ইনসাইড আর্টিকেল

হৃদরোগ ও ক্যানসারের ঝুঁকি কমায় হাঁটা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮:১৯ এএম, ২৬ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

যে কোনো বয়সের মানুষের শরীর ঠিক রাখতে হলে ব্যায়ামের বিকল্প নেই। সব ব্যায়াম সব বয়সের জন্য উপযোগী নয় এবং সব ব্যায়াম করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। হাঁটা এমন একটি ব্যায়াম, যা সব বয়সের জন্য মানানসই। সহজে করা যায়। হাঁটার উপকারিতাও অনেক। এর চেয়ে সহজ ব্যায়াম আর নেই। সব বয়সের মানুষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী এ ব্যায়াম কম খরচে শরীর ভালো রাখা যায়। ঘরে-বাইরে যে কোনো জায়গায় করা যায়। ব্যক্তির শারীরিক ক্ষমতা অনুযায়ী এর তীব্রতা বাড়ানো-কমানো যায়। উপযুক্ত পোশাক এবং এক জোড়া ভালো জুতা ছাড়া কোনো অতিরিক্ত খরচের প্রয়োজন পড়ে না।

ডায়াবেটিস রোগীর উপকার

ডায়াবেটিস রোগীর ব্যায়ামের বিকল্প নেই। সকাল-সন্ধ্যা নিয়মিত হাঁটাচলা, হাট-বাজারে কোথাও গেলে অল্প দূরত্বে রিকশা বা গাড়ি ব্যবহার না করা। অল্প কয়েক তলার জন্য লিফট ব্যবহার না করে হেঁটে ওঠা বা নামার মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। প্রতিদিন ৩০ মিনিট করে সপ্তাহে পাঁচ দিন বা সপ্তাহে মোট ১৫০ মিনিট হাঁটলে এবং শরীরে ওজন সাত শতাংশ কমালে টাইপ টু ডায়াবেটিস হওয়ার আশংকা কমে প্রায় ৫৮ ভাগ। যদি ডায়াবেটিস হয়েই থাকে, তবে তা নিয়ন্ত্রণে রাখতেও হাঁটা বিশেষ কার্যকর। হাঁটাহাঁটি করলে শরীরের পেশিতে ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়ে এবং রক্তের সুগার কমে, ওষুধ কম লাগে।

স্ট্রোকের ঝুঁকি হ্রাস

মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ বা স্ট্রোকের অন্যতম একটি রিস্ক ফ্যাক্টর হচ্ছে অলস জীবনযাপন করা, স্থূলতা বা অতিরিক্ত মোটা হওয়া। হাঁটাচলা বা ব্যায়ামের মাধ্যমে শরীরের মেদ কমে যায়, ওজন নিয়ন্ত্রণে আসে। ফলে স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমে আসে। দৈনিক এক ঘণ্টা করে সপ্তাহে পাঁচ দিন হাঁটার মাধ্যমে স্ট্রোকের ঝুঁকি শতকরা ৫০ ভাগ কমে যায়।

ওজন নিয়ন্ত্রণ

অনেকেই শরীরের ওজন কমাতে শুধু ডায়েটিং করেন। কিন্তু হাঁটাহাঁটি না করে বা অলস জীবনযাপন করে শুধু ডায়েট কন্ট্রোলের মাধ্যমে ওজন কমানো সম্ভব নয়। দীর্ঘ মেয়াদি ওজন নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির মূল চাবিকাঠি স্বাস্থ্যকর সুষম খাবার এবং নিয়মিত হাঁটাচলা।

হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা

নিয়মিত হাঁটার ফলে হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। হৃদযন্ত্র স্বল্প চেষ্টায় শরীরে বেশি পরিমাণে রক্ত সরবরাহ করতে পারে এবং ধমনির ওপরও চাপ কম পড়ে। উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার আশংকা কম থাকে। হাঁটার মাধ্যমে শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। নিয়মিত হাঁটলে শরীরে জমে থাকা মেদ কমে। রক্তে মন্দ কোলেস্টেরল বা লো ডেনসিটি লাইপো প্রোটিন কমে যায়। এই মন্দ কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেড়ে গেলে তা ধমনির গায়ে জমে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। যারা সপ্তাহে অন্তত তিন ঘণ্টা অথবা দৈনিক আধা ঘণ্টা করে হাঁটেন, তাদের ক্ষেত্রে হৃদরোগ হওয়ার ঝুঁকি অন্যদের চেয়ে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম। হাঁটার ফলে ভালো কোলেস্টেরল বা হাই ডেনসিটি লাইপো প্রোটিন বাড়ে। ফলে রক্তনালিতে ব্লক সহজেই হয় না। রক্তনালির দেয়াল শক্ত হয়ে যায় না। তাই হৃদরোগের কারণে মৃত্যু ঝুঁকি কমে প্রায় ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশ কমে যায় স্ট্রোকের ঝুঁকিও।

হাঁটা ও কর্মক্ষমতা

হাঁটার সময় হৃৎস্পন্দন ও শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি এবং রক্ত সরবরাহ বাড়ে। এগুলো বেশি কর্মক্ষম থাকে। হাঁটার ফলে পেশিতে রক্ত সরবরাহ বাড়ে ফলে পেশির শক্তি বাড়ে। শরীরের ওজন কমে। শরীর থাকে ফিট। নিজেকে বেশি শক্তিশালী মনে হয়। সার্বিকভাবে শরীরের কর্মক্ষমতা বেড়ে যায়।

উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের অন্যতম চাবিকাঠি হচ্ছে নিয়মিত ব্যায়াম বা হাঁটা। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হাঁটাচলা অনেকটা উচ্চ রক্তচাপরোধী ওষুধের মতো কাজ করে। হাঁটার ফলে উচ্চরক্তচাপ হয় না এবং আগে থেকেই উচ্চরক্তচাপ থাকলে তা কমিয়ে রাখে।
ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে

কিছু ক্যান্সারের ঝুঁকি হাঁটা চলার মাধ্যমে কমানো সম্ভব বলে অনেক গবেষণায় দেখা গেছে। ব্রিটিশ জার্নাল অব ক্যান্সার স্টাডিতে প্রকাশিত আরেক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে হাঁটার ফলে খাদ্যনালির নিন্মাংশের ক্যান্সারের ঝুঁকি ২৫ শতাংশ হ্রাস পায়। দীর্ঘমেয়াদি কোষ্টকাঠিন্য দূর হয়। কোলন বা বৃহদান্ত্রের ক্যান্সারের আশংকাও কমে যায়।

হাড়ের ক্ষয়রোগ রোধে

পোস্ট মেনপোজাল (রজঃনিবৃত্তি পরবর্তী) নারী এবং বয়স্ক পুরুষদের সাধারণ রোগ হচ্ছে অষ্টিও পোরোসিস বা হাড়ের ক্ষয়রোগ। এ রোগে হাড় দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে যায়। সামান্য আঘাত বা অল্প উচ্চতা থেকে পড়ে গিয়ে হাড় ভেঙে যেতে পারে। নিয়মিত হাঁটাচলা এ ক্ষেত্রে উপকারী ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, রজঃনিবৃত্তি-পরবর্তী বয়সে যেসব নারী প্রতিদিন অন্তত এক মাইল হাঁটেন, তাদের হাড়ের ঘনত্ব কম হাঁটা নারীদের তুলনায় বেশি। হাঁটার ফলে যেমন হাড় ক্ষয়ের প্রবণতা হ্রাস পায়, তেমনি আর্থ্রাইটিসসহ হাড়ের নানা রোগ হওয়ার আশংকাও কমে যায়।

মানসিক স্বাস্থ্য

হাঁটলে মস্তিষ্কে ভালো লাগার কিছু পদার্থ এনড্রফিন, ডোপামিন, সেরেটোনিন নিঃসরণ হয়। ফলে মন-মেজাজ ভালো থাকে। হাঁটার ফলে মনে ভালো লাগার অনুভূতি জাগে, মানসিক চাপ কম বোধ হয়। এনড্রফিন নামক রাসায়নিকের ক্রিয়া বেড়ে গেলে ঘুম আরামদায়ক হয়। প্রতিদিন ৩০ মিনিট করে সপ্তাহে তিন থেকে পাঁচ দিন হাঁটার ফলে বিষণœতার উপসর্গ ৪৭ শতাংশ হ্রাস পায়। এক গবেষণায় দেখা গেছে, যে নারীরা সপ্তাহে অন্তত দেড় ঘণ্টা হাঁটেন তাদের বোধশক্তি ৪০ মিনিটের কম হাঁটা নারীদের তুলনায় বেশি।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

বয়সে ছোট পুরুষদের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন নারীরা, যা বলছে সমীক্ষা

প্রকাশ: ০১:৩৭ পিএম, ২৪ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

বয়সে ছোট পুরুষদের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছেন মধ্য বয়স্ক নারীরা। মধ্যবর্তী বয়সে দাঁড়িয়ে একঘেয়েমি দূর করতে পরকীয়ার সম্পর্কে সমাজের চিরাচরিত নিয়মকে উপেক্ষা করছেন তারা। ৪০ বছর ছুঁইছুঁই বয়সী নারীদের ক্ষেত্রে এমন মানসিকতা বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। 

বয়সের এই মধ্যগগনে এসে বয়সে ছোট পুরুষের প্রতি নারীদের প্রেমে পড়ার পেছনে কিছু কারণ বের হয়ে এসেছে সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায়। সমীক্ষা বলছে, শুধু একঘেয়েমি দূর করাই মূল লক্ষ্য নয়। জীবনের ফেলে আসা দিনগুলোতে পৌঁছে যেতেই কম বয়সী পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান তারা।

কম বয়সী পুরুষের প্রতি প্রেমে জড়ানোর পেছনে যে কারণগুলো কাজ করে তার পেছনে রয়েছেন, 

১. আত্মবিশ্বাস বাড়াতে বয়সে ছোট পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িত হন অনেকে। বয়সের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নিজের সঙ্গীকে সন্তুষ্ট করতে পারার আনন্দ ভোগ করেন তারা। 

২. শুধু মানসিক চাপ দূর করতেই না, শারীরিক সম্পর্কও নারীদের এখানে ক্ষেত্রে একটি বিষয়। 

৩. বয়সে ছোট পুরুষের উদ্দীপনা ভীষণ পছন্দ করেন মহিলারা। সাময়িকভাবে জড়িত হলেও, এমন ব্যক্তিত্বের পুরুষ পছন্দ বয়সে বড় নারীদের। 

৪. কমবয়সী পুরুষের শারীরিক গঠন এবং ব্যক্তিত্বও আকৃষ্ট করে বয়সে বড় মহিলাদের। 

পরকীয়া   প্রেম   সম্পর্ক  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

সংগ্রামী নেতা সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মবার্ষিকী আজ

প্রকাশ: ০৮:০৫ এএম, ২৩ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

ভারতের দেশপ্রেমী ও সংগ্রামী নেতা সুভাষ চন্দ্র বসুর জন্মদিন আজ। এই মহান দেশ নেতার হাত ধরে পরাধীন ভারতবাসী স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেছিল। ১৮৯৭ সালের আজকেই এই দিনে জন্মগ্রহণ করেন এই কিংবদন্তি। তাঁর মায়ের নাম ছিলেন  প্রভাবতী বসু এবং পিতা  জানকীনাথ বসু। তাঁর বাবা পেশায় ছিলেন একজন সফল ও সরকারি আইনজীবী। সুভাষচন্দ্র বসু ছিলেন তাঁর বাবা-মায়ের ১৪ সন্তানদের মধ্যে ৯ তম সন্তান। প্রান্ত কলকাতার স্ব-প্রতিষ্ঠিত এই মানুষটি নিজের শিকড়রের সঙ্গে সংযোগ অটুট রেখেছিলেন, প্রত্যেক দুর্গা পূজার ছুটিতে তিনি নিজের গ্রামে ফিরে যেতেন। 

১৯০২ সালে শিক্ষা জীবন  শুরু হয় এই কিংবদন্তি নেতার। পাঁচ বড় ভাইয়ের সাথে কটকের প্রোটেস্ট্যান্ট ইউরোপীয় স্কুলে ভর্তি হন। বিদ্যালয়টিতে তিনি ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। বিদ্যালয়টিতে ইংরেজী—সঠিকভাবে লিখিত ও কথ্য—লাতিন, বাইবেল, সহবত শিক্ষা, ব্রিটিশ ভূগোল এবং ব্রিটিশ ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত ছিল, কোনও ভারতীয় ভাষা শেখানোর ব্যবস্থা ছিল না।
তিনি এই বিদ্যালয়টিতে শুধু মাত্র তাঁর বাবার পছন্দের ছিলো, তাঁর বাবা চেয়েছিলো ছেলেরা যেন নির্দ্বিধায় ত্রুটিহীন ইংরেজি বলতে পারে। এছাড়া বাড়ির বিপরীত বৈশিষ্ট্যের তাঁর বাড়িটি। কারন,তাঁর বাড়িতে কেবলমাত্র বাংলা ভাষায় কথা বলা হতো।

ছোট থেকেই  বিপ্লবী মন্ত্রে দিক্ষীত ছিলেন তিনি। পড়াশোনার সময় থেকেই ব্রিটিশ শক্তির বিরুদ্ধে তিনি যে সংগ্রাম শুরু করেন, তাকে এখনও স্মরণ করেন গোটা দেশের মানুষ। বাবা, মায়ের চোখে এড়িয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান এই কিংবদন্তি নেতা। সেই থেকে প্রত্যক্ষভাবে বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এরপর আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠন করে গোটা ভারতবর্ষ তোলপাড় করে দিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত নেতাজির কি হয়, তা নিয়ে স্বাধীনতার এত বছর পরও জল্পনা অব্যাহত। সেই নেতাজির, ভারতের বীর যোদ্ধার জন্মদিন আজ। এই কিংবদন্তি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ভারতবাসীরা নানাভাবে উদযাপন করে থাকেন। 

এই সংগ্রামী, দেশপ্রেমী নেতার দেশের মানুষের জন্য কিছু বিখ্যাত উক্তি রয়েছে, যা সবসময় মানুষের মনে গাঁথা রয়ে যাবে। যেমন- 

-> "সবাই একত্রিত হয়ে যদি কোও সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে চাওয়া হয়, তাহলে তা সম্পূর্ণ হবেই" 

-> "তোমরা আমায় রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব" ব্রিটিশদের ভারত থেকে উৎখাত করতে বলেন।

-> "জীবনে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করার জন্য সাহসী হতে হবে" বলেও মন্তব্য করেন সুভাষ চন্দ্র বসু

-> "ভারত ডাকছে। রক্ত ডাকছে। আমাদের জেগে উঠতে হবে, সময় নষ্ট করা যাবে না।"

১৯১৮ সালে দর্শনে স্নাতক হন সুভাষ চন্দ্রবসু। ১৯২০ সালে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি। সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর ব্রিটিশ সরকারের অধীনে চাকরি করেননি সুভাষ। উলটে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে গোটা দেশের মানুষকে একত্রিত করে সংঘবদ্ধ লড়াই শুরু করেন। যা চিরস্মরণীয় ভারতবাসীর কাছে।

সুভাষচন্দ্র বসু  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

শহীদ আসাদ দিবস আজ

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ২০ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

আজ  বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) শহীদ আসাদ দিবস। ১৯৬৯ সালের এই দিনে পাকিস্তানি স্বৈরশাসক আইয়ুব খান সরকারের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনের সড়কে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অকুতোভয় এই ছাত্রনেতা। সেই থেকে দিনটি শহীদ আসাদ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। এই দিনটি বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ  দিন।

 পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের নেতা ছিলেন শহীদ আসাদ। পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র এবং 
তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের (মেনন গ্রুপ) কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ঢাকা হল শাখা সভাপতি ছিলেন। 

এই ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান শহীদ হওয়ার পর তিন দিনের শোক পালন শেষে, ওই বছরের ২৪ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের ছয় দফা ও ছাত্রদের ১১ দফার ভিত্তিতে সর্বস্তরের মানুষের বাঁধভাঙা জোয়ার নামে ঢাকাসহ সারা বাংলার রাজপথে। সংঘটিত হয় উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান। পতন ঘটে আইয়ুব খানের। আরেক স্বৈরশাসক ইয়াহিয়া খান ক্ষমতায় বসে সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দেন।

সত্তর সালের সেই অভূতপূর্ব নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। কিন্তু ইয়াহিয়া ক্ষমতা না ছাড়াতে নানা টালবাহানা শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় একাত্তর সালে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে আত্মত্যাগকারী শহীদ আসাদ এদেশের গণতন্ত্রপ্রেমী মানুষের মাঝে চির জাগরুক থাকবেন। তার আত্মত্যাগ ভবিষ্যতেও আমাদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে পথ দেখাবে।

তিনি আরও বলেন, ঊনসত্তরের গণআন্দোলনে শহীদ আসাদের আত্মত্যাগ আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করে। স্বাধিকারের দাবিতে সোচ্চার সব শ্রেণি পেশার মানুষ জেল-জুলুম উপেক্ষা করে রাজপথে নেমে আসে। পর্যায়ক্রমে আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর আকার ধারণ করে।  সে দিনের সেই আন্দোলন পরবর্তীতে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয় এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।

শহীদ আসাদের পুরো নাম আমানুল্লাহ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান আসাদ। ১৯৪২ সালে নরসিংদী জেলায় তার জন্ম। ছাত্রনেতা আসাদ তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস বিভাগে স্নাতকোত্তর শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। আসাদ ছাত্র রাজনীতিতে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন।

শহীদ আসাদ দিবস  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

অনলাইন উপর্জনই হতে পারে টেকসই কর্মক্ষেত্র

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ১৯ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

বর্তমান কাজের নতুন নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে অনলাইন। ঘরে বসেই অনলাইনের মাধ্যমে উপার্জন করার সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। আর তাই ঘরে বসেই ইন্টারনেট ব্যাবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন ভাবে বা উপায়ে উপার্জন করছে অনেকে। কিন্তু অনলাইনে যেমন উপার্জন করার বিভিন্ন মাধ্যম রয়েছে ঠিক তেমনি রয়েছে ফাঁদে ফেঁসে যাওয়ার ভয়। তাই অনলাইনে উপার্জন করার জন্য বাছাই করুন সঠিক প্ল্যাটফর্মটি।
তাই অনলাইনের মাধ্যমে উপার্জন করার ইচ্ছে বা আগ্রহ থাকলে , আমাদের আজকের প্রতিবেদনটি আপনার জন্য।

চলুন তাহলে আজ দেখে নেই অনলাইনে উপার্জন করার প্ল্যাটফর্মগুলো-

 ফ্রিল্যান্সিং:

এখনকার সময়ে খুব জনপ্রিয় উপার্জন করার অনলাইন প্ল্যাটফর্ম হলো ফ্রিল্যান্সিং। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কাজ করিয়ে নেওয়াটাই ফ্রিল্যান্সিং। এছাড়াও বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সারদের দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে ফ্রিল্যান্স কাজের সুযোগ দেয় কয়েকটি ওয়েবসাইট। এসব সাইটের মধ্যে ফাইভার ডটকম, আপওয়ার্ক ডটকম, ফ্রিল্যান্সার ডটকম ও ওয়ার্কএনহায়ার ডটকমে ফ্রিল্যান্সিং কাজ পাওয়া যায়। 
ফ্রিল্যান্সিং কাজ করতে হলে আপনাকে বেশ দক্ষ এবং অভিজ্ঞ হতে হবে । তাহলে আপনাকে জানতে হবে ফ্রিল্যান্সিংয়ে কি কি কাজ করতে হয়। ফ্রিল্যান্সিং কাজ গুলো হলো: ওয়েব ডিজাইনিং, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক্স ডিজাইন, লেখা-লেখি বা অনুবাদ, গ্রাহক সেবা বিক্রয় ও বিপণন, ব্যবসা সেবা ইত্যাদি।

উপরোক্ত কাজ গুলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আপনাকে দিবে। আপনি কাজ গুলো করে দিতে পারলেই অনলাইন থেকে আয় করা সম্ভব। তাই আপনি যে কাজে বেশি দক্ষ এবং অভিজ্ঞ সেই কাজটাই করুন।

 ইউটিউব:

অনলাইনে উপার্জনের আরেকটি প্ল্যাটফর্ম হলো ইউটিউব। ভিডিও কনটেন্ট এর জনপ্রিয়তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ইউটিউবের জনপ্রিয়তা। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে উপার্জন করা কারোরই অজানা নেই।  নিজের ইউটিউব চ্যানেল খুলে তাতে ভিডিও আপলোড করে সেখান থেকে আয় করতে পারেন। আপনার চ্যানেল কোন ক্যাটাগরির এবং তাতে কোন ধরনের ভিডিও রাখবেন, তা আগেই ঠিক করে রাখুন। যে বিষয়ে মানুষের আগ্রহ বেশি, সেই বিষয়ে ভিডিও না রাখলে মানুষ তা দেখবে না। ভিডিও না দেখলে আয় হবে না। চ্যানেলের সাবসক্রাইবার ও ভিডিও দেখার সময় বাড়লে আয়ের সম্ভাবনা বাড়বে। প্রতি হাজার ভিউয়ের হিসাবে গুগল থেকে অর্থ পাবেন।

তবে আপনার ইউটিউব চ্যানেলের মনিটাজেশন প্রক্রিয়া চালু হওয়ার পর  আপনার ইউটিউব চ্যানেল থেকে উপার্জন করতে পারবেন। আপনার চ্যানেলের মনিটাজেশন প্রক্রিয়া চালু হলে আপনার আপলোড করা ভিডিওতে এড দেখাবে। সেই এডের উপর ভিত্তি করে আপনি এডসেন্সের একাউন্টে টাকা জমা হবে। 

 ব্লগিং: 

অনেকেরই লেখালেখির অভ্যাস আছে। এই অভ্যাসটা যদি পেশাগত কাজে লাগাতে পারেন, তবে অনলাইনে আয় করতে পারবেন। ব্লগিং করেও আয় করার সুযোগ আছে। দুই উপায়ে ব্লগ থেকে আয় করা যায়। একটি হচ্ছে নিজের ব্লগ সাইট তৈরি। ওয়ার্ডপ্রেস বা টাম্বলার প্ল্যাটফর্মে বিনা মূল্যে ব্লগ শুরু করতে পারেন। আবার চাইলে নিজে ডোমেইন হোস্টিং কিনে ব্লগ চালু করতে পারেন। 

তবে নিজে ব্লগ চালু করতে গেলে কিছু বিনিয়োগ করার দরকার হবে। ডোমেইন, হোস্টিং কিনতে হবে। নিজের ব্লগ শুরু করাটাই ভালো। কারণ, এতে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী অনেক পরিবর্তন করার সুযোগ আছে। বিজ্ঞাপন, ফেসবুকের ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল, পণ্যের পর্যালোচনা প্রভৃতি নানা উপায়ে ব্লগ থেকে আয় করতে পারেন। কিন্তু ব্লগ লিখে আয় করতে গেলে তাড়াতাড়ি আয় আসবে না। এর জন্য প্রচুর সময় ও ধৈর্য থাকতে হবে। অনেকের ব্লগ থেকে আয় করতে কয়েক বছর পর্যন্ত লেগে যায়। ব্লগে নিয়মিত কনটেন্ট আপডেটসহ তা সক্রিয় রাখতে কাজ করে যেতে হয়।

কনটেন্ট রাইটিং: 

যারা লেখালেখিতে ভালো এবং একাধিক ভাষায় সাবলীল লিখতে পারেন, তাঁদের কাজের জন্য বসে থাকতে হয় না। অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে কাজ করে বা লিখে দক্ষতা অর্জন করতে পারেন। আর্টিকেল লেখার মানের ওপর ভিত্তি করে আয় আসে। কাজদাতা নির্দিষ্ট নীতি মেনে লেখার জন্য বলতে পারেন। নির্দিষ্ট বিষয় ধরে নিজের দক্ষতা বাড়াতে পারলে আয়ের ধারা বেড়ে যায়।

অনুবাদ:

ইংরেজির পাশাপাশি অন্য কোনো ভাষা ভালোভাবে জানা থাকলে সেই দক্ষতা কাজে লাগিয়ে আয় করতে পারেন। বেশ কিছু ওয়েবসাইট আছে যেখানে বিভিন্ন ডকুমেন্ট অনুবাদ করে আয় করতে পারেন। যাঁদের স্প্যানিশ, ফ্রেঞ্চ, আরবি, জার্মানসহ অন্যান্য ভাষা জানা আছে এবং এগুলো থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ বা ইংরেজি থেকে এসব ভাষায় অনুবাদ করতে পারলে ভালো আয় করতে পারবেন। অনেক সময় কাজদাতারা নিজে সময়ের অভাবে অনুবাদের কাজ ফ্রিল্যান্সারদের দিয়ে করিয়ে নেন। ফ্রিল্যান্সিং সাইটগুলোতে এ ধরনের কাজ পাবেন।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম:

ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট এখন আর শুধু বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য নয়। এগুলো কাজে লাগিয়ে আয় করতে পারেন।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্র্যান্ডের পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়া পরিকল্পকদের প্রচুর অর্থ দেওয়া হয় তাদের ব্র্যান্ডের প্রচার করার জন্য। অনলাইনে গ্রাহক টানা, প্রচার করার জন্য অবশ্য সৃজনশীলতা দরকার। বিভিন্ন পোস্ট তৈরি, ভিডিওর মাধ্যমে ফেসবুক বা অন্যান্য মাধ্যমে প্রকাশ করে তা ভাইরাল করতে পারলে ভালো অর্থ আসে। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ফ্যান-ফলোয়ার তৈরিসহ তাঁদের ধরে রাখতে প্রচুর ধৈর্য ও প্রাসঙ্গিক বিষয় হওয়া জরুরি।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

১৮ জানুয়ারি ১৯৭২: বঙ্গবন্ধুর ক্যান্টনমেন্ট পরিদর্শন

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ১৮ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিজ বাসবভন থেকে গ্রেফতার করেন। তারপর তাঁকে এক সপ্তাহ ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে আটকে রাখেন। পাকিস্তানের বন্দীদশা থেকে মুক্তি পেয়ে ১৯৭২ সালের ১৮ জানুয়ারি সেই ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট পরিদর্শনে যান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধু ক্যান্টনমেন্ট পরিদর্শনের সময় মিত্রবাহিনীর হাতে যুদ্ধবন্দি সৈনিক ও কর্মকর্তার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। ক্যান্টনমেন্টে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর পদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ৭৫ মিনিট কথা বলেন। 

ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের মিত্রবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের সদর দফতরে তাদের সঙ্গে আলাপ করেন। তাদের কুশল জানতে চাওয়া হলে কর্মকর্তারা ভালো আছেন জানান। এরপর আলাদা করে সবাইকে একে একে ঘরে নিয়ে পৃথক পৃথকভাবে কথা বলেন। 

১৯৭১ সালের সেই ২৫ মার্চ রাত, যাকে কালরাত বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। সেদিন রাতে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীরা সকল ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে বাঙালি ধ্বংসযজ্ঞে নামে। বিশ্বের নৃশংসতম গণহত্যা শুরু হয় ২৫ মার্চের মধ্যরাতে। বাঙালিদের ওপর ভয়ংকর হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে হানাদার বাহিনীরা।

বাংলা যখন ঘুমে আচ্ছন্ন তখনই পাকিস্তানিরা অতর্কিতে হামলা চালায় বাঙালির ওপর। হঠাৎ করেই যেন ঢাকার আকাশে-বাতাস গর্জে ওঠে রাইফেল, মেশিনগান আর মর্টারের গুলিতে। হত্যাযজ্ঞ চলে রাজারবাগ পুলিশ লাইন, পিলখানা ইপিআর সদর দফতর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে। এমনকি স্বাধীনতার পক্ষে থাকা গণমাধ্যমগুলোও রেহায় পায়নি জল্লাদ ইয়াহিয়ার পরিকল্পনা থেকে। এক এক করে সকল গণমাধ্যমগুলো যেমন: দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক সংবাদ ও জাতীয় প্রেস ক্লাবও ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীরা। এই রাতেই ১টার পর পাকিস্তানের সেনারা ট্যাংক আর সাঁজোয়া যান নিয়ে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।

সেই ভয়াল রাতে কত বাঙালিকে প্রাণ দিতে হয়েছিল পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে। এ নিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায় না। তবে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি মর্নিং হেরাল্ড পত্রিকার ভাষ্য, কেবল ২৫ মার্চ রাতেই বাংলাদেশে প্রায় একলক্ষ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। এছাড়াও খোদ পাকিস্তান সরকার প্রকাশিত দলিলেও কিছু তথ্য পাওয়া যায়। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তারা যে শ্বেতপত্র প্রকাশ করেছিল, তাতে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ১ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ রাত পর্যন্ত এক লাখেরও বেশি মানুষের জীবননাশ হয়েছিল।

বঙ্গবন্ধু   ক্যান্টনমেন্ট পরিদর্শন  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন