ইনসাইড পলিটিক্স

টেন্ডারে ভাগ বসাতেই বুয়েটে রাজনীতি চায় ছাত্রলীগ: ছাত্রদল

প্রকাশ: ০৯:০৭ পিএম, ০৩ এপ্রিল, ২০২৪


Thumbnail

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতির চর্চা থাকবে কি থাকবে না সেই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র বুয়েট শিক্ষার্থীরাই নেবে বলে জানিয়েছে ছাত্রদল।

বুধবার (৩ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানাই ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি।

লিখিত বক্তব্যে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন ছাত্ররাজনীতির আতুড়ঘর এবং গণতন্ত্র চর্চার তীর্থস্থান হিসেবে খ্যাত ছিল। কিন্তু ছাত্রলীগ গত পনের বছর ধরে এককভাবে মধুর ক্যান্টিন দখলে রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতন্ত্র চর্চার কফিনে শেষ পেরেক মেরে দেয়।

তিনি বলেন, মধুর ক্যান্টিনে নিষ্ঠুর ফ্যাসিবাদ কায়েম করে বুয়েটে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে যাওয়া একটি প্রহসন। এর পেছনে রাজনীতি চর্চার কোনো উদ্দেশ্য নেই বরং বুয়েটের ক্যান্টিন, মেস, দোকানপাট থেকে চাঁদাবাজি এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড থেকে টেন্ডারবাজি করতে না পারার হতাশা থেকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা ছাত্রলীগ সমর্থক নগণ্য সংখ্যক বিপথগামী বুয়েটের শিক্ষার্থীর সহায়তায় ক্যাম্পাসে পুনরায় লুটপাট এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু করার ষড়যন্ত্র করেছে।

তিনি বলেন, বুয়েটে ছাত্রলীগের কার্যক্রম চালু করার পদক্ষেপ বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীদের জীবনের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। বুয়েটের শিক্ষার্থীরা এখন শঙ্কিত এই কারণে যে, ছাত্রলীগের কার্যক্রম পুনরায় চালু হলে তাদের পড়াশোনা এবং ক্লাস পরীক্ষা বাদ দিয়ে ছাত্রলীগের মিছিল-মিটিং, গেস্টরুমে হাজিরা দিতে হবে। তাদের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ না করলে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হবে। ছাত্রলীগের ক্যাডারদের বিরাগভাজন হলে হল থেকে বিতাড়িত করা হতে পারে। বুয়েটের প্রতিটি শিক্ষার্থী আতঙ্কিত কারণ যেকোনো মুহূর্তে তাদের যে কারো জীবনে ছাত্রলীগের নির্যাতনে আবরারের মতো মর্মান্তিক পরিণতি নেমে আসতে পারে। ছাত্রলীগের উপস্থিতিতে বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীদের জীবনের নিরাপত্তাহীনতা এবং একাডেমিক পড়াশোনার ক্ষতির আশঙ্কাকে আমরা অত্যন্ত যৌক্তিক মনে করছি। এ বিষয়ে আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন।

তিনি আরও বলেন, সাংবিধানিক অধিকারের কথা বলে ছাত্রলীগ বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি ফিরিয়ে আনার যে কথা বলেছে তা একটি নিষ্ঠুর প্রতারণা। ছাত্র রাজনীতির নামে তারা ক্যাম্পাসে একক দখলদারিত্ব এবং ছাত্র নির্যাতনের টর্চার সেল পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে। ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসগুলোতে ‘টোটালিটারিয়ান ভায়োলেন্ট অ্যাক্টিভিজম’ করছে। ক্যাম্পাসে ভায়োলেন্স এবং টর্চারকে ছাত্ররাজনীতি বলা যায় না। ছাত্র রাজনীতি চালু করতে হলে সকল ক্যাম্পাসে এবং হলে সকল রাজনৈতিক রাজনৈতিক সংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করা আবশ্যক।

তিনি বলেন, সংগঠনকে অবাধে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালানোর সুযোগ দিতে হবে। সকল শিক্ষার্থীকে স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের সুযোগ দিতে হবে। কিন্তু এসবের কোনো কিছু না করে ছাত্রলীগের সভাপতিসহ কেন্দ্ৰীয় নেতাদের সঙ্গে রাতের আঁধারে মিটিং করে বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তরের পরিচালক (ডিএসডব্লিউ) ছাত্রলীগের দখলদারিত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার ষড়যন্ত্রে শামিল হয়েছে। ভবিষ্যতে বুয়েটের কোনো শিক্ষার্থী নির্যাতনের শিকার হলে তার দায়দায়িত্ব ছাত্রলীগকে এবং বুয়েটের প্রশাসনকে বহন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, বুয়েটসহ দেশের সকল ক্যাম্পাসে ছাত্র সংসদ নির্বাচন এবং সহাবস্থান দাবী করছি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল একটি গণতান্ত্রিক ছাত্রসংগঠন হিসেবে সুস্থ ধারার গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে রাজনীতি চর্চায় বিশ্বাসী। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে ক্যাম্পাসে অপরাজনীতির বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছে।

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি এবং ঢাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

টেন্ডার   বুয়েট   রাজনীতি   ছাত্রলীগ   ছাত্রদল  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

দুর্নীতি ইস্যুতে আওয়ামী লীগ-বিএনপি মুখোমুখি

প্রকাশ: ০৫:০০ পিএম, ২৬ মে, ২০২৪


Thumbnail

এবার দুর্নীতি ইস্যুতে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি মুখোমুখি হচ্ছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া তারা আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করবে। শ্বেতপত্র প্রকাশের জন্য ইতোমধ্যে তারা কাজ শুরু করেছে বলে জানা গেছে। 

বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, গত ১৫ বছরে বিভিন্ন সেক্টরে যে অনিয়ম এবং দুর্নীতিগুলো হয়েছে সেগুলো একাট্টা করে তারা জনসম্মুখে তুলে ধরতে চায়। এই শ্বেতপত্র তৈরি করার জন্য শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী, বিশেষজ্ঞসহ বিভিন্ন বিএনপি পন্থী ব্যক্তিদেরকে কাজে লাগানো হবে বলেও বিএনপির সূত্রগুলো জানিয়েছে। বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম, অর্থ পাচার, ইচ্ছাকৃত খেলাপী ঋণ গ্রহীতা, সাম্প্রতিক সময়ে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের কথিত দুর্নীতি এবং বেনজীর আহমেদের কথিত দুর্নীতির বিষয়গুলো বিএনপির শ্বেতপত্রে জায়গা পাবে বলে জানা গেছে।  

বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, এই শ্বেতপত্র প্রকাশের মাধ্যমে তারা সরকার বিরোধী আন্দোলনকে নতুনভাবে বিন্যস্ত করতে চায়। বিএনপি নেতারা দাবী করছেন, বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর নামে বড় বড় দুর্নীতি হয়েছে, লুটপাট হয়েছে। আর এই লুটপাটে বস্তুনিষ্ঠ এবং অনুসন্ধানী তথ্যাদি হাজির করা হবে এই শ্বেতপত্রের মাধ্যমে। তবে, কবে নাগাদ এই শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে সেই সম্পর্কে কোন কিছুই বলা হয়নি। 
বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে প্রথমে একটি কমিটি গঠন করা হবে, যে কমিটিতে বিএনপি পন্থী অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদদের রাখা হবে, ব্যাংকিং সেক্টরের কয়েকজন বিএনপির কর্মকর্তাকেও এটির মধ্যে রাখা হবে বলে জানা গেছে। আগামী ১ থেকে ২ সপ্তাহের মধ্যেই শ্বেতপত্র তৈরির পূর্ণাঙ্গ কমিটির নাম প্রকাশিত হবে বলে বিএনপির একাধিক নেতা নিশ্চিত করেছেন।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগও বিএনপির আমলে হাওয়া ভবন ও অন্যান্য দুর্নীতির তথ্য নতুন করে প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছে। আওয়ামী লীগও বিএনপির পাল্টা হিসেবে ১৯৯১-১৯৯৬ এবং ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত সময়ের দুর্নীতি ও অনিয়মের কাহিনী প্রকাশ করবে। এই সময় সিএনপি কেলেঙ্কারি, হাওয়া ভবনের কেলেঙ্কারি, পদোন্নতি কেলেঙ্কারি, খাম্বা কেলেঙ্কারি সহ বিভিন্ন অনিয়মগুলোকে আবার নতুন করে একাট্টা করে উপস্থাপন করা হবে। পাশাপাশি এই সময়ে বিএনপির কোন কোন নেতার বিদেশে কি কি সম্পদ ছিল সেটিও আওয়ামী লীগ প্রকাশ করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আওয়ামী লীগের একটি শক্তিশালী টিম এ নিয়ে কাজ করছে এবং এই তথ্য প্রমাণগুলো ইতোমধ্যেই রয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির আমলের যে দুর্নীতি এবং অনিয়মগুলো হয়েছে সে সম্পর্কে আওয়ামী লীগ তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করেছিল। তবে এখন নতুন করে সেটিকে আবার শ্বেতপত্র আকারে প্রকাশ করা হবে।

আওয়ামী লীগের একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেছেন, শ্বেতপত্রে হাওয়া ভবনের দুর্নীতি এবং যারা প্রত্যক্ষদর্শী ভুক্তভোগী তাদের বিষয়টি উল্লেখ করা হবে বলে জানা গেছে। এবং এই শ্বেতপত্রের মাধ্যমে যারা দুর্নীতি, অনিয়ম করেছে তাদেরকে নতুন করে বিচারের আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়া হবে। বিশেষ করে লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার দুর্নীতিকেই আওয়ামী লীগ সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিবে বলে দায়িত্বশীল সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। 


দুর্নীতি   আওয়ামী লীগ   বিএনপি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন: ২১৭ নেতাকে বহিষ্কার করল বিএনপি

প্রকাশ: ১০:৫৯ এএম, ২৬ মে, ২০২৪


Thumbnail

চলমান উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ভোটে অংশ নেওয়ায় পর্যন্ত ২১৭ নেতাকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। মোট চার ধাপে তাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ৮০ জন, দ্বিতীয় ধাপে ৬৯ জন, তৃতীয় ধাপে ৫৫ জন চতুর্থ বা শেষ ধাপের ভোটে অংশ নেওয়ায় ১৩ জনকে বহিষ্কার করে দলটি। রোববার (২৬ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএনপি এ তথ্য জানায়।

বর্তমান সরকার নির্বাচন কমিশনের অধীনে উপজেলাসহ কোনও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না বিএনপি। গত ১৬ এপ্রিল দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শেখ হাসিনার সরকার তার আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন, বেসামরিক পুলিশ প্রশাসন একটি অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে পারে না। অবাধ, সুষ্ঠু অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবেশ নেই। তাই উপজেলা নির্বাচনেও অংশ নেবে না বিএনপি।

এদিকে মোট চার ধাপে ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তফসিল অনুযায়ী গত মে ২১ মে প্রথম-দ্বিতীয় ধাপের উপজেলায় ভোট গ্রহণ হয়। এই দুই ধাপের নির্বাচনে বিএনপির বহিষ্কৃত ১৩ জন চেয়ারম্যান পদে জন ভাইস চেয়ারম্যান পদে জয়লাভ করে বলে জানা গেছে।


উপজেলা   পরিষদ   নির্বাচন   বিএনপি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

আওয়ামী লীগের ৫০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের চীন সফর

প্রকাশ: ০৬:৩৩ পিএম, ২৫ মে, ২০২৪


Thumbnail

চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আমন্ত্রণে চীন সফরে গেল আওয়ামী লীগের ৫০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। সেখানে প্রতিনিধি দলটি প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশ নেবে।

শনিবার (২৫ মে) বিকেলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চীনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয় আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলটি।

আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান জানান, প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি জাতীয় সংসদের সিরাজগঞ্জ- আসনের সংসদ সদস্য তানভীর শাকিল জয়। আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, মহিলা শ্রমিক লীগ, যুব মহিলা লীগ ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতারা রয়েছেন।

চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আয়োজনে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মশালা অংশ নেবেন প্রতিনিধি দলটির সদস্যরা। পাশাপাশি তারা চীনের কমিউনিস্ট পার্টির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক মতবিনিময় করবেন বলে জানা গেছে।


আওয়ামী লীগ   চীন সফর  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

তারেককে চান না শরিকরাও

প্রকাশ: ০৬:০০ পিএম, ২৫ মে, ২০২৪


Thumbnail

জোটবদ্ধভাবে আন্দোলন করার জন্য অথবা যুগপৎ আন্দোলন করার জন্য বিএনপি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে লাগাতার বৈঠক করেছিল। কিন্তু সেই বৈঠক ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। এই মুহূর্তে কোন শরিকই বিএনপির সঙ্গে যৌথ বা যুগপৎ আন্দোলন করতে চায় না। এর প্রধান কারণ হল ডামি নেতা। শরিকরা বলছে, বিএনপি ডামি নেতা দিয়ে দল চালাচ্ছে, ডামি নেতা দিয়ে আন্দোলন করছে। ডামি নেতার আন্দোলনে তারা আগ্রহী নয় বলেই মন্তব্য করেছে। শরিকদের পক্ষ থেকে অন্তত তিনজন নেতা বলেছেন যে, বিএনপিতে যারা এখন সক্রিয়, যারা দলের জন্য কাজ করছেন, এদের মধ্যে থেকে দলের নেতৃত্ব নির্বাচন করতে হবে।

বিএনপির শরিকদের মধ্য থেকে একজন শীর্ষ নেতা বাংলা ইনসাইডারকে বলেছেন, যখন যৌথ সভাগুলো হয়, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক হয়, আমরা যে পরামর্শগুলো দেই সেই পরামর্শগুলো তাৎক্ষণিকভাবে গ্রহণ করা হয় না। বিএনপির নেতারা যারা বৈঠকে উপস্থিত থাকেন তারা কোন সিদ্ধান্ত দিতে পারেন না। পরবর্তীতে এটি দীর্ঘ সূত্রিতার মধ্যে পড়ে এবং একটি অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে শরিকদেরকে সময় কাটাতে হয়।

উদহারণ দিয়ে তিনি বলেন যে, এক সপ্তাহ আগে বিএনপির সঙ্গে বিভিন্ন সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল সেই সভায় একটি লিয়াজু কমিটি গঠনের জন্য প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। বিএনপির নেতৃবৃন্দ তাৎক্ষণিকভাবে কোন জবাব দেননি। এরপর বিএনপির নেতৃবৃন্দ এটি নিয়ে লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, কিন্তু শরিকদের আর সিদ্ধান্ত দেয়া হয়নি।

একইরকম অভিযোগ করেছেন অন্য আরেকটি দলের নেতা। তিনিও বলেছেন, নেতারা ডামি নেতৃত্ব হিসেবে কাজ করেন, তারা আমাদের বক্তব্য শুনেন কিন্তু কোন সিদ্ধান্ত দিতে পারে না। এভাবে যৌথ আন্দোলন হতে পারে না বলেই মনে করছেন বিএনপির সঙ্গে যৌথভাবে আন্দোলন করা রাজনৈতিক দলগুলো।

উল্লেখ্য যে, ২০২২ সাল থেকেই নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিএনপির সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলো যুগপৎ আন্দোলন করছিল। ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি ২০ দলীয় জোটকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙ্গে দেয় এবং জামায়াতের সঙ্গে প্রকাশ্য সম্পর্ক ত্যাগ করে। সে সময় বিএনপির জন্য আন্তর্জাতিক চাপ ছিল যেন জামায়াতের সঙ্গে তারা প্রকাশ্যে সম্পর্ক না করে। তারপর থেকেই বিএনপি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোকে সাথে নিয়ে যৌথ আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করছে এবং সেই ধারাবাহিকতায় নাগরিক ঐক্য, গনসংহতি, কল্যাণ পার্টি, জেএসডিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে নিয়ে একই ধরনের কর্মসূচী পালন করে আসছিল দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটি। ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত একই অবস্থা চলতে থাকে।

এরপর শরিকদের সঙ্গে বিএনপির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিএনপির শীর্ষ একাধিক নেতা গ্রেপ্তার এবং আটক হওয়ার প্রেক্ষিতে তারা শরিকদের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন করতে পারেনি বলে বলা হচ্ছিল। কিন্তু নির্বাচনের পরে আবার যখন নতুন করে আন্দোলন শুরু করার জন্য বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় তখন শরিকদের পক্ষ থেকে অনেক অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। বিশেষ করে বিএনপি যে সমস্ত সিদ্ধান্তগুলো নেয়, তা একক কর্তৃত্বের সিদ্ধান্ত নেই। শরিকদের মতামতকে গুরুত্ব দেয়া হয় না ইত্যাদি নানা অভিযোগ বড় হয়ে উঠেছে। তবে এখন সবচেয়ে বড় যে অভিযোগটি বিএনপির পক্ষে উঠেছে তা হল- ‘রিমোট কন্ট্রোল’-এ দল পরিচালনা করা।

দেশের বাইরে থেকে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়া অসম্ভব বলে মনে করছেন শরিকরা। তারা বলছেন যে, রাজনৈতিক আন্দোলন প্রতি মুহূর্তে রং পাল্টায়, প্রতি মুহূর্তে নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়। এমন বাস্তবতায় বিরোধী দলের আন্দোলন গড়ে তুলতে গেলে সক্রিয় স্থানীয় নেতা দরকার, যিনি সার্বক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত দিতে পারেন। আর এর ফলে বিএনপির জোট এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


তারেক জিয়া   বিএনপি   গণসংহতি   কল্যাণ পার্টি   জেএসডি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

দুর্নীতির মদদ দাতাদের বিচার করতে হবে : ১২ দলীয় জোট

প্রকাশ: ০৪:২৫ পিএম, ২৫ মে, ২০২৪


Thumbnail

১২ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা বলেছেন, শুধু কয়েকজন ব্যক্তি কর্মকর্তাদের দুর্নীতির বিচার করলে হবে না। বরং যারা দুর্নীতিবাজদের আশ্রয়-প্রশ্রয় মদদ দেন তাদেরও বিচার করতে হবে।

শনিবার (২৫ মে) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে তারা এমন মন্তব্য করেন। ‌‘সীমাহীন লুটতরাজ, দুঃশাসন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, মূল্যস্ফীতি আর্থিক অনিয়মের প্রতিবাদশীর্ষক বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে ১২ দলীয় জোট।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার বলেন, অতি সম্প্রতি দেশে অনেক ঘটনা ঘটেছে। সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীরের অন্যায়-দুর্নীতির ঘটনা সবাই জানেন। কিন্তু আমার প্রশ্ন শুধু তাদের বিচার করলে হবে না। তাদেরকে যারা আশ্রয় প্রশ্রয় দেয় তাদেরও বিচার করতে হবে। সেজন্য সবাইকে রাজপথে নামতে হবে। ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে এই সরকারের পতন ঘটানো সম্ভব।

১২ দলীয় জোটের মুখপাত্র বাংলাদেশ এলডিপির মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, দ্রব্যমূল্যের কষাঘাতে দেশের মানুষ অতিষ্ঠ অসহায়। তারা এই ফ্যাসিস্ট সরকারের হাত থেকে রক্ষা পেতে চায়। আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই সরকারের পতন ঘটানোর লক্ষ্যে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি।


দুর্নীতি   বিচার   ১২ দলীয় জোট  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন