাবি ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি আলিফ মাহমুদ বলেন, আমরা বলেছিলাম নির্যাতন কান্ডে যারা জড়িত সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তাদেরকে শনাক্ত করতে। কিন্তু হল প্রভোস্ট ছাত্রলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সাথে মিটিং করেন। এর আগেও ধর্ষণকান্ডে জড়িতদের নিরাপত্তা দিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব করে দিয়েছিলেন এই নাজমুল হোসেন তালুকদার। ভিসি ১৭ এপ্রিল আল্টিমেটাম দিলেও তার কথা তিনি রাখতে পারেন নি। প্রতিনিয়ত মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরাই এ ধরণের ন্যাক্কারজনক ঘটনার সাক্ষ্য বহন করে চললেও প্রশানের নেই কোনো কার্যকর হস্তক্ষেপ। আজকের এই ঘটনায় দায় প্রশাসন কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না।

ঘটনা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) মোস্তফা ফিরোজসহ প্রশাসনের পক্ষে কয়েকজন শিক্ষক ঘটনস্থল পরিদর্শনে আসেন। এসময় উপ-উপাচার্য তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন এবং সকাল ১১টায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সাথে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ বসবেন বলে আশ্বস্ত করেন। পরে ভোর পৌনে ৫টায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা হলে ফিরে যান।


কোটা আন্দোলন   জাবি   হামলা   পদত্যাগ   প্রাধ্যক্ষ  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন