ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

সেনা সমর্থন পেয়েও যে কারণে ইমরানের চেয়ে পিছিয়ে নওয়াজ

প্রকাশ: ০৯:৪৬ এএম, ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪


Thumbnail

গত বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) নানান ঘটন-অঘটনের মধ্যে দিয়ে পাকিস্তানের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরপর শুক্রবার রাতে লাহোরে দলের সদর দপ্তরের বারান্দায় এলেন নওয়াজ শরিফ। পাকিস্তানের তিনবারের এই প্রধানমন্ত্রী বারান্দায় পা ফেলার সঙ্গে সঙ্গে আতশবাজি ফোটানো শুরু হলো। তাকে স্বাগত জানাতে সেখানে সেদিন সমবেত হয়েছিলেন প্রায় দেড় হাজার মানুষ।

নওয়াজ কথা শুরু করেন সাম্প্রতিক সময়ে জনসমাবেশে তার বক্তৃতার পরিচিত ধরনে। শুরুতেই পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) সমর্থকদের উদ্দেশে দলটির সুপ্রিমো বলেন, ‘তোমরা কি আমাকে ভালোবাসো?’ তখন সমস্বরে জবাব এল, ‘আমরা আপনাকে ভালোবাসি।’

গত বৃহস্পতিবার জাতীয় নির্বাচন হয়েছে পাকিস্তানে। নওয়াজের প্রতি তার সমর্থকদের এমন অকুণ্ঠ সমর্থনের সঙ্গে ২৪ কোটি মানুষের দেশ পাকিস্তান যে একাত্ম বোধ করে, নির্বাচনে তার প্রমাণ মিলেছে সামান্যই। ভোটারদের ভোট দেওয়ার ধরন নির্বাচনী বিশ্লেষকদেরও অবাক করেছে।

জাতীয় নির্বাচনের এক মাস আগেও বিশেষজ্ঞরা বলছিলেন, নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েই পিএমএল-এন ক্ষমতায় আসছে। এতে চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ পাবেন ৭৪ বছর বয়সী বর্ষীয়ান রাজনীতিক নওয়াজ। এর বড় কারণ, একসময় পাকিস্তানে ক্ষমতাধর সেনাবাহিনীর চক্ষুশূলে পরিণত হওয়া নওয়াজ এবারের নির্বাচনে ছিলেন জেনারেলদের ‘আশীর্বাদপুষ্ট’।

নওয়াজ ও তার দলও জয়ের ব্যাপারে এতটাই আত্মবিশ্বাসী ছিল যে ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার রাতে আগে থেকে প্রস্তুত করে রাখা ‘বিজয় ভাষণ’ দিয়ে দেন তিনি। এরপর ভোটের ফল আসতে থাকলে ‘পাশার দান’ উল্টে যেতে থাকে।

নির্বাচনবিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাজিদ নিজামি বলছেন, ‘ভোটের ফলাফলে দলগুলোর অবস্থান স্পষ্ট হতে থাকলে তা পিএমএল-এনকে বিস্মিত ও হতভম্ব করে। পিএমএল-এন যে ফল প্রত্যাশা করেছিল, তা পায়নি।’

নওয়াজের পিএমএল-এনের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত প্রায় অর্ধেক আসনে জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা, যারা সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে লড়েছেন। জাতীয় পরিষদে ৭৫ আসন পাওয়া পিএমএল-এন পিটিআইয়ের স্বতন্ত্রদের চেয়ে ২০ আসন পিছিয়ে আছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক কয়েক মাসে পিটিআইকে ব্যাপক রাজনৈতিক ও আইনি হেনস্তার মুখে পড়তে হয়। জ্যেষ্ঠ নেতারা গ্রেপ্তার হন। অনেকে দৃশ্যত দল ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। এমনকি দলীয় প্রতীক ‘ক্রিকেট ব্যাট’ও ব্যবহার করতে পারেনি পিটিআই। প্রার্থীরা লড়েছেন স্বতন্ত্র হয়ে।

তবে পিটিআই একমাত্র দল নয়, যারা এমন দমন–পীড়নের মুখোমুখি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক সালমান গনি বলেন, এই দমন–পীড়নের পেছনে সামরিক বাহিনী ও পিএমএল-এন ছিল বলে মনে করেন সাধারণ পাকিস্তানিরা। এই দুই পক্ষই ইমরান খানের জনপ্রিয়তাকে খাটো করে দেখে ভুল করেছিল।

সালমান গনি বলেন, ‘যখন একজন ব্যক্তি নিপীড়িত হন, তখন তার জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। আমরা নওয়াজের ক্ষেত্রেও বিষয়টি দেখেছি। যখন কারও দেয়ালে পিঠ ঠেকে যায়, তখন সে পাল্টা জবাব দিতে মরিয়া চেষ্টা চালায়। পিএমএল-এন তা বুঝতে পারেনি।’

এ বিষয়ে একমত রাজনৈতিক বিশ্লেষক বদর আলমও। তিনি বলেন, ‘এমনকি একবারের জন্যও পিটিআইয়ের ওপর সহিংসতা ও নিপীড়নের নিন্দা করেনি পিএমএল-এন। প্রকৃতপক্ষে পিটিআইকে সম্পূর্ণভাবে বশে আনার ভূমিকা নিয়েছিল তারা। এটি পিএমএল-এনকে নিপীড়কের কাতারে দাঁড় করিয়েছে। এতে তাদের প্রতি জনগণ ক্ষুব্ধ হয়েছিল।’


ইমরান খান   নওয়াজ শরীফ   নির্বাচন   ভোট  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

ইয়েমেনে হুথিদের হামলায় মার্কিন সামরিক ড্রোন ভূপাতিত

প্রকাশ: ০৯:৫৯ এএম, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪


Thumbnail

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় মার্কিন সামরিক ড্রোন ভূপাতিত হয়েছে। গত সোমবার দেশটির উপকূলে ড্রোনটিকে গুলি করে ভূপাতিত করার এই ঘটনা ঘটে।

এদিকে হুথিদের হামলায় মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন।

গত সোমবার ইয়েমেনের কাছে হুথিরা একটি সামরিক এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত করেছে বলে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন মঙ্গলবার নিশ্চিত করেছে। পেন্টগনের ডেপুটি মুখপাত্র সাবরিনা সিং সাংবাদিকদের বলেন, ড্রোনটি ইয়েমেনের হুথি-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের উপকূলে লোহিত সাগরে পড়ে যায়।

তিনি বলেন, ড্রোনটি লক্ষ্য করে হুথিরা সারফেস টু এয়ার মিসাইল নিক্ষেপ করেছিল এবং এটিকেই ড্রোনটি ভূপাতিত হওয়ার প্রাথমিক কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে। ভূপাতিত ড্রোনটি উদ্ধার করা হয়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সিএনএন জানিয়েছে, ইয়েমেনি এই সশস্ত্র গোষ্ঠী গত বছরের নভেম্বরে ইয়েমেনের উপকূলে একই মডেলের আরেকটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করেছিল। মনুষ্যবিহীন এই ড্রোনটি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের জন্য ব্যবহার করা হয়।


ইয়েমেনে   ড্রোন   ভূপাতিত  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

‘আমার বাপজানের ইতালি যাওয়া লাগত না, তোমরা ওরে ফিরাইয়া দাও’

প্রকাশ: ০৯:৫২ এএম, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪


Thumbnail

‘সুখের লেইগা ভগবানের ওপর ভরসা কইরা পাঁচখোলা ইউনিয়নের রাসেল খানের হাতে ১২ লাখ টাকা দিছিলাম। ওরা আমার বাপজানরে মাইরা ফালাইল। তোমরা আমার বাপজানরে আইনা দাও, আমাগো টাকা লাগত না।’ এভাবেই বিলাপ করে কাঁদছিলেন অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে নিহত সজল বৈরাগীর বাবা সুনীল বৈরাগী।

তিউনিসিয়া উপকূলে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবে যে আট বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে, সজল বৈরাগী (২৪) তাদের একজন। তার বাড়ি মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার খালিয়া ইউনিয়নের সেনদিয়া গ্রামে। তিন ভাইবোনের মধ্যে সজল সবার ছোট। ভিটেমাটি সব বিক্রি করে দালালকে টাকা দিয়ে নিঃস্ব সুনীল বৈরাগী হারালেন সন্তানকেও। গতকাল মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিহত আট বাংলাদেশির পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলা সজল বৈরাগী ছাড়াও অন্যরা হলেন একই উপজেলার কদমবাড়ির নয়ন বিশ্বাস, উপজেলার খালিয়ার মামুন সেখ, উপজেলার বাজিতপুর নতুনবাজারের কাজী সজীব ও উপজেলার কবিরাজপুরের কায়সার, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার রাগদীর রিফাত, উপজেলার দিগনগরের রাসেল এবং গঙ্গারামপুর গোহালার ইমরুল কায়েস ওরফে আপন।

মন্ত্রণালয় জানায়, নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৪টার দিকে। নৌকাটি লিবিয়ার জুয়ারা উপকূল থেকে যাত্রা শুরু করে ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১১টার দিকে। দুর্ঘটনার কবলে পড়া নৌকায় চালকসহ ছিলেন ৫৩ জন। তাদের মধ্যে মারা গেছেন ৯ জন। জীবিত আছেন ৪৪ জন। নিহতদের স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশিদের মধ্যে সাতজন পাসপোর্ট ছাড়া ভ্রমণ করছিলেন।

জীবিতদের মধ্যে বাংলাদেশের ছিলেন ২৭ জন। এ ছাড়া পাকিস্তানের আট, মিশরের তিন, সিরিয়ার পাঁচ, নৌকায় চালক হিসেবে ছিলেন মিশরের এক ব্যক্তি। নিহতদের মধ্যে আটজন বাংলাদেশের এবং অন্যজন পাকিস্তানের।

গতকাল সজল বৈরাগীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির সবাই শোকে মুহ্যমান। প্রতিবেশীসহ আশপাশের মানুষ তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। কোনোভাবেই কান্না থামাতে পারছিলেন না সজলের বাবা সুনীল বৈরাগী। তিনি বলেন, ‘আমার লগে বাপজানের কথা হইল। আমারে কইল ওদের গেম হইয়া যাইব, ইতালি পৌঁছে যাইব, চিন্তা করা লাগব না। হঠাৎ শুনি আমার বাপজান আর দুনিয়ায় নাই। আমার তো সবই গেল।’

একই অবস্থা দেখা গেছে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার খালিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম স্বরমঙ্গল গ্রামের নিহত মামুন সেখেরে বাড়িতে। পরিবারের মেজো ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় মামুনের মা আছিয়া বানু। ছেলের বিভিন্ন স্মৃতিকথা মনে করে কেবলই বিলাপ করছেন তিনি। এ সময় কথা হয় মামুনের বড় ভাই সজীব শেখের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ছোট ভাই মামুনকে ইতালি পাঠানোর জন্য ১১ লাখ টাকা দিয়েছিলেন দালালের হাতে। ইতালি পৌঁছার আগেই পরপারে চলে গেল প্রিয় ভাই আমার।’ তিনি বলেন, ‘আমার ভাইকে মাইরা ফালাইছে দালাল মোশাররফ। আমি তার বিচার চাই।’

এদিকে গোপালগঞ্জের নিহতদের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য মুকসুদপুর উপজেলার গজিনা গ্রামের রহিম শেখ ও সুন্দরদী গ্রামের মোশারফ কাজী প্রলোভন দেখিয়ে প্রত্যেকের কাছ থেকে ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা করে নেয়। এই দুই দালালের বিচার দাবি করেছেন স্বজনরা।


বাংলাদেশ   ভূমধ্যসাগর   নৌকাডুবি   তরুণ   মৃত্যু  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

বিয়ের আগে হাসি সুন্দর করতে গিয়ে প্রাণ গেল যুবকের

প্রকাশ: ০৯:৩৪ এএম, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪


Thumbnail

আর কয়েক সপ্তাহ পরই বিয়ের কথা ছিল। এর আগে হাসি সুন্দর করার জন্য অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে প্রাণ গেল এক যুবকের। এমন ঘটনা ঘটেছে ভারতের হায়দরাবাদে।   

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি মৃত্যু হয় লক্ষ্মী নারায়ণ ভিনজাম নামের ওই যুবকের। ২৮ বছর বয়সী লক্ষ্মী গত ১৬ ফেব্রুয়ারি হায়দরাবাদের জুবিলি হিলসের এফএমএস ইন্টারন্যাশনাল ডেন্টাল ক্লিনিকে 'স্মাইল ডিজাইনিং'- এর অস্ত্রোপচারের সময় মারা যান।
 
তবে লক্ষ্মী নারায়ণের বাবা রামুলু ভিনজাম অভিযোগ করেছেন, অ্যানেস্থেশিয়ার ওভারডোজের কারণে তাঁর ছেলের মৃত্যু হয়েছে। তিনি বলেন, ‘অস্ত্রোপচারের সময় ছেলে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার পর হাসপাতালের কর্মীরা আমাকে ক্লিনিকে আসতে বলেন। আমরা দ্রুত তাকে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’
   
রামুলু জানান, তাঁর ছেলে তাঁদেরকে অস্ত্রোপচারের বিষয়ে কোনো কিছু জানায়নি। তার কোনো শারীরিক সমস্যাও ছিল না। তাঁর মৃত্যুর জন্য চিকিৎসকরাই দায়ী।
 
পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিহতের পরিবার ক্লিনিকের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগে মামলা করেছে। এ নিয়ে আরও তদন্ত করা হচ্ছে।


ভারত   হায়দরাবাদ   যুবক   অস্ত্রোপচার   মৃত্যু  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

পাকিস্তানে নতুন সরকার গঠন নিয়ে যেসব হিসাব-নিকাশ চলছে

প্রকাশ: ০৯:২৪ এএম, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪


Thumbnail

পাকিস্তানে নির্বাচনের  ১১ দিন পেরিয়ে গেলেও কোন দল সরকার গঠন করবে তা পরিষ্কার হয়নি। নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপর সরকার গঠনের জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছিলো নওয়াজ শরিফের পিমএলএন। তারা বিলাওয়াল ভু্ট্টোর পিপিপির সঙ্গে জোট গঠনের চেষ্টা শুরু করে। এরপর জোট করে সরকারে আসার বিষয়ে একমতও হয়েছিলো পিপিপি, পিএমএল-এন সহ মোট ৬টি দল।

পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের পাকিস্তান মুসলিম লীগের সঙ্গে বিলাওয়াল ভুট্টোর দল পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) জোট সরকার গঠনের ঘোষণা এলেও বারবার দুই দলের মধ্যে আলোচনা স্থগিত হয়ে যাচ্ছে। এমনকি নওয়াজের দলের মধ্যেই দেখা দিয়েছে বিভক্তি। তাদের বৈঠকগুলো বারবার সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হচ্ছে।

বৈঠকে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট, সংসদের উচ্চকক্ষ সিনেটের চেয়ারম্যান ও নিম্নকক্ষ জাতীয় পরিষদের স্পিকার পদের দাবি করেছে পিপিপি। এই তিন সাংবিধানিক পদের বিনিময়ে জাতীয় পরিষদে পিএমএল-এন-এর প্রধানমন্ত্রী প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বিলাওয়ালের দল।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম এআরওয়াই নিউজ জানিয়েছে, বিভিন্ন দলের সম্বন্বয়ে গঠিত জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হবেন শাহবাজ শরিফ। অন্যদিকে আসিফ আলি জারদারি হবেন পরবর্তী প্রেসিডেন্ট।
সূত্র জানায়, পিপিপি জাতীয় পরিষদেরে স্পিকার ও সিনেট চেয়ারম্যানের পদ দাবি করলে তা প্রত্যাখ্যান করেছে পিএমএল-এন। দলটি বলছে, সিনেটের চেয়ারম্যান হবে পিএমএল-এন থেকে। তবে স্পিকার পদ নিয়ে এখানো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।

এমন অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যে ক্ষমতা ভাগ-বাটোয়ারায় বিন্দুমাত্র ছাড় না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন পিপিপির চেয়ারম্যান বিলাওয়াল। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, তিনি ও তার দল পিপিপি তাদের অবস্থানে অনড়। যদি কেউ নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন না করে তাহলে তিনিও অবস্থান পরিবর্তন করবেন না।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচনে কোনো দল সরকার গঠনের জন্য এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মোট ১০১টি আসনে জয়ী হয়েছেন। এর মধ্যে ৯৩টি আসনেই জয় পেয়েছেন পিটিআই সমর্থিত প্রার্থিরা। অন্যদিকে নওয়াজ শরিফের পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) ৭৫টি আসন পেয়েছে, আর বিলাওয়াল ভুট্টোর পিপিপি পেয়েছে ৫৪টি আসন।

নির্বাচনী ফলাফল অনুযায়ী, বর্তমানে কোনো দলেরই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্ত আসন নেই। এমন অবস্থায় একদিকে নওয়াজ শরিফের দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) এবং বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির দল পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) সরকার গঠনের লক্ষ্যে কৌশলী পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। অন্যদিকে ইমরান খানের দল পিটিআই একটি জোট গঠনের বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করছে।


পাকিস্তান   নির্বাচন   হিসাব-নিকাশ  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

রাখাইন রাজ্য কি স্বাধীন হতে যাচ্ছে?

প্রকাশ: ০৯:০০ এএম, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪


Thumbnail

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য জান্তা সরকারের হাতছাড়া হতে চলেছে। ৮ ফেব্রুয়ারি বিদ্রোহী আরাকান আর্মি (এএ) রাখাইনের মিনবিয়া এবং কিউকতাও শহরসহ এক সময়ের আরাকান রাজ্যের রাজধানী ম্রাউক-উ দখল করে। গত নভেম্বরে আরাকান আর্মি ও দেশটির সামরিক জান্তার মধ্যে যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত রাজ্যের ৬টি শহর দখল করেছে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি। পার্শ্ববর্তী দক্ষিণ চিন রাজ্যের দুটি শহরও দখল করেছে তারা।

এসব অভিযানে কমপক্ষে ৭টি নৌবাহিনীর জাহাজ ও ১টি হেলিকপ্টার ধ্বংস করেছে আরাকান আর্মির যোদ্ধারা। এই চলমান বিজয়গুলো একটি স্বাধীন আরাকান রাষ্ট্র গঠনের রাখাইন জাতীয়তাবাদের স্বপ্নকে আরো শক্তিশালী করেছে।

৮ ফেব্রুয়ারির বিজয়কে নিজেদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রতীক হিসেবে দেখছে রাখাইন জাতীয়তাবাদীরা। ১৭৮৫ সাল পর্যন্ত আরাকান একটি স্বাধীন রাজ্য ছিল। এই সালে বার্মিজ মান্দালয় রাজ্যের হাতে স্বাধীন আরাকানের পতন ঘটে। তবে পরবর্তী বছরগুলোতে বার্মিজ শাসকদের বিরুদ্ধে অসংখ্যবার বিদ্রোহ করে স্থানীয় বাসিন্দারা। ১৯৪৮ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে যখন মিয়ানমার স্বাধীনতা পায় তখন কেন্দ্রীয় সরকারকে যারা চ্যালেঞ্জ করেছিল তার মধ্যে প্রথম দিকেই ছিল রাখাইন। সম্প্রতি জান্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে আরাকান আর্মি যে বিজয়গুলো অর্জন করেছে তাকে বিপ্লব হিসেবে দেখছে স্থানীয়রা।

মেজর জেনারেল তোয়ান মারত এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নিয়ো টোয়ানের নেতৃত্বে আরাকান আর্মি প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০৯ সালে। তাদের ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্ব রাজ্যের জনগণের জন্য একটি নতুন আশা জাগিয়েছিল। এর আগে আরাকান লিবারেশন আর্মি/আরাকান লিবারেশন পার্টি একটি স্বাধীন আরাকান প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করলেও সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল। ২০১৪ সালে আরাকান আর্মি (এএ) ‘আরাকান ড্রিম ২০২০’ নামে একটি রাজনৈতিক রোডম্যাপ প্রকাশ করে। এই রোডম্যাপ প্রকাশের পর থেকে আরাকান আর্মির জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে বাড়তে থাকে।

‘আরাকান ড্রিম ২০২০’ পরিকল্পনাটির মূল বিষয় ছিল: অস্ত্রের জোরে রাখাইন রাজ্যে একটি মুক্ত ঘাঁটি এলাকা তৈরি করা এবং একটি নিজস্ব প্রশাসনিক কাঠামো স্থাপন করা। দেশের ভেতরে হোক বা বাইরে রাখাইনের প্রতিটি মানুষকে এই আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এই আন্দোলন ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সাথে রাজ্যে দুই বছরের নিবিড় লড়াইয়ে প্ররোচনা দেয়। ব্যাপক বেসামরিক বাস্তুচ্যুত হয় এবং শত শত রাখাইন মানুষকে গ্রেপ্তার ও হত্যা করা হয়। ২০১৯ সালের জুন থেকে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেড় বছরেরও বেশি সময় এই অঞ্চলে ইন্টারনেট ব্যবস্থা বন্ধ করে রেখেছিল কেন্দ্রীয় সরকার।

আরাকান আর্মি ২০২০ সালের শেষের দিকে তাদের পরিকল্পনা নিয়ে অন্য গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে একটি চুক্তি সম্পাদন করতে সক্ষম হয়। এই চুক্তির ফলে রাখাইনের জনগণের প্রতি আরাকান আর্মির নেতৃত্ব আরও বেশি বৈধতা পায়। এক দশকের মধ্যে গোষ্ঠীটি মিয়ানমারের সবচেয়ে শক্তিশালী জাতিগত সেনাবাহিনী হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে। আরাকান আর্মির রাজনৈতিক শাখা ‘ইউনাইটেড লীগ অব আরাকান’-ও সফলভাবে তাদের প্রচার চালিয়ে যায়। ফলে অন্যান্য বিদ্যমান জাতিগত সশস্ত্র সংগঠনের মতো নতুন সদস্য নিয়োগে আরাকান আর্মি কোনো ধরনের অসুবিধার সম্মুখীন হয়নি। রাখাইনের জনগণের যে সমর্থন তারা অর্জন করে তা এই অঞ্চলে আরাকান আর্মির নেতৃত্বকে বৈধ করে তোলে।

রাখাইনে চলমান যুদ্ধে জান্তা সরকারের অবস্থান অনেকটা নড়বড়ে হয়েছে তা স্পষ্ট। চলতি মাসেই মংডু শহরে লড়াই চলাকালে প্রায় ৪০০ জান্তা সরকারের সীমান্তরক্ষী প্রতিবেশী বাংলাদেশে পালিয়ে যায়। এক মাস আগে আরও কয়েকশ সৈন্য ভারতে পালিয়ে গিয়েছিল। রাখাইন ছাড়াও অন্য রাজ্যগুলোতে বিদ্রোহীদের সামনে বিভিন্ন জায়গায় পিছু হটছে জান্তা বাহিনী। জান্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ এখন অনেকটা শহরকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে।
রাখাইনে আরাকান আর্মির ক্রমবর্ধমান সাফল্য সারা পৃথিবীর নজর কেড়েছে। ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট এবং টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় সত্য ঘটনা নির্ণয় করা কঠিন। তবে ম্রাউক-উ শহর দখলের দিনে বিশ্বজুড়ে রাখাইন নেটিজেনরা সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছে। বেশিরভাগই আরাকান আর্মির এই বিজয়কে উদযাপন করেছেন এবং এটিকে তাদের আরাকান স্বায়ত্তশাসনের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের সূচনা হিসেবে মত প্রকাশ করেছেন।

তবে সামনে বিরাট চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। রাখাইনে দীর্ঘকাল ধরে জাতিগত উত্তেজনা চলে আসছে। রয়েছে রাজনৈতিক অস্থিরতা। সংখ্যাগরিষ্ঠ রাখাইন এবং রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি অন্যান্য জাতিগত সংখ্যালঘুরাও বার্মিজ শাসনের অধীনে কয়েক দশক ধরে বৈষম্যের শিকার হয়েছে। ২০১৭ সালে উত্তর রাখাইনের রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সেনাবাহিনী কুখ্যাত গণহত্যামূলক ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ পরিচালনা করে। বর্তমান সহিংসতার মধ্যে এই ক্ষতগুলো পুনরায় সামনে চলে আসতে পারে। ইতিমধ্যেই একটি ভয়াবহ মানবিক সংকটে পুড়ছে রাখাইন। বহু জাতিগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় জনসংখ্যাকে একটি একক সমঝোতায় নিয়ে আসা একদমই সহজ হবে না। সবমিলে উদ্বেগ থেকেই যায়।

তবে উদ্বেগ আশঙ্কার মধ্যে আশার আলোও রয়েছে। ক্রমবর্ধমান সামরিক অগ্রগতি রাখাইন এবং এর বাসিন্দাদের জন্য একটি ভিন্ন ভবিষ্যতের সম্ভাবনা তুলে ধরছে। এই ভবিষ্যৎ কেমন হতে পারে তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। কী ধরনের সমাজ প্রতিষ্ঠার চিন্তা করছে আরাকান আর্মি? রোহিঙ্গাসহ রাখাইনের সংখ্যালঘুদের সঙ্গে কেমন আচরণ করবে তারা?

আমি বিশ্বাস করি, এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার সময় এসছে। ২০২০ সালের শুরুর দিকে আরাকান আর্মির একজন নেতা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, গোষ্ঠীটি রাখাইনের জনগণের জন্য একটি সামাজিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করেছে। তবে সামাজিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের কোন মডেলের কথা তিনি বলতে চাইছেন তা পরিষ্কার করেননি তিনি। দলটি রাজনৈতিকভাবে একদলীয় ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছে তা স্পষ্ট। একটি নির্বাচনের প্রস্তুতি যে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে সম্ভব হবে না বর্তমান পরিস্থিতিতেই তার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। অনিশ্চিত রাখাইনের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথ কোন দিকে নিয়ে যাবে তা কেবল সময়ই বলে দেবে।

রাখাইনে হয়তো একটি নতুন যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে। এই নতুন যুগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে রাখাইনের মানুষ নিজেরাই। যুদ্ধের কারণে তারা প্রতিদিন অনেক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছেন। তা সত্ত্বেও তারা তাদের নিজেদের ভাগ্য গঠনের জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আরাকান আর্মির নেতৃত্ব একটি নতুন যুগের আশা নিয়ে এসেছে। বিচ্ছিন্ন সম্প্রদায়গুলো তাদের দীর্ঘকালের বিভাজনগুলো দূর করে সমর্থন এবং সংহতি নিয়ে একত্র হয়েছে। ধ্বংস এবং হতাশার মধ্যে আশার বাতি জ্বলছে।

তথাপি, রাখাইনের টেকসই উন্নয়ন ও শান্তির পথ এখনো অনেক বন্ধুর। বছরের পর বছর ধরে নিপীড়নের কারণে যে অভিযোগগুলো জমে আছে সহজে তা কাটিয়ে ওঠা যাবে না। দেশের বাইরের স্বার্থগোষ্ঠীগুলো এই প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। চরমপন্থিরা মাথা তুলতে পারে যা শান্তি প্রতিষ্ঠা ও রাষ্ট্র গঠন প্রক্রিয়াকে লাইনচ্যুত করার আশঙ্কা তৈরি করে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায়, সব স্টেকহোল্ডারকে সহযোগিতা ও আলোচনার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। রাখাইনের জনগণ একটি শান্তি, সমৃদ্ধি এবং মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যতের হকদার। এটি অর্জনের জন্য প্রয়োজন হবে সাহসী নেতৃত্ব এবং ত্যাগ।

ম্রাউক-উ শহরের দখল রাখাইনের জনগণকে নতুন আশা দেখিয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে, আগামী কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস জান্তা বাহিনী রাখাইনে আরও নৃশংস হামলা করতে পারে। তারা নির্বিচারে কামানের গোলা নিক্ষেপ ও বিমান হামলা চালাতে পারে। তবে আমি বিশ্বাস করি, ধীরে ধীরে রাখাইনের আকাশে সূর্য উঠছে। সংঘাতে ক্ষতবিক্ষত একটি জমিতে তার সোনালি আলো ফেলছে। এই নতুন যুগের আলোতে এই অঞ্চলের জনগণ অতীতের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হবে। একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে তারা এগিয়ে যাবে যারা এই অঞ্চলকে তাদের বাড়ি বলে।


মিয়ানমার   রাখাইন   স্বাধীন  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন