টেক ইনসাইড

পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র: কতটা নিরাপদ হবে বাংলাদেশের প্রথম নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৯:৫৮ পিএম, ০৯ অক্টোবর, ২০২১


Thumbnail

বাংলাদেশে পাবনার রূপপুরে নির্মাণাধীন পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম রিয়্যাক্টর প্রেসার ভেসেল বা চুল্লি উদ্বোধন হচ্ছে রোববার। পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালুর বা কমিশনিং প্রক্রিয়ায় এই চুল্লী স্থাপন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পরমাণু বিজ্ঞানীরা রিএ্যাক্টর প্রেসার ভেসেলকে পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের `হার্ট বা হৃৎপিণ্ড` বলে থাকেন।

রূপপুরের এই পারমাণবিক চুল্লি নির্মিত হয়েছে রাশিয়ায়। ভিভিআর-১২০০ মডেলের এই রিয়্যাক্টরে পরমাণু জ্বালানি পুড়িয়ে মূল শক্তি উৎপাদন হবে এবং ১২শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। রূপপুরের প্রথম ইউনিট ২০২৩ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করতে পারবে বলে ধারণা দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

পরমানু বিজ্ঞানী এবং আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি সংস্থার সাবেক বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শহীদ হোসেন বলেন, "এই রিয়্যাক্টর স্থাপনের মধ্যে দিয়ে বলা যায় কমিশনিং প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেল।"

রূপপুর কেন্দ্রে দুটি ইউনিটে ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে প্রাথমিকভাবে ১ লক্ষ ১৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি খরচ ধরা হয়েছে। বাংলাদেশে একক প্রকল্প হিসেবে এটি সবচেয়ে বড় কোনো অবকাঠামো প্রকল্প। মহামারির মধ্যেও এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ২৫ হাজার শ্রমিক দিনরাত সেখানে কাজ করছেন।

কী নিয়ে এতো ভীতি ও উদ্বেগ?

জলবায়ু পরিবর্তনের কথা চিন্তা করে বর্তমানে বিশ্বে নবায়নযোগ্য শক্তির ওপরে যে জোর দেয়া হচ্ছে পারমাণবিক শক্তি তার অন্যতম একটি উৎস। তবে এইসব পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চুল্লীর নিরাপত্তা নিয়ে সবসময় কিছুটা উদ্বেগ থেকেই যায়।

কারণ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুর্ঘটনার ব্যাপারে একটা ভীতি সবসময় কাজ করে অনেকের মধ্যেই। বিশেষজ্ঞরা বলেন, এ ভয়ের প্রবণতা আছে বিশ্বব্যাপী।

আন্তর্জাতিক আনবিক সংস্থার সাবেক একজন বিজ্ঞানী ড. শহীদ হোসেন বিবিসিকে বলেন, "ভয়টা কমেনি। ভয়টা অনেক সময় না জানার কারণেও হয়।"

"যারা এসব কেন্দ্রের কাছে থাকে, তাদের মধ্যে ভয় কম কিন্তু দূরে যারা থাকে - দেখা যায় তাদের ভয় বেশি। আর যেহেতু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়েক স্তরে নিরাপত্তা বলয় সৃষ্টি করা হয়, এ কারণেও অনেকে চিন্তা করেন নিরাপদ যদি হবে, তাহলে এত নিরাপত্তা বলয় কীসের জন্য।"

মি. হোসেন জানান, "এছাড়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে অনেক মতবাদ আছে যেমন রিয়্যাক্টরকে কখনোই বিশ্বাস করা যাবে না। এসব কারণেও ভীতি কমেনি।"

নিরাপত্তার জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?

সবশেষ ফুকুশিমা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে দুর্ঘটনাসহ বিশ্বে এ পর্যন্ত পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে তিনটি বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। পারমাণবিক কেন্দ্রে দুর্ঘটনায় তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়লে দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব থাকে বলেই বিশ্বব্যাপী পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে ভয় এবং আতঙ্ক।

তবে ফুকুশিমায় দুর্ঘটনার পর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে দুর্ঘটনা ঝুকি কমাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। রাশিয়ার ভিভিআর ১২০০ মডেলের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে দুর্ঘটনা রোধে ৫টি স্তরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা রয়েছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান বলেন, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোন ছাড় দিচ্ছে না বাংলাদেশ।

"প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুস্পষ্ট অবস্থান হলো অতিরিক্ত অর্থ খরচ করে হলেও নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ছাড় দেয়া যাবে না। যে কারণে নিরাপত্তাকেই আমার সবচেয়ে গুরত্ব দিয়েছি।"

মি. ওসমান বলেন, "আমরা এখানে কো-ক্যাচার নামে একটি বাড়তি জিনিস লাগিয়েছি যেটা ফুকুশিমার ঘটনার পর আবিস্কৃত হয়ে অলরেডি চালু হয়ে গেছে। নতুন যে প্ল্যান্ট হয়েছে দুটোতে এই ব্যবস্থা লাগানো হয়েছে আমাদেরটি তৃতীয়।"

কো-ক্যাচার ব্যবস্থা সম্পর্কে মি. ওসমান ব্যাখ্যা করে বলেন, "কো-ক্যাচার বসানো হয়েছে খোদা না চায় যদি ওরকম কোন ঘটনা ঘটেও তাহলে পুরো দূষিত জিনিসটা গলে নিচে পড়ে যাবে। "

"একটা কুয়ার মতো যেটার মধ্যে পড়ে ওটা সিল হয়ে যাবে। অর্থাৎ তেজস্ক্রিয়তা ছড়াবে না। এবং এটার স্লোগানই হলো মেইক মোর সেইফ, মোর সেইফ অ্যান্ড মোর সেইফ। এবং আমরাতো একেবারে লেটেস্টটাই নিচ্ছি।"

প্রতিটি পর্যায়ে দরকার তদারকি ও মান যাচাই - বিশেষজ্ঞ

বর্তমান প্রযুক্তির পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিজ্ঞানীদের অনেকেই আশ্বস্ত। তবে নির্মাণের প্রতিটি পর্যায়ে মান যাচাই এবং তদারকি প্রয়োজন রয়েছে।

ভিয়েনায় অবস্থানরত পরমাণু বিজ্ঞানী ড. শহীদ হোসেন বলেন, "মেইন ইস্যুগুলো যেমন এই প্রেসার ভেসেল একটা মেইন ইস্যু, তারপরে পাম্প আছে অনেক, পাম্পের অনেক ভালভ আছে, সেসব জিনিসগুলো আমাদের দেখতে হবে তৈরির সময় ঠিকমতো তৈরি হচ্ছে কিনা। তাতে কোন ফল্ট আছে কিনা।"

"সেগুলোর জন্য আমাদের লোকতো এত পারদর্শী নয়, তাই আমাদের আবার সাহায্য নিতে হচ্ছে রাশিয়ার কাছ থেকেই। "

তবু যে চ্যালেঞ্জগুলো থেকেই যায়

এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম এ বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে ভবিষ্যতের কিছু চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে বলেন, এগুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

"পাওয়ার প্ল্যান্ট রেডি করে রাখলাম, কিন্তু গ্রিডের ফ্রিকোয়েন্সির হেভি ফ্লাকচুয়েশনের কারণে যদি আমরা বিদ্যুৎ কেন্দ্র না চালাতে পারি, সেটাও চ্যালেঞ্জ হতে পারে।"

তিনি বলেন, "তাহলে গ্রিড সেভাবে নির্মিত হচ্ছে কি হচ্ছে না? অপারেটর তৈরি করা একটা চ্যালেঞ্জ, ফুয়েল হ্যান্ডলিং, ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট একটা চ্যালেঞ্জ। এছাড়া ইমারজেন্সি রেসপন্স - এগুলোর জন্য রেগুলেটর বডিতে যারা আছেন, তাদেরকে আরো দক্ষ হতে হবে, অভীজ্ঞ হতে হবে।"

এদিকে নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকে পরিবেশ বান্ধব হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

বর্তমান বিশ্বে একদিকে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে সরে আসার প্রবণতা যেমন আছে, আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ঠেকাতে পরমাণুকে তেল কয়লার মতো ফসিল ফুয়েলের বিকল্প জ্বালানি হিসেবেও দেখছে অনেক দেশ।

রূপপুরের পর দেশের দক্ষিণাঞ্চলে আরো একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা আছে বাংলাদেশের। সূত্র: বিবিসি বাংলা



মন্তব্য করুন


টেক ইনসাইড

গ্রামীণফোনের সিম বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা বিটিআরসি'র

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ৩০ Jun, ২০২২


Thumbnail গ্রামীণফোনের সিম বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা বিটিআরসি'র

গ্রামীণফোনের সিম বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। মানসম্মত সেবা দিতে না পারায় এই নির্দেশ দিয়েছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। 

বুধবার (২৯ জুন) দুপুরে নিষেধাজ্ঞা অনুমোদনের পর বিটিআরসি এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা গ্রামীণফোনে পাঠিয়েছে।

এ বিষয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, যতদিন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি সেবার মান না বাড়াবে ততদিন এই নিষেধাজ্ঞা চলবে। কারণ এর আগেও তাদের অনেকবার সতর্ক করা হয়েছে। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।

গত ৩১ মার্চ সবশেষ নিলামে সবচেয়ে বেশি তরঙ্গ (৬০ মেগাহার্টজ) কিনেছে গ্রামীণফোন। বর্তমানে এক মেগাহার্টজ তরঙ্গে ১৪ লাখ গ্রাহককে সেবা দিচ্ছে গ্রামীণফোন। অন্যান্য অপারেটরের চেয়েও যা বেশি।

এর আগে গ্রামীণফোনের হাতে ছিল ৪৭ দশমিক ৪০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ। সব মিলিয়ে অপারেটরটির তরঙ্গের পরিমাণ ১০৭ দশমিক ৪০ মেগাহার্টজ হয়েছে। যদিও বাকি অপারেটরদের মতো গ্রামীণফোনও নতুন বরাদ্দ পাওয়া তরঙ্গ ব্যবহার করতে পারছে না। আগামী ডিসেম্বর থেকে অপারেটরগুলো তরঙ্গ ব্যবহার করতে পারবে বলে জানা গেছে।

বিটিআরসি’র প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত মে পর্যন্ত গ্রামীণফোনের গ্রাহক সংখ্যা ৮ কোটি ৪৯ লাখ ৫০ হাজার।

গ্রামীনফোন   নিষেধাজ্ঞা   বিটিআরসি  


মন্তব্য করুন


টেক ইনসাইড

র‌্যানসমওয়্যার থেকে নিরাপদ থাকার ৫ উপায়

প্রকাশ: ০৯:০৯ এএম, ২৯ Jun, ২০২২


Thumbnail র‌্যানসমওয়্যার থেকে নিরাপদ থাকার ৫ উপায়

ক্ষতিকর সফটওয়্যার র‌্যানসামওয়্যারে আক্রান্তদের সংখ্যা বিশ্বে দিন দিন বেড়ে চলেছে। ২০১৩ সালে প্রথম ক্রিপ্টোলকারের আবির্ভাবের পর থেকে আমরা র‍্যানসমওয়্যার এর একটি নতুন যুগ দেখতে পাচ্ছি, যেখানে বিভিন্ন ধরনের স্প্যাম মেসেজ এবং এক্সপ্লয়িট কিট এর মাধ্যমে উদ্দেশমূলকভাবে র‍্যানসমওয়্যার সমৃদ্ধ এনক্রিপ্টেড ফাইল ছড়ানো হচ্ছে। এই ক্ষেত্রে প্রধান লক্ষ্য হল যেকোনো ব্যবহারকারী এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া।

বহু প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার এই সাইবার হামলায় অচল হয়ে পড়েছে। হ্যাকারা অচল কম্পিউটার সচল করার জন্য মুক্তিপণ হিসেবে দাবী করেছে বিটকয়েন।। এইক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ফাইলগুলোতে অ্যাক্সেস না করতে পারা এবং পরে এরজন্য যে মুক্তিপণ দিতে হয়, তা যেকোনো প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতাকে ব্যাহত করে। বিশ্বব্যাপী, সোফোসের প্রকাশিত ‘দ্য স্টেট অফ র‍্যানসমওয়্যার রিপোর্ট ২০২২’ এ দেখা যায় যে, ২০২১ সালে বছর জুড়ে শতকরা ৬৬ ভাগ এরও বেশি সংস্থা র‍্যানসমওয়্যার আক্রমণের শিকার হয়েছিল, যা কিনা ২০২০ সালেও ছিল শতকরা ৩৭ ভাগ। ফলে, এসব সংস্থাকে তাদের এনক্রিপ্টেড ডেটা ফিরে পেতে ৮,১২,৩৬০ ডলার গড় মুক্তিপণ প্রদান করতে হয়েছিল, এর মধ্যে আবার শতকরা ১১ ভাগ ভুক্তভোগীকে ১ মিলিয়ন ডলার বা তার বেশি মুক্তিপণ দিতে হয়েছিল।

ভারতে সোফোস ‘দ্য স্টেট অফ র‍্যানসমওয়্যার রিপোর্ট ২০২২’ প্রকাশ করেছে যা গত বছরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের র‍্যানসমওয়্যার এর আক্রমণ সম্পর্কে জানান দেয়। গত বছর ভারতে ৭৮ শতাংশের বেশি প্রতিষ্ঠান র‍্যানসমওয়্যার আক্রমণের শিকার হয়েছে, যা ২০২০ সালে ছিল ৬৮ শতাংশ। এইজন্য র‍্যানসমওয়্যার থেকে সুরক্ষিত থাকতে প্রতিষ্ঠানগুলোতে সর্বোত্তম ব্যবস্থা গ্রহণ করা অপরিহার্য এবং তা নিচে দেয়া হলো-

১. নিয়মিত ব্যাকআপ রাখুন

র‍্যানসমওয়্যার আক্রমণের ক্ষেত্রে এনক্রিপ্টেড ব্যাকআপ যেকোনো প্রতিষ্ঠানের মূল্যবান সময় ও আর্থিক সংস্থান বাঁচাতে পারে। এজন্য অফলাইন ও অফসাইটে নিয়মিত ব্যাকআপ এবং আপডেট রাখা জরুরি। এটি আরও নিশ্চিত করবে ডিভাইসটি ভুল হাতে পড়লেও কোনো চিন্তা করতে হবে না।

২. ফাইল এক্সটেনশন চালু করুন

ডিফল্ট উইন্ডো সেটিংস-এ ফাইল এক্সটেনশন চালু করা থাকে না, ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোকে এটি সনাক্ত করতে থাম্বনেইলের ওপর নির্ভর করতে হয়। এক্সটেনশন চালু করা থাকলে যেকোনো ফাইল সনাক্ত করা আরও সহজ হয়, যেগুলো সাধারণত ব্যবহারকারীকে পাঠানো হয়না। যেমন- জাভাস্ক্রিপ্ট।

৩. অযাচিত অ্যাটাচমেন্ট থেকে সতর্ক থাকুন

র‍্যানসমওয়্যার আক্রমণকারীদের কাছ থেকে সুরক্ষিত থাকতে ব্যবহারকারীদের সম্পূর্ণ নিশ্চিত না হয়ে কোনো অ্যাটাচম্টে ওপেন করা উচিত নয়। কোনো মেইলের নির্ভরযোগ্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত মেইলটি ওপেন না করা এবং সন্দেহজনক কনটেন্ট হলে সে সম্পর্কে রিপোর্ট করার অভ্যাস তৈরি করতে হবে।

৪. অ্যাডমিনিস্ট্রেটরের অধিকার পর্যবেক্ষণ

আইটি বিভাগের নিশ্চিত করা উচিত যে, তারা ক্রমাগত অ্যাডমিনস্ট্রেটর এবং তাদের অধিকারসমূহ পর্যালোচনা করছে। সেই সঙ্গে কার কাছে সেগুলো রয়েছে এবং যাদের প্রয়োজন নেই তাদের অধিকারগুলো যাতে থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। এছাড়া অ্যাডমিনস্ট্রেটর হিসেবে কেউ যেন প্রয়োজনের বেশি লগইন করতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এমনকি কেউ অ্যাডমিন হিসেবে থাকা অবস্থায় অযথা ব্রাউজিং, যেকোনো ফাইল খোলা বা অন্য কাজ যাতে না করে সেবিষয়ে ও লক্ষ্য রাখতে হবে।

৫. শক্তিশালী পাসওয়ার্ড দেয়া

যদিও এটি তুচ্ছ শোনাচ্ছে, কিন্তু এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। যেকোনো দুর্বল এবং অনুমান করা যায় এমন পাসওয়ার্ড হ্যাকারদের খুব সহজেই প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কে প্রবেশ করার সুযোগ প্রদান করে। এজন্য সুপারিশ করা হয়, যেকোনো পাসওয়ার্ড যেন কমপক্ষে ১২ অক্ষরের হয়, একই সঙ্গে এটি ক্যাপিটাল, স্মল লেটার, যতিচিহ্ন, সংখ্যা বা কোনো বিশেষ ক্যারেক্টারের মিশ্রণে হওয়া উচিত, যেমন: Ju5t.LiKE#Th1s!@। তাহলে যেকেউ সহজে অনুমান করতে পারবে না।

র‌্যানসমওয়্যার   নিরাপদ   উপায়  


মন্তব্য করুন


টেক ইনসাইড

চরমপন্থা ঠেকাতে বাংলাদেশে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দিয়েছে ফেসবুক

প্রকাশ: ০৯:৩৩ পিএম, ২৭ Jun, ২০২২


Thumbnail চরমপন্থা ঠেকাতে বাংলাদেশে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দিয়েছে ফেসবুকে

ফেসবুকে চরমপন্থী চিন্তাধারার প্রচার মোকাবিলা করতে বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি বোঝেন এমন বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞদের নিয়োগ দিয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি। 

মেটা এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের সন্ত্রাসবিরোধী ও বিপজ্জনক সংগঠনবিষয়ক প্রধান নাওয়াব ওসমান সোমবার (২৭ জুন) এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে নাওয়াব ওসমান বলেন, ‌‘আমাদের প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে যা দেখা যাচ্ছে তা এখানকার (বাংলাদেশের) অফলাইন বাস্তবতার প্রতিফলন।’

ব্যবহারকারীদের মধ্যে সহনশীলতা বাড়াতে মেটা নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং সুশীল সমাজও এর অন্তর্ভুক্ত আছে বলে জানান তিনি।

একই সঙ্গে মেটার নিজস্ব প্রযুক্তি ও অ্যালগরিদম এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলেও দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি, ফেসবুকে বাংলাদেশের অফলাইন বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটছে বলেও জানান ওসমান। 

ফেসবুক  


মন্তব্য করুন


টেক ইনসাইড

ভিডিও সেলফিতে বয়স যাচাই করবে ইনস্টাগ্রাম

প্রকাশ: ০৮:৩৬ পিএম, ২৫ Jun, ২০২২


Thumbnail ভিডিও সেলফিতে বয়স যাচাই করবে ইনস্টাগ্রাম

ইনস্টাগ্রামে সহজে ছবি ও ভিডিও বিনিময়ের সুযোগ থাকায় কিশোর-কিশোরীদের কাছে এটি খুবই জনপ্রিয়। ফলে ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারী বৃদ্ধির তালিকায় বরাবরই প্রাধান্য থাকে কিশোর-কিশোরীদের।

ছবি ও ভিডিও বিনিময়ের সামাজিক মাধ্যমটির নীতিমালা অনুযায়ী, অ্যাকাউন্ট খোলার সর্বনিম্ন বয়স ১৩ বছর। কিন্তু ভুয়া জন্মতারিখের মাধ্যমে ১৩ বছরের কম বয়সী অনেকেই অ্যাকাউন্ট খুলে থাকে ইনস্টাগ্রামে। শুধু তা–ই নয়, নিজেদের প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে পরিচয়ও দেয় তারা।

কিশোর-কিশোরীদের প্রকৃত বয়স জানতে এবার তাদের কাছ থেকে ভিডিও সেলফি সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইনস্টাগ্রাম। নতুন এ উদ্যোগের আওতায় সংগ্রহ করা ভিডিও সেলফি চেহারা বিশ্লেষণ সফটওয়্যারের মাধ্যমে পর্যালোচনা করে ব্যবহারকারীদের বয়স যাচাই করা হবে। এর ফলে কিশোর-কিশোরীদের প্রকৃত বয়স সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। বর্তমানে নতুন এ পদ্ধতির কার্যকারিতা পরখ করা হচ্ছে।

নতুন এ উদ্যোগের আওতায় মূলত কিশোর-কিশোরীদের বয়স যাচাই করা হবে। ভিডিও সেলফিগুলো বয়স যাচাইয়ের পর মুছে ফেলা হবে বলে জানিয়েছে ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা।

বর্তমানে পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে বা অ্যাকাউন্ট উদ্ধারের জন্য ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে ভিডিও সেলফি সংগ্রহ করে ইনস্টাগ্রাম কর্তৃপক্ষ।

কিশোর-কিশোরীদের ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারের সময় নিয়ন্ত্রণের জন্য গত মার্চে অভিভাবকদের জন্য নতুন টুল চালু করে ইনস্টাগ্রাম কর্তৃপক্ষ। টুলটি কাজে লাগিয়ে অভিভাবকেরা তাঁদের সন্তান কতক্ষণ ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করছে, তা জানতে পারেন। চাইলে সন্তানের জন্য ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারের সময়ও নির্ধারণ করে দিতে পারেন তাঁরা।

সূত্র: বিবিসি

ইনস্টাগ্রাম  


মন্তব্য করুন


টেক ইনসাইড

টিকটককে টেক্কা দিতে নতুন ফিচার নিয়ে আসছে মেটা

প্রকাশ: ০১:১৮ পিএম, ১৮ Jun, ২০২২


Thumbnail টিকটককে টেক্কা দিতে নতুন ফিচার নিয়ে আসছে মেটা

বর্তমান সময়ে সব থেকে জনপ্রিয় ভিডিও প্ল্যাটফর্ম টিকটক। জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা এই সাইটটি বিশ্বের কয়েকটি দেশে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তারপরও মেটার মতো সংস্থাকে অস্বস্তিতে রেখে হু হু করে জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে ভারতে নিষিদ্ধ অ্যাপ টিকটকের।

সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বছরের প্রথম তিন মাসের হিসাবে জনপ্রিয়তায় শীর্ষেই রয়েছে টিকটক। স্বাভাবিক ভাবেই এই পরিসংখ্যানে একেবারেই খুশি নয় মেটা। তাই টিকটককে টেক্কা দিতে মরিয়া হয়েই ফেসবুকে বড় পরিবর্তন আনতে চাইছে মেটা।

এর আগে মেটা ২০২০ সালে টিকটকের মতো রিলস ফিচার যুক্ত করেছিল ইনস্টাগ্রামে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফেসবুকেও দেখা মিলেছে শর্ট ভিডিওর। তারপরও টিকটককে ছাড়িয়ে যেতে পারছে না মেটা। এবার বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে মেটা।

প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট দ্য ভার্জের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টিকটকের বাড়তে থাকা জনপ্রিয়তায় অস্বস্তিতে মেটা। তাই এবার ফেসবুক তার অ্যালগরিদম বদলানোর পরিকল্পনা করেছে। যার সাহায্যে ইউজারদের বেশি পরিমাণে কন্টেট সরবরাহ করা হবে।

এমনকি যে কন্টেন্টের সঙ্গে কোনো যোগসূত্র নেই, সেই কনটেন্টও ফুটে উঠবে ফেসবুকের টাইমলাইনে। অর্থাৎ টিকটকের ‘ফর ইউ’-এর মতোই এবার ফেসবুকে এমন কনটেন্টও দেখা যাবে যেটি আপনার ফ্রেন্ড লিস্টের বাইরে থাকা ইউজারের।

এছাড়া ফেসবুক ও মেসেঞ্জার আর আলাদা আলাদা অ্যাপ থাকছে না বলেও দাবি রিপোর্টের। সব মিলিয়ে ফেসবুককে একটি ‘ডিসকভারি ইঞ্জিন’ হিসেবে গড়ে তুলতে চায় মেটা।

এর আগে এই শব্দবন্ধ শোনা গিয়েছিল মার্ক জুকেরবার্গের মুখেও। সব মিলিয়ে মেটা ফেসবুককে এগিয়ে নিয়ে যেতে যে তিনটি বিষয়কে মাথায় রেখেছে তা হল রিলকে সফল করে তোলা, মেসেজ-নির্ভর শেয়ারিংকে আনলক করা এবং বিশ্বমানের টেকনোলজি ব্যবহার করা।

সূত্র: দ্য ভার্জ

টিকটক   টেক্কা   নতুন ফিচার   নিয়ে আসছে   মেটা  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন