ইনসাইড আর্টিকেল

হৃদরোগ ও ক্যানসারের ঝুঁকি কমায় হাঁটা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮:১৯ এএম, ২৬ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

যে কোনো বয়সের মানুষের শরীর ঠিক রাখতে হলে ব্যায়ামের বিকল্প নেই। সব ব্যায়াম সব বয়সের জন্য উপযোগী নয় এবং সব ব্যায়াম করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। হাঁটা এমন একটি ব্যায়াম, যা সব বয়সের জন্য মানানসই। সহজে করা যায়। হাঁটার উপকারিতাও অনেক। এর চেয়ে সহজ ব্যায়াম আর নেই। সব বয়সের মানুষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী এ ব্যায়াম কম খরচে শরীর ভালো রাখা যায়। ঘরে-বাইরে যে কোনো জায়গায় করা যায়। ব্যক্তির শারীরিক ক্ষমতা অনুযায়ী এর তীব্রতা বাড়ানো-কমানো যায়। উপযুক্ত পোশাক এবং এক জোড়া ভালো জুতা ছাড়া কোনো অতিরিক্ত খরচের প্রয়োজন পড়ে না।

ডায়াবেটিস রোগীর উপকার

ডায়াবেটিস রোগীর ব্যায়ামের বিকল্প নেই। সকাল-সন্ধ্যা নিয়মিত হাঁটাচলা, হাট-বাজারে কোথাও গেলে অল্প দূরত্বে রিকশা বা গাড়ি ব্যবহার না করা। অল্প কয়েক তলার জন্য লিফট ব্যবহার না করে হেঁটে ওঠা বা নামার মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। প্রতিদিন ৩০ মিনিট করে সপ্তাহে পাঁচ দিন বা সপ্তাহে মোট ১৫০ মিনিট হাঁটলে এবং শরীরে ওজন সাত শতাংশ কমালে টাইপ টু ডায়াবেটিস হওয়ার আশংকা কমে প্রায় ৫৮ ভাগ। যদি ডায়াবেটিস হয়েই থাকে, তবে তা নিয়ন্ত্রণে রাখতেও হাঁটা বিশেষ কার্যকর। হাঁটাহাঁটি করলে শরীরের পেশিতে ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়ে এবং রক্তের সুগার কমে, ওষুধ কম লাগে।

স্ট্রোকের ঝুঁকি হ্রাস

মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ বা স্ট্রোকের অন্যতম একটি রিস্ক ফ্যাক্টর হচ্ছে অলস জীবনযাপন করা, স্থূলতা বা অতিরিক্ত মোটা হওয়া। হাঁটাচলা বা ব্যায়ামের মাধ্যমে শরীরের মেদ কমে যায়, ওজন নিয়ন্ত্রণে আসে। ফলে স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমে আসে। দৈনিক এক ঘণ্টা করে সপ্তাহে পাঁচ দিন হাঁটার মাধ্যমে স্ট্রোকের ঝুঁকি শতকরা ৫০ ভাগ কমে যায়।

ওজন নিয়ন্ত্রণ

অনেকেই শরীরের ওজন কমাতে শুধু ডায়েটিং করেন। কিন্তু হাঁটাহাঁটি না করে বা অলস জীবনযাপন করে শুধু ডায়েট কন্ট্রোলের মাধ্যমে ওজন কমানো সম্ভব নয়। দীর্ঘ মেয়াদি ওজন নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির মূল চাবিকাঠি স্বাস্থ্যকর সুষম খাবার এবং নিয়মিত হাঁটাচলা।

হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা

নিয়মিত হাঁটার ফলে হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। হৃদযন্ত্র স্বল্প চেষ্টায় শরীরে বেশি পরিমাণে রক্ত সরবরাহ করতে পারে এবং ধমনির ওপরও চাপ কম পড়ে। উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার আশংকা কম থাকে। হাঁটার মাধ্যমে শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। নিয়মিত হাঁটলে শরীরে জমে থাকা মেদ কমে। রক্তে মন্দ কোলেস্টেরল বা লো ডেনসিটি লাইপো প্রোটিন কমে যায়। এই মন্দ কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেড়ে গেলে তা ধমনির গায়ে জমে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। যারা সপ্তাহে অন্তত তিন ঘণ্টা অথবা দৈনিক আধা ঘণ্টা করে হাঁটেন, তাদের ক্ষেত্রে হৃদরোগ হওয়ার ঝুঁকি অন্যদের চেয়ে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম। হাঁটার ফলে ভালো কোলেস্টেরল বা হাই ডেনসিটি লাইপো প্রোটিন বাড়ে। ফলে রক্তনালিতে ব্লক সহজেই হয় না। রক্তনালির দেয়াল শক্ত হয়ে যায় না। তাই হৃদরোগের কারণে মৃত্যু ঝুঁকি কমে প্রায় ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশ কমে যায় স্ট্রোকের ঝুঁকিও।

হাঁটা ও কর্মক্ষমতা

হাঁটার সময় হৃৎস্পন্দন ও শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি এবং রক্ত সরবরাহ বাড়ে। এগুলো বেশি কর্মক্ষম থাকে। হাঁটার ফলে পেশিতে রক্ত সরবরাহ বাড়ে ফলে পেশির শক্তি বাড়ে। শরীরের ওজন কমে। শরীর থাকে ফিট। নিজেকে বেশি শক্তিশালী মনে হয়। সার্বিকভাবে শরীরের কর্মক্ষমতা বেড়ে যায়।

উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের অন্যতম চাবিকাঠি হচ্ছে নিয়মিত ব্যায়াম বা হাঁটা। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হাঁটাচলা অনেকটা উচ্চ রক্তচাপরোধী ওষুধের মতো কাজ করে। হাঁটার ফলে উচ্চরক্তচাপ হয় না এবং আগে থেকেই উচ্চরক্তচাপ থাকলে তা কমিয়ে রাখে।
ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে

কিছু ক্যান্সারের ঝুঁকি হাঁটা চলার মাধ্যমে কমানো সম্ভব বলে অনেক গবেষণায় দেখা গেছে। ব্রিটিশ জার্নাল অব ক্যান্সার স্টাডিতে প্রকাশিত আরেক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে হাঁটার ফলে খাদ্যনালির নিন্মাংশের ক্যান্সারের ঝুঁকি ২৫ শতাংশ হ্রাস পায়। দীর্ঘমেয়াদি কোষ্টকাঠিন্য দূর হয়। কোলন বা বৃহদান্ত্রের ক্যান্সারের আশংকাও কমে যায়।

হাড়ের ক্ষয়রোগ রোধে

পোস্ট মেনপোজাল (রজঃনিবৃত্তি পরবর্তী) নারী এবং বয়স্ক পুরুষদের সাধারণ রোগ হচ্ছে অষ্টিও পোরোসিস বা হাড়ের ক্ষয়রোগ। এ রোগে হাড় দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে যায়। সামান্য আঘাত বা অল্প উচ্চতা থেকে পড়ে গিয়ে হাড় ভেঙে যেতে পারে। নিয়মিত হাঁটাচলা এ ক্ষেত্রে উপকারী ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, রজঃনিবৃত্তি-পরবর্তী বয়সে যেসব নারী প্রতিদিন অন্তত এক মাইল হাঁটেন, তাদের হাড়ের ঘনত্ব কম হাঁটা নারীদের তুলনায় বেশি। হাঁটার ফলে যেমন হাড় ক্ষয়ের প্রবণতা হ্রাস পায়, তেমনি আর্থ্রাইটিসসহ হাড়ের নানা রোগ হওয়ার আশংকাও কমে যায়।

মানসিক স্বাস্থ্য

হাঁটলে মস্তিষ্কে ভালো লাগার কিছু পদার্থ এনড্রফিন, ডোপামিন, সেরেটোনিন নিঃসরণ হয়। ফলে মন-মেজাজ ভালো থাকে। হাঁটার ফলে মনে ভালো লাগার অনুভূতি জাগে, মানসিক চাপ কম বোধ হয়। এনড্রফিন নামক রাসায়নিকের ক্রিয়া বেড়ে গেলে ঘুম আরামদায়ক হয়। প্রতিদিন ৩০ মিনিট করে সপ্তাহে তিন থেকে পাঁচ দিন হাঁটার ফলে বিষণœতার উপসর্গ ৪৭ শতাংশ হ্রাস পায়। এক গবেষণায় দেখা গেছে, যে নারীরা সপ্তাহে অন্তত দেড় ঘণ্টা হাঁটেন তাদের বোধশক্তি ৪০ মিনিটের কম হাঁটা নারীদের তুলনায় বেশি।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

জন্ম নিবন্ধনের প্রয়োজনীয়তা এবং যেসব কাজে লাগে

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ১৮ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail জন্ম নিবন্ধনের প্রয়োজনীয়তা এবং যেসব কাজে লাগে

জন্ম নিবন্ধন একটি অতি প্রয়োজনীয় বিষয়। জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যেই শিশুর জন্ম নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক। এ সময়ের মধ্যে নিবন্ধন না করা হলে ১৮ বছরের মধ্যে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এটি করতে পারবেন। তবে ১৮ বছর পার হলে ৫০ টাকা ফি দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। 

জন্ম নিবন্ধন না হলে শিশুকে স্কুলে ভর্তি করা থেকে শুরু করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪ (২০০৪ সনের ২৯ নং আইন) এর আওতায় একজন মানুষের নাম, লিঙ্গ, জন্মের তারিখ ও স্থান, বাবা-মায়ের নাম, তাদের জাতীয়তা ও স্থায়ী ঠিকানা নির্ধারিত নিবন্ধক কর্তৃক রেজিস্টারে লেখা বা কম্পিউটারে এন্ট্রি প্রদান ও জন্ম সনদ প্রদান করা।

জন্ম নিবন্ধন করতে মা-বাবার জন্মসনদ বাধ্যতামূলকের নিয়ম ছিল এতোদিন। তবে এই নিয়ম তুলে দিয়েছে রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়। এখন থেকে মা-বাবার জন্মসনদ ছাড়াই জন্ম নিবন্ধন করা যাবে। হাসপাতালে জন্ম নেওয়ার পর দেওয়া ছাড়পত্র বা টিকার কার্ড যেকোনো একটি প্রমাণ দেখিয়ে শিশুর জন্ম নিবন্ধন করা যাবে।

জন্ম নিবন্ধন যেসব কাজে লাগে

জন্ম সনদ হলো একজন মানুষের জন্ম, বয়স, পরিচয় ও নাগরিকত্বের প্রমাণ। রাষ্ট্রের স্বীকৃত নাগরিকের মর্যাদা ও সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে হলে জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রদর্শন করা বাধ্যতামূলক। যেসব কাজে জন্ম নিবন্ধনের প্রয়োজন হয়-

* পাসপোর্ট ইস্যু
* বিবাহ নিবন্ধন
* শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি
* সরকারি-বেসরকারি বা স্বায়ত্বশাসিত সংস্থায় নিয়োগদান
* ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু
* ভোটার তালিকা প্রণয়ন
* জমি রেজিষ্ট্রেশন
* ব্যাংক হিসাব খোলা
* আমদানি ও রপ্তানী লাইসেন্স প্রাপ্তি
* গ্যাস, পানি, টেলিফোন ও বিদ্যুৎ সংযোগ প্রাপ্তি
* ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইএন) প্রাপ্তি
* ঠিকাদারী লাইসেন্স প্রাপ্তি
* বাড়ির নকশা অনুমোদন প্রাপ্তি
* গাড়ির রেজিষ্ট্রেশন
* ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তি
* বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ
* শিশু শ্রম প্রতিরোধ ও
* জাতীয় পরিচয়পত্র প্রাপ্তি।

জন্ম নিবন্ধন না থাকলে পড়তে পারেন যেসব সমস্যায়-

* জন্ম নিবন্ধন না থাকলে আপনি জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্যও আবেদন করতে পারবেন না।

*  স্কুলে ভর্তির সময় শিশুর বয়স প্রমাণের জন্য জন্ম সনদ চাওয়া হয়। 

*  বিভিন্ন কারণে বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন হলেও যেতে পারবেন না। কারণ পাসপোর্টের আবেদন করতে হলে অবশ্যই ফরমের সঙ্গে জন্ম নিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয়পত্র দরকার হবে।

*  আবার সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত চাকরির ক্ষেত্রেও জন্ম নিবন্ধন দরকার হয়। 

* বিয়ের নিবন্ধনেও দরকার হয় জন্ম নিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয়পত্রের।

* এছাড়া সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়ের পর রেজিষ্ট্রেশনেও জন্ম সনদের প্রয়োজন হয়।

জন্ম নিবন্ধন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

ঘুরে আসুন মালে আইল্যান্ড থেকে

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ১৪ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail ঘুরে আসুন মালে আইল্যান্ড থেকে

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দেশ মালদ্বীপ। বিধাতা যেনো প্রকৃতির সকল সৌন্দর্য ঢেলে দিয়েছে দেশটিতে। দেখে মনে হবে এ যেনো কোনো বিখ্যাত শিল্পীর আঁকা বিশাল ক্যানভাস। আর এই দেশটির মধ্যে পর্যটনের মূল কেন্দ্রবিন্দু মালদ্বীপের মালে আইল্যান্ড, যা দেশটির রাজধানী। মালদ্বীপে গেলে এই দ্বীপটিতে যাবে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। বিশেষ করে কাপলদের হানিমুনে যাওয়ার জন্য উপযুক্ত যায়গা মালদ্বীপের মালে আইল্যান্ড। যা প্রায় ১২০০ টি ছোট ছোট দ্বীপের মধ্যে একটি। দ্বীপটি প্রায় ১.৫ কিলোমিটার লম্বা ও ১ কিলোমিটার চওড়া এই দ্বীপ।

মালে আইল্যান্ডের চারপাশে সারি সারি নারকেল ও সুপারি গাছগুলো যেনো সবুজের মাঝে মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে আছে। দ্বীপজুড়ে রয়েছে এক নগরায়নের ছোঁয়া। তাই হয়তো এখানে প্রতিনিয়তই পর্যটকদের সমাগম থাকে বিপুল পরিমাণে। এই দ্বীপে আসলে ভ্রমণের ক্লান্ত সময় নিমিশিয়ে মিলিয়ে যাবে। নীল সাগর থেকে বয়ে আসা স্নিগ্ধ হাওয়া আপনার মনকে করে তুলবে প্রানবন্ত এবং সতেজ। 

আপনি যদি মালে আইল্যান্ড ছাড়াও অন্য কোথাও ঘুরতে যেতে চান তাহলে মালে আইল্যান্ডের পাশাপাশি মালে শহরের মধ্যে আরও কিছু দর্শনীয় স্থানে ঘুরতে পারবেন। যেমন আর্টিফিশিয়াল বীচ , ওল্ড ফ্রাইডে মস্কো ,ন্যাশনাল মিউজিয়াম , সুলতান পার্ক, ন্যাশনাল আর্ট গ্যালারি, চিনা মালদ্বীপ ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজ, ফিস মার্কেট ও গ্র্যান্ড ফ্রাইডে মস্কো । মালে থেকে কাছাকাছি অবস্থিত বিভিন্ন রিসোর্ট আইল্যান্ড থেকে ঘুরে আসতে পারেন সেই সাথে সেখানে গিয়ে থাকতেও পারেন। তবে রিসোর্ট এর আইল্যান্ড গুলোতে খরচ অনেক বেশি। ডে ট্রিপ এর অপশন থাকলে প্যাকেজ আকারে ঘুরে আসতে পারেন ।


>> যেভাবে দেশ থেকে মালদ্বীপ যাবেন:

বাংলাদেশ থেকে মালদ্বীপ যাওয়ার জন্য ঢাকা থেকে ২-৩ টি ফ্লাইট আছে। তবে বাংলাদেশিরা বেশিরভাগ সময় যাতায়াত করে মালদ্বীপ এয়ারওয়ে বা শ্রীলংকা এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে। মালদ্বীপে যাওয়ার এয়ারলাইন্স গুলো ঢাকা থেকে সরাসরি মালদীপ বিবানবন্দর গিয়ে পৌঁছায়। এছাড়াও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স সরাসরি মালে গিয়ে পৌঁছায়। মালে পৌছানোর পর ইমিগ্রেশন শেষ করে এয়ারপোর্ট থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার দূরত্বে মালের ট্যাক্সি করে পৌঁছাতে পারবেন আপনার পছন্দের গন্তব্যে। এছারাও আপনি চাইলে ফেরি বা স্পিডবোট করে যেতে পারবেন মালে আইল্যান্ডে। 

তবে আপনি যদি আপনার ভ্রমণযাত্রা আরও দীর্ঘ করতে চান তাহলে বাংলাদেশ থেকে প্রথমে শ্রীলংকার বন্দরনায়েকে আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট থেকে ট্রানজিট শেষ করে আবার অন্য ফ্লাইটে করে আপনি মালদ্বীপের মালে ইন্টারন্যাশনাল বিমান বন্দরে যেতে পারবেন। এক্ষেত্রে শ্রীলঙ্কা থেকে বিমানে করে মালদ্বীপ যেতে আপনার ঘন্টাখানেক সময় লাগবে এবং খরচও কম পড়বে। পাশাপাশি একই সঙ্গে দুই দেশ ভ্রমণ করা হয়ে যাবে।

>> মালদ্বীপে থাকার ব্যবস্থা: 

মালদ্বীপ শহরে থাকার জন্য বেশ কিছু রিসোর্ট রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে সামান গার্ডেন, সামারসেট হোটেল, সেন্টার রাস ফুসি রিসোর্ট। এই রিসোর্টগুলো ছারাও আরও বেশকিছু রিসোর্ট রয়েছে। তবে দেশটিতে যদি আপনি নতুন ভ্রমণে গিয়ে থাকেন তাহলে সেখানে কোথায় উঠবেন সেই জায়গা সম্পর্কে ভালভাবে জেনে নিবেন। এছাড়াও কুরুম্বা ম্লদ্বীপ, হলিডে আইল্যন্ড রিসোর্ট, প্যারাডাইস আইল্যান্ড রিসোর্ট , সান এন্ড স্পা, বন্দোস আইল্যান্ড উঠতে পারেন। 

মালদ্বীপে থাকার জন্য দুধরনের দীপ রয়েছে। ব্যক্তিগত এবং সার্বজনীন। ব্যক্তিগত দ্বীপগুলোর সাথে যে রিসোর্টগুলো থাকে সেগুলোর ভাড়া তুলমূলকভাবে একটু বেশিই থাকে। যেমন ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকাও থাকে। এই রিসোর্টগুলো বেশিরভাগ সময় সেলিব্রেটিরাই নিয়ে থাকেন। তারা একটু নিরিবিলি এবং জনসমাগম থেকে আড়ালে থাকতে চায়। তাই তাদের জন্য ব্যক্তিগত দ্বীপের রিসোর্টগুলো ভালো। এছাড়াও সাধারণ ভ্রমণকারীদের জন্য রয়েছে সার্বজনীন দ্বীপ। যেখানে প্রতি রাতের জন্য ভাড়া ৩০,০০০ থেকে ১,০০,০০০ টাকা। তবে ভারা কিছুওতা বাড়তে বা কমতে পারে। 

সেগুলি খুবই সাজানো গোছানো, পরিপাটি এবং আধুনিক। সেখানে ব্রেকফাস্ট, গরম জল সহ অন্যান্য সুবিধে মেলে। আর এই সার্বজনীন দ্বীপগুলির মধ্যে মাফুশি, ধারাভান্ধু, গুরাইধু সেরা। আবার গেস্ট হাউজ এবং ভিলার খরচও আলাদা আলাদা। ভিলার ভাড়া বেশি। গেস্ট হাউজের ভাড়া তুলনামূলক অনেক কম।

>> মালদ্বীপের খাবার ব্যবস্থা:

এখানের খাবারের তালিকায় আমিষ জাতীয় খাবারই বেশি প্রাধান্য পায়। টুনা মাছ, নারিকেল পিয়াজ ও লেবু দিয়ে তৈরি এক ধরনের বিশেষ খাবার যা রশি দিয়ে খেতে দেয়া হয় এবং খুবই মজাদার। এছাড়াও নানা ধরনের ঠান্ডা পানীয় খুবই মজাদার। মালদ্বীপে গেলে এ খাবারগুলো সবাই একবার না একবার ট্রাই করে। এছারাও যদি কেউ বাঙালিয়ান খাবার খেতে চান তার জন্য রয়েছে মালে শহরের 'ঢাকা ফুড' নামে একটি রেস্টুরেন্ট। যেখানে গেলে আপনি বাঞালিয়ান খাবার খেতে পারবেন। তবে আপনি যদি একটু ভিন্ন দেশে গিয়ে ভিন্ন রকম অভিজ্ঞতা নিতে চান তাহলে  আন্ডারওয়াটার রেস্টুরেন্টগুলোতে খেতে পারেন। দারুন এক অভিজ্ঞা পাবেন। এছারাও আপনি যদি সাধারণ মানের খাবার খেয়ে থাকেন তবে প্রতিবেলা খাবার খ্রচ পড়বে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে। 

>> মাদ্বীপে যাওয়ার খরচ:

মালদ্বীপের থাকা-খাওয়ার খরচ একটু বেশি । বিমানে ঢাকা থেকে মালদ্বীপের যাওয়া-আসা ৪৩০০০-৬০০০০ টাকা মত পড়বে। তবে কত আগের টিকিট কাটবেন তার ওপরে বিমান ভাড়া নির্ভর করে । শহরের মধ্যে থাকলে এক রাতে খরচ হবে ৩০০০-৭০০০ টাকা। আর যদি আইল্যান্ড এর কাছাকাছি কোন রিসোর্টে রাতে থাকতে চান তাহলে জনপ্রতি খরচ হবে ১৬০০০-২৮০০০ টাকা। । 

আর প্যাকেজের মাধ্যমে স্পিডবোর্ড ভাড়া করে ঘুরতে চাইলে খরচ পড়বে ১৫০০০-১৭০০০টাকা। তবে খরচ কমাতে চাইলে যত আগে সম্ভব বিমানের টিকিট কেটে রাখবেন এবং থাকার জন্য লোকাল রিসোর্টে বা গেস্টহাউসে থাকার চেষ্টা করবেন সেই সাথে যাতায়াতের জন্য সরকারি ফেরি ব্যবহার করবেন।


>> মালদ্বীপে ভরমণের ক্ষত্রে অবশ্যই কিছু বিষয় খেয়াল রাখবে আর তার মধ্যে হলো-

মালদ্বীপ যাওয়ার উপযুক্ত সময় জানুয়ারি থেকে মার্চ। এসময় গেলে হয়তো খরচ একটু বেশি পড়বে। তবে যদি অফ সিজনে যান তাহলে খরচ একটু কম পড়বে। 

মালদ্বীপে যেতে হলে আগে থেকে ভিসা নেওয়ার দরকার হয়না এখানে ৩০ দিন মেয়াদে অন এ্যারাইভাল’ ভিসা নিতে হয়। আপনি যদি জব করেন তাহলে এনওসি,বিজনেস করলে ট্রেড লাইসেন্স ও স্টুডেন্ট হলে আইডি কার্ড ও দরকারে কাগজের ফটোকপি সাথে রাখবেন।

মালদ্বীপে ভ্রমনে গেলে সে ক্ষেত্রে বিমানের টিকিটের ক্ষেত্রে এক থেকে দুই মাস আগে বুকিং দেওয়ার চেষ্টা করুন তাতে বিমানের টিকিট মূল্য কিছুটা কমে পাওয়া যাবে। মালে আইল্যান্ডে যদি সিজনাল সময়ে ঘুরতে যান তাহলে বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সির সাথে যোগাযোগ করে থাকার জন্য হোটেল বুকিং দিয়ে রাখুন। এতে করে কিছু স্পেশাল অফার পাওয়া যায় এবং নানা ধরনের ঝামেলাও এড়ানো যায়।

মালদ্বীপ একটি বিলাসবহুল দেশ তাই খরচ কিছুটা বেশি। তবে বুদ্ধি ও হিসেব করে খরচ করতে পারলে আপনি ভালোভাবে পুরো ঘুরতে পারবেন।

ঢাকা থেকে পৌছাতে যদি রাত হয়ে যায় এবং আপনি পরের দিন আইল্যান্ডে পৌঁছাতে চান তাহলে রাত কাটানোর জন্য যেকোনো কম খরচের হোটেলে থাকার চেষ্টা করুন। 

রিসোর্ট থাকলে খাবার খরচ প্যাকেজের মধ্যে নেওয়ার চেষ্টা করবেন আর বাইরে খেলে মেন্যুবার থেকে লোকাল খাবার খাবেন, এখানে লোকাল খাবারের দাম অনেকটা কম।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

বিসিএসই কি সাফল্যের একমাত্র প্রতিশব্দ?

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ১৩ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail বিসিএসই কি সাফল্যের একমাত্র প্রতিশব্দ?

দেশের স্বপ্নবিলাসী শিক্ষার্থীদের কাছে বিসিএস যেন স্বপ্নপূরণের আরেক নাম। উচ্চশিক্ষার গন্ডি পেরোতেই দেশের তরুণ প্রজন্ম ঝাঁপিয়ে পড়ে বিসিএসে উত্তীর্ণের রণক্ষেত্রে। তবে এই স্বপ্ন অনেকেরই দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। আবার কেউ কেউ পৌঁছাতে পারে তাদের স্বপ্নের চূড়ায়। যদিও এর সংখ্যা খুবই কম।  বাংলাদেশের বর্তমান প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা খুবই মেধাবী। মেধাবীদের তুলনায় বাংলাদেশে তাদের কর্মক্ষেত্র খুবই সীমিত। কর্মক্ষেত্র সীমিত জেনেও হুমরি খেয়ে পড়ে বিসিএসের উপর। তাদের প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয়ের তালিকা থেকে শুরু করে ধ্যান-জ্ঞানে কর্মক্ষেত্রের তালিকায় রাখেন বিসিএস।

আমরা যদি এবছর ৪৪ তম বিসিএসের কথা বলি তাহলে দেখতে পাই যে, এ বছর ৪৪ তম বিসিএস পরিক্ষায় আবেদন করেছিলো ৩ লাখ ৫০ হাজার ৭১৬ জন পরিক্ষার্থী। এদিকে বিসিএসের মোট পদ সংখ্যা রয়েছে ১ হাজার ৭১০ টি। মানে একটি পদের বিপরীতে লড়েছেন ২০৫ জন পরিক্ষার্থী। এর মানে দাঁড়ায় এবছরের স্বপ্নের বিসিএস থেকে বাদ পড়বেন ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৬ জন পরিক্ষার্থী। 

আসন সংখ্যা সীমিত হওয়া সত্ত্বেও কেনো সবাই বিসিএসের প্রতি ছুটছেন? এর উত্তর সহজভাবে বলতে গেলে সবাই চায় তাদের কর্মক্ষেত্র নিশ্চিত হোক,  ভালো বেতন এবং সার্বিক সুযোগ সুবিধা। পাশাপাশি তো আছেই ক্ষমতা, সম্মান ইত্যাদি। যা একমাত্র বিসিএস বা উচ্চ পদের সরকারি চাকরিতেই সম্ভব। 

তবে আমাদের দেশে বিসিএস ছাড়াও আরও অনেক ব্যক্তি রয়েছেন যারা বিসিএস না দিয়েও বা বিসিএস ক্যাডার হয়ে আবার সেখান থেকে ফিরে এসে অন্য কর্মক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করেছেন। যেমন আমাদের খুব পরিচিত একজন লেখক আনিসুল হক। যিনি বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগ থেকে পাশ করে বিসিএস ক্যাডার হয়েছিলেন এবং চাকরিতেও যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু বছর খানিক যেতে না যেতেই তিনি ফিরে আসেন তার পছন্দের জগত সাংবাদিকতা আর লেখালেখিতে। আজ তিনি একজন সফল মানুষ। বিসিএসে পড়ে থাকলে তিনি আজ যে অবস্থানে আছেন সেটা থাকতে পারতেন না। আজ তিনি দেশের একজন সম্মানিত মানুষ। যার কথা থাকে মানুষের মুখে মুখে।

আবার দেশ অরেক বরেণ্য খালেদ মুহিউদ্দীনের কথা যদি বলি, তিনি বিসিএস পাশ করে যোগ দিয়েছিলেন ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে। তবে তিনিও বিসিএস থেকে সরে এসে যোগ দিয়েছেন তার পছন্দের কর্মক্ষেত্র লেখালেখি আর সাংবাদিকতায়।

এছাড়াও, কেউ ব্যাবসা করে, কেউ কোনো বেসরকারি চাকরি করে বা কেউ উদ্যোক্তা হয়। তাহলে আপনি কেনো শুধু বিসিএসকে ধ্যান-জ্ঞ্যানে রাখবেন।  যেখানে লড়াইয়ে জিতবেন নাকি হারবেন এর নিশ্চয়তা নেই। এমন অনেক মানুষ আছে যারা মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও ০.৫ মার্কের জন্য ছিটকে পড়ে বিসিএস থেকে। এক নিমিষেই অক্লান্ত পরিশ্রম বৃথা হয়ে যায়।  

আপনার পছন্দ যদি বিসিএস থাকে, তাহলে অবশ্যই পছন্দের তালিকায় রাখুন কারণ বিসিএসের পড়াশোনা বেসরকারি চাকরি, ব্যাংক-বিমায় আপনাকে সাহায্য করবে। তবে ধ্যান-জ্ঞানে বিসিএস না রেখে, বিসিএসের সাথে প্ল্যান 'বি' রাখুন। যেনো বিসিএস থেকে ছিটকে গেলেও আপনার স্বপ্ন ধূলিসাৎ না হয়ে যায়।

বিসিএস   সাফল্য  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

বাংলাদেশের পর্যটন এলাকায় নারী ট্রাভেলারদের নিরাপত্তা

প্রকাশ: ০৮:০৪ এএম, ১২ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail বাংলাদেশের পর্যটন এলাকায় নারী ট্রাভেলারদের নিরাপত্তা

সোলো ট্রাভেলারদের জন্য বাংলাদেশ কতটা নিরাপদ তা নিয়ে যুক্তিতর্ক লেগেই আছে। সেই একা ট্রাভেলার যদি হয় নারী, সেই ক্ষেত্রে নিরাপত্তা কতটুকু নিশ্চিত করা যায় তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়। 

সম্প্রতি কিছু ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশে ট্রাভেল জোনগুলোতে দেশি এবং দেশের বাইরের বিভিন্ন দেশের ট্রাভেলাদের মনে প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। তবে বিভিন্ন জায়গা ইতোমধ্যে যারা ভ্রমণ করেছেন তারা জানাচ্ছেন, বাংলাদেশের মেয়েদের সোলো ট্রাভেলের জন্য সর্বত্রই নিরাপদ। তবে কিছু অঞ্চলে সাবধানতা বজায় রাখা ছেলে কিংবা মেয়ে যেকোনো ভ্রমণকারীর উচিত। এর বাইরে দেশের কম বেশি অনেক স্থান সকলের জন্য নিরাপদ এবং সুরক্ষিত। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন এর মতে দেশের সাময়িক কিছু ঘটনার পরে সন্ত্রাসীগুষ্টির আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু এতে সামগ্রিক অঞ্চলকে বহিষ্কার করার মতো পরিস্থিতি হবে না বলে জানান তারা। তাছাড়া পর্যটন এলাকাগুলোতে দেশি এবং বিদেশি সকল মানুষের উপস্থিতির উপর লক্ষ্য করে নিরাপত্তা আগের তুলনায় আরো বাড়ানো হয়েছে বলে দাবি করছে বাংলাদেশ পুলিশ এবং পর্যটন এলাকাসমূহের দায়িত্ব থাকা সরকারি কর্মকর্তারা। 

কক্সবাজার, সিলেট জাফলং, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, সেন্টমার্টিন দ্বীপ, শ্রীমঙ্গল, সাজেক, সুন্দরবন, লালাখাল, বাঘেরহাট, কুয়াকাটা, ময়নামতি কিংবা সোমপুরবিহার ইত্যাদি খুবই সুপরিচিত ভ্রমণ উপযোগী স্থান হিসেবে। এসব স্থানে নারীদের একা বা স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়ানোর নিরাপত্তা কতটুকু সেই নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। তবে যারা ইতোমধ্যে এসব স্থানে ঘুরে বেরিয়েছেন, তাদের মতে অনেকেই জানিয়েছেন একা ঘুরার ক্ষেত্রে তেমন সমস্যার সম্মুখীন হয়নি। 

দেশের সোলো ট্রাভেলার ফাতেমা জাহান জানিয়েছেন, দেশের টুরিজম প্লেসেগুলোর বিভিন্ন জায়গা তিনি ইতোমধ্যে ঘুরে বেরিয়েছেন। প্রতিবারই তিনি একা গিয়েছেন। সেইক্ষেত্রে তেমন কোনো সমস্যার সম্মুখীন তার হতে হয়নি। বরং প্রতিটি জেলা অঞ্চল এমনকি পার্বত্য অঞ্চলের আদিবাসীদের ব্যবহার অত্যন্ত অমায়িক। বিদেশি ট্রাভেলার লুইসা কিছুদিন আগে বাংলাদেশে ভ্রমণের মতো সাহসি পদক্ষেপ নিয়ে দেশের এক তৃতীয়াংশ ঘুরে বেরিয়েছেন।  এই জার্নি জুড়ে তিনি ছিলেন একা,  তবে পরিচিত হয়েছেন অনেক নতুন মুখের সাথে। বাংলাদেশের মানুষের আত্মীয়তা এবং নিরাপত্তা তাকে মুগ্ধ করেছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়িয়ে তাদের নিজস্ব অভিজ্ঞতা তারা তুলে ধরেছেন নিজেদের লেখার মাধ্যমে।

কিছুকিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা দেশের পর্যটন এলাকা নিয়ে একটা বিরূপ ধারণা তৈরি করলেও প্রকৃত অর্থে সাবধনতা অবলম্বন করলে প্রতিটি জায়গাই সকলের জন্য নিরাপদ।  আর সরকার কর্তৃক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরো কঠোর ব্যবস্থাপনা নেওয়া হলে বিদেশি এবং অন্যান্য ট্রাভেলারদের ভ্রমণ আরামদায়ক হবে বলে জানান এই দুই সোলো নারী ট্রাভেলার। 


পর্যটন   নারী ট্রাভেলার   নিরাপত্তা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

সত্য ও নারীবাদের অনন্য প্রতিক মারিয়া রেসা

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ১১ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail নারীবাদের অনন্য প্রতিক মারিয়া রেসা

মারিয়া রেসা, গতবছর নোবেল শান্তি বিজয়ী দুই নারী সাংবাদিকদের একজন তিনি। নির্ভয়ে সংবাদ প্রকাশ এবং জাল খবর পরিচালনার প্রতিবাদের জন্য তিনি বেশ পরিচিত মুখ। তার সাহসী মনোভাবই তাঁর সকল কাজের পেছনের শক্তি বলে দাবি করেন তিনি। 

মারিয়া ১২ অক্টোবর, ১৯৬৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন ফিলিপাইন এ। পরবর্তীতে নিউইয়র্ক স্থানান্তরিত  হলে সেখানেই পড়ালেখা শুরু করেন। তিনি প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তার পড়ালেখা শেষ করে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করেন সিএনএন এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদক হিসেবে। সেখানে কাজ করা অবস্থায় সরকার এবং উপরি মহলের চাপের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো দুর্দান্ত সাহসিকতার গল্পই এই নারীর জীবনী।  

সরকারের চাপের মুখে ঘুরে দাঁড়ানো এবং সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য সোচ্চার হওয়ার কারণে ২০২১ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন। তিনি কর্মজীবনে বিভিন্ন জটিলতার সম্মুখীন হয়েছেন।  তবে হাল কখনো ছাড়েননি। বরং সাহসের সাথে সব পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন বলে গণমাধ্যমে জানান রেসা। তিনি সবসময় স্বাধীন বাক অথবা মতামতের বিষয়ে প্রাধান্য দিতেন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা রাখতেন তার পেশা এবং লেখার মাধ্যমে।  

সিএনএন এ কাজ করার দীর্ঘ সময় অবধি লেখার তথ্য সমূহ সরবারাহের মাধ্যমে তার মনে হতো তিনি   শুধু মাত্র খবর বিলি করার জন্য খবর টুকু দিচ্ছেন কিন্তু এর প্রভাব বা ফলাফল খুটিয়ে দেখতে পারছেন না। এটা তার মনে অস্বস্তির সৃষ্টি করতো। পরবর্তীতে সেই তাগিদে তিনি জন্মভূমি ফিলিপাইনে ফিরে যান।  সেখানকার পরিস্থিতি দেখে তার মন আরো অশান্ত হয়ে উঠে। তিনি সিদ্ধান্ত নেন প্রভাবিত হয়ে কোনো  সংবাদ প্রচরণায় তিনি কোনোরূপ সংহতি দেখাতে পারবেন না। বরং সেই পরিস্থিতিতে সত্য উপাস্থপনা করা এবং সত্য বের করে তা সঠিকভাবে উপস্থাপন করার যে প্রস্তুতি রেসা নিয়েছিলেন সেই কারণে তাঁকে পার করতে হয়েছিল বেশ কঠিন সময়ও।  এমনকি সাইবার ক্রাইম অনুসারে তাকে দোষী প্রমাণিত করে একাধিক বার আইনি শাসনের আওতায় আনা হয়েছিল । তবে কঠিন সময় পার করার সময়ও তিনি হাল ছাড়েননি কিংবা ভেঙে পড়েননি বলে দাবী করেন তার কাছের মানুষ এবং সহকর্মীরা। 

মারিয়া রেসার মতে, "সংবাদ হলো খাদ্যের মতো, যা আমরা জনগণকে পরিবেশন করি, তাই এর গুনগত মান ভালো রাখা আমাদের দায়িত্ব।" এই তাগিদতেই তিনি র‍্যাপার নামক অনলাইন নিউজ সাইট প্রতিষ্ঠার কথা ভাবেন। সেই চিন্তার ধারাবাহিকতায়  তিনি অনলাইন নিউজ সাইট র‍্যাপার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন  ২০১২ সালে আরও তিন জন মহিলা প্রতিষ্ঠাতা এবং ১২ জন সাংবাদিকদের একটি ছোট দল নিয়ে।  সাইটটি ফিলিপাইনের অন্যতম প্রথম মাল্টিমিডিয়া নিউজ ওয়েবসাইট হয়ে উঠেছে এর মধ্যেই।  বর্তমানে প্রায় ১০০ জন সাংবাদিক এই সাইটিতে নিয়োগ রয়েছে। যার মধ্যে অধিকাংশই নারী। রেসা এই নিউজ সাইটের নির্বাহী সম্পাদক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

জাতীয় এবং আন্তজার্তিক বহুমাত্রিক পুরুষ্কার প্রাপ্ত এই নারী তাঁর সাংবাদিকতা জীবনের লম্বা সময় ধরে শুধু লড়ে গেছেন সত্য এবং বাক স্বাধীনতার ও নারী স্বাধীনতার দাবীতে৷ নোবেল বিজয়ী সাংবাদিক মারিয়া রেসার মতে মিথ্যা এবং ঘৃণা সত্যের চেয়েও দ্রুত ছড়ায়৷ তাই তিনি সর্বদা চেষ্টা করেন সত্য কে প্রতিষ্ঠিত করার। সাম্প্রতিক জার্মানির বনে গ্লোবাল মিডিয়া ফোরামে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘‘ফ্যাসিবাদের উত্থান মোকাবিলায় সত্যের প্রতি আস্থা পুননির্মাণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন৷' ' 



মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন