ইনসাইড ইনভেস্টিগেশন

অনলাইনে প্রশ্ন ফাঁসের প্রলোভনে অর্থ আত্মসাৎ; গ্রেফতার ১

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৬:২৯ পিএম, ০৮ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

অনলাইন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষা ও ডিগ্রি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ এর অভিযোগে একজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।

গ্রেফতারকৃতের নাম- রিয়াদ হোসেন। এসময় তার হেফাজত থেকে ৯টি মোবাইল ফোন ও ৩টি সিম উদ্ধারমূলে জব্দ করা হয়।

গত শনিবার (৬ নভেম্বর) বিকাল ৪টা ৪৫ মিনিটে রমনা থানার মগবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে রিয়াদকে গ্রেফতার করে সিসিটিসি ইউনিটের সিটি ইন্টেলিজেন্সস এ্যানালাইসিস ডিভিশনের আইএমএমসি টিম।

এ সংক্রান্তে সিটি-ইন্টেলিজেন্স এ্যানালাইসিস বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (কনফিডেন্সিয়াল) সাইদ নাসিরুল্লাহ, পিপিএম-সেবা বলেন, অনলাইন মনিটরিং এর মাধ্যমে জানা যায় ফেসবুকে প্রাইমারি শিক্ষক নিবন্ধন ও সকল চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং সাজেশন ব্যাংক (যার লিংক- https://www.facebook.com/groups/307166523263132/permalink/873419819971130/) এর একটি গ্রুপ রয়েছে। উক্ত গ্রুপে নাম পরিচয় গোপন করে ছদ্মবেশী ফেক ফেসবুক আইডি Arshad Khan Pathan(Nurzahan Begum) যার লিংক https://www.facebook.com/nurzahan.begum.5682/ থেকে সরকারী নিয়োগ পরীক্ষা ও ডিগ্রী পরীক্ষার্থীদেরকে প্রশ্ন সরবরাহ করার মর্মে বিভিন্ন প্রতারণামূলক লোভনীয় পোস্ট করে আসছিল। ফেইক ফেসবুক আইডির মাধ্যমে প্রশ্ন সরবরাহ করার শর্তে প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে বিকাশ/মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেয়। এর ফলশ্রুতিতে  ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা রুজু হয়।

তিনি আরো বলেন, তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ঐ গ্রুপের একজন রিয়াদকে সনাক্ত করা হয়। এরপর রমনা থানার মগবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে রমনা থানায় রুজুকৃত মামলায় বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করলে দুই ‍দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ডিএমপি’র কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের সিটি-ইন্টেলিজেন্স এ্যানালাইসিস বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার, সাইদ নাসিরুল্লাহ এর তত্ত্বাবধানে, আইএমএমসি  টিমের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. আরিফুল হোসাইন তুহিন ও অত্র মামলার এসআই মো. শহিদুল ইসলাম  এর নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযানটি পরিচালচিত হয়।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইনভেস্টিগেশন

মতিউরকে সোনালী ব্যাংকের পরিচালক বানালো কে?

প্রকাশ: ০৭:০০ পিএম, ২৩ জুন, ২০২৪


Thumbnail

দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক সোনালী ব্যাংকের আজ বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ব্যাংকটির পরিচালনা পরিষদের এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় সকাল ১১ টায়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের পরিচালনা বোর্ডে চেয়ারম্যান জিয়াউল হাসান সিদ্দিকী। আজকের বৈঠকে ব্যাংকের অন্যতম পরিচালক ড. মতিউর রহমান যোগ দেননি। ছাগল কাণ্ডে আলোচিত বিতর্কিত সমালোচিত এই এনবিআর কর্মকর্তা যেন বৈঠকে উপস্থিত না থাকেন সেজন্য তাকে টেলিফোনে জানিয়ে দেওয়া হয়। পরিচালক পরিষদের অধিকাংশ সদস্যই ড. মতিউর রহমানের সঙ্গে পরিচালনা পরিষদে বসতে অস্বীকৃতি জানান। এর পরপরই আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে মতিউর রহমান জানিয়ে দেওয়া হয় যে, সে যেন বৈঠকে উপস্থিত না থাকে। 


উল্লেখ্য, মতিউর রহমান ২০২২ সালের পয়লা ফেব্রুয়ারি তিন বছরের জন্য সোনালী ব্যাংকের পরিচালক নিযুক্ত হন। তাকে পরিচালক নিযুক্ত করার জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সুপারিশ করে। তখন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ছিলেন শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ। শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ বিএনপি ঘরানার একজন আমলা ছিলেন। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় তিনি জামালপুরের মেলান্দহ মাদারগঞ্জ এলাকার ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালন করেন। ওইসময় পরিকল্পিত নীল নকশা নির্বাচনে মির্জা আজম যেন নির্বাচন করতে না পারে সেজন্য বিএনপি-জামায়াত জোটের নির্দেশে মির্জা আজমের বিরুদ্ধে।মিথ্যা এবং হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়। এই মামলার জন্য তাকে হাজিরার দিন দেওয়া হয়েছিল মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনের আগের দিন। সেদিন মির্জা আজম যথারীতি হাজির হলে এই শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ তাকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। 


কিন্তু শেষপর্যন্ত জনগণের তীব্র আন্দোলনের মুখে রাত মির্জা আজমকে জামিন দিতে বাধ্য হন অন্য একটি আদালত। কিন্তু শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ বিএনপি-জামায়াত জোটের আশীর্বাদ পুষ্ট হয়ে হয়ে থাকলেও আওয়ামী লীগ সরকার আসলে আবার ভোল পাল্টে যান। নানা কৌশলে তিনি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং তিনি আর্থিক খাত বিভাগের সচিব থাকা অবস্থায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম এবং বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। তার একটি প্রমাণ হল মতিউর রহমানের মতো একজন দুর্বৃত্তকে সোনালী ব্যাংকের পরিচালক করা।

সূত্র জানিয়েছে যে, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে মতিউর রহমানকে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে অর্থসচিবের পরামর্শ গ্রহণ করেছিলেন, সেই সময় অর্থসচিব ছিলেন বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার। আবদুর রউফের আগ্রহের কারণেই মতিউর রহমানকে সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য করা হয়েছিল বলে অনেকে দাবি করেন।


তবে বাংলা ইনসাইডারের নিরপক্ষে অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে, আব্দুর রউফ তালুকদার এ বিষয়ে মোটেও মাথা ঘামাননি। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এবং অর্থ বিভাগ সম্পূর্ণ আলাদা। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে কারা থাকবেন বা থাকবেন না সেটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ নির্ধারণ করেন। কোন অবস্থাতেই সেটা অর্থ বিভাগ নিয়ন্ত্রণ করে না। আর মতিউর রহমানের ব্যাপারে আব্দুর রউফ তালুকদার কিছু জানতেন না বলেও তার ঘনিষ্ঠরা নিশ্চিত করেছেন। মূলত শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহর সঙ্গে সংখ্যতার কারণেই মতিউর রহমানকে সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে নেওয়া হয়েছিল বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

মতিউর রহমান   এনবিআর   সোনালী ব্যাংক   শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ   আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইনভেস্টিগেশন

গোয়েন্দা জালে মতি

প্রকাশ: ০২:০০ পিএম, ২১ জুন, ২০২৪


Thumbnail

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য . মতিউর রহমান এখন গোয়েন্দা জালে। তার বিপুল সম্পদের ফিরিস্তি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তার চেয়েও বড় কথা নিজের সন্তানকে তিনি অর্থের জন্য অস্বীকার করেছেন।

দুর্নীতি দমন কমিশন আগামী রোববার তার বিরুদ্ধে তদন্তের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে বলে দায়িত্বশীল সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা প্রাথমকিভাবে গণমাধ্যমে যেসব সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তার সত্যতা পেয়েছে। গোয়েন্দা সূত্র বলছে, মতি দেশেই আছেন, তিনি যেন বিদেশে যেতে না পারেন সেজন্য সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন তারা। যদিও এখন পর্যন্ত তার বিদেশ ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি। কিন্তু একাধিক সূত্র বলছে, মতিউর রহমান যাকে তার সন্তান হিসেবে অস্বীকার করেছেন সেই ইফাত এখন দেশে নেই। তিনি দুইদিন আগেই বিদেশে চলে গেছেন বলে দায়িত্বশীল সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।

তবে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বলছে, ইফাত তাদের কাছে কোন বড় বিষয় নয়, বিষয় হলো মতিউর রহমান। এনবিআরের এই কর্মকর্তা কীভাবে বিপুল সম্পদের মালিক হলেন সেটি তদন্তের দায়িত্ব দুর্নীতি দমন কমিশনের। কিন্তু মতিউর রহমান যেন বেনজীরের মতো সটকে পড়তে না পারেন বা তিনি যেন তার নামে-বেনামে রাখা সম্পদগুলো বিক্রিবাত্তা করতে না পারেন সেজন্য গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়েছে মতিউর রহমানকে শুধু দেশে নয়, বিদেশেও মতিউর রহমানের বিপুল সম্পদ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সাধারণত ধরনের ঘটনার পরপরই দুর্নীতিবাজরা বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে থাকেন। আর কারণেই দুর্নীতি দমন কমিশনের আনুষ্ঠানিক তদন্তের আগে গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়েছে মতিউরকে। মতিউরের অবস্থান, তার দুই স্ত্রীর অবস্থান এবং তার সন্তানদের অবস্থান সম্পর্কে সার্বক্ষণিক তথ্য গ্রহণ করা হচ্ছে এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে যখনই দুর্নীতি দমন কমিশন ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করবে, সাথে সাথে যেন তাকে আইনের আওতায় আনা যায় সেলক্ষ্যে এরইমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি সূত্র বলছে যেআগামী রোববার এনবিআরের সদস্য এবং কাস্টমস ভ্যাট আপিল ট্রাইব্যুনালের প্রেসিডেন্ট মতিউরের ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করতে পারে দুদক এবং এক্ষেত্রে  বেনজীরের মতো মতিউর রহমানের সম্পত্তির অনুসন্ধান করে সেই সম্পত্তিগুলো ক্রোক করার জন্য আদালতের শরণাপন্ন হতে পারে কমিশন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের একজন আইনজীবী বলেছেন যে, এখন পর্যন্ত গণমাধ্যমে তার সম্পর্কে যেসব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে তার আলোকে তারা তদন্ত শুরু করতে চান এবং একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আসলেই মতিউর রহমানের অবৈধ সম্পদ রয়েছে কিনা তা উদ্ধার করতে চান।

এর আগেও মতিউর রহমানে বিরুদ্ধে  দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করেছিল, কিন্তু সেসময় তাকে ক্লিনশিট দেওয়া হয়েছিল কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে এই আইনজীবী বলেন, "অতীতে কি হয়েছিল সেটি এখন মুখ্য ব্যাপার নয় , আমরা সামনের দিকে তাকাতে চাই। দুর্নীতি দমন কমিশন দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি নিয়ে এগোচ্ছে। মতিউর রহমানের ব্যাপারেও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে।"

তবে, গোয়েন্দা সূত্রগুলো যাই বলুক না কেন, বিপুল বিত্তের অধিকারী এই প্রভাবশালী সরকারি কর্মকর্তা আইনের ফাঁক গলে আবারও বেরিয়ে যেতে পারেন কিনা সেটিই এখন দেখার বিষয়।


দুর্নীতি   গোয়েন্দা   দুদক   জাতীয় রাজস্ব বোর্ড   ড. মতিউর রহমান  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইনভেস্টিগেশন

দেশ ছেড়েছেন সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া

প্রকাশ: ০৮:৩৭ পিএম, ১৮ জুন, ২০২৪


Thumbnail

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া সস্ত্রীক দেশ ছেড়েছেন। গত সপ্তাহে তারা আমেরিকায় গেছেন। সেখানে তাদের ছোট ছেলে আসিফ মাহাদীন পড়াশোনা করেন। আগামী ২১ জুন তিনি দেশে ফিরবেন বলে জানা গেছে। 

এর আগে গত সপ্তাহে স্ত্রী ও সন্তানের চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে যান আছাদুজ্জামান মিয়া।

সম্প্রতি আছাদুজ্জামান ও তার পরিবারের বিপুল সম্পদের খবর প্রকাশ পায়। এরপরই দেশজুড়ে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ঈদুল আজহার ছুটি শেষে তার সম্পদের বিষয়ে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করতে পারে। এরই মধ্যে তিনি দেশ ছাড়লেন।

এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার জহুরুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, আছাদুজ্জামান মিয়ার সম্পদের তথ্য প্রকাশের খবর তার নজরে আসেনি। যদি সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের খোঁজ পাওয়া যায়, তাহলে দুদক ব্যবস্থা নেবে।

সংস্থাটির আরেক আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, ছুটির পর তারা অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেবেন। আস্থা নিয়ে পুলিশের উচ্চ পদে আসীনদের এমন কর্মকাণ্ডে, বাহিনীটিতে শুদ্ধি অভিযান জরুরি হয়ে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন এ জ্যেষ্ঠ আইনজীবী।

সাবেক ডিএমপি কমিশনার   আছাদুজ্জামান মিয়া  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইনভেস্টিগেশন

তুরস্কের নাগরিক বেনজীর?

প্রকাশ: ০৬:০০ পিএম, ১৫ জুন, ২০২৪


Thumbnail

বেনজীর আহমেদের পাসপোর্ট কেলেঙ্কারির কথা নতুন নয়। সরকারি চাকরি করে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থাকার পরও তিনি সরকারি পাসপোর্ট গ্রহণ করেননি। বরং ভুয়া ঠিকানায়, ভুয়া পরিচয় এবং ভুয়া পেশা দিয়ে তিনি সাধারণ পাসপোর্ট গ্রহণ করেছেন এবং সেই পাসপোর্ট দিয়ে তিনি বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছিলেন। এখন তার বেসরকারি পাসপোর্টের আসল রহস্য উদঘাটন করা গেছে। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে ২০২১ সালে তিনি তুরস্কের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। 

তুরস্ক ২০১৯ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বিদেশিদের জন্য নাগরিকত্বের দরজা খুলে দিয়েছিল। একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা জমা দিয়ে বা বিনিয়োগ করে তুরস্কের নাগরিকত্ব পাওয়ার একটি বিধান রাখা হয়েছিল। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দুই লক্ষেরও বেশি মানুষ তুরস্কের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছিল এবং এর ফলে তুরস্কের বাইরে থেকে সম্পদ এসেছিল ১০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। আর এই নাগরিকত্ব গ্রহণের সুযোগ গ্রহণ করেছেন সাবেক পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদ। তিনি এখন তুরস্কের নাগরিক এমন তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, তিনি তুরস্কের নাগরিকত্বের পাসপোর্ট গ্রহণ করেছিলেন এবং এই পাসপোর্ট গ্রহণের জন্যই তিনি সরকারি পাসপোর্ট গ্রহণ করেননি। বেনজীর তার স্ত্রী এবং কন্যার নামেও বিপুল পরিমাণ সম্পদ কিনেছেন এবং সেখানে বেনজীরের বিনিয়োগ শত কোটির বেশি। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে তিনি তুরস্কের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন বলে দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। এছাড়াও তুরস্কে তার অন্তত তিনটি অ্যাপার্টমেন্ট, একটি বাংলো এবং দুটি দোকান রয়েছে বলেও দায়িত্বশীল সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছেন। 

সূত্রগুলো বলছে যে, ২০২১ সালের প্রথম দিকে বেনজীর, তার স্ত্রী জিসান আহমেদ এবং এক কন্যা তুরস্কের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছিলেন। বেনজীর আহমেদ জানতেন যে, তিনি যে কোন সময় সরকারের নজরে আসতে পারেন। তার ব্যাপক এবং সীমাহীন দুর্নীতির বিষয়টি একদিন না একদিন সামনে আসবেই। এ কারণেই তিনি তুরস্কের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

তুরস্কের নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে বহুবিধ সুবিধা রয়েছে। প্রথমত, এই দেশের পাসপোর্ট গ্রহণ করলে তিনি ইউরোপের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃত এবং ইউরোপের নাগরিক হলে বিভিন্ন ইউরোপের দেশগুলোতে তিনি বিনা ভিসায় ভ্রমণ করতে পারবেন। সেই সমস্ত দেশে তিনি ব্যাংক অ্যাকাউন্টও করতে পারবেন। তুরস্কের পাসপোর্টে একশোরও বেশি দেশে বিনা ভিসায় ভ্রমণ করা যায়। 

দ্বিতীয়ত, তুরস্ক যে প্রশ্নহীন বিনিয়োগের সুযোগ দিয়েছিল, সেই বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে বেনজীর আহমেদ সেখানে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। এই বিনিয়োগের কারণে সেখানে তিনি স্থায়ীভাবে বসবাসও করার সুযোগ লাভ করেছেন। 

তৃতীয়ত, যেহেতু তিনি একটি বিশেষ সুযোগ গ্রহণ করেছেন তাই তার সম্পদ নিয়ে কোন জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে না। তিনি সেখানে নিরাপদে থাকতে পারবেন। সবচেয়ে বড় কথা হলো তুরস্কের নাগরিকদের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাত সবসময় খোলা। তুরস্কের নাগরিকত্বের জন্য তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতেও দায় মুক্তির সুযোগ পাবেন এবং সেখানে তার বিনিয়োগ নিয়ে কোন ঝামেলা হবে। এখন দেখার বিষয় বিভিন্ন দেশে যে বেনজীর আহমেদ নামে-বেনামে সম্পদ গড়েছেন সেই সম্পর্দ গুলো উদ্ধারে সরকার কি পদক্ষেপ নেয় এবং বিদেশি পাসপোর্ট ধারী সর্বোচ্চ পদে থাকা এই দুর্বৃত্তকে আইনের আওতায় আনতে সরকার কতটুকু সক্ষমতার পরিচয় দেয়।

বেনজীর আহমেদ   তুরস্ক  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইনভেস্টিগেশন

বেনজীর এখন কোথায়?

প্রকাশ: ০৭:০০ পিএম, ১৪ জুন, ২০২৪


Thumbnail

বেনজীরের আলাউদ্দিনের চেরাগ থেকে একের পর এক সম্পদের পাহাড় বেরিয়ে আসছে। নানা রকম সম্পদের ফিরিস্তি প্রতিদিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে। তার বেশ কিছু সম্পদ সরকার জব্দও করেছে। এই সম্পদগুলো এখন সরকারের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। একজন সর্বোচ্চ পদে থাকা পুলিশ কর্মকর্তা কীভাবে এত দুর্নীতিবাজ হয়ে উঠতে পারেন তা নিয়ে চলছে নানা রকম আলাপ আলোচনা চর্চা। কিন্তু যাকে নিয়ে আলাপ আলোচনা তিনি কোথায়? এ প্রশ্নের উত্তর নেই। 

বেনজীর আহমেদকে গত ৬ জুন দমন কমিশন তলব করেছিল। তিনি সেই তলবে হাজির হননি। তার একজন প্রতিনিধি পাঠিয়ে তিনি ১৫ দিন সময় চেয়েছিলেন। তাকে সেই সময় মঞ্জুর করা হয়েছে। ৯ জুন তার স্ত্রী এবং কন্যাদেরকে তলব করা হয়েছিল। সেখানেও তারা উপস্থিত হননি। তাদেরকেও নতুন করে সময় দেওয়া হচ্ছে। বাংলা ইনসাইডার নিশ্চিত হয়েছে যে, এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বেনজীর আহমেদ এবং তার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন না। 

বেনজীর আহমেদ এখন কোথায় আছেন? কীভাবে আছেন? বাংলাদেশের অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে, বেনজীর আহমেদের পরিবার এখন দুটি দেশে অবস্থান করছেন। বেনজীর আহমেদের কনিষ্ঠতম কন্যা এখন যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। সেখানে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি লেখাপড়া করেছেন এবং তার পিতাকে নিয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্যগুলো প্রকাশিত হবার পর তিনি কিছুটা মুষড়ে পড়েছিলেন বটে। কিন্তু এখন তিনি স্বাভাবিক রয়েছেন। তার পরিচয় গোপন রেখেই তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন। লন্ডনে বেনজীর আহমেদ তাকে একটি অ্যাপার্টমেন্ট কিনে দিয়েছেন, সেখানেই বেনজীরের কনিষ্ঠ কন্যা অবস্থান করছেন। বেনজীর আহমেদের পরিবারের বাকি সদস্যরা এখন দুবাইতে অবস্থান করছেন- এটা মোটামুটি নিশ্চিত হওয়া গেছে। দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদের কেনা অ্যাপার্টমেন্ট হাউসে পরিবারের সকল সদস্যরাই অবস্থান করেন। বেনজীর আহমেদের বড় মেয়ের জামাতা দুবাইতে ব্যবসা করেন। সেই ব্যবসার বিনিয়োগ এবং উৎস কিছুই বেনজীর করে দিয়েছেন বলে জানা গেছে। 

উল্লেখ্য যে, বেনজীর আহমেদ যখন পুলিশ প্রধান ছিলেন তখন তিনি রাজকীয় কায়দায় তার বড় মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলেন।বিয়ে দেওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই তার জামাইকে দুবাই পাঠিয়ে দেন এবং দুবাইয়ে হোটেল, আবাসন সহ অন্তত তিনটি খাতে বিনিয়োগ রয়েছে বেনজীরের জামাতার। আর বেনজীর আহমেদ যখন বুঝতে পারেন যে, সরকার তাকে যে কোন সময়ে বেকায়দায় ফেলতে পারে এবং যে কোন সময়ে তার দুর্নীতির কীর্তি কাহিনি ফাঁস হয়ে যেতে পারে, ঠিক সেই সময় তিনি তার স্ত্রী এবং কন্যাকে নিয়ে দুবাই চলে যান। 

কেউ কেউ বলার চেষ্টা করছে যে, বেনজীর আহমেদ সিঙ্গাপুরে গেছেন। তবে বাংলা ইনসাইডারের অনুসন্ধান নিশ্চিত করেছে যে, বেনজীর আহমেদ সিঙ্গাপুরে যাননি। যদিও মালয়েশিয়ায় তার সেকেন্ড হোম রয়েছে। কিন্তু বেনজীর আহমেদ দুবাইতে গেছেন এবং এখন তিনি দুবাইতেই অবস্থান করছেন। সেখানে তিনি কোন বাঙালির সঙ্গে দেখা করছেন না। বাংলাদেশের কয়েকজন তার ব্যবসায়িক পার্টনারের সঙ্গে তিনি বিভিন্ন সময় যোগাযোগ রক্ষা করছেন, খোঁজখবর নিচ্ছেন। সরকারের বিভিন্ন মহলের সঙ্গে তার যোগাযোগের চেষ্টার খবর পাওয়া গিয়েছিলো। কিন্তু সকলেই এখন বেনজীর আহমেদকে এড়িয়ে চলছে। ফলে বেনজীর সেদিকেও যোগাযোগ রক্ষা করতে পারছেন না।

দুবাইয়ের স্থানীয় লোকজন বলছেন যে, বেনজীর আহমেদ যে পরিমাণ সম্পদ দুবাইতে জমা করেছেন তা নিয়ে সারা জীবন তিনি চলতে পারবেন। কাজেই দেশে তার সম্পদ কতটুকু বাজেয়াপ্ত হলো সেটি নিয়ে তিনি মোটেও উদ্বিগ্ন নন। বাংলাদেশে তার যে সম্পদ জব্দ হয়েছে তার চেয়ে অত্যন্ত ১০ গুণ সম্পদ তিনি দুবাইতে করেছেন। আর এ কারণেই তিনি এখন দুবাইতে গা ঢাকা দিয়ে আছেন। দুবাইয়ের আইন অনুযায়ী এ ধরনের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না, যতক্ষণ না তিনি ওই দেশে কোন অন্যায় না করছেন।

বেনজীর আহমেদ   দুদক   দুবাই  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন