ইনসাইড বাংলাদেশ

কারাবাস থেকে ৩২ বছর পর মুক্ত শাহজাহান, বিয়ে করে ফের মামলা

প্রকাশ: ১০:৪৩ এএম, ০১ এপ্রিল, ২০২৪


Thumbnail

বঙ্গবন্ধুর খুনি ও একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের ফাঁসি কার্যকর করা শাহজাহান ভূঁইয়া জল্লাদ হিসেবে সংবাদের শিরোনাম হয়েছিলেন। গত বছর কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পরও তিনি খবরের শিরোনাম হয়েছিলেন। ৬৬ বছর বয়সী শাহজাহান ভূঁইয়া নতুন জীবন শুরু করেছিলেন ঢাকার কেরানীগঞ্জের গোলামবাজার এলাকায়। সেখানে একটি চায়ের দোকান দিয়ে বসেছেন। ২৩ বছর বয়সী এক তরুণীকে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু তাঁর সেই সুখের সংসার বেশি দিন স্থায়ী হয়নি।

গত বছরের ২১ ডিসেম্বর সাথী আক্তার নামের ওই তরুণীকে বিয়ে করেন শাহজাহান। কিন্তু ৫৩ দিনের মাথায় তাঁর ঘর ছেড়ে যান সাথী। আদালতে শাহজাহানের বিরুদ্ধে যৌতুকের মামলাও দিয়েছেন।

রোববার (৩১ মার্চ) পাল্টা ওই তরুণী এবং তার মায়ের বিরুদ্ধে প্রতারণার একটি মামলা করেছেন শাহজাহান। মামলায় তিনি বলেছেন, ওই তরুণী ও তাঁর মা বিয়ের ফাঁদে ফেলে তাঁর (শাহজাহান) কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তরুণীর মামা।

শাহজাহান ভূঁইয়ার জন্ম নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ইছাখালী গ্রামে। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ করে স্থানীয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। হত্যা ও অস্ত্র মামলায় তার ৪২ বছরের সাজা হয়েছিল। ফাঁসি কার্যকর ও অন্যান্য কারণে তাঁর সাজার মেয়াদ কমিয়ে ৩২ বছর করা হয়। কারাগারের নথি অনুসারে, ১৯৯২ সালের ৮ নভেম্বর ডাকাতির জন্য ১২ বছর এবং ১৯৯৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর অপর একটি মামলায় ডাকাতি ও হত্যার জন্য ৩০ বছরের কারাদণ্ড হয় তাঁর।

শাহজাহানের আইনজীবী ওসমান গনি বলেন, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার পর স্থানীয় একজন চেয়ারম্যানের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে এলাকাছাড়া হন শাহজাহান। প্রায় তিন যুগ কারাভোগের পর গত বছর জুনে মুক্তি পান তিনি।

কারাগারের নথি অনুযায়ী, কারাবন্দী থাকাকালে শাহজাহান ভূঁইয়া ২৬ জনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ছয় খুনি, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবদুল কাদের মোল্লা, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, মীর কাসেম আলী ও জেএমবির দুই জঙ্গির ফাঁসি কার্যকর করেছেন তিনি।

মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্যমতে, গত বছরের ১৮ জুন কারামুক্তির পর শাহজাহান ভূঁইয়া ঢাকার কেরানীগঞ্জের গোলামবাজারে বসবাস শুরু করেন। এরপর সেখানে একটি চায়ের দোকান দেন। একদিন সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে কেরানীগঞ্জের কদমতলী থেকে কোনাখালায় যাচ্ছিলেন। তখন গাড়ির ভেতর তিনি একটি ভ্যানিটি ব্যাগ খুঁজে পান। পরে ব্যাগের ভেতর থাকা কাগজে লেখা ছিল একটি মুঠোফোন নম্বর। সেই নম্বরে ফোন করে শাহজাহান ভ্যানিটি ব্যাগের মালিককে ব্যাগ নিয়ে যেতে বলেন। পরে ব্যাগের মালিক ২৩ বছরের এক তরুণী তাঁর বান্ধবীকে নিয়ে কেরানীগঞ্জের গোলামবাজারে হাজির হন। পরে তরুণীর মা শাহিনূর বেগমের সঙ্গে শাহজাহানের পরিচয় হয়। শাহজাহানের দাবি, মুঠোফোনে পরিচয়ের পর তরুণীর সঙ্গে তিনি বেশ কয়েকবার কথা বলেন। একপর্যায়ে তরুণী ও তাঁর মা জুরাইন থেকে কেরানীগঞ্জের গোলামবাজারে চলে আসেন। শাহজাহান ভূঁইয়ার বাসায় রান্নার কাজ নেন তিনি। পরিচয়ের দেড় মাস পর ২১ ডিসেম্বর তরুণীর সঙ্গে পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহরে শাহজাহানের বিয়ে হয়। বিয়ের দুই মাসের মাথায় গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ওই তরুণী শাহজাহানের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনে নালিশি মামলা করেন।

মামলায় তরুণী দাবি করেন, বিয়ের উপঢৌকন হিসেবে শাহজাহানকে এক লাখ টাকার মালামাল দেয় তাঁর পরিবার। পাশাপাশি নগদ ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। বিয়ের কয়েক দিন পর তাঁদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকেন শাহজাহান ভূঁইয়া। একই সঙ্গে শাহজাহান তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেছেন বলে মামলায় অভিযোগ করেন তরুণী।

ঢাকার সিজেএম আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আনোয়ারুল কবীর জানান, শাহজাহানের বিরুদ্ধে করা মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম) আদালত।

তবে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ মামুন অর রশীদ বলেন, শাহজাহান ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে তরুণীর দায়ের করা কোনো মামলার কাগজপত্র কিংবা আদালতের কোনো আদেশ হওয়ার তথ্য তাঁর জানা নেই।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শাহজাহান ভূঁইয়া কাছে দাবি করেন, তরুণীকে শারীরিক কিংবা মানসিক কোনো প্রকারের নির্যাতন তিনি করেননি। যৌতুক চাওয়ার প্রশ্নই আসে না। বরং ওই তরুণী প্রতারণা করে তাঁর কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

শাহাজাহন ভূঁইয়া আজ ওই তরুণী ও তাঁর মাসহ ছয়জনকে আসামি করে আদালতে মামলা করেছেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেছেন, তরুণী ও তার মা বিয়ের আগে নানা কৌশলে তাঁর কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা নেন। বিয়ের দিন একটি অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করে তরুণী তাঁর কাছ থেকে আরও ১০ লাখ টাকা নেন। শাহজাহান বলেন, কারাগার থেকে ছাড়া পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে তাঁকে পাঁচ লাখ টাকা দেওয়া হয়। আর কারাগারে থাকা অবস্থায় বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়েছিল। তাঁদের কাছ থেকে আশীর্বাদ হিসেবে পাওয়া টাকাসহ মোট ১৮ লাখ টাকা তিনি সাহায্য হিসেবে পান। সেই টাকা দিয়েই তিনি এই বিয়ে করেছেন।

তরুণীর সঙ্গে শাহজাহানের করা অঙ্গীকারনামায় উল্লেখ রয়েছে, তরুণী ১০ লাখ টাকা শাহজাহানের কাছ থেকে বুঝে নিয়েছেন। বিয়ে বলবৎ রাখতে অপারগ হলে তিনি ১০ লাখ টাকা শাহজাহানকে ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হবেন। অঙ্গীকারনামায় আরও উল্লেখ রয়েছে, বিয়ের চার মাসের মাথায় শাহজাহান তরুণীর নামে ২ শতাংশ জমি হেবা (দান) করবেন। স্ত্রী হিসেবে স্বামী শাহজাহানের আদেশ তরুণী মেনে চলবেন। স্বামী–স্ত্রী হিসেবে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার স্বার্থে সম্পর্ক উন্নয়নসহ সব ধরনের কাজ করতে বাধ্য থাকবেন। অঙ্গীকারনামায় তরুণী ও শাহজাহানের স্বাক্ষর রয়েছে।  

মামলায় শাহজাহান দাবি করেন, বিয়ের কিছুদিন পর স্ত্রী ও শাশুড়ি তাঁর সঙ্গে খারাপ আচরণ করা শুরু করেন। বিয়ের ৫৩ দিনের মাথায় স্ত্রী তাঁর বাসা থেকে বেরিয়ে যান। শাহজাহানের সঙ্গে সংসার করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। পরে শাহজাহান অঙ্গীকারনামার শর্ত অনুযায়ী স্ত্রীকে দেওয়া ১০ লাখ টাকা ফেরত চান। তখন তারা সেই টাকা দিতে অস্বীকার করেন। স্ত্রী, শাশুড়িসহ অন্যদের বিরুদ্ধে করা প্রতারণার মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চেয়ে সাথী আক্তারের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে তাঁর মামা দীন ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, মুঠোফোনে শাহজাহানের সঙ্গে তাঁর ভাগনি সাথী আক্তারের পরিচয় হয়। এরপর নানা প্রলোভন দেখিয়ে তিনি সাথীকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তাঁর আচরণ ভালো ছিল না। ভয়ভীতি ও মারধরের কারণে সাথী শাহজাহানের বাসা থেকে চলে আসে।

দীন ইসলাম বলেন, ১০ লাখ টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও কোনো টাকা দেননি শাহজাহান ভূঁইয়া। কিন্তু অঙ্গীকারনামায় সাথীর স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল।


কারাবাস   শাহজাহান   মামলা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

উপজেলা নির্বাচন: নওগাঁর দুই উপজেলায় নির্বাচিত যারা

প্রকাশ: ০৩:১৩ পিএম, ৩০ মে, ২০২৪


Thumbnail

নওগাঁর দুটি উপজেলা পরিষদের ৩য় ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৯ মে) রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলায় সকাল ৮ থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই এ ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়।

বুধবার (২৯ মে) রাতে ভোট গণনা শেষৈ বেসরকারিভাবে ভোটের ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ফলাফলে দেখা যায় রাণীনগরে বিজয়ী হয় রাহিদ সরদার এবং আত্রাই উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হন এবাদুর রহমান।

প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে রাণীনগর উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য রাহিদ সরদার। তিনি কাপ পিরিচ প্রতীকে ২৩ হাজার ৪৬৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আসাদুজ্জামান কৈ মাছ প্রতীকে পেয়েছেন ১৪হাজার ৫৪৮ ভোট।

আর মহিলা ভাইস চেয়ারম্যন পদে রুমা বেগম পদ্ম ফুল প্রতীকে পেয়েছেন ৩২ হাজার ১৩৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মর্জিনা বেগম প্রজাপতি প্রতীকে ১৩ হাজার ২০ ভোট পেয়েছে। এবং পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যন পদে প্রদ্যুৎ কুমার প্রামানিক চশমা প্রতীকে পেয়েছে ১৬ হাজার ৪১৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জারজিস হাসান টিউবওয়েল প্রতীকে ১২ হাজার ৪৮ ভোট পেয়েছে।

অপরদিকে আত্রাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান এবাদুর রহমান বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি কৈ মাছ প্রতীকে ২১ হাজার ৪৭৬ ভোট পেয়ে চতুর্থবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আজিজুর রহমান পলাশ জোড়া ফুল প্রতীকে পেয়েছেন ১৩হাজার ৪৭৮ ভোট।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফেরদৌসী চৌধুরী কলস প্রতীকে ৩৬ হাজার ৫২৯ ভোটে পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মিতু বানু ফুটবল প্রতীকে ২৯ হাজার ৯১১ভোট পেয়েছে। এবং পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজুল শেখ চশমা প্রতীকে ৩৩ হাজার ২৩৩ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মো: আফসার তালা প্রতীকে ৩২ হাজার ৮১ ভোট পেয়েছে।

তাদেরকে বেসরকারিভাবে তাদের বিজয়ী ফলাফল ঘোষণা করেন রাণীনগর আত্রাই উপজেলা সহকারী রিটার্নিং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে তাবাসসুম সঞ্চিতা বিশ্বাস।

উল্লেখ্য, রাণীনগর উপজেলায় ভোট পড়েছে ৪১ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং আত্রাই উপজেলায় ৪২ দশমিক ৭৯ শতাংশ।


উপজেলা নির্বাচন   বিজয়ী প্রার্থী  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

উপকূলীয় অঞ্চলে দুর্যোগ সহনীয় ঘর করে দেয়া হবে: শেখ হাসিনা

প্রকাশ: ০২:২৩ পিএম, ৩০ মে, ২০২৪


Thumbnail

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ঘূর্ণিঝড়  রেমালে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা-বাঁধ মেরামত শুরু হয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলে দুর্যোগ সহনীয় ঘর করে দেয়া হবে। আওয়ামী লীগ সরকার এসেছে বলেই এই উপকূলীয় অঞ্চলে শান্তি এসেছে। অনেকেই ক্ষমতায় ছিল কিন্তু কেউ তা পারেনি। এই অঞ্চলের বাংলাদেশের কেউ ভূমিহীন থাকবে না। 

আজ বৃহস্পতিবার (৩০ মে) পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌর শহরে সরকারি মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস ডিগ্রি কলেজ মাঠে ত্রাণ বিতরণের পরে এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র আছে বলেই দেশে উন্নয়ন হচ্ছে। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। এই অঞ্চলের (উপকূলের) মানুষ প্রতিনিয়ত প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে জীবনযুদ্ধে লিপ্ত হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসবেই, সেটাকে মোকাবিলা করে মানুষের জীবনমান রক্ষা করাই আমাদের লক্ষ্য এবং সেটাই আমরা করে যাচ্ছি।

শেখ হাসিনা বলেছেন, ঘূর্ণিঝড় রেমালে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, বাঁধ দ্রুত মেরামতে আওয়ামী লীগ সরকার কাজ করছে। ইতোমধ্যে যে সমস্ত রাস্তাঘাট ভেঙে গেছে, সেগুলো মেরামত করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যে বাঁধগুলো ভেঙে গেছে, সেগুলোও মেরামতের কাজ ইতোমধ্যে আমরা শুরু করে দিয়েছি। যাতে বর্ষার আগেই আমরা বাঁধগুলো নির্মাণ করে জলোচ্ছ্বাস বা পানির হাত থেকে মানুষকে বাঁচাতে পারি।

এবারের ঝড়-জলোচ্ছ্বাস খুবই অস্বাভাবিক হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি সাইক্লোন শেল্টার করেছি, সেখানে মানুষ আশ্রয় পেয়েছে। যারা গৃহহীন, তাদের দুর্যোগ সহনীয় ঘর করে দিয়েছি। যে কারণে মানুষ অন্তত আশ্রয়ের জায়গা পেয়েছে। পশুপাখি আশ্রয়ের ব্যবস্থা পেয়েছে।’

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ২ হাজার লোকদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তার সফরসঙ্গী হিসেবে সঙ্গে ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।


উপকূলীয় অঞ্চল   দুর্যোগ   শেখ হাসিনা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ৫০ জলদস্যুর আত্মসমর্পণ

প্রকাশ: ০১:৪৮ পিএম, ৩০ মে, ২০২৪


Thumbnail

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন চট্টগ্রাম কক্সবাজার জেলার উপকূলীয় এলাকার ১২ বাহিনীর ৫০ জলদস্যু। এর মধ্যে একজন নারীও রয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩০ মে) চট্টগ্রাম র‌্যাব আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দস্যুরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে অস্ত্র গোলাবারুদ জমা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেন।

র‌্যাব জানায়, সংস্থাটির চট্টগ্রাম ইউনিটের উদ্যোগে এর আগে ২০১৮ এবং ২০২০ সালে চট্টগ্রাম কক্সবাজারের উপকূলীয় অঞ্চলের ৭৭ জন জলদস্যু আত্মসমর্পণ করেছিল। এটি অন্যান্য জলদস্যুদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। একপর্যায়ে চট্টগ্রামে বাঁশখালী এবং কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী কুতুবদিয়া অঞ্চলের জলদস্যুরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আশার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম র‌্যাব তাদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়।

২০১৮ সালের গত নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণা করেন। এতে অত্র অঞ্চলের জলভাগে দস্যুতার ঘটনা কমে গেছে।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী   জলদস্যু   আত্মসমর্পণ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

সড়ক মেরামতের কাজ শেষ করার নির্দেশ দিলেন কাদের

প্রকাশ: ০১:৩৬ পিএম, ৩০ মে, ২০২৪


Thumbnail

ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর মেরামতের কাজ ঈদের আগেই শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন সড়ক পরিবহন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। পাশাপাশি নতুন করে কোথাও কোনও ধরনের খোঁড়াখুড়ি করে যেন জনভোগান্তি না সৃষ্টি করা হয়, সেই বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৩০ মে) বেলা সোয়া ১১টায় রাজধানীর বিআরটিএ কার্যালয়ে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন নিরাপদ করার লক্ষ্যে আয়োজিত এক সভা শেষে তিনি এসব নির্দেশনার কথা জানান।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ঈদযাত্রায় বাড়তি ভাড়া যেন কেউ আদায় করতে না পারে, সে বিষয়ে তৎপর থাকতে হবে। এছাড়া, ঈদের আগে-পরে মিলিয়ে সিএনজি স্টেশন ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার জন্য পদক্ষেপ নিতে জ্বালানি মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগ নিতে হবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, কুমিল্লা থেকে ৫০ মিনিটের মধ্যে ঢাকায় পৌঁছে যায়, কিন্তু ফ্লাইওভারে এক ঘণ্ট-দেড় ঘণ্টা যানজটে আটকা থাকতে হয়। সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে কথা বলে সংশ্লিষ্টরা বিষয়ে ব্যবস্থা নেন।ফিটনেসবিহীন কোনও বাস যেন চলতে না পারে, বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করুন আপনারা।

তাছাড়া, দেশের সব বাস টার্মিনাল মহাসড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ করা এবং সড়কপথে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, পকেটমার, মলম পার্টি অজ্ঞান পার্টির দৌরাত্ম্য রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, ঈদের দিনসহ এর আগের তিন দিন পরের তিন দিন মহাসড়কে পশুবাহী গাড়ি ছাড়া ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান লরি চলাচল বন্ধ রাখা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য-দ্রব্য, পচনশীল দ্রব্য, গার্মেন্টস সামগ্রী, ওষুধ, সার এবং জ্বালানি বহনকারী যানবাহনকে এর আওতামুক্ত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হবে।

বিআরটিএর চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার, সড়ক পরিবহন মহাসড়ক বিভাগের সচিব বি এম আমিন উল্লাহ নুরীসহ সড়ক জনপথ বিভাগ, হাইওয়ে পুলিশ, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়, বিআরটি, সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির প্রতিনিধিদের পাশাপাশি সব জেলার সংশ্লিষ্টরা সভায় অনলাইনে যুক্ত ছিলেন।


সড়ক   কাদের  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ০১:০৮ পিএম, ৩০ মে, ২০২৪


Thumbnail

ঘূর্ণিঝড় রেমালে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার (৩০ মে) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে তিনি কলাপাড়ায় পৌঁছে পায়রা বন্দরসহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। 

ঘূর্ণিঝড় রেমালের তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে  ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কলাপাড়া পৌর শহরের সরকারি মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস ডিগ্রি কলেজ মাঠে দুই হাজার দুর্গত মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন তিনি।

ত্রাণ বিতরণ শেষে কলাপাড়ার শেখ কামাল ব্রিজ পরিদর্শন করবেন শেখ হাসিনা। এরপর পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের সম্মেলনকক্ষে বরিশাল বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। 

বিকেল ৫টায় পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের হেলিপ্যাড থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে আজ বেলা ১১টায় রাজধানীর তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে দুর্গত এলাকার উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  

উল্লেখ, গত ২৬ মে রাত থেকে ২৭ মে দুপুর পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন জেলার মত উপকূলীয় অঞ্চল ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জলোচ্ছ্বাসের কারণে তলিয়ে গেছে কয়েক হাজার বসত বাড়ি। কৃষি মৎস্য খাতে প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।


পটুয়াখালী   কলাপাড়া   প্রধানমন্ত্রী  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন