লিট ইনসাইড

সনেট রচয়িতা কবি সুফী মোতাহার হোসেন

প্রকাশ: ০৪:৫৯ পিএম, ১১ নভেম্বর, ২০২৩


Thumbnail

কবি সুফী মোতাহার হোসেন মূলত সনেট রচয়িতা হিসাবেই খ্যাত। কাজী নজরুল ইসলাম ও মোহিতলাল মজুমদারের সাথে পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতার ফলে তিনি কাব্যচর্চায় অনুপ্রেরণা লাভ করেন। মূলত সনেটেই তার কবি প্রতিভার স্বতঃস্ফূর্ততা প্রকাশ পেয়েছে। 

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার সম্পাদিত ‘বাংলাকাব্য পরিচয়’ নামক গ্রন্থে সুফী মোতাহার হোসেনের দিনান্তে সনেটটি সংকলিত করেন। তার সনেটের প্রধান উপজীব্য হিসেবে তিনি বেছে নিয়েছিলেন প্রেম ও প্রকৃতি। 

কবি সুফী মোতাহার হোসেন ১৯০৭ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর জেলার ভবানন্দপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মোহাম্মদ হাশিম ছিলেন পুলিশ ইন্সপেক্টর। মোতাহার হোসেন ফরিদপুর জিলা স্কুল থেকে এন্ট্রান্স ও জগন্নাথ কলেজ থেকে এফএ উত্তীর্ণ হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং ১৯৩১ সালে বিএ পাস করেন। মেধাবী মোতাহার হোসেন সব পরীক্ষায়ই প্রথম বিভাগে পাস করেন। পড়াশোনা শেষ করে ফরিদপুর জজকোর্টে চাকরি নিয়েছিলেন। বছর দু-এক পরে নিউরেস্থিনিয়া ও ডিসপেপশিয়া রোগে আক্রান্ত হলে প্রায় ১২ বছর শয্যাশায়ী থাকতে হয়। রোগমুক্তির পর তিনি শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হন এবং ফরিদপুর ঈশান ইনস্টিটিউশনে ২০ বছর শিক্ষকতা করেন। 

কাজী নজরুল ইসলাম ও মোহিতলাল মজুমদারের সঙ্গে পরিচয় ও সম্পর্কের সূত্রে মোতাহার হোসেন সাহিত্যচর্চায় উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন। তিনি পাশ্চাত্য আদর্শে সনেট রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদিত ‘বাংলা কাব্য পরিচয়’ নামক বইয়ে সুফী মোতাহার হোসেনের ‘দিগন্ত’ সনেটটি স্থান পেয়েছে। প্রকৃতি, প্রেম ও মানবতা তার সনেটে ধ্বনিত হয়। তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘সনেট সংকলন’ (১৯৬৫)। 

পরে সনেট সঞ্চয়ন (১৯৬৬) ও সনেটমালা (১৯৭০) নামে আরো দুটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। তিনি ১৯৬৫ সালে ‘আদমজী পুরস্কার’, ১৯৭০ সালে ‘প্রেসিডেন্ট পুরস্কার’ এবং ১৯৭৪ সালে ‘বাংলা একাডেমি পুরস্কার’ লাভ করেন। ১৯৭৫ সালের ৭ আগস্ট ঢাকায় মোতাহার হোসেন মারা যান।


সনেট   কবি   সুফী মোতাহার হোসেন   ফরিদপুর জেলা   ভবানন্দপুর গ্রাম  


মন্তব্য করুন


লিট ইনসাইড

মুখের ঠিকানা

প্রকাশ: ১২:১৬ পিএম, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪