ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

যুক্তরাষ্ট্রে আরেক বাংলাদেশির ৫'শ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ

প্রকাশ: ০২:০০ পিএম, ১৩ অক্টোবর, ২০২৩


Thumbnail

যুক্তরাষ্ট্রে দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে ধরা পড়েছেন আরেক জন বাংলাদেশি। গত ৪ অক্টোবর তার  জ্ঞাত আয় বহির্ভূত ৫'শ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ হিসেবে ৫০ মিলিয়ন ডলারের সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। এই বিতর্কিত আলোচিত ব্যবসায়ীর নাম মোতাজ্জেরুল ইসলাম ওরফে মিঠু। তিনি বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের আলোচিত ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন নামে বেনামে অবৈধ কেনাকাটার মাধ্যমে তিনি স্বাস্থ্যখাতে ব্যাপক দুর্নীতি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। 

মিঠু ২০১৬ সালে ‘ট্যাক্স হ্যাভেন’ হিসেবে পরিচিত দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোতে কোম্পানি খোলেন এবং পানামা পেপারসে তার নাম উঠেছিল। এই দ্বীপ রাষ্ট্র থেকেই তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্বের আবেদন করেন এবং বিনিয়োগ কোটায় নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তার বিনিয়োগের সঠিক উৎস তিনি জানাতে ব্যর্থ হয়েছেন। গত বছরের অক্টোবর মাস থেকে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছিল। দীর্ঘ এক বছরের তদন্ত শেষে গত ৪ অক্টোবর তার মোট ৫০ মিলিয়ন ডলার অর্থাৎ বাংলাদেশি টাকায় পাঁচশো কোটি টাকার বেশি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তবে মিঠু বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন এবং তিনি বাংলা ইনসাইডার প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন তার বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা অবৈধ, অন্যায় এবং না বুঝে করা হয়েছে। এর বিরুদ্ধে তিনি আইনের আশ্রয় গ্রহণ করবেন। 

মিঠুর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যে সমস্ত সম্পদ জব্দ করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে নিউ ইয়র্কের ব্রংকস নামে আভিজাত এলাকায় অ্যাপার্টমেন্ট। যেটি ২ মিলিয়ন ডলার দিয়ে তিনি কিনেছিলেন। তার বর্তমান মূল্য এখন ৪ মিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। আটলান্টায় মোটেল সিক্স নামে একটি বিলাসবহুল মোটেলের অংশীদার। যেখানে তার অংশীদারিত্ব ৭ মিলিয়ন ডলার। নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটে মিঠুর নামে দুটি দোকান রয়েছে। এই দুটি দোকানের মূল্য এক মিলিয়ন ডলার। এছাড়া ম্যান হার্ডনে ৪ হাজার স্কয়ার ফিটের তার একটি অফিস কক্ষ রয়েছে। যেটির মূল্য ১৫ মিলিয়ন ডলার। এছাড়াও ফ্লোরিডা এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় তার দুটি অ্যাপার্টমেন্ট জব্দ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

মিঠু বাংলাদেশে আলোচনায় আসেন আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর। এই সময় তিনি তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আ ফ ম রুহুল হকের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে স্বাস্থ্য খাতে বিপুল লুটপাট শুরু করেন। পরবর্তীতে যারাই স্বাস্থ্যমন্ত্রী হয়েছেন সবার সঙ্গেই তার সখ্যতা গড়ে উঠেছে। 

মোতাজ্জেরুল ইসলাম ‘মিঠু কন্টাক্টর’ নামে পরিচিত। তার বাড়ি রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুরে তিস্তা নদীর পাড়ে। তিনি আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আ ফ ম রুহুল হকের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিতে পরিণত হন। এরপর থেকেই স্বাস্থ্য খাতে কেনাকাটায় একচেটিয়া রাজত্ব করেন। কিন্তু কোন বারই তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। বিভিন্ন সময় তার বিরুদ্ধে তদন্ত হলেও সেই সমস্ত তদন্ত থেকে তিনি বেরিয়ে যান। 

২০১৬ সাল থেকে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যখন তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয় তখন তিনি অস্ট্রেলিয়ায় ব্যবসা গুছিয়ে ফেলেন এবং সেখানেই তিনি এখন ব্যবসা করছেন। ঢাকায় তার মূল প্রতিষ্ঠান লেক্সিকোন মার্চেন্টাইস। তবে এই প্রতিষ্ঠান ছাড়াও তার অন্তত ৩০ টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। মিঠুর সম্পত্তি জব্দ সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের আদেশে বলা হয়েছে যে, এই সম্পদগুলো বৈধ পথে উপার্জিত নয় এবং তার এই সম্পদ অর্জনের উৎস মিঠু দেখাতে পারেনি। আর এ কারণেই তার সম্পত্তিগুলো জব্দ করেছে। তবে মিঠু এখন এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকার গ্রহনের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলে জানিয়েছেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র   সম্পদ জব্দ   মোতাজ্জেরুল ইসলাম   দুর্নীতি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

শত কোটি টাকার মালিক প্রধানমন্ত্রীর আরেক চাকর মান্নান

প্রকাশ: ০৫:০০ পিএম, ১৫ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail সস্ত্রীক মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান।

তার নাম মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাকর ছিলেন দীর্ঘদিন ধরে। প্রধানমন্ত্রীর ফাই-ফরমাস করছেন। বাজার হাট করে দিতেন এবং জাহাঙ্গীরের (প্রধানমন্ত্রীর আরেক চাকর) চেয়ে এক ধাপ নিচের হিসেবে তাকে বিবেচনা করা হতো। সেই মোহাম্মদ আব্দুল মান্নানও এখন ১০০ কোটি টাকার মালিক। আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন অনুসন্ধান করছে। তবে কুমিল্লা নিবাসী মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান এখন দেশে নেই। তিনি বিদেশে আছেন। 


জানা গেছে, কানাডায় তার বিপুল সম্পত্তি আছে। সেখানে তিনি বাড়ি করেছেন। তার মেয়েকে কানাডায় পড়িয়েছেন। মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত কর্মচারী ছিলেন। তাকে কাজের লোক হিসেবে বিবেচনা করা হতো। কিন্তু কাজের লোক হয়ে আস্তে আস্তে আওয়ামী লীগের নেতা এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে শুরু করেন। প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতির অনেক গুরুত্বপূর্ণ গোপন ফাইল দেখতেন। আগাম সেই ফাইলের খবর বিভিন্ন জনকে জানিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিতেন। পরবর্তীতে তিনি কুমিল্লা অঞ্চলে বিপুল পরিমাণ সম্পদ গড়েছেন। ঢাকায় তার একাধিক বাড়ি রয়েছে। তবে একটা সময় যখন প্রধানমন্ত্রী জানতে পারেন তার (আব্দুল মান্নান) বিপুল বিত্তের কাহিনি, তখন তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে দেশ থেকে পালিয়ে যান মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান। মোহাম্মদ আব্দুল মান্নানের মেয়ে কানাডার দামী ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করেছে। বিপুল পরিমাণ সম্পদ সেখানে পাচার করা হয়েছে। কানাডা ছাড়াও আরও কয়েকটি দেশে মোহাম্মদ আব্দুল মান্নানের সম্পত্তি আছে বলে জানা গেছে। 


এভাবে পোস্টারিং করে প্রতারণার আশ্রয় নিতো মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, জাহাঙ্গীরের মতো মোহাম্মদ আব্দুল মান্নানের যখন অবৈধ কর্মকাণ্ড সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় তথ্য পায় তখনই বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয় এবং প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ব্যক্তিগত কর্মচারী থেকে বাদ দেন। তাকে গণভবনে ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। কিন্তু তার বিরুদ্ধে যে তদন্তগুলো হয়েছিল সেই তদন্তগুলো তিনি প্রধানমন্ত্রীর একদা ঘনিষ্ঠ এরকম একটা ধারণা দিয়ে বাধাপ্রাপ্ত করেছিলেন। এরপর তিনি দেশ থেকে পালিয়ে যান। 


দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান এবং তার স্ত্রীর নামে ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি রয়েছে। তার বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১০০ কোটি টাকা ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সেই টাকা সবই বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। 

উল্লেখ্য যে, আব্দুল মান্নান প্রধানমন্ত্রীর চা সরবরাহকারী, বাজার করার সূত্রে প্রধানমন্ত্রীর কক্ষে যেতে পারতেন এবং সেখানে প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর ফাইলগুলো দেখতেন। বিশেষ করে বিভিন্ন পদোন্নতি এবং নিয়োগ সংক্রান্ত ফাইলগুলো দেখে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বিভিন্ন ব্যক্তিকে অবহিত করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিতেন। এছাড়াও বিভিন্ন ব্যবসায়ীকে ব্লাকমেইল করা, ব্যবসায়ীদের গোপন তথ্য দেয়ার মাধ্যমেও বিত্তবান হয়েছিলেন আব্দুল মান্নান। অবশ্য এই সমস্ত ঘটনা নিয়ে এর আগেও তদন্ত হয়েছে এবং এ সমস্ত তদন্তের পর তাকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বিচ্যুতি করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আব্দুল মান্নান প্রধানমন্ত্রীর চাকর হিসেবে বহিষ্কৃত হবার পরও বেশ কিছু ধরে অনিয়ম করেছিলেন। তারপর যখন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হয় তখন তা টের পেয়ে তিনি দেশ থেকে পালিয়ে গেছেন। বর্তমানে তিনি কানাডায় অবস্থান করছেন বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান   দুর্নীতি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

প্রধানমন্ত্রীর এই পিয়ন কে?

প্রকাশ: ০৮:০০ পিএম, ১৪ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

আজ গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমার পিয়নও ৪০০ কোটি টাকার মালিক। হেলিকপ্টার ছাড়া এলাকায় যেত না। জানতে পারার পর আমি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রীর ওই পিয়নের নাম বলেননি। কিন্তু বাংলা ইনসাইডারের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, ওই পিয়নের নাম জাহাঙ্গীর। দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত কর্মচারী হিসেবে কাজ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর ব্যাগ বহন করতেন, প্রধানমন্ত্রীর খাবার সামনে এগিয়ে দিতেন এবং অন্যান্য ফাই-ফরমাশ খাটতেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি যখন বিরোধী দলে তখন থেকেই জাহাঙ্গীর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী ঢাকার বাইরে যখন বিভিন্ন রাজনৈতিক সভায় যেতেন সেখানেও জাহাঙ্গীরকে দেখা যেত। আস্তে আস্তে জাহাঙ্গীরের একটি রাজনৈতিক বলয় তৈরি হয়ে যায়।


নোয়াখলী জেলার চাটখিল উপজেলায় জাহাঙ্গীরের বাড়ি। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ দ্বিতীয়বারের মতো সরকার গঠন করলে জাহাঙ্গীর গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মচারী হন। সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রীর ফাই-ফরমাশ খাটা শুরু করেন। গণভবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের আনাগোনা শুরু হলে সকলের সঙ্গে সখ্যতা তৈরি করেন। প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মচারী এই সুবিধা নিয়ে তিনি অনেক গোপন নথির সন্ধান পেতেন। অনেকের তদবির করে দেওয়া শুরু করেন। আস্তে আস্তে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে একজন প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুরো বিষয়গুলো জানতে পারেন। এটি জানার পর জাহাঙ্গীরকে গণভবন থেকে বের করে দেওয়া হয়। কিন্তু গণভবনে থাকার সময় তিনি আওয়ামী লীগ নেতাদের চেয়ে ক্ষমতাবান হয়ে উঠেছিলেন। আওয়ামী লীগের কিছু কিছু ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ,  গণভবনে থাকেন, তাকে বলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করা যায় ইত্যাদি ভ্রান্ত ধারণার বশবর্তী হয়ে জাহাঙ্গীরের প্রতি আলাদা ‘শ্রদ্ধাবোধ’ দেখাতে শুরু করেন। তাদের কেউ কেউ জাহাঙ্গীরকে ‘স্যার’ ডেকেছেন বলেও শোনা যায়। এমনকী, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও জাহাঙ্গীরের কাছে তদবির করতেন। এই জাহাঙ্গীর গণভবনে থেকে বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাকে প্রধানমন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন তদবির করতেন। এভাবে আস্তে আস্তে বিত্তশালী হয়ে ওঠেন এই কাজের লোক। পরবর্তীতে অবশ্য গণভবন থেকে রেবিয়ে যাওয়ার পর এখন তাকে রাজনীতিতে দেখা যায় না। 

গণভবন থেকে বহিষ্কৃত হবার পরও জাহাঙ্গীর তার অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যান। এর প্রেক্ষিতে গত বছরের ৬ ডিসেম্বর জাহাঙ্গীরের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সেই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী বিশেষ সহকারী পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন জাহাঙ্গীর। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার জন্য আহ্বান জানানো হয়।

আজ প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সন্মেলনে বক্তব্যের পর দুর্নীতি দমন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন যে, বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবহিত এবং জাহাঙ্গীরের ব্যাপারে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। খুব শিগগির তার সম্পদ জব্দের প্রক্রিয়া শুরু হবে। 

তবে জাহাঙ্গীর এখন দেশের বাইরে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।



মন্তব্য করুন


ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

যুক্তরাজ্যে থাকতে হলে রাজনীতি ছাড়তে হবে তারেককে

প্রকাশ: ১০:০০ পিএম, ১৩ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

যুক্তরাজ্যে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করার পরই সেই দেশের আভ্যন্তরীণ নীতি, পররাষ্ট্রনীতিতে বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছে সরকার। স্টারমার সরকার অভিবাসী নীতির বিপক্ষে নয়। তবে অভিবাসীদের কিছু সীমারেখার মধ্যে আবদ্ধ থাকা উচিত বলে তারা মনে করছেন। স্টারমার সরকার মনে করছে যে, অভিবাসীরা যুক্তরাজ্যে অবস্থান করে যা খুশি তা করলে যেমন পররাষ্ট্রনীতির ওপর তার প্রভাব পড়ছে, অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের স্থিতিশীলতা এবং ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এ কারণেই লেবার সরকার তার প্রথম দিকে যে সমস্ত নীতি এবং উদ্যোগগুলো গ্রহণ করতে যাচ্ছে, তার মধ্যে একটি হল অভিবাসীদের কার্যক্রম সীমিতকরণ। 

অভিবাসীদের মধ্যে দুটো ভাগ রয়েছে। প্রথমত, যারা অবৈধভাবে সেখানে অবস্থান করছেন। তাদেরকে বৈধকরণের ক্ষেত্রে একটি রুপরেখা প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে নতুন লেবার সরকার। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তাদের একটি বড় অংশই বৈধ হওয়ার সুযোগ পাবে। অন্যদিকে যারা অবৈধ অবস্থায় থাকার পর রাজনৈতিক আশ্রয় লাভ করেছে নানা কারণে তাদেরকেও একটি গণ্ডির মধ্যে রাখার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে। আগামী ১০০ দিনের মধ্যে এই নীতিমালা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানা গেছে। আর এই নীতিমালার প্রধান যে বিষয়টির কথা বলা হয়েছে যে, মানবিক কারণে বা রাজনৈতিক কারণে যারা যুক্তরাজ্যে আশ্রয় লাভ করবেন তাদেরকে একটি সীমিত পরিসরে কাজ করতে হবে। এই সীমিত পরিসরের মধ্যে রয়েছে তারা যুক্তরাজ্য সরকারের আইন নিয়ম কানুন মেনে চলবেন। তারা অবৈধ পথে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন না এবং বিদেশ থেকে তাদের কোনো অর্থ আসলে সে ব্যাপারে সরকারকে অবহিত করতে হবে এবং সেই অর্থের উৎস জানাতে হবে। পাশাপাশি সেই অর্থের উচ্চ কর দিতে হবে। পাশাপাশি এটিও নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, রাজনৈতিক আশ্রয়প্রাপ্ত অভিবাসীরা কোনও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিজেদেরকে যুক্ত করতে পারবেন না। 

বর্তমানে লন্ডনে অবস্থান করছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া। লন্ডনে বসে তিনি বিএনপির দল চালাচ্ছেন। কিন্তু লেবার পার্টির এই নতুন অভিবাসন নীতি বাস্তবায়িত হলে তাকে বিএনপির পদ ছাড়তে হবে। বিএনপির কোনো পথ দখল করে তিনি যুক্তরাজ্যে বসবাস করতে পারবেন না। দ্বিতীয়ত, তার আয় ব্যয়ের নিয়মিত হিসাব দিতে হবে এবং রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা ব্যক্তি হিসেবে তাকে বলতে হবে। কোথা থেকে কোন খাতে তিনি কত টাকা পেয়েছেন তার বিস্তারিত হিসাব দেখাতে হবে।

তৃতীয়ত, তারেক যে সমস্ত সম্পদ বৈধ পন্থায় যুক্তরাজ্যে নিয়ে যাবেন, সেই সমস্ত সম্পদের ওপর তাকে উচ্চ শুল্ক দিতে হবে। উল্লেখ্য যে, লেবার পার্টির একাধিক এমপি বলেছেন যে, রাজনৈতিক আশ্রয় লাভকারী ব্যক্তিরা এখানে দুর্নীতির অর্থে অর্জিত টাকা দিয়ে রাজকীয় জীবনযাপন করতে পারেন না। এতে ব্রিটিশ সমাজের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। শুধু তারেক জিয়া নয়, বেশকিছু পলাতক অভিবাসী যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় লাভ করেছেন। তারা অবৈধ অর্থ দিয়ে রাজকীয় জীবন যাপন করছেন। এটি যুক্তরাজ্য সমাজে একটি বিরূপ প্রভাব তৈরি করেছে। আর এ কারণেই এ সব বন্ধের উদ্যোগ গ্রহণ করছে নতুন লেবার সরকার। লেবার সরকার মনে করছে যে, যারা রাজনৈতিক আশ্রয় লাভ করেছে তারা মানবিক কারণে পেয়েছে এবং তাদের সে রকম জীবন যাপন করা উচিত। কিন্তু মানবিক কারণে আশ্রয় পাওয়া ব্যক্তিরা যখন রাজকীয় জীবন যাপন করে তখন তা দৃষ্টিকুটু এবং অন্যায্য বটে। আর এ কারণে তারা এটা বন্ধের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এটি বাস্তবায়িত হলে তারেক জিয়ার বর্তমান অবস্থায় লন্ডনে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়বে। হয় তাকে রাজনীতি ছাড়তে হবে অথবা যুক্তরাজ্য ছাড়তে হবে।

যুক্তরাজ্য   লেবার পার্টি   বিএনপি   তারেক জিয়া   অভিবাসী   লেবার সরকার   কিয়ার স্টারমার  


মন্তব্য করুন


ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

রিজভীই হচ্ছেন বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব

প্রকাশ: ১০:০৫ পিএম, ২৬ জুন, ২০২৪


Thumbnail

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন। বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র আজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, আজ লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া তৃণমূলের বাছাই করা সদস্যদের মধ্যে ভোটাভুটি করেন। সারা দেশের প্রায় ১০০ জন তৃণমূলের নেতার সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে ধাপে ধাপে মিলিত হয়ে নতুন মহাসচিব হিসেবে কাকে নিয়োগ দেওয়া যায় সে ব্যাপারে মতামত জানতে চান। এই মতামতে রুহুল কবির রিজভীর পক্ষে ৯৬ ভোট পড়েছে বলে দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।

ইতোমধ্যেই রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে তারেক জিয়ার কথা হয়েছে। আজ রাত ৮টার পর তারেক জিয়ার সঙ্গে রুহুল কবির রিজভীর প্রায় ১৭ মিনিট কথা হয় বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। প্রথম রুহুল কবির রিজভী প্রথমে স্পিকার অন করে কথা বললেও পরবর্তীতে তিনি দলীয় কার্যালয়ের অন্য ঘরে চলে যান এবং সেখান থেকে তিনি তারেক জিয়ার সঙ্গে কথা বলেন। 

সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, এর পরপরই রুহুল কবির রিজভীর ঘনিষ্ঠরা একে অন্যকে মিষ্টিমুখ করিয়েছেন। তবে তারা বিষয়টি চেপে রাখছেন। খুব শীঘ্রই এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

উল্লেখ্য, গত কিছুদিন ধরে রুহুল কবির রিজভীকে নিয়ে জয়জয়কার চলছিল। রুহুল কবির রিজভীর সমর্থক গোষ্ঠীকেই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হচ্ছিল। এমনকি লন্ডন থেকে বিভিন্ন কমিটি পরিবর্তনের যে বার্তাগুলো তারেক জিয়া দিচ্ছিলেন, সেই বার্তাগুলো মহাসচিবের কাছে নয়, সরাসরি রুহুল কবির রিজভীর কাছে দেওয়া হচ্ছিল এবং রিজভী এই নির্দেশনাগুলো টাইপ করে সকলের অগোচরে গণমাধ্যমে প্রকাশ করেছিলেন। বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা গণমাধ্যমের মাধ্যমেই বিএনপির পরিবর্তনের কথা গুলো জানচ্ছিলেন।

ঢাকা মহানগর উত্তর ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ, চট্টগ্রাম উত্তর এবং দক্ষিণ এবং বরিশাল মহানগর বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত হয়েছে কোন নেতাই কিছু জানাননি। এমনকি যুবদলের কমিটি বিলুপ্তির বিষয়টিও সকলের অজানা ছিল। জানতেন একমাত্র রুহুল কবির রিজভী। 

নাটকীয় ভাবে গত কিছুদিন ধরে রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে তারেক জিয়ার একটি সখ্যতা তৈরি হয়েছে। আর এই সখ্যতার কারণেই এখন রুহুল কবির রিজভীর ওপর নির্ভর করছেন তারেক জিয়া। তবে অন্য একটি সূত্র দাবি করছে যে, দলের তৃণমূলের সঙ্গে আলাপকালে রিজভীকেই তারা নিরঙ্কুশ ভাবে পছন্দ করেছেন। তৃণমূলের নেতারা মনে করছেন যে, দলের দুর্দিনে রুহুল কবির রিজভী আশা ভরসার স্থল এবং তিনি উজ্জ্বীবিত রেখেছেন দলকে। তাই তিনি ছাড়া আর কোন নেতাই পূর্ণকালীন দায়িত্ব পালন করছেন না বলে তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে। রুহুল কবির রিজভী সম্পর্কে তৃণমূলের নেতারা তারেককে জানিয়েছেন যে তাকে সার্বক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়। ফোন করলে তিনি ফোন ধরেন। কর্মীদের দুঃখ দুর্দশায় পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। এই রকম সময় রিজভীর কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কিছুদিন ধরেই মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করার ব্যাপারে অনীহা প্রকাশ করছেন। বিশেষ করে কারাগার থেকে মুক্ত হওয়ার পরে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন যে, তিনি দলের মহাসচিব থাকতে চান না। তবে বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক জিয়া দুজনই তাকে মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। এর মধ্যে তারেক জিয়া নতুন মহাসচিব খুঁজছেন। তবে বিএনপির কোন সূত্রই নিশ্চিত করতে পারেনি যে, আগে মহাসচিব পদে পরিবর্তন হবে নাকি স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন হবে। তবে যেটিই হোক না কেন রহুল কবির রিজভী যে বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব হতে যাচ্ছেন তা মোটামুটি নিশ্চিত। 

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, রিজভী বিএনপির মধ্যে যতই জনপ্রিয় থাকুক না কেন জাতীয় রাজনীতিতে তার অবস্থান খুব একটা ভালো নয়। জনগণের কাছেও তার গ্রহণযোগ্যতা খুব একটা বেশি নয়। তবে তারেক জিয়ার ঘনিষ্ঠ হবার কারণে রুহুল কবির রিজভী যে বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব হতে যাচ্ছেন তা মোটামুটি নিশ্চিত। তবে বিএনপির তরুণ নেতারা বলছেন, তারেক জিয়ার আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে নয়ম বরং তৃণমূলের আকাঙ্খার প্রেক্ষিতেই রিজভীকে বিএনপির মহাসচিব করা হচ্ছে।

বিএনপি   মহাসচিব   তারেক জিয়া   রুহুল কবির রিজভী  


মন্তব্য করুন


ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

বেনজীরকেও হার মানালেন মতিউর

প্রকাশ: ১১:০০ পিএম, ২০ জুন, ২০২৪


Thumbnail

#দেশে-বিদেশে অঢেল সম্পদ, নামিদামী ব্র্যান্ডের গাড়ি
#ময়মনসিংহের ভালুকায় বিশাল জুতার কারখানা
#গাজীপুরে পিকনিক ও শুটিং স্পট 
# নরসিংদী শ্বশুর বাড়িতে রাজকীয় বাড়ি, রায়পুরায় রিসোর্ট
#ঢাকার অভিজাত এলাকাগুলোতে রয়েছে অসংখ্য প্লট-ফ্ল্যাট 
#দুই স্ত্রী নামে বেনামে সম্পদ

৩৭ লাখ টাকার গরু ও ১৫ লাখ টাকায় ছাগল কেনার খবরে মুহূর্তে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় ওঠে মুশফিকুর রহমান ইফাত নামের এক তরুণকে নিয়ে। এই ছেলেটির এতো টাকা আসছে কোথায় থেকে এমন আলোচনায় বেরিয়ে আসে তার বাবা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্মকর্তা ড. মো. মতিউর রহমানের নাম। মতিউর বলেছেন ছেলেটি তার নয়। তখনই কেঁচো খুঁড়তে সাপের মতো একে একে বেরিয়ে আসে মতিউর রহমানের অঢেল সম্পদের খবর। দেশে-বিদেশের সম্পদের হিসাবে যেন সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকেও হার মানায়িছে। 

একটি দৈনিকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে এর মধ্যেই উঠে এসেছে মতিউরের সম্পদের খবর। জানা যায়, নরসিংদী, ময়মনসিংহের ত্রিশাল ছাড়াও গাজীপুরের পূবাইলে রিসোর্ট, শুটিংস্পট, বাংলো বাড়ি, জমিসহ নামে-বেনামে রয়েছে অঢেল সম্পদ। বরিশালেও রয়েছে তার সম্পদ। জানা গেছে , প্রথম স্ত্রী লায়লা কানিজকে বিপুল অর্থ খরচ করে বানিয়েছেন উপজেলা চেয়ারম্যান। দ্বিতীয় স্ত্রী ব্যাংক কর্মকর্তা। তাদের নামেও রয়েছে সম্পদের পাহাড়। এর মধ্য প্রকাশ হয়েছে, কোরবানির পশু কিনে ভাইরাল যুবকটি মতিউরের দ্বিতীয় স্ত্রীর আগের ঘরের সন্তান। ব্যাংকার এই মহিলাই মতিউরের অনেক টাকা পয়সার লেন দেন করেন। 

আরো জানা যায়, শুধু দেশে নয় বিদেশে বাড়ি রয়েছে তার। তার ছেলের রয়েছে বিশ্বের নামিদামী ব্র্যান্ডের গাড়ির কালেকশন। এসব বিষয়ে ইতিমধ্যেই খোঁজ খবর নিতে শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। 



এ বিষয়ে ড. মো. মতিউর রহমান বাংলা ইনসাইডারকে বলেন, ‘কোরবানি উপলক্ষে ১৫ লাখ টাকার খাসি কিংবা গরু কিনে ভাইরাল হওয়া যুবক মুশফিকুর রহমান ইফাত আমার ছেলে নয়। এই নামে আমার কোন ছেলে নেই। সে আমার কোন দূরসম্পর্কের আত্মীয়ও না কিংবা তাকে আমি চিনিও না।’

তবে তার প্রতিবেশীদের বরাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে উঠে এসেছে যে এই ইফাত তার দ্বিতীয় স্ত্রীর ছেলে। এই ছেলের খায়েশ মেটাতে দামী গাড়ি-বাড়ি থেকে বিপুল দামের গরু, ছাগল কিনে দিতেও পিছপা হন না তিনি।  

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আলোচিত এনবিআর কর্মকর্তা ড. মো. মতিউর রহমানের ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের ঝালপাজা মৌজায় একটি শিল্প গোষ্ঠীর সাথে গ্লোবাল সুজ লিমিটেড নামে রয়েছে বিশাল এক জুতার ফ্যাক্টরি। এখানে প্রায় ৩শ বিঘা জমির জুড়ে রয়েছে গ্লোবাল সুজ লিমিটেড কারখানা, বাগানবাড়ি, দেশি-বিদেশী ফলের বাগান ও ফসলি জমি। জুতার ফ্যাক্টরিতে প্রায় ৪শ’ কর্মকর্তা ও কর্মচারী কাজ করে। এ ফ্যাক্টরির উৎপাদিত জুতা রপ্তানি হয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। 

কারখানার দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা কর্মীরা জানান, মাঝে মাঝে ফ্যাক্টরি পরিদর্শনে আসেন এনবিআর কর্মকর্তা মতিউর রহমান। সকালে এসে বিকালে চলে যান।

ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের ঝালপাঝা চেঁচ্চারমোড় থেকে বাম দিকে কিছুটা গেলেই দেখা মেলে আলোচিত এনবিআর কর্মকর্তা মতিউর রহমানের বিশাল জুতার কারখানা। ভালুকা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মোর্শেদ আলম ওই জুতার কারখানা ও জমি দেখাশোনা করেন। স্থানীয় বাজার দরে ওই ৩ শত বিঘা জমির দাম প্রায় ১’শ কোটি টাকা। শুধু ভালুকা নয় গাজীপুরের পূবাইলেও রয়েছে মতিউর রহমানের বিশাল সাম্রাজ্য। 

পূবাইলের খিলগাঁওয়ের টঙ্গী ঘোড়াশাল সড়কের দক্ষিণ পাশে বিশাল এলাকা জুড়ে গড়ে তুলেছেন আপন ভুবন পিকনিক অ্যান্ড শুটিং স্পট। পূবাইল ইউনিয়ন ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, পূবাইলের খিলগাঁও মৌজায় ড. মো. মতিউর রহমানের নামে ৩৬৫৬ নং জোতে ০.২৭০০ একর (২৭ শতাংশ) এবং একই মৌজায় ৪২৪৯নং জোতে ০.১৪৪০ একর (১৪ শতাংশ) ভূমির নামজারি রেকর্ড রয়েছে। এছাড়া মো: মতিউর রহমান, তার স্ত্রী লায়লা কানিজ ও মেয়ে ফারজানা রহমানের নামে খিলগাঁও মৌজায় ৩৫৫৭ নং জোতে ০.৪৮১৬ একর (৪৮ শতাংশ), একই মৌজায় ৩৬৫২ নং জোতে ড. মো: মতিউর রহমানের স্ত্রী লায়লা কানিজ ও পুত্র আহমেদ তৌফিকুর রহমান (অর্ণব) এর নামে ০.৪৫১৬২৫ একর (৪৫ শতাংশ) ভূমির নাম জারির তথ্য পাওয়া যায়। চারটি নামজারিতে মোট এক একর ৩৪ শতাংশ জমি। আপন ভুবন পিকনিক এন্ড শুটিং স্পটের ম্যানেজার রাজিব হাসান জানান, আপন ভুবন পিকনিক এন্ড শুটিং স্পটের মালিক মতিউর রহমান নন, অন্য একটি শিল্প গোষ্ঠী। তবে মতিউর রহমান ও তার পরিবারের লোকজন মাঝেমাঝেই এই রিসোর্টে বেড়াতে আসেন।

পিকনিক এন্ড শুটিং স্পটের তত্ত্বাবধায়ক মো. মাসুদ জানান, স্থানীয় সামাদ মোল্লা, রহিমা বেগম, ইলিয়াস মোল্লা গংদের কাছ থেকে জমি লিজ ও বাৎসরিক ভাড়ায় নিয়ে ২০১৮ সালের দিকে স্পটটি চালু করা হয়। রিসোর্টটি প্রায় ২৫ বিঘা জমির উপর প্রতিষ্ঠিত। 

এখানেই শেষ নয়, মতিউর রহমানের আমলনামা। মতিউর রহমানের বাড়ি বরিশালের মুলাদী উপজেলায়। ওই এলাকায় বাড়ি ঘর ছাড়াও তার নামে প্রায় ১ হাজার ৫শ বিঘা জমি রয়েছে। নরসিংদীর মরজালে তার স্ত্রী উপজেলা চেয়ারম্যান লায়লা কানিজ লাকীর নামে ১শ বিঘা জমির উপর রয়েছে ওয়ান্ডার পার্ক অ্যান্ড ইকো রিসোর্ট। তার মেয়ে ফারজানা ইসপিতার নামে মরজাল বাসষ্ট্যান্ড ও আশপাশ এলাকায় ১০ বিঘা জমি রয়েছে। এছাড়াও ছেলে আহম্মদ তৌফিক অনুদ ও মেয়ে ফারজানা ইসপিতার নামে কমপক্ষে ৫০ বিঘা জমি রয়েছে। নাটোরের সিংড়ায় ২০ বিঘা জমি রয়েছে। স্ত্রী লায়লা কানিজ লাকীর নামে নরসিংদীর রায়পুরায় মরজালে ৪ বিঘা জমির উপর রয়েছে সুরম্ম অট্টালিকা। 

শুধু তাই নয়, রাজধানীর অভিজাত এলাকায় মতিউর, তার স্ত্রী-সন্তান, আত্মীয়দের নামে-বেনামে ৪০টি প্লট আছে। গুলশান-২ এ শাহবুদ্দিন পার্কের উল্টোদিকে একটি ভবনে চারটি ফ্ল্যাট আছে। গুলশানের একটি ভবনে রয়েছে আটটি ফ্ল্যাট। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, দুবাই ও যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে বিপুল পরিমাণ সম্পদ। স্ত্রী লায়লা কানিজের জনপ্রতিনিধি হওয়ার শখ পূরণে প্রভাব খাটিয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দীতায় নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলা চেয়ারম্যান বানিয়েছিলেন। স্ত্রীর নামেও রয়েছে হাজার কোটি টাকার সম্পদ। এবারেও প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন তিনি। অর্থ-বিত্তের পাশে মতিউর রহমানের রয়েছে ঋণ কেলেংকারির ঘটনাও। সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে থাকাকালীন চামড়া ঋণ কেলেংকারির ঘটনায় জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে। তার এসব দুর্নীতির তথ্যে পাঁচবার তদন্ত কমিটি গঠন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কিন্তু কর্মকর্তাদের হাতের মুঠোয় নিয়ে ক্লিন চিট নিয়েছেন তিনি। 

এসব বিষয়ে জানতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্মকর্তা ড. মতিউর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। তার মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠালেও উত্তর দেননি।

মুশফিকুর রহমান ইফাত   ভাইরাল ছাগল   জাতীয় রাজস্ব বোর্ড   এনবিআর   মতিউর রহমানে  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন