ইনসাইড পলিটিক্স

ভিসা নিষেধাজ্ঞার পর বিএনপিতে পাঁচ শঙ্কা

প্রকাশ: ০৭:০০ পিএম, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৩


Thumbnail

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গত ২২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের কয়েকজন নাগরিকদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এই নিষেধাজ্ঞার পর বিএনপির মধ্যে এক ধরনের উল্লাস লক্ষ্য করা গেছে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ভিসা নিষেধাজ্ঞা জাতির জন্য লজ্জাজনক এবং এর জন্য শুধুমাত্র সরকার দায়ী। বিএনপির নেতাদের গতকালের কর্মসূচিতেই ভিসা নিষেধাজ্ঞার প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। তাদের মধ্যে একটা চাঙ্গা ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে ভিসা নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষিতে বিএনপির মধ্যে বিভিন্ন ধরনের শঙ্কা এবং উৎকণ্ঠাও তৈরি হয়েছে। 

বিএনপির নেতারা বলছেন যে, এই ভিসা নিষেধাজ্ঞার ফলে তাদের বিরুদ্ধে কিছু কিছু চাপ তৈরি হচ্ছে এবং কিছু সমস্যাও তৈরি হতে পারে। এই সমস্যা এবং চাপ গুলোকে তারা কিভাবে মোকাবিলা করবে এটি এখন বিএনপির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। যে সমস্ত শঙ্কা বিএনপির মধ্যে ভিসা নিষেধাজ্ঞা পর তৈরি হয়েছে তা হল-
 
১. নির্বাচনে নিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চায় বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। আর বিএনপিকে নির্বাচনে আনার জন্য তারা বিভিন্ন ধরনের আলাপ আলোচনা চালাচ্ছে। ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারির পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিএনপির ওপর চাপ দেওয়াটা সহজ হবে বলে বিএনপির অনেক নেতা মনে করছেন। বিএনপিকে যুক্তরাষ্ট্র বলবে যে, বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামোর অধীনেই নির্বাচন করতে হবে। নির্বাচনে যদি কোন কারচুপি হয় বা অন্যরকম কোনো অনিয়ম হয় কিংবা সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে যারা বাধা সৃষ্টি করবে তাদের ব্যাপারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবে। কাজেই এই ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারির পর যুক্তরাষ্ট্র বিএনপিকে বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামোর অধীনে নির্বাচনে আনার জন্য একটি চাপ দেবে। 

বিএনপির নেতারা স্বীকার করছেন যে, এরকম চাপটি এখন ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বলছে যে, আমরা নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করব। তোমরা নির্বাচনে যাও। 

২. আন্দোলনের গতিধারা নিয়ন্ত্রণ করবে ভিসা নিষেধাজ্ঞা: নিষেধাজ্ঞার ফলে নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না, নির্বাচন হতে দেব না, নির্বাচন প্রতিহত করা হবে ইত্যাদি কথা একেবারেই নিরুৎসাহিত করছে বিএনপি নেতারা। গতকালই বিএনপি নেতাদের কথার সুর পাল্টে গেছে। বিএনপির নেতারা গতকাল বলছেন যে, সরকার চায় না বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। এখন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরে যদি বিএনপি জ্বালাও-পোড়াও বা সহিংস আন্দোলন করতে চায় তাহলে সেটি তাদের জন্য বুমেরাং হয়ে যাবে। এর ফলে বিএনপির নেতারাই ভিসা নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসবে এবং তাদের দাবি আদায় সম্ভব হবে না। 

৩. শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন: বিএনপি মনে করছে যে, ভিসা নিষেধাজ্ঞা হোক আর যাই হোক না কেন শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন হলে সেই নির্বাচনে বিএনপির জয়লাভের কোন সম্ভাবনা নেই। আর এ ধরনের নির্বাচন হলে যত নিরপেক্ষ নির্বাচনই হোক না কেন নির্বাচনে বিএনপির পরাজয় হবে অনিবার্য। এরকম একটি নির্বাচনে বিএনপির নেতারা অংশগ্রহণে অনাগ্রহী। বিএনপির পক্ষ থেকে মনে করা হচ্ছে যে, শেখ হাসিনা থাকলে সেই নির্বাচন বিএনপর জন্য অর্থহীন হয়ে পড়বে। 

৪. আন্তর্জাতিক চাপ: বিএনপি মনে করছে যে , মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিষেধাজ্ঞার ফলে বিএনপির ওপর আন্তর্জাতিক নানামুখী চাপ বাড়বে এবং বিএনপিকে নিয়ন্ত্রণ করবে আন্তর্জাতিক মহল। এটি বিএনপি র স্বাধীন সক্রিয় আন্দোলনের জন্য বাধা হবে। এমনকি তারেক জিয়াও এরকম একটি পরিস্থিতির দিকে দলকে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করবেন।

৫. দীর্ঘমেয়াদী অনির্বাচিত সরকার: যদি দীর্ঘ মেয়াদী একটি অনির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে সেটিও বিএনপির জন্য দুর্ভাগ্যের হতে পারে বলে অনেক বিএনপি নেতা মনে করছেন। তারা বলছেন, দীর্ঘদিন পর তারা দলকে গুছিয়ে ফেলেছেন। এরকম পরিস্থিতিতে যদি আবার অনির্বাচিত সরকার আসে তাহলে তাদের জন্য সেটি হিতে বিপরীত হতে পারে। এইসব শঙ্কা নিয়েই বিএনপি এখন রাজনীতির মাঠে আছে। আপাতদৃষ্টিতে বিএনপি ভিসা নীতিতে উৎসাহী, উদ্দীপ্ত হলেও ভেতরে ভেতরে তাদের মধ্যেও এক ধরনের শঙ্কা এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ভিসা নিষেধাজ্ঞা   আন্দোলন   নির্বাচন   বিএনপি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

হাল ছেড়ে দিয়েছেন বিএনপি নেতারা

প্রকাশ: ০৭:০০ পিএম, ০৪ মার্চ, ২০২৪


Thumbnail

সরকার পতনের আন্দোলনে হাল ছেড়ে দিয়েছেন বিএনপি নেতারা। বিএনপিতে এখন চলছে হতাশার রাজত্ব। কর্মী এখন ইতিউতি ঘোরাফেরা করছেন। কেউ কেউ চাকরি নিচ্ছেন, কেউ কেউ রাজনীতি ছেড়ে ব্যবসা বাণিজ্য করার চেষ্টা করছেন। আর নেতারা এখন বাড়িতে আরামে আয়েশে বিশ্রাম করছেন। 

কদিন আগেও বিএনপির মধ্যে এক ধরনের আশাবাদ ছিল। তারা নতুন করে আন্দোলন শুরু করার চেষ্টাও করেছিল। কিন্তু এখন বিএনপির মধ্যে সেই আশাবাদ উঠে গেছে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কারাগার থেকে বের হওয়ার পর বাড়িতেই অবস্থান করছেন। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাকে খুব একটা সক্রিয় দেখা যায়নি। এখন তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে গেছেন। অন্যদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্য সদস্যরাও চুপচাপ ঘরে বসে বিশ্রাম নিচ্ছেন। 

একাধিক মামলা থেকে জামিন পেয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাথে মুক্তি পেয়েছিলেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মুক্তি পাওয়ার পর তিনিও আর সরব নেই। বরং তিনি বাড়িতেই বিশ্রাম নিচ্ছেন। 

বিএনপির আরেক নেতা মির্জা আব্বাসের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। মির্জা আব্বাস এখন উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও একাধিক সূত্র বাংলা ইনসাইডারকে জানিয়েছেন। 

আর যে সমস্ত নেতারা জেলের বাইরে ছিলেন, তাদের মধ্যে ড. মঈন খান এবং রুহুল কবির রিজভী অন্যতম। মঈন খান যতদিন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জেলে ছিলেন, ততদিন টুকটাক কিছু কাজকর্ম করেছেন। সরকারের বিরুদ্ধে কিছু চিত্কার চেঁচামেচি করতে দেখা গেছে তাকে। কিন্তু মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মুক্ত হওয়ার পর তিনিও নীরবতা অবলম্বন করছেন। দু একটা অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেওয়া ছাড়া তার কোন কাজকর্ম নেই। 

রুহুল কবির রিজভী সব সময় সরব থাকেন। সেই রিজভীও এখন বিবৃতি বন্দি হয়ে গেছে। দু একটা বিবৃতি দেওয়া ছাড়া তার কোন তৎপরতা নেই। বিএনপির কোন রাজনৈতিক কর্মসূচি নেই। বিএনপি বলেছিল যে, ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের পর তারা আন্দোলনের কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে। কিন্তু সেই কর্মসূচি বিএনপি অব্যাহত রাখতে পারেননি। আর এর ফলে বিএনপিতে এক ধরনের হাল ছেড়ে দেওয়া ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। 

বিএনপির কোন নেতাই অদূর ভবিষ্যতে আন্দোলন গড়ে তোলা বা সরকারের বিরুদ্ধে একটা প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য চিন্তা করছেন না। এটাকে তারা দুরাশা মনে করছেন। এর বড় কারণ হল যে, আন্তর্জাতিক মহল থেকে সরকারের ওপর কোন চাপ নেই। সরকারকে সকল মহলই স্বীকৃতি দিয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তিন সদস্যের প্রতিনিধি দলের সফরের পরই বিএনপি চুষে গেছে। এই সফরে মার্কিন প্রতিনিধি দল বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে ওই বৈঠক থেকে বেরিয়ে বিএনপি নেতাদের মধ্যে হতাশা লক্ষ্য করা গেছে। এখান থেকে স্পষ্ট প্রমাণিত হয়েছে যে, বিএনপির আন্দোলনের প্রতি বা এই সরকারকে হটিয়ে নতুন সরকার বসানোর ব্যাপারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোন ইতিবাচক সম্মতি নেই। ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন সরকারের সঙ্গে অংশীদারিত্বের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দিচ্ছে। এটি বিএনপির জন্য হতাশার সবচেয়ে বড় কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিএনপির নেতাদের মধ্যে তারেক জিয়াকে নিয়ে এক ধরনের অসন্তোষ, ক্ষোভ এবং হতাশা তৈরি হয়েছে। তিনি আন্দোলনের যে কৌশল দিচ্ছেন সেই কৌশলগুলো অবাস্তব এবং বাংলাদেশের বাস্তবতায় কোনভাবেই কার্যকর নয় বলে অধিকাংশ নেতা মনে করছেন। 

বিএনপির একজন শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, তারেক জিয়ার পাগলামির কাছে বিএনপি এখন জিম্মি হয়ে আছে। কর্মীদের মধ্যে অধিকাংশই নানারকম মামলায় জর্জরিত। তারা কোর্টে হাজিরা দেওয়া আর পালিয়ে থাকা নিয়েই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। তাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা। মামলা থেকে বাচার জন্য অনেকে সরকারের সঙ্গে দেন দরবার করছেন, অনেকে রাজনীতি ছেড়ে দিচ্ছেন। কেউ কেউ চাকরি বা ব্যবসা বাণিজ্য করার চেষ্টা করছেন। সবকিছু মিলিয়ে রাজনৈতিক দল হিসেবে ক্রমশ অস্তিত্বের সংকটে পড়ছে বিএনপি।

বিএনপি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

ভিআইপিরা চিকিৎসার জন্য বিদেশ যান কেন?

প্রকাশ: ০৫:০০ পিএম, ০৪ মার্চ, ২০২৪


Thumbnail

মহামান্য রাষ্ট্রপতি এই মুহূর্তে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে অবস্থান করছেন। তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে যুক্তরাজ্যে যাবেন এবং সেখানে তিনি চিকিৎসা করাবেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সিঙ্গাপুরে গেছেন। সিঙ্গাপুরে গেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও।

কদিন আগে চিকিৎসা শেষে সিঙ্গাপুর থেকে ফিরেছেন বিএনপির আরেক নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। বিদেশ থেকে চিকিৎসা শেষে ফিরেছেন বিএনপির আরেক নেতা মেজর অবসরপ্রাপ্ত হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি কিংবা অন্য কোন রাজনৈতিক দলের নেতারা দেশে সাধারণত চিকিৎসা নেন না। চিকিৎসার জন্য তারা বিদেশে যান। বাংলাদেশের চিকিৎসায় তাদের আস্থা নেই? অবশ্য আস্থা থাকবে কি করে? যেখানে সুন্নতে খাৎনা করতেই শিশুর মৃত্যু হয়, সেখানে বড় বড় ভিআইপিরা তাদের জীবনের ঝুঁকি কিভাবে নেবেব। 

বাংলাদেশে নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। অবৈধ ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো বন্ধের অভিযান পরিচালনা করছেন। কিন্তু এই অভিযান শেষ পর্যন্ত কতদূর যাবে বা এই অভিযানের পরিণতি কি হবে তা নিয়ে অনেকেই সন্দেহ রয়েছে।

এর আগে এরকম অভিযান শুরু করেছিলেন সাবেক স্বাস্থ্য সচিব মো: আবদুল মান্নান। কিন্তু সেই সময় মন্ত্রীর প্রবল আপত্তির মুখে সেই অভিযান স্থগিত হয়ে যায়। এখন অবশ্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী দুজনই সৎ, তাদের কর্মজীবনে দুর্নীতির কোন কালিমা নেই। তারা আন্তরিক ভাবেই দুর্নীতিমুক্ত করার চেষ্টা করছেন স্বাস্থ্য খাতকে। স্বাস্থ্যসচিবেরও সততার রেকর্ড রয়েছে। এরকম বাস্তবতায় হয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যে শুদ্ধি অভিযান তার দিকে তাকিয়ে আছে সাধারণ মানুষ। কিন্তু স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর যদি আস্থা ফেরাতে হয় তাহলে ভিআইপি বা যারা রাজনৈতিক নেতা তাদের বাংলাদেশেই চিকিৎসা গ্রহণের মানসিকতা তৈরি করতে হবে। এবং এই সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। তা না হলে সাধারণ মানুষ চিকিৎসার ব্যাপারে কতটুকু আস্থাশীল হবে সে প্রশ্ন থেকেই যাবে৷

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী একমাত্র দেশে চিকিৎসা নেন। তিনি ১০ টাকায় টিকিট কেটে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চক্ষু পরীক্ষা করেন। স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তিনি যান আশুলিয়া বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা বিশেষায়িত হাসপাতালে। খুব জটিল পরিস্থিতি না হলে বা দেশের চিকিৎসকরা অপারগতা প্রকাশ না করলে শেখ হাসিনা বিদেশে চিকিৎসার জন্য যান না। কিন্তু শেখ হাসিনার এই নীতি বা শেখ হাসিনার এই সংস্কৃতিকে কোনভাবেই অনুসরণ করেন না আওয়ামী লীগের নেতারা। হাঁচি কাশি হলেও আওয়ামী লীগের নেতারা বিদেশে যান।

শুধু আওয়ামী লীগের নেতাদেরকে দোষ দিয়ে লাভ কি। বিএনপির নেতারা এ ক্ষেত্রে তো আরও একধাপ ওপরে। বিএনপির কোনো নেতার সর্দি জ্বর হলেও তারা বিদেশে যান। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশে কোনো চিকিৎসা করেন না। দেশে চিকিৎসার ওপর তার আস্থা নেই বলে ধারণা করা হয়। বিএনপি দলগতভাবে দেশে চিকিৎসায় বিশ্বাস করে না। বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিয়ে যাওয়া তাদের প্রধান দাবি। এই দাবিতে তারা হরতাল পর্যন্ত করেছে। বিএনপির যে বড় বড় নামকরা চিকিৎসকরা রয়েছেন, যারা চেম্বার খুলে রীতিমতো রোগীদের গলা কাটেন, তারাও বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশ যেতে চান। এটি কি তাদের অযোগ্যতা প্রমাণ করে না? বিএনপিপন্থি যে সমস্ত চিকিৎসকরা এর আগে বিভিন্ন বড় বড় হাসপাতালে চিকিৎসা করছেন তাহলে কি তারা অদক্ষ অযোগ্য ছিলেন? 

বাংলাদেশে শুধুমাত্র বাংলাদেশের শুধুমাত্র রাজনীতিবিদরা না, বড় বড় ব্যবসায়ী, উচ্চবিত্তরা ও দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর কোন আস্থা রাখেন না। তারা যে কোন অসুখ বিসুখের জন্য বিদেশে যান। মধ্যবিত্ত থেকে উচ্চ বিত্তরা জটিল কঠিন অসুখের জন্য ভারতে যান। আর একটু ধর্নাঢ্য হলে তারা যান সিঙ্গাপুরে বা ব্যাংককে। এখন দুবাই বা সংযুক্ত আমিরাতেও স্বাস্থ্য পরীক্ষার ঠিকানা হয়েছে।

একটু বেশি বড়লোকরা চিকিৎসার জন্য যান লন্ডন বা অ্যামেরিকায়। দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা যদি দেশের চিকিৎসায় আস্থাশীল না হন তাহলে সাধারণ মানুষ কতটুকু নিশ্চিন্তে চিকিৎসা নিতে পারবে। সেক্ষেত্রে যে অঘটনগুলো ঘটছে সেই অঘটনের পর গরীব মানুষও স্বাস্থ্যের জন্য বিদেশমুখি হবেনা তা কে গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারে। এ কারণে এখন স্বাস্থ্য খাতে সবার আগে আস্থা ফেরানোটা জরুরী বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

ভিআইপি   চিকিৎসা   সিঙ্গাপুর   মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর   ওবায়দুল কাদের  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল

প্রকাশ: ১০:৪১ এএম, ০৪ মার্চ, ২০২৪


Thumbnail

চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওয়ানা দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ (সোমবার) সকাল সাড়ে ৮টার একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকা ছাড়েন। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

তিনি জানান, চিকিৎসার জন্য আজ সকাল সাড়ে ৮টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সঙ্গে উনার স্ত্রী রাহাত আরা বেগম আছেন। 


মির্জা ফখরুল   বিএনপি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

কোন্দলের প্রতীক হয়ে উঠেছে কুমিল্লা-ময়মনসিংহ সিটি নির্বাচন

প্রকাশ: ১১:০৫ পিএম, ০৩ মার্চ, ২০২৪


Thumbnail

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের তৃণমূলে যে কোন্দল ও বিভক্তি তৈরি হয়েছে, তা নির্বাচন পরবর্তীতেও অব্যাহত রয়েছে। এখনও কোন কোন জায়গায় সহিংসতার কথা শোনা যাচ্ছে। যদিও এই কোন্দল ও বিভক্তি ঠেকাতে আওয়ামী লীগ উদ্যোগ নিয়েছে এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনাও উচ্চারণ করেছেন বারবার। ইতোমধ্যে দলীয় কোন্দল এবং বিভক্তি মেটাতে বিভাগীয় নেতাদেরকে দায়িত্বও দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। শুধু তাই নয়, এই বিভক্তি ঠেকাতে সামনের উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না দেওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছে ক্ষমতাসীন দলটি। কিন্তু এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দলটি তার অভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটাতে সক্ষম হচ্ছে না। বরং দিন দিন তা বেড়েই চলছে। সামনের দিনগুলোতে আরও বাড়বে সেই বার্তাই দিচ্ছে কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ সিটি নির্বাচন। কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ সিটি নির্বাচন যেন আওয়ামী লীগের কোন্দলের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

আগামী ৯ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এই দুই সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে নির্বাচন করছেন আওয়ামী লীগেরই প্রার্থী। যদিও অন্যান্য দলের প্রার্থীও রয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগেরই একাধিক প্রার্থী থাকার কারণে পরস্পর পরস্পরের বিরুদ্ধে বিষেদাগার করছেন, একজন অন্যজনের বিরুদ্ধে কাদা ছোড়াছুড়ি করছেন। ফলে দলীয় কর্মীরাও বিভক্ত হয়ে পড়ছেন এবং নিজেদের মধ্যে সহিংসতার ঘটনাও ঘটছে।

জানা গেছে, কুমিল্লা সিটি উপনির্বাচনের মেয়র পদে নির্বাচন করছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দীন বাহারের মেয়ে ডা. তাহসিন বাহার সূচনা। অন্যদিকে মেয়র পদে নির্বাচনে লড়ছেন আওয়ামী লীগেরই আরেক নেতা নূর উর রহমান মাহমুদ তানিম। ডা. তাহসিন বাহার সূচনা ও নূর উর রহমান মাহমুদ তানিম এই দুই মেয়র প্রার্থী আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। নির্বাচন প্রচারণায় একে অন্যের বিরুদ্ধে বাধা দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তারা।

এদিকে নির্বাচন ঘিরে বিভাজন বাড়ছে ময়মনসিংহ আওয়ামী লীগেও। জাতীয় নির্বাচনে দলের স্বতন্ত্রপ্রার্থীদের উন্মুক্ত করে দেওয়ায় মহানগর আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বিভক্ত হয়ে কাজ করেন। আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও দেখা যাচ্ছে একই চিত্র। কেউ দলীয় প্রার্থী কেউ স্বতন্ত্রপ্রার্থীর হয়ে রয়েছেন মাঠে। 

জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৪ আসনে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহিতুর রহমান শান্তকে মনোনয়ন দেয় দল। অন্যদিকে স্বতন্ত্রপ্রার্থী হন দলটির সহ-সভাপতি শামীম হক। তিনি মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মেয়র ইকরামুল হক টিটুর বড় ভাই। সঙ্গত কারণেই টিটু বড় ভাইয়ের পক্ষে জাতীয় নির্বাচনে কাজ করেন। তবে ফলাফলে সাধারণ সম্পাদক মোহিতুর রহমান নৌকা প্রতীক নিয়ে জয়লাভ করেন।

এবার ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বর্তমান মেয়র ইকরামুল হক টিটুসহ ছয়জন। এর মধ্যে জাতীয় পার্টির একজন ছাড়া বাকি পাঁচজন আওয়ামী লীগের বড় পদধারী নেতা। এমনকি মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিও আছেন প্রার্থিতায়। ফলে নিজ দলীয় একাধিক প্রার্থী হওয়ায় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বিভাজন। পাশাপাশি জাতীয় নির্বাচন ঘিরে টিটু-শান্তর বিরোধপূর্ণ অবস্থানও সামনে এসেছে। এ রকম বাস্তবতায় আওয়ামী লীগের তৃণমূলের কোন্দলের প্রতীক হয়ে উঠেছে এখন কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন নির্বাচন।





তৃণমূলের কোন্দল   কুমিল্লা সিটি নির্বাচন   ময়মনসিংহ সিটি নির্বাচন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

উপজেলা নির্বাচন ঘিরে ঘনিষ্ঠ হচ্ছে বিএনপি-জামায়াত

প্রকাশ: ১০:০০ পিএম, ০৩ মার্চ, ২০২৪


Thumbnail

বিএনপির রাজনৈতিক মিত্র জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছে। বিএনপির সঙ্গে একমত হয়ে দলীয় সরকারের অধীনে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়নি জামায়াত। এমনকি নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপি ও তাদের সমমনা দলগুলোর আন্দোলন কর্মসূচিতে অগ্রভাগে ছিল ইসলামী এই দলটি।

বিএনপির বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন রয়েছে যে, জামায়াতের পরামর্শেই বিএনপি নির্বাচনের আগে আগে জ্বালাও পোড়াও এর মতো সহিংস কর্মসূচিতে যায় এবং রেলে পরিকল্পিত সহিংসতা ঘটায়। আর এ ধরনের সহিংসতার পথ বেছে নেওয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ পশ্চিমা দেশগুলো বিএনপি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। ফলে নির্বাচন বানচালের যে পরিকল্পনা বিএনপি নিয়েছিল সেটি ভেস্তে যায় শেষ পর্যন্ত পশ্চিমাদের সমর্থন না পাওয়ার কারণে। এ নিয়ে বিএনপি এবং জামায়াতের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়। তবে এবার সে দূরত্ব ঘোচানোর জন্য উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি এবং জামায়াত।

উল্লেখ্য যে, আওয়ামী লীগ আগামী উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন না করার ঘোষণা দিয়েছে। এ ব্যাপারে ইতোমধ্যে দলগত সিদ্ধান্তও হয়েছে। কোন প্রার্থীকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সমর্থন দেওয়া হবে না। এমনকি, এমপি-মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের নেতারা কোন প্রার্থীকে প্রকাশ্য সমর্থনও দিতে পারবেন না। ফলে এবার উপজেলা নির্বাচন হচ্ছে দলীয় প্রতীক ছাড়াই। আর এটাকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে চাইছে বিএনপি-জামায়াত উভয়ই।

বিএনপি এবং জামায়াতের নীতিনির্ধারক মহল মনে করছে যে, ২৮ অক্টোবরের ঘটনার পর বিশেষ করে নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পর দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে। ফলে সাংগঠনিক ভাবেও উভয় দলই এখন বিপর্যস্ত। এরকম বাস্তবতায় উপজেলা নির্বাচনকে সংগঠন গোছানোর সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে চায় বিএনপি এবং জামায়াত জোট। আর এই বিবেচনা থেকে ইতোমধ্যে বিএনপি এবং জামায়াতের নেতৃবৃন্দের মধ্যে তিনটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বাংলা ইনসাইডারকে নিশ্চিত করেছে।

বিএনপির সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, আসন্ন উপজেলা নির্বাচন তারা আনুষ্ঠানিক ভাবে নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা করবে না। তারা বিষয়টিকে দলীয় ভাবে উপেক্ষা করবে। দলগত ভাবে বিএনপি এ ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত দিবে না। যে যার মতো করে নির্বাচন করবে এবং ব্যক্তিগত ভাবে বিএনপির যে সমস্ত নেতাকর্মীরা নির্বাচন করতে চায় বা আগ্রহী ইতোমধ্যে বিএনপির হাইকমান্ড থেকে তাদের সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন নিয়ে তারা প্রকাশ্যে কোন তৎপরতা চালাবে না বলেও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেছে। তবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া কারও বিরুদ্ধে দলীয় কোন সিদ্ধান্ত নেবে না।

এদিকে বিএনপির মিত্র জামায়াতের যেহেতু নিবন্ধন নেই তাই জামায়াতও উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে বিএনপির মতো তারাও ব্যক্তি পর্যায়ে নির্বাচন করতে ইচ্ছুক এমন প্রার্থীদেরকে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি এবং জামায়াত এক সঙ্গে কাজও শুরু করেছে। বিশেষ করে নির্বাচনে জয় সুনিশ্চিত করতে যেখানে যেখানে বিএনপির প্রার্থী থাকবে সেখানে যেন জামায়াতের কোন প্রার্থী না দাঁড়ায় সেটি বিষয়টি নিয়ে দুই দলই এক সঙ্গে কাজ করছে বলে জানা গেছে। উপজেলা নিয়ে ইতোমধ্যে বিএনপি এবং জামায়াতের মধ্যে অন্তত তিনটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে এভাবেই বিএনপি-জামায়াত আবার একত্র হচ্ছে বলে দায়িত্বশীল সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। এখন দেখার বিষয় উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত কি চমক দেখায়।



উপজেলা নির্বাচন   বিএনপি   জায়ায়াত  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন