সোশ্যাল থট

খালেদা জিয়ার সর্বশেষ অবস্থা: জাতীয় স্বার্থে আমার প্রাপ্ত লেটেস্ট আপডেট জানালাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮:২৮ এএম, ২১ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

বেগম খালেদা জিয়ার অবস্থা গুরুতর। রাজধানীর এভারকেয়ার  হাসপাতালে এবারে ভর্তি করাবার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর অবস্থার এখন পর্যন্ত তেমন কোনো উন্নতিই হয়নি। আসলে বর্তমানে তাঁর যে অবস্থা তাতে দেশে চিকিৎসার সুযোগ নাই বললেই চলে। জীবন বাঁচাতে হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশে নিতেই হবে। চিকিৎসকরা তাঁকে অনতিবিলম্বে সিঙ্গাপুর কিংবা থাইল্যান্ডে নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

তাঁর রোগ ও শারীরিক অবস্থার কথা প্রচার করা না হলেও আমি সাংবাদিকতার কলাকৌশল প্রয়োগে বিভিন্নভাবে খোঁজ খবর করে নিশ্চিত হয়েছি যে, তিনি তাঁর পুরনো জটিল রোগগুলো ছাড়াও ডিকমপেন্স্যাটেড লিভার সিরোসিস-এ আক্রান্ত হয়েছেন। এটা সম্ভবতঃ NASH (Non alcoholic steato hepatitis) অর্থাৎ ফ্যাটি লিভার থেকে হয়ে থাকতে পারে। এখন এর দু`টি মাত্র চিকিৎসা: স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্টেশন থেরাপি এবং তাতেও কাজ না হলে লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করা। এর কোনোটিই বাংলাদেশে সম্ভব নয় এবং করার সুযোগ নেই।

আমি যতদূর জেনেছি, শরীর থেকে রক্ত যেতে যেতে তাঁর হিমোগ্লোবিন একেবারে কমে গেলে এবং রক্তবমি হতে থাকলে তাঁকে এবার হাসপাতালে নেয়া হয়। ডাক্তারেরা এন্ডোস্কপি করে তাঁর লিভার সিরোসিস শনাক্ত করেন। তাঁর দেহে দফায় দফায় রক্ত দেয়া হয় এবং তাঁর বড় হয়ে যাওয়া রক্তনালী এন্ডোস্কপির মাধ্যমে Oesophageal Band ligation করা হয়েছে এবং সিসিইউ-তে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এর বেশি কিছু বাংলাদেশের ডাক্তারদের করার নাই বলেই জানানো হয়েছে।
বেগম জিয়া দীর্ঘদিন ধরেই আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ এবং হার্ট, কিডনি ও চোখের সমস্যায় ভুগছিলেন। তিনি নিয়মিত চিকিৎসাধীন ও চিকিৎসকদের তদারকিতে ছিলেন। তাঁকে জেলে নেয়ার পর সব বন্ধ হয়ে যায়। উপযুক্ত চিকিৎসার অভাবে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হতে থাকে, তার অবস্থারও গুরুতর অবনতি ঘটে। বারবার দাবি সত্ত্বেও তাঁর প্রয়োজন অনুযায়ী উপযুক্ত হাসপাতালে নিতে দেয়া হয়নি। এ অভিযোগ বরাবর করা হয়েছে এবং এটি এখন পুরনো।

পরিস্থিতি খুব জটিল হয়ে দাঁড়ালে এবং বেগম জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতির যথেষ্ট অবনতি হলে সরকার তাঁকে নিজের বাসায় থেকে চিকিৎসা করাবার সুযোগ দেয়। কিন্তু যখন দেয়া উচিত ছিল তখন না দিয়ে তারা পরিস্থিতির গুরুতর অবনতির জন্য অপেক্ষা করেছে বলেই বেগম খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠদের পক্ষ থেকে অভিযোগ রয়েছে।

এরপর তিনি করোনায় আক্রান্ত হলে তাঁর দেহের অন্যান্য অর্গান ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং রোগগুলোও আরো জটিল হয়ে ওঠে। এবার শনাক্ত হলো আরও জটিল ব্যাধি - লিভার সিরোসিস। সবকিছু মিলিয়ে বাংলাদেশে তাঁর চিকিৎসা অসম্ভব। এখন বিদেশে সবগুলো রোগের সমন্বিত চিকিৎসার সুযোগ সম্বলিত কোনও হাসপাতালে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করাতে না পারলে বেগম জিয়ার জীবন রক্ষা অসম্ভব হয়ে পড়বে। যে কোনও সময়ে লিভার ফেলিওর এবং লিভার ক্যান্সারের দিকে মোড় নেয়ার প্রবল ঝুঁকিতে আছেন তিনি। কেননা তাঁর বয়সটাও অনুকূল নয়।

আমি জাতীয় স্বার্থে ও মানবিক প্রয়োজন বিবেচনা করে আমার প্রাপ্ত লেটেস্ট আপডেট জানালাম। সাংবাদিক বন্ধুগণ তাদের সূত্র থেকে এর সত্যতা যাচাই করে নিতে পারেন। তাঁর ব্যাপারে সরকার এখনো সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে চাইলে পরিস্থিতির গুরুত্ব দ্রুত অনুধাবন করতে হবে।

(মারুফ কামাল খানের ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)



মন্তব্য করুন


সোশ্যাল থট

‘২৫ হাজারের ঋণে গরিবেরা জেলে, ২৫ হাজার কোটির ঋণ খেলাপিরা আরামে’

প্রকাশ: ০৯:১০ পিএম, ২৬ নভেম্বর, ২০২২


Thumbnail

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার ১২ জন কৃষককে ঋণ ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন এই কৃষকরা। এই ঘটনাকে অন্যায় ও বৈষম্য বলে আখ্যায়িত করেছেন সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।

শনিবার (২৬ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে তারানা হালিম লিখেন, ‘সমবায় ব্যাংকের ২৫ হাজার টাকার খেলাপি ঋণের মামলায় গরিবেরা জেলে যান, আর ২৫ হাজার কোটি টাকার ঋণখেলাপিরা আরামে ঘুমান।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘চাই সমতা। আমি গ্রেপ্তারকৃত কৃষকদের মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি। প্রয়োজনে ওই ২৫ হাজার টাকা আমরা দিয়ে দেব।’

উল্লেখ্য, পাবনার ঈশ্বরদীতে ২৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে করা একটি মামলায় ৩৭ কৃষকের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে পাবনার সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালত। পরে বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত তাদের মধ্যে ১২ জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে । ওইদিন দুপুরেই তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

তারানা হালিম  


মন্তব্য করুন


সোশ্যাল থট

এক কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার করেছিল বিএনপি-জামায়াত: জয়

প্রকাশ: ১০:৫২ এএম, ১২ নভেম্বর, ২০২২


Thumbnail

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তার আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় লিখেছেন, ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারি সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে আবারো ক্ষমতা দখলের জন্য ১ কোটি ২৩ লাভ ভুয়া ভোটার তালিকা প্রস্তুক করেছিল বিএনপি-জাাময়াত সরকার।

শুক্রবার (১১ নভেম্বর) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে এক পোস্টে এ কথা লিখেন তিনি।

জয় তার ফেসবুক পেজে লিখেন, খালেদা জিয়া উপদেষ্টা ও বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীও দুই স্থানে ভোটার হন। চট্টগ্রাম-৪ ফটিকছড়ি এবং চট্টগ্রাম-৭ রাঙ্গুনিয়া দুই আসন থেকে ভোট করার জন্য মনোনয়ন তুলেছিল সে। এরপর তার ডাবল ভোটার হওয়ার তথ্য ফাঁস হয়ে পড়ে। নির্বাচন কমিশনের কর্তকর্তারা এই ঘটনাকে প্রতারণা ও বেআইনি বলে অভিহিত করেন। 



২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারির প্রথম আলো পত্রিকার এক সংভাদে এই তথ্য জানা যায়। নির্বাচন কমিশনাররা বলেন, একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ পাঁচটি আসন থেকে নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে পারেন। কিন্তু তিনি ভোটার হবেন যেকোনো একটি স্থানের। একজন ব্যক্তি দুই জায়গায় ভোটার হতে পারেন না। এটি সাংবিধানিকভাবে অবৈধ। এটি এক ধরণের প্রতারণা। 

বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীরা এভাবেই অনেকে একাধিক স্থানের ভোটার হয়েছেন এবং ভুয়া নাম-পরিচয় দিয়ে প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখ ভোটার তালিকা তৈরি করে তারা। কারণ এই ভোটগুলো দলীয় ক্যাডারদের মাধ্যমে কাস্ট করে অবৈধভাবে বিএনপিকে ক্ষমতায় নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের। এজন্য রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদকে অসাংবিধানিকভাবে প্রধান উপদেষ্টার পদে বসায় তারা। এরপর খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের তালিকা অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনার জন্য দলীয় সমর্থনপুষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়।

সজীব ওয়াজেদ জয়  


মন্তব্য করুন


সোশ্যাল থট

একাত্তর টিভির নারী সাংবাদিকদের নিয়ে যা বললেন তসলিমা নাসরিন

প্রকাশ: ১১:০১ এএম, ০৮ নভেম্বর, ২০২২


Thumbnail

সম্প্রতি একাত্তর টেলিভিশনে আয়োজিত একাত্তর জার্নালের একটি টকশোতে বাকৃবির গবেষক অধ্যাপক ড. জাকির হোসেনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালকসহ অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিরা অধ্যাপক ড. জাকির হোসেনের প্রক্রিয়াধীন গবেষণামূলক কাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং অশোভন ও আক্রমণাত্মক আচরণ করে। এরপর একাত্তর টেলিভিশনের ওই সাংবাদিকদের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠে। অনেকেই তাদের এই ধরণের আচরণের নিন্দা করেছেন। অধ্যাপক তসলিমা নাসরিনও তাদের সমালোচনা করেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেয়া পোস্টে তিনি লেখন-

একাত্তর টিভিতে তিন মূর্খ মহিলা-সাংবাদিক একজন কৃষিবিজ্ঞানীর নতুন গবেষণা নিয়ে যেসব হাস্যকর, বিরক্তিকর, অশালীন, অশ্লীল, উদ্ভট মন্তব্য করেছেন, এবং গবেষককে যেভাবে অপমান আর অপদস্থ করেছেন তা দেখে হতবাক হয়ে গেলাম। বাংলাদেশ বলেই বোধহয় এমন গণ্ডমূর্খের দল শুধু সরকারের চাটুকারবৃত্তিতে পারদর্শিতার গুণে নানা প্রতিষ্ঠানের উচ্চস্থানে বসার সুযোগ পেয়েছেন। বিজ্ঞান সম্পর্কে, বৈজ্ঞানিক গবেষণা সম্পর্কে, গবেষণাপত্র প্রকাশ সম্পর্কে যাঁদের ন্যূনতম জ্ঞান নেই , তাঁদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে গবেষকের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করতে! একাত্তর টিভির উচিত ছিল গবেষকের নতুন গবেষণা নিয়ে আলোচনা করার জন্য গবেষণা সম্পর্কে সম্যক ধারণা আছে এমন একজন বিজ্ঞানী বা বিজ্ঞানমনস্ক কোনও জ্ঞানী ব্যক্তিকে নির্বাচন করা।

আজকাল টেলিভিশনে এমন হয়েছে, ঘটে দু'ছটাক বুদ্ধি নেই, এমন মেয়েদেরও টিভি ক্যামেরার সামনে কিছু বুলি শিখিয়ে বসিয়ে দেওয়া হয় যাদের সম্বল বলতে সুন্দর নাক চোখ মুখ, সুন্দর পোশাক আশাক, সুন্দর দেহসৌষ্ঠব। তারাই খবর পড়ে, তারাই রাজনীতিকের সঙ্গে আলোচনায় বসে, তারাই বিজ্ঞানীকে প্রশ্ন করে, অর্থনীতি বিষয়ে জ্ঞানদান করে, শিল্প সাহিত্য নিয়ে মত প্রকাশ করে। জনগণ এদের দেখছে প্রতিদিন, এরাই হয়ে উঠছে জনপ্রিয়, এরাই হয়ে উঠছে বরেণ্য বুদ্ধিজীবী।

দেশ যখন রসাতলে যায়, এভাবেই যায়।


একাত্তর টিভি   টক শো   তসলিমা নাসরিন   সমালোচনা  


মন্তব্য করুন


সোশ্যাল থট

‘বিশ্বাসঘাতক চিরদিনই বিশ্বাসঘাতক’, ফেসবুকে ওবায়দুল কাদের

প্রকাশ: ০১:৪০ পিএম, ০১ নভেম্বর, ২০২২


Thumbnail ‘বিশ্বাসঘাতক চিরদিনই বিশ্বাসঘাতক’, ফেসবুকে ওবায়দুল কাদের

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বেশ সরব আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবরহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। প্রায়ই তিনি ফেসবুকে ছবি আপলোড করেন এবং ক্যাপশনে জুড়ে দেন বিভিন্ন আলোচিত ও জনপ্রিয় উক্তি।

মঙ্গলবার (১ নভেম্বর) সকালে নিজের বেশ কয়েকটি ছবি আপলোড করেছেন তিনি। সঙ্গে লিখেছেন আলোচিত উক্তি, ‘বিশ্বাসঘাতক চিরদিনই বিশ্বাসঘাতক’।

ওবায়দুল কাদেরের এই পোস্টে (এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত) ১৫ হাজার লাইক পড়েছে, মন্তব্য পড়েছে আড়াই হাজারের ওপর।

ওবায়দুল কাদের  


মন্তব্য করুন


সোশ্যাল থট

দশ ডিসেম্বর তত্ত্ব ও সাম্রাজ্যবাদী সরীসৃপের ফোঁসফোঁস শব্দ

প্রকাশ: ০১:০১ পিএম, ১৫ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail দশ ডিসেম্বর তত্ত্ব ও সাম্রাজ্যবাদী সরীসৃপের ফোঁসফোঁস শব্দ

"সাম্রাজ্যবাদী- সরীসৃপের ফোঁসফোঁস শব্দ সমাজের আনাচে-কানাচে সর্বত্র শোনা যাইতেছে - সেই ফোঁসফোঁস শব্দ যেন এই যুগের সঙ্গীত। আমাদের কওমী প্রতিষ্ঠান আওয়ামী মুসলিম লীগ এই সরীসৃপের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালাইয়া তাহাদের বিষদাঁত উৎপাটন করিতে বদ্ধপরিকর।" ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পূর্বপাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের আত্মপ্রকাশ ঘটেছিলো এই মেনিফেস্টোকে সামনে রেখে।   কালক্রমে মেনিফেস্টো থেকে কথাগুলো উধাও হয়েছে। কিন্তু  সাম্রাজ্যবাদী সরীসৃপের সেই  ফোঁসফোঁস শব্দগুলো এখনও কি আওয়ামী লীগ শুনতে পায়না?

এ বিষয়ে দৃষ্টি দেয়ার আগে একটি লোকের সাক্ষাতপূর্বক অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করছি। আচরণে ছটফটে, চোয়াল ও চিবুক থেকে একগুচ্ছ দাড়ি না ঝুললেও মাথার ওপর তেছড়া করে বসানো একটি মুখাবয়ব - এমন মূর্তিতে একটা লোককে  দ্রুতপদে হেঁটে চলে যেতে দেখেছিলাম, তখন তাঁর দিকে তাকিয়ে আমার মনে হয়েছিল যে, চার্লি চ্যাপলিন ও ক্ষুদে পুরোহিত মিলিয়ে তৈরি একটি মূর্তি চলে যাচ্ছে। তার দু'চোখের দৃষ্টি সোনামুখি সূচের মুখের মতো তীক্ষ্ণ। যার দিকে তাকায় তার দেহে যেন সেই দৃষ্টি বিঁধতে থাকে। শত্রুমিত্র উভয়কেই সন্ত্রস্ত করে তোলার মতোই তাঁর চোখ। প্রতিহিংস কীটের প্রকৃতিতে একটা উদ্ভট কিছু রয়েছে।  মেজাজ চড়িয়ে যখনই কথা বলেন তখনই বোঝা যায়, আজগুবি ও অবাস্তব কতগুলো ধারণায় তার মন ভরে রয়েছে। সে নিতান্ত হুজুগবাজ। মানসিক ব্যাধির মতো একটা ক্ষমতাবোধের মোহ তার মনকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। নিজের ক্ষমতা সম্বন্ধে ধারণা বাস্তবতার মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। দলটি ছেড়ে চলে গেছেন অনেকেই যারা তার পিতার সাহচর্যে বেড়ে উঠেছিলেন। আর এখন যারা নেতা রয়েছেন, তারা কতগুলো খড়ের তৈরি দুর্বল মানুষ মাত্র।

লোকটির ত্রাস সঞ্চারকারী জিঘাংসা ও ক্রোধের জোর সফল হয়ে উঠতে পারেনি। ২৪টি লাশ অবশ্য ঝরেছে। ভয়ংকর ওই চোখ ফাঁকি দিয়ে মূল টার্গেট হওয়া ব্যক্তিটি প্রাণে বেঁচে যান,- যা ছিল নিতান্তই অলৌকিক এক ঘটনা। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর থেকেই  আগস্টকে ফের রক্তাক্ত করার ঘোষণা নতুন নয় বরং বারবার উচ্চারিত হয়েছে তার গুরুজনদের থেকে।  

আগামী ১০ ডিসেম্বর থেকে দেশ চলবে বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে এই উক্তিটির কারণে কারো বুক ধরফর করে কিনা জানিনা - তবে আব্দুল জলিলের "ত্রিশ এপ্রিল" ফর্মুলার সঙ্গে এটাকে গুলিয়ে না ফেলাই ভালো।  আওয়ামী লীগের ভান্ডারে মুক্তিযুদ্ধসহ গণ-অভ্যুত্থানের নানা সাফল্য থাকলেও ওই "ত্রিশ এপ্রিল" ফর্মুলাকে মানুষ ভালো চোখে দেখেনি। নিয়মাতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাস একটি দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আব্দুল জলিল ওই ফর্মুলা দিয়ে বরং নেতাকর্মীদের বিপদে ঢেলে দিয়েছিলেন। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারও ঘাবড়ে গিয়েছিল। ১৯৯৬ সালে "জনতার মঞ্চ" অসহযোগ আন্দোলন কর্মসূচির মুখে তাদের ক্ষমতাচ্যুতির অতীতটা এক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করেছিল। 

আগামী দশ ডিসেম্বর তত্ত্ব প্রতিহিংসার পাল্টা একটা তত্ত্ব হলে ভালো। আর যদি পরিকল্পিত কোন ফর্মুলা হয়ে থাকে তাহলে তা প্রকৃতি কি হবে? কারারুদ্ধ বেগম জিয়াকে গণ-অভ্যুত্থানের মুখে বের করে আনবেন তারা? মানে কি গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে  শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটানো হবে। অবশ্য এ পরিকল্পনা একেবারে অগণতান্ত্রিক নয়, গণঅভ্যুত্থানের একাধিক ইতিহাস রয়েছে। যা আমাদের হৃদয়কে এখনও উদ্বেলিত করে। ডাকসু ভিপি তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বে উনসত্তুরের গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল। তাতে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ফ্লিড মার্শাল আইয়ুব খানের পতন ঘটেছিল। তাকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা চুলোয় দিয়ে মুক্তি দিতে হয়েছিল শেখ মুজিবকে। জনসমুদ্র শেখ মুজিবকে "বঙ্গবন্ধু" উপাধি দেয় বটে কিন্তু তাঁর কথায় কিন্তু দেশ চলেনি। শাসনক্ষমতায় আইয়ুবের স্থলে আরেক জেনারেল ইয়াহিয়ার আবির্ভাব ঘটেছিল। এ সবই অর্জনের মূলে ছিল আওয়ামী লীগের ছয় দফা ও দশ নেতার নেতৃত্বাধীন ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের ১১ দফা। বঙ্গবন্ধুর অঙ্গুলি হেলনে হুট করে বাংলাদেশ পরিচালিত হয়নি। সত্তরের অবাধ নির্বাচনে জনগণের নিরঙ্কুশ রায় অর্জন করতে হয়েছে। একাত্তরের মার্চে  ন্যায়সঙ্গত ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে ইয়াহিয়া-ভুট্টো চক্র যখন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে - তখনই জনগন গর্জে উঠেছে। এরপর থেকেই কার্যত বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে দেশ পরিচালিত হচ্ছিল। ২৫ মার্চ গণহত্যারর রাতে বঙ্গবন্ধুকে  গ্রেফতার করে নিয়ে গেলেও তাঁরই নির্দেশনায় মুজিব নগর সরকারের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। 

কিন্তু আওয়ামী লীগের মতো একটি গণসংগঠনের পক্ষে এ যাবৎ কোন অভ্যুত্থান সংঘটিত হওয়ার নজীর নেই। বরং নির্বাচিত ক্ষমতাসীন হওয়া সত্ত্বেও  আওয়ামী লীগকেই দু-দুবার সামরিক অভ্যুত্থানের লেবাস দিয়ে  ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। প্রথমবার ১৯৫৮ সালের ১০ অক্টোবর জেনারেল আইয়ুব খান সামরিক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করেন। প্রসঙ্গত ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের ব্যানারে নির্বাচন করলেও মোট ২৩৭টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ একাই লাভ করে ১৪৩ টি। অপরদিকে যুক্তফ্রন্টের ব্যানারে শেরেবাংলার কেএসপি পায় মাত্র ৪০টি আসন। ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ভবিষ্যত বানী অনুযায়ী মোটে ৯টি আসনই পেয়েছিল। প্রাদেশিক পরিষদে  সংখ্যাগরিষ্ঠ্য দল হিসেবে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করতে পারলেও তা করেনি। যুক্তফ্রন্ট চুক্তিতে ছিল, প্রাদেশিক পরিষদ নেতা অর্থাৎ পূর্ববাংলার  মুখ্যমন্ত্রী হবেন শেরেবাংলা আর পাকিস্তান গণপরিষদ নেতা হিসেবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হবেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। তাই হয়েও ছিলেন তাঁরা। অবিভক্ত বাংলার দুই প্রধানমন্ত্রী শেরেবাংলা ও সোহরাওয়ার্দী ও মওলানা ভাসানীর ত্রিমুখী কোন্দলের মুখে   যুক্তফ্রন্টের অবিস্মরণীয় সেই বিজয় ধূলিস্যাৎ হয়ে যায়।  আওয়ামী লীগ ১৩ মাস  সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে পাকিস্তান এবং আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বে পূর্বপাকিস্তান শাসন করলেও পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর চক্রান্ত ষড়যন্ত্রের শিকার হয়। এরপর আওয়ামী লীগকে সরীসৃপের বিরুদ্ধে তেইশ বছর সংগ্রাম করে পূর্বপাকিস্তান স্বাধীন বাংলাদেশ এবং পূর্বপাকিস্তান আওয়ামী লীগ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে রূপান্তর ঘটলেও সাম্রাজ্যবাদী সরীসৃপের বিষদাঁত উৎপাটন করা সম্ভব হয়নি। বরং স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রায় সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর খুনীরা স্বাধীনতার চেতনা ও  মূল্যবোধকে ধ্বংস করার জন্য মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের চার নেতার জীবনও কেড়ে নেয়। খুনী মোশতাক রাষ্ট্রপতির ভাষণে বলেছিলেন, শেখ মুজিবকে অন্যকোনো পন্থায় ক্ষমতা থেকে সরানোর পথ সামনে না থাকায় সামরিক বাহিনীকে এই হত্যার পথ বেছে নিতে হয়েছে। বঙ্গবন্ধু হত্যা না হলে খন্দকার মোশতাকের রাষ্ট্রপতি হতে না আর জিয়াউর রহমানকে  সেনাপ্রধান হতেন না। বঙ্গবন্ধু হত্যার বেনিফিটটা আসলে হত্যাকারীও নিতে পারেনি বরং পুরোপুরি নিয়েছেন জেনারেল জিয়া। সেই সূত্র ধরেই তো বিএনপি, বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমানের রাজনীতি। স্বভাবতই এটা তারা মনপ্রাণে বিশ্বাস করে বলেই বঙ্গবন্ধুর উত্তরাধিকার সহ্য করতে পারেন না। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে শেখ হাসিনা হত্যাচেষ্টা হীন চিন্তারই ফলশ্রুতি। 

দেশে সরকার বিরোধী আন্দোলন কর্মসূচি বা বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্যের কোন কর্মসূচিও দেখা যাচ্ছে না। তাহলে ১০ ডিসেম্বর থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম জিয়ার নির্দেশে দেশ চলবে কি কারণে? তাহলে কী আরও একটি ২১ আগস্টের পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসরমান তারা? ক্ষমতায় থেকে গোটা প্রশাসন যন্ত্রকে ব্যবহার করে ২১ আগস্ট পরিকল্পিত গ্রেনেড হামলাও যখন জাতির পিতার কন্যার লক্ষভ্রষ্ট হয়, তখন ক্ষমতার বাইরে থেকে বর্তমান শোচনীয় অবস্থায় আরেকটি গ্রেনেড হামলার চিন্তা নিশ্চয়ই করবেন না। পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আরোহনের দিন আর নেই। আমি একটি টকশোতে বলেছিলাম, সরকারের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো একটি রাজনৈতিক দলপ্রধানের হাত থেকে সেনানিবাসের বাড়িটির দখল অবমুক্তকরণ। এখন যেমনি করে সরকারি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নানা ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত সম্পর্কে অবহিত হতে পারছে - সেটা সেনানিবাসের বাড়ি অবমুক্ত করা না হলে সম্ভব হতো না। সাম্রাজ্যবাদী সরীসৃপের বিষ দাঁত এখনও ছোবল দিতে চাইবে - কিন্তু তাই বলে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী নতজানু অবস্থান গ্রহণ করবেন- তা হতে পারে না। বিশেষত যে দল স্বাধীনতার নেতৃত্বাদানকারী, সেই দলের প্রধান আর তিনি যদি হন জাতির পিতা কন্যা তবে তো নতজানুর প্রশ্নই নেই। এজন্য বীরদর্পে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে দাঁড়িয়ে বলে এসেছেন, যুক্তরাষ্ট্র মানবতার কথা বলে অন্যের মানবাধিকারের প্রশ্ন তোলে - অথচ তাদের দেশেই অনেক হত্যার বিচার হয়না। মানবাধিকারের কথা বলা হয় অথচ, আমার মা-বাবা- ভাইদের হত্যাকারীদের ঠাঁই দেয়। দন্ডপ্রাপ্ত খুনীদের ফিরিয়ে দেয় না। ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিপর্যয়ের মূলেও ছিল বিদেশী ষড়যন্ত্র। দেশ-জাতির স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে আবার ক্ষমতায় আসতে চায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরকারের কুটনৈতিক সম্পর্ক মধুর নয়, এটাকে পূঁজি করতে চাচ্ছে বিরোধীরা। কিন্তু তাদের ভুলে গেলে চলবে না, শেখ হাসিনার বিকল্প শেখ হাসিনাই। আন্তর্জাতিক বিশ্বের সহানুভূতিও যথেষ্ট রয়েছে। বিরোধীদের ক্ষমতায় ফিরতে হলে নির্বাচনে বিজয়ী হতে হবে। জেনারেল জিয়া ও জেনারেল এরশাদ  বন্দুকের নল দিয়ে ক্ষমতাদখল করে দল গঠনের যে নজীর সৃষ্টি করেছেন, এখনকার বাস্তবতায় সেই সুযোগও নেই। 

"মানবতার চূড়ান্ত মুক্তিসংগ্রাম যাহাতে বিলম্বিত না হয়, সেজন্য জনতাকে তাহাদের সমস্ত ব্যক্তিগত এবং দলগত বিভেদ বিসর্জন দিয়া এককাতারে সমবেত হইতে মুসলিম লীগ কর্মী সম্মেলন আবেদন জানাইতেছে"- এই উচ্চারণ করেই আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছিল। জনতা ব্যক্তিগত বিভেদ বিসর্জন দিয়েই রচনা করেছিলো, চুয়ান্নোর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, আটান্নোর সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন, ছেষট্টির ছয় দফা, উনসত্তুরের গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন এবং একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ। আমাদের স্বাধীনতায় লেপ্টে আছে ত্রিশ লাখ শহীদের রক্ত এবং আড়াই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম। জনতা ঠিকই আওয়ামী লীগের আহবানে নিজেদের উৎসর্গ করেছিল, কিন্তু দলগত বিভেদ বিসর্জন দেয়ার আহবান নেতাদের মধ্যে পুরোপুরি সাড়া ফেলতে পারেনি। যে কারণে যুক্তফ্রন্টের অবিস্মরণীয় বিজয়লাভের পরও নিজেদের মধ্যে ঐক্য ধরে রাখতে পারেনি। আওয়ামী লীগের প্রায় ২১ জন সদস্য শেরেবাংলার কেএসপিতে এবং আওয়ামী লীগ ভেঙে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি- ন্যাপ হলে প্রায় ২৪ জন সদস্য আইন পরিষদে ফ্লোরক্রসিং করেন। গোলাম মোহাম্মদ ও ইস্কান্দার মির্জা আওয়ামী লীগ ও কেএসপির মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্বকে প্রকটতর করে তোলেন যে আইন পরিষদ কক্ষেই স্পীকার শাহেদ আলী হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। সুযোগে ইস্কান্দার মির্জাকে খেদিয়ে আইয়ুব খান দশ বছরের জন্য বাঙালিকে গোলাম করে রাখেন। এই তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণেই বাহাত্তরের সংবিধানে  ৭০ অনুচ্ছেদ সংক্রান্ত একটি বিধান করে ফ্লোর ক্রসিং বন্ধ করা হয়। অর্থাৎ এক দলের প্রতীকে বিজয়ী হয়ে আরেক দলে যাওয়ার সুযোগ বন্ধ করা হয়।  সবকিছুতেই জনতা সমস্ত ব্যক্তিগত বিভেদ বিসর্জন দিয়েছিল। বিসর্জন দেয়নি বরং নেতারাই। তারা অনেকে ছয় দফার বিরোধিতা করেন। আবার অনেকে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধেই পাকিস্তানের পক্ষ অবলম্বন করেন। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর নেতারাই দলে দলে গিয়ে খুনী মোশতাকের মন্ত্রীত্ব গ্রহণ করেছে।  ওয়ান ইলেভেনকালীনও আমরা দেখেছি শেখ হাসিনার প্রতি দলীয় নেতাদের আস্থা আনুগত্যের পরিমাণ।

বঙ্গবন্ধু হত্যার পর সাম্রাজ্যবাদী শক্তিই যে আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বাইরে রেখেছিল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ক্ষমতায় আসলেও সরকারের ভেতরেই ভূত চেপে বসেছিল। রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দিন, সিইসি সাঈদ, সেনাপ্রধান জেনারেল হারুন সবই আওয়ামী লীগ সরকারের মনোনীত। এমন কি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টাকে মনে করা হচ্ছিল নির্ভেজাল। কিন্তু ২০০১ সালের অক্টোবরের নির্বাচনের ফলাফল হলো আওয়ামী লীগের জন্য চরম  বিপর্যয়ের। ওই ফলাফলের জের দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে হত্যা, ধর্ষন আর সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়ন নির্যাতনে। সেই বিভীষিকার কথা মনে পড়লে গা শিউরে ওঠে।

আওয়ামী লীগকে আবারও ক্ষমতায় ফিরতে কঠিনতর পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়েছে। বহু নেতাকে বিএনপি - জামাত জোট সরকারের হাতে জীবন দিতে হয়েছে প্রকাশ্য দিবালোকে। অর্থমন্ত্রী শাহ এমএস কিবরিয়া এমপি, প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা  আহসান উল্লাহ মাস্টার এমপি, মমতাজ উদ্দিন, মঞ্জুরুল ইমাম এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় শেখ হাসিনাসহ শীর্ষনেতারা বেঁচে গেলেও জীবন কেড়ে নেয় নারী নেত্রী বেগম আইভী রহমান, মোস্তাক আহমেদ সেন্টুসহ ২৫ নেতাকর্মীর। এই আগস্টেই দেশব্যাপী বোমা বিস্ফোরণের কথা মানুষের মন থেকে মুছে যাবে না। শেখ হাসিনা সরকারের আমলে হেফাজতের তান্ডবের কথাও তো সেদিনকারের ঘটনা।

সাম্রাজ্যবাদী সরীসৃপের বিষ দাঁত উৎপাটন করা যায়নি আজও। দশ ডিসেম্বর থেকে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশ পরিচালিত হবে- বিষয়টি  নিয়ে কানাঘুষা শুরু চলছে। এই সব ভ্রান্ত তত্ত্ব দিয়ে বিএনপির সাধারণ কর্মীদের বিপথগামী পথে ঠেলে দেয়া হচ্ছে বলেও মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল। এতে করে সরকারের সুযোগ হবে কর্মীদের গণহারে জেল-জুলুমের শিকার হতে। আওয়ামী লীগের আবদুল জলিল ৩০ এপ্রিল ফরমুলা দিয়ে হাস্যকরে পরিণত হয়েছিলেন  - তার কোন ক্ষতি হয়নি - ক্ষতি যা হবার সাধারণ নেতাকর্মীদের হয়েছিল। কৃতবিদ্য মানুষের মনের সুক্ষ্ম অনুভূতি ও আবেদন নিজের মন দিয়ে উপলব্ধি করার শক্তি ও ক্ষমতা নিশ্চয়ই বঙ্গবন্ধু কন্যার আছে। তাই সকল ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত রুখে দেয়ার সাহসও তাঁর আছে। যে সাহস শেখ হাসিনাকে দিয়েছে সততা ও দেশপ্রেম। 

লেখকঃ সিনিয়র সাংবাদিক, কলামিস্ট ও গবেষক।


বাংলাদেশ   রাজিনীতি   সাম্রাজ্যবাদ   দশ ডিসেম্বর  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন