ইনসাইড ওয়েদার

এ মাসেই আছড়ে পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড় ‘মিচাং’

প্রকাশ: ০৮:২২ এএম, ২৩ নভেম্বর, ২০২৩


Thumbnail

বঙ্গোপসাগরে আগামী ২৬ নভেম্বর আরেকটি লঘুচাপ সৃষ্টির মাধ্যমে ২৯ নভেম্বরের মধ্যে নিম্নচাপ হয়ে ঘূর্ণিঝড় মিচাং সৃষ্টির প্রবল আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ ও জলবায়ু গবেষকরা।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ শাহানাজ সুলতানা বলেন, ‘বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা ঘনীভূত হয়ে আগামী তিন দিনে নিম্নচাপ ও পরবর্তীতে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। বাংলাদেশে আঘাত হানবে কি না, তা ঘূর্ণিঝড়ের গতি-প্রকৃতি দেখে পরবর্তীতে জানা যাবে।’

আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ জানান, বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপটি আগামী ২৬ নভেম্বর সৃষ্টি হতে পারে, যা ২৯ নভেম্বরের মধ্যে নিম্নচাপ হয়ে ঘূর্ণিঝড় মিচাং সৃষ্টির প্রবল আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে। এই ঘূর্ণিঝড়টি বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের জেলাগুলোর ওপর দিয়ে বাংলাদেশে আঘাত হানতে পারে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ইন্টিগ্রেটেড পথকস্ট সিস্টেম নামক আবহাওয়া মডেলের পূর্বাভাস বিশ্লেষণে এমন তথ্য দেখা গেছে।

নিম্নচাপের প্রভাবে আগামী শনিবার থেকে সারা দেশের তাপমাত্রা কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বুধবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়, আগামী তিন দিন সারা দেশে আংশিক মেঘলা আকাশ ও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে।

বুধবার রাতের তাপমাত্রা সারা দেশে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমার সম্ভাবনা ছিল। আজ বৃহস্পতিবার এবং পরদিন শুক্রবার আবহাওয়া প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।

শনিবার থেকে আবহাওয়ার সামান্য পরিবর্তন হতে পারে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৪ মে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় মোখা। এরপর ২৪ অক্টোবর দিবাগত রাতে ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূলে আঘাত হানে। এতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূলে প্রাণহানি এবং বসতবাড়ি ও ফসলও নষ্ট হয়। তারপর গত ১৮ নভেম্বর আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি।’



মন্তব্য করুন


ইনসাইড ওয়েদার

তীব্র তাপপ্রবাহ: দেশের হাসপাতালগুলো প্রস্তুত রাখার নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

প্রকাশ: ০২:১৭ পিএম, ২১ এপ্রিল, ২০২৪


Thumbnail

তাপপ্রবাহের কারণে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সারা দেশের হাসপাতালগুলো প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন।

আজ রোববার (২১ এপ্রিল) সচিবালয়ে এক সভা শেষে তিনি এই নির্দেশনার কথা জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, তাপপ্রবাহের কারণে কোল্ড কেস (যাদের এখন ভর্তি হবার দরকার নেই) এই মুহূর্তে হাসপাতালে ভর্তি না করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালগুলো প্রতিকূল পরিবেশের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বয়স্ক ও শিশুরা যেন প্রয়োজন ছাড়া বাসার বাইরে না যায়, সে বিষয়েও পরামর্শ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।


তাপপ্রবাহ   স্বাস্থ্যমন্ত্রী  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ওয়েদার

দুর্যোগপূর্ণ ও বিপজ্জনক তাপমাত্রার দিকে দেশ!

প্রকাশ: ০১:০১ পিএম, ২১ এপ্রিল, ২০২৪


Thumbnail

বিশ্বের বেশির ভাগ দেশে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি উঠলে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ঘোষণা করা হয়। তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস আর আর্দ্রতা ৩০–এর ওপরে গেলে একে বিপজ্জনক আবহাওয়া হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এপ্রিলের এ সময়ে বাংলাদেশের গড় তাপমাত্রা থাকে ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কিন্তু এক সপ্তাহ ধরে তা ৩৫ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকছে।

গতকাল শনিবার (২০ এপ্রিল) দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল যশোরে ৪২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর ঢাকার তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করেছে। গড়ে সারাদেশের তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি ছিল।

আজ রোববার (২১ এপ্রিল) আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক জানান, আগামী ২৪ থেকে ২৫ এপ্রিল তাপমাত্রা কিছুটা কমে যেতে পারে। তবে ২৭, ২৮ তারিখে আবার বেড়ে যাবে তাপমাত্রা। মে মাসের প্রথম সপ্তাহ ধরে সারাদেশে থেমে থেমে তাপপ্রবাহ বয়ে যাবে। আর অতি উষ্ণ ও আর্দ্রতার বিপদ থাকতে পারে জুলাই-আগস্ট পর্যন্ত।

তাপমাত্রাবিষয়ক গবেষক ও ইউনিভার্সিটি টেকনোলজি মালয়েশিয়ার অধ্যাপক শামসুদ্দিন শহিদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালে শুধু তাপমাত্রার তীব্রতা দিয়ে মানুষের কষ্ট ও বিপদ বোঝা যাবে না। কোথাও তাপপ্রবাহ অর্থাৎ তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে না গেলেও বিপজ্জনক আবহাওয়া তৈরি হতে পারে। কোথাও যদি তাপমাত্রা ৩০ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে এবং আর্দ্রতা ৪০ শতাংশের বেশি হয় এবং বাতাসের প্রবাহ কম থাকে, তাহলে সেখানে অতি উষ্ণতার বিপদ তৈরি হতে পারে। এপ্রিল মাসজুড়ে বাংলাদেশে এই অতি উষ্ণতার বিপদই তৈরি হচ্ছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে ‘বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। গবেষণায় বলা হয়, গত ৬০ বছরে এপ্রিলের উষ্ণতা দ্রুত বেড়ে বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। চলতি মাসের বেশির ভাগ সময়জুড়ে দেশের অর্ধেকের বেশি এলাকায় তাপপ্রবাহ বইছে। অন্য বছরগুলোতে এই সময়ে কয়েক দিন পরপর একাধিক কালবৈশাখী, ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি হয়। এতে তাপমাত্রা কিছুটা হলেও কমে আসে।

এবার বৃষ্টি ও বাতাস নেই বললেই চলে। চার দিন ধরে দেশের ৭০ শতাংশ এলাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করে গেছে। আর গতকাল দেশের অন্তত ১২টি জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি ছিল।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে আর্দ্রতা বা বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ ৭৫ শতাংশ; কিন্তু এ মাসের বেশির ভাগ সময়জুড়ে তা ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশের মধ্যে ছিল। গতকাল ঢাকার বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৮৯ শতাংশ।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে প্রকাশ করা ২০২২ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, এপ্রিল মাসে তাপপ্রবাহ সবচেয়ে বেশি হচ্ছে। ‘বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালীন তাপপ্রবাহের একটি বিশ্লেষণ’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে অনুযায়ী, রাজশাহী, খুলনা, ঢাকা ও বরিশাল বিভাগে সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা থাকছে।

গবেষণা বলছে, ওই উচ্চ গরমের সঙ্গে মানুষের শরীর খাপ খাওয়াতে পারছে না। এতে নানা ধরনের রোগবালাই বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে। ওই উচ্চ তাপমাত্রা শহরে খাওয়ার পানি ও বিদ্যুতের সংকট তৈরি করছে। এছাড়া ফসলের উৎপাদন কমিয়ে দেয়া এবং খরা পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। মানুষের মেজাজ খিটখিটে হওয়া এবং সামাজিক অশান্তি তৈরির ক্ষেত্রেও ওই অতি উষ্ণতা ভূমিকা রাখছে।


দুর্যোগপূর্ণ   তাপমাত্রা   আবহাওয়া অধিদপ্তর  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ওয়েদার

রংপুর বিভাগের বাড়বে তাপমাত্রা

প্রকাশ: ১২:২৫ পিএম, ২১ এপ্রিল, ২০২৪


Thumbnail

আগামী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে। যা অপরিবর্তিত অবস্থায় থাকবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

রোববার (২১ এপ্রিল) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক এর দেওয়া পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে।

এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। 


তাপমাত্রা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ওয়েদার

হিট অ্যালার্টের মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়-বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস

প্রকাশ: ১০:৫৬ এএম, ২১ এপ্রিল, ২০২৪


Thumbnail

দেশের সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়সহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। রোববার (২১ এপ্রিল) ভোর ৫টায় নদীবন্দরের জন্য দেওয়া এক সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রোববার (২১ এপ্রিল) দুপুর একটার মধ্যে সিলেটের বিভিন্ন এলাকার ওপর দিয়ে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বৃষ্টি এবং বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

এসব এলাকার নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আগামী ৭২ ঘণ্টার পূর্বাভাসে আবহাওয়া অফিস বলছে, দেশের ওপর দিয়ে চলমান তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি তাপমাত্রা আরও বাড়ার শঙ্কা রয়েছে।

এরই প্রেক্ষিতে সারা দেশে হিট অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। তবে সারাদেশে হিট অ্যাল্যার্ট জারি থাকলেও কিছু স্থানে বৃষ্টি হওয়ার পূর্বাভাস পাওয়া গেছে।


আবহাওয়া অধিদপ্তর   হিট অ্যালার্ট  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ওয়েদার

অতিতীব্র তাপপ্রবাহ ও জলবায়ুর বিপর্যয়ে দেশ

প্রকাশ: ১০:০০ এএম, ২১ এপ্রিল, ২০২৪


Thumbnail

পৃথিবীর আবহাওয়ার চরিত্র ওলটপালট হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে। অসময়ে মরুভূমির বুকে হচ্ছে শীলাবৃষ্টি-বন্যা। নাতিশীতোষ্ণ দেশ হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশে বৈশাখের শুরুতেই তীব্র দাবদাহে ওষ্ঠাগত মানুষের প্রাণ। তপ্ত মরুর দেশগুলোতে যখন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হচ্ছে ২৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, তখন বাংলাদেশে তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রিরও বেশি। এই তাপপ্রবাহ আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

ইতোমধ্যে বৈশাখের ২০ দিন পার হলেও স্বাভাবিক ঝড়বাদল বা কালবোশেখির দেখা তেমন মেলেনি। অন্যদিকে গরম তীব্র থেকে অতিতীব্র আকার ধারণ করছে। বিভিন্ন এলাকায় বইছে মৃদু থেকে অতিতীব্র তাপপ্রবাহ। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তাপপ্রবাহের কারণে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সাত দিন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। হিট অ্যালার্ট জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। জরুরি কাজ ছাড়া বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত গরমে অসুস্থ হয়ে বা হিটস্ট্রোকে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।

শনিবার (২০ এপ্রিল) দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে ৪২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল চুয়াডাঙ্গায় ৪২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানী ঢাকায় গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ওঠে ৪০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। গতকাল দেশের ১২টি জেলায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় যশোর, চুয়াডাঙ্গা, খুলনা, কুষ্টিয়ার কুমারখালী, বাগেরহাটের মোংলা, পাবনার ঈশ্বরদী ও রাজশাহীতে।

অন্যদিকে গতকাল মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ দেশেই সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে। এর মধ্যে ওমানে ৩০য ডিগ্রি, কাতারে ৩২ ডিগ্রি, সিরিয়ায় ২৮ ডিগ্রি, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২৯ ডিগ্রি, বাহরাইনে ৩২ ডিগ্রি, ইরানে ২৬ ডিগ্রি এবং সৌদি আরব, কুয়েত ও ইরাকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যদিও মরুভূমির তপ্ত বালুর এই দেশগুলোতে এক সময় ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরেও তাপমাত্রা রেকর্ড হতো। ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরে ওমানে ৫৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। ২০২০ সালের ৩০ জুলাই কুয়েতের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৫২.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সৌদিতে ৫২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২০১০ সালের ২২ জুন।

গত মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) স্মরণকালের রেকর্ড বৃষ্টিপাতে নজিরবিহীন বন্যায় তলিয়ে যায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুবাই শহর। বন্ধ হয়ে যায় বিশ্বের দ্বিতীয় ব্যস্ততম বিমানবন্দর। ২৪ ঘণ্টার অস্বাভাবিক বৃষ্টিতে সড়কে জমে যায় বুকসমান পানি। শপিং মলের মধ্যে হাঁটুসমান পানি ঢুকে যায়। মরুর দেশে এপ্রিল মাসে এমন বৃষ্টিতে দেখা দিয়েছে বিস্ময়। যেখানে আরব আমিরাতে বছরে ১৫০-২০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়, সেখানে ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত হয় ২০০ মিলিমিটার।

এদিকে বাংলাদেশে যখন তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি ছাড়িয়েছে, তখন দুবাইয়ে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাতের বেলায় তাপমাত্রা নামছে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। দুবাই সফররত বাংলাদেশের একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা শামসাদ হুসাইন তানভীর ফেসবুকে লিখেছেন, সেখানে এসি চালাতে হচ্ছে না। একটি ফ্যান চালালেও কমফোর্টার গায়ে দিয়ে ঘুমাতে হচ্ছে।

গবেষণা বলছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে তাপমাত্রার চরিত্র বেশি বদলাচ্ছে। এ অঞ্চলে গত ২০০ বছরের তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙে গত বছরের এপ্রিল-মে মাসে। থাইল্যান্ডের ইতিহাসে ১৫ এপ্রিল ছিল সবচেয়ে উষ্ণতম দিন। তাপমাত্রা ছিল ৪৫.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ১ জুন ভিয়েতনামের ইতিহাসেও রেকর্ড ভেঙে তাপমাত্রা দাঁড়িয়েছিল ৪৩.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ছিল ভিয়েতনামের ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণতম জুন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ছয়টি দেশে এমন ঘটনা ঘটে। চলতি বছর তাপমাত্রার ওই রেকর্ডও ভাঙতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আবহাওয়া এমন বিরূপ আচরণ করছে। খরা, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, তাপপ্রবাহ, শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিচ্ছে। আর্দ্র এলাকাগুলো শুষ্ক হয়ে যাচ্ছে, আবার শুষ্ক এলাকায় বৃষ্টিপাত বাড়ছে। কখনো শীতকাল দীর্ঘায়িত হচ্ছে, কখনো ছোট হয়ে যাচ্ছে। কখনো অতিবৃষ্টিতে বন্যার সৃষ্টি হচ্ছে। আবার কখনো খরায় মাটি ফেটে যাচ্ছে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে বন্যা, ঝড়, জলোচ্ছ্বাস বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী না হয়েও সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে বাংলাদেশ।

তবে অস্বস্তির খবর হলো, আবহাওয়াবিদরা বলছেনÑচলমান তাপপ্রবাহ আগামী ৩০ তারিখ পর্যন্ত চলবে। দেশের কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বৃষ্টি হলেও কমবে না তাপমাত্রা। বাতাসে জলীয় বাষ্পের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় গরম বেশি অনুভূত হবে। মাসজুড়েই এ অবস্থা থাকবে। সারা দেশের তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ওঠানামা করতে পারে।

গতকাল আবহাওয়া অধিদফতরের সর্বশেষ প্রতিবেদেনে তাপপ্রবাহের বিষয়ে বলা হয়েছে- যশোর ও চুয়াডাঙ্গা জেলায় অতিতীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। রাজশাহী ও পাবনা জেলাসহ খুলনা বিভাগের অবশিষ্টাংশ এবং ঢাকা বিভাগের ওপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ এবং ময়মনসিংহ, মৌলভীবাজার, ফেনী, কক্সবাজার, চাঁদপুর ও রাঙামাটি জেলাসহ রাজশাহী বিভাগের অবশিষ্টাংশে ও বরিশাল বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে; তা অব্যাহত থাকবে।

আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেসা বলেন, ‘শনিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল চুয়াডাঙ্গায় ৪২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে ১৯৬৪ সালে যশোরে ৪৪ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল। তিনি বলেন, শনিবার ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত বছর ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৪০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ধারণা করা হচ্ছে এ বছর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্পর্শ করতে পারে রাজধানী ঢাকায়। গত বছর ১৭ এপ্রিল ঈশ্বরদীতে ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা উঠেছিল’।

আবহাওয়া অধিদপ্তর তথ্যানুযায়ী, কোনো বিস্তৃত এলাকাজুড়ে নির্দিষ্ট সময় ধরে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি থাকলে মৃদু, ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি থাকলে মাঝারি ও ৪০ থেকে ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তীব্র এবং ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি থাকলে তাকে অতিতীব্র তাপপ্রবাহ বলা হয়।

হিটস্ট্রোকে তিনজনের মৃত্যু: 

পাবনা শহরে ৬০ বছর বয়সী সুকুমার দাস নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। অতিরিক্ত গরমে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করছেন চিকিৎসকরা। এ ছাড়া চুয়াডাঙ্গায় হিটস্ট্রোকে জাকির হোসেন (৩৩) নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সকালে তিনি মাঠে গেলে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। গাজীপুরের কোনাবাড়ি থানাধীন জেলখানা রোডের জমিদার মাঠ থেকে সোহেল রানা (৪২) নামে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তীব্র তাপদাহের কারণে হিটস্ট্রোকে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করছে এলাকাবাসী। কয়েকদিন ধরে ভারসাম্যহীন অবস্থায় কোনাবাড়ি এলাকায় ঘোরাফেরা করছিলেন সোহেল।

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ১৭ এপ্রিল ৯ বছরের মধ্যে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ঈশ্বরদীতে ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। তার আগে ২০১৪ সালের মে চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৪৩ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সে বছরের ১৬ এপ্রিল আগের ৫৮ বছরের মধ্যে ঢাকার তাপমাত্রা ছিল সর্বোচ্চ ৪০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ১৯৭৫ সালের ১৮ মে রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা এখনো ভাঙেনি।


দাবদাহ   জলবায়ু   আবহাওয়া অধিদপ্তর  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন