ঢাকা, শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২০, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

কেমন দেশ নাইজেরিয়া?

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৬ জুন ২০১৮ মঙ্গলবার, ০৬:৩৮ পিএম
কেমন দেশ নাইজেরিয়া?

আজ রাত ১২ টায় রয়েছে নাইজেরিয়া-আর্জেন্টিনা ম্যাচ। ম্যাচটি দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে ফুটবল বিশ্ব। আর্জেন্টিনা সম্পর্কে আমরা অনেক কিছুই জানি। কিন্তু নাইজেরিয়া সম্পর্কে আমরা জানি কি? জানলেও কতটুকু? আজ আমরা জানাবো ‘নাইজেরিয়া’ দেশটি কেমন:

নাইজেরিয়া শুনলে প্রথমেই মনে আসে আফ্রিকার বৃহৎ তেল উৎপাদনকারী দেশের কথা। এছাড়া চলচ্চিত্র ও সঙ্গীতের জন্য রয়েছে দেশটির সুনাম। তবে দুর্নীতির জন্যেও দেশটি অনেকের কাছে পরিচিত। তবে এই জানার বাইরেও রয়েছে নাইজেরিয়ার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির দীর্ঘ ইতিহাস।

পশ্চিম আফ্রিকার একটি রাষ্ট্র নাইজেরিয়া। এর রাজধানীর নাম আবুজা। আফ্রিকা মহাদেশের সবচেয়ে জনবহুল দেশ এটি। এর পশ্চিমে বেনিন, পূর্বে ক্যামেরুন, উত্তরে নাইজার এবং দক্ষিণে গিনি উপসাগর অবস্থিত। নাইজেরিয়ার আয়তন ৯ লাখ ২৩ হাজার ৭৬৮ বর্গকিলোমিটার। ২০১৮ সালে হিসাব অনুযায়ী, দেশটির জনসংখ্যা ১৯ কোটি ৫৮ লাখের অধিক।

নাইজেরিয়া ১৯৬০ সালের ১ অক্টোবর ব্রিটেন থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। বর্তমানে দেশটি ৩৬টি রাজ্য ও কেন্দ্রীয় রাজধানী নিয়ে গঠিত। ১৯৬৬ হতে ১৯৯৯ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত দেশটি বিভিন্ন সময়ে সামরিক শাসনের সম্মুখীন হয়েছে। ১৯৯৯ খ্রীস্টাব্দে এখানে পুনরায় গণতন্ত্র প্রবর্তিত হয়।

দেশটির ভেতর দিয়ে প্রবাহিত নাইজার নদী থেকে নাইজেরিয়া নাম এসেছে। নামটি উনিশ শতকের শেষে আবির্ভাব হয়। এ তথ্য ব্যতীত দেশের নাম সম্পর্কে আর তেমন কিছুই জানা যায়নি।

নাইজরিয়াতে প্রায় ৫০০টি জাতিগোষ্ঠীর বসবাস। এছাড়া দেশটিতে প্রায় ৫১২ টি ভাষা প্রচলিত আছে। এ কারণে নাইজেরিয়াকে বহুজাতিগত রাষ্ট্র হিসেবেও ধরা হয়। দেশটির জাতীয় মুদ্রা হিসেবে নাইরা প্রচলিত।

নাইজেরিয়ার সরকারি ভাষা ইংরেজি হলেও ইয়োরুবা, ইগবো ও হাউসা ভাষা তিনটি কার্যত আধা-সরকারি ভাষা হিসেবে দেশটির ৪০০ টিরও বেশি ভাষার লোকদের ভাব আদান-প্রদানের ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ইয়োরুবা ভাষাভাষীরা মূলত নাইজেরিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে বসবাস করেন। সেখানে সরকারি ভাষা না হলেও ইয়োরুবা ভাষা প্রশাসনে, মুদ্রণ ও ইলেকট্রনিক মাধ্যমে, শিক্ষার সব স্তরে, সাহিত্যে ও চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত হয়।

পশ্চিম অফ্রিকাতে অবস্থিত নাইজেরিয়া অফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ। যেখানে দেশের অর্থনীতির বেশিরভাগটায় খনিজ তেলের উৎপাদন ও রপ্তানির ওপর নির্ভর। বর্তমানে বিশ্বে নাইজেরিয়া ১২ তম খনিজতেল উৎপাদনকারী দেশ। তাছাড়া দেশেটির জনসংখ্যার অধিকাংশ মানুষ চাষাবাদের ওপর নির্ভরশীল। এছাড়া লেদার, টেক্সটাইল, গাড়ি তৈরির কারখানা তথা বিভিন্ন বস্ত্র শিল্পের বাণিজ্যে দেশটির বিরাট অংশের মানুষ যুক্ত আছে। অন্যান্য আফ্রিকান দেশগুলোর তুলনায় অর্থনীতির দিক দিয়ে এতো উন্নত হওয়ার কারণে নাইজেরিয়াকে ‘জায়েন্ট অব আফ্রিকা’ বলা হয়ে থাকে।

নাইজেরিয়ার ঘন জঙ্গলে পৃথিবীর সব থেকে বেশি পরিমাণ বিভিন্ন প্রজাতির প্রজাপতির বসবাস দেখা যায়। দেশিটির মানুষ চলচ্চিত্র দেখতে পছন্দ করে। একারণে হয়তো দেশটি চলচ্চিত্র নির্মাণে ‍বিশ্বের দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এর ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে নলিউড নামে ডাকা হয়। এটি আফ্রিকার মধ্যে সর্ববৃহৎ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি নামে পরিচিত।

নাইজেরিয়ার জনসংখ্যার প্রায় ৪৭ শতাংশ মানুষ মুসলিম সম্প্রদায়ের। এর পাশাপাশি ৩৫ শতাংশ খ্রিষ্টান ও ১৮ শতাংশ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ এখানে বসবাস করে। এক হিসাব অনুযায়ী, নাইজেরিয়ার ৬৮ শতাংশ মানুষ শিক্ষিত। দেশটিতে অপরাধ মুলক কার্যক্রমের মধ্যে সর্বোচ্চ স্থানে রয়েছে মাদক ব্যবসা।

অফ্রিকান দেশগুলোর মধ্যে নাইজেরিয়াতেই ফুটবল খেলা অধিক জনপ্রিয়। দেশটির জাতীয় ফুটবল দলকে সুপার ঈগল নামে ডাকা হয়। ইতিমধ্যে নাইজেরিয়া ফুটবল বিশ্বকাপে ছয় বার অংশগ্রহণের সম্মান অর্জন করেছে।


বাংলা ইনসাইডার/ বিপি/জেডএ