ইনসাইড হেলথ

পুরু‌ষের হৃদ রো‌গের জন‌্য দায়ী সুন্দরী নারী

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ২৪ অক্টোবর, ২০২৩


Thumbnail

সব পুরুষই চায় তার সঙ্গীটা যেন একটু সুন্দর হয়। আর সুন্দরী মেয়ে দেখলে ছেলেদের বাম দিকের বুকে এমনিতেই ব্যাথা হয়। তাই সবাই চাই তার স্ত্রী বা বান্ধবী যেন সুন্দরী হয়। কিন্তু এক গবেষনায় বলা হয়েছ উল্টো কথা।

জানা গেছে, সুন্দরী সঙ্গী নাকি পুরুষের শরীরের জন্য ক্ষতিকর। আকর্ষণীয় নারীদের সান্নিধ্যে আসলে পুরুষের মধ্যে মানসিক চাপ বাড়তে থাকে। এমনকি এই চাপ বাড়ার কারণে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে। স্পেনের ভ্যালেন্সিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এই দাবি করেছেন।

তারা জানান, সুন্দরী নারীর পাশে পাঁচ মিনিট বসলেই পুরুষের মধ্যে মানসিক চাপ বৃদ্ধি পায়। যা শরীরে কোর্ট্রিসল নামক বিশেষ হরমোনের প্রবাহ বাড়িয়ে দেয়। আর বিপত্তি সেখানেই। বেশি কোট্রিসলের প্রবাহ হৃদযন্ত্রের ক্ষতি থেকে শুরু করে ডায়াবেটিস এমনকি পুরুষকে নপুংসক পর্যন্ত করে ফেলতে পারে।

গবেষকরা বলেছেন, পুরুষদের মধ্যে যারা নারীদের কাছ থেকে সবসময় দূরে থাকতে ভালবাসেন, তাদের জন্য সুন্দরীরা একটু বেশি ক্ষতিকর। ৮৪ জন স্বেচ্ছাসেবী পুরুষের উপর গবেষণা চালিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে এই তথ‌্য।

তারা আরও দাবি করেন, কম বয়সী সুন্দরী নারী আশেপাশে দেখলে অধিকাংশ পুরুষ প্রেমের সুযোগ আছে বলে ভাবতে শুরু করেন। খুব কম পুরুষই সুন্দরীদের পাশ কাটিয়ে চলতে পারেন। যার ফলে না চাইতেও প্রেমে পড়তে বাধ্য পুরুষেরা।


পুরু‌ষ   হৃদ রো‌গ   সুন্দরী নারী  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড হেলথ

আবারও সংক্রমণ বাড়ছে করোনা, বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা

প্রকাশ: ১০:৫৩ এএম, ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪


Thumbnail

আবারও সংক্রমণ বাড়াচ্ছে কভিড-১৯ ভাইরাস। ভাইরাসটি দুর্বল হয়ে আলোচনার বাইরে চলে গেলেও নতুন বছরের শুরুতেই দেশে বাড়তে শুরু করছে করোনা রোগী। সাথে মৃত্যুও বাড়ছে ক্রমাগতভাবে।

চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি থেকে টানা ৩৫ দিন ৫ শতাংশের ওপরে রয়েছে শনাক্তের হার। ২৪ ঘণ্টায়, অর্থাৎ বুধবার সকাল থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত দেশে ৭১৭ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৭৩ জনের দেহে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের ১০.১৮ শতাংশ। এ সময়ে মারা গেছেন একজন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রটোকল অনুযায়ী টানা তিন থেকে চার সপ্তাহ করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ধরে নেওয়া হয়। এর ওপরে উঠলেই সংক্রমণ রোধে সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি বয়স্ক ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভোগা ব্যক্তিদের দ্রুত টিকা নেওয়া উচিত।

গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ও সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ‘করোনা এখনো মহামারি পর্যায়ে যায়নি। তবে সংক্রমণ বেড়ে গেছে, মৃত্যু বেড়ে গেছে। আমাদের এখানে বর্ষায় ও গরমে এটা বাড়ে। তাই সামনে আরও বাড়ার আশঙ্কা আছে। তখন মৃত্যুও বাড়বে।

তবে করোনা মোকাবিলা আমাদের কাছে নতুন কিছু নয়। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, তবে অবশ্যই    উদ্বিঘ্ন হতে হবে। হেলাফেলা করলে বিপদ আসতে সময় লাগবে না। স্বাস্থ্যবিধিগুলো আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত করা উচিত।

বয়স্ক ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভোগা ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের চতুর্থ ডোজ টিকা দিয়ে ফেলতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের দেওয়া দৈন্দিন করোনা সংক্রমণ বিষয়ক তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে- ১০ জানুয়ারি থেকে দৈনিক শনাক্তের হার ৫ শতাংশের ওপরে থাকছে। মাঝে ১৩ ও ১৮ জানুয়ারি ২ দিন ৫ শতাংশের নিচে নামলেও আর কখনো এর নিচে নামেনি। ফেব্রুয়ারির অধিকাংশ দিন শনাক্তের হার ৬ থেকে ৯ শতাংশের মধ্যে থাকছে।

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে করোনায় প্রাণ হারিয়েছেন পাঁচজন। ফেব্রুয়ারির ২২ দিনেই পাঁচজনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

এরই মধ্যে দেশে ভাইরাসটির অমিক্রন ধরনের উপধরন জেএন.১ আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। শনাক্ত হওয়া রোগীদের কেউই বিদেশ ভ্রমণ করেননি। এমন পরিস্থিতিতে সবাইকে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। বয়স্ক ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভোগা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের চতুর্থ ডোজ টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ৩ জানুয়ারি কভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি জানায়, বিশ্বের বেশ কিছু দেশ কভিড-১৯ সংক্রমণ আর এই ভ্যারিয়েন্ট বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ করেছে। সে পরিপ্রেক্ষিতে জনসাধরণকে মাস্ক পরাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেয় কমিটি। বিদেশফেরত যাত্রীদের স্ক্রিনিং করা এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের চতুর্থ ডোজ টিকা দেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়।

কমিটির পরামর্শ আমলে নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামান্ত লাল সেন জানান, দেশে হঠাৎ করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীসহ সাধারণ মানুষকে করোনা টিকার চতুর্থ ডোজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী দুই বছর আড়াই কোটি মানুষকে চতুর্থ ডোজ টিকা দেওয়া হবে। চলতি বছর পাবে ১ কোটি ২৫ লাখ মানুষ।

এদিকে শ্রেণিভুক্ত করে কড়া নজরে রেখেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনার এই উপধরনকে ‘ভ্যারিয়েন্ট অব ইন্টারেস্ট’ হিসেবে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন ধরন জেএন.১-এর লক্ষণ আগের ধরনগুলোর মতোই। যেমন- জ্বর, সর্দি, কাশি, গলাব্যথা, মাথাব্যথা, স্বাদ বা গন্ধ হারানো, ক্লান্তি ইত্যাদি।

এ ছাড়া গুরুতর লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে শ্বাসকষ্ট, বুকব্যথা, ডায়রিয়া ও বিভ্রান্ত বোধ।


কভিড-১৯ ভাইরাস   বিশেষজ্ঞ সতর্কবার্তা   করোনা ভাইরাস  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড হেলথ

ত্রিশোর্ধ্ব নারীদের ভ্রূণ হত্যার প্রবণতা বেশি: বিবিএস

প্রকাশ: ১১:২৬ এএম, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪


Thumbnail

প্রথমবারের মতো গর্ভবতী নারীদের নিয়ে জরিপ করা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) বলছে, ৩৫ বছর বয়সী (ত্রিশোর্ধ্ব) নারীদের মধ্যেই ভ্রূণ হত্যার প্রবণতা বেশি। ২০২২ সাল থেকে চলা এ জরিপের নারীর গর্ভধারণ, মাতৃমৃত্যু, ভ্রূণ হত্যাসহ বিভিন্ন বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন সম্প্রতি প্রকাশ করেছে বিবিএস। 

গণমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্রে জানা যায়, ‘বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিক্স ২০২২’ প্রকল্পের আওতায় এ তথ্য সংগ্রহ করেছে বিবিএস। মাতৃমৃত্যু ও নবজাতকের মৃত্যুর সঠিক হিসাব বের করতেই মূলত এ জরিপ করে সরকার। সারাদেশে ৯ হাজার ৯৪৩ জন গর্ভবতী নারীর তথ্য সংগ্রহ করেছে বিবিএস। গর্ভবতী হওয়ার পর থেকে শিশু পৃথিবীতে আসা পর্যন্ত এ তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

বিবিএস জানায়, প্রথমবারের মতো প্রশ্নপত্রে অন্তর্ভুক্ত গর্ভবতী রেজিস্টার তফসিলের মাধ্যমে ২০২২ সালের আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে খানায় বসবাসরত ১০ থেকে ৬০ বছর বয়সী নারীদের বর্তমান গর্ভধারণ অবস্থা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। গর্ভবতী রেজিস্টারে যেসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে- গভর্বর্তী নারীর নাম, বর্তমান (জরিপকালীন) বয়স, তাদের পূর্ববর্তী মাসে গর্ভাবস্থা, বর্তমান গর্ভাবস্থা, সর্বশেষ গর্ভাবস্থা শেষ হওয়ার সময়, সর্বশেষ গর্ভাবস্থার ফলাফল। এছাড়া গর্ভপাত করা শিশুর লিঙ্গ, বর্তমান গর্ভধারণের সময়ে মায়ের বয়স, গর্ভধারণ নিশ্চিত হওয়ার পদ্ধতি, সম্ভাব্য ডেলিভারির তারিখ, সারাজীবনে জীবিত ও মৃত মিলিয়ে জন্ম দেওয়া মোট শিশুর সংখ্যা এবং বর্তমানে জীবিত মোট শিশুর সংখ্যার তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

প্রতিবেদনটি বলছে, ৩৪ বছর বয়সী নারীদের বড় অংশের ক্ষেত্রে গর্ভপাত করা বেশিরভাগ ভ্রূণ ছিল ছেলে। যদিও ৩৫ বছর ও তার বেশি বয়সী নারীদের মধ্যে গর্ভপাত করা বেশিরভাগ ভ্রূণ মেয়ে। তবে গর্ভপাত করা ভ্রূণের লিঙ্গের বিষয়ে উত্তর দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন ৪৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী নারীরা।

এছাড়াও ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সে বিয়ে হয়েছে এমন নারীদের মধ্যে সারাজীবনে যে কোনো ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারের হার ৬১ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সে বিয়ে হয়েছে এমন নারীদের মধ্যে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারের হার ৫৭ দশমিক ৩ শতাংশ। বিয়ের সময়ে বয়স ২৫ থেকে ২৯ বছর ছিল এমন নারীদের মধ্যে এ হার আরও কম। ফলে দেখা যাচ্ছে বিয়ের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নারীদের জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারের প্রবণতা কমেছে।

গর্ভবতী নারীদের মধ্যে সারাজীবনে নির্দিষ্ট ধরনভিত্তিক জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫৫ দশমিক ৮ শতাংশ ব্যবহার করেছেন ওরাল পিল (খাবার বড়ি)। গর্ভবতী নারীদের মধ্যে সারাজীবনে নির্দিষ্ট ধরনভিত্তিক ও জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ব্যবহারের ক্ষেত্রে কনডম দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে। এটি ব্যবহারকারীর হার ২২ দশমিক ৪ শতাংশ।

তবে ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে নির্দিষ্ট ধরনভিত্তিক জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি হিসেবে সারাজীবনে কনডম ব্যবহারের হার ২৭ দশমিক ৯ শতাংশ। এই বয়সীদের ৬১ দশমিক ৪ শতাংশ ব্যবহার করেন ওরাল পিল। এছাড়া সারাজীবন নির্দিষ্ট ধরনভিত্তিক জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি হিসেবে ইনজেকশন ব্যবহার করেছেন ২৫ দশমিক ৬ শতাংশ ও ইমপ্ল্যান্ট শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ। ৩৫ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে এ পদ্ধতির ব্যবহার সর্বোচ্চ।

বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচালক (এমসিএইচ- সার্ভিসেস) ডা. মো. মুনিরুজ্জামান সিদ্দীকী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বাংলাদেশে গর্ভপাত আইন (১৮৬০-এর ব্রিটিশ পেনাল কোড) অনুযায়ী অন্তঃসত্ত্বার জীবন বাঁচাতে মাসিক নিয়মিত করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ ভ্রূণ হত্যা করতে পারবে না। কেউ এটা করলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে ভ্রূণ হত্যা করতে পারবে না। বেশিরভাগ ক্লিনিকে এটা হচ্ছে, এটা বন্ধে কাজ করছে সরকার।’


নারী   জরিপ   বিবিএস   নারী  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড হেলথ

ঋতু পরিবর্তনের সময় রোগব্যাধি : কী করবেন?

প্রকাশ: ১১:০১ এএম, ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪


Thumbnail

তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন রোগজীবাণুও সক্রিয় হয়ে ওঠে। সব মিলিয়ে আবহাওয়া পরিবর্তন হওয়ায় এই সময় বিভিন্ন অসুখের আশঙ্কা বাড়ে। শীত থেকে গরম পড়ার সময় ভাইরাস সক্রিয় হয়ে ওঠে।

এই মরশুমের মতো শহর থেকে পাততাড়ি গোটাচ্ছে শীত। শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছুঁয়েছে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। শীত না থাকলেও শীতের আমেজ বজায় আছে। এ সময় বাড়ে রোগব্যাধির শঙ্কা। শীতের সময়ে মানুষ ঠান্ডা পরিবেশে অভ্যস্ত হয়ে যায়। শীতের শেষে যখন তাপমাত্রা আস্তে আস্তে বাড়তে শুরু করে তখন অনেকেরই শরীর তাপমাত্রার এই বৈষম্য নিতে পারে না।

শিশু ও প্রবীনদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হওয়ায় তারা সহজে এই ঋতু বদলের আবহাওয়ার সঙ্গে নিজেদের খাপ খাওয়াতে পারে না। তা ছাড়া, তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন রোগজীবাণুও সক্রিয় হয়ে ওঠে। সব মিলিয়ে আবহাওয়া পরিবর্তন হওয়ায় এই সময় বিভিন্ন অসুখের আশঙ্কা বাড়ে। এই সময় আচমকা ঠান্ডা লেগে কাশি, বুকে ব্যথা হতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে ডায়ারিয়ার প্রকোপ বাড়তে পারে। চিকেন পক্স ও বাচ্চাদের ক্ষেত্রে হামের প্রবণতাও বাড়ে। প্রতিদিন খাদ্যতালিকায় এই খাবারগুলি রাখলে সুস্থ থাকবেন।

খাওয়া-দাওয়া পরিবর্তন করুন প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে

আপনি যদি খাবারে স্বাস্থ্যকর জিনিস খান তবে আপনার দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে। ভিটামিন এবং খনিজ সমৃদ্ধ খাবর রাখলে শরীরকে সুস্থ রাখতে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি কম হয়। যদি আপনি মনে করেন যে, আপনার ডায়েট আপনাকে সঠিক পুষ্টি দিচ্ছে না, তবে আপনি খাওয়ার পরে কিছু মাল্টিভিটামিন বড়ি নিতে পারেন।

তরল জিনিস পান করুন

আপনার শরীর যদি জলশূন্য হয়, তবে আপনি রোগ থেকে আরাম পেতে পারেন। এজন্য এই রোগগুলির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আপনি প্রচুর পরিমাণে জল পান করা গুরুত্বপূর্ণ। তাই বিশেষজ্ঞরা পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করা নির্দেশ দিয়ে থাকেন। তাঁদের মতে, একজন স্বাস্থ্যকর প্রাপ্তবয়স্ককে প্রতিদিন গড়ে ৭৮-১০০ আউন্স (প্রায় ৯ - ১৩ কাপ) তরল পান করা উচিত। ফলের রস, ডাবের জল, পানীয় জল বেশি করে পান করুন। শীত থেকে গরম পড়ার সময় ভাইরাস সক্রিয় হয়ে ওঠে। মূলত পরিষ্কার পাত্রে না খাওয়া, নোংরা জল ব্যবহারের জন্য ডায়রিয়া হয়। নুন ও চিনি মেশানো জল বা ওআরএস বার বার খাওয়ানো জরুরি।

পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন

এই সময় পর্যাপ্ত পরিমানে বিশ্রাম নিন। পুরো না ঘুমালে নিলে শরীরে রোগের ঝুঁকি বাড়তে পায়। যদি আপনার শরীর পর্যাপ্ত ঘুম না পায় বা বিশ্রাম না পায় তবে আপনার শরীর ক্লান্ত বোধ করে। এবং আপনার শরীর রোগের ঝুঁকিতে পড়তে শুরু করে। এই সময় যাদের বাত বা আর্থ্রারাইটিস আছে তাঁদের শীতের শুরু থেকেই ব্যথা বাড়তে শুরু করে। স্পন্ডিলাইটিসের দরুন বাড়তে পারে ঘাড়ের যন্ত্রণাও। হাঁটুর ব্যথা প্রতিরোধে দিনে দু’বার করে কোয়ার্ডিশেপস এক্সারসাইজ করতে হবে।

ফিট থাকতে শরীর চর্চা করুন

প্রতিদিন ৩০ মিনিটের হাঁটা বা ওয়ার্কআউট শরীরকে কেবল সক্রিয় রাখে না, তার প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ায়। এই সময় ঠান্ডা লাগা, সর্দি কাশি-সহ অন্যান্য সমস্যা দেখা যায়। নিয়মিত শরীর চর্চার ফলে হৃদরোগ, অস্টিওপোরোসিস এবং ক্যানসারের ঝুঁকিও হ্রাস করে। চোখ-নাক দিয়ে জল পড়া, কাশি, ঝিমুনি ভাব দেখা যায়। অনেকেই ঠান্ডা লাগলে প্রথমে কিছু না ভেবে অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে ফেলেন। তা না করে সবসময় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খাওয়া উচিত।


ঋতু পরিবর্তন   রোগব্যাধি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড হেলথ

আন্তর্জাতিক মৃগীরোগ দিবস আজ: চিকিৎসায় নিয়ন্ত্রণ সম্ভব

প্রকাশ: ০৮:৫৪ এএম, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪


Thumbnail

আজ (১২ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক মৃগীরোগ দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে ‘আন্তর্জাতিক মৃগীরোগ দিবস’। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘এপিলেপসির (মৃগীরোগ) সঙ্গে চলা ও আমার অর্জনসমূহ’। প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সোমবার এ রোগের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে দিবসটি পালন করা হয়।

বাংলাদেশে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ মানুষ মৃগীরোগে আক্রান্ত। সঠিক চিকিৎসা ও নিয়মিত ওষুধ সেবন না করায় এ রোগে দীর্ঘমেয়াদি অক্ষমতার হার বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, নিয়মিত চিকিৎসা নিলে ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে মৃগীরোগে খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তবে রোগমুক্তি সম্ভব নয়। ১০ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে রোগটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না। কারণ দেশে এ রোগে সার্জারির ব্যবস্থা সীমিত।

মৃগীরোগের লক্ষণ: হঠাৎ অস্বাভাবিক কাঁপুনি বা খিঁচুনি হওয়া, চোখ-মুখ উল্টে হাত-পা ছোড়া, অচেতন হওয়া, মুখ দিয়ে ফেনা বা লালা বের হওয়া কিংবা শিশুদের ক্ষেত্রে চোখের পাতা স্থির হয়ে যাওয়া, একদৃষ্টিতে একদিকে চেয়ে থাকা অথবা মানসিকভাবে সুস্থ কোনো ব্যক্তি অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করলে তাকে মৃগীরোগী হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।

খিঁচুনি মানেই মৃগীরোগ নয়: বিএসএমএমইউর শিশু নিউরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. কাজী আশরাফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, কোনো কারণ ছাড়া যদি দিনে দুইবারের বেশি খিঁচুনি হয়, তাহলে ধরে নিতে হবে এটি মৃগীরোগের উপসর্গ। মৃগীরোগ হলে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা লাগে। অন্য রোগ থেকে খিঁচুনি হলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা নিতে হয়। খিঁচুনি হয় যখন ব্রেইনের মধ্যে রক্ত চলাচলে প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং ব্রেইনে অক্সিজেনের অভাব হয়। যে কারণে সারা শরীরে ঝাঁকুনি হয়।

কাজী আশরাফুল ইসলাম বলেন, যেমন জ্বরের খিঁচুনি হলে, যখন জ্বর আসবে তখন খিঁচুনির ওষুধ খেতে হয়। ম্যানিনজাইটিস রোগের লক্ষণ হিসেবে খিঁচুনি হলে সঙ্গে সঙ্গে ভালো হয়ে যায়। কোনো চিকিৎসা লাগে না। অর্থাৎ কোনো কারণ ছাড়া খিঁচুনি হলে তখন বুঝতে হবে এটি মৃগীরোগের লক্ষণ। রোগটি নানা বয়সের মানুষের হতে পারে। ধরন ও বয়স অনুযায়ী চিকিৎসা আলাদা। মৃগী আসলে স্নায়ুতন্ত্রের একটি জটিলতা। চিকিৎসায় ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে রোগীর খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।


মৃগী   রোগ   সুস্থতা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড হেলথ

দেশজুড়ে লাইসেন্সবিহীন হাসপাতাল-ক্লিনিকের সংখ্যা ১০২৭টি

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪


Thumbnail

দেশেজুড়ে ১ হাজার ২৭টি লাইসেন্সবিহীন বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ব্ল্যাড ব্যাংক রয়েছে। অন্যদিকে লাইসেন্সধারী বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ব্ল্যাড ব্যাংকের সংখ্যা ১৫ হাজার ২৩৩।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের (স্বাস্থ্যসেবা) পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য এসেছে বলে রোববার (১১ ফেব্রুয়ারি) হাইকোর্টকে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রসঙ্গত যে, রাজধানীর বাড্ডার সাঁতারকুলের ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খতনার পর পাঁচ বছর বয়সী শিশু আয়ানের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে করা এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ১৫ জানুয়ারি বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. আতাবুল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ আদেশ দেন। শিশু আয়ানের মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান করে সাত দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে (স্বাস্থ্যসেবা) নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সারা দেশে লাইসেন্স ও অনুমোদনহীন কতগুলো হাসপাতাল রয়েছে, তার তালিকা এক মাসের মধ্যে আদালতে দাখিল করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে (স্বাস্থ্যসেবা) নির্দেশ দেওয়া হয়।

এর ধারাবাহিকতায় ২৮ জানুয়ারি বিষয়টি শুনানির জন্য ওঠে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পক্ষে খতনা করতে আসা আয়ানের মৃত্যুসংক্রান্ত অভিযোগ অনুসন্ধান প্রতিবেদন আসার তথ্য সেদিন আদালতকে জানায় রাষ্ট্রপক্ষ। অন্যদিকে গত ১৫ বছরে চিকিৎসার অবহেলায় ইউনাইটেড হাসপাতালে কতগুলো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশনা চেয়ে সম্পূরক আবেদন তুলে ধরে রিট আবেদনকারী পক্ষ।

শুনানি নিয়ে ২৮ জানুয়ারি হাইকোর্ট ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসার অবহেলায় ১৫ বছরে কত মৃত্যু ঘটেছে, অনুসন্ধান করে তিন মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে (স্বাস্থ্যসেবা) নির্দেশ দেন। পরদিন ২৯ জানুয়ারি শিশু আয়ানের মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানবিষয়ক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পক্ষে চার সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

এর ধারাবাহিকতায় আজ বিষয়টি ওঠে। সারা দেশে লাইসেন্স ও অনুমোদনহীন কতগুলো হাসপাতাল রয়েছে, তার তালিকা এসেছে বলে আদালতকে জানায় রাষ্ট্রপক্ষ। অন্যদিকে রিট আবেদনকারী আইনজীবী হলফনামা আকারে বক্তব্য দাখিলে শর্ট পাসওভার (স্বল্প সময়ের জন্য মুলতবি) চান। পরে আদালত ১৮ ফেব্রুয়ারি শুনানির দিন রাখেন।

আদালতে রিটের পক্ষে আইনজীবী এ বি এম শাহজাহান আকন্দ এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায় শুনানিতে ছিলেন। পরে তুষার কান্তি রায় গণমাধ্যমকে বলেন, সারা দেশে লাইসেন্স ও অনুমোদনহীন কতগুলো হাসপাতাল রয়েছে, তার তথ্যসংবলিত তালিকা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের (স্বাস্থ্যসেবা) পাঠানো প্রতিবেদন এসেছে। আদালত আগামী রোববার (১৮ ফেব্রুয়ারি) শুনানির জন্য রেখেছেন। এর মধ্যে প্রতিবেদনটি হলফনামা করে আদালতে দাখিল করা হবে।

রিট আবেদনকারী আইনজীবী এ বি এম শাহজাহান আকন্দ গণমাধ্যমকে বলেন, আয়ানের মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান করে দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে রিট আবেদনকারীর দেওয়া বক্তব্যের ওপরও রোববার শুনানি হবে।

‘লাইফ সাপোর্ট থেকে ফিরল না আয়ান: খতনা করাতে গিয়ে মৃত্যু’ শিরোনামে ৮ জানুয়ারি একটি দৈনিকে প্রতিবেদন ছাপা হয়। এটিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে আসা এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন যুক্ত করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ বি এম শাহজাহান আকন্দ ৯ জানুয়ারি হাইকোর্টে রিট করেন। রিটে আবেদনকারী হিসেবে যুক্ত হন শিশুটির বাবা শামীম আহমেদ।


আয়ান   ইউনাইটেড মেডিকেল   মৃত্যু   রিট  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন