ইনসাইড বাংলাদেশ

প্রধানমন্ত্রীকে চীন সফরের আমন্ত্রণ

প্রকাশ: ০৩:৪২ পিএম, ০৩ এপ্রিল, ২০২৪


Thumbnail

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে চীন। প্রধানমন্ত্রী এ আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন।

বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন আজ বুধবার সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে তার দেশের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীকে পৌঁছে দেন।

পরে প্রধানমন্ত্রী স্পিচ রাইটার মো. নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। রাষ্ট্রদূত প্রত্যাশা করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের উন্নয়ন অংশীদারত্ব নতুন উচ্চতায় উন্নীত হবে।

সাক্ষাতে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। আলাপকালে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে চীনের সহায়তা চান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণাঞ্চল এতদিন অবহেলিত ছিল। আওয়ামী লীগ ছাড়া কোনো সরকারই এই এলাকার উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।

তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর মাধ্যমে ইতোমধ্যে দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন হয়েছে। তার সরকার চায় এই অঞ্চলকে আরও অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নিতে চীন সহায়তা করবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করে চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, শেখ হাসিনাকে শুধু বাংলাদেশের নেতা নন, বিশ্বনেতা বলে আখ্যায়িত করেন।

বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ সম্পন্নের মাধ্যমে সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় চীন সবসময় পাশে থাকবে বলে জানান রাষ্ট্রদূত।

সাক্ষাতকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া।


প্রধানমন্ত্রী   চীন   আমন্ত্রণ   শেখ হাসিনা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

অসাম্প্রদায়িক চেতনায় নজরুল

প্রকাশ: ০৭:৫৯ এএম, ২৫ মে, ২০২৪


Thumbnail

‘মরিছে হিন্দু, মরিছে মুসলিম, এ উহার ঘায়ে আজ

বেঁচে আছে যারা মরিতেছে তারা, এ মরণে নাহি লাজ।’ 

কেউ তাকে বলে হিন্দুদের কবি, কেউ আবার বলে মুসলমানের কবি। কিন্তু বস্তুত তিনি ছিলেন সাম্যের কবি। অসাম্প্রদায়িক চেতনার মুক্ত প্রদীপ গড়েন তিনি। সাম্যবাদী চিন্তা ছিল তার মননে মস্তিষ্কে। তাই হয়তো তিনি বলে গেছেন, ‘হিন্দু না ওরা মুসলিম? ওই জিজ্ঞাসে কোন জন? কাণ্ডারি! বল, ডুবিছে মানুষ সন্তান মোর মার।' 

বিংশ শতাব্দীর অন্যতম জনপ্রিয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। ১৮৯৯ সালের ২৫ মে তার জন্ম। তার জন্ম ভারতে হলেও তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি। সাহিত্যে রয়েছে তার অনন্য অবদান। দিয়েছেন সাম্যবাদী, মরুভাস্কর, অগ্নিবীণার মত অসাধারণ সব উপহার। তার এই সব সৃষ্টির জন্য তাকে বিদ্রোহী কবি হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তবে তার লেখার মূল বিষয়বস্তু ছিল মানুষের উপর অত্যাচার এবং সামাজিক অনাচার, কুসংস্কার ও শোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ।

সাহিত্যে অগ্নিবীণা হাতে প্রবেশ এবং ধুমকেতুর মতো প্রকাশ এই কবির। তবে তিনি সমাজের প্রতি যে অসম্প্রদায়িক বার্তা দিয়ে গেছেন সেটি করা তার পক্ষে মোটেই সহজ কাজ ছিল না। কেননা অসাম্প্রদায়িক চেতনার নজরুলের জন্মস্থানে ছিল সাম্প্রদায়িকতার জয়জয়কার। যার শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিল মাদ্রাসায় এবং যে জীবনের তাগিদে মসজিদের ইমামতির কাজও করেছেন সে ব্যক্তি আবার বলেন, মিথ্যা শুনিনি ভাই, এই হৃদয়ের চেয়ে বড় কোন মন্দির কাবা নাই।'

নজরুলের বেড়ে ওঠার সময়টি ছিল তার অসাম্প্রদায়িক চেতনার জন্য উত্তম সময়।দুই ভিন্ন সংস্কৃতির মধ্যে বেড়ে উঠেছিলেন নজরুল। ছোটবেলায় মাদ্রাসায় পড়ে, ইমামতি করে তিনি যেমন ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে জানতে পেরেছেন, ঠিক তেমনি লেটো গানের দলে যোগ দিয়ে রপ্ত করেছিলেন রামায়ণ, মহাভারত আর পুরান।  লেটো দলে থাকাকালীন নজরুলের দুই বন্ধু ছিল এদের মধ্যে স্বৈরজা নন্দন মুখোপাধ্যায় ছিলেন হিন্দু ব্রাহ্মণ আর শৈলেন্দ্র কুমার ঘোষ ছিলেন খ্রিষ্টান। তিন বন্ধুর একত্রে মেলামেশা এবং ঘনিষ্ঠতার কারণে কৈশোর থেকেই নজরুলের মনে অসাম্প্রদায়িক চেতনা দাগ কাটে।  তাছাড়া কবির বেড়ে ওঠার সময় বিশ্ব রাজনীতিতে বেশ কিছু মৌলিক পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল। সাম্রাজ্যবাদী ভাবধারাকে  পিছনে ফেলে সামনে এসেছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের সমাজতন্ত্রের বিপ্লব। তাছাড়া সে সময় ভারতে কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠা কিংবা বলা যায় ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন এই সব কিছুকেই নজরুল মনে প্রাণে ধারণ করেছিলেন। সেজন্য আমরা তাকে দেখি কখনো বিদ্রোহী, কখনো সংস্কারবাদী আবার আবার তাকে কখনো দেখা যায় হামনাদ গাইতে বা আবার কখনো কখনো শ্যামা সঙ্গীত সৃষ্টি করতে। 

কাজী নজরুল ইসলাম বারবার লক্ষ্য করেছেন সাম্প্রদায়িক কলসের বীভৎস রূপ। তাকে বলা হয় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। কবি মানে এটি গভীর ভাবে প্রভাব ফেলেছিল। তিনি সারা জীবন সংগ্রাম করে গেছেন ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে। আর তা আমরা তার বিভিন্ন লেখার মাধ্যমে খুঁজে পাই। দাঙ্গায় যে হিন্দু মুসলিম উভয় পক্ষেরই দায় রয়েছে তা তিনি পক্ষপাতহীন দৃষ্টিতে উপলব্ধি করেছেন। আর তাই সংকীর্ণ মানসিকতায় আচ্ছন্ন উগ্রপন্থীরা তার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বারবার। কিন্তু নজরুল দৃঢ়চেতা, তাকে থামানো যায়নি। শত জেল জুলুম অত্যাচার সহ্য করেও তিনি সারাজীবন গেয়ে গেছেন সাম্যের গান। মানুষকে শিখিয়েছেন মানুষ হতে। 

নজরুল মনে করতেন সাম্প্রদায়িকতা ভারতীয় উপমহাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার মূল সমস্যা। তিনি বিশ্বাস করতেন, সাম্প্রদায়িকতার বিষয়টি এদেশের স্বীকৃত  মধ্যবিত্তের বই রিতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা। তিনি বাঙালি কে কেবল বাঙালি বলেই চিহ্নিত করতেন। মনুষ্যধর্ম ছিল তার কাছে মূল ধর্ম। তাই তিনি বলে গেছেন, 'গাহি সাম্যের গান, মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান।'


কাজী নজরুল ইসলাম   জন্ম জয়ন্তী   জাতীয় কবি   অসাম্প্রদায়িতক চেতনা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

শনিবার ৬ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে রাজধানীর যেসব সড়ক

প্রকাশ: ১০:২৪ পিএম, ২৪ মে, ২০২৪


Thumbnail

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল শনিবার (২৫ মে) রাজধানীর বঙ্গবাজার বিপণিবিতানের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করবেন। এ উপলক্ষে সকাল ৬টা হতে বেলা ১২টায় পর্যন্ত টানা ৬ ঘণ্টা নিম্নলিখিত এলাকাগুলোয় রাস্তা বন্ধ ও রোড ডাইভারশন দেওয়া হবে।

শুক্রবার (২৪ মে) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার ডিসি মো ফারুক হোসেন বিষয়টি জানিয়েছেন।

ডাইভারশন পয়েন্টগুলো হলো-১. হাইকোর্ট ক্রসিং, ২. গোলাপশাহ মাজার ক্রসিং, ৩. সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল ক্রসিং, ৪. বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি’র (অমর একুশে হল) সামনে, ৫. ফুলবাড়িয়া ক্রসিং, ৬. চানখারপুল ক্রসিং, ৭. নিমতলী ক্রসিং।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

এখনও শূন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব পদ

প্রকাশ: ১০:০০ পিএম, ২৪ মে, ২০২৪


Thumbnail

গত ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর প্রেস ইহসানুল করিম হেলাল মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর আড়াই মাস পেরিয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর কোন নতুন প্রেস সচিব নিয়োগ দেওয়া হয়নি। স্পিচ রাইটার হিসেবে নজরুল ইসলাম এখন দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু তাকেও প্রেস সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়নি। আড়াই মাস ধরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি পদ শূন্য হয়ে আছে। কে প্রেস সচিব হবেন—এ নিয়ে নানামুখী জল্পনা কল্পনা ছিল প্রথমদিকে। এখন সে জল্পনা কল্পনাও থিতিয়ে গেছে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদ। প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উইংয়ের এই কর্মকর্তা গণমাধ্যমের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সম্পর্ক, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রচারণার বিভিন্ন কাজের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। কিন্তু এই পদটি দীর্ঘ আড়াই মাস ধরে শূন্য থাকার প্রেক্ষিতে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে। 

একাধিক সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার নজরুল ইসলামকে প্রেস সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। সে জন্যই এই পদটিতে কাউকে নিয়োগ দেয়া হয়নি। যেহেতু তিনি দায়িত্ব পালন করছেন, এজন্য এ বিষয়ে কোন শূন্যতা অনুভূত হয়নি। তবে এর বিপরীত মতামতও রয়েছে। 

অনেকেই মনে করছেন, যদি নজরুল ইসলামকে সত্যি সত্যি প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব হিসেবে নিয়োগ দেয়া হতো, তাহলে এতদিন অপেক্ষা করা হতো না। আর বহু আগেই নিয়োগ দেয়া হতো। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব হিসেবে একজন যোগ্য ও যথাযথ ব্যক্তির ব্যাপারে অনুসন্ধান চলছে এবং এ বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। 

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব হিসেবে সিনিয়র কোন সাংবাদিক হবেন নাকি আমলাদের মধ্য থেকে নেওয়া হবে—এ নিয়েও বিভিন্ন ধরনের মতামত পাওয়া গেছে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সচিব পদে একাধিক সিনিয়র সাংবাদিকের নাম নানা সময়ে আলোচনায় ছিল। তবে এখন আলোচনায় উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছেন অনেকেই। তবে শেষ পর্যন্ত অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ঢাকাস্থ ব্যুরো প্রধান ফরিদ হোসেনের নাম ব্যাপকভাবে আলোচনায় এসেছিল। এর পাশাপাশি বিএফইউজের সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুলের নামও বিভিন্ন মহলে আলোচনায় ছিল। 

প্রেস সচিব হিসেবে এর বাইরেও বেশ কিছু সিনিয়র সাংবাদিকের নাম নিয়ে বিভিন্ন জল্পনা কল্পনা এবং আলোচনা ছিল। কিন্তু কোন আলোচনারই বাস্তব ভিত্তি পাওয়া যায়নি। আলোচনাগুলো সাংবাদিকদের মধ্য থেকেই উত্থাপিত হচ্ছে। এটি যতটুকু না সরকারের ভাবনা তার চেয়ে বেশি সাংবাদিক এবং গণমাধ্যমের আকাঙ্খা। 

তবে সরকারি সূত্রগুলো মোটামুটি নিশ্চিত করেছে প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটারই প্রেস সচিব হবেন। কিন্তু নজরুল ইসলাম যদি প্রেস সচিব হবেন তাহলে এতদিনেও তাকে প্রেস সচিব করা হয়নি কেন? 

একাধিক সূত্র মনে করে যে, নজরুল ইসলামকে প্রেস সচিব করা যায় কি না এই বিষয়টি নিয়ে সরকারের নীতি নির্ধারক মহলে বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগত ভাবে নানা চিন্তা ভাবনা করছেন। তিনি বেতারের একজন কর্মকর্তা। গণমাধ্যমের সঙ্গে তার সম্পর্ক কেমন হবে, অন্যান্য সাংবাদিক বিশেষ করে সিনিয়র সাংবাদিকদেরকে তিনি কতটুকু ম্যানেজ করতে পারবেন, সাংবাদিকদের মধ্যে নানা গ্রুপ উপগ্রুপ গুলোর মধ্যে তিনি কতটুকু সমন্বয় করতে পারবেন, সকলের সাথে কিভাবে মিলিয়ে চলতে পারবেন ইত্যাদি নানা বিষয় গুলোকে বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে প্রেস সচিব পদটি শূন্য থাকাটা একটি বিস্ময়কর ঘটনা বটে। অনেকের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে প্রেস সচিব পদটি কি তাহলে এতোই গুরুত্বহীন যে, এই পদে কাউকে দেয়াটাও সরকার প্রয়োজনীয় মনে করছে না।


প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব   ইহসানুল করিম   মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল   স্পিচ রাইটার   নজরুল ইসলাম  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

আজিজের বিষয়ে ‌'সরকারি তদন্ত' চায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: ০৯:০০ পিএম, ২৪ মে, ২০২৪


Thumbnail

গত ২০ মে মধ্যরাতের পর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। ম্যাথিউ মিলারের দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আজিজ আহমেদ এবং তার পরিবারের সদস্যরা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, তিন ভাইকে অবৈধভাবে কাজ পাইয়ে দেয়া এবং তাদের অপরাধে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে সাবেক এই সেনা প্রধানের বিরুদ্ধে। 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই নিষেধাজ্ঞার পর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এটিকে নিশিরাতের স্যাংশন হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, লু আসলেন শান্তির বার্তা নিয়ে, ফিরে গিয়ে দিলেন স্যাংশন। 

গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, দেশের অংশ ভাড়া দিয়ে আমি ক্ষমতায় যেতে চাই না। স্পষ্টতই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি এ ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। অবশ্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার পর এটিকে ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি এটিও দাবি করেছেন, নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র আগে থেকেই বাংলাদেশকে অবহিত করেছে। 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছিলেন, এটি ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা। এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তির ওপর দিয়ে থাকে। তবে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নির্মোহ এবং সুষ্ঠু তদন্ত চায় বলে জানা গেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র দপ্তর এবং ওয়াশিংটনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসকে এই বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। 

একজন কূটনীতিক বলেছেন, এর আগে ২০২১ সালে যখন র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল তখনও বলা হয়েছিল র‌্যাবের বিরুদ্ধে যে আনিত অভিযোগগুলো রয়েছে বিশেষ করে গুম, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড তার নির্মোহ তদন্ত করা দরকার এবং র‌্যাবের শুদ্ধিকরণের ব্যাপারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাবনা দিয়েছিল। এখন র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে কি না তা নির্ভর করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে মানদণ্ড এবং শুদ্ধিকরণ ফর্মুলা দিয়েছিল তার কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে তার ওপর। 

একইভাবে আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো উঠেছে, সেই অভিযোগগুলো নির্মোহ তদন্ত সরকারকে করতে হবে বলেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মনোভাব ব্যক্ত করেছে। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো উত্থাপন করা হয়েছে সে অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে তিনি বিজিবির প্রধান এবং সেনাপ্রধান থাকা অবস্থায় প্রভাব খাটিয়ে তার তিন ভাইদের অপরাধ ঢাকার চেষ্টা করছেন। 

অভিযোগ উঠেছে যে, তার ভাইদের মধ্যে অন্তত একজন তাদের নাম, পিতার নাম এবং ঠিকানা বদলে জাতীয় পরিচয়পত্র এবং পাসপোর্ট করেছেন। এটি যদি সত্যি হয় তাহলে সরকারকে তদন্ত করতে হবে। তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে। দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়েছিল আজিজ আহমেদ বিজিবির প্রধান এবং সেনাপ্রধান থাকা অবস্থাতে প্রভাব খাটিয়ে তার ভাইদেরকে বিভিন্ন কাজ পাইয়ে দিতে সহযোগিতা করেছেন। এই অভিযোগের ব্যাপারেও তদন্ত চায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তবে বাংলাদেশ সরকার এখন পর্যন্ত এই অভিযোগ গুলোর ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আনিত অভিযোগ গুলো তদন্ত করা হবে কি না সে সম্পর্কে সুস্পষ্ট কোন বার্তা দেয়া হয়নি।

আজিজ আহমেদ   মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

এমপি আজিমের খণ্ডিত লাশ ব্রিফকেসে নিয়ে বের হন যারা

প্রকাশ: ০৭:১১ পিএম, ২৪ মে, ২০২৪


Thumbnail

চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়ে খুন হয়েছেন ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার। তবে তার মরদেহ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশসহ অন্যান্য সংস্থা এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করছে। এমপি আনারকে হত্যা করার পর তার লাশ টুকরো টুকরো করা হয়। এরপর সেগুলো প্লাস্টিকের প্যাকেটে করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেয়া হয়। পুরো কিলিং মিশনে সবার সামনে ছিলেন শিমুল ভুঁইয়া ওরফে আমানুল্লাহ।

গত ১৩ মে দুপুর ২টা ৫১ মিনিটে সঞ্জীবা গার্ডেনের আলোচিত সেই ফ্ল্যাটে ঢুকেন এমপি আনার। এ সময় তার সঙ্গে থাকা দুজন হলেন শিমুল ভুঁইয়া ওরফে আমানুল্লাহ এবং তার সহযোগী ফয়সাল। এমপি আনার তখন তার জুতা রাখেন দরজায় রাখা র‍্যাকে। বেশ শান্তশিষ্ট ও স্বতস্ফুর্তভাবে ফ্ল্যাটে ঢুকতে দেখা যায় তাকে।

কয়েক ঘণ্টা পর বের হয়ে আসেন শিমুল ভুঁইয়া ওরফে আমানুল্লাহ, হাতে ছিল একটা লাগেজ। এরপর তার সঙ্গে পলিথিন ও কাগজের শপিং ব্যাগ হাতে বের হন আরেকজন। বের হওয়ার সময় শিমুল ভুইয়া বাইরে থেকে দরজা চাবি দিয়ে লক করে দেন। লিফট দিয়ে নেমে তারা বের হয়ে যান এমপি আনারের লাশ গুম করতে। পুরো কিলিং মিশনের নেতৃত্বে সামনে থেকেই দেখা যায় শিমুল ভূঁইয়াকে।

ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে দরজা লক করছেন শিমুল ভূঁইয়া। ব্রিফকেসে এমপি আনারের খণ্ডিত লাশ। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে এমপি আনোয়ারুল হত্যার মোটিভের বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে ঢাকা ও কলকাতার পুলিশ।

তারা জানিয়েছেন, বিভিন্ন সময় চরমপন্থীদের ক্রসফায়ারসহ নানাভাবে শায়েস্তা করিয়েছে আনোয়ারুল আজিম। সেটা নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ ছিল পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির নেতাদের। এছাড়া, আরেকটি বড় কারণ, কলকাতায় স্বর্ণ চোরাচালালে আধিপত্য নিয়ন্ত্রণ করা। এর আগে এমপি আনারের হয়ে কাজ করতেন অভিযুক্ত আকতারুজ্জামান শাহীন। এই শাহিন আবার এমপির কাছে ৫০ কোটি টাকা পেতেন বলে জিজ্ঞাসাবাদের জানিয়েছে আসামিরা। শাহীনের সঙ্গে এ নিয়ে এমপি আনারের বিবাদ চলছিল। 

আরও জানিয়েছে, পরে, এমপির কাছের মানুষ শিমুল ভুইয়াকে দিয়ে ফাঁদ পাতা হয়। এমপি আনারকে বলা হয়, কলকাতায় একজনের কাছে অনেক স্বর্ণের বারের মজুদ আছে। তার সাথে মিটিংয়ে বসতে হবে। তা বলেই কলকাতায় ডেকে নেওয়া হয় এমপি আনারকে। অন্তত পাঁচ মাস আগে শাহীন এই খুনের পরিকল্পনা করে বলে জানিয়েছে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ।

আনোয়ারুল আজিম আনার   ঝিনাইদহ-৪  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন