ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

পাকিস্তানে কোন দল পেল কত আসন?

প্রকাশ: ১০:৪৭ এএম, ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪


Thumbnail

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বর্তমানে আদিয়ালা কারাগারে বন্দি আছেন। জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা এই নেতা এবার জেলে বসেই পুরো দেশকে চমক দেখালেন। কারণ এবার বন্দি ইমরানের হাতেই উঠতে পারে প্রধানমন্ত্রীর চাবি।

শনিবার রাত পর্যন্ত ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে বেশ খানিকটা এগিয়ে রয়েছেন তার দলের সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

আলজাজিরার দেওয়া সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ঘোষিত ২৬৫ আসনের ফলাফলে সবচেয়ে বেশি ১০০ আসনে জয় পেয়েছেন পিটিআই স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

আসন সংখ্যায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন)। তারা পেয়েছে ৭৩টি আসন।

তৃতীয় স্থানে থাকা বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) পেয়েছে ৫৪টি আসন। এছাড়া অন্যান্য দল পেয়েছে ২৮টি আসন। ১০টি আসনের ফলাফল এখনো পাওয়া যায়নি।

পূর্ণ ফল প্রকাশে বিলম্ব নিয়ে এখনো সমালোচনা চলছে দেশটিতে। ইমরান খানের দল শনিবারের এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছে, ফলাফল প্রকাশে আরও বিলম্ব হলে রোববার বিক্ষোভ করবে পিটিআই।

উল্লেখ্য, পাকিস্তানের সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার তিনদিনের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জানাতে হবে যে, তারা কোন দলে যোগ দেবেন নাকি স্বতন্ত্র হিসেবেই থাকবেন।

এছাড়াও পাকিস্তানের নির্বাচনি প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইউ), যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যও।


পাকিস্তান  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

রাশিয়ার তেল ভারত ঘুরে যাচ্ছে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রে

প্রকাশ: ০৯:২৬ পিএম, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪


Thumbnail

রাশিয়ার নাখোদকা বন্দরের কাছে জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকার এগিয়ে চলেছে গন্তব্যের উদ্দেশে। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়া থেকে ভারতের জ্বালানি তেল কেনা রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে

যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বে পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল কেনার উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালানোর জেরে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের কাছেই রাশিয়ার তেল যাচ্ছে। তবে সরাসরি রাশিয়া থেকে তেল কিনছে না দেশটি। রাশিয়া থেকে কেনা অপরিশোধিত তেল শোধন করে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করছে ভারত। এই তেল আনা হচ্ছে ‘ছায়া ট্যাংকার’ বহর ব্যবহার করে।

২৪ ফেব্রুয়ারি দুই বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে ইউক্রেন যুদ্ধের। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়ার তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা দেশের একটি হয়ে উঠেছে ভারত। জানা গেছে, শুধু গত বছরই রাশিয়ার কাছ থেকে রেকর্ড সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৭০০ কোটি মার্কিন ডলার সমমূল্যের অপরিশোধিত তেল কিনেছে ভারত। এরপর দেশে এনে পরিশোধন করার পর ১০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের তেল যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করেছে নয়াদিল্লি।

ফিনল্যান্ডভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্স অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ারের (সিআরইএ) তথ্য বলছে, যুদ্ধের আগে রাশিয়া থেকে ভারত যে পরিমাণ তেল কিনত, যুদ্ধ শুরুর পর দেশটি থেকে ভারতের তেল কেনা ১৩ গুণ বেড়েছে।
সিআরইএর বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, গত এক বছরে রাশিয়ার তেল পরিশোধন করে করে ভারত যে জ্বালানি পণ্য তৈরি করেছে, তার বড় ক্রেতা ছিল যুক্তরাষ্ট্র। ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ভারত থেকে ১৩০ কোটি ডলারের জ্বালানি পণ্য আমদানি করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিমা দেশগুলোর যে জোট রাশিয়ার তেলের সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছিল, সেসব দেশেরও রাশিয়ার তেল থেকে তৈরি জ্বালানি পণ্য আমদানি বেড়েছে। সিআরইএর হিসাবে, ২০২৩ সালে জোটে থাকা অন্য দেশগুলোও ৯১০ কোটি ডলার মূল্যের এসব জ্বালানি পণ্য আমদানি করেছে। আগের বছরের চেয়ে যা ছিল ৪৪ শতাংশ বেশি।

রাশিয়ার তেল কেনার উপর পশ্চিমারা যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তার আওয়তায় পড়ে না ভারত। তবে জাহাজ চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নিষেধাজ্ঞার আওতায় না থাকলেও ভারত রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানির ক্ষেত্রে তথাকথিত ছায়া ট্যাংকার বহর ব্যবহার করেছে। কার কাছে তেল–বাণিজ্য হচ্ছে ও কীভাবে তেল পাঠানো হচ্ছে, সেটা গোপন রাখতে এই ছায়া ট্যাংকার বহর তৈরি করেছে রাশিয়া।

চলতি মাসের শুরুতে গ্রিসের গিথিও বন্দরে রাশিয়ার ছায়া ট্যাংকার বহরের দুটি ট্যাংকার দেখা গেছে। এর মধ্যে একটি ট্যাংকার ছিল অনেক বড় ও অন্যটি তুলনামূলক ছোট। তেলবাহী ট্যাংকার দুটি গ্রিসের বন্দরে নোঙর করা ছিল। তবে মজার বিষয় হচ্ছে, এসব ট্যাংকারে থাকা তেল অন্য ট্যাংকারে স্থানান্তরের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছিল গ্রিসের ওই বন্দরকে।

জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণ করে এমন একটি প্রতিষ্ঠান পোল স্টার গ্লোবাল। তাদের দেওয়া তথ্য বলছে, গ্রিসের বন্দরে নোঙর করে রাখা ওই দুটি ট্যাংকার এক সপ্তাহ আগে রাশিয়া থেকে তেল নিয়ে রওনা করে। ট্যাংকার দুটির মধ্যে একটি ভারতীয় একটি প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন। এই ট্যাংকারের নামে এর আগে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগ ছিল। অন্য ট্যাংকারটিও যুক্তরাষ্ট্রের পৃথক একটি নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল।

পোল স্টার গ্লোবালের ডেভিড তান্নেনবাউম সিএনএনকে বলেন, মাঝেমধ্যে আইনসিদ্ধ উপায়েই তেল এক ট্যাংকার থেকে অন্য ট্যাংকারে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর লক্ষ্যে এ ক্ষেত্রে অবৈধ একটি কৌশল অবলম্বন করা হয়। কারণ, এটা একধরনের খেলা। এ খেলা হয় যাতে এসব তেল কোথা থেকে এসেছে আর কারাই–বা কিনেছে, এ নিয়ে কর্তৃপক্ষ একটা ধন্দের মধ্যে পড়ে যায়।

বিশ্লেষকরা বলছে, প্রতি সপ্তাহে গ্রিসের বন্দরে এমন ডজন ডজন ট্যাংকারে তেল স্থানান্তরের ঘটনা ঘটছে। গ্রিসের বন্দরে ট্যাংকার বদল হওয়ার পর সেই তেলবাহী ট্যাংকার সুয়েজ খাল হয়ে এশিয়ার দেশগুলোর বাজারে প্রবেশ করে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে রাশিয়ার তেল রপ্তানিতে সাহায্য করছে সন্দেহভাজন এমন ট্যাংকার ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এ মাসের শুরুতে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় নতুন করে কিছু নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, রাশিয়ার কথিত এই ‘ছায়া বহর’ অচল করার লক্ষ্যে নতুন করে এ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আরও কিছু পশ্চিমা দেশ একজোট হয়ে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে রাশিয়ার তেলের সর্বোচ্চ মূল্যসীমা বেঁধে দেয়। জোটের ঘোষণা অনুযায়ী প্রতি ব্যারেল ৬০ মার্কিন ডলারের বেশি দামে রাশিয়ার তেল কেনা যাবে না। এর চেয়ে বেশি দামে রাশিয়া যাতে তেল বিক্রি করতে না পারে, তা নিশ্চিতে ভূমিকা রাখার জন্য জোটভুক্ত দেশগুলো তাদের দেশীয় কোম্পানি ও বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দেয়।

বেলজিয়ামভিত্তিক প্রতিষ্ঠান কেপলারের অপরিশোধিত তেলবিষয়ক গবেষণা শাখার প্রধান ভিক্টোরা কাতোনা সিএনএনকে বলেন, রাশিয়ার তেলের মূল্যসীমা বেঁধে দেওয়ার কারণেই মূলত ছায়া বহর তৈরির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছিল। সরবরাহব্যবস্থা দীর্ঘ করতে এক ট্যাংকার থেকে আরেক ট্যাংকারে তেল স্থানান্তরও করা হচ্ছে। কারণ, এটা করলে রাশিয়ার প্রতি ব্যারেল তেলের প্রকৃত মূল্য কত সেটি নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে ওঠে।

তবে ভারত ও রাশিয়া কিছু কিছু ক্ষেত্রে তেল–বাণিজ্য করেছে সরাসরি ও প্রকাশ্যে। উইন্ডওয়ার্ড নামে একটি প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্য বলছে, গত বছর তেল নিয়ে সরাসরি রাশিয়া থেকে ভারতে গেছে ৫৮৮টি ট্যাংকার। এদিকে পোল স্টার গ্লোবালের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর রাশিয়া থেকে তেল নিয়ে গ্রিসের উপকূলে ট্যাংকার বদল করার দুই শতাধিক ঘটনা শনাক্ত করেছে তারা। প্রতিষ্ঠানটির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এসব ট্যাংকারের গন্তব্য ছিল ভারত। এদিকে উইন্ডওয়ার্ড জানাচ্ছে, গত বছর ছায়া বহর ব্যবহার করে ১ হাজার ৮০০ ট্যাংকারে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করেছে রাশিয়া।

এতে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সরকারের আয় বেড়েছে। ২০২৩ সালের সর্বশেষ রেকর্ড সর্বোচ্চ ৩২ হাজার কোটি মার্কিন ডলার রাজস্ব আয় করেছিল রাশিয়া।


রাশিয়া   ভারত   যুক্তরাষ্ট্র  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

এবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা আরোপ

প্রকাশ: ০৭:২৭ পিএম, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪


Thumbnail

তিন দেশের ১৯৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যরা রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার অনুমোদন দিয়েছে। এর আওতায় প্রায় ২০০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে। তাদের বিরুদ্ধে মস্কোর অস্ত্র কেনাবেচা ও ইউক্রেনের শিশুদের অপহরণের অভিযোগ করা হয়েছে।

ইইউর কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, নতুন এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় ১৯৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভ্রমণ বা ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন না।

সূত্রটি জানিয়েছে, নতুন এ তালিকায় রাশিয়ার সামরিক প্রতিষ্ঠান এবং ইউক্রেন থেকে শিশুদের পাচার ও অপহরণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এ তালিকায় উত্তর কোরিয়া ও বেলারুশের একটি করে প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।

এর আগে গত বছরের মার্চে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রধান কৌশুলি বলেন, ইউক্রেনের অধিকৃত অঞ্চল থেকে রাশিয়া কয়েকশ এতিম শিশুকে অনথালয় এবং কেয়ার হোম থেকে সরিয়ে নিয়েছে। এছাড়া অনেককে দত্তকও দিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আইসিসি ইউক্রেনের শিশুদের অপহরণের জন্য রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে অভিযুক্ত করে আসছে। এটিকে তারা যুদ্ধাপরাধ বলেও উল্লেখ করে আসছে। তবে মস্কো এ অভিযোগকে অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, যুদ্ধক্ষেত্র থেকে নিরাপদ রাখতে তাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ইউক্রেনের অভিযোগ, রাশিয়া চার হাজারের বেশি শিশুকে সরিয়ে নিয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, রাশিয়ার সামরিক ক্রয়বিক্রয় বিশেষত ড্রোন তৈরির কাঁচামাল সরবরাহ নেটওয়ার্কের ওপর নজর রাখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অ্যানেক্স-৪ নিষেধাজ্ঞার আওতায় ২৭টি কোম্পানিকে যুক্ত করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে দ্বিতীয়বার ব্যবহৃত পণ্য বিক্রয় করতে পারবে না কোনো ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠান।

সূত্রটি জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞায় পড়া এ তালিকায় তিনটি চীনা ও একটি হংকংভিত্তিক কোম্পানি রয়েছে। এছাড়া প্রায় সবই রাশিয়ান কোম্পানি।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন   নিষেধাজ্ঞা আরোপ  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্রিফিংয়ে সাবেক ভূমিমন্ত্রীর সম্পদ নিয়ে কথা

প্রকাশ: ০৫:১৮ পিএম, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪


Thumbnail

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি এবং সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রে ২০০ মিলিয়ন পাউন্ডের সম্পদ নিয়ে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ব্লুমবার্গে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) স্টেট ডিপার্টমেন্টের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করে বলেন, 'গতকাল ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের লোকদের দুর্নীতিতে জড়িত থাকার বিষয়টি একটি ওপেন সিক্রেট। মন্ত্রীপরিষদের সাবেক এক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। যার মূল্য ২০০ মিলিয়ন পাউন্ড, যা দেশের বৈদেশিক রিজার্ভের এক শতাংশের সমতুল্য। এটি অনেক ঘটনার মধ্যে একটি। বাংলাদেশ সরকারকে জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং বিশ্বব্যাপী দুর্নীতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের পদক্ষেপ নিবে?

জবাবে স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার জানান, 'আমরা এই রিপোর্টের বিষয়ে অবগত রয়েছি। বাংলাদেশ সরকারকে বলবো, তাদের সব কর্মকর্তা যেনো দেশটির আইন এবং অর্থনৈতিক বিধি-বিধান মেনে চলে সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে।'

উল্লেখ্য, ১৮ ফেব্রুয়ারি ব্লুমবার্গের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, প্রায় ২০০ মিলিয়ন পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় ২ হাজার ৭৬৯ কোটি টাকা) মূল্যের ৩৫০টিরও বেশি সম্পত্তি নিয়ে যুক্তরাজ্যে রিয়েল এস্টেট কোম্পানি গড়ে তুলেছেন বাংলাদেশের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী।

রিপোর্টে বলা হয়, লন্ডনের উত্তর-পশ্চিম এলাকায় একটি প্রপার্টি ২০২২ সালে ১১ মিলিয়ন পাউন্ডে বিক্রি হয়। রিজেন্টস পার্ক ও লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ড থেকে একদমই কাছে অবস্থিত ওই প্রোপার্টিটি বৃটেনের রাজধানী লন্ডনের সবথেকে ধনী এলাকায় অবস্থিত। এই প্রপার্টির মালিক বাংলাদেশের রাজনীতিবিদ ও সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী। বর্তমানে ওই প্রোপার্টির দাম ১৩ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি। 

বাংলাদেশের মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অনুযায়ী, কোনো নাগরিক, বাসিন্দা এবং সরকারি কর্মচারী বছরে ১২ হাজার ডলারের বেশি দেশের বাইরে পাঠাতে পারেন না। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ ও অনুমোদন ছাড়া কোনো করপোরেশনও বিদেশে অর্থ স্থানান্তর করতে পারে না।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর   সাবেক ভূমিমন্ত্রী   সাইফুজ্জামান চৌধুরী  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

বিশ্বের বৃহত্তম যে ‘সুপার ট্যাঙ্কার’ ডুবিয়ে দিয়েছিল সাদ্দামের বাহিনী

প্রকাশ: ০৩:৩৮ পিএম, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪


Thumbnail

৩০ বছরের সফরকালে ‘সি ওয়াইজ জায়ান্ট’-এর ছিল একাধিক নাম। ‘পৃথিবীর বৃহত্তম জাহাজ’, ‘সবচেয়ে বড় মানবসৃষ্ট জাহাজ’, ‘তেল বহনের সবচেয়ে বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন জাহাজ’-এমন অনেক নামেই ডাকা হতো তাকে। এখানেই শেষ নয়, নামের তালিকায় ছিল ‘হ্যাপি জায়ান্ট’, ‘জাহরে ভাইকিং’, ‘নোক নোভিস’ এবং ‘মন্ট’ও। বিশ্বের এই বৃহত্তম জাহাজকে ডাকা হতো ‘সুপার ট্যাঙ্কার’ বলেও।

একদিকে যেমন এই জাহাজের লাখ লাখ লিটার তেল বহনের ক্ষমতা ছিল, তেমনই আকারে প্রকাণ্ড হওয়ার জন্য অনেক বন্দরে প্রবেশ করতে পারত না। এই বিশাল আয়তনের কারণে সুয়েজ খাল এবং পানামা খালের মতো অনেক গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্র পথ এই জাহাজের পক্ষে অতিক্রম করা সম্ভব ছিল না।

ইরাকের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের বাহিনী আক্রমণ করে আগুন ধরিয়ে দেয় ওই জাহাজে। এর ফলে ডুবে যায় জাহাজটা। কিন্তু মহাসমুদ্রের অন্যান্য গল্পের মতো এই ধ্বংসলীলা সেই জাহাজের শেষ গল্প ছিল না।
শুরুর দিকে, এই সুপার ট্যাঙ্কারটা ১৯৭৯ সালে প্রাথমিকভাবে তৈরি হয়েছিল জাপানের ওপামার ‘সুমিতোমো হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ শিপইয়ার্ডে’। বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য থেকে জানা গেছে, এই জাহাজটি নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছিলেন এক গ্রিক ব্যবসায়ী। কিন্তু তৈরি হওয়ার পর সেই জাহাজ তিনি কেনেননি। শেষপর্যন্ত ১৯৮১ সালে টিং চাও ইং নামে হংকংয়ের একজন ব্যবসায়ী এটা কেনেন। তিনি ছিলেন সামুদ্রিক শিপিং কোম্পানি ওরিয়েন্ট ওভারসিজ কন্টেইনার লাইনের মালিক।

হংকংয়ের মেরিটাইম মিউজিয়ামের তথ্যানুসারে, কেনার পর নতুন মালিক মনে করেছিলেন জাহাজের আয়তন হওয়া উচিত আরও বড়। তাই নতুন অংশ যোগ করে জাহাজের আয়তন আরও বাড়ানো হয়। এরপর এর তেল বহনের ক্ষমতা ১ লাখ ৪০ হাজার টন বেড়ে যায়। এই সুপার ট্যাঙ্কারের দৈর্ঘ্য ছিল রেকর্ড ৪৫৮.৪৫ মিটার। মালয়েশিয়ার ‘পেট্রোনাস টাওয়ার’ এবং নিউইয়র্কের অ্যাম্পায়ার এস্টেট বিল্ডিংয়ের উচ্চতার চেয়েও লম্বা ছিল ‘সি ওয়াইজ জায়ান্ট’।

প্রায় চার কোটি ব্যারেল তেল বহনের ক্ষমতা রাখত এই জাহাজ। একটি সাধারণ যানের ১০ বার সূর্য পর্যন্ত গিয়ে ফিরে আসার জন্য যথেষ্ট ওই ইন্ধন। বর্তমানের বৃহত্তম ক্রুজ ‘আইকন অফ দ্য সি’-এর থেকে প্রায় ১০০ মিটার বেশি দীর্ঘ ছিল ওই জাহাজ। শুধু তাই নয়, বিখ্যাত টাইটানিকের চেয়েও ২০০ মিটার বেশি দীর্ঘ সেটা।

পুরো ভরে গেলে জাহাজের ওজন দাঁড়াত ৬ লাখ ৫৭ হাজার টন। আর এত ভারী জাহাজ চালাতে দিনে প্রয়োজন হতো ২২০ টন জ্বালানির।

বিবিসি ১৯৯৮ সালে যখন এই জাহাজটি পরিদর্শন করে তখন জাহাজের ক্যাপ্টেন সুরেন্দ্র কুমার মোহন বলেছিলেন আনুমানিক ১৬ টন বা প্রায় ৩০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিতে চলতে পারে জাহাজটা।

বিপুলায়তন এই জাহাজের চলাচলের বিষয়টি সহজ ছিল না। জাহাজের ক্যাপ্টেন জানিয়েছিলেন, যেকোনো জায়গায় থামাতে হলে অন্তত আট কিলোমিটার আগে ব্রেক কষতে হতো। উল্টোদিকে বাঁকানোও ছিল কঠিন কাজ। এর জন্য তিন কিলোমিটার জায়গার প্রয়োজন ছিল।

বিবিসি যে জাহাজ পরিদর্শন করেছে সেটি কিন্তু মেরামত এবং পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। যখন মধ্যপ্রাচ্য এবং পশ্চিমের মধ্যে তেলের ব্যবসা সর্বোচ্চ ছিল, সে সময়ে এই সুপার ট্যাঙ্কারটি গোটা বিশ্বে শুধু তেলই বহন করেনি বিশালাকায় ভাসমান গুদাম হিসাবেও কাজ করেছে।

এই জাহাজের শেষ সমুদ্রযাত্রা ছিল ১৯৮৮ সালে। ইরানের লার্ক দ্বীপে নোঙর ফেলেছিল ওই জাহাজ। সে সময় উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরাক ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ চূড়ান্ত পর্যায়ে ছিল।

সাদ্দাম হোসেনের বাহিনী এই জাহাজ হঠাৎই আক্রমণ করে কোনোরকম সতর্কবার্তা ছাড়াই। ক্রমাগত বোমা হামলায় আগুন ধরে যায় ওই জাহাজে। ডুবে যায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় জাহাজ। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর নরওয়ের একটি সংস্থা ‘নরম্যান ইন্টারন্যাশনাল’ জাহাজটি বাঁচানোর বিষয়ে আগ্রহ দেখায়। এরপর ১৯৯১ সালে, ৩৭০০ টন ইস্পাত ব্যবহার করে মেরামত করা হয়েছিল। এমন অবস্থায় আনা হয়েছিল যাতে সেটি আবার ভাসতে পারে। কিন্তু এখন আর তার নাম ‘সি ওয়াইজ জায়ান্ট’ নয়। এখন এই জাহাজের নাম ‘হ্যাপি জায়ান্ট’।

মেরামতের পরে এই সুপার ট্যাঙ্কারটি আবার পরিষেবাযোগ্য হয়ে উঠলেও তা ব্যবসায়ী পরিবহন সংস্থা কেএসের সম্পত্তিতে পরিণত হয় এবং তার নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘জাহরে ভাইকিং’ করা হয়েছে। কিন্তু নব্বইয়ের দশকে শিপিং শিল্পে কম জ্বালানি খরচকারী ট্যাঙ্কারের ব্যবহার বাড়তে থাকে এবং তাই এই জাহাজটিকে ব্যবহারের প্রতি আগ্রহ কমে আসে।



সুপার ট্যাঙ্কার   পৃথিবীর বৃহত্তম জাহাজ  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

পাকিস্তানে পুনঃনির্বাচন ও নির্বাচন বাতিলের আবেদন, জরিমানা ৫ লাখ

প্রকাশ: ০৩:১০ পিএম, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪


Thumbnail

পাকিস্তানে গত ৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এ নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ করেছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফসহ (পিটিআই) বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। এবার দেশটিতে পুনঃনির্বাচন ও নির্বাচন বাতিলের দাবিতে পিটিশন করায় এক ব্যক্তিকে ৫ লাখ রুপি জরিমানা করা হয়েছে।

পাকিস্তানে পুনঃনির্বাচন ও নির্বাচন বাতিলের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন করেন এক ব্যক্তি। তবে শুনানির সময় তিনি আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। ফলে তাকে ৫ লাখ রুপি জরিমানা করা হয়েছে।

জিও নিউজ জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট বুধবার গত ৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচন বাতিল ও পুনঃনির্বাচনের দাবিতে পিটিশন করেন। আদালত এ পিটিশন নিষ্পত্তি করেছে। পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি কাজী ফয়েজ ইসার নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ এ পিটিশন নিষ্পত্তি করেন। তিনি ছাড়া বেঞ্চের বাকি সদস্যরা হলেন বিচারপতি আলি মাজহার ও বিচারপতি মুসাররাত হিলালি।

তিন সদস্যের এ বেঞ্চ কারচুপির অভিযোগে নির্বাচন বাতিল ও পুনঃনির্বাচনের দাবিতে ব্রিগেডিয়ার (অব.) আলি খানের আবেদনের শুনানি করেন। তবে শুনানির সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। এজন্য তাকে পাল্টা জরিমানা করা হয়েছে।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানে জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই নির্বাচনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রথম, পিএমএল-এন দ্বিতীয় ও পিপিপি তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে। তবে কোনো কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।

নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও ভোট কারচুপির অভিযোগ করে আসছে পিটিআই। দলটির দাবি, অনেক আসনে তাদের সমর্থিত প্রার্থীকে ফল পরিবর্তনের মাধ্যমে জোর করে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর প্রতিবাদে নির্বাচনের পর থেকে দেশজুড়ে সমমনা দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করে আসছে পিটিআই। এমনকি আদালতের দ্বারস্থ পর্যন্ত হয়েছে দলটি। এ ছাড়া মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) কারচুপি ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ায় বিতর্কিত প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) সিকান্দার সুলতান রাজার অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেছেন পিটিআইয়ের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গহর আলি খান।


পাকিস্তান   পুনঃনির্বাচন  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন