ইনসাইড থট

কতিপয় সাংবাদিক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর চেয়েও ক্ষমতাধর


Thumbnail

বারো বছর আগের কথা। ডেভিড ক্যামেরুন তখন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। সে সময় একদিন তিনি একটি হাসপাতালের ওয়ার্ডে ঢুকে পড়লেন। রোগীর অনুমতি সাপেক্ষে রোগীর সাথে ছবি তুলতে গেলেন। বাঁধ সাধলেন ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা একজন চিকিৎসক। জীবাণু প্রতিরোধের কোন পদক্ষেপ না নিয়ে এবং চিকিৎসকের অনুমতি ব্যতিরেকে তিনি ওই কাজটি করছিলেন। ডেভিড ক্যামেরুন তাঁর ভুল বুঝতে পেরেছিলেন সাথে সাথে। ক্ষমা চাইলেন এবং ওয়ার্ড থেকে বেরিয়ে গেলেন।

ভিন্ন চিত্র দেখলাম শনিবার সকালে বরিশাল সদর হাসপাতালে। দায়িত্বরত চিকিৎসক ওয়ার্ডে রাউন্ড দিতে যেয়ে দেখেন দুজন টিভি সাংবাদিক ওয়ার্ডে ভিডিও করছেন। ভিডিও শেষ হবার পর চিকিৎসক তাঁর রাউন্ড শুরু করলেন। রাউন্ড শুরু করতেই দুজন সাংবাদিক আবার ক্যামেরা ধরে চিকিৎসকের সাথে কথা বলা শুরু করলেন। চিকিৎসক তাদের পরিচয় জানতে চাইলেন। বিনয়ের সাথে নিচু স্বরে একে একে ২০ বার (গুনে নিশ্চিত হয়েই বলছি) সাংবাদিকের নাম জিজ্ঞেস করলেন, পরিচয় জানতে চাইলেন। উক্ত সাংবাদিক নাম বলেননি, পরিচয় দেননি। বরং উচ্চস্বরে উল্টা পাল্টা কথা বলেছেন, পাল্টা প্রশ্ন করেছেন। অবশেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক উর্ধতন কাউকে ফোন দেয়ার পর সাংবাদিক সাহেব তার নাম বলেছেন। এখানে দুটি প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে।  প্রথম প্রশ্ন হচ্ছে, সাংবাদিক দুজন কি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর চেয়েও ক্ষমতাধর হয়ে গেছেন ? দ্বিতীয় প্রশ্ন, সাংবাদিক দুজনকে কেন নাম বলতে হবে ? নাম, পদবি, পরিচয় থাকবে তাদের বুকে বা কোমরে প্রদর্শিত আই ডি কার্ডে। এখন দেখার বিষয়,  প্রদর্শিত স্থানে আই ডি ছিল কিনা ? না থাকলে থাকবে না কেন?

সাংবাদিক ও চিকিৎসকবৃন্দ ঘটনার ভিডিও চিত্র সমূহ পৃথকভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দিয়েছেন। সব গুলো ভিডিও কয়েকবার দেখেছি, পর্যালোচনা করেছি। দায়িত্বরত চিকিৎসক কখনোই উচ্চস্বরে কথা বলেননি। তিনি যথেষ্ট ধৈর্য্য, বুদ্ধিমত্তা ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। পক্ষান্তরে সাংবাদিক দুজন বারবার উচ্চস্বরে কথা বলেছেন। তাদের কথা বলার ধরণ দেখে মনে হয়েছে, এটি একটি মগের মুল্লুক। কর্তব্যরত চিকিৎসক ওয়ার্ড রাউন্ড শুরু করার আগে প্রতি রোগীর সাথে একজন এটেন্ডেন্ট ব্যাতিরেকে সবাইকে বের হবার কথা বলেছেন। সবাই বেরিয়ে না গেলে তিনি চিকিৎসা শুরু করতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন। সেটাই নিয়ম।  সারা দুনিয়ায় সেটাই হয়ে থাকে। সাংবাদিকদ্বয় সেটি শুনতে নারাজ। এখানে তারা স্পষ্টতই সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি করেছেন, যা আইনত দণ্ডনীয়।  

দিন শেষে বেসরকারি টিভি চ্যানেলে দেখলাম সাংবাদিকদের হেনস্থা করেছে ডাক্তার। অথচ ভিডিও গুলি পর্যালোচনা করলে যে কেউ বলবেন, ডাক্তারকে হেনস্থা করেছে সাংবাদিকরা। আসলেই মগের মুল্লুক। ঘটনা কি ? আর সংবাদ শিরোনাম কি? এসব মগের মুল্লুকের রাজত্ব  থেকে জাতিকে পরিত্রান দেয়া প্রয়োজন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, বিএমএ, এফডিএসএর, বিডিএফ ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ সমন্বয়ে একটি কমিটি করে দেয়া দরকার। কমিটি হাসপাতালে সাংবাদিক প্রবেশে ও তাদের দায়িত্ব নির্ধারণে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করবে। সে নীতিমালায় যাতে স্বাস্থ্য কর্মীদের কাজে বাধা প্রদান না করা হয়, রোগীর অনুমতি ব্যাতিরেকে তাদের ছবি, ভিডিও বা রোগ সংক্রান্ত কোন তথ্য প্রকাশ বা প্রচার না করা হয়, সেসব বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা প্রয়োজন। তা না হলে হাসপাতাল সমূহে এ ধরণের অরাজকতা হতেই থাকবে, বাড়তেই থাকবে।  

লেখকঃ প্রবাসী চিকিৎসক, কলামিস্ট।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও আশ্রয়ণ প্রকল্পের আম্পায়ারিং


Thumbnail

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ক্রিকেট শুরু হয়েছে। প্রথমবারের মত টুর্নামেন্টটি চলছে আমেরিকায়। এবারই প্রথম সবচেয়ে বেশি ২০টি দল খেলছে এ টুর্নামেন্টে। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে দুটি খেলেছে। একটিতে জয়। আরেকটিতে হার। জয়টি নিয়ে যতটা না আলোচনা, হারটি নিয়ে আলোচনা সমালোচনা তার চেয়ে ঢের বেশি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষের খেলাটির আম্পায়ারিং নিয়ে তুমুল সমালোচনা। আম্পায়ার কেন মাহমুদউল্লাহকে আউট দিল। ভুল আউট টি না দিলে বাংলাদেশ চার রান পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয় না। চার রান পেলে বাংলাদেশ ম্যাচটি জিতে যেত। আম্পায়ার কেন কয়েকটি ওয়াইডও দেয়নি যা ওয়াইড ছিল। এসবের মধ্যে আরেকটি ক্রিকেট ম্যাচ দেখলাম ছিন্নমূল, ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের মাঝে দলিলসহ জমি-ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে। অন্যান্য ক্রিকেট ম্যাচের মত এ অনুষ্ঠানটিও টিভিতে সরাসরি সম্প্রচার হচ্ছিল। সেখানেও ছিল বিতর্কিত আম্পায়ারিং ।

জমি-ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানটিতে গণভবন থেকে সরাসরি অনলাইন কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একপ্রান্তে গণভবন। আরেক প্রান্তে লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ থানার মহিষামুড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্প। ম্যাচটিতে আম্পায়ার ছিলেন স্থানীয় টিএনও। আশ্রয়ণ প্রকল্পের খেলোয়াড় (বক্তা) টিএনও ঠিক করে রেখেছিলেন কি না জানিনা। তবে এসব অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসন সাধারণত আগে থেকে বক্তা ঠিক করে রাখেন।

ক্রিকেট খেলার কিছু মহান ঐতিহ্য রয়েছে। এমনই একটি ঐতিহ্য হল একজন খেলোয়াড়ের আবেদন করার পদ্ধতি। প্রায়ই খেলোয়াড়দের "হাউজাট" বলে চিৎকার করতে দেখা যায়। কখনও কখনও যতটা জোরে পারেন, ডাকেন। প্রশ্ন হচ্ছে, এর মানে কি? হাউজাট (Howzat) শব্দটি হাউ ইজ দ্যাট (How's that) এর একটি সংক্ষিপ্ত রূপ, যা একজন ব্যাটসম্যান আউট হয়েছে কি না তা একজন আম্পায়ারকে জিজ্ঞাসা করার একটি উপায় হিসাবে বিবেচিত হয়। আপিল ছাড়া একজন আম্পায়ার কিছু কিছু ক্ষেত্রে একজন ব্যাটসম্যানকে আউট দিতে পারে না। ক্রিকেটের আপীল সংক্রান্ত প্রবিধান ৩১ নম্বর অনুচ্ছেদে এমনটা উল্লেখ আছে। সেখানে বলা হয়েছে যে, ফিল্ডিং দলকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আম্পায়ারের কাছে আবেদন করতে হবে। সেজন্য বোলার, কিপার এবং ফিল্ডিং দলের অন্যান্য সদস্যরা 'হাউজাট' বলে চিৎকার করেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রান্তিক জনগণের কথা শুনতে পছন্দ করেন। সেদিন তিনি খুব মনযোগের সাথে শুনছিলেন মহিষামুড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বিধবা বৃদ্ধা শাহেরুন এর কথা। বৃদ্ধা খুবই আবেগের সাথে নিজের দুঃখ দুর্দশার কথা বলছিলেন। মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রী বৃদ্ধার মর্মস্পর্শী বক্তব্য হৃদয় দিয়ে অনুধাবন করছিলেন। বক্তব্য শেষে বৃদ্ধা মোনাজাত ধরলেন। এরই মধ্যে আম্পায়ার আউট দিয়ে দিলেন। বৃদ্ধা তো আর 'হাউজাট' জানেন না। তিনি আপীল করেন। ডান হাতের মাইক্রোফোন বা হাতে নিয়ে আপীলের জানান দেন। আম্পায়ার নাছোড়বান্দা। তিনি বৃদ্ধার কাছ থেকে মাইক্রোফোন কেড়ে নিয়ে আবার আউট দিলেন।

এ ঘটনায় অনলাইনে সরাসরি যুক্ত থাকা প্রধানমন্ত্রী উষ্মা প্রকাশ করেন। তিনি বলে ওঠেন ‘এটা কী, একজন মানুষ মোনাজাত করছেন, আর হাত থেকে সেটা (মাইক্রোফোন) কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। হোয়াট ইজ দিস। এটা কী?’ প্রধানমন্ত্রী আবারও বলেন, 'এই এই এটা কী করো, এটা কেমন কথা হলো। মোনাজাত করছে আর তার হাত থেকে মাইক্রোফোনটি কেড়ে নিল। হোয়াট ইজ দিস?' এ সময় প্রধানমন্ত্রী যা বলেন, তা ক্রিকেটীয় পরিভাষায় বললে দাঁড়ায়, হাউজাট বা হাউ ইজ দ্যাট। প্রধানমন্ত্রী ক্রিকেট খেলা দেখেন। সময় পেলে দেশের ক্রিকেট সরাসরি দেখেন। এমনকি মাঝে মাঝে তাঁকে স্টেডিয়ামে যেয়েও খেলা দেখতে দেখা যায়। তিনি ক্রিকেটীয় পরিভাষার 'হাউ ইজ দ্যাট' বোঝেন। কিন্তু তিনি সেদিন দাপ্তরিক পরিভাষায় 'হোয়াট ইজ দিস’ বলেন। বারবার আপিল করাতে আম্পায়ার আউটটি বাতিল করেন। বৃদ্ধা শাহেরুন মাইক্রোফোন ফিরে পেয়ে মোনাজাত সম্পন্ন করে তার ইনিংস শেষ করেন।

ক্রিকেটের সৌন্দর্য আম্পায়ারিং এ। আম্পায়ারিং ভাল না হলে খেলাটি তার সৌন্দর্য হারায়। খেলায় ছন্দপতন হয়। জয় পরাজয় নির্ধারণে স্বাভাবিকতা থাকে না। তেমনি আম্পায়ারের অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্তের কারণে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ছিন্নমূল, ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের লাইভ অনুষ্ঠানটি দৃষ্টিকটু লেগেছে। এসব আম্পায়ারদের আরো বেশি দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন। প্রয়োজন 'আম্পায়ারিং' এর উপর আরো বেশি বেশি প্রশিক্ষণ। 

লেখক: প্রবাসী চিকিৎসক, কলামিস্ট

আশ্রয়ণ প্রকল্প   বিতর্ক   আম্পায়ারিং  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

১১ জুন আমাদের দেশ গড়ার শিক্ষা দেয়


Thumbnail

আজ ১১ জুন। এদিন দীর্ঘ ১১ মাস জেল খাটার পর দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা জেল থেকে মুক্তি পান। এই মুক্তিটি অনেক অর্থ বহন করে। এই ১১ মাসে তাকে মূলত যে মানসিক কষ্ট দেয়া হয়েছে তা চিন্তার বাইরে। সেসময় তাকে মানসিকভাবে ভেঙ্গে ফেলার সমস্ত রকমের চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু তিনি অত্যন্ত সুদৃঢ় ছিলেন এবং বিশ্বাস করতেন তিনি কোন অন্যায় করেননি এবং করেন না। জনগণের মঙ্গলের জন্যই তিনি কাজ করেছেন এবং কাজ করে চলেছেন।

আমরা যখন জেলাখানায় তাকে দেখতে যেতাম সেসময় তিনি আমাদের মুখ কালো দেখলেই বলতেন, ‘আপনাদের মুখ কালো কেন?’ এরকমভাবেই তিনি আমাদের উজ্জীবিত করতেন। আমি অবাক হয়ে তখন ভাবতাম, তিনি জেলে থাকার কারণে আমাদের মন খারাপ আর উল্টো তিনি আমাদের সৎ সাহস দিচ্ছেন যে তিনি সৎ পথে আছেন তার কিছুই হবে না এবং তিনি কারামুক্ত হবেন। এজন্য কারামুক্তি দিবসটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি জেলে থাকতেই তার দার্শনিক চিন্তাকে কিভাবে বাস্তবে রূপান্তরিত করবেন সেই সব বিষয়গুলো ঠিক করেছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন তাঁর কারামুক্তির পরই নির্বাচন হবে এবং নির্বাচনে কাদের মনোনয়ন দিবেন সেটির চিন্তাও তিনি সেসময় করে রেখেছিলেন। তাছাড়া ‘আমার বাড়ি আমার খামার’ থেকে শুরু করে বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, কমিউনিটি ক্লিনিক, ‘আশ্রয়ণ প্রকল্প’ গুলোর মতো জনবান্ধব কর্মসূচির  চিন্তা তিনি জেলে থাকতেই ঠিক করে রেখেছিলেন।

২০০৮ সালের ১১ জুন থেকে ২০২৪ সালের ১১ জুন পর্যন্ত যদি চিন্তা করি তাহলে একটি জিনিস খুবই পরিষ্কার হয়ে যায়। তাহলো আজকের বাংলাদেশের অপর নাম শেখ হাসিনা। এটি তিনি রূপান্তরিত করতে সক্ষম হয়েছেন। একারণেই ১১ জুন বারবার মনে করা দরকার। এবং এটি মনে করে আমাদের নতুনভাবে উজ্জীবিত হয়ে দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার প্রতিটি কাজে অত্যন্ত আন্তরিক এবং সততার সাথে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করতে হবে। না হয় আমরা আমাদের বিবেকের কাছে অপরাধী হবো। অপরাধী হবো বঙ্গবন্ধুর কাছে এবং  বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার কাছে। কেননা আমরা দাবি করি, আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাস করি এবং আমাদের চলার পথে পাথেয় হচ্ছেন শেখ হাসিনা। এই যদি বলি তাহলে দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার দর্শনকে এড়িয়ে ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য নিয়ে চলি তাহলে আমরা আমাদের বিবেকের কাছে দায়ী।

জিল্লুর রহমান, মতিয়া চৌধুরী, আতাউর রহমান খান কায়সার, সৈয়দ আশরাফ, হাছান মাহমুদ থেকে শুরু করে অনেকেই সেসময় দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার মুক্তির জন্য চেষ্টা করে গেছেন। আর অনেকেই ভেবেছিল, বিভিন্ন ষড়যন্ত্র শেখ হাসিনাকে অন্ধকার টানেলের ভেতরে ফেলে দিতে সক্ষম হয়েছে যেখান থেকে তিনি আর বেরোতে পারবেন না। তারা যে সংস্কারবাদী হয়েছিল সেটি ষড়যন্ত্রের অংশ। তারা হয়তো ভেবেছিল কোন দিন শেখ হাসিনা আর আলোর মুখ দেখবে না।

সেই সকল ভেতরের ষড়যন্ত্র, বাইরের ষড়যন্ত্র, ভবিষ্যতের দেশ গড়ার যে পরিকল্পনা সমস্ত কিছুই দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা একা সামলেছেন। আমি বিশ্বাস করি ১১ জুন আমাদের শিক্ষা দেয় দেশ গড়ার যদি মানসিকতা থাকে এবং মনের দৃঢ়তা থাকে তাহলে কোন বাধায় বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। দেশ গড়ার জন্য শেখ হাসিনা গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করেছেন, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন, ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন, ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন। অর্থাৎ মানুষের মৌলিক যে চাহিদা তার প্রত্যেকটির ব্যবস্থা করেছেন। এটিই হচ্ছে দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার বড় প্রাপ্তি। যদিও তিনি বলেন, এগুলো জনগণের উদ্দেশ্যে তিনি উৎসর্গ করেন। সেজন্য আমি বলবো, আজকের বাংলাদেশের অপর নাম শেখ হাসিনা।


কারামুক্তি দিবস   শেখ হাসিনা   এক এগারো   ওয়ান ইলাভেন   দেশ গড়ার শিক্ষা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

চুপচাপ গভর্নর, অন্যরাও কি বিব্রত হননি?

প্রকাশ: ১১:০০ পিএম, ০৯ জুন, ২০২৪


Thumbnail

বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকেও একটি কথাও বলেননি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার। এমন নয় যে সেই সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংক নিয়ে কোনো প্রসঙ্গ ছিল না। কিন্তু গভর্নর কোনো কথা বলেননি কারণ অর্থমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই অর্থ-বাণিজ্য বিষয়ক রিপোর্টারদের সংগঠন ইকনোমিক রিপোর্টাস ফোরামের (ইআরএফ) সভাপতি জানিয়ে দেন সাংবাদিকরা গভর্নরের বক্তব্য বয়কট করবেন। ওসমানি মিলনায়তনের সংবাদ সম্মেলনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি মোহাম্মদ রেফায়েত উল্লাহ মীরধা অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর। সে জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমরা কেউ তাঁর বক্তব্য শুনব না। তিনি যেন কোনো বক্তব্য না দেন, সে বিষয়ে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বক্তব্য দিলে আমরা তা বয়কট করব।’ 

মাঠের রিপোর্টার হিসেবে অনেকদিন বাজেটত্তোর সংবাদ সম্মেলন কাভার করেছি, সেখানে কোনো দিনই এমন ঘটনা ঘটেনি। আরো অদ্ভুত যে অর্থমন্ত্রী গত শুক্রবারের সংবাদ সম্মেলনে সূচনায় হাসিমুখে থাকলেও একের পর এক অস্বস্তিকর প্রশ্নে মেজাজ হারিয়েছেন। এমনকি এক পর্যায়ে সাংবাদিকদের “ম্যাচিউরিটি” নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আর শেষেতো বলেই ফেললেন যে সাংবাদিকরা বাজেট বইটি পর্যন্ত পুরোটা ভালো করে পড়ে আসেননি। কিন্তু ইআরএফ নেতা যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে বর্জনের কথা বললেন, সে সম্পর্কে একটা শব্দও বলেননি সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী এবং কর্মজীবনের শুরুতেই অর্থনীতির শিক্ষক অর্থমন্ত্রী আবুল হাান মাহমুদ আলী। দৈনিক প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘পুরো সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেননি গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার। ব্যাংক ও আর্থিক খাতের নানা বিষয় নিয়ে প্রশ্নের জবাব দেন অর্থমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মসিউর রহমান, অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়শা খান, অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারসহ অন্যরা। সংবাদ সম্মেলনের বেশির ভাগ সময় গভর্নরকে গালে হাত দিয়ে চুপচাপ বসে থাকতে দেখা যায়।’

এবারের বাজেটের আগে সবচেয়ে আলোচনায় ছিল মূল্যস্ফীতি, ব্যাংক ঋণের সুদহার, ডলারের দাম এবং রিজার্ভের ক্ষয়। সংবাদ সম্মেলনে এ সম্পর্কিত অনেক প্রশ্নই হয়তো ছিল, যার জবাব আমরা শুনতে পারতাম গভর্নরের কাছ থেকে। কিন্তু জাতি তা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এটা ঠিক যে বাংলাদেশ ব্যাংক গণমাধ্যম কর্মীদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করলেও রিজার্ভ সংকটসহ কোনো খবরই কিন্তু অপ্রকাশিত থাকছে না। বরং সেই সুযোগে এমন গুজব ভিত্তিক খবরও প্রচার হয়েছে যে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আবারো অর্থ চুরি হয়েছে। সেই গুজবের জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংক যে ব্যাখ্যা দিয়েছিল তাও কিন্তু গণমাধ্যমগুলো জাতীয় দায়িত্ব হিসেবেই প্রচার করেছে। গত শুক্রবারের সংবাদ সম্মেলনেও কিন্তু আইআরএফ-এর সভাপতি স্পষ্টভাবে বলেছেন সকল মন্ত্রীসহ অন্যান্যদের বক্তব্য প্রচার করলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর কোনো বক্তব্য দিলে তারা তা বয়কট করবেন।

সুধীসমাজে আলোচনা আছে বর্তমান সরকারের আর্থিক নীতি নির্ধারকদের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি আব্দুর রউফ তালুকদার। ২০২২ সালের ১২ জুলাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হওয়ার আগে তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯৮৮ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে যোগ দিয়েছিলেন রউফ তালুকদার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে এমবিএ এবং যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উন্নয়ন ব্যবস্থাপনায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রী নেয়া এই দক্ষ আমলা দীর্ঘ অর্থ মন্ত্রণালয়ে কাজ করলেও একজন আমলা হিসেবে তার পরিচিতি সংরক্ষণবাদী হিসেবেই। তাই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে তিনি দায়িত্ব নেবার পর মতিঝিলের সুরম্য অট্টালিকায় সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকারে নিষেধাজ্ঞা নেমে আসায় অবাক হইনি। কিন্তু মাঠের রিপোর্টারদের সাথে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধানের এমন সম্পর্কহানি কাম্য নয়। একথা ঠিক যে রাজনীতিক মন্ত্রীদের মত বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হরহামেশাই গণমাধ্যম্যের মুখোমুখি হবে তা হয়তো আশা করা ঠিক নয়। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপত্র নিয়োগ এবং প্রাথমিকভাবে তার বক্তব্য নিয়েই সাংবাদিকরা সন্তুষ্ট ছিল, আর এটাও ঠিক যে খুব যে অবাধভাবে যাতায়াত করা যেতো তাও কিন্তু নয়। কিন্তু আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার বন্ধ করা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আর তা নিয়ে যখন ইআরএফের নেতারা যখন গভর্নরের সাথে দেন-দরবার করতে গেলেন তখন কিন্তু তারা প্রত্যাশিত সম্মান পাননি। তখন থেকেই গভর্নরকে বয়কটের বিষয় চলে আসছে। সর্বশেষ বাজেটত্তোর সংবাদ সম্মেলনে যা ঘটলো তাতো শুধু একজন আমলা নন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মত সরকারের সর্বোচ্চ আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবেও সরকারের জন্যই বিব্রতকর হলো ঘটনাটি। কিন্তু হতাশার বিষয় হলো সংবাদ সম্মেলনের পরও ওসমানি মিলনায়তনে উপস্থিত মন্ত্রিসভার কেউই কিন্তু বিষয়টি নিয়ে কোনো কথা বললেন না। বা জানতে চাইলেন না, কি পর্যায়ে এসে ইকোনমিক রিপোর্টার ফোরাম এমন অবস্থান নিল?

গভর্নরের সাথে সাংবাদিকদের যে অস্বস্তিকর অবস্থা চলে আসছে কিছুদিন থেকে তা নিরসনেরও কিন্তু কোনো উদ্যোগ রাজনীতিক এবং জনপ্রতিনিধি হিসেবে নতুন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীও নেননি। যিনি অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পাবার আগে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতি এবং তার আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক যে অর্থ-বাণিজ্যের মাঠ পর্যায়ের রিপোর্টার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের মধ্যে যে সংকটের সৃষ্টি সেব্যাপারে অর্থমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। সর্বশেষ গত ২৫ এপ্রিল ইআরএফের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে একটি আলোচনা হলেও বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিকদের প্রবেশ নিয়ে অচলাবস্থার নিরসন হয়নি। বিষয়টি নিয়ে ইআরএফ নেতৃবৃন্দ ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। সেই বৈঠকের বিষয়টি তথ্য প্রতিমন্ত্রীকেও অবহিত করা হয়েছে বলে জানালেন ইআরএফ সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম। সরকারের কোনো কর্তৃপক্ষই তাদের বিষয়টি নিয়ে বা সৃষ্ট সমাধানে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে সর্বশেষ একটি বিব্রতকর ঘটনা ঘটলো গত শুক্রবার অর্থমন্ত্রীর বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে। বিষয়টি দুঃখজনক। আমরা আশা করতেই পারি যে অর্থ মন্ত্রণালয়, দ্বিতীয়ত তথ্য মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে ইআরএফের নেতাদের সাথে কথা বলতে পারে। আর একটি উদ্যোগ নিতে পারে সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। বিষয়টি দ্রুত সুরাহা হওয়া দরকার বলেই, বিষয়টি নিয়ে লিখলাম। আশা করি সংশ্লিষ্টরা খোলা মনে বিষয়টি বিবেচনায় নিবেন। 

লেখক: প্রণব সাহা
সম্পাদক, ডিবিসি নিউজ


মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

প্রতিকূল পরিবেশে বাজেটে নেই আশার দিক নির্দেশনা


Thumbnail

জাতীয় বাজেট শুধু বার্ষিক আয়-ব্যায়ের হিসাব নয়, বরং বর্তমান প্রেক্ষিতে বাজেট দেশের জনগণের আস্থা এবং বিশ্বাস অর্জনের হাতিয়ার।  সরকারের ভিশন ও লক্ষ্য অর্জনে বাজেট শুধু দিক নির্দেশনার মধ্যেই সীমিত নয় বরং সরকার দেশের প্রবৃত্তি অর্জনে, সম্পদ আহরণে বা অন্যবিধ সমস্যা সমাধানে কি কি উদ্যোগ নিচ্ছেন বা নিবেন এবং দেশবাসীর প্রত্যাশা কিভাবে পূরণ করছেন বা করবেন তার দিক নির্দেশনা থাকবে। 

এবারে বাজেট পেশের পর পরই বাজারে অস্থিরতা লক্ষ্য করা হচ্ছে যার অর্থ সরকারি কর্মচারীরা যে বাজেট তৈরী করেছেন তা জনগণের প্রত্যাশা পূরণে বা আস্থা অর্জনে সফলকাম এখনও  হয়নি। বরং সৎপথে যারা অর্থ উপার্জন করবে তাদের উপর ট্যাক্স ধার্য হয়েছে শতকরা ৩০% ভাগ এবং যারা অসৎ উপায়ে বা ঘুষ-চুরি করে উপার্জন করবে তাদের ট্যাক্স হচ্ছে ১৫% বা অর্ধেক।  জনগণ মনে করে এর মাধ্যমে দুর্নীতি আরো বাড়বে, টাকা পাচার ও আরো বাড়বে।  

বর্তমান প্রতিকূল পরিবেশে বাজেট তৈরী করা মোটেই সহজ নয়। দেশে বড় বড় সমস্যা রয়েছে। যেমন: 

  1. মুদ্রাস্ফীতি কমানো, 
  2. অধিকতর কর্ম সংস্থান বৃদ্ধি, 
  3. রাজস্ব বৃদ্ধি, 
  4. ব্যাংক ঋণ কমানো যাতে crowding-out effect না দেখা দেয়, অর্থাৎ সরকার ব্যাংক থেকে সব ঋণ নিয়ে নিলে ব্যবসায়ীরা কোনও ঋণ পাবে না এবং তারাই তো বিনিয়োগ করে কর্মসংস্থান বাড়ায় তা পারবে না, 
  5. প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা বা বাড়ানো, 
  6. বিনিয়োগ বাড়ানো, 
  7. ব্যাংক ব্যবস্থায় আস্থা ফিরানো, 
  8. মানুষের প্রত্যাশা পূরণ ইত্যাদি।

এবারের বাজেটে এগুলো আলোচনায় এসেছে,  তবে বাস্তব ভিত্তিক পদক্ষেপ নেই যারফলে জনমনে এত নিরাশা।

সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত অনেকগুলো বাজেট দিয়েছেন এবং তার বাজেটগুলোতে লক্ষ্য, দিক নির্দেশনা এবং বিভিন্ন বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ তুলে ধরা হয়েছে। তাছাড়া তাতে নতুন নতুন ইনোভেশন বা চমক ছিল। যেমন: জেন্ডার বাজেটটিং, জেলা বাজেট, শিশুদের বাজেট, Public-Private Partnership, decentralization of budget ইত্যাদি। বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যা চান, অর্থাৎ জনগণকে এসব চেলেঞ্জ মোকাবিলায় সম্পৃক্ত করা তা তার বাজেটে ছিল। তিনি একাধিক গোষ্ঠীর সাথে আলাপ আলোচনা করে তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী বাজেট প্রস্তুত করতেন। এবারের বাজেট প্রস্তাবনায় তা লক্ষিত হয়নি। এই প্রতিকূল পরিবেশেও কোনও চমক নেই বা আশার দিক নির্দেশনা নেই। 

গেল দেড় বছর ধরে দ্রব্যমূল্য কমানোর জন্য সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও দ্রব্যমূল্যের দাম কমাতে পারছে না আর আগামী ছয় মাসে তা ৯.৭% থেকে ৬.৫% নেমে আসবে তা জনগণ বিশ্বাস করতে পারছে না। তাছাড়া রাজস্ব বৃদ্ধির ক্ষেত্রে যে যুগান্তকারী পরিবর্তন দরকার তা এই বাজেটে অনুপস্থিত। প্রচলিত নিয়মে যারা আয়কর দেয় তাদের উপর আরো অধিকতর করের বোঝা আরোপিত হবে এবং দেশের বৃহত্তর জনগণ এই বাজেটে করের আওতামুক্ত থাকবে এটা দেশের জন্য মঙ্গলকর নয়।

করের পরিধি এবং রাজস্ব বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন, যারাই জাতীয় পরিচয় পত্র (NID) আছে তাকেই ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করা এবং বর্তমান TIN নম্বর কোম্পানিরগুলোর জন্য বরাদ্দ করা। এ নিয়ম চালু হলে ট্যাক্স বেইস কয়েকগুণ বাড়বে এবং রাজস্ব আয়ের পরিমাণ ও অনেকগুণ বৃদ্ধি পাবে বৈ কি। তাহলে সরকারকে অধিকতর ঋণের বোঝা বহন করতে হবে না। বর্তমান নিয়মে আয়ের শতকরা ২৩% ভাগই ঋণের সুদ বাবদ ব্যয়িত হবে যা দেশের জন্য সুখকর নয়।


জাতীয় বাজেট   প্রধানমন্ত্রী   শেখ হাসিনা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

শেখ হাসিনার অবস্থান খুবই স্পষ্ট


Thumbnail

আমি কয়েক দিন আগেই জেনেভা থেকে লন্ডন হয়ে দেশে ফিরি। আমার সাত দিনের এ জেনেভা সফরের কারণ ছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাৎসরিক সভায় যোগদান করা। এর পেছনে অবশ্য একটি মনস্তাত্ত্বিক কারণ ছিল। সেটি হলো, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আমাদের রিজিওনাল ডিরেক্টর। সে নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বার্ষিক সভা ছিল এটি। তাই আমি এ সভায় যেতে নিজেই খুব আগ্রহী ছিলাম এবং শেষ মুহূর্তে আমি সিদ্ধান্ত নিয়ে সেখানে যাই। সেখানে সায়মার সঙ্গে আমার কিছু সময় আলাপও হয়েছিল। তার কার্যকলাপ দেখে আমি মনে করলাম সেখানে যাওয়াটা আমার সার্থক। তার উচ্ছল উপস্থিতি আমাকে মুগ্ধ করেছে। না হলে এই ৮০ বছর বয়সে এমন ভ্রমণ করতে আমি আগ্রহী থাকি না। কিন্তু এখানে যাওয়ার পর আমার সব কষ্ট সফল হয়েছে, যেহেতু আমি আমার মামণি সায়মাকে দেখতে পেয়েছি এবং আঞ্চলিক নেতা হিসেবে যে এই মুহূর্তে তার কাছে আঞ্চলিক জোটের সব দেশ সমান গুরুত্বপূর্ণ, তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। যার জন্য তার প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা বহুগুণে বেড়ে গেছে। অনেকে বলেছিল যেহেতু সে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে, তাই হয়তো তার বাংলাদেশের প্রতি পক্ষপাতিত্ব থাকবে; কিন্তু বাস্তবে তার মধ্যে আমি একটি বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি দেখতে পেয়েছি।

সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশে অনেকে মনে করছেন কিছুদিন আগে যে ঘূর্ণিঝড় হয়ে গেল, সেটা তো সমগ্র দেশের ওপর দিয়ে যায়নি। কিছুমাত্র অঞ্চলে প্রভাব ফেলেছে এবং সেখানে প্রতিমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী যখন এই অঞ্চলে গিয়েছিলেন। ’৭০-এর নির্বাচনের সময় দেশে যখন ঘূর্ণিঝড় হয় তখন এরকমই ক্ষয়ক্ষতি হয়। মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়েও অনেক সময় দেখা গেছে ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করার কারণে খুব কম ক্ষতি হয়েছে। এসব ঝড়ে অবকাঠামোগত ক্ষতি অনেক সময় বিভিন্ন কারণে ঠেকানো সম্ভব হয় না। কিন্তু মানুষের জীবন রক্ষার জন্য বিশ্বে ইতিহাসের অংশ হচ্ছে শেখ হাসিনা তার সরকারকে দিয়ে যেভাবে পরিচালনা করেন, ওইরকম বিশ্বের কোনো দেশ পারে না। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রও না। এটা প্রমাণিত। আমার কাছে মনে হয়, তার সবকিছুর মূল হচ্ছে তার দর্শন এবং তার এই দর্শনের ওপর ভিত্তি করে এ যে কাজগুলো তিনি করেন, এটা জনগণ মনে করে তাদের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী কেউ করে দিচ্ছে। 

রিমাল ছাড়াও কিছু রাজনৈতিক ঝড়ও দেশের ওপর দিয়ে যাচ্ছে সাম্প্রতিক। দেখা গেল সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধানকে যুক্তরাষ্ট্র হঠাৎ করেই নিষেধাজ্ঞা দিল। আবার পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীরের অগাধ ধন-সম্পদের বিষয়টি গণমাধ্যমে এসেছে এবং এখনো এটা প্রমাণিত ও কোর্টের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হয়নি। কিন্তু এ বিষয়ে মিডিয়া ট্রায়াল চলছে। আমার ধারণা অনেক লোক এটি বিশ্বাস করছেন। যদিও এসব বিষয়ে আমরা যত ঢাকঢোল পেটাই, সর্বশেষ যখন আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায় তখন অনেক সময় এর সঙ্গে মিডিয়া ট্রায়ালের মিল পাওয়া যায় না। আবার এর বিপরীত অবস্থাও হওয়া সম্ভব। তবে এ বিষয়টি যেহেতু এখনো আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে, তাই এ বিষয়ে কথা বলাটা আমি সমীচীন মনে করি না। কিন্তু যে কারণে এই বিষয়টি আমি উল্লেখ করলাম সেটি হলো, অনেকের ধারণা সরকারের প্রচ্ছন্ন সমর্থন ছাড়া এমন ধরনের কাজ করা সম্ভব নয়। কিন্তু মুদ্রার সাধারণত দুটি পিঠ থাকে। এ নিয়ে কেউ চিন্তা করেছেন কি না, তা আমি জানি না। শেখ হাসিনা তার স্কুলজীবন থেকেই সরাসরি ছাত্ররাজনীতিতে জড়িত ছিলেন। তারপর বিয়ে হওয়ার পর সংসার করেছেন এবং এরপর আওয়ামী লীগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। অর্থাৎ তিনি তার পুরো জীবনেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ ছাড়া তিনি তার বাবা-মায়ের কাছে রাজনীতি শিখেছেন। রাজনীতির অনেক জায়গায় তার অবদান আছে। সুতরাং এই যে ঘটনাগুলো ঘটেছে এগুলো দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার জন্য ঝড় তো দূরের কথা, কোনো বাতাসও না। এটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার একটি ব্যাপার। অনেক সময় দেখা যায়, যারা ষড়যন্ত্র করে পরে তাদের কুকীর্তি বের হয়। কিন্তু তার আগে যদি জানা যেত তাহলে হয়তো সে এসব করতে পারত না। এ ছাড়া আজ পর্যন্ত বড় কোনো অর্থনৈতিক বিপর্যয় হওয়ার আগে কেউই বলতে পারেনি এটা করলেই বিপর্যয় বন্ধ হবে। কোনো অর্থনীতিবিদই কোনো বিপর্যয় আগে বুঝতে পারেন না। ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর থিওরি আবিষ্কার করেন। কিন্তু আগের অর্জন বলে কিছু নেই। কিন্তু এ বিষয়ে শেখ হাসিনা এগিয়ে। তিনি অনেক বিষয় আগেই আন্দাজ করতে পেরেছেন। সেভাবেই তিনি তার সক্ষমতা দেখাতে পেরেছেন এবং বিজয়ী হয়েছেন।

উদাহরণ হিসেবে বলা চলে, হেফাজত ইসলাম যখন বিএনপির সঙ্গে জোট বেঁধে ঢাকা অবরোধ করেছিল তখন শেখ হাসিনা তার বুদ্ধি, বিবেচনা এবং রাজনৈতিক পদক্ষেপের দ্বারাই সেটাকে বিনা রক্তপাতে প্রতিরোধ করে পুরো দেশ রক্ষা করেছেন। তার প্রত্যেক ইতিহাসই বিজয়ের ইতিহাস।

আমি আমার ছাত্রদের প্রায় সময় বলি ‘Failure is never pillar of success.’ কারণ একটা বিজয় আরেকটা বিজয়কে ত্বরান্বিত করে। এটা শেখ হাসিনা প্রমাণ করেছেন। এ দেশের ১৭ কোটি জনগণ তাকে বিশ্বাস করে। তিনি এ ঘটনাগুলোকে একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার ভেতরে আনবেন। তিনি নির্বাচনের আগে বলেছিলেন, দুর্নীতির ব্যাপারে ‘শূন্য সহিষ্ণুতা’ অবলম্বন করা হবে। এখন তিনি সেই ‘শূন্য সহিষ্ণুতা’ দেখাচ্ছেন। এর কিছু কিছু নমুনা এখন শুরু হয়েছে। শেখ হাসিনার এ পদক্ষেপের জন্য অনেকে যদি নিজেদের শুধরে নেন, তারা হয়তো বেঁচে যাবেন। আর যারা নিজেদের শুধরে নেবে না অর্থাৎ যাদের ক্ষেত্রে ‘চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনি’ কথাটি প্রযোজ্য তাদের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সুতরাং সবাইকে এখন বুঝতে হবে, কাউকে যে কোনো দায়িত্ব দেওয়া হলে তার ক্ষমতার দম্ভ দেখানোর কোনো প্রয়োজন নেই। দুর্নীতি করলে ছাড় নেই।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক। জেনেভায় তার সঙ্গে যখন দেখা হলো তখন তার বিষয়ে একটি কথা মনে হলো। সেটি হলো, সে আগে যেমন মাটির মানুষ ছিল, এখনো তেমনিই আছে। তার ভেতরে সামান্য কোনো গর্ববোধ বা অহংকার নেই। বরং একের পর এক কাজ করে যাচ্ছে। সে কী কাজ করেছে সে ক্রেডিট বেশি নিতে চাই না। সে সরাসরি সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গেই আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে কাজ করে। কারণ সে জানে, তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে সজীব ওয়াজেদ জয়ের অনেক বেশি ধারণা আছে এবং অনেক দিনের অভিজ্ঞতা আছে। ডা. সামন্ত লাল সেন যখন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেন তখন সবাই অবাক হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু অল্পদিনের মধ্যেই তার কাজকর্মে সবাই সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এবং সব ক্ষেত্রেই তিনি ভালো কিছু করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। বস্তুত, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ক্ষেত্রটা অনেক বৃহৎ। এখানে সবকিছু বুঝে উঠতেই এক বছর সময় লাগে। সে জায়গায় কয়েক মাসের মধ্যেই দারুণভাবে এ ক্ষেত্রটি রপ্ত করেছেন। এর আগে সামন্ত লাল সেন শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিট প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অনেক ঘোরাঘুরি করেছেন। এজন্যই স্বাস্থ্য বিভাগ নিয়ে একটি ‘ব্যাকগ্রাউন্ড নলেজ’ তার ছিল। আর এজন্যই একজন ১৫ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মন্ত্রীর যে অভিজ্ঞতা, সে অভিজ্ঞতা সামন্ত লাল সেন আগেই অর্জন করেছেন। সে অনুযায়ী কাজ তিনি এরই মধ্যে শুরু করেছেন। দেশের স্বাস্থ্য খাতের জন্য যে জিনিসটি প্রয়োজন সেই বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করে কাজ করছেন।

এবার জলবায়ু ও পরিবেশমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরীর কথায় আসা যাক। তিনি যে শুধু পরিবেশ বিষয়ে জ্ঞান রাখেন তা নয়। এমনকি স্বাস্থ্য খাতেও তিনি যথেষ্ট ধারণা রাখেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী তাকে দায়িত্ব দেওয়ার পর তা তিনি পালনে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন।

এখানে যে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী কথা উল্লেখ করা হলো, তারা সবাই নেত্রী কী চান তা বুঝেই কাজ করে যাচ্ছেন। সুতরাং বুঝে যারা কাজ করবেন, তারা একরকম ফল পাবেন। অন্যদিকে যারা উল্টোটা করবেন তাদের কী ফল হবে তাও লোকে দেখছে। দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা তার বক্তব্য থেকে একটুও সরে দাঁড়ায়নি। আমরা সারা দিন গলাবাজি করলে যা হয়, তার চেয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা একটি কথা বললেই জনগণ সেটি বিশ্বাস করে। কারণ, তার ক্ষমতার টানা এই ১৫ বছর ৪ মাসে তিনি তার প্রতিটি কথা রেখেছেন।

দেশের ১৭ কোটি মানুষ যেহেতু তার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে, সেহেতু তাদের মুখের দিকে তাকিয়ে এবং তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা সেভাবেই তিনি দেখবেন এবং সেভাবেই যাতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয় সেটা দেখবেন। দেশও উন্নতির দিকে এগিয়ে যাবে এবং তিনি যে টাইম ফ্রেম দিয়েছেন তাও ঠিক থাকবে। তাতে কার নামে কী হলো বা কে কী দোষ করল এটাতে কিছুই যায় আসে না। এখানে কো-ইন্সিডেন্ট হতে পারে একজন পুলিশের প্রধান ছিলেন, যিনি দুর্নীতি করেছেন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও বলেছেন, এটা পুলিশ বিভাগের কোনো দায় নয়। এটা ব্যক্তির দায়। এ ছাড়া ইতিহাস বলে দায়িত্ব নিয়ে সবাই সবসময় ভালো কাজ করে না। কেউ নিজেদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে আবার কেউ ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়ে যায়। এটা সব সমাজ তথা বিশ্বে ধ্রুব সত্য। এখানে যে বিষয়টি লক্ষণীয় তা হলো, অনেক ক্ষেত্রে নিজেদের লোক কোনো অপকর্মে ধরা পড়লে তারা তাদের রক্ষা করে। আর দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা কেউ অন্যায় কাজ করলে তিনি সেখানে ‘জিরো টলারেন্স’ দেখান। সুতরাং এখানে আর যাই হোক, ইশারায় বা আকার ইঙ্গিতে শুধু শুধু শেখ হাসিনাকে জড়িয়ে কোনো লাভ নেই। কারণ এটি লোকে বিশ্বাসও করবে না এবং এতে দেশেরও কোনো লাভ হবে না।


প্রধানমন্ত্রী   শেখ হাসিনা   জেনেভা   সায়মা ওয়াজেদ পুতুল   বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন