ইনসাইড পলিটিক্স

সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের কর্মসূচি আগামীকাল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৯:৩৩ পিএম, ১৮ অক্টোবর, ২০২১


Thumbnail

চলমান সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আগামীকাল মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) সারাদেশে `সম্প্রীতি সমাবেশ ও শান্তি শোভাযাত্রা` কর্মসূচি পালন করবে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের সভাপতির ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরী সভা শেষে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

সোমবার (১৮ অক্টোবর) দেয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনসমূহ দেশের সকল জেলা, মহানগর, উপজেলায় সম্প্রীতি সমাবেশ ও শান্তি শোভাযাত্রা আয়োজন করবে। এছাড়াও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় নেতৃবৃন্দ সাম্প্রদায়িক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করবেন।

এই সভায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মাননীয় সভাপতি বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা এমপি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সংযুক্ত হন। এ সময় তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সকল নেতা-কর্মীকে দেশে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির তৎপরতা প্রতিরোধ করার নির্দেশনা প্রদান করেন এবং যে কোন মূল্যে বাংলাদেশের হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য সমুন্নত রাখার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ যখন বিশ্বসভায় একটি মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ঠিক সে সময়ে একটি চিহ্নিত মহল পরিকল্পিতভাবে দেশে সাম্প্রদায়িক হানাহানি সৃষ্টির পায়তারা চালাচ্ছে। সরকার ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করেছে। ইতোমধ্যে অনেকেই গ্রেফতার হয়েছে এবং বাকীদেরও আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সরকার পরিস্থিতির উপর সতর্ক দৃষ্টি রাখছে এবং এই ধরনের সন্ত্রাসী ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, আ. ফ. ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বি. এম মোজাম্মেল হক, এস. এম কামাল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য আনোয়ার হোসেন, সাহাবুদ্দিন ফরাজী, সৈয়দ আবদুল আউয়াল শামীম।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগ আগামীকাল মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ১১টায় ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সম্প্রীতি সমাবেশ ও শান্তি শোভাযাত্রা` কর্মসূচি পালন করবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বেগম জিয়ার বিদেশ যাত্রা নিয়ে ৭২ চিকিৎসকের পাল্টা বিবৃতি

প্রকাশ: ০৯:০৭ পিএম, ২৯ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা গ্রহণ সম্পর্কে পাল্টা বিবৃতি দিয়েছেন বিএমএ ও বিএসএমএমইউ এর সাবেক উপাচার্য সহ দেশের ৭২ জন খ্যতিমান চিকিৎসক।

সোমবার (২৯ নভেম্বর) এই বিবৃতি দেয়া হয়।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

তারেক বনাম শামীম এস্কান্দার

প্রকাশ: ০৯:০১ পিএম, ২৯ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

একদিকে বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা অন্যদিকে জিয়া পরিবারের গৃহদাহ। এ নিয়ে এখন উত্তেজনা চলছে বিএনপির মধ্যে। প্রকাশ্যে বিএনপি খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি করলেও এই মুক্তির পথ এবং উপায় কি হবে, এ নিয়ে বিভক্ত জিয়া পরিবার। আর এই বিভক্তিতে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়ে গেছেন বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক জিয়া এবং বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার। বেগম জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর থেকে বাংলাদেশে কার্যত শামীম এস্কান্দারই বেগম জিয়ার অভিভাবক এবং বেগম জিয়া জেলে থাকার সময় তার সমস্ত দেখভাল করা, তার পরিবারের বিভিন্ন বিষয় তদারকি করা, তিনি যখন বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে গিয়েছিলেন চিকিৎসার জন্য তখন তার সব তদারকি করা এবং বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে যাবতীয় দেন-দরবার করার কাজটি করেছিলেন শামীম এস্কান্দার। এজন্য এস্কান্দার বেগম খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠতা অর্জন করেন।


বিশেষ করে ২০২০ সালের মার্চে যখন বেগম খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ মুক্তি অনুকম্পায় মুক্তি দেওয়া হয়, সেই মুক্তির পুরো প্রক্রিয়াটি করেছিলেন শামীম এস্কান্দার। তিনি গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে স্বাক্ষাৎ করেছিলেন এবং বেগম খালেদা জিয়াকে জেল থেকে বাড়িতে নিয়ে আসার জন্য তদবির করেছিলেন। তার অনুরোধের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী সহানুভূতিশীল হন এবং বেগম খালেদা জিয়াকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা প্রয়োগ করে নির্বাহী আদেশে জামিন দেন। এখনো শামীম এস্কান্দার সরকারেরে সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেয়ার চেষ্টা করছেন এবং শামীম এস্কান্দার তার ঘনিষ্টদের বলছেন এখনো তিনি হাল ছাড়েননি। কিন্তু শামীম এস্কান্দারের এই উদ্যোগের এখন প্রধান বাধা তারেক জিয়া। তারেক জিয়ার কারণেই বেগম খালেদা জিয়া বিদেশে যেতে পারছেন না, এমন মন্তব্য শামীম ইস্কান্দার করেছেন অন্তত কয়েক জায়গায়। বিশেষ করে তারেক জিয়ার যে সমস্ত কথাবার্তা এবং পরিকল্পনা ইত্যাদি সব সম্পর্কেই সরকার অবহিত আছে বলেই বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশ যেতে দিচ্ছেনা সরকার এমনটি মনে করেন শামীম এস্কান্দার।


আর এই নিয়ে মামা ভাগ্নের মধ্যে বিরোধ এখন প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। শামীম এস্কান্দার মনে করেন যে, বেগম খালেদা জিয়া কি বিদেশে পাঠানোর জন্য যা করা দরকার তাই করা উচিত এ জন্য তিনি তারেক জিয়াকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পদ থেকে আপাতত পদত্যাগ এবং রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। একই সাথে তিনি বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য বেগম খালেদা জিয়া যেন রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন সে অনুরোধও করেছেন। শামীম এস্কান্দার মনে করেন যে, বেগম খালেদা জিয়ার যদি রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে পারেন সেটিও মঙ্গল। কারণ তার জীবন বাঁচানোই মূল কথা, এখানে রাজনীতি দেখার কোন সুযোগ নেই।

কিন্তু শামীম এস্কান্দার এই মতের সঙ্গে একমত নন লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া। বরং তারেক জিয়া মনে করেন যে, বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার জন্য রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আন্দোলন জোরদার করা, সরকারের উপর জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে চাপ সৃষ্টি করা এবং এমন একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি করা যায় সরকার শেষ পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয় এবং তাকে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ দেয়। কিন্তু শামীম এস্কান্দার মনে করেন সেটা কখনোই হবে না। কারণ, সরকার কোনো চাপের মধ্যে নেই যে খালেদা জিয়াকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দিবে। এক্ষেত্রে সরকারের আস্থা এবং বিশ্বাস এবং সহানুভূতি গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা মনে করছেন। আর এই টানাপোড়েনের কারণে শেষ পর্যন্ত বিএনপিও বিভক্ত হয়ে পড়ছে এবং এই বিভক্তি বিএনপিকে একটি নতুন পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যেতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

খালেদাকে বিদেশ পাঠাতে কেন মরিয়া বিএনপি?

প্রকাশ: ০৮:০০ পিএম, ২৯ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নয় বরং তাকে বিদেশে পাঠাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিএনপি। বিএনপি এখন পুরো বিষয়টিকে এমনভাবে এনেছে যে, বিদেশে পাঠানোই যেন বেগম খালেদা জিয়ার একমাত্র চিকিৎসা। বেগম জিয়া যেন বিদেশে গেলেই সুস্থ হয়ে যাবে, যা কোনোভাবেই বিজ্ঞানসম্মত নয় এবং চিকিৎসার রীতিনীতির সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। যেকোনো মানুষ সুচিকিৎসার জন্য অবশ্যই বিদেশ যেতে পারেন এবং বিদেশ যাওয়াটা নির্ভর করে সুযোগ-সুবিধা এবং নানারকম সঙ্গতির উপর। কিন্তু বিএনপি নেতারা এমনভাবে বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশে যাওয়ার দাবিটিকে সামনে আনছেন যেন মনে হচ্ছে যে, বিদেশে না গেলেই বোধহয় বেগম খালেদা জিয়ার অন্যকিছু হয়ে যাবে। অর্থাৎ একটি চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়াকে অসুস্থ দেখিয়ে তাকে বিদেশে নিয়ে যাওয়াটাই যেন বিএনপি প্রধান লক্ষ। এর প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতাটি একটি রাজনৈতিক অসুখ? বেগম খালেদা জিয়া যে অসুস্থ এই নিয়ে কোন সন্দেহ নাই। ৭৬ বৎসরের প্রবীণ একজন নারী এই বয়সে নানারকম রোগশোকে অসুস্থ থাকবেন, এটাই স্বাভাবিক। এই বয়সে একজন মানুষ সবদিক থেকে সুস্থ থাকেন না। তাছাড়া বেগম খালেদা জিয়ার নানা রকম জটিলতা রয়েছে দীর্ঘদিন ধরেই। এসবের কারণে বেগম খালেদা জিয়া এই বয়সেও সুস্থ স্বাভাবিক থাকবেন এই রকম ভাবনা কোনদিনও চিকিৎসা বিজ্ঞান সম্মত ভাবনা নয়।

কিন্তু প্রশ্ন হলো যে, বেগম খালেদা জিয়াকে কেন বিদেশে পাঠাতে মরিয়া হয়ে উঠল বিএনপি? এটা কি তার সুচিকিৎসার জন্য নাকি এর পেছনে অন্যকোনো মতলব রয়েছে। একটু অনুসন্ধান করলে দেখা যায় যে, বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর পিছনে রয়েছে একটি সুগভীর রাজনৈতিক পরিকল্পনা। বিএনপি গত দু'বছর ধরে রাজনৈতিক আন্দোলনের বদলে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সরকার উৎখাতের একটা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। আর এই উৎখাতের ষড়যন্ত্রের প্রধান বাহন হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে সাইবার জগতকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপি-জামায়াত প্রতিনিয়ত নানা রকম গুজব এবং অপপ্রচার সৃষ্টির মাধ্যমে এক ধরনের আবহ তৈরি করার চেষ্টা করছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকার সম্বন্ধে একটি নেতিবাচক ধারণা তৈরি করছে। বিএনপি নেতারা মনে করছেন যে, সরকারের বিরুদ্ধে সর্বগ্রাসী ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতে গেলে প্রথমে বেগম খালেদা জিয়াকে সরাতে হবে। কারণ, বেগম খালেদা জিয়া যখন দেশে আছেন তখন তার চিকিৎসা, তার জেলের বাইরে থাকা ইত্যাদি ইস্যুকে বিএনপির আমলে নিতে হচ্ছে। বিশেষ করে লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া মনে করেন যে, খালেদা জিয়া থাকার কারণেই তিনি সবগুলো ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতে পারছেন না, অনেক সীমাবদ্ধতা হচ্ছে। বেগম খালেদা জিয়াকে যদি বিদেশে নেয়া যায় তাহলে তারেক জিয়া যা খুশি তাই করতে পারবেন।

বিএনপির বিভিন্ন সূত্রগুলো বলছে যে, বাংলাদেশে এখন আন্দোলন দরকার নেই। দরকার যে কোন ষড়যন্ত্রের নিবিড় বাস্তবায়ন এবং সেটি করার মতো সক্ষমতা তারেকের আছে বলেও বিএনপির অনেক নেতারা মনে করেন। আর এ কারণেই তারা চাইছেন যে বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশ নিতে। সেখানে নেয়ার পর বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে একটা বিবৃতি ও তৈরি হয়ে আছে, যে বিবৃতিতে বেগম খালেদা জিয়া সরকার পতনের চূড়ান্ত আন্দোলনের ঘোষণা দেবেন। এরপর বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে ছড়ানো হবে নানা রকম অপপ্রচার,মিথ্যাচার ইত্যাদি। এইভাবে একটি অন্য রকম পরিস্থিতি সৃষ্টি আসলে বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানোর মূল লক্ষ্য বলে মনে করছেন।  কারণ বেগম খালেদা জিয়ার অবস্থা যদি এতটাই খারাপ হতো যে তাকে তার কোন চিকিৎসাই দেশে দেয়া সম্ভব নয় তাহলে তিনি কেন এখনো এভারকেয়ার হাসপাতাল রয়েছেন, এই প্রশ্নের উত্তর বিএনপি কারো কাছে নেই। বিএনপির মূল লক্ষ্য হলো এখন বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠিয়ে একটি পরিবেশ তৈরি করা, সেটি কি বিএনপি পারবে?


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

কালক্ষেপণ করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন উস্কে দেয়া হচ্ছে?

প্রকাশ: ০৭:০০ পিএম, ২৯ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে শিক্ষার্থীরা হাফপাসের দাবিতে আন্দোলন করছে। অথচ এখন পর্যন্ত এ বিষয়টির সুরাহা হয়নি। এই আন্দোলনের মধ্যেই গত বুধবার এবং বৃহস্পতিবার দুজনের মৃত্যু ঘটেছে ঢাকায়। একজন নটরডেম কলেজের শিক্ষার্থী, অন্যজন গণমাধ্যমকর্মী। এই দুই জনের মৃত্যুর পর নিরাপদ সড়কের আন্দোলন আবার নতুন করে দানা বাঁধতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে বিআরটিএ পরিবহন মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করছে। এসব বৈঠকে মনে হচ্ছে, অনেকটাই দায়সারা এবং এক ধরনের গা বাঁচানোর কৌশল। কোন বৈঠকেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সংকট সমাধানে আন্তরিক দেখা যাচ্ছে না। বরং সমস্যাকে জিয়িয়ে রেখে শিক্ষার্থীদের যেন সরকারের প্রতিপক্ষ করার এক প্রাণান্ত চেষ্টা চলছে। কারা এটি করছে এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা হচ্ছে। 

শিক্ষার্থীরা এর আগেও ২০১৮ সালের নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করেছিল। সেই আন্দোলনের স্থায়িত্ব ছিল ৯ দিন। এই আন্দোলনে পুরো ঢাকা শহর অচল হয়ে গিয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের দাবি মানার ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। এবার শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এখন পর্যন্ত সীমিত পর্যায়ে। কারণ অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পুরোপুরিভাবে খোলেনি। তাছাড়া শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ পরীক্ষা নিয়ে এক ধরনের ব্যস্ত। কিন্তু এরকম পরিস্থিতি চলতে থাকলে যেকোনো সময় আন্দোলন দানা বেঁধে উঠতে পারে এবং ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করতে পারে বলে জানা গেছে। তাহলে কি সরকারের ভেতর থেকেও কেউ কেউ চেষ্টা করছে যে, এই আন্দোলন জিয়িয়ে থাকুক? 

বিআরটিএর চেয়ারম্যান পরিবহন মালিকদের সাথে বৈঠকের পর বলেছেন যে, কত স্কুল আছে এবং কত শিক্ষার্থী বাসে পরিবহন করে ইত্যাদির তালিকা দরকার। এ ধরনের অবাস্তব এবং উদ্ভট চিন্তা ভাবনা একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার মাথায় কিভাবে আসে সেই প্রশ্ন উঠেছে সরকারের মধ্যেই। কারণ এটি একটি নীতিগত প্রশ্ন। কত শিক্ষার্থী আছে বা কত শিক্ষার্থী বাসে পরিবহন করে সেটি মূল বিষয় নয়। তিনি কালক্ষেপণের জন্য নাকি শিক্ষার্থীদেরকে তাঁতিয়ে দেওয়ার জন্য এ ধরনের বক্তব্য রাখছেন সেটি একটি বিষয় বটে। পরিবহন মালিকদের বক্তব্য বেশ উদ্বেগজনক। তারা বলেছেন যে, আশিভাগ পরিবহন মালিক নাকি গরিব। গরিবই যদি হবেন তাহলে তারা পরিবহন মালিক হলেন কিভাবে? পুরো বিষয়টি নিয়ে এক ধরনের তালবাহানা দেখা যাচ্ছে। 

যেহেতু শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে আছেন, সেখানে সড়ক পরিবহন মন্ত্রীর একটি ভূমিকা থাকা উচিত ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত সড়ক পরিবহন মন্ত্রীর কোন ভূমিকা আমাদের চোখে পড়েনি। বরং তিনি বিষয়টি একধরনের এড়িয়ে যাওয়ার কৌশল নিয়েছেন। এ ধরনের কৌশল খুবই আত্মঘাতী হতে পারে বলেও বিভিন্ন মহল মনে করছেন। ২০১৮ সালে যখন আন্দোলন করা হয়, তখন শিক্ষার্থীদেরকে যে সমস্ত আশ্বাসগুলো দেয়া হয়েছিল তার খুব কমই বাস্তবায়ন হয়েছে। কাজেই এখন নতুন করে আশ্বাস দিয়ে সবকিছু সমাধান হবে এমনটি ভাবার কোন কারণ নেই। তাছাড়া একটি নাজুক সময় শিক্ষার্থীরা মাঠে নেমেছেন এবং এর পরিণাম যেকোনো সময় ভয়ঙ্কর হতে পারে বলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। আর তাই দ্রুত স্কুলপড়ুয়া বাচ্চাদেরকে ঘরে নিতে হবে এবং এই আন্দোলনটির একটি ইতিবাচক সমাধান করতে হবে। কিন্তু সেই করার ক্ষেত্রে সরকারের একটি মহলের চরম গাফিলতির লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলেও মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বেগম জিয়ার অসুস্থতার সব তথ্য সরকারের হাতে

প্রকাশ: ০৬:০০ পিএম, ২৯ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে যে ধরনের কথাবার্তা বলা হয়েছে, বাস্তবতার সঙ্গে তার মিল সামান্যই বলে জানা গেছে। সরকার তার নিজস্ব উদ্যোগে বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতার সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেছে। এভারকেয়ার হাসপাতালের সঙ্গে সরকারের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে এবং বেগম খালেদা জিয়ার বিভিন্ন সর্বশেষ রিপোর্ট, তার শারীরিক অবস্থা ইত্যাদি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করছে। সরকার এই বিষয়টি নিয়ে ওয়াকিবহাল রয়েছে বলেই সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে যেন কেউ জলঘোলা করতে না পারে সেজন্য সরকার সজাগ এবং সচেতন। আর একারণেই বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতার সম্পর্কে যাবতীয় তথ্যগুলো সরকার গ্রহণ করছে।

 বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বেগম খালেদা জিয়া এখন স্থিতিশীল রয়েছেন। তিনি কথা বলতে পারছেন, চোখ মেলে তাকাতে পারছেন এবং খাবার গ্রহণ করতে পারছেন। তার যে উচ্চরক্তচাপ ছিল সেটি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তার ডায়াবেটিস এখন নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং তিনি কোন ধরনের লাইফ সাপোর্টে নেই। অর্থাৎ একজন সাধারন রোগীর মতোই তিনি অবস্থান করছেন। আর বিভিন্ন লোকজনের সঙ্গে তিনি টুকটাক কথাবার্তা বলছেন। তার লিভার সিরোসিস হয়েছে। এই লিভার সিরোসিসের বেগম খালেদা জিয়ার দুদিন পায়খানার সঙ্গে রক্ত হয়েছিল, একদিন তিনি বমি করেছিলেন। এটি লিভার সিরোসিসের একটি লক্ষণ। আর এজন্য চিকিৎসকরা তাকে যথাযথ চিকিৎসা দিচ্ছেন। বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে যেভাবে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে বিএনপির নেতৃবৃন্দ এবং বিএনপিপন্থী চিকিৎসকরা তথ্য দিচ্ছেন তার সঙ্গে বাস্তবের মিল নেই বলেই জানা গেছে।

সরকার ধারণা করছে যে, বেগম খালেদা জিয়ার ইস্যুকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখিয়ে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে, যেন সরকার শেষ পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠাতে বাধ্য হয়। এমনকি এক ধরনের হুমকি দেয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে যে, বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুপথযাত্রী। কিন্তু বাস্তবতায় এরকম কোন পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত হয়নি বলেই এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে প্রাপ্ত তথ্যে সরকারের বিভিন্ন সূত্রগুলো নিশ্চিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর জন্য একটি চাপ সৃষ্টি করার জন্যই অসুস্থতার বিষয়টি রং চড়িয়ে বলা হচ্ছে। আসলে বেগম খালেদা জিয়া যতটুকু অসুস্থ, তার চেয়ে বহুগুণ বাড়িয়ে বলা হচ্ছে বলেও বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে। সরকার বিষয়গুলোর উপর নজর রাখছে।

সরকারের একটি দায়িত্বশীল সূত্র বলছে যে, আইনগতভাবে বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আর বেগম খালেদা জিয়া যদি বিদেশে যেতে চান তার জন্য তাকে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করতে হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত বেগম জিয়া বা তার পরিবারের সদস্যরা রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করেননি। তাছাড়া বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে এভারকেয়ার হাসপাতাল এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোন বিবৃতি দেয়নি। আর এভারকেয়ার হাসপাতাল বলছে যে, আর দশ জন রোগীকে যেভাবে তারা চিকিৎসা দেয়, তেমনি চিকিৎসা দিচ্ছে বেগম খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রেও। হাসপাতাল সূত্র বলছে যে, বেগম খালেদা জিয়া যে রোগে আক্রান্ত এরকম রোগের চিকিৎসা তারা নিয়মিত দিয়ে থাকেন। সরকার পুরো বিষয়টির দিকেই নজর রাখছে, কারণ সরকারের বিভিন্ন মহল মনে করছে যে, বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতাকে নিয়ে একটি উশৃঙ্খলতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আর কারণেই সরকার এইসব বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখছে।


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন